বাংলাদেশে রক তারকা জেমসের অনুষ্ঠান ভণ্ডুল হয়েছে, সেটা তো অনেকেই জানেন। কিন্তু যে খবরটা এপারে তেমন ছড়ায়নি, সেটা হল, জেঞ্জির সঙ্গে জামাতের জোট। বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনে( যদি হয়) বিপ্লবী জেঞ্জিদের পার্টি এনসিপি জামাতের সঙ্গে বিপ্লবী জোট করতে চলেছে। এখনও জোট ঘোষণা হয়নি, তবে সেই লক্ষ্যে আলোচনা চলছে, সব পক্ষই জানিয়েছেন। এবং জোটের বড় শরীক জামাত, জেঞ্জিরা লড়বেন ছোটো ভাইয়ের মতো মোটে ৩০ টা আসনে, এরকমই শোনা যাচ্ছে। যদি চমকে যান, তো আরেকবার লিখে দিই, হ্যাঁ, পূজ্যপাদ নাহিদ, সার্জিত, হাসনাত, সামান্থা, তাবাসসুম ইত্যাদিরা, যাঁদেরকে দুই বাংলায় মাথায় তুলে নাচা হয়েছিল, তাঁরা জামাতের ছোটো জোটসঙ্গী হবার জন্য আপ্রাণ আলোচনা করছেন এখন। বাংলাদেশ নিয়ে যখনই লিখি, তখনি কেউ-কেউ এসে বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি এত ... ...
হিন্দুবীররা এক আশ্চর্য প্রজাতি। দিল্লির ডবল-ইঞ্জিন বাতাস এমন হয়েছে, যে নিঃশ্বাস নেওয়া যাচ্ছেনা। কিছুদিন ধরেই বিক্ষোভ চলছিল সেই নিয়ে। তাতে দিল্লি পুলিশের একমাত্র কাজ ছিল বিক্ষোভকারীদের ঠেঙিয়ে বুট দিয়ে টুঁটি চেপে তাদের নাক ফুটপাথে ঠেসে ধরা। নেঃ ব্যাটারা এবার কীকরে নিঃশ্বাস নিবি নে। অন্য কোথাও হলে হইচই পড়ে যেত, কলকাতায় হলে তো মিডিয়ার নাড়ুগোপালরা কয়েকশোঘন্টা চেঁচিয়ে ফেলতেন। কিন্তু হিন্দুবীরদের রাজধানী বলে কথা, আর হিন্দুবীররা মিডিয়াতেই থাকুক কি চাঁদে, প্রজাতি তো একই। ফলে সব চুপচাপ। পশ্চিমবঙ্গে সব খারাপ, বাংলাদেশীরা ছেয়ে ফেলছে, থেকে শুরু করে, এমনকি কেকে-কেও মেরে ফেলল গো কলকাতা। আর দিল্লিতে চলছে রামরাজত্বের সোনার সংসার।কিন্তু ধম্মের কল বাতাসে নড়ে। এর ... ...
কারো ভাবাবেগে লাগলে লাগবে, কিন্তু ফুটবলের নাম করে মেসিকে এই আদেখলা আদিখ্যেতা আর চোখে দেখা যাচ্ছেনা। বিশ্বের কোথাও দেখবেন না, নিজেদের ফুটবল টিম উঠে যাবার দশা, কিন্তু বিশ্বকাপ এলেই দুইদল লোক কেউ হলদে জার্সি আর কেউ নীল-সাদা পরে ঝগড়া, চুলোচুলি করছে। বাচ্চা-কাচ্চারা লাফালে একটা মানে হয়, কিন্তু দেখবেন, দামড়া লোকেরা একে অপরকে খিস্তি করছে, মুখ-দেখাদেখি বন্ধ করছে। সেই নিয়ে কিছু বললেই আবার অবিকল চাড্ডিদের মতো তাদের ভাবাবেগে লেগে যাচ্ছে। এর সঙ্গে ক্রীড়াপ্রেমের ন্যূনতম সম্পর্ক নেই, পুরোটাই চূড়ান্ত অশ্লীল, লোক-দেখানো হুজুগ, ঠিক যেমন নিজেদের সিনেমা উঠে যাচ্ছে, আর বলিউডি ভাষার সিনেমার কোনো জোকার বিলিওনার হলে তাকে নিয়ে লাফালাফি। সে তাও টিভিতে। খেলা দেখে লোকে উত্তেজিত হয়। কিন্তু এখন যেটা হচ্ছে, সেটা অশ্লীলতার ব্যারোমিটারে আরও অনেক বেশি। কী, না মেসি ... ...
দেখুন, মিউমিউ করে লাভ নেই, স্পষ্ট কথা স্পষ্ট করেই বলতে হবে। সোনালী খাতুন ফেরত আসছেন, খুব আনন্দের কথা। সোনালী একা না, সাংসদ সামিরুল ইসলাম উদ্যোগ নিয়ে না হলেও আরও জনাপঞ্চাশেক লোককে ফেরত এনেছেন। কিন্তু এটুকুই তো যথেষ্ট না। কথাটা হল, এদের যে ঠেলে পাঠানো হয়েছিল, সেটাই তো অন্যায় এবং বেআইনী। তার প্রতিকার তখনই হবে, যখন সমস্ত দোষীরা শাস্তি পাবে। দোষী যেই হোক, নিরাপত্তাবাহিনীর কোনো হোমরাচোমরা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো মাথা, এই অপরাধীদের শাস্তি চাই। যদি না দেওয়া হয়, বুঝে নিতে হবে, ইচ্ছাকৃত ভাবে এই বেআইনী গুণ্ডামি করা হচ্ছে। বাঙালির বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা করা হয়েছে। এই কথাটা স্পষ্ট করে বলা দরকার। এই যুদ্ধঘোষণার যারা দোসর সেই গোদি-মিডিয়াকে নিয়েও একদম সোজা ... ...
রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে জঘন্য, দানবিক একটা ইয়ার্কি চলছে। কোনো সন্দেহ নেই, শিক্ষক-নিয়োগে খানিক দুর্নীতি হয়েছিল, কোনো পক্ষই অস্বীকার করেনি সেটা। কিন্তু তারপর যা হল সে অবিশ্বাস্য। দুর্নীতি ধরতে নামল বিশ্বের শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা সংস্থা, বিচার-ব্যবস্থার প্রত্যক্ষ নজরদারিতে, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ উকিলদের সওয়ালে, এবং বিশ্বের শ্রেষ্ঠ গোদি-মিডিয়ার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়। প্রচুর তেল-পুড়ল, মন্ত্রীসান্ত্রীরা জেলে গেলেন, তথাকথিত বান্ধবীর বাড়ি থেকে পাওয়া গেল কোটি-কোটি টাকা। বাপরে বাপ সে কী দৃশ্য। টাকা গোণা হচ্ছে মেশিন দিয়ে, পারলে সরাসরিই দেখিয়ে দেওয়া হয় গোদি-মিডিয়ায়। ধরা পড়লেন কোনো এক কাকু। তাঁর অডিও-ক্লিপের চোটে জগৎ অন্ধকার। জীবনবিজ্ঞানের ক্লাসরুমের মতো ডায়াগ্রাম এঁকে গোদি-মিডিয়ার নাড়ুগোপালরা ঘন্টাখানেক ধরে দেখাতে থাকলেন, টাকা কোন পথে কোথায় গেছে। সবই তাঁরা জানতেন, যেমন জানতেন করাচি দখলের খবর।এরকম কয়েক বচ্ছর ধরে চলল। লোকে ভাবল, এইবার কিছু একটা হচ্ছে। এত ঢাক-ঢোল কি আর মিথ্যে হতে পারে? কিছু হলও বটে।মন্ত্রী ছাড়া পেলেন। দুর্নীতির দায়ে একজনও আদৌ ধরা পড়লেন কিনা সন্দেহ। কিন্তু ন্যায়বিচার কি তাতে আটকে থাকতে পারে? কোনো চোর ধরা পড়লনা, কিন্তু শাস্তি তো দিতেই হবে। শাস্তি পেল কারা? না শিক্ষকরা। তাঁদের বৃহদাংশকেই বলা হচ্ছে "যোগ্য", ইংরিজিতে "আনটেন্টেড", অর্থাৎ অকলঙ্কিত। এঁরা কাউকে কোনো টাকা দেননি, কোনো বেআইনী কাজ করেছিলেন বলে অভিযোগও নেই, কিন্তু তাঁদের সব্বার চাকরি গেল। এরকম কি ... ...
ইমরান বল করতে দৌড়লেই ব্যাপারটা নৈসর্গিক হয়ে যেত, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। কিন্তু সে জন্য ইমরান নায়ক নন। কত লোকই তো খেলে, কতজনকেই চমৎকার দেখতে লাগে, স্টেফি গ্রাফের ফোরহ্যান্ডও একই মাপের নৈসর্গিক। ইমরানের নায়কত্ব তাঁর দেখার ভঙ্গীতে, আর সামনে থেকে বুক চিতিয়ে নেতৃত্ব দেবার ক্ষমতায়। বুলেটটা খেলে আমি আগে খাব, এই যার ভঙ্গী, সে নায়ক ছাড়া আর কিছু হতে পারেনা। পাকিস্তান যেবার বিশ্বকাপ জিতল, তখনও ক্রিকেট দেখতাম। সেমিফাইনাল বা ফাইনাল, কোনো একটায় অল্প রানে দুই উইকেট পড়ে গেছে পাকিস্তানের, ব্যাটিং অর্ডার পাল্টে নেমে পড়লেন ইমরান। বোধহয় সেঞ্চুরি করেছিলেন সেই খেলায়। পাকিস্তান জিতেছিল। শুধু ক্রিকেট হলে বলা যেত, ওটা স্ট্র্যাটেজি। এইটুকুতে কেউ ... ...
আমাকে তিন-চারদিন ফেবু লিখতে দেয়নি, এই ফাঁকতালে প্রত্যক্ষ জ্ঞানার্জন হয়ে গেল, গোদি-মিডিয়া কী বস্তু। ব্যাপারটা রোমাঞ্চকর, তাই লম্বা হলেও পড়ুন। তিনদিন আগে সকালে উঠে মেলবাক্স খুলে দেখি, গুরুচণ্ডালির ইউটিউবে বেশ কটা ভিডিও কপিরাইট স্ট্রাইক খেয়েছে। কী হয়েছে? না, সেদিন ছিল "সীমান্তে নাকি বাংলাদেশীদের ভিড়" নামক মুখোশ খোলার ভিডিও। ক্ষেপে গিয়ে এবিপি আনন্দ, তার মিডিয়া এজেন্টকে (সেই কোম্পানির নাম markscan ) দিয়ে খুঁজে খুঁজে বার করেছে গুরুচণ্ডালির কোন কোন ভিডিওয় এবিপি আনন্দের ক্লিপ আছে। তারপর কপিরাইট ক্লেম করে অনেকগুলো নামিয়ে দিয়েছে। ইউটিউব জুড়ে। বেশি ভিউ যেগুলোর সেগুলো নামিয়েছে, সবকটা পারেনি, অত অধ্যবসায় থাকলে তো হয়েই যেত। আমরা কিন্তু ভয়াবহ কিছু করিনি। সুমন্দেকে সম্মান দিয়ে কর্নেল সুমন্দে বলেছি। আর ফেবুতে যেমন লিখি, "কর্নেল সুমন্দে বলেছেন", ভিডিওতে মুখে ... ...
রিঙ্কু তরফদার আত্মঘাতী হয়েছেন। তিনি ছিলেন একজন বিএলও। সমাজমাধ্যমে তাঁর সুইসাইড নোট ভাইরাল। খুব স্পষ্ট করে লিখেছেন, "আমার এই পরিণতির জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী"। সুইসাইড নোটটা আমি যাচাই করে দেখিনি, কিন্তু বিএলওরা যে অমানুষিক চাপে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এদিক-ওদিক তাকালেই দেখা যায়, তাঁদের আর্তনাদ. একমাসের জায়গায় সময়সীমা আরও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যে অ্যাপ দেওয়া হয়েছে অর্ধেক সময় বন্ধ থাকে। মোবাইল দিয়ে হবে ডেটা-এনট্রি। এক কথায়, তাঁদের ঢাল-তরোয়াল ছাড়া নামিয়ে দেওয়া হয়েছে অ্যাম্ফিথিয়েটারে। ঢাল-তরোয়াল পরে আসবে, আগে তো যুদ্ধটা করে নিন, এই বলে।আর গোদি মিডিয়া প্রচুর-চিয়ারলিডার সহ মাইক ফুঁকে বলিউডি গান বাজাচ্ছে "লড় লড়"। যাঁরা লড়ছেন তাঁরাই শুধু জানেন, ঢাক পিটিয়ে বড়কত্তাদের অপদার্থতা ঢাকার জন্য স্রেফ বলির পাঁঠা ... ...
গোদি মিডিয়া আপনাকে যেটা কিছুতেই দেখাবেনা, সেটা হল মতুয়া এবং দলিতদের একাংশ নিঃশর্ত এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের দাবী তুলেছেন এবং সেই দাবী ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। এই একই কথা আমি বহুবছর ধরে বলছি, কারণ, অনুপ্রবেশ নামক যে গল্পটা তৈরি করা হচ্ছে, সেটাই অলীক। বাংলা যখন ভাগ হয়, তখন অনুপ্রবেশ কথাটা কেউ শোনেনি, সীমান্তে চলাচলে কোনো বাধা ছিলনা। কারণ, স্বাধীনতা আর দেশভাগ ব্যাপারটাই ছিল উদ্বাস্তু তৈরির সযত্ননির্মিত কল। বাংলার বুকে একটা লাইন টেনেছিলেন একজন ইংরেজ, যিনি কী করছেন, সেটা নিয়ে তাঁর কোনো ধারণা ছিলনা। উঠোনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিল লাইন, প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে হয়েছিল দাঙ্গা, স্থানচ্যুতি, মৃত্যু, হাহাকার। অনুপ্রবেশ কথাটাই হাস্যকর ছিল, কারণ, এই স্থানচ্যুতিটা পরিকল্পনামাফিক ঘটানোর জন্যই ... ...
রিল হল এই সময়ের সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার। দিনের শেষে ফেবু খুলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটো খবর সামনে এল। দুটোই রিল মারফত। এক, অপরাজিতা আঢ্য বলেছেন, তিনি নিজেই তাঁর ঠাকুমা। সমস্যা কিছু নেই, ব্যাপারটায় জন্মান্তরের কলকাঠি আছে। দুই, পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, অর্পিতা তাঁর বান্ধবী। কী ভাগ্যিস বললেন। কোনো সন্দেহ নেই, এই দুটোই খুব গুরুত্বপূর্ণ খবর। পার্থ চট্টোপাধ্যায়েরটা দেখলাম এবিপিতে। যিনি সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন, তিনি আবার ধরিয়ে দিলেন, আপনি তাহলে সদর্পে বলছেন? কোনো ঝুঁকি নেবেন না আরকি। বাইচান্স যদি পাঞ্চ কম হয়, তাহলে রিলের কাটতি কম হবে। জবাবে উনিও বললেন, হ্যাঁ, সদর্পে বলছি। বীরের প্রতি বীরের যেরকম ব্যবহার। সেটা তারপর রিল হয়ে গেল। শ্রীজাত বোধহয় লিখেছিলেন, জয়সূর্য যখন খেলতে নেমেছিলেন, প্রথম দিকে লোকে বলত, এটা আবার ক্রিকেট নাকি? তারপর একদিন ওইটাই ক্রিকেট ... ...