তুলনায় দুর্বলের প্রতি সবলের বীরত্ব, সভ্যতার জন্মলগ্ন থেকেই আছে। প্রায় সব বড় রাজ্য/সাম্রাজ্য এই নিয়মের ব্যত্যয় হতে দেয় নি। তবে ৭/৮ কোটি মানুষের মৃত্যুর পরে, ছয় বছর ব্যাপী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানে রাষ্ট্রনেতা, পুঁজিপতি, সামরিক জেনারেলদের হয়তো মনে হয়েছিল, "বড্ড বেশি মানুষ গেছে বানের জলে ভেসে" অথবা এই শক্তিক্ষয়ে ওনাদের বেওসার লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হচ্ছিল। যাই হোক না কেন, যুদ্ধ শেষের পর কয়েকটা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলো - যার কেন্দ্রে ছিলো রাষ্ট্রপুঞ্জ (United Nations' Organization)। উদ্দেশ্য বিশ্বে একটা Rule Based Order তৈরি করা, যাতে মানুষের সভ্যতায় "জঙ্গলের নিয়ম" এর অবসান হয়, যুদ্ধের বদলে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পথ খোঁজা ... ...
১৯২৫ সালে রেজা শাহকে প্রধান মন্ত্রী করেছিলেন ইরানের পার্লামেন্টের সদস্যরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্র শক্তি রেজা শাহকে হঠিয়ে তাঁর ছেলে, ২২ বছর বয়সের মহম্মদ রেজা শাহ পহেলভীকে তখতে বসায় ১৯৪১ সালে। তখন থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতা সব মহম্মদ রেজা শাহর হাতে। মধ্যেখানে ১৯৫৩ সালে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন বটে সামরিক অভ্যুত্থানে, কিন্তু রাখে ন্যাটো মারে কে? আমেরিকা ও ব্রিটেনের সহায়তায় দ্রুত ক্ষমতায় ফেরেন শাহ। এনার আমলে ভালো কি হয়েছিলো, খারাপ কি ছিল, সেটা আজকের বিষয়বস্তু নয়। শাহ একনায়ক ছিলেন আর একনায়কদের ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মত যা যা গুণ থাকে, শাহের তা ছিল না - এই বদনাম কেউ দিতে পারবে না।১৯৭৯ র ... ...
২২শে জানুয়ারি, সময় সন্ধ্যে ৭.১৫। স্থান আলিপুর মিউজিয়াম, কলকাতা লিটারেসি মিট ২০২৬।অভিজিতের সাথে এক মঞ্চ থেকে আর এক দিকে যাচ্ছি, হঠাৎ পিছনে জোর আওয়াজ, খুব ভারী কোনো ধাতব জিনিষ বাঁধানো কংক্রিটের রাস্তায় পড়ল মনে হলো। অভিজিতের আঁতকে ওঠার আওয়াজে পিছন ঘুরে দেখলাম একজন বয়স্ক মানুষ, নাম পরের দিন জেনেছি, অরুণাভ সেনগুপ্ত, রাস্তায় পড়ে গেছেন, হোঁচট খেয়ে। ধরে দাঁড় করাতে না করাতেই, মুহূর্তের মধ্যে চেয়ার নিয়ে দৌড়ে এলেন এক তরুণ সংগঠক, পরে নাম জেনেছি সুপ্রিয় ঘোষ। বসানোর পর বোঝা গেলো মাথার সামনের দিক ফেটেছে, ফিনকি দিয়ে রক্তের বন্যা। আনাড়ি চোখে আঘাতের জায়গা দেখে আত্মারাম খাঁচা ছাড়া হবার জোগাড়। মনে হলো খুলির হাড় ... ...
প্রাক স্বাধীনতা যুগে কিভাবে কিছু রাজনীতি আর ধর্মের কারবারীরা সুপরিকল্পিত ভাবে, ধীর কিন্তু নিশ্চিত গতিতে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পে পুরো উপমহাদেশকে ঢেকে ফেলেছিলো, বইয়ে পড়েছি। আজ যেন তার পুনর্নির্মাণ দেখছি চোখের ওপর। ঘটনা প্রবাহের ওপর তো হাত নেই, শুধু এক বুক হতাশা আর যন্ত্রণা নিয়ে দেখে যাওয়া। নীচের স্বগতক্তিগুলো কিছুটা গায়ের জ্বালা কমানোর অক্ষম প্রয়াস। মনে হয় ইতিহাস সাক্ষী দেবে, নীচের কথাগুলো অলস কল্পনা প্রসূত নয়।১. কোনও দেশে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ যখন দীর্ঘদিনের চেষ্টায় জাতি ঘৃণা বা ধর্মোন্মাদনার বিষ মোক্ষম ভাবে ছড়াতে সক্ষম হয়, কিছুদিন পরে সেই বিষ সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের মানুষের ধ্বংস ডেকে আনে। গত শতাব্দীর নাজি জার্মানি থেকে এই শতাব্দীর ISIS, ... ...
সকালে রামবাবু ঠিক করলেন তিনি আজ ছানার ডালনা আর গোবিন্দভোগ পায়েস বানাবেন। সাত সকালে আনন্দ নাড়ুর উত্তেজনায় হাত গরম করে গেলেন রান্না ঘরে। এক ডেকচি দুধ, পাতি লেবু, চিনি, গোবিন্দভোগ চাল, কিসমিস কড়াই, মশলা আর তেল - সব উপকরণ সাজিয়ে ফেলে, জামার হাত গুটিয়ে নেমে পড়লেন ময়দানে। অল্প আঁচে পুরো দুধ বসিয়ে, ইসদুষ্ণ দুধে দিলেন লেবু চটকে। আনন্দ নাড়ুর জ্ঞানে উদ্ভাসিত, উত্তেজিত রামবাবুর বিশ্বাস ছিল, অর্ধেক দুধ কেটে ছানা হবে ছানার ডালনার জন্য, আর বাকি অধ্যেক ভালো থাকবে যা ঘন করে উনি পায়েস বানাবেন। এদিকে পুরো দুধ তো গেছে ছানা হয়ে। রামবাবু পুরো ভ্যাবাচ্যাকা। এবার পায়েস কি করে হবে? রামবাবু আবার ... ...
পাঠক দয়া করে ভয় পাবেন না। এই বাংলার সেরা কবির দ্বারা অনুপ্রানিত হয়ে কবিতা লেখার চেষ্টা করছি না। এই লেখা শুধু পরের কয়েকটা অনুচ্ছেদে কয়েকটা তথ্য দেবার চেষ্টা, হয়ত বা আপনার জানা, তাও একবার রিভিশন আর কি!টিংটিং - ট্রাম ছাড়লো!রিজওয়ানুর, ছোট আঙ্গারিয়া, নারদা, সারদা, নোবেল চুরি ইত্যাদি বেশ কিছু মামলায় বহু বছর পেরিয়ে যাবার পরেও সিবিআই তদন্ত কোথাও পৌঁছায় নি। শিক্ষা দুর্নীতির মামলাও এখন অব্দি ফয়সালা হয় নি। এগুলো অবশ্য একটাও খুন ও ধর্ষণের ঘটনা ছিল না।উন্নাও, হাথরাস, বিলকিস বানুর মামলাগুলো ছিল খুন ও ধর্ষণের। এগুলো সিবিআই তদন্ত করে, আদালতের মনিটরিং এ। ট্রামে যেতে যেতে, একবার চোখ বোলাবেন নাকি সেগুলোর ... ...
আমরা সাধারণত সাদা কালো রঙের দুনিয়া দেখতেই ভালবাসি। হয় একজন মানুষ ধবধবে সাদা সাক্ষাৎ ভগবান, নইলে কুচকুচে কালো পাক্কা শয়তান – মাঝখানে নেইতো কিছুই। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ যে দাগহীন সাদা বা নিকষ কালো নন – তাঁদের অবস্থান মাঝখানের ধূসর জায়গায়, এটা আমরা কিছুতেই মানতে পারি না। ঠিক এই মানসিকতাকেই ভাঙ্গিয়ে খায় মিডিয়ার বড় অংশ। এই মুহূর্তে রাজ্যের দুই প্রধান সংবাদপত্র, সর্বাধিক বিকৃত “আনন্দনাড়ু” আর ভগবানকে ভয় না পাওয়া “বিদ্যমান” এরা দুজনেই টানা মিথ্যে এবং অর্ধসত্য খবর ... ...
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী যাঁরা ২০০৪ সালের মধ্যে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁরা অবসর গ্রহণের সময়, চারটি উৎস থেকে টাকা পান। (১) প্রভিডেন্ড ফান্ডে রাখা নিজের টাকা, (২) না নেওয়া ছুটির মূল্য, (৩) গ্র্যাচুইটি এবং (৪) পেনশন নিজের জন্য, যা পরবর্তীকালে কর্মচারীর মৃত্যু হলে, পারিবারিক পেনশন পাবেন তাঁর স্ত্রী/স্বামী/অবিবাহিতা মেয়ে ইত্যাদি।৫৫ বছর বয়স হয়ে গেলে, যদি কোনো কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী স্বেচ্ছাবসরের আবেদন করেন, তাহলে সেই আবেদন কিছুতেই খারিজ ... ...
যখনই আমরা কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হই, তার পিছনে থাকে কিছু তথ্য। সে তথ্য - সত্যি, মিথ্যে বা সত্যি-মিথ্যে মিশ্রিত - হতে পারে। তথ্যের সূত্র - সমাজ মাধ্যম, খবরের কাগজ, টিভি আর অতি অবশ্যই লোকমুখে শোনা কথা। আমাদের সাধারণ ট্রেন্ড, একবার একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেলে, তারপর শুধু সেই তথ্যই আমরা পড়ি, দেখি, যা ওই সিদ্ধান্তকে আরো পাকাপোক্ত করে। পরবর্তীতে যদি নতুন নতুন তথ্যের আলোকে দেখা যায়, প্রাথমিক ভাবে আমরা ... ...
অনেকের মত আমার চোখেও একসময় একটা গাঢ় রঙ্গিন চশমা ছিল। তাতে দুনিয়াটা দেখতাম একমাত্রিক। সে দেখায় বড় আরাম থাকলেও, সেই চশমাটা খোলার একটা চেষ্টাও ছিল নিরন্তর, যাতে সাদা চোখে দুনিয়ার রূপ উপভোগ করতে পারি, দুনিয়ার কুৎসিত দিকগুলো দেখে যন্ত্রণা পেতে পারি। ভুল হতে পারে, কিন্তু আমার ধারণা পুরোপুরি চশমা খুলে ফেলতে না পারলেও (চশমা ছাড়া তো কিছুই দেখতে পাব না), ধীরে ধীরে চশমার কাঁচটার ... ...