তৃণমূল হারল কেন? হারা উচিত তাই হেরেছে। কেন বলছি, জানার জন্য পুরোটা পড়তে হবে, ধৈর্য না থাকলে ছেড়ে দিন। ভোটের প্রাথমিক ফলাফল গিয়ে শুরু করি। প্রাথমিক ভাবে খুব সোজা ব্যাপার, বিজেপির পক্ষে ৭% সুইং হয়েছে। তৃণমূল ৪৮% থেকে কমে ৪১%। আর বিজেপি ৩৮% থেকে বেড়ে ৪৫%। ভগ্নাংশের সামান্য এদিক-ওদিকে আছে। বাম কংগ্রেসের ভোট বদলায়নি। বাম মোটামুটি ৫% আর কংগ্রেস ৩%, মোটের উপর যোগ করলে ২০২১ এরই শতাংশ। আইএসএফ আর আমজনতা পার্টির ভোট শেয়ার পাইনি, অন্যান্যরা ৪% দেখলাম, তার মধ্যেই থাকবে। ২১ সালে আইএসএফ+ অন্যান্য ভোট ছিল (৩%), সেটা ভয়ানক কিছু বদলায়নি, ১% মতো বেড়েছে। ফলে তৃণমূলের ভোটব্যাংকের খুব স্পষ্ট ৭% ভাঙন ধরেছে এবং সেটা বিজেপিতে গেছে। আমি ভোটের ... ...
বিজেপি শেষ বেলায় দুটো জিনিস করছে। প্রথমটা হল গল্প ছড়ানো। শুরু হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গে এবার রেকর্ড ভোট পড়েছে, এই দিয়ে। তারপর শুরু হল, এর পুরোটাই প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা। সঙ্গে ছেঁটেকেটে ছড়ানো হল বায়রন বিশ্বাসের ভিডিও, যেখানে তিনি বলছেন, তিনি তো হেরেই গেছেন। এবার কান পাতলেই শুনতে পাবেন, উত্তরবঙ্গ তো বিজেপি জিতেই গেছে। এই গুল্প তৈরির গোদি মিডিয়া আর হোআ ইউনিভার্সিটিকে আমরা যারা অনুসরণ করি, তারা বিলক্ষণ জানি, এসব কিছুই না পারসেপশন তৈরির খেলা। গুজব তৈরির যে সেলগুলো গত বছর দুয়েক নান গুজব তৈরি করেছে, সবাইকে এবার একসঙ্গে নামানো হয়েছে। বস্তুত এটাই প্রমাণ করে যে, উত্তরবঙ্গটা ওরা জিতে যায়নি। বরং উল্টো। জিতে গেলে অমিত শাহ ... ...
প্রিয় উনিজি আবার একটা ভাষণ দিলেন। সুখের ব্যাপার, এবার ভয়ানক কিছু ঘটেনি। সারা দেশের সব নোট বাতিল হয়নি। কাউকে এসআইআরের লাইনে দ্বিতীয়বার দাঁড়াতে হবে, এরকম ঘোষণা হয়নি। এমনকি সিঁদুর নামক আরেকটা গুলবাজিও শুরু হয়নি। বরং শুনে চমকে গেলাম, যে, উনি দেশের মহিলাদের উদ্দেশ্যে ক্ষমা চেয়ে শুরু করলেন। প্রথমে ভেবেছিলাম, অবশেষে চৈতন্য হয়েছে। উনি হয়তো মনিপুরের নারীদের কাছে ক্ষমা চাইছেন। উন্নাও-হাথরাসের ধর্ষকদের মালা দেবার জন্য ক্ষমা চাইছেন। কিন্তু নাঃ, সেই আশায় জল। এই লেকচার কেবলমাত্র ডিলিমিটেশন এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে, যেটা আটকে দিয়ে ডবল ইঞ্জিনের মুখে ডবল জুতো মেরেছে বিরোধীরা। তাই উনি বিরোধীদের হয়ে ক্ষমা চাইছেন। খুব আবেগ দিয়ে বললেন, ... ...
খুব স্পষ্ট করে বললে, পশ্চিমবঙ্গে যেটা হতে চলেছে, সেটা ভোট নয়, গণতন্ত্রের প্রহসন। অন্তত কুড়ি জনের একজন বৈধ ভোটার এখনও বাদ। এমনি বাদ না, চেষ্টাচরিত্র করে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রতিকারের ট্রাইবুনাল, সে কোথায় কেউ জানেনা। কী নথি লাগবে, কী পদ্ধতি, কীসে পাওয়া যাবে গ্যারান্টি যে ভোটার তালিকায় নাম থাকবে, কেউ জানেনা। নানা দল এবং সরকার আইনী সহায়তা দেবে বলেছে, কিন্তু কোথায় দেবে? দরগায় গিয়ে তো মাথা ঠুকবেনা। বিচার হতে গেলে বিচারালয় থাকতে হয়, নিয়মকানুন থাকতে হয়, কোনোটাই নেই। এ তো কাজির বিচার নয়, যে, খেয়ালখুশি মতো যাকে খুশি নিলাম। আজ মুড ভালো নেই তো দুটোকে বাদ দিলাম, কাল মেজাজ ভালো ... ...
এটা অবশ্যই পড়ুন এবং ছড়ান, কারণ, যদিও জলজ্যান্ত সত্য, তবুও গোদি-মিডিয়ায় এই খবরের টিকিটিও দেখতে পাবেন না। খবরটা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কিত। তাঁর সম্পর্কে বিস্ফোরক কিছু কথা বলেছেন বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। তরুণ গৌতমকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন তিনি। এপস্টিন ফাইল, মহিলাদের সঙ্গে অনাচার, এইসব নিয়ে কথা হচ্ছিল। সেই প্রসঙ্গে ভারতের কথা আসে। সুব্রহ্মণ্যম স্বামী বলেন, "আমি তিন-চার জন মহিলার নাম দিতে পারি, যাঁরা সাংসদ হয়েছেন। তাঁদের গিয়ে শুতে হয়েছিল ওঁর সঙ্গে, মোদির সঙ্গে। একজন তো মন্ত্রী হয়ে গেলেন।" উনি হিন্দিতে কথাগুলো বলেছেন, এটা তার অনুবাদ। মনে রাখতে হবে, সুব্রহ্মণ্যম স্বামী হেঁজিপেজি লোক না। রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন এই কদিন আগে। বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতিতেও ছিলেন। রামমন্দির নিয়ে যে বিখ্যাত রায়ের ফলে ... ...
সিপিএমের একজন টিভি-বক্তার ফেবু লাইভ শুনলাম। মধুজা সেনরায়। তার মোদ্দা কথা হল, তাঁকে এবিপি-আনন্দ তাদের কোনো এক তরজায় ডেকেছিল, যেটাকে ওরা আলোচনা বলে। সেখানে বসিয়ে রেখে কিছুই বলতে দেয়নি। অন্যান্য নানা চাটনি পরিবেশন করেছে। “পরে বলবেন, পরে বলবেন” শুনতে শুনতে উনি রাগ করে উঠে চলে এসেছেন।আমি অনুষ্ঠানটা দেখিনি, ওঁকেও চিনিনা। তবে ভাবতে কোনো অসুবিধা হলনা, যে, স্ক্রিনে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ দেখানো হচ্ছে, সেখানে তিনি "কার্যত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে দেওয়া হয়েছে" বলে জেহাদ ঘোষণা করছেন। শুনে একজন খ্যাতনামা পুজো সংগঠক "এবার প্যান্টুল খুলে এসআইআর হবে" বলে চিল্লাচ্ছেন, একজন উকিল-তকমাধারী "দরকারে সেনা নামিয়ে দেব" বলে লাফাচ্ছেন, একজন "নিরপেক্ষ" বলছেন, "শুধু সেনা নামালেই তো হবেনা, সংগঠনটাও তো ... ...
যাঁরা এখনও নাগাড়ে "অভয়া বিচার পায় নাই" বলে যাচ্ছেন, তাঁদের কাছে এবার স্পষ্ট করে জানতে চাইবার সময় এসে গেছে, ঠিক কী বলতে চাইছেন? ১। সঞ্জয় রাই খুনি না। ২। সঞ্জয় রাই খুনি, কিন্তু আরও কেউ জড়িত। এই দুটোর কোনো একটা হতেই পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রে পরিষ্কার করে বলতে হবে, তাহলে খুনি কে, এবং/অথবা, খুনে আর কে জড়িত ছিল। এই দুটো না জানলে তো কথাগুলো বলা যায়না। এবং অবশ্যই তার পক্ষে কিছু যুক্তিও পেশ করতে হবে। আমি মনে করতেই পারি রাজীব গান্ধির মৃত্যুর জন্য আমার পাশের বাড়ির ভুলুপিসিমা দায়ী, কারণ উনি রাজীব গান্ধিকে টিভিতে দেখলেই গালাগাল দিতেন, এছাড়া ওঁর বাড়িতে চকলেট বোমও ... ...
তিলোত্তমার মা বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন, আশ্চর্যেরও কিছু নেই, ঝুলি থেকে নতুন করে বেড়াল বেরোনোরও কিছু নেই। সন্দেশখালি থেকে আরজিকর, অপারেশন সিঁদুর থেকে এসআইআর, সব কটাই বিজেপির প্রোজেক্ট। এর প্রথম তিনটে অবশ্যই একদম আকাশ থেকে বানানো হয়নি। সন্দেশখালিতে জমিদখল হয়েছিল, আরজিকরে সরকারি হাসপাতালে নৃশংসতম হত্যা হয়েছিল সরকারি চিকিৎসকের, পহেলগামে জঙ্গীরা দাঁড় করিয়ে খুন করেছিল পর্যটকদের। কিন্তু "শেখ শাজাহানের হারেমে পিঠে বানানো", "আমি সোমা বলছি" আর তৎসংলগ্ন অজস্র মিডিয়া-মিথ্যা, এবং অপারেশন সিঁদুরে করাচি-লাহোর দখল করে নেবার অনন্ত গুলবাজি, এইগুলো একটা খুব নির্দিষ্ট প্যাটার্ন। একটা ঘটনা ঘটে, তারপর সেটাকে ঘিরে গোদি-মিডিয়া অজস্র অলীক গল্প নির্মাণ করতে শুরু করে, ভদ্দরলোকেরা জেনে অথবা না জেনে ... ...
কোনো সন্দেহ নেই, এটা গণতন্ত্রের প্রহসন হচ্ছে। ভোটের ঠিক আগে রাজ্যপাল বদল হয়েছে। এসআইআর চলাকালীনই কার্যত দখল করে ফেলার চেষ্টা হয়েছে রাজ্যকে। কেন্দ্রীয় বাহিনী বোঝাই করে ফেলা হয়েছে। এবার ভোট ঘোষণার ঠিক পরেই মধ্যরাতে বদলে দেওয়া হল রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে। ভারতবর্ষে প্রথমবার। এর ঠিক আগে, প্রধানমন্ত্রী দলীয় সভায় এসেছেন না সরকারি, বোঝা যায়নি, সেই ব্যবধানটুকুও মুছে ফেলা হয়েছে। এবং তাঁর জনসভার দিন গোলমালে কেন কেন্দ্রীয় বাহিনী নামেনি, এই নিয়ে কমিশন জবাবদিহি চেয়েছে। ফলে রাজ্যপাল, সচিব এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী, এই ত্র্যহস্পর্শে নির্বাচন হবে বোঝাই যাচ্ছে। এর চেয়ে সোজা করে বললেই হত, রাজ্য সরকার ব্যপারটাই আর রাখার দরকার নেই, ফালতু ঝামেলা। ... ...