এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • কুসংস্কার ও বিজ্ঞানের যুক্তি  (প্রবন্ধ )

    SANKAR HALDER লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৫০ বার পঠিত
  • কুসংস্কার ও বিজ্ঞানের যুক্তি
    লেখক : শংকর হালদার শৈলবালা
    রচনাকাল : ১ ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে ১৪ ই সেপ্টেম্বর ২০২৬
    সূচিপত্র

    প্রথম অধ্যায় : স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও শরীর সম্পর্কিত

    ১. গরম চা বা দুধে ফুঁ দিয়ে খাওয়া নিষেধ
    ২. সাপে কাটলে ওঝার কাছে যাওয়া বা ঝাড়ফুঁক করা
    ৩. বসন্ত বা গুটিবসন্ত হলে মায়ের কৃপা মনে করে ওষুধ না খাওয়া
    ৪. নজর লাগা বা কুনজর থেকে বাঁচতে বাচ্চার কপালে টিপ বা কালির দাগ দেওয়া
    ৫. হিচকি বা হেঁচকি উঠলে কেউ মনে করছে বলে বিশ্বাস করা
    ৬. চোখ নাচলে বা লাফালে ভালো/খারাপ কিছু ঘটার চিহ্ন ধরা
    ৭. গর্ভবতী নারীর পেট দেখে সন্তানের লিঙ্গ অনুমান করা
    ৮. মাঙ্গলিক দোষ থাকলে বিয়ের আগে গাছের সাথে বিয়ে দেওয়া
    ৯. রাতকানা বা চর্মরোগ হলে গোবর বা বিশেষ টোটকা ব্যবহার করা
    ১০. ভাঙা আয়নায় মুখ দেখলে আয়ু কমে বা অমঙ্গল হয়
    ১১. আঁচিল হলে স্পর্শ করে গুনে দিলে বা বিশেষ সুতো বাঁধলে সেরে যাওয়া
    ১২. ওষুধ খাওয়ার পর শিশি নাড়া দিলে রোগ বাড়ে বলা
    ১৩. চুল বা নখ কেটে আগুনে ফেললে অমঙ্গল হওয়া
    ১৪. রাতে মাথা আঁচড়ালে বা চুল খোলা রাখলে প্রেতাত্মা ভর করা
    ১৫. কান চুলকালে কেউ গালি দিচ্ছে বা ভালো কথা বলছে ভাবা
    ১৬. হাতের তালু চুলকালে টাকা আসা বা খরচ হওয়ার লক্ষণ ধরা
    ১৭. দাঁত উঠলে চালের চালে ফেলে দেওয়া
    ১৮. প্রসবের পর প্রসূতিকে অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা
    ১৯. পিরিয়ড বা ঋতুস্রাবের সময় মেয়েদের স্পর্শকাতর বা অশুভ মনে করা
    ২০. রাতে ঘুমানোর সময় উত্তর দিকে মাথা রেখে ঘুমানো নিষেধ

    দ্বিতীয় অধ্যায় : খাদ্য ও পানীয় সম্পর্কিত

    ২১. মাছ ও মাংস একসঙ্গে খাওয়া নিষেধ বলা
    ২২. বেগুনের সাথে খেজুর সেদ্ধ করে বা ভাতে দিয়ে খেলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ও বৈষ্ণব সমাজে নিষেধাজ্ঞা
    ২৩. শুভ কাজে বা পরীক্ষায় যাওয়ার আগে দই-চিনি খাওয়া
    ২৪. পরীক্ষার আগে ডিম খেলে পরীক্ষা খারাপ হওয়া বা দই-চিনি খাওয়া
    ২৫. সন্ধ্যাবেলায় বা রাতে দুধ পান করা নিষিদ্ধ মনে করা
    ২৬. জোড়া কলা খেলে জোড়া সন্তান বা জমজ সন্তান হয়
    ২৭. রাতে টক দই বা মাছ খেলে শরীর খারাপ হয়
    ২৮. খাবার থালায় শেষ পাত ধুয়ে খাওয়া অশুভ
    ২৯. হাত থেকে নুন পেলেই ঝগড়া হওয়া
    ৩০. পাত্রে খাবার অবশিষ্ট রাখলে পরের জন্মে অভাব হওয়া
    ৩১. রান্নাঘরে জুতো পরে ঢুকলে লক্ষ্মীদেবী রুষ্ট হন
    ৩২. রাতের বেলা কাউকে ধার হিসেবে দুধ বা নুন দেওয়া বারণ
    ৩৩. ভাত খাওয়ার সময় হেঁচকি উঠলে কেউ পরম যত্নে স্মরণ করছে ভাবা
    ৩৪. হাত থেকে নুন বা দুধ পড়ে গেলে অমঙ্গল হওয়া

    তৃতীয় অধ্যায় : প্রকৃতি, পরিবেশ ও প্রাণী সম্পর্কিত

    ৩৫. সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণের সময় বাইরে বেরোনো বা খাওয়া নিষেধ
    ৩৬. রাতে গাছে হাত দেওয়া বা গাছের নিচে ঘুমানো নিষেধ
    ৩৭. রাতে ঘর ঝাঁট দিলে বা নখ কাটলে অমঙ্গল হয়
    ৩৮. বিড়াল রাস্তা কাটলে যাত্রা অশুভ হয়
    ৩৯. রাতে ঘর ঝাড়ু দিলে লক্ষ্মী চলে যাওয়া বা অলক্ষ্মী ঢোকা
    ৪০. যাত্রা বা শুভ কাজে যাওয়ার সময় পেছন থেকে ডাকা বা হাঁচি দেওয়া
    ৪১. গর্ভবতী নারীর সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণের সময় বাইরে বের হওয়া বা কিছু কাটা
    ৪২. রাতে সাপ বা শিয়ালের নাম না নেওয়া
    ৪৩. কুকুরের কান্না বা ডাকাডাকি মৃত্যুর পূর্ব সংকেত
    ৪৪. পেঁচা ডাকলে বা ঘরের চালে বসলে অশুভ কিছু ঘটে
    ৪৫. কাক মাথার ওপর পায়খানা করলে হঠাৎ ধনপ্রাপ্তি হয়
    ৪৬. ঘরের কোণে মাকড়সার জাল থাকলে দারিদ্র্য আসে
    ৪৭. রাতে বাঁশঝাড় বা তেঁতুল গাছের পাশ দিয়ে হাঁটা নিষেধ
    ৪৮. তুলসী গাছ শুকিয়ে গেলে গৃহস্থের ওপর বিপর্যয় আসে
    ৪৯. বাড়িতে মৌচাক হলে অমঙ্গল বা গৃহস্বামীর ক্ষতি হওয়া
    ৫০. টিকটিকি টিকটিক করলে কথার সত্যতা প্রমাণিত হয়
    ৫১. গোখরো বা সাপের প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা থাকে
    ৫২. কাক ভোরে বাড়ির সামনে ডাকলে অতিথি আসার চিহ্ন
    ৫৩. গাছে প্রথম ফল ধরলে তা কাউকে দান করতে হয়
    ৫৪. গ্রহণের সময় গাছে ফল ধরলে তা বিষাক্ত হয়


    চতুর্থ অধ্যায় : দিন, সময় ও গৃহস্থালি সম্পর্কিত

    ৫৫. রাতে ঘর ঝাঁট দিলে বা নখ কাটলে অমঙ্গল হয়
    ৫৬. মঙ্গলবার বা শনিবার নতুন কাজ বা যাত্রা শুরু না করা
    ৫৭. সন্ধ্যাবেলায় ঘরের দোরগোড়ায় বা চৌকাঠে বসা নিষেধ
    ৫৮. সূর্যাস্তের পর কাউকে টাকা-পয়সা ধার দেওয়া বারণ
    ৫৯. রাতে ঝাটকা বা ঝাড়ু খাড়া করে রাখা অশুভ
    ৬০. শনি বা মঙ্গলবার চুল-দাড়ি বা নখ কাটা নিষেধ

    ৬১. ঘর থেকে বের হওয়ার পর পেছন থেকে ডাক দেওয়া অশুভ
    ৬২. সূর্যাস্তের সময় ঘুমানো বা আহার করা পাপ
    ৬৩. ঘরের ভেতর ছাতা খুললে অশুভ কিছু ঘটে
    ৬৪. খালি কলসি বা বালতি দেখে বাড়ি থেকে বের হওয়া অশুভ
    ৬৫. ভরদুপুরে একা ফাঁকা মাঠে বা রাস্তার মোড়ে যাওয়া নিষেধ
    ৬৬. রাতে কাঁচ ভাঙলে বা আয়না ভাঙলে ৭ বছরের অমঙ্গল
    ৬৭. হাত থেকে তেল বা সিঁদুর পড়ে যাওয়া অশুভ লক্ষণ
    ৬৮. ঘর থেকে বেরোনোর সময় হাঁচি পড়লে থেমে যাওয়া
    ৬৯. নতুন বাড়ি তৈরির সময় কালপুরুষ বা হাঁড়ি উল্টো করে রাখা
    ৭০.


    পঞ্চম অধ্যায় : শুভ-অশুভ ও যাত্রা সম্পর্কিত

    ৭১. যাত্রাকালে বিধবা নারী বা খালি কলসি সামনে পড়া অশুভ
    ৭২. শুভ কাজে যাওয়ার সময় জোড়া শালিখ দেখলে যাত্রা শুভ হয়
    ৭৩. বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথম পদক্ষেপে হোঁচট খাওয়া খারাপ
    ৭৪. তিনজনে মিলে কোনো শুভ কাজে বের হওয়া বারণ (তিন কড়াতে যাত্রা অশুভ)
    ৭৫. জামাকাপড় উল্টো পরলে ভাগ্য খুলে যাওয়া বা ভ্রমণ হওয়া
    ৭৬. পকেটে বা মানিব্যাগে ময়ূরের পালক রাখলে উন্নতি হয়
    ৭৭. ঘরের দরজায় লেবু-লঙ্কা ঝুলিয়ে রাখলে নজর লাগে না
    ৭৮. কোনো কাজে যাওয়ার সময় শুভ সূচনা হিসেবে মিষ্টি মুখ করা
    ৭৯. যাত্রা শুরুর আগে জল ভরা কলসি দেখা অত্যন্ত শুভ
    ৮০. পথে টাকা বা মুদ্রা কুড়িয়ে পেলে ভাগ্য ভালো হয়

    ষষ্ঠ অধ্যায় : জ্যোতিষ, রত্ন ও তুকতাক সম্পর্কিত

    ৮১. রত্নপাথর ধারণ করলে ভাগ্য বা গ্রহের দোষ কেটে যায়
    ৮২. কালসর্প দোষ বা মাঙ্গলিক দোষ কাটতে বিশেষ পুজো করা
    ৮৩. হাতের রেখা দেখে মানুষের ভবিষ্যৎ ও মৃত্যুর দিন বলা যায়
    ৮৪. কালো সুতো পায়ে বা হাতে বাঁধলে কুনজর থেকে রক্ষা মেলে
    ৮৫. লোহা বা আংটি আঙুলে পরলে শনির প্রকোপ কমে
    ৮৬. রাশিফল দেখে দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা
    ৮৭. বাড়ির মূল দরজায় ঘোড়ার নাল মারলে সমৃদ্ধি আসে
    ৮৮. বাস্তুদোষ কাটতে বিশেষ গাছ বা ফোয়ারা বসানো
    ৮৯. শরীরে শুভ-অশুভ স্থানে তিল থাকা ভাগ্য নির্ধারণ করে
    ৯০. ফটকের ওপর নজরবাত্তি বা রাক্ষসের মুখ ঝুলিয়ে রাখা

    সপ্তম অধ্যায় : সামাজিক প্রথা, বিয়ে ও তুকতাক

    ৯১. বর-কনের কুষ্ঠি না মিললে বিয়ে দেওয়া মারাত্মক ভুল
    ৯২. অমাবস্যা বা পূর্ণিমায় মানসিক রোগীদের রোগ বাড়ে
    ৯৩. মৃতদেহের সত্কার করে ফেরার পর লোহা স্পর্শ করা
    ৯৪. বাচ্চার মাথায় হাত দিয়ে শপথ করলে তার ক্ষতি হয়
    ৯৫. বিয়ের আগে বর-কনের একে অপরকে দেখা অশুভ
    ৯৬. মৃত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র ঘরে রাখা অশুভ
    ৯৭. বিধবা নারীকে শুভ কাজের সামনে আসতে না দেওয়া
    ৯৮. প্রসূতি ও সদ্যজাতকে নজর এড়াতে লোহার জিনিস কাছে রাখা
    ৯৯. রাতে নদী পার হওয়ার সময় বা সেতুর ওপর নাম না নেওয়া
    ১০০. কোনো শুভ কাজের কথা আগে থেকে প্রকাশ করলে কাজ পণ্ড হয়

    অষ্টম অধ্যায় : সাধারণ লোকবিশ্বাস ও অন্যান্য

    ১০১. জুতো উল্টে থাকলে ঘরে ঝগড়া বা অশান্তি হয়
    ১০১. হাত থেকে বই বা লেখার কাগজ পড়লে সরস্বতী দেবীকে প্রণাম করা
    ১০৩. গালে হাত দিয়ে বসলে দুঃখ বা বিষাদ আসে
    ১০৪. রাতে মুখে বাঁশি বা শিষ বাজালে সাপ আসে বা চোর আসে
    ১০৫. পা নাচানো বা পা দোলানোর অভ্যাস থাকলে ঘরে অভাব আসে
    ১০৬. আঙুল মটকানো বা হাতের গিঁট ফোটানো দারিদ্র্যের লক্ষণ
    ১০৭. পিঠে হাত দিয়ে বসা বা হাঁটা অশুভ
    ১০৮. ছায়াকে মাড়ানো বা ছায়ার ওপর পা দেওয়া পাপ
    ১০৯. একই নামের দুই ব্যক্তির একসাথে যাত্রা করা বারণ
    ১১০. শুভ অনুষ্ঠান শেষে বিদায় জানানোর সময় "আসি" বা "যাচ্ছি" না বলে "আসি বলুন" বা "ঘুরে আসি" বলা

    নবম অধ্যায় : বিবিধ প্রসঙ্গে

    ১১১. দরজায় বা চৌকাঠে বসে খাওয়া বা দাঁড়ানো অশুভ
    ১১২. খালি পেটে বা উপোস করে যাত্রাপথে বের হওয়া অশুভ
    ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
    প্রথম অধ্যায় : স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও শরীর সম্পর্কিত

    ১. গরম চা বা দুধে ফুঁ দিয়ে খাওয়া নিষেধ

    কাদম্বিনী দেবী চায়ের কাপটি হাতে নিয়ে ফুঁ দিতে যাবেন, অমনি পাশ থেকে মাসিমা বাধা দিয়ে উঠলেন—"ও কী করছ বাছা! গরম চা বা দুধে ওভাবে ফুঁ দিতে নেই, অলক্ষ্মী ভর করে!"

    খাদ্যদ্রব্য বিশেষ করে তরল পানীয়ে ফুঁ দেওয়ার এই নিষেধ আমাদের সমাজে অত্যন্ত পরিচিত একটি লোকবিশ্বাস। বাড়ির প্রবীণরা প্রায়শই ফুঁ দিয়ে গরম চা বা দুধ ঠান্ডা করতে বারণ করেন। তাঁদের মতে এতে খাদ্যের শুভতা নষ্ট হয় বা গৃহের লক্ষ্মী দেবী অসন্তুষ্ট হন।

    বিজ্ঞানের যুক্তি : সমাজ যা অলক্ষ্মীর ভয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে, আধুনিক বিজ্ঞান তাকে ব্যাখ্যা করে সম্পূর্ণ অন্যভাবে। গরম চা বা দুধে ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা না করার পেছনে একাধিক রাসায়নিক ও শারীরবৃত্তীয় যুক্তি রয়েছে।

    ১. কার্বনিক অ্যাসিডের সৃষ্টি : আমরা যখন শ্বাস গ্রহণ করি তখন শরীর অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং শ্বাস ছাড়ার সময় ফুসফুস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) বের করে দেয়। গরম চা বা দুধে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। আমরা যখন চায়ের কাপে জোরে ফুঁ দিই, তখন নিশ্বাসের মাধ্যমে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড গরম তরলের জলের (H₂O) সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়। এর ফলে স্বল্প পরিমাণে কার্বনিক অ্যাসিড (H₂CO₃) উৎপন্ন হয়, যা তরলের স্বাভাবিক অম্লতা বাড়িয়ে দিতে পারে।

    রাসায়নিক সমীকরণ : CO₂ + H₂O → H₂CO₃

    ২. অনুজীব ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ : মানুষের মুখের ভেতরে এবং লালায় অসংখ্য দৃশ্যমান ও অদৃশ্য অনুজীব বা ব্যাকটেরিয়া (যেমন—Helicobacter pylori) অবস্থান করে। ফুঁ দেওয়ার সময় আমাদের মুখের সূক্ষ্ম লালাকণা বা জলকণা অজান্তেই খাদ্যের ওপর ছিটকে পড়ে। এর ফলে সেই পানীয়ে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সংক্রামিত হতে পারে, যা পরবর্তীতে পেটের গোলযোগ বা অন্যান্য রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    ৩. স্বাদ ও গুণমান হ্রাস : দুধ বা চায়ের প্রোটিন ও ফ্যাটের একটি সূক্ষ্ম আস্তরণ বা স্তর থাকে। বারবার জোরে ফুঁ দিলে তা ভেতরের বাতাসের সাথে মিশে রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে পানীয়াংশটির আসল স্বাদ ও প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ কিছুটা হলেও কমিয়ে দেয়।

    অতএব, প্রথা বা লোকবিশ্বাস যাই বলুক না কেন, আসল কারণটি হলো স্বাস্থ্য সচেতনতা। গরম চা বা দুধ ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা না করে কিছুক্ষণ স্বাভাবিক বাতাসে রেখে বা চামচ দিয়ে নাড়িয়ে ঠান্ডা করে খাওয়াটাই বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়।
     
    পরবর্তী আরো অনেক অংশ রয়েছে

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সিউডোসায়েন্স | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:৩৭742634
  • দয়া করে এইসমস্ত সিউডো-সায়েন্টিফিক ঢপের চপ একটা জোরে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিন। আর নিজের কাপের চা ফুঁ দিয়ে, পাখার বাতাস করে, বরফের চ্যাঙড়ে বসিয়ে, লিকুইড নাইট্রোজেনের ট্যাঙ্কিতে চুবিয়ে যেভাবে ইচ্ছে ঠাণ্ডা করে খান।

    আর কাদম্বিনী দেবীকে বলুন দমে না গিয়ে মাসিমাকে এক ঝাড় দিতে, আর আপনি এ-আই স্লপ একটু কন্ট্রোল করুন।
  • Ranjan | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:৩৬742636
  • কোন নারীকে বিয়ের আগে চুমু খেতে নেই l
    এটা প্রাচীন নৈতিক বিধান l
    কিন্তু তার বৈজ্ঞানিক কারণ আছে l
     
    চুমু খেলে আমার श्वास এর মাধ্যমে ওর মুখের ভেতর তপ্ত কার্বন dioxide চলে যাবে l তাহলে কার্বন এর প্রভাবে ওর রং কালো হয়ে যাবে l
    তাহলে ওর বিয়ে হবে না l
     
    তাই
    আগে বিয়ে করে নাও
    যতো ইচ্ছে চুমু খাও ll
  • অরিন | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৩৪742639
  • "কার্বনিক অ্যাসিডের সৃষ্টি : আমরা যখন শ্বাস গ্রহণ করি তখন শরীর অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং শ্বাস ছাড়ার সময় ফুসফুস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) বের করে দেয়। গরম চা বা দুধে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। আমরা যখন চায়ের কাপে জোরে ফুঁ দিই, তখন নিশ্বাসের মাধ্যমে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড গরম তরলের জলের (H₂O) সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়। এর ফলে স্বল্প পরিমাণে কার্বনিক অ্যাসিড (H₂CO₃) উৎপন্ন হয়, যা তরলের স্বাভাবিক অম্লতা বাড়িয়ে দিতে পারে।

    রাসায়নিক সমীকরণ : CO₂ + H₂O → H₂CO₃
    "
    যত বাজে কথা।
    নিঃশ্বাস (expiration) আর ফুঁ এক জিনিস নয় যদিও সম্পর্কিত। আর আপনি ফুঁ দিয়ে কখনোই জলে কার্বন ডাই অক্সাইড গুলতে পারবেন না। তিন, গরম চা থেকে বাষ্প বেরোয় ধূম, যার জন‍্য চায়ের ঠিক ওপরের সারফেসে বাষ্প জমে থাকে। আপনি ফুঁ দিলে সেই বাষ্পের স্তর সরিয়ে দেন যাতে আরো দ্রুত ঠাণ্ডা হয়। এই তো ব‍্যাপার।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন