Luna Mitra কে? আজকাল একটা চিন্তায় মন মাঝে মাঝে একটু ঝিম মেরে যায়, এমনিতে কোন কিচ্ছুটি নিয়ে বিশেষ ভাবিত হইনা। আমার চেনা পরিচিত আপনজনেরা যদি ভালো থাকে তাহলে একা বোকা নিজের জন্যে আর কি নিয়েই বা ভাবার আছে!কিন্তু সেই ২০০৯ সাল থেকে সক্কাল হলেই ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে নৌকোটুকু বাদ দিয়ে বাকি সব রকম যান বাহনে চেপে যে এই শ্যামল সবুজ আদিগন্ত খোলা প্রান্তরে এসে হাঁপ ছাড়ি, যে কিনা আমার চোখের আরাম মনের আশ্রয় যাপনের ইন্ধন, সে হারিয়ে আমি থাকব কেমনে!ক’দিন হল বেশ ঠান্ডায় আমাদের আপিস পাড়া রোদ্দুর পড়ে এলে কেমন জুবুথুবু হয়ে যাচ্ছে। গাছপালা পশু পক্ষী মানুষ জন সক্কলে। সন্ধ্যে নামার সঙ্গে সঙ্গে সব ... ...
তারপর তো টুপ করে সুজ্জিমামা পাটে গেলেন। হেমন্তের ঘোলাটে ধূসর আকাশে একটি দুটি করে তারা ফুটতে লাগল। কাজিবাড়ির বাস রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিশাল ঝুপসি বট গাছের মাথার ওপর মিটমিটে তারার পানে চেয়ে ছেলেবেলায় ফিরে গেলাম। মায়ের হাতের চাল বাটা মাখার যে স্বাদ, আহা! গোবিন্দ ভোগ চাল ভিজিয়ে শীলে বেটে তাতে পেয়ারা কলা আপেল আঙ্গুর কমলালেবু বেদানা খেজুর আখ কিশমিশ মুলো কুচি আদা কুচি তুলসী পাতা খেজুর গুড়, দুধ দিয়ে মেখে তাতে সন্দেশ ভেঙে ... ...
সে গ্রাম একেবারেই আদিবাসীদের গ্রাম। খেজুর গুড় তৈরীর বীজমন্ত্র তাদের জানা নেই। প্রকৃতি মায়ের কোল ছেড়ে এই কঠিন নির্দয় নগর জীবনে কোনমতে পেটের ভাতটুকুর সংস্থানে দিন কাটে। এদিকে চা খেয়ে আমরা তো আবার হেলেঞ্চা থেকে অটোয় চেপে নাচতে নাচতে (মানে নাচতে না চাইলেও) চললাম মনটোপলা গ্রামের উদ্দ্যেশে। শরীরটা বিশেষ ভালো ছিলনা, নাহলে আমি কিছুতেই পথ চলতে গ্রাম জীবনের ছবিটুকু চোখে তুলে রাখার সুযোগ ছেড়ে দিই ... ...
তাপ্পর তো হাঁটতে হাঁটতে হাঁটতে ব্যস্ত বড়বাজারের রকমারি ভিড় ঠেলে একে গুঁতিয়ে তার গুঁতো খেয়ে লোহার ভ্যানের ঠোক্কর বাঁচিয়ে মুটের ধাক্কা সামলে আমরা কম্বলের দোকান খুঁজতে লাগলাম।গুটিকয় কথা খোলসা করে বলি, যবে থেকে কম্বল দেওয়ার কথা হয়েছে, আমরা ভেবেই চলেছি আমাদের সীমিত ক্ষমতায় ভালো কি দেওয়া যায়। দলের লোকজন এদিকওদিক দেখে শুনে আসছে, কিন্তু মনোমত হচ্ছে না। এই সময় হঠাৎ মনে হল, আমাদের ছেলেবেলায় কম্বল বলতে ভেড়ার লোমের ... ...
শেষ হেমন্তের একটা আদুরে আবেশ আছে। মাঠে মাঠে ধান পেকে উঠেছে। মানুষজন ধান কেটে গাদা করে রাখতে ব্যস্ত এখন। একটু শুকিয়ে উঠলে ঝাড়াই করে বস্তায় ভরে ঘরে নিয়ে যাবে। পেরিয়ে যেতে পাকা ধানের সুঘ্রাণ ভেসে আসে। ক্ষুধার গন্ধ। গরম ভাতের আঘ্রাণ। গ্রাম গঞ্জের ঘরে ঘরে নবান্ন পালিত হবে।বাইরে কড়া মিঠে রোদ্দুর কিন্তু বাতাসে শিরশিরে ভাব। শ্রাবণের বৃষ্টি ধোয়া ঝকঝকে গাছের পাতায় ধুলোর সর পুরু হয়নি এখনো। পাতা ঝরার পালা আগত প্রায়। প্রকৃতিরানি মলিন রুক্ষ বাউল বৈরাগী রূপ ধরবে আর কিছুদিন গেলেই। আজকাল কি কার্তিক মাসে পূর্বপুরুষদের জন্যে আকাশ প্রদীপ দেয় কেউ! মফঃস্বলের মানুষ তবু জন্মাবধি কলকাতায় আসা যাওয়া। ছোট্ট থেকে জেঠুর সঙ্গে ... ...
আজ একটু বেলায় ধীরে সুস্থে বেরোলাম বারাসাত যাব। আমাদের একটি দল আছে, বছর তিন হল প্রত্যন্ত গ্রামে যাই একটু পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ নিয়ে। সেই সংক্রান্ত মিটিংয়ে যোগ দিতে যাচ্ছি। বিশেষ তাড়া ছিল না। বাস ধরে দমদম ক্যান্টনমেন্টে নেমে রিটার্ন টিকিট কেটে ওভার ব্রিজ থেকে নামতে নামতে ট্রেন ঢুকে গেল। সামনে লেডিজ পেয়ে উঠে গেলাম, বনগা লোকাল। বসলাম গিয়ে যাদের মাঝে তাঁরা তখন ভোর সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে কলকাতার বিভিন্ন ফ্ল্যাটে ... ...
মামাবাড়ী নিয়ে একটু লিখি। বিহারের এক ছোট্ট মফস্বল: শহরে আমার মামাবাড়ী। সেখানেই আমার আর দাদার জন্ম। খুব ছোট তখন মনে আছে আবছা, ট্রেন থেকে নেমে বালি ভেঙ্গে অনেকখানি হেঁটে স্টীমার (সমস্ত স্টীমার আমের গন্ধে ম ম করত। আর তার সঙ্গে নীলচে সবুজ ঢন ঢনে মাছি। আজকাল আর আম কাঁঠালের সময় সে মাছি দেখিনা!) ধরে অন্য পাড়ে গিয়ে আবার ট্রেনে চাপতে হত। তখন ফারাক্কা ব্রিজ হয়নি। ছোট্ট আমি বাবার কোলে, বাবার মাথায় গামছা। কুলির মাথায় বাক্স প্যাটরা। প্রখর রোদ্দুর। কারণ গরম কালেই আমাদের মামাবাড়ী যাওয়া হত। ওটা যে আম লিচুর রাজ্য!একটু বড় হলে দার্জিলিং মেলে করে বর্ধমান থেকে সোজা মামাবাড়ী। ভোরবেলা ... ...
সেই ছেলেবেলা থেকে প্রকৃতির নানা রূপ আমাকে মুগ্ধ করত। শরতের বৃষ্টি ধোয়া ঝকঝকে নীল আকাশ। কষকষে সবুজের বৈচিত্র্য, নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা মনকে আনমনা করে তুলত। মনে হত কোন জন্মের কোন অচিন পুরের হাতছানি। আবার পূর্ণ চাঁদের আলোয় গভীর রাতে ছাদে উঠে আমাদের শতাব্দী পুরনো শহরটাকে কেমন যেন মনে হত যেন এক স্বপ্নপুরী। মনের মধ্যে কেমন আকুলি বিকুলি করত কিন্তু সেই ভাব প্রকাশের কোন পথ আমার জানা ছিলনা। আবার হঠাৎ করে চারিদিক অন্ধকার হয়ে, সূর্য্য কে ঢেকে দিয়ে ধেয়ে আসত কালো দিগন্ত ব্যাপী মেঘ সঙ্গে করে নিয়ে আসত ঝোড়ো বাতাস। কালবৈশাখী দেখতে সবাই ছুটতাম ছাদে। প্রথম বৃষ্টির ঝরে পড়া ... ...
রান্নাঘরে পিঁড়ি পেতে আমরা খেতে বসতাম। রান্নাঘরের সোঁদা মেঝে, পিছনের বাগান থেকে ভেসে আসা নাম না জানা গাছের বুনো একটু কটু গন্ধ। কেমন যেন আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখত।দিদার (আমরা অবিশ্যি দিদিমা বলতাম) হাতের পাতলা মুসুর ডাল, মুচমুচে পোস্তর বড়া, শাক। ডাঁটার চচ্চড়ি। নানান রকম ভাজা আর কোন একটা মাছের ঝাল। আর অবশ্যই টক তো থাকতই। সেই সমস্ত অতি সাধারণ খাবারের কি যে অতুলনীয় স্বাদ ছিল!!আমরা গরমের ছুটিতেই একমাসের জন্যে মামাবাড়ী যেতাম। কারণ ওখানের আম লিচু কাঁঠালের প্রাচুর্য। বাড়ির গাছে অত অত আম থাকা স্বত্বেও দাদু এবং মামা রাস্তায় যত আমওয়ালাকে দেখত সব কে বাড়ি পানে পাঠিয়ে দিত। সেইসব আম ঘরে ... ...
না ইয়ে চাঁদ হোগা। না তারে রহেঙ্গে মগর হাম হামেশা তুমহারে রহেঙ্গে মায়ের কাছে শুনেছিলাম আমার দিদিমার নাকি ভারী পছন্দের গান ছিল এটি। অনেক পরে জেনেছি গানটি 1954 সালের "শর্ত" সিনেমার। সুর হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের। গায়িকা গীতা দত্ত। আমার দাদু দিদিমার বাড়িটি ছিল, ঝিলমিল সীতারো কা আঙন হোগা রিমঝিম বরসতা শাওন হোগা অ্যায়সা সুন্দর স্বপ্না আপনা জীবন হোগা দাদু দিদিমার সম্পর্কের রসায়নটি ভারী মধুর ... ...