সিপিএমের দীপ্সিতা ধর, নির্যাতন কমিশনর নোটিস পেয়েছেন। ওঁর বাবার নাম পীযুষ ধর। ২০০২ এর তালিকায় নাম ঠিক বানানে ছিল। ফর্ম ভর্তিতে কোনো গোলমাল হয়নি। কিন্তু ২০২৫ এ এসে নির্যাতন কমিশন জানিয়েছে, ওঁর বাবার নাম গীযুষ ধর। তাই লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি। এবার ওঁকে প্রমাণ করতে হবে, উনিই বাবার মেয়ে।ওঁর নামটাই লিখলাম, কারণ উনি প্রকাশ্যেই পুরোটা বলেছেন। কিন্তু একা তো না, যা শোনা যাচ্ছে, অন্তত দেড় কোটি মানুষের সঙ্গে এরকমই হয়ে চলেছে। অন্য কেউ না, কমিশনই নামে ভুল রাখছে এবং তার ভিত্তিতে ডেকে পাঠাচ্ছে। কমিশন এই তালিকা এআই দিয়ে করছে, গোবলয়ের ট্যাক্সিওয়ালাদের দিয়ে, নাকি বিজেপির পার্টি অফিসের নির্দেশে, আমার জানা নেই। কিন্তু ভুলগুলো ... ...
দেখুন, কথা খুব পরিষ্কার। কোনো চ্যানেলের কর্মীই হন, কিংবা কর্পোরেশনের, ধরে হাতের সুখ করে নেওয়া অন্যায়। ওতে কোনো ক্ষোভেরই সুরাহা হয়না। কিন্তু সংবাদমাধ্যমগুলোর "আমরা চতুর্থ স্তম্ভ" বলে লাফানোর কোনো অধিকারই নেই। কোনো গরিলা যদি আজ বুক চাপড়ে বলে "আমিই চতুর্থ স্তম্ভ", তাহলেই সে চতুর্থ, পঞ্চম, একবিংশ কোনো স্তম্ভই হয়ে যায়না। সংবাদমাধ্যম হতে গেলে তার কিছু দায়দায়িত্ব পালন করতে হয়। এঁরা তো নিজের সাংবাদিক ঠ্যাঙানি খাওয়াটাকেও বেওসায় পরিণত করেছেন। "বলুন তো, সোমা মাইতি কোথায় মার খেলেন? সঠিক উত্তর দিলে পেতে পারেন বাম্পার প্রাইজ।" রোমের গ্ল্যাডিয়েটরের ব্যবসাতেও কিছু নৈতিকতার জায়গা ছিল, এদের সেটুকুও নেই।এটুকু হলেও একরকম ছিল। কিন্তু বলুন তো গত এক ... ...
এই এসআইআরের মধ্যে লেখা হচ্ছেনা, কিন্তু এসএসসি কাণ্ডটাও লেখা দরকার, নইলে কী বিপুল একটা খেলা চলছে বোঝা যাবেনা, একটু লম্বা হবে, কিন্তু পড়লে পুরোটা পড়বেন। ২৬০০০ শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি গিয়েছিল কলমের এক খোঁচায়, ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল হয়েছিল, এটা কিছু নতুন কথা নয়। যেটা বোঝা যাচ্ছিলনা, যে, যোগ্য-অযোগ্যর ভিত্তিতে শাস্তি না হয়ে সব্বার চাকরি গেল কেন। তালিকা তো একটা ছিল। সেটাকে মান্যতা দেওয়া হলনা কেন? আর যদি মান্যতা দেওয়া নাই হয়, তাহলে কীসের ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপে যোগ্য-অযোগ্যর বিভাজন করে দেওয়া হল? এটা খুব সোজা প্রশ্ন। কিন্তু টিভির বাক্যবাগীশরা যথেষ্ট ধোঁয়া তৈরি করতে পেরেছিলেন। তা, দুদিন আগে, নতুন যেটা জানা গেল, সেটা ... ...
বাংলার প্রতিটি অবিজেপি দলের কর্মী, সমর্থক, নেতা, এমনকি বিজেপিরও বাঙালি সমর্থকদের প্রতি আবেদন, এবার অন্তত বাংলাকে বাঁচাতে আওয়াজ তুলুন। কারণ, যা হচ্ছে, তার কোনোটাই বিচ্ছিন্ন নয়, বরং ভীষণ সুসংগঠিত। বহুবার লিখেছি, আরও একবার সময়সারণীটা লিখি। দেশজুড়ে বাঙালি ঠ্যাঙানো কখন শুরু হল, মনে করে দেখুন। অপারেশন সিঁদুর চলার পর্যায়েই। ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে হঠাৎ খুঁজে পাওয়া যেতে শুরু করল "বাঙালি অর্থাৎ বাংলাদেশীদের"। এটা এমনি এমনি হয়না। একটা যুদ্ধোন্মাদনা তৈরি হয়েছিল পাকিস্তানকে নিয়ে। গোদি মিডিয়া প্রাণপনে মিথ্যাচার করছিল, আসলে হাওয়া তুলছিল। ওসব মেটার পর পুরো উন্মাদনাটাই সরিয়ে দেওয়া হল বাংলাদেশের দিকে। বাংলাদেশ হল নয়া পাকিস্তান, আর পশ্চিমবঙ্গ হল জিহাদিদের আস্তানা, নয়া কাশ্মীর। দীর্ঘদিন ... ...
বাংলাদেশে রক তারকা জেমসের অনুষ্ঠান ভণ্ডুল হয়েছে, সেটা তো অনেকেই জানেন। কিন্তু যে খবরটা এপারে তেমন ছড়ায়নি, সেটা হল, জেঞ্জির সঙ্গে জামাতের জোট। বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনে( যদি হয়) বিপ্লবী জেঞ্জিদের পার্টি এনসিপি জামাতের সঙ্গে বিপ্লবী জোট করতে চলেছে। এখনও জোট ঘোষণা হয়নি, তবে সেই লক্ষ্যে আলোচনা চলছে, সব পক্ষই জানিয়েছেন। এবং জোটের বড় শরীক জামাত, জেঞ্জিরা লড়বেন ছোটো ভাইয়ের মতো মোটে ৩০ টা আসনে, এরকমই শোনা যাচ্ছে। যদি চমকে যান, তো আরেকবার লিখে দিই, হ্যাঁ, পূজ্যপাদ নাহিদ, সার্জিত, হাসনাত, সামান্থা, তাবাসসুম ইত্যাদিরা, যাঁদেরকে দুই বাংলায় মাথায় তুলে নাচা হয়েছিল, তাঁরা জামাতের ছোটো জোটসঙ্গী হবার জন্য আপ্রাণ আলোচনা করছেন এখন। বাংলাদেশ নিয়ে যখনই লিখি, তখনি কেউ-কেউ এসে বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি এত ... ...
হিন্দুবীররা এক আশ্চর্য প্রজাতি। দিল্লির ডবল-ইঞ্জিন বাতাস এমন হয়েছে, যে নিঃশ্বাস নেওয়া যাচ্ছেনা। কিছুদিন ধরেই বিক্ষোভ চলছিল সেই নিয়ে। তাতে দিল্লি পুলিশের একমাত্র কাজ ছিল বিক্ষোভকারীদের ঠেঙিয়ে বুট দিয়ে টুঁটি চেপে তাদের নাক ফুটপাথে ঠেসে ধরা। নেঃ ব্যাটারা এবার কীকরে নিঃশ্বাস নিবি নে। অন্য কোথাও হলে হইচই পড়ে যেত, কলকাতায় হলে তো মিডিয়ার নাড়ুগোপালরা কয়েকশোঘন্টা চেঁচিয়ে ফেলতেন। কিন্তু হিন্দুবীরদের রাজধানী বলে কথা, আর হিন্দুবীররা মিডিয়াতেই থাকুক কি চাঁদে, প্রজাতি তো একই। ফলে সব চুপচাপ। পশ্চিমবঙ্গে সব খারাপ, বাংলাদেশীরা ছেয়ে ফেলছে, থেকে শুরু করে, এমনকি কেকে-কেও মেরে ফেলল গো কলকাতা। আর দিল্লিতে চলছে রামরাজত্বের সোনার সংসার।কিন্তু ধম্মের কল বাতাসে নড়ে। এর ... ...
কারো ভাবাবেগে লাগলে লাগবে, কিন্তু ফুটবলের নাম করে মেসিকে এই আদেখলা আদিখ্যেতা আর চোখে দেখা যাচ্ছেনা। বিশ্বের কোথাও দেখবেন না, নিজেদের ফুটবল টিম উঠে যাবার দশা, কিন্তু বিশ্বকাপ এলেই দুইদল লোক কেউ হলদে জার্সি আর কেউ নীল-সাদা পরে ঝগড়া, চুলোচুলি করছে। বাচ্চা-কাচ্চারা লাফালে একটা মানে হয়, কিন্তু দেখবেন, দামড়া লোকেরা একে অপরকে খিস্তি করছে, মুখ-দেখাদেখি বন্ধ করছে। সেই নিয়ে কিছু বললেই আবার অবিকল চাড্ডিদের মতো তাদের ভাবাবেগে লেগে যাচ্ছে। এর সঙ্গে ক্রীড়াপ্রেমের ন্যূনতম সম্পর্ক নেই, পুরোটাই চূড়ান্ত অশ্লীল, লোক-দেখানো হুজুগ, ঠিক যেমন নিজেদের সিনেমা উঠে যাচ্ছে, আর বলিউডি ভাষার সিনেমার কোনো জোকার বিলিওনার হলে তাকে নিয়ে লাফালাফি। সে তাও টিভিতে। খেলা দেখে লোকে উত্তেজিত হয়। কিন্তু এখন যেটা হচ্ছে, সেটা অশ্লীলতার ব্যারোমিটারে আরও অনেক বেশি। কী, না মেসি ... ...
দেখুন, মিউমিউ করে লাভ নেই, স্পষ্ট কথা স্পষ্ট করেই বলতে হবে। সোনালী খাতুন ফেরত আসছেন, খুব আনন্দের কথা। সোনালী একা না, সাংসদ সামিরুল ইসলাম উদ্যোগ নিয়ে না হলেও আরও জনাপঞ্চাশেক লোককে ফেরত এনেছেন। কিন্তু এটুকুই তো যথেষ্ট না। কথাটা হল, এদের যে ঠেলে পাঠানো হয়েছিল, সেটাই তো অন্যায় এবং বেআইনী। তার প্রতিকার তখনই হবে, যখন সমস্ত দোষীরা শাস্তি পাবে। দোষী যেই হোক, নিরাপত্তাবাহিনীর কোনো হোমরাচোমরা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো মাথা, এই অপরাধীদের শাস্তি চাই। যদি না দেওয়া হয়, বুঝে নিতে হবে, ইচ্ছাকৃত ভাবে এই বেআইনী গুণ্ডামি করা হচ্ছে। বাঙালির বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা করা হয়েছে। এই কথাটা স্পষ্ট করে বলা দরকার। এই যুদ্ধঘোষণার যারা দোসর সেই গোদি-মিডিয়াকে নিয়েও একদম সোজা ... ...
রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে জঘন্য, দানবিক একটা ইয়ার্কি চলছে। কোনো সন্দেহ নেই, শিক্ষক-নিয়োগে খানিক দুর্নীতি হয়েছিল, কোনো পক্ষই অস্বীকার করেনি সেটা। কিন্তু তারপর যা হল সে অবিশ্বাস্য। দুর্নীতি ধরতে নামল বিশ্বের শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা সংস্থা, বিচার-ব্যবস্থার প্রত্যক্ষ নজরদারিতে, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ উকিলদের সওয়ালে, এবং বিশ্বের শ্রেষ্ঠ গোদি-মিডিয়ার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়। প্রচুর তেল-পুড়ল, মন্ত্রীসান্ত্রীরা জেলে গেলেন, তথাকথিত বান্ধবীর বাড়ি থেকে পাওয়া গেল কোটি-কোটি টাকা। বাপরে বাপ সে কী দৃশ্য। টাকা গোণা হচ্ছে মেশিন দিয়ে, পারলে সরাসরিই দেখিয়ে দেওয়া হয় গোদি-মিডিয়ায়। ধরা পড়লেন কোনো এক কাকু। তাঁর অডিও-ক্লিপের চোটে জগৎ অন্ধকার। জীবনবিজ্ঞানের ক্লাসরুমের মতো ডায়াগ্রাম এঁকে গোদি-মিডিয়ার নাড়ুগোপালরা ঘন্টাখানেক ধরে দেখাতে থাকলেন, টাকা কোন পথে কোথায় গেছে। সবই তাঁরা জানতেন, যেমন জানতেন করাচি দখলের খবর।এরকম কয়েক বচ্ছর ধরে চলল। লোকে ভাবল, এইবার কিছু একটা হচ্ছে। এত ঢাক-ঢোল কি আর মিথ্যে হতে পারে? কিছু হলও বটে।মন্ত্রী ছাড়া পেলেন। দুর্নীতির দায়ে একজনও আদৌ ধরা পড়লেন কিনা সন্দেহ। কিন্তু ন্যায়বিচার কি তাতে আটকে থাকতে পারে? কোনো চোর ধরা পড়লনা, কিন্তু শাস্তি তো দিতেই হবে। শাস্তি পেল কারা? না শিক্ষকরা। তাঁদের বৃহদাংশকেই বলা হচ্ছে "যোগ্য", ইংরিজিতে "আনটেন্টেড", অর্থাৎ অকলঙ্কিত। এঁরা কাউকে কোনো টাকা দেননি, কোনো বেআইনী কাজ করেছিলেন বলে অভিযোগও নেই, কিন্তু তাঁদের সব্বার চাকরি গেল। এরকম কি ... ...
ইমরান বল করতে দৌড়লেই ব্যাপারটা নৈসর্গিক হয়ে যেত, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। কিন্তু সে জন্য ইমরান নায়ক নন। কত লোকই তো খেলে, কতজনকেই চমৎকার দেখতে লাগে, স্টেফি গ্রাফের ফোরহ্যান্ডও একই মাপের নৈসর্গিক। ইমরানের নায়কত্ব তাঁর দেখার ভঙ্গীতে, আর সামনে থেকে বুক চিতিয়ে নেতৃত্ব দেবার ক্ষমতায়। বুলেটটা খেলে আমি আগে খাব, এই যার ভঙ্গী, সে নায়ক ছাড়া আর কিছু হতে পারেনা। পাকিস্তান যেবার বিশ্বকাপ জিতল, তখনও ক্রিকেট দেখতাম। সেমিফাইনাল বা ফাইনাল, কোনো একটায় অল্প রানে দুই উইকেট পড়ে গেছে পাকিস্তানের, ব্যাটিং অর্ডার পাল্টে নেমে পড়লেন ইমরান। বোধহয় সেঞ্চুরি করেছিলেন সেই খেলায়। পাকিস্তান জিতেছিল। শুধু ক্রিকেট হলে বলা যেত, ওটা স্ট্র্যাটেজি। এইটুকুতে কেউ ... ...