আসগর ও বানভাসি মানুষের কথা : সোমনাথ মুখোপাধ্যায়
বুলবুলভাজা | আলোচনা : পরিবেশ | ১৩ অক্টোবর ২০২৪ | ১২৫৯ বার পঠিত | মন্তব্য : ৬
বন্যা, নদী জলের ভাগ দখলদারি নিয়ে পারস্পরিক অসহযোগিতা ও সংঘাতের বিষয়টি ক্রমশই হাইড্রো ইম্পিরিয়ালিজিমের হাত ধরে হাইড্রো ক্যাপিটালিজমের পথ ধরেছে। প্রাকৃতিক জল শক্তির বিকাশ যে প্রকৃতপক্ষে ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থারই অঙ্গ তা বোধহয় বোঝবার সময় হয়েছে। ঊনিশ ও বিংশ শতাব্দীর ফ্রান্সে এই ধারণার জন্ম যা নদীর জলের মতোই ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য উপনিবেশগুলোতে। নিজেদের স্বার্থেই ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো একেএকে উপনিবেশগুলোর দীর্ঘ সময় ধরে প্রচলিত রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং বাস্তুতান্ত্রিক যাপনের সমস্ত ক্ষেত্রগুলোকে ধংস করে ফেলেছে। নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থেই প্রাক্ বৃটিশ যুগের ভারতীয় কৃষি কাঠামোকে ভেঙেচুরে এক পুঁজিবাদী কৃষি ব্যবস্থার পত্তন করেছে। প্রথাগত ঋতুচক্রের সুবিধাকে নস্যাৎ করে পত্তন করেছে শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদি অর্থকরী বাজারি ফসলের চাষ। এজন্য নদীর জলের ওপর স্থাপিত হয়েছে একছত্র পুঁজিবাদী নিয়ন্ত্রণ। এখন কর্তার ইচ্ছায় চলে নদী জলের জোগান। কখন ছাড়বে আর কখন ধরবে তা তাঁরাই ঠিক করে। বন্যার প্রসাদ পায় খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।
উৎসব উৎকণ্ঠা : সোমনাথ মুখোপাধ্যায়
বুলবুলভাজা | আলোচনা : সমাজ | ৩১ অক্টোবর ২০২৪ | ১২৮৮ বার পঠিত | মন্তব্য : ৩
সেদিন সন্ধেবেলায় সবে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে টিভির পর্দায় চোখ রেখেছি, হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠলো। কাপটা টেবিলের ওপর নামিয়ে সদর দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই দেখি দরজার সামনে বাপি দাঁড়িয়ে আছে। চাবি এনে দরজা খুলতে খুলতেই প্রশ্ন করি – “ কী ব্যাপার বাপি ? হঠাৎ এমন সময়ে?” ম্লান হেসে বাপি উত্তর দেয় – “এই তোমার কাছে এলাম একটু পরামর্শের জন্য।” পরামর্শ? তাও আবার আমার মতো এক অচল গাড়ির গাড়োয়ানের কাছে?” “তুমি হলে মাস্টারমশাই মানুষ, তোমার সঙ্গে কথায় আমি পেরে উঠবো না।” – বেশ বিনয় করে কথাটা বলে বাপি। এই অবসরে আমার স্ত্রী বাপির জন্যও এক পেয়ালা চা এনে হাজির করেছেন। সেই কাপে ঠোঁট ঠেকিয়ে বাপি বলে, –“সামনের পরবের ছুটিতে বাড়ির সবাই মিলে একটু বেড়াতে যাবো বলে ঠিক করেছি।” বাপি মনের কথা সবটা বলে উঠতে পারে না, আমার গিন্নি উচ্ছ্বসিত হয়ে বলে ওঠেন, – “ বাহ্! এতো খুব ভালো কথা। যা ,যা, ঘুরে আয়। আমিতো তোর কাকুকে বলে বলে হয়রান হয়ে গেলাম। কতদিন বাড়ির বাইরে যাওয়া হয়না। তাই কোথায় যাবি ঠিক করলি? পাহাড় না সমুদ্র?” এক নাগাড়ে এতো কথা শুনে বাপিতো একরকম নাজেহাল। আমতা আমতা করে বাপি বলে,-- “এখনো তা ঠিক করে উঠতে পারিনি কাকিমা। মেয়েটা এবার মাধ্যমিক পাশ করেছে ওর দাবি তাই সবার আগে। ওর ইচ্ছে এবার পাহাড় দেখতে যাবে, অন্যদিকে ওর মায়ের ইচ্ছে সমুদ্র দেখতে যাবে। আমি তো ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। কোথায় যাব। এই উৎসবের সময় এলেই আমার বুক , মাথা সব ধরফর করতে শুরু করে। একেতো পরবের জন্য কেনাকাটার খরচ,তার ওপর এই বেড়াতে যাওয়ার খরচ! সামলাবো কী করে,তা ভেবেই আমার ঘুম উড়েছে। কাকু, আমায় একটা উপায় বাতলে দাও দেখি।”
ফোবিয়া, নোমোফোবিয়া এবং চলতি সময় : সোমনাথ মুখোপাধ্যায়
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি | ১১ ডিসেম্বর ২০২৪ | ১৭৬৯ বার পঠিত | মন্তব্য : ১৪
নোমোফোবিয়া শব্দটির প্রচলন খুব বেশি দিনের নয়। ২০০৮ সালে বৃটেনের গবেষণা সংস্থার Gov You এর সৌজন্যে ইংরেজি ‘no mobile phobia’ শব্দবন্ধটিকে কেটে ছেঁটে এই শব্দটিকে তৈরি করা হয়েছে হাতের মুঠোয় সচল মোবাইল ফোন না থাকার ভয় এবং উদ্বেগকে বোঝাবার জন্য।
হালফিল সময়ে খবর কাগজ খুললেই দেখা যায় মোবাইল ফোন না থাকার ফলে অথবা অতি ব্যবহারের আসক্তি থেকে ছেলে মেয়েদের দূরে সরে থাকার জন্য বকাঝকা করা হলেই, কি ভাবে তারা আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে কোনো রকম চিন্তা না করেই। ডিজিটাল মাধ্যমের ওপর ক্রমশই আমাদের নির্ভরতা বাড়ছে। জীবন হয়ে উঠেছে অ্যাপস নির্ভর। আর সেই অবকাশে আমাদের, বিশেষ করে অল্পবয়সীদের, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শয়নে স্বপনে জাগরণে আজ মুঠো বন্দি এই উপকরণটি হয়ে উঠেছে সর্বক্ষণের সঙ্গী। আর এই কারণেই মোবাইল ফোনকে ঘিরে বাড়ছে তীব্র আসক্তি।
বার্নিহাট বার্নিং : সোমনাথ মুখোপাধ্যায়
বুলবুলভাজা | আলোচনা : পরিবেশ | ২৭ মার্চ ২০২৫ | ১১৬৫ বার পঠিত | মন্তব্য : ৬
সক্কাল সক্কাল খবরের কাগজে পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষে বার্নিহাট এই নামটা দেখে বেশ অবাক হয়ে গেছিলাম।পাশে তিরঙ্গা জাতীয় পতাকার ছবি ধন্দ আরও বাড়িয়ে দিল সঙ্গে প্রবল অস্বস্তি , জায়গাটা চিনতে না পারায়। হাতের সামনে পাওয়া এ্যাটলাসের পাতা হাতড়াতে হাতড়াতে হাত ব্যাথা, চোখ বিগলিত। তবুও তেনার দেখা নাই। উপায়ান্তর না দেখে আমার এক ছাত্রকে ফোন করলাম। ও এখন কর্মসূত্রে অসম রাজ্যের বাসিন্দা। প্রথম প্রচেষ্টায় ওদিক থেকে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে আবার তার নম্বর মেলাতে যাব, এমন সময় আমার মুঠোফোন বেজে ওঠে। স্ক্রিনে নাম ভেসে উঠতেই বাটন টিপে কানের কাছে ফোনটা ধরতেই ওদিক থেকে কথা ভেসে আসে –
“বার্নিহাট কোথায় ? -তা জানতেই বোধহয় ফোন করেছেন দাদা ? জায়গাটা আমাদের গুয়াহাটি থেকে প্রায় কুড়ি কিলোমিটার দূরে। অবশ্য শিলং থেকে এই শহরের দূরত্ব প্রায় ৬৫ কিলোমিটার। অসমের গায়ে গা লাগিয়ে থাকা মেঘালয় রাজ্যের রি- ভোই জেলায় মেঘালয় পাহাড়ের ঢাল যেখানে এসে গুয়াহাটির সমতলে মিশেছে সেখানেই এই বার্নিহাট শহর।” খট্ করে আওয়াজ তুলে কলটা কেটে যায়। বুঝতে পারি অসমে থাকার দরুণ বেচারিকে হয়তো শহরের অবস্থান জানাতেই নাজেহাল হতে হচ্ছে।
ছাদ এবং বড়ো দিদিমার ক্লাসঘর : সোমনাথ মুখোপাধ্যায়
বুলবুলভাজা | ইদবোশেখি | ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | ৪২২ বার পঠিত | মন্তব্য : ৭
আসগর তার বাগানের একঢাল সবজি এনে হাজির করেছে ব্যাগ ভর্তি করে। নতুন কচি পটল, সজনে পাতা , সজনে ফুল, বেগুন, টসটসে পাকা লাল টমেটো আরও কতো কি! আসগরের আব্বাজান আফসরের সঙ্গে প্রিয়তোষের খুব খাতির ছিল। সেই দোস্তির ধারা এখনও বজায় আছে দেখে টিঙ্কা, পিঙ্কা অবাক হয়ে যায়। এখন রমজানের রোজা চলছে আসগরের , তাই এ বাড়ির কিছুই মুখে তোলার উপায় নেই।