সিপিএমের একজন টিভি-বক্তার ফেবু লাইভ শুনলাম। মধুজা সেনরায়। তার মোদ্দা কথা হল, তাঁকে এবিপি-আনন্দ তাদের কোনো এক তরজায় ডেকেছিল, যেটাকে ওরা আলোচনা বলে। সেখানে বসিয়ে রেখে কিছুই বলতে দেয়নি। অন্যান্য নানা চাটনি পরিবেশন করেছে। “পরে বলবেন, পরে বলবেন” শুনতে শুনতে উনি রাগ করে উঠে চলে এসেছেন।আমি অনুষ্ঠানটা দেখিনি, ওঁকেও চিনিনা। তবে ভাবতে কোনো অসুবিধা হলনা, যে, স্ক্রিনে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ দেখানো হচ্ছে, সেখানে তিনি "কার্যত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে দেওয়া হয়েছে" বলে জেহাদ ঘোষণা করছেন। শুনে একজন খ্যাতনামা পুজো সংগঠক "এবার প্যান্টুল খুলে এসআইআর হবে" বলে চিল্লাচ্ছেন, একজন উকিল-তকমাধারী "দরকারে সেনা নামিয়ে দেব" বলে লাফাচ্ছেন, একজন "নিরপেক্ষ" বলছেন, "শুধু সেনা নামালেই তো হবেনা, সংগঠনটাও তো ... ...
যাঁরা এখনও নাগাড়ে "অভয়া বিচার পায় নাই" বলে যাচ্ছেন, তাঁদের কাছে এবার স্পষ্ট করে জানতে চাইবার সময় এসে গেছে, ঠিক কী বলতে চাইছেন? ১। সঞ্জয় রাই খুনি না। ২। সঞ্জয় রাই খুনি, কিন্তু আরও কেউ জড়িত। এই দুটোর কোনো একটা হতেই পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রে পরিষ্কার করে বলতে হবে, তাহলে খুনি কে, এবং/অথবা, খুনে আর কে জড়িত ছিল। এই দুটো না জানলে তো কথাগুলো বলা যায়না। এবং অবশ্যই তার পক্ষে কিছু যুক্তিও পেশ করতে হবে। আমি মনে করতেই পারি রাজীব গান্ধির মৃত্যুর জন্য আমার পাশের বাড়ির ভুলুপিসিমা দায়ী, কারণ উনি রাজীব গান্ধিকে টিভিতে দেখলেই গালাগাল দিতেন, এছাড়া ওঁর বাড়িতে চকলেট বোমও ... ...
তিলোত্তমার মা বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন, আশ্চর্যেরও কিছু নেই, ঝুলি থেকে নতুন করে বেড়াল বেরোনোরও কিছু নেই। সন্দেশখালি থেকে আরজিকর, অপারেশন সিঁদুর থেকে এসআইআর, সব কটাই বিজেপির প্রোজেক্ট। এর প্রথম তিনটে অবশ্যই একদম আকাশ থেকে বানানো হয়নি। সন্দেশখালিতে জমিদখল হয়েছিল, আরজিকরে সরকারি হাসপাতালে নৃশংসতম হত্যা হয়েছিল সরকারি চিকিৎসকের, পহেলগামে জঙ্গীরা দাঁড় করিয়ে খুন করেছিল পর্যটকদের। কিন্তু "শেখ শাজাহানের হারেমে পিঠে বানানো", "আমি সোমা বলছি" আর তৎসংলগ্ন অজস্র মিডিয়া-মিথ্যা, এবং অপারেশন সিঁদুরে করাচি-লাহোর দখল করে নেবার অনন্ত গুলবাজি, এইগুলো একটা খুব নির্দিষ্ট প্যাটার্ন। একটা ঘটনা ঘটে, তারপর সেটাকে ঘিরে গোদি-মিডিয়া অজস্র অলীক গল্প নির্মাণ করতে শুরু করে, ভদ্দরলোকেরা জেনে অথবা না জেনে ... ...
কোনো সন্দেহ নেই, এটা গণতন্ত্রের প্রহসন হচ্ছে। ভোটের ঠিক আগে রাজ্যপাল বদল হয়েছে। এসআইআর চলাকালীনই কার্যত দখল করে ফেলার চেষ্টা হয়েছে রাজ্যকে। কেন্দ্রীয় বাহিনী বোঝাই করে ফেলা হয়েছে। এবার ভোট ঘোষণার ঠিক পরেই মধ্যরাতে বদলে দেওয়া হল রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে। ভারতবর্ষে প্রথমবার। এর ঠিক আগে, প্রধানমন্ত্রী দলীয় সভায় এসেছেন না সরকারি, বোঝা যায়নি, সেই ব্যবধানটুকুও মুছে ফেলা হয়েছে। এবং তাঁর জনসভার দিন গোলমালে কেন কেন্দ্রীয় বাহিনী নামেনি, এই নিয়ে কমিশন জবাবদিহি চেয়েছে। ফলে রাজ্যপাল, সচিব এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী, এই ত্র্যহস্পর্শে নির্বাচন হবে বোঝাই যাচ্ছে। এর চেয়ে সোজা করে বললেই হত, রাজ্য সরকার ব্যপারটাই আর রাখার দরকার নেই, ফালতু ঝামেলা। ... ...
সিপিএমের দীপ্সিতা ধর, নির্যাতন কমিশনর নোটিস পেয়েছেন। ওঁর বাবার নাম পীযুষ ধর। ২০০২ এর তালিকায় নাম ঠিক বানানে ছিল। ফর্ম ভর্তিতে কোনো গোলমাল হয়নি। কিন্তু ২০২৫ এ এসে নির্যাতন কমিশন জানিয়েছে, ওঁর বাবার নাম গীযুষ ধর। তাই লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি। এবার ওঁকে প্রমাণ করতে হবে, উনিই বাবার মেয়ে।ওঁর নামটাই লিখলাম, কারণ উনি প্রকাশ্যেই পুরোটা বলেছেন। কিন্তু একা তো না, যা শোনা যাচ্ছে, অন্তত দেড় কোটি মানুষের সঙ্গে এরকমই হয়ে চলেছে। অন্য কেউ না, কমিশনই নামে ভুল রাখছে এবং তার ভিত্তিতে ডেকে পাঠাচ্ছে। কমিশন এই তালিকা এআই দিয়ে করছে, গোবলয়ের ট্যাক্সিওয়ালাদের দিয়ে, নাকি বিজেপির পার্টি অফিসের নির্দেশে, আমার জানা নেই। কিন্তু ভুলগুলো ... ...
দেখুন, কথা খুব পরিষ্কার। কোনো চ্যানেলের কর্মীই হন, কিংবা কর্পোরেশনের, ধরে হাতের সুখ করে নেওয়া অন্যায়। ওতে কোনো ক্ষোভেরই সুরাহা হয়না। কিন্তু সংবাদমাধ্যমগুলোর "আমরা চতুর্থ স্তম্ভ" বলে লাফানোর কোনো অধিকারই নেই। কোনো গরিলা যদি আজ বুক চাপড়ে বলে "আমিই চতুর্থ স্তম্ভ", তাহলেই সে চতুর্থ, পঞ্চম, একবিংশ কোনো স্তম্ভই হয়ে যায়না। সংবাদমাধ্যম হতে গেলে তার কিছু দায়দায়িত্ব পালন করতে হয়। এঁরা তো নিজের সাংবাদিক ঠ্যাঙানি খাওয়াটাকেও বেওসায় পরিণত করেছেন। "বলুন তো, সোমা মাইতি কোথায় মার খেলেন? সঠিক উত্তর দিলে পেতে পারেন বাম্পার প্রাইজ।" রোমের গ্ল্যাডিয়েটরের ব্যবসাতেও কিছু নৈতিকতার জায়গা ছিল, এদের সেটুকুও নেই।এটুকু হলেও একরকম ছিল। কিন্তু বলুন তো গত এক ... ...
এই এসআইআরের মধ্যে লেখা হচ্ছেনা, কিন্তু এসএসসি কাণ্ডটাও লেখা দরকার, নইলে কী বিপুল একটা খেলা চলছে বোঝা যাবেনা, একটু লম্বা হবে, কিন্তু পড়লে পুরোটা পড়বেন। ২৬০০০ শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি গিয়েছিল কলমের এক খোঁচায়, ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল হয়েছিল, এটা কিছু নতুন কথা নয়। যেটা বোঝা যাচ্ছিলনা, যে, যোগ্য-অযোগ্যর ভিত্তিতে শাস্তি না হয়ে সব্বার চাকরি গেল কেন। তালিকা তো একটা ছিল। সেটাকে মান্যতা দেওয়া হলনা কেন? আর যদি মান্যতা দেওয়া নাই হয়, তাহলে কীসের ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপে যোগ্য-অযোগ্যর বিভাজন করে দেওয়া হল? এটা খুব সোজা প্রশ্ন। কিন্তু টিভির বাক্যবাগীশরা যথেষ্ট ধোঁয়া তৈরি করতে পেরেছিলেন। তা, দুদিন আগে, নতুন যেটা জানা গেল, সেটা ... ...
বাংলার প্রতিটি অবিজেপি দলের কর্মী, সমর্থক, নেতা, এমনকি বিজেপিরও বাঙালি সমর্থকদের প্রতি আবেদন, এবার অন্তত বাংলাকে বাঁচাতে আওয়াজ তুলুন। কারণ, যা হচ্ছে, তার কোনোটাই বিচ্ছিন্ন নয়, বরং ভীষণ সুসংগঠিত। বহুবার লিখেছি, আরও একবার সময়সারণীটা লিখি। দেশজুড়ে বাঙালি ঠ্যাঙানো কখন শুরু হল, মনে করে দেখুন। অপারেশন সিঁদুর চলার পর্যায়েই। ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে হঠাৎ খুঁজে পাওয়া যেতে শুরু করল "বাঙালি অর্থাৎ বাংলাদেশীদের"। এটা এমনি এমনি হয়না। একটা যুদ্ধোন্মাদনা তৈরি হয়েছিল পাকিস্তানকে নিয়ে। গোদি মিডিয়া প্রাণপনে মিথ্যাচার করছিল, আসলে হাওয়া তুলছিল। ওসব মেটার পর পুরো উন্মাদনাটাই সরিয়ে দেওয়া হল বাংলাদেশের দিকে। বাংলাদেশ হল নয়া পাকিস্তান, আর পশ্চিমবঙ্গ হল জিহাদিদের আস্তানা, নয়া কাশ্মীর। দীর্ঘদিন ... ...
বাংলাদেশে রক তারকা জেমসের অনুষ্ঠান ভণ্ডুল হয়েছে, সেটা তো অনেকেই জানেন। কিন্তু যে খবরটা এপারে তেমন ছড়ায়নি, সেটা হল, জেঞ্জির সঙ্গে জামাতের জোট। বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনে( যদি হয়) বিপ্লবী জেঞ্জিদের পার্টি এনসিপি জামাতের সঙ্গে বিপ্লবী জোট করতে চলেছে। এখনও জোট ঘোষণা হয়নি, তবে সেই লক্ষ্যে আলোচনা চলছে, সব পক্ষই জানিয়েছেন। এবং জোটের বড় শরীক জামাত, জেঞ্জিরা লড়বেন ছোটো ভাইয়ের মতো মোটে ৩০ টা আসনে, এরকমই শোনা যাচ্ছে। যদি চমকে যান, তো আরেকবার লিখে দিই, হ্যাঁ, পূজ্যপাদ নাহিদ, সার্জিত, হাসনাত, সামান্থা, তাবাসসুম ইত্যাদিরা, যাঁদেরকে দুই বাংলায় মাথায় তুলে নাচা হয়েছিল, তাঁরা জামাতের ছোটো জোটসঙ্গী হবার জন্য আপ্রাণ আলোচনা করছেন এখন। বাংলাদেশ নিয়ে যখনই লিখি, তখনি কেউ-কেউ এসে বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি এত ... ...
হিন্দুবীররা এক আশ্চর্য প্রজাতি। দিল্লির ডবল-ইঞ্জিন বাতাস এমন হয়েছে, যে নিঃশ্বাস নেওয়া যাচ্ছেনা। কিছুদিন ধরেই বিক্ষোভ চলছিল সেই নিয়ে। তাতে দিল্লি পুলিশের একমাত্র কাজ ছিল বিক্ষোভকারীদের ঠেঙিয়ে বুট দিয়ে টুঁটি চেপে তাদের নাক ফুটপাথে ঠেসে ধরা। নেঃ ব্যাটারা এবার কীকরে নিঃশ্বাস নিবি নে। অন্য কোথাও হলে হইচই পড়ে যেত, কলকাতায় হলে তো মিডিয়ার নাড়ুগোপালরা কয়েকশোঘন্টা চেঁচিয়ে ফেলতেন। কিন্তু হিন্দুবীরদের রাজধানী বলে কথা, আর হিন্দুবীররা মিডিয়াতেই থাকুক কি চাঁদে, প্রজাতি তো একই। ফলে সব চুপচাপ। পশ্চিমবঙ্গে সব খারাপ, বাংলাদেশীরা ছেয়ে ফেলছে, থেকে শুরু করে, এমনকি কেকে-কেও মেরে ফেলল গো কলকাতা। আর দিল্লিতে চলছে রামরাজত্বের সোনার সংসার।কিন্তু ধম্মের কল বাতাসে নড়ে। এর ... ...