

আত্ম-ঔদাসীন্য একটা মহৎ গুণ যা অহং ও স্বার্থপরতা কমাতে সাহায্য করে। নশ্বরতাবোধও তাই। কার্ল মার্কস কথিত হৃদয়হীন জগত আর আত্মাহীন পারিপার্শ্বিকতার মধ্যে মানুষের নিজের মানবত্ব বাঁচিয়ে রাখার লড়াই আধ্যাত্মিকতা ছাড়া আর কি ? ফলে বৌদ্ধধর্মের প্রাসঙ্গিকতা প্রতিদিন বাড়ছে মোহ, রূপ, রহস্য আর মুগ্ধতার ধারাবাহিক হন্তারক এই পৃথিবীতে। একজন আধুনিক যুক্তিবাদী মানুষ কীভাবে দেখবেন এই ধর্মকে? ... ...


গ্রিক জনপদগুলির নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ নিয়ে খেয়োখেয়ি বা যুদ্ধের বৃত্তান্তগুলিকে কোনো ঐতিহাসিকই গুরুত্ব দেন না। বরং, এইসব যখন থামতো, সেই সময়টুকুর স্মৃতি মানুষ কীভাবে বহন করেছিল, তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আল্পস পর্বতের গা বেয়ে ওঠার সময় সারাদিনের ঝড় আর তুষারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর পর্বতশীর্ষে চোখ-ধাঁধানো সূর্যোদয়ের স্মৃতি যেভাবে পর্বতারোহীর মনে গেঁথে যায়, এ স্মৃতি অনেকটা সেইরকম। সময়ের সঙ্গে স্মৃতি ক্রমাগত ফিকে হতে থাকার সময়, ঊষার আলোয় উদ্ভাসিত কিছু বিশেষ চূড়ার ছবি মানুষের মনে থেকে যায়, তার সঙ্গে বেঁচে থাকে এই জ্ঞানটুকু – মেঘের আড়ালেও এক মনোরম শোভা বর্তমান, আর যে কোনো সময় মেঘ সরে গিয়ে তা নজরে পড়বে। প্লেটো ছিলেন শুরুর দিকের খ্রিস্টধর্মের কাছে এমনই এক আলোকোজ্জ্বল শীর্ষ, আরিস্তোতলও তা-ই ছিলেন মধ্যযুগের চার্চের চোখে; কিন্তু নবজাগরণের পর মানুষ যখন রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দিতে শুরু করে, তাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় প্লুতার্কে। অষ্টাদশ শতকের ইংরেজ ও ফরাসী প্রগতিশীলদের ওপর যেমন, তেমনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাতাদের ওপরও তাঁর অসামান্য প্রভাব ছিল; জার্মানির রোম্যান্টিক আন্দোলনে তো তাঁর প্রভাব ছিলই, পরোক্ষভাবে তিনি আধুনিক জার্মান চিন্তাধারাকেও (অনুবাদক: চল্লিশের দশকের) প্রভাবিত করেছেন। ... ...



“আমার আরও কিছু বলার আছে, যা শুনে হয়তো তোমাদের গলা ছেড়ে প্রতিবাদ করতে ইচ্ছে হবে। একান্ত অনুরোধ, কোরো না – আমার বিশ্বাস, আমার কথা শুনলে আখেরে তোমাদের ভালোই হবে। তোমাদের জানিয়ে রাখি, আমার মতো একজনকে হত্যা করলে আমার থেকে বেশি আহত তোমরাই হবে। কোনো কিছুতেই আমার ক্ষতি হবে না; এই মিলেতোস বা আন্যুতোসের পক্ষে আমায় আঘাত করা সম্ভব না, কারণ কোনো ফালতু লোকের পক্ষে তার থেকে উচ্চস্তরের মানুষকে আঘাত করা অসম্ভব। আমি অস্বীকার করছি না – আন্যুতোস চাইলে তেমন লোককে মেরে ফেলতে পারে, নির্বাসন দিতে পারে, তার নাগরিক অধিকারও কেড়ে নিতে পারে; আর বাকিদের মতো তারও মনে হতে পারে – লোকটাকে খুব খানিক কড়কে দেওয়া গেল, কিন্তু আমি তা মানি না। কারণ, ও যে পাপ করছে—অন্যায্যভাবে একজনের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পাপ—তার বোঝা অনেক, অনেক বেশি।” ... ...

প্রোতাগোরাস ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে অ্যাবডেরায় (সেই শহর, যা দেমোক্রিতোস-এরও জন্মভূমি) জন্মেছিলেন। তিনি এথেন্সে এসেছিলেন দু-বার, দ্বিতীয় ভ্রমণটি নিশ্চিতভাবে ৪৩২ খ্রিপূ-এর আগে। ৪৪৪-৪৪৩ খ্রিপূ নাগাদ তিনি থুরিয়াই নগরীর জন্যে একটি আইনসংহিতা প্রণয়ন করেন। চলতি গল্প আছে, যে, তাঁকে অধর্মাচরণের জন্যে অভিযুক্ত করা হয়, তবে সম্ভবত গল্পটি কাল্পনিক; যদিও তাঁর লেখা ‘দেবতাদের সম্পর্কে’ নামের বইটির শুরু এইরকম: ‘দেবতাদের সম্পর্কে বলতে গেলে, তাঁদের অস্তিত্ব আছে না নেই, থাকলেও তাঁদের কেমন দেখতে – এ সব নিয়ে আমি মোটেই নিশ্চিত নই; কারণ, বিষয়ের দুর্বোধ্যতা থেকে শুরু করে মানুষের আয়ুর সীমাবদ্ধতা – নিশ্চিত জ্ঞানার্জনের পথে বাধা অনেক।’ ... ...

আধুনিক পদার্থবিদরা পদার্থের পারমাণবিক ধর্মে এখনো কিছুটা বিশ্বাস করলেও, ‘ফাঁকা’ স্পেস-এ বিশ্বাস করেন না। যেখানে পদার্থ নেই, সেখানেও ‘কিছু’ আছে, বিশেষ করে আলোকতরঙ্গ। পার্মেনিদিসের যুক্তিজাল থেকে দর্শনে পদার্থ যে উচ্চ-মর্যাদা পেয়েছিল, তা আর নেই। ‘বস্তু’ আর অপরিবর্তনীয় নয়, নেহাতই 'ঘটনা'র বিশেষ গুচ্ছ। কিছু ঘটনা পড়ে পদার্থের গুচ্ছে, কিছু—যেমন আলোক-তরঙ্গ—সে দলে পড়ে না। জগত তৈরি হয় এইসব ‘ঘটনা’ দিয়েই, যার প্রতিটি ঘটে অতি অল্প সময়ের জন্যে। এইদিক থেকে দেখলে, বর্তমান পদার্থবিদ্যা হেরাক্লিতোসের পক্ষে যতটা, ততটাই পার্মেনিদিস-বিরোধী। অথচ, আইনস্টাইন ও কোয়ান্টাম তত্ত্বের আগে অবধি ফিজ়িক্স কিন্তু পার্মেনিদিস-এর পক্ষেই ছিল। ... ...

পেরিক্লিস যখন বার্ধক্যের মুখে, সেই সময় তাঁর বিরোধীরা তাঁর বন্ধুস্থানীয়দের ওপর আক্রমণ করা শুরু করে, যার মূল লক্ষ্য আসলে ছিলেন পেরিক্লিস। ভাস্কর ফিদিয়াসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তিনি নাকি মূর্তির জন্যে বরাদ্দ তহবিল তছরুপ করেছেন। যাঁরা ধর্মাচরণ করেন না এবং 'মাথার উপরের বিষয়' নিয়ে তত্ত্বশিক্ষা দেন, তাঁদের যাতে অভিশংসিত করার জন্যে এরা আইন পাশ করে। আনাক্সাগোরাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তিনি নাকি শেখাচ্ছেন, যে সূর্য এক আগুনে গরম পাথরের গোলা আর চাঁদ মাটি দিয়ে তৈরি। ঠিক কী কী যে ঘটেছিল, তা পরিষ্কার নয়, তবে আনাক্সাগোরাসকে এর ফলে এথেন্স ত্যাগ করতে হয়েছিল। সম্ভবত পেরিক্লিস তাঁকে কয়েদখানা থেকে মুক্ত করে নিরাপদে পালানোর ব্যবস্থা করতে পেরেছিলেন। তিনি আয়োনিয়ায় ফিরে যান আর একটি বিদ্যায়তন প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর উইল অনুসারে, ইশকুলের পড়ুয়ারা তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে ছুটি পেত। ... ...

দর্শনে এথেন্সের অবদান মাত্র দুটি নাম – সোক্রাতিস ও প্লেটো। প্লেটো অনেক পরবর্তী সময়ের মানুষ হলেও, সোক্রাতিস তাঁর যৌবন আর সাবালক জীবনের প্রথমদিকটি পেরিক্লিসের শাসনকালেই কাটিয়েছেন। দর্শনের প্রতি এথেনীয়দের উৎসাহ এতটাই ছিল, যে তাঁরা অন্য শহরের শিক্ষকদের কথাও সোৎসাহে শুনতেন। যে সব তরুণ বিতর্কের শিল্প শিখতে চাইতেন, তাঁদের কাছে সফিস্টদের বেশ কদর ছিল; প্রখ্যাত কোনো এক অতিথির কথা আকুল শিষ্যরা কেমন হাঁ করে শুনতেন – প্রোটাগোরাস বইয়ে প্লেটোর কল্পিত সোক্রাতিসের মুখে তার মজাদার বর্ণনা আছে। আমরা পরে দেখবো – পেরিক্লিস আমন্ত্রণ করে এনেছিলেন দার্শনিক আনাক্সাগোরাসকে, আর সোক্রাতিসের মতে, সৃষ্টির ক্ষেত্রে মনের প্রধান ভূমিকার কথা আনাক্সাগোরাসের থেকেই তিনি শিখেছিলেন। ... ...

কেন্দ্রাতিগ বলেরও (centrifugal force) অন্তত একটি উদাহরণ তিনি আবিষ্কার করেছিলেন: দড়ির মাথায় বেঁধে জলভরা পেয়ালা ঘোরালে, জল বাইরে বেরিয়ে আসে না। উদ্ভিদের যৌনজনন সম্পর্কে তিনি জানতেন আর বিবর্তন ও যোগ্যতমের উদ্বর্তন নিয়ে তাঁর নিজস্ব তত্ত্ব ছিল (যদিও বেশ আজগুবি, মানতেই হবে)। মূল কথাটি: “সে এক বিস্ময়কর দৃশ্য—অগুণতি, সমস্ত সম্ভাব্য আকার-আকৃতির নশ্বর গোষ্ঠীর জীব ছড়িয়ে ছিল সর্বত্র।”... জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রসঙ্গে: চাঁদ যে প্রতিফলিত আলো ছড়ায়, তা তিনি জানতেন, তবে সূর্য সম্পর্কেও তাঁর একই ধারণা ছিল; তিনি বলেছিলেন, যে আলো এক জায়গা থেকে অন্যত্র যেতে সময় নেয়, কিন্তু তা এতই কম, যে আমাদের ঠাহর হয় না; তিনি এও জানতেন, যে, পৃথিবী আর সূর্যের মাঝে চাঁদ এসে পড়ে বলে সূর্যগ্রহণ হয়—মনে হয় এ তথ্য তিনি জেনেছিলেন আনাক্সাগোরাসের থেকে। ... ...

ভাষা যদি নেহাত অর্থহীন না হয়, তবে শব্দের কিছু মানে থাকা আবশ্যিক, আর একটি শব্দ সাধারণভাবে যে কেবল অন্য কতগুলি শব্দকে বোঝায়, তা নয় – শব্দ এমন কিছুকে নির্দেশ করে, যার অস্তিত্ব আছে—সে আমরা তা নিয়ে কথা বলি বা না বলি। ধরো, তুমি জর্জ ওয়াশিংটনকে নিয়ে কথা বলছো। যদি ওই নামে কোনো ঐতিহাসিক চরিত্র না থেকে থাকে, তবে নামটি (আপাতদৃষ্টিতে) অর্থহীন আর ওই নাম ব্যবহার করা বাক্যগুলি অবান্তর। পার্মেনিদিস জোর দিয়ে বলছেন – শুধু যে জর্জ ওয়াশিংটন অতীতে ছিলেন তা-ই নয়, কোনো না কোনোভাবে তিনি এখনো নিশ্চয়ই আছেন, নইলে তাঁর নাম এখনো বহুল ব্যবহৃত থাকতো না। এ যুক্তি স্পষ্টতই ভুল, কিন্তু একে এড়িয়ে যাবো কী করে? ... ...

দর্শনের মতো বিজ্ঞানও, পরিবর্তনের মধ্যে এক স্থির ধাত্রস্বরূপ কল্পনা করে এই নিয়ত-পরিবর্তনশীল জগতের ধারণার থেকে নিস্তার চেয়েছে। রসায়নে সম্ভবত এই চাহিদার উত্তর পাওয়া যায়। দেখা গেল, যে আগুন ধ্বংস করে বলে ভাবা হত, তা আসলে কেবল পুনর্গঠন করে: মৌলগুলি নতুন করে যুক্ত হয় ঠিকই, কিন্তু অগ্নিসংযোগের আগে যে পরমাণুটি ছিল, অগিনির্বাপনের পরেও সেটিই থাকে। স্বভাবতই, প্রস্তাব এল, যে পরমাণু অবিনশ্বর, ভৌত জগতে সব পরিবর্তনই আসলে স্থায়ী পরমাণুগুলির পুনর্বিন্যাস। তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার হওয়া অবধি—যখন কিনা দেখা গেল যে পরমাণুও ভাঙা যায়—এই ধারণাটি টিকে ছিল। ... ...

ইতিহাসের এক অন্যতম আকর্ষণীয় আর গোলমেলে চরিত্র এই পিথাগোরাস। তাঁকে ঘিরে গড়ে ওঠা ঐতিহ্য যে শুধু সত্যি-মিথ্যের এক অবিচ্ছেদ্য মিশেল তা-ই নয়, সেই সব গল্পের একেবারে সরল, সবচেয়ে কম বিভ্রান্তিকর সংস্করণের থেকেও এক অদ্ভুত মনোবৃত্তির পরিচয় ভেসে ওঠে। খুব সংক্ষেপে বলতে হলে, পিথাগোরাস যেন আইনস্টাইন আর শ্রীমতি এডি-র (অনুবাদক: বর্তমানের প্রাসঙ্গিক উদাহরণে বুঝতে চাইলে ‘সদগুরু’ ভেবে নিন) এক মিশ্রণ। তিনি এক ধর্ম প্রচার করতেন, যার মূল দুটি বক্তব্য হল – আত্মার পুনর্জন্ম হয় আর বরবটি (beans, অর্থাৎ রাজমা, শিম – সবই) খাওয়া পাপ। এই ধর্মমতটি অবশেষে এক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের রূপ নেয়, যারা খাপছাড়াভাবে বিভিন্ন জায়গায় সরকারের দখল নিয়ে ‘পণ্ডিতদের শাসন’-এর পত্তন করেছিল, কিন্তু ‘অসংস্কৃত জনগড্ডল’ বরবটি খাওয়ার লোভ ত্যাগ করতে না পেরে অচিরেই বিদ্রোহ করে। ... ...

নিজের জ্যোতির্বিদ্যার জ্ঞান কাজে লাগিয়ে কোনো এক শীতকালে তিনি নাকি বুঝতে পেরেছিলেন যে পরের বছর অলিভের ফলন খুব ভালো হবে। অতএব, নিজের সামান্য জমা টাকাপয়সা অগ্রিম জমা দিয়ে তিনি খিওস ও মাইলেটাস-এর সমস্ত অলিভ-ঘানি ভাড়া নিয়ে রাখলেন। শীতের অসময়ে তাঁর প্রতিপক্ষ হিসেবে কেউ তেমন নিলামেও দাঁড়ালো না, তাই বেশ কম দামেই ভাড়া পেলেন থেলিজ়। পরবর্তী ফলনের সময় যখন এল, একসঙ্গে সব ঘানির চাহিদা তৈরি হল, থেলিজ় নিজের ইচ্ছেমতো দামে সেগুলি অন্যদের ব্যবহার করতে দিলেন, আর এভাবে বেশ অনেক অর্থই উপার্জন করলেন। এইভাবে দুনিয়াকে দেখালেন, যে দার্শনিকরা চাইলেই ধনবান হতে পারেন, নেহাত তাঁদের উচ্চাশার বিষয় একেবারেই অন্য গোত্রের। ... ...

যতক্ষণ কোনো প্রকল্প ধর্ম, ধর্মতত্ত্ব এবং ধর্মীয় মৌলবাদের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখায় ততক্ষণই তা ভালো। ধর্মনিরপেক্ষতার সীমাবদ্ধতার বিপরীতে বিপুল ধার্মিক জনতার নৈতিক বোধকে অসাম্প্রদায়িক লক্ষ্যে চালিত করার এ এক উপায় হতে পারে। তবে এই উপমহাদেশে রাষ্ট্রশক্তির কাছে মৌলবাদ প্রশ্রয় পায়। সেখানে লোকধর্ম তার বিরুদ্ধে কতটা শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়তে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। ... ...

দূরদর্শিতা ব্যক্তির আত্ম-নিয়ন্ত্রণের উদাহরণ। সভ্যতা কেবল ব্যক্তির আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই প্রবৃত্তিকে লাগাম পরায়নি, সে কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল আইন, আচার আর ধর্ম। এগুলি বর্বর জীবনেরই উত্তরাধিকার, তবে প্রবৃত্তির প্রভাব এখানে কম, প্রকরণের বেশি। কিছু কার্যকলাপকে অপরাধ বলে দাগানো হল, আর যথোপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থাও হল; অন্য কিছু কাজ—যদিও আইনের চোখে অপরাধ নয়—সমাজের চোখে ন্যক্কারজনক বলে চিহ্নিত হল। জমির ব্যক্তিগত মালিকানা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার ফলে তার পিছু নিয়ে এল নারীর বশ্যতা স্বীকার, আর প্রায়শই, একটি দাস-শ্রেণীর নির্মাণ। একদিকে যেমন গোষ্ঠীর ভালোমন্দের ভার ব্যক্তির ওপর চাপানো হল, অন্যদিকে তেমনই—নিজের গোটা জীবনকে নিয়ে ভাবার অভ্যেস তৈরি হওয়ার ফলে—ব্যক্তি আরো বেশি করে ভবিষ্যতের কথা ভেবে বর্তমানকে বিসর্জন দিতে শুরু করল। ... ...

“প্রায় সব দেশের দেবতারাই দাবি করেন যে তাঁরা জগৎ সৃষ্টি করেছেন। অলিম্পিয়ানদের কিন্তু তেমন কোনো দাবি নেই। তারা যদি কিছু করে থাকে, তবে তারা সেই জগৎ জয় করেছে... এইসব দেশ জয়ের পরে তারা করলো কী? সরকার গঠন করলো? কৃষির প্রসার করলো? শিল্প-বাণিজ্য – এসবের বিস্তার করলো? মোটেই না। গায়ে গতরে তারা কেন খাটতে যাবে? খাজনার ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকা আর বেয়াদব প্রজার মাথায় আক্ষরিক বজ্রাঘাত করা বরং অনেক সহজ। এরা সব যুদ্ধজয়ী সর্দার, রাজানুগ্রহে পুষ্ট দস্যু। এরা লড়াই করে, ভোজ দেয়, এরা ক্রীড়ামোদী, সঙ্গীতপ্রেমী; এরা আকণ্ঠ পান করে, ফরমায়েশি ভৃত্যকে নিয়ে তামাশা করে অট্টহাস্যে ফেটে পড়ে। নিজেদের রাজা ছাড়া তারা আর কাউকে ভয় পায় না। এরা প্রেম আর যুদ্ধ ছাড়া কখনো মিথ্যাচার করে না।” ... ...
