এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • কম্বল কথকতা শেষ পর্ব

    Luna Mitra লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৭ নভেম্বর ২০২৫ | ৮৭ বার পঠিত
  • সে গ্রাম একেবারেই আদিবাসীদের গ্রাম। খেজুর গুড় তৈরীর বীজমন্ত্র তাদের জানা নেই। প্রকৃতি মায়ের কোল ছেড়ে এই কঠিন নির্দয় নগর জীবনে কোনমতে পেটের ভাতটুকুর সংস্থানে দিন কাটে।

    এদিকে চা খেয়ে আমরা তো আবার হেলেঞ্চা থেকে অটোয় চেপে নাচতে নাচতে (মানে নাচতে না চাইলেও) চললাম মনটোপলা গ্রামের উদ্দ্যেশে। শরীরটা বিশেষ ভালো ছিলনা, নাহলে আমি কিছুতেই পথ চলতে গ্রাম জীবনের ছবিটুকু চোখে তুলে রাখার সুযোগ ছেড়ে দিই না। কিন্তু এবারটা চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে ঘুমিয়েই একসময় গ্রামে পৌঁছে গেলাম। আগের বারে হামকুড়া বলে যে গ্রামে গেছিলাম সেটি আরো অনেক অনেক প্রত্যন্ত ছিল। আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়েছিল। এটি কিন্তু হেলেঞ্চা থেকে অনেকটা কাছে।

    অটো থামল মনটোপলা শিশু শিক্ষাকেন্দ্রের সামনে। ইস্কুলের বারান্দায় একটি টেবিল ও কয়েকটি চেয়ার পাতা রয়েছে। উজ্জ্বলদা সৌরভদার পরিচালনায় ওদের কলেজের কয়েকটি ছেলে মেয়ে আমাদের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে। সামনে পাতা শতরঞ্চিতে নানা বয়সের কচিকাঁচারা বসে আছে। সকলেই বেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। উজ্জ্বল মুখে বড় বড় নিষ্পাপ চোখের চাউনি। দেখেই মন ভালো হয়ে যায়। একটু পিছনে জনাকয় বিভিন্ন বয়সের মহিলাও বসে। ওদেরই মা ঠাকুমা হবেন।

    সকলে হাতে হাতে সমস্ত জিনিস, যেমন বাচ্চাদের জন্যে খাতা পেন পেন্সিল কেক বিস্কুট চকোলেট আর বড়দের জন্যে কম্বল আর লাড্ডুর প্যাকেট ইত্যাদি ঝটপট টেবিলে সাজিয়ে ফেলে, কলেজের দেওয়া লিস্টি হাতে “রেডি স্টাডি গো” হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম। কলেজের ছেলে মেয়ে গুলিও আমাদের সাহায্যের জন্যে পাশেই রইল। আর সর্বোপরি উজ্জ্বলদা আর সৌরভদা কথা আর বিশেষ কি বলি। ওনাদের সার্বিক সহায়তা ছাড়া আমাদের এই রকম কর্মসূচি গ্রহণ করা কোনোদিন সম্ভব হত না।
    এই প্রকার কর্মসূচি করতে গেলে সেই জায়গার স্থানীয় মানুষজনের সাহায্য লাগে।

    যেহেতু আমাদের খুব সীমিত পুঁজি নিয়ে কাজ করতে হয়, তাই আমরা চেষ্টা করি শহর নগর থেকে যত দূর সম্ভব ভিতরে গিয়ে যারা একেবারেই প্রান্তিক, একেবারেই না থাকার দলে, তাদের মুখে একটু হলেও হাসি ফোটাতে। আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে যাঁরা আমাদের সহায়তা করে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন, তাঁরাও আমাদের পাশে থাকেন এই বিশ্বাস নিয়ে যে তাঁদের সহায়তাটুকু পৌঁছে যাচ্ছে একেবারেই নিঃস্ব মানুষটির হাতে।

    শুরু হল কচিকাঁচা দের নাম ডেকে তাদের হাতে খাতা পেন পেন্সিল ইত্যাদি তুলে দেওয়ার পালা।
    জানি এসবই খুব সামান্য তবুও ওদের হাতে এই সামান্য টুকুও তুলে দিতে পারলে মনটা ফুরফুরায় গ!
    মোটামুটি সকলের হাতেই তুলে দেওয়া গেল, কেউ কেউ গেছে মাঠে খেলতে, তার ভাগের জিনিস পত্তর তার মা অথবা বড় দিদির হাতে দেওয়া হল। গত কয়েক বারের অভিজ্ঞতায় আমরা লিস্টির বাইরে কয়েকটা করে বেশি নিয়ে থাকি, কারণ প্রতিবার বাড়তি কয়েকজন এসে পড়েন। আসলে সারা গ্রাম ঘুরে ঘুরে সার্ভে করতে করতে কিছু নাম তো ছুট হয়ে যেতেই পারে।
    এরপর বড়দের হাতে কম্বল আর মিষ্টি তুলে দেওয়া হল বিনা কোন গোলযোগে, অতি মসৃণ ভাবে সমস্ত মিটে যেতে চটপট সমস্ত গোছগাছ করে গাড়িতে উঠে ছোট্ ছোট্।

    আবার হেলেঞ্চায় বিরতি। আবার উজ্জ্বলদা ও সৌরভদার তত্বাবধানে একটি হোটেলে আমাদের অতিশয় (যেন বর যাত্রী!) খাতির যত্ন করে ভাত খাইয়ে, তারপর সৌরভদার একান্ত অনুরোধে দু পা হেঁটে ওনার বাড়িতে গেলাম। সৌরভদার পরিবারটি ওখানকার জমিদার ছিলেন এককালে। বিরাট বাড়ি ভিতরে পুকুর ইস্কুল সব আছে। কলেজের জমিটিও নাকি ওনাদের পরিবারের দেওয়া। আমরা অতি ঝটিকা সফর সেরে, আবার আসব কথা দিয়ে গাড়ীতে উঠে (অটো চালক আমাদের অনুরোধে) এক্কেবারে টিকিয়া উড়ান চালিয়ে সোজা স্টেশন। প্লাটফর্মে ট্রেন ঠাস বুনোট ভিড় ভর্তি হয়ে দাঁড়িয়েই ছিল। বাকিরা আগেই চেপে ছিল, আমরা কজন যে যেখানে পারলাম চেপে পড়লাম।

    এবার আমাদের সঙ্গে একটি বেশ মিষ্টি নতুন মানুষ যোগ দিয়েছে, সে আমাদের মিঠুর বউ। তাকে আমাদের ভারী ভালো লেগেছে। আর আমাদের দলের সব থেকে ছোট্ট মানুষটি যিনি খেলাধুলায় বেজায় দর, এবং এই সমস্ত কিছুতে তিনি আমাদের সঙ্গে সমান ভাবে অংশ গ্রহণ করেন, তাঁকে দেখে আশা জাগে মনে, এই যে আমাদের পরবর্তীতে ইনি নিশ্চয়ই এই “মনের টান” কে টেনে নিয়ে যেতে পারবেন।

    এবারের যাত্রা এখানেই সমাপ্ত। আবার পরবর্তী যাত্রার গল্প বলব খনো।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Aditi Dasgupta | ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৭:৫২736246
  • বাহ্ বাহ্! 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন