
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফেডারেল কোর্টে জমা থাকা নথির কিছু অংশ প্রকাশের পরপরই সংবাদমাধ্যম, টেলিভিশন স্টুডিও, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একযোগে যে আলোড়ন দেখা গেছে, তা শুধু অপরাধের ভয়াবহতার জন্য নয়; বরং সংবাদ-ফ্রেমিংয়ের কৌশলগত নির্বাচনের কারণেও আলাদা উল্লেখের দাবি রাখে। শিরোনামগুলি প্রায় সর্বত্র মূলতঃ কিছু বাঁধা লব্জ ভিত্তিক —“Epstein Files”, “Pedophilia Network”, “Elite Abuse Ring”—যেখানে কেন্দ্রবিন্দুতে একক ব্যক্তিত্ব হিসেবে এপস্টাইন-কে স্থাপন করা হচ্ছে।এই ব্যক্তিকেন্দ্রিকীকরণ এমনভাবে নির্মিত যে, বৃহত্তর ক্ষমতাবলয়, আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা, আন্তর্জাতিক চলাচলের অবকাঠামো, এবং রাজনৈতিক-ব্যবসায়িক সম্পর্কের জটিল নেটওয়ার্কটি আড়ালে পড়ে যায়। ... ...

পৃথিবীজুড়ে আস্তিকদের ধর্মচর্চা, ঈশ্বরচর্চার পাশাপাশি চিরকালই বিপরীত স্রোত হিসেবে থেকেছে অবিশ্বাস এবং যুক্তির উপর প্রতিষ্ঠিত নাস্তিক্যবাদ। ক্রমশ পৃথিবীজুড়ে বেড়ে চলেছে ধর্মান্ধ, মৌলবাদী, জাত্যাভিমানী, স্বার্থপর মানুষের সংখ্যা। তৈরি হচ্ছে এক অদ্ভুত মনুষ্যমন যেখানে অন্য ধর্মের, অন্য মতের মানুষের কোনও ঠাঁই নেই। যুক্তি মন আর মুক্ত ভাবনাচিন্তার ভাঁটা কাটাতে ফের একজোট নিরীশ্বরবাদীরা। ... ...

সমস্ত আশঙ্কাকে সত্যি করে নিয়ম ভাঙাতেই আনন্দ খুঁজে পেল শহর কলকাতা থেকে মফস্বলের আধুনিক নাগরিক সমাজ। কালীপুজোর রাতে নাগারে ফাটল বিপুল শব্দবাজি, পুড়ল নীল-লাল-সবুজ-সাদা আলো ছড়ানো হাজারো আতসবাজি।... সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, পুলিশের তৎপরতা (যদিও অনেকের অভিযোগ পুলিশ ঠিক থাকলে এমনটা হতই না), বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী মঞ্চের স্বেচ্ছাসেবীদের আবেদন, কিছুই কেন থামাতে পারল না নাগরিককুলকে? কেন বস্তির উঠোনের সঙ্গে একই ডেসিবেলে কেঁপে উঠল বহুতলের ছাদ? ... ...

পরিবার -এক অনন্য সামাজিক সংগঠন। পারিবারিক আবহেই একটু একটু করে ব্যক্তি মানুষের সামাজিক হয়ে ওঠা।একটি শিশু পরিবারের মধ্যেই অনেক অনেক ভালোবাসা আর নিরাপত্তাকে আশ্রয় করে বেড়ে ওঠে। একালে পরিবারের পরিসর অবশ্য আগের তুলনায় অনেক সংকুচিত হয়ে গেছে। যৌথ পরিবার ভেঙে ভেঙে অণুতম পরিবারে পরিবর্তিত হয়েছে হাল আমলে। এরফলে আমাদের পারিবারিক চাওয়া পাওয়ার স্তরেও এসেছে বড়ো পরিবর্তন। এই নিবন্ধ এমনই বদলে যাওয়া সম্পর্কের নব্য রসায়ন নিয়ে। ... ...

কী হয়েছিল ১৬ ই আগস্ট ১৯৪৬ সালে? এর এক মাস আগে পর্যন্ত দাঙ্গা হাঙ্গামার কোনো আঁচ পাওয়া যায়নি। ক্যাবিনেট মিশন তখন ভারতকে টুকরো না করার শেষ চেষ্টা করছে। একটা ঢিলেঢালা ইউনিয়নের প্রস্তাব এসেছে। প্রস্তাব মেনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে মুসলিম লিগ অংশগ্রহণ করবে বলেছে। কিন্তু কংগ্রেস ক্রমাগত টালবাহানা করছে। শেষকালে জুলাইয়ের ১০ এ নেহরু জানালেন, যে, কংগ্রেস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে থাকবে বটে, কিন্তু ক্যাবিনেট মিশনের একীকৃত ভারতবর্ষের পরিকল্পনা মেনে নেবার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। জিন্না কংগ্রেসের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ডাক দিলেন ডায়রেক্ট অ্যাকশন ডের। আর কিছু না, সেটা একটা দেশব্যাপী হরতালের ডাক। ... ...

কলকেতা, ডায়মন্ড হারবার, রানাঘাট, তিব্বত - সাকুল্যে সওয়া ঘন্টার পথ। পশ্চিম বঙ্গ, দিল্লি-বম্বে-মাদ্রাজ, হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরু, আর তারপর সিধে বিলেত-আমেরিকা, সেও সওয়া ঘন্টারই পথ। মাঝে আবার আরব দেশগুলিও আছে, মধ্য-প্রাচ্যের দুবাই-আবুধাবি-সৌদি। ... ...

বাংলা তিনবার ভেঙেছে। প্রথম বঙ্গভঙ্গ ১৯০৫ সালে। প্রতিবাদে সারা বাংলা জুড়ে রাখিবন্ধন হয়েছিল সেবার। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ রাস্তায় নেমেছিলেন। অবনীন্দ্রনাথ লিখেছেন, "রবিকাকা বললেন, সবাই হেঁটে যাব, গাড়িঘোড়া নয়।—রওনা হলুম সবাই গঙ্গাস্নানের উদ্দেশ্যে। রাস্তার দুধারে বাড়ির ছাদ থেকে আরম্ভ করে ফুটপাত অবধি লোক দাঁড়িয়ে আছে—মেয়েরা খই ছড়াচ্ছে, শাঁখ বাজাচ্ছে, মহা ধুমধাম—যেন একটা শোভাযাত্রা, দিনুও সঙ্গে ছিল, গান গাইতে গাইতে রাস্তা দিয়ে মিছিল চলল—বাংলার মাটি, বাংলার জল বাংলার বায়ু, বাংলার ফল পুণ্য হউক পুণ্য হউক পুণ্য হউক হে ভগবান।" তারপর সেটাই একটা মিছিল হয়ে গেল। যাকেই সামনে পাওয়া যাচ্ছে, তার হাতেই বেঁধে দেওয়া হচ্ছে রাখি। ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে। প্রায় অনাবৃত ঊর্ধাঙ্গে কলকাতার রাজপথে হাঁটছেন রবীন্দ্রনাথ। পাথুরেঘাটা গিয়ে মিছিল যাচ্ছে, বীরু মল্লিকের আস্তাবলে গিয়ে মুসলমান সহিসদের হাতে রাখি পরিয়ে দিলেন রবীন্দ্রনাথ। তারপর চললেন চিৎপুরের বড়ো মসজিদের দিকে। মসজিদে যাঁদের পাওয়া গেল, সবাইকে পরানো হল রাখি। তাঁরাও খুশি মনে হেসে রাখি পরেছিলেন সেদিন। এই ঐক্যের তাপে ইংরেজ বঙ্গভঙ্গ প্রস্তাব রদ করতে বাধ্য হয় একটা সময়। ... ...


সময়টা বড় অদ্ভূত। গোলমেলেও বটে। একই সঙ্গে একদল মানুষ দেদার উৎসবে মেতেছে আর অন্যদল বলছে এ বড় সুখের সময় নয়। বাঙালির সেরা দুর্গোৎসবের চৌকাঠ পেরিয়ে এবার আসছে কার্নিভাল। ঠিক হয়েছে জেলা সদর চুঁচুড়ার বদলে এবার কার্নিভাল হবে মহকুমা সদর শ্রীরামপুরে। আর এতেই আপত্তি তুলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আবেদন জানিয়েছেন শ্রীরামপুরের নাগরিক সমাজের একাংশ। ... ...

আর জি কর, এনআরএস এসব তো বড় বড় ক্ষেত্র। চন্দননগর মহাকুমার ছোট হাসপাতাল। সেখানে নামি দামি ভালো মেডিসিনের ডাক্তার আসেন। কিছুদিনের মধ্যেই মারধর খেয়ে চলে যায়। কেউ থাকেন না। তালিকায় নামিদামি ডাক্তার আছেন। ডক্টর জেএন নসিপুরি, ডক্টর এস ডি রায়, ডক্টর অলোক ঘোষ, ডক্টর সুজিত মিত্র, কে নেই তালিকায়। এরা কেন থাকেন না? কেন এদের মার খেতে হয়? কারণ এলাকায় এক বা একাধিক ডাক্তার আছেন, হাসপাতালে ভালো মেডিসিনের ডাক্তার এলে তাদের স্বার্থ বিঘ্নিত হয়। তাই এরা কোন না কোন ইস্যুতে এদের ওপর হামলা চালায়। এটারই চরম রূপ ছিল রানাঘাটে ডাক্তার চন্দন সেনের খুন হওয়া। মনে রাখবেন এসব আশি নব্বই এর দশকের কথা। তখন বাম শাসন, আর চন্দননগরে দুজন মন্ত্রী, শ্রী রাম চট্টোপাধ্যায় ও শ্রী ভবানী মুখোপাধ্যায়। আমরা দেখেছি তখন নেতা ডাক্তার অঞ্জন পান, ডাক্তার অমিত পান, ডাক্তার তাপস সেন। কাকে দূরে পাঠাতে হবে, কাকে কাছে আনতে হবে জানতেন তাপস সেন।কথায় কথা বাড়ে। অসুস্থ অবস্থায় একবার চন্দননগরের এক নেতা ডাক্তার কে দেখাচ্ছি। কদিন পর জেলা অফিসে গেছি। নেতা মহিতোষ নন্দী বললেন, তুমি আর ডাক্তার পাওনি, অমুকে পার্টি করে, নেতাগিরি করে, ও ডাক্তার না। ওর বউ ডাক্তার। এই সব নেতারা আই এম এ চালায়, একে বসায় ওকে দাঁড় করায়। ... ...

এ সমস্ত ঐতিহাসিক মতাদর্শগত নৈতিক অবস্থানের জায়গা থেকেই বিজেপি দলটি দেশের ঘটে চলা ক্রমবর্ধমান ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্বপূর্ণ জাতি হিংসা এবং ব্রাহ্মণ্যবাদী-পিতৃতান্ত্রিক নারী হিংসা ও ধর্ষণের পক্ষ নেয়। এমন অবস্থান তারা নিজেদের দলের ভেতরেও অনুশীলনের ক্ষেত্রে যথাযথ ভাবে প্রয়োগ করে। এর ফলে রাজ্য বিজেপি দলটির ভেতরেও নারী নেত্রী, কর্মীর আত্মহত্যা খবর সমাজের বুকে উঠে এসেছে। এখন এরাই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির অসহায়তার সুযোগে, ফাঁক তালে এ রাজ্যে ক্ষমতা দখলে আর.জি.করের মর্মান্তিক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার রাজনৈতিক সৎকার করতে চাইছে। এ কী রাজ্যের নারী সমাজের অপমান বলে গণ্য হবে, নাকি বিজেপির ঐতিহাসিক মতাদর্শগত নৈতিকতার সন্মানের পুরস্কার হিসেবে স্বীকৃতি পাবে? ... ...

১৯শে আগস্ট, ১৯৩৬, ভোরের আলো ফুটতে তখনো দেরী খানিকটা। গ্রানাদার ঠিক বাইরে যে মেঠো রাস্তাটা জুড়েছে ভিজনার আর আলফাকার শহর-কে, সেইখানে থামলো একটি গাড়ি – দরজা খুলে একে একে নেমে এলেন চারজন বন্দী আর পাঁচজন বন্দুকধারী সৈন্য। বন্দীদের দুজন নৈরাজ্যবাদী বুলফাইটার, একজন পক্ককেশ স্কুলশিক্ষক যাঁর একটি পা কাঠের, আর চতুর্থ ব্যক্তিটির পরণে একটি ব্লেজার আর শাদা পাজামা, অন্ধকার আন্দালুশিয়ান আকাশের নীচে উদ্যত মাউজার রাইফেল আর অ্যাস্ট্রা-৯০০ পিস্তলের নিশানার তাঁরা হেঁটে যাচ্ছেন আল পেরিয়ে একটি জমিতে, জলপাই গাছের সারি উজ্জ্বল ভাসমান হয়ে আছে ঘাতকদের গাড়ির তীব্র হেডলাইটের আলোয়। ওঁরা জানেন সেই রাত্রিটির শেষ নেই। ... ...

আমাদের দেশের নতুন পেনাল কোডের নাম ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, সংক্ষেপে বিএনএস। সেই ন্যায় সংহিতায় খুব স্পষ্ট করে বলা আছে, কিছু কিছু নির্দিষ্ট অপরাধের শিকার হওয়া ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা আইনতঃ দণ্ডনীয়। এর সাজা আর্থিক জরিমানা এবং সর্বোচ্চ দুই বছরের জেল। এর দু-একটি ব্যতিক্রম আছে, যদি সেই ভিকটিম বেঁচে না থাকেন, বা যদি সে শিশু হয় বা মানসিকভাবে অসমর্থ (“of unsound mind”), তাহলেও শুধু তার নিকটতম আত্মীয় “রেকগনাইজ়ড অথরাইজ়ড ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজ়েশন”কে অনুমতি দিতে পারেন ভিকটিমের পরিচয় প্রকাশ করার। এই “রেকগনাইজ়ড অথরাইজ়ড ওয়েলফেয়ার অর্গে”র সংজ্ঞাও দেওয়া আছে, সহজে বলতে গেলে তাদের সরকারীভাবে স্বীকৃত হতে হবে। ... ...


মধ্যরাতে ইতিহাস লিখল মেয়েরা। আরজি করের ঘটনায় বাংলার বুকে ‘মেয়েরা রাত দখল করো’ ডাকের জেরে যে প্রতিবাদ, অধিকার আদায়ের আন্দোলনের জন্ম নিল তা এককথায় অভূতপূর্ব, ঐতিহাসিক। এমনটা বাংলার বুকে আর কখনও ঘটে নি। ... ...


খবরে প্রকাশ, রাজধানী ঢাকার সৌন্দর্য পরিবর্ধনে বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশান। এর মধ্যে একটি প্রজেক্ট ১৯১৯ কোটি টাকার। যার আওতায় রয়েছে খেলার মাঠ, কমিউনিটি সেন্টার, পুকুর আধুনিকায়নের পরিকল্পনা, যার বাস্তবায়ন দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া কালুনগর, জিরানি, মান্দা ও শ্যামপুরে খাল নির্মাণেও অনুষ্ঠিত হচ্ছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ; সীমানপ্রাচীর, যানবাহন ও পথচারী চলার জন্য সেতু, পায়ে চলার পথ, পাবলিক টয়লেট, প্লাজা, সাইকেল লেন, আর বৈদ্যুতিক বাতির থাম – সব কিছু দাঁড়িয়ে যাচ্ছে ছায়াছবির মত। একই সাথে অনেক কিছু উধাও হচ্ছেও ছায়াছবির মত; যেমনঃ পুকুর বা খালের উন্নয়নে টনকে টন কংক্রিট গেলে দেয়া হচ্ছে পার্শ্ববর্তী সব সবুজকে উচ্ছেদ করে! ... ...

এরপরে দুনিয়ায় আসে এক অদ্ভুত জাতি, বাংলাদেশি বাঙালী! এত বেহুশ জাতি এই দুনিয়ায় আর আছে বলে মনে হয় না। তারা এক বাক্যে এইটা পালন করা হারাম বলে রায় দিচ্ছে। আমাদের নিজস্ব একটা পঞ্জিকা আছে। নিজেদের নববর্ষ আছে, এইটা গর্বের না? না! পারলে ধরে মারে! এই রোগের চিকিৎসা আমার জানা নাই। সংস্কৃতি আর ধর্মের একটা ক্যাচাল লাগিয়ে দিয়ে ধর্মের আফিমে বুঁদ হয়ে থাকা মানুষের উপরে এরপরের দায়িত্ব দিয়ে চুপ করে বসে থাকে এই ছাগল গুলো। ইসলাম শুধু এই অঞ্চলেই আসে নাই, আরও নানা দিকে গেছে আরব থেকে। কিন্তু কেউ নিজেদের ভাষা সংস্কৃতিকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ধর্মকে টেনে নেয়নি। ... ...

এগুলা সব সত্য, কিন্তু কথা হচ্ছে আমরা কেন মরতেছি? সব দুশ্চিন্তা আমাদেরই? আমাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় দশা চলছে এখন। আমাদের মাথা ঘামাইতে হচ্ছে বিশ্ব রাজনীতির কঠিনতম প্যাচ নিয়ে! মধ্যপ্রাচ্যরে দেখেন, তুরস্ক যে তুরস্ক, মুসলিম দুনিয়ার নেতা হিসেবে যারা আবির্ভূত হয়েছে অনেকের মনে, তাদের দেখেন! সবাই গরম গরম বক্তব্য দিচ্ছে, হেন করবে তেন করবে বলে যাচ্ছে অথচ সবার সাথে ইজরাইলের কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক সব ধরণের সম্পর্ক আছে। নিজেদের আখের গুছিয়ে নিয়েই তারা যা করার তা করে যাচ্ছে। আমাদেরই এই অদ্ভুত প্রেম! ওরা নিজেরা নিজেদেরটা গুছিয়ে নিয়ে আমাদেরকে মুসলিম উম্মাহর গল্প শোনাচ্ছে, আমরা বয়কট বলে আমার প্রতিবেশী যে কোকের কোম্পানির উপরে নির্ভর করে বেঁচে আছে তারে বিপদে ফেলে দিচ্ছি। যে হাজার হাজার কর্মী কোক কোম্পানিতে কাজ করছে তাঁদেরকে একটা মানসিক অস্থিরতার মধ্যে ফেলে দিচ্ছি। ... ...

এগুলা সবই ছিল, অতীত কালে বলছি। কারণ হুট করেই এগুলা সব বেদাত, হারাম হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গেছে! কবে কীভাবে যে হয়ে গেল বুঝতেই পারি নাই। অনেক আগে এক শবে বরাতে আমাদের মসজিদে একজন নিউজপ্রিন্ট কাগজে দুই পাশে ছাপা একটা লিফটলেটের মত বস্তু নিয়ে আসছিল। তাতে লেখা ছিল শবে বরাত পালন করা যাবে না, এগুলা বেদাত, হারাম! সেদিন ওই লোক কোনমতে লম্বা পায়ে এলাকা ছেড়ে নিজের পিঠ বাঁচিয়ে ছিল। কেউ সেদিন তার কথা শুনতে রাজি ছিল না। অথচ ওয়াহাবি সালাফিদের এখন এত জোর যে শবে বরাতই টিম টিম করে কোনমতে টিকে আছে! শবে বরাত বললে আব্বার কথা মনে পড়বেই। আব্বা আমাদের মত সারা রাত মসজিদে কাটিয়ে দিতেন না, এশার নামাজের পরে কিছুক্ষণ মসজিদে থেকে চলে আসতেন বাসায়। এরপরে বাসায়ই নামাজ পড়তেন। সকালে দুই হাত তুলে দোয়া ধরতেন। ডুকরে কাঁদতেন, গাল বেয়ে পানি পড়ত, সবার জন্য দোয়া করতেন, দাদা দাদীর জন্য দোয়া করতেন, নানা নানীর জন্য, নিজের ভাই বোনের জন্য। আকুল হয়ে কাঁদতেন। হায়! কেউ যদি তখন তাঁকে বুঝাইতে আসত যে শবে বরাত পালন করা যাবে না! আহা! কেউ যদি আমাকে এখন বুঝায় দিতে পারত যে আমার বাপ ধর্ম বুঝত না, সারা জীবন বেদাত হারাম কাজ করে গেছে লোকটা! ... ...