পঞ্চম দৃশ্য [ মহাদেবের বাড়ি। বারান্দার এক পাশে মহাদেব ও উমা এবং অন্য পাশে তরলা বসে আছে ] মহাদেব : এবার কি হবে সাধনের মা? আজ তো দু’মাস পূর্ণ হয়ে গেল। উমা : তাই তো। কি হবে বুঝতে পারছি না। হ্যাঁ গো, মা তো না চাইতেই সব দিয়েছেন। এতো সুখ, এতো ভালোবাসা… এবার কি সব কেড়ে নেবে! এই দু’মাস ধরে গড়ে ওঠা মধুর সম্পর্ক আজ ভেঙে যাবে? মা কি এতো নিষ্ঠুর হবেন! মহাদেব : কেঁদো না গো কেঁদো না। কপালে থাকলে তাই হবে। নিয়তি তো কেউ পালটাতে পারবে না। উমা : হ্যাঁ গো, আমরা যদি ওই দ্বিতীয় দফার ওষুধ না নিই, তাহলে কি ... ...
চতুর্থ দৃশ্য[গনকের আশ্রম। পরিবেশ আগের মতই। গনক ঠাকুর পুজোয় বসে আছে।] সাধনের প্রবেশ গনক [সাধঙ্কে দেখে] কি ব্যাপার সাধন, হঠাৎ এদিকে? কোন রিপোর্ট আছে নাকি?সাধন আছে মানে, জোরদার রিপোর্ট আছে। তাই তো দৌড়ে এদিকে এলাম। তোমার কাছে রিপোর্ট না করা অব্দি আমার পেটের গুরগুরানি থামবে না।গণক তাহলে দেরি না করে পেটটা খালি করেই ফেল।সাধন কি ওষুধ দিলে গো কাকা! এজে ইস্টবেঙ্গল আর মোহন বাগান একেবারে গলা ধরাধরি করে চলছে গো। আমি তো ফাউলের বাঁশিই বাজাতে ... ...
তৃতীয় দৃশ্য[মহাদেবের বাড়ি। পর্দা উঠলে দেখা যায় তরলা ঠাকুর ঘরে পুজো করছে। মাঝে মাঝে চারিদিক দেখে নিচ্ছে। মহাদেব ও উমা মঞ্চে আসে এবং তরলাকে পুজো করতে দেখে থমকে যায়। তারা উঁকি মেরে দেখে তরলা ঠিক কি করছে। উমা তার আঁচলের তলায় রাখা তেলের শিশিটা মাঝে মাঝে হাত দিয়ে দেখছে, ঠিক জায়গায় আছে কিনা। তারা তরলাকে ডাকতে গিয়েও ডাকতে পারে না। উমা ও মহাদেব ইশারায় কিছু বলার চেষ্টা করে। তরলা সেটা এক ফাঁকে দেখে নেয়। যেন লুকোচুরি খেলা। তরলা এবার শাঁখ বাজিয়ে পুজো ... ...
দ্বিতীয় দৃশ্য[গনক ঠাকুরের আশ্রম। মা কালির ছবিতে মালা পড়িয়ে ধুপ ধুনো জ্বেলে পুজোয় রত গনক ঠাকুর। গায়ে লাল পট্টবস্ত্র, কপালে বড় সিন্দুরের টিপ। ধুপ কাঠি হাতে নিয়ে আরতি করতে করতে গাইছে।] গনক পৃথিবীর কেহ ভালো তো বাসে নাএ পৃথিবী ভালো বাসিতে জানে না,যেথা আছে শুধু ভালোবাসা বাসি সেথা যেতে মন চায় মা।আমার সাধ না মিটিল, আশা না পুরিল, সকলই ফুরায়ে যায় মা।[গান চলাকালীন মহাদেব ও উমা আশ্রমে প্রবেশ করে। তারা চুপ করে গনকের ... ...
ফুসমন্তর [ একাঙ্ক নাটক ] ( শরৎচন্দ্র মণ্ডলের ছোটগল্প “সিঁদুরপড়া” অবলম্বনে ) রচনাঃ সাগরময় মণ্ডল পাত্রপাত্রী মহাদেব : নিম্নবিত্ত পরিবারের গৃহকর্তা, বয়স পঞ্চান্ন বছর। সাধাসিধে, ভালো মানুষ। উমা : মহাদেবের বৌ। বয়স পঞ্চাশ বছর। বদ মেজাজি, বউমাকে দেখতে পারে না। সাধন : মহাদেবের ছেলে। বয়স ছাব্বিশ বছর। ফুটবল পাগল। তরলা : সাধনের বৌ। বয়স বাইশ বছর। শাশুড়ির সঙ্গে বনিবনা হয় না। গনক : ঠাকুর সাধক। বয়স পঞ্চাশ বছর। গ্রামের প্রান্তে ছোট আশ্রম করে থাকে। [ নাট্যকারের কথা : খবরের কাগজ, টেলিভিশন, সোশ্যাল মিডিয়া সর্বত্র আজ বিজ্ঞাপনের দখলে। আর এই ... ...
চতুর্থ দৃশ্যনিভাননীর বাড়ি[ নেপথ্যে খুট খাট শব্দ হচ্ছে। কাঠমিস্ত্রি কাজ করছে। দু একটা কথা কানে আসছে। ঠিক করে কাঠটা ধর, ওরে ফেভিকলের টিনটা কোথায় রাখলি, একটা কাজও যদি ঠিক ঠাক হয়, আরে বাবা সানমাইকটা ঠিক মতো লাগা। কাশীনাথ ও নিভাননীও মাঝে মাঝে নির্দেশ দিচ্ছে। এটা কর ওটা কর, এ দিকটা ঠিক হচ্ছে না, ক্যাস বাক্সটা এখানে থাকবে, এখানে কম্পুটার বসবে, আরে দোকানের নামের ব্যানারটা ঠিক ভাবে লাগা ইত্যাদি। পর্দা উঠলে দেখা যায় নিভাননী রেস্টুরেন্ট এর ব্যানার ঝুলছে। ]( হাসতে হাসতে নিভাননী ও কাশীনাথের প্রবেশ )কাশী : (ব্যানারটা দেখিয়ে) দেখ, দেখ ব্যানারটা কি সুন্দর হয়েছে। আর লেখগুলোও কি সুন্দর জ্বলজ্বল করছে। ... ...
তৃতীয় দৃশ্য কাশীনাথের বাড়ি পার্বতীর প্রবেশ পার্বতী : পার্টি তো বেশ বড়লোক মনে হোল। মেন রোডের উপরে দু তলা বাড়ি, বাগান, সামনে গ্যারেজ। কোটি টাকার সম্পত্তি। নিজের চোখে না দেখলে ওর কথায় বিশ্বাস হত না। ওর চয়েস আছে মানতে হবে। কাশীনাথের প্রবেশ কাশী : কেমন দেখলে গিন্নী। এতদিন পরে কেমন মাছ বঁড়শি দিয়ে গেঁথেছি বলো?পার্বতী তোমার এলেম আছে। বলতেই হবে। কাশী : হু হু বাবা। এর নাম কাশীনাথ। এ মক্কেল যে সে এঁদো পকুরে ছিপ ফেলে না। ছিপ ফেললে বড় দিঘিতেই ফেলে। পার্বতী : তা যা ... ...
দ্বিতীয় দৃশ্যনিভাননীর বাড়ি। [ নিভাননী গান গাইছে। ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে…। চুপি চুপি কাশীনাথের প্রবেশ। দরজায় নক করতে যাবে, এমন সময় পিছু থেকে পার্বতী পাঞ্জাবি ধরে টানে। কাশীনাথ ইশারাই তাকে চুপ করে আড়ালে দাঁড়াতে বলে। পার্বতী উপরে আসতে চায়। কাশীনাথ হাত তুলে তাকে থামায়। পার্বতী রাগে গজগজ করতে করতে নীচে নেমে যায়। কাশীনাথ মন দিয়ে গান শোনে তারপর দরজায় নক করে।] কাশী : নিভাদেবী, ও নিভাদেবী। নিভাননীদেবী বাড়ি আছেন ... ...
কৌন বনেগা ক্রোড়পতি একাঙ্ক নাটক রচনা – সাগরময় মণ্ডল [ লেখকের কথাঃসে দিন হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে রাস্তার মোড়ের কাছে একটা চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। একটা কথা কানে এলো। একজন লোক অন্য একজনকে দেখিয়ে তার বন্ধুকে বলছে যে লোকটাকে দেখ। ও আর ওর বৌ মিলে একটা চায়ের দোকান চালায়। টাকা পয়সা বেশ ভালোই কামায়। তবে ওর প্লাস পয়েন্ট হোল ওর এক প্রেমিকা আছে। সে কোটি টাকার মালিক। টাকার কথা এবং প্রেমের কথা দুটোই ওর বৌ জানে। তাই ওকে মানা করে না। অন্য মহিলার সঙ্গে প্রেম ... ...
এক সেনানী মায়ের গল্প - পর্ব-২সাগরময় মণ্ডলকোলের বাচ্চা দুটোকে অসংরক্ষিত কামরায় বাবা-মার সঙ্গে তুলে দিয়ে ভগ্ন হৃদয়ে ইন্দ্রাণী তার সঙ্গের হাবিলদারদের সঙ্গে স্টেশনের বাইরে বাড়িয়ে এলো। তাদের মিলিটারি ট্রেন এসে গেছে। সেটা স্টেশনের পাশের সাইডিং এ দাঁড়িয়ে আছে। তাদেরকে সেখানে যেতে হবে। ইন্দ্রাণী দেখল সারি সারি লরি মালপত্র পিঠে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সব ওই ট্রেনে উঠবে। পিছনের দুটো বগি খুলে নিয়ে সেখানে এ্যাম্বুলেন্স এবং গাড়ি নিয়ে নতুন ফ্ল্যাট ওয়াগন জুড়ে গেল। একটা বগিতে ওয়ারলেস সেট বসে গেল। বাকি মালপত্র বিভিন্ন বগিতে তোলা হোল। এবার সবাই ট্রেনে উঠে পড়েছে। ট্রেনের পাশে যুদ্ধ যাত্রীদের আত্মীয়স্বজনের ভিড়। সবার হৃদয় ভারাক্রান্ত। কেউ তার প্রিয়জনকে ... ...