পেনাং-এর হকার সেন্টারগুলি সাধারণত বেশ ভিড় এবং কিছুটা কোলাহলপূর্ণ হয়। বড় রেস্তোরাঁর মতো নিজের স্পেস, সাজসজ্জা এখানে পাবেন না – তবে এটাই এখানকার বিশেষত্ব। ছোট প্লাস্টিকের টেবিল এবং চেয়ারগুলোতে বসে আপনি আপনার প্রিয়জনের সাথে সময় ভাগ করে নিচ্ছেন – সে এক রোমান্টিক জিনিস। আশেপাশের লোকজনের ভিড় থাকলেও যে নিজেরা চাইলে আলাদা হওয়া যায়, স্ট্রীট ফুডের স্টলগুলিতে খেতে বসলে তা টের পাওয়া যায়। কোনো কাঁচের দেওয়াল বা এসি-র ঠান্ডা বাতাস নেই - আপনি সরাসরি শহরের শব্দ, গন্ধ আর দৃশ্য — সবকিছুর অংশীদার। প্রিয়জনের সাথে বসে চারপাশের হকারদের ব্যস্ততা, স্থানীয়দের হাসি-ঠাট্টা দেখা, আর সেইসাথে সুস্বাদু খাবার উপভোগ করা — এটা এক রোমান্টিক সন্ধ্যা কাটানোর জবরদস্ত রেসিপি! ... ...
চিয়াং মাই-এর স্ট্রিট ফুডের শিকড় লান্না সংস্কৃতিতে। তবে কিনা প্রাচীনকালে বাণিজ্য পথের কারণে এখানে চীনা মুসলিম, বার্মিজ ও লাওসীয় খাবারের প্রভাব চলে আসে এবং আজকের দিনের আপনি চিয়াং মাইয়ের খাবারে, তা সে রেষ্টুরান্টের জমকালো খাবারই হোক বা রাস্তার ধারের খাবার, ওই সব দেশের খাবারের মিশ্রণ দেখা যায়। তাহলে এবার প্রশ্ন উঠতে পারে, ট্রাডিশন্যাল লান্না রান্নার ভিত্তি কি? ভিত্তি হল গিয়ে - তাজা হার্ব, লেমনগ্রাস, গালাঙ্গাল, লেমন পাতা, লাল ও সবুজ লঙ্কা, ফারমেন্টেড মাছ বা চিংড়ির ব্যবহার। লান্না ক্যুজিন হল গিয়ে ভাত নির্ভর খাবার - ধীরে রান্না করা ঝোল, শুয়োরের মাংস বা বুনো শাকসবজি — এগুলো স্থানীয় বৈশিষ্ট্য, যা আজও আপনি পাবেন চিয়াং মাইয়ের স্ট্রীট ফুডে। ... ...
সংবাদবার্তা পরিবহনের সে প্রায় পুরানো প্রস্তরযুগের ঘটনা – ১৮৬৫ সালের কথা। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন থিয়েটার দেখতে গিয়েছিলেন ওয়াশিংটনের এক জায়গায়। সেই থিয়েটার চলাকালীন এক আততায়ী তাঁর মাথাতে গুলি চালায়। পরের দিন মারা যান লিঙ্কন। এবার তা হলে সেই খবর সারা পৃথিবীতে পরিবেশিত হবে কিভাবে? তখনো টেলিফোনের চলও হয় নি। আমেরিকা থেকে ইংল্যান্ড এবং ইউরোপের মূল ভূখন্ডে খবর পাঠাতে হলে সেই জাহাজ যাত্রাই একমাত্র অবলম্বন। ... ...
মাঝে মাঝে কাকতলীয় ব্যাপার দেখা যাক বৈকি – সে বিজ্ঞান জগতে হলেও। যেমন দেখা যায় চার্লস মার্টিন হল এবং পল হেরল্ট এর জীবনে। ‘হল-হেরল্ট’ পদ্ধতির জনক এই দুই জন জন্মেছিলেন এই সালে (১৮৬৩), একই বছরে পৃথিবীর দুইপ্রান্তে পৃথক ভাবে অ্যালুমিনিয়াম নিষ্কাষণের পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলেন (১৮৮৬), আবার দুই জন মারাও গিয়েছিলেন একই বছরে (১৯১৪)। ... ...
প্রতিভাই সব নয় সফল হতে গেলে। কারণ সবচেয়ে প্রতিভাবান ব্যক্তিরা খুব কমই সব থেকে বেশী সফলতা পান। সাধারণভাবে দেখা গেল, মাঝারি-কিন্তু-ভাগ্যবান লোকেরা আরও-প্রতিভাবান-কিন্তু-অভাগা ব্যক্তিদের তুলনায় অনেক বেশি সফলতা পান। সবচেয়ে সফল জনতা তারাই দেখা গেল যাদের প্রতিভা সাধারণ মানুষের গড় প্রতিভার থেকে সামান্য বেশি কিন্তু যারা সারাজীবন অনেক ভাগ্যের সাথ পান। ... ...
১৯৬৩ সালের কথা – “স্টেট মিউচ্যুয়াল লাইফ ইনসিওরেন্স অব আমেরিকা” কোম্পানী তখন সবে অন্য একটা ইনসিওরেন্স কোম্পানীকে অধিগ্রহণ করেছে। স্বাভাবিক ভাবেই সেই অধিগ্রীহিত কোম্পানীর কর্মচারীদের মানসিক অবস্থা বা ‘মরাল’ তেমন যুতের নয়। তখন সেই বড় কোম্পানীর কর্তারা ভাবতে বসলেন যে কিছু করে কি এই নতুন কর্মচারীদের মরাল এর উন্নতি করা যায়? ডাকা হল তখনকার দিনের বিখ্যাত অ্যাডভার্টাইজ এবং পাবলিক রিলেশন বিশেষজ্ঞ হার্ভে বল-কে। হার্ভের তখন নিজের ফার্ম ছিল ম্যাসাচুয়েটস-এ। তিনি প্রথমে ওই ইন্সিওরেন্স কোম্পানীর প্রস্তাব শুনে ভাবলেন, এ আবার কেমন কাজের অনুরোধ! কিন্তু তবুও বললেন, তিনি ভেবে দেখবেন। হার্ভে-কে খুব বেশী দিন এই নিয়ে ভাবতে হয় নি। ইনফ্যাক্ট যেদিন তিনি এই অ্যাসাইনমেন্টের প্রস্তাব পান, সেই দিনই বিকেলে তিনি ড্রয়িং বোর্ডের সামনে ভাবতে শুরু করে একসময় এঁকে ফেললেন একটা হলুদ বৃত্ত, এবং তার ভিতরে দুটো ছোট বৃত্ত এবং একটি অর্ধবৃত্ত! ... ...
ও বাড়ির দুয়ার থেকে কেউ বলেছিল যেতেই কি হবে আজ? থেকেই যদি যায় বৈঠকখানার ঘরে? আজ রাতে চাঁদ উঠবেনা, চিনতেও চাইবে না কেউ সেই অস্ফুট আলোয় এলোমেলো চুলের ফাঁকে লাল রঙ অসময়ের বর্ষা বাতি নিভিয়ে দিয়েছে অনেকক্ষণ ... ...
ঘুরতে ঘুরতে এক মেডিটেরিনিয়ান রেষ্টুরান্টে ঢুকে পড়লাম হল্যান্ড এবং বেলজিয়ামের মাঝের এক জায়গায়। বেশ খিদে পেয়ে গিয়েছিল যেমন আমার পায় আর কি কাছেপিঠে ভালো রেষ্টুরান্ট দেখলেই। এই রেষ্টুরান্টের রেটিং আবার ৪.৭ পাঁচের মধ্যে, মানে যা তা ব্যাপার নয় আর কি! খেতে গিয়ে মেনু দেখেই বুঝলুম যা তা ব্যাপার কেন নয়! বিশাল বড় কিছু মেনু নয় তেমন – মাত্র চার পাতার! কিন্তু সেই মেনু পড়ে বোঝে কার কি সাধ্য কি খাবার অর্ডার দেওয়া হচ্ছে! এদিকে ডাচ, ওদিকে ফ্রেঞ্চ এবং মাঝে মাঝে ইংরাজী – একেবারে ডেডলি সব কম্বিনেশন! ... ...
সে প্রায় ১১২ বছর হতে চলল, ১৯১২ সালের ১২ এপ্রিল ইংল্যান্ডের সাউথহ্যাম্পটন থেকে আমেরিকার নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছিল ‘রয়েল মেল শিপ (আর এম এস) টাইটানিক’। সেই সময়ের সবচেয়ে জমকালো জাহাজের যাতার স্থায়ী হয়েছিল মাত্র দুই দিনের মত। ১৪ই এপ্রিল রাত ১১.৪০ নাগাদ টাইটানিক প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার/ঘন্টা গতিবেগে গিয়ে ধাক্কা দিল এক বিরাট হিমশৈল-তে যার ওজন ছিল দেড় লক্ষ থেকে তিন লক্ষ টনের মত। তারপর মাত্র দুই ঘন্টা চল্লিশ মিনিট – তার মধ্যেই উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে গেল সেই সময়ের বিষ্ময়ের প্রতীক টাইটানিক। জলের তাপমাত্রা তখন খুবই কম, চার ডিগ্রীর মত। বিজ্ঞান বলে এই তাপমাত্রায় মানুষের ২০ থেকে ৩০ মিনিটের বেশী বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। টাইটানিকে যাত্রী ছিল ২০০০ এর কাছাকাছি, এর মধ্যে সেই দিন মারা গিয়েছিল প্রায় ১৫০০ এর মত – এবং বেশীর ভাগই প্রবল ঠান্ডা জলে থাকার ফলে। মানে মৃত্যু সেই অর্থে জলে ডুবে ঠিক নয়। ... ...
এখন তো বছরের সেই সময়টা শুরু হয়ে গেছে জাপানে যখন লক্ষ লক্ষ বিদেশী পর্যটক সেই দেশে পাড়ি জমায়। জাপান বছরের মার্চ-এপ্রিল-মে এই তিন মাসের মধ্যে খুব সময়ের জন্য সেজে ওঠে চেরী ফুলের সম্ভারে, যাকে ওরা বলে ‘সাকুরা’। সেই সাকুরা দেখতেই পর্যটকদের আগমন। আজ তো নতুন বছরের প্রথম দিন, ভাবলাম সেই চেরী ফুলের গল্প ভাগ করে নেওয়া যাক। ... ...