এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • শিক্ষাকে ইয়ার্কিতে পরিণত করা হচ্ছে 

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | ২৪ বার পঠিত
  • রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ​​​​​​​জঘন্য, দানবিক ​​​​​​​একটা ​​​​​​​ইয়ার্কি ​​​​​​​চলছে। ​​​​​​​কোনো ​​​​​​​সন্দেহ ​​​​​​​নেই, ​​​​​​​শিক্ষক-নিয়োগে ​​​​​​​খানিক ​​​​​​​দুর্নীতি ​​​​​​​হয়েছিল, ​​​​​​​কোনো ​​​​​​​পক্ষই ​​​​​​​অস্বীকার ​​​​​​​করেনি ​​​​​​​সেটা। ​​​​​​​কিন্তু তারপর যা হল সে অবিশ্বাস্য। দুর্নীতি ​​​​​​​ধরতে ​​​​​​​নামল ​​​​​​​বিশ্বের ​​​​​​​শ্রেষ্ঠ ​​​​​​​গোয়েন্দা ​​​​​​​সংস্থা, বিচার-ব্যবস্থার ​​​​​​​প্রত্যক্ষ ​​​​​​​নজরদারিতে, ​​​​​​​বিশ্বের ​​​​​​​শ্রেষ্ঠ ​​​​​​​উকিলদের ​​​​​​​সওয়ালে, ​​​​​​​এবং ​​​​​​​বিশ্বের ​​​​​​​শ্রেষ্ঠ ​​​​​​​গোদি-মিডিয়ার ​​​​​​​প্রত্যক্ষ ​​​​​​​সহযোগিতায়। ​​​​​​​প্রচুর ​​​​​​​তেল-পুড়ল, ​​​​​​​মন্ত্রীসান্ত্রীরা ​​​​​​​জেলে ​​​​​​​গেলেন, ​​​​​​তথাকথিত ​​​​​​বান্ধবীর ​​​​​​​বাড়ি ​​​​​​​থেকে ​​​​​​​পাওয়া ​​​​​​​গেল ​​​​​​​কোটি-কোটি ​​​​​​​টাকা। বাপরে বাপ সে কী দৃশ্য। ​​​​​​​টাকা ​​​​​​​গোণা ​​​​​​​হচ্ছে ​​​​​​​মেশিন ​​​​​​​দিয়ে, ​​​​​​​পারলে ​​​​​​​সরাসরিই ​​​​​​​দেখিয়ে ​​​​​​​দেওয়া ​​​​​​​হয় ​​​​​​​গোদি-মিডিয়ায়। ​​​​​​ধরা পড়লেন কোনো এক কাকু। ​তাঁর অডিও-ক্লিপের চোটে জগৎ অন্ধকার। জীবনবিজ্ঞানের ক্লাসরুমের ​​​​​​​মতো ডায়াগ্রাম ​​​​​​​এঁকে ​​​​​​​গোদি-মিডিয়ার ​​​​​​​নাড়ুগোপালরা ​​​​​​​ঘন্টাখানেক ধরে দেখাতে থাকলেন, ​​​​​​​টাকা ​​​​​​​কোন ​​​​​​​পথে ​​​​​​​কোথায় ​​​​​​​গেছে। ​​​​​​​সবই তাঁরা ​​​​​​​জানতেন, ​​​​​​​যেমন ​​​​​​​জানতেন ​​​​​​​করাচি ​​​​​​​দখলের ​​​​​​​খবর।

    এরকম কয়েক বচ্ছর ধরে চলল। লোকে ভাবল, এইবার কিছু একটা হচ্ছে। এত ঢাক-ঢোল কি আর মিথ্যে হতে পারে? কিছু হলও বটে।মন্ত্রী ছাড়া পেলেন। দুর্নীতির দায়ে একজনও আদৌ ধরা পড়লেন কিনা সন্দেহ। কিন্তু ন্যায়বিচার কি তাতে আটকে থাকতে পারে?  কোনো চোর ধরা পড়লনা, কিন্তু শাস্তি তো দিতেই হবে। শাস্তি পেল কারা? না শিক্ষকরা। তাঁদের বৃহদাংশকেই বলা হচ্ছে "যোগ্য", ইংরিজিতে "আনটেন্টেড", অর্থাৎ অকলঙ্কিত। এঁরা কাউকে কোনো টাকা দেননি, কোনো বেআইনী কাজ করেছিলেন বলে অভিযোগও নেই, কিন্তু তাঁদের সব্বার চাকরি গেল। এরকম কি অভিযোগ-ছাড়াই হাজার বিশেক লোকের রুটি-রুজি কেড়ে নেওয়া যায়? আদালত বলল যায়। ন্যাচারাল জাস্টিস, অর্থাৎ কিনা "একজনও নিরপরাধ যেন শাস্তি না পায়", এই নীতি এখানে প্রযোজ্য নয়। হবেও বা। যদিও, উত্তর ভারতে একজন বিচারকের বাড়ি থেকে কিছুদিন আগেই, কাগজে পড়লাম, কোটি-কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। সেই অপরাধে সব বিচারকের কি চাকরি গেছে? যায়নি। 

    যা হোক, এ তো প্রথম পর্ব। পরের পর্ব আরও চমৎকার। চারদিকে চোর-চোর বলে আওয়াজ উঠল। যেন শিক্ষকরা পড়িয়ে চুরির দায়ে ধরা পড়েছেন। তারপর ঘোষণা করা হল, এঁদের আবার পরীক্ষায় বসতে হবে, নতুন চাকরি পেতে। অভিজ্ঞতার জন্য ১০ নম্বর দেওয়া হবে। খুব সুবিচার হল বলা যাবেনা। এত বছর পরে চাকরির পরীক্ষা কেন, মাধ্যমিকে বসতে বললেও আমরা অনেকেই ফেল মারব। তাও পরীক্ষা হল, অনেকে দ্বিতীয়বারেও পেলেন, কেউ কেউ পেলেন না। এবার আবার বিশ্বের শ্রেষ্ঠ উকিলরা ওই আদালতেই মামলা করলেন, এইভাবে ১০ নম্বর দিয়ে চাকরি দিয়ে দেওয়া যাবেনা। সরাসরি দাবী না করলেও, যা বোঝা যাচ্ছে, এঁদের মোদ্দা বক্তব্য খুব সোজা। আগে যারা চাকরি করছিল, তাদের চাকরি খেয়েই ছাড়ব। এটা কী ধরণের দাবী বোঝা খুব কঠিন হলেও, ব্যাপারটা ওইরকমই চলছে। এবং এবার আদালত আরেকদফা কী ন্যায়বিচার করে, সবাই রুদ্ধশ্বাসে তার অপেক্ষায়। 

    চারদিকে নানা লোকে এই কুনাট্য সব দেখছেন, এবং চুপচাপ বসে আছেন। কারণ, রাজ্যসরকারের মুন্ডপাত করা সোজা। কেন্দ্রীয় এজেন্সি, উকিলবাবু বা স্বয়ং আদালতকে নিয়ে কিছু বলতে গেলে, হাতে হারিকেন হবার প্রবল সম্ভাবনা। অথচ কথাটা খুব সোজা। যদি দুর্নীতি হয়ে থাকে এবং নিচ থেকে উপর তলা থেকে সব জড়িয়ে থাকে, তো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা-বাহিনী লাগিয়ে ব্যাটাদের টিপে-টিপে বার করুন, শাস্তি দিন। কিন্তু কাজের বেলায় অষ্টরম্ভা হয়ে, হাতের কাছে যারা মজুদ, তাদের ধরে বাটাম দেবেন না। সেই মুজতবা আলির আফগানিস্তানের ন্যায়বিচারের মতো হয়ে যাচ্ছে। গুনতিতে মিলছেনা বলে, রাস্তা থেকে কাউকে একটা ধরে জেলে পুরে দিলাম।

    এই সোজা কথাটা সোজা করে বলার যে লোকের অভাব, তাতে আরেকটা সন্দেহ প্রবল হচ্ছে। রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাটা লাটে তুলে পুরোদস্তুর নতুন শিক্ষানীতি চালু করার উদ্দেশেই পুরোটা করা হচ্ছে না তো? এমনিতে ইশকুল দুদিন ছুটি থাকলেই গোদি-মিডিয়া প্রতিবাদে গর্জে ওঠে। অথচ দেখুন, যখনই ভোট আসে, রাজ্যসরকারি ইশকুলগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনী কয়েক মাসের জন্য ডেরা গাড়ে। কোনোদিন শুনবেন না, সাউথ পয়েন্টে ছাত্রদের ক্লাস বন্ধ করে কেন্দ্রীয় বাহিনী বসবাস করছে। ভোটের আগে বিএলও কারা হচ্ছে? সেই রাজ্যসরকারি ইশকুলের শিক্ষকরা। কোথাও, এই নিয়ে কোনো বক্তব্য নেই, যে, শিক্ষকদের মূল কাজটা পড়ানো, দুমাস ধরে বাড়ি-বাড়ি ঘুরে অ্যাপ আপডেট করা নয়। ভাবটা এই, যে, সরকারি ইশকুলের ছাত্ররা বানের জলে ভেসে এসেছে, গেলে যাক। দেখেশুনে মনে হয়, শিক্ষাব্যবস্থাটা উঠে গেলে সক্কলেরই সুবিধে হয়। বেশ পুরোটা কেন্দ্রীয় হয়ে যাবে, একটাই নিট হবে, সবাই গোবলয়ের শিক্ষা পাবে, গড়গড়িয়ে হিন্দি বলবে, তাতেই মোক্ষ। গরীব-গুর্বোরা বাদ গেলে কী এসে যায়? 

    উপর থেকে নিচ পর্যন্ত এই কাণ্ড চলছে। যেখানে যেটুকু স্বশাসন সব ধ্বংস করে পুরোটাই কেন্দ্রীয় স্টিমরোলার চলবে। আইআইটিগুলোতে গরুপুজো হচ্ছে। বিই কলেজ তথৈবচ। আইএসআই বিল নামক একটা বস্তু আনা হয়েছে, যাতে ভারতের গর্ব আইএসআই কেন্দ্রীয় আমলাদের হাতের পুতুলে পরিণত হয়। যাদবপুর আর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় টিকে আছে, তাদের ঘিরে নিন্দেমন্দের কোনো শোষ দেখবেন না। যাদবপুর খারাপ, কবি খারাপ, রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা খারাপ, অবৈতনিক শিক্ষা খারাপ, শুধু কেন্দ্রীয় এজেন্সি ভালো, নিট ভালো, সিবিএসই ভালো আর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গরুপুজো ভালো। এইটা গোদি-মিডিয়ার একদম খুল্লমখুলা লাইন। উকিলবাবুদের কী লাইন জানিনা। অন্তত একজন উকিল আবার বামপন্থী শুনেছি, সে তো অবশ্য বামপন্থীদের   টাটা-লালসেলামও বলতে শুনেছি। 
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন