এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • নিভৃত ফাতিহা- অরিত্র আহমেদ 

    Aritra Ahamed লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৩৩ বার পঠিত
  • [রচনাকাল: ২০২০-২১]

    *
    খুব নিবিড় সন্তর্পণে ভালোবাসা ঢুকে পড়ে
    আমার হৃদয়ে, যেখানে তুমি একলা আছো;
    বৃষ্টিতে, মাধুর্যে, জ্যোৎস্নায়, তীব্র ঝড়ে
    গ্রহণ করো তাকে; বাঁচো বা না-ই বাঁচো,
    ভালোবাসতে হবে। হও মর্ষকামী। হেঁয়ালি
    যার গোপন সুরে সুরে, তাকে আঁকো ঈর্ষা করে
    আপন বুকে; আগলে রাখো; হোক না চতুরালি
    ভালোবাসার সমস্ত; খুব আনন্দে, খুব আদরে
    ভুলবে তাকে, অনন্ত যার মিষ্টি খেলার পুতুল?
    স্বপ্ন হোক বরং তাকে পাওয়ার, তাকে পেতেই
    খুব গোপনে তার হৃদয়ে ঢোকো; তোমার ভুল
    তার খোরাক; তার এতো সুখের খেলা
    ভুলের ফুলে ফুলেল; তার জাদুর হাসি হেসেই
    জাদু করো, আদর করো তাকে, তোমার শান্তি সারা বেলা!

    *
    আমি জেনে গেছি
    আড়ালে কিছুই নেই, তবু এসে
    উঁকি দিয়ে যাই, যতো ফাঁকিজুঁকি
    তোমার আমার দু’চোখের বালি, রৌদ্রে লুটাই।

    আমি জেনে গেছি
    আড়ালে কিছুই নেই, তবু হাসি,
    বৃষ্টির দিনে মেঘ ফিকে হলে যখন মদির
    রামধুন হাসে তোমার চোখের বানভাসি জলে।

    আমি জেনে গেছি
    আড়ালে কিছুই নেই, থাকবে না,
    পাবো না কিছুই, হয়তো তোমার
    ভালোবাসা কোনো মুখচোরা রাজপুত্র খোঁজে না।

    আমি জেনে গেছি
    আড়ালে কিছুই নেই, না থাকুক,
    তবুও আসবো, তবু যদি পারি তোমার তনুর
    ঘন বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে আমি নিঃসাড় হয়ে যাবো!

    *
    সবচেয়ে মদির ফুলটি সবচেয়ে আগেই শুকায়,
    বুড়ো ওকের বাঁকলে ধরে লাল পোঁকা, গুঁড়ি হয় ছড়ি,
    তাই বসন্তের ঘুড়ি বাতাসে ছেঁড়ার আগে
    চিনে নাও, জীবন এক আশ্চর্য চেরীর ডালা, একে হেসে হেসে
    আর ভেংচি কেটে কেটে নিঃশব্দে ভরালে ভালো হয়!

    *
    আহা জীবন, কাগুজে পুতুল,
    আর কারো নও, আমার ছাড়া,
    আহা জীবন, মিষ্টি ঝুমঝুমি,
    আনাড়ি হাতেও বাজাতে পারি,
    আহা জীবন, মদির নববধূ,
    আমাকে ছেড়ে যেও না, আমি তোমার;
    আহা জীবন, আহা লাজুক তীঁর,
    আমার বুকে বেঁধো, আহা ঘাতক!

    *
    ভালোবাসা তোমারই ফসল,
    তাকে মুঠি মুঠি কাটো, গোলা ভরো,
    আদুরে রোদ্দুরে ছেনে আড়তে মজুদ করো;
    ভালোবাসা বড়ো দীর্ঘ মাস ধরে,
    তোমার উজ্জ্বল কুলো ফুলে ফুলে ফুলে ভরে,
    আরো কোথাকার মাঠে ছায়া দিতে উড়ে যাবে, যাবে ফেলে,
    ভালোবাসা তোমারই ফসল,
    তাকে সন্ধ্যা নামার আগে, টকটকে অনুরাগে,
    বুকে ধরে আদরে গোলায় ভরো, মাড়াই-ঝাড়াই করো,
    পাছে আমার মতন লাখো লুটেরা প্রেমের ক্ষেতে
    হানা দেয় রাতে, দিয়ে চলে যায় মুঠি মুঠি মুঠি মুঠি ভালোবাসা নিয়ে!

    *
    আমার মিষ্টি অভিশাপ, আমার রক্তধোওয়া শুচি লিলি,
    আমার ছোট্ট মধুখোর মৌমাছি, নগ্না দুঃখী ও কুমারী-
    তোমার বিষাদ আমার বুকে; আমার সুখে তোমার দুঃখ
    তুললো পাল; নগ্ন প্রাণে জাগলো ভূষণ তুমি এলে;
    আমার মিষ্টি অভিশাপ, আমার রক্তধোওয়া লিলি; আমার সুখ
    তোমার দুঃখ পেলেই সুখী; সর্বনাশী, আমার দুঃখী তুষারিনী!

    *
    বুড়ো পৃথিবীর বুকে সোনা খুঁড়ে খুঁড়ে
    আমি বসন্ত, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, রক্তকে
    করেছি সূর্যাস্তরঙা নোনা জল, নীল ফুলে
    লাল পৃথিবীর চুমো, ফিরছি, আমাকে চাও?
    তবে খুঁড়ে আনো স্মৃতি, খাম খুলে ঝালোয়ার, চুমো,
    তারার উজ্জ্বল বীজ পুঁতে রাখো মনের উঠোনে,
    যেনো আমিই নিমেষে জাগি বিস্মৃতি ফুঁড়ে,
    আর বুড়ো ওকটার গায়ে লাগাও হলুদ ফিতে,
    যেনো স্মৃতির হলুদ শিখা বয়সের গ্লানি আর
    বসন্তের ঘুম ভেঙেচুরে পুড়িয়ে দেয় বুড়ো পৃথিবীকে!

    *
    দু'টি মায়াবিনী ঘণ্টা,
    ফাতিহা, মিষ্টি হাসির ঝনঝনানিতে
    আমার বিষাদ উবে গেলো, গেলো হারিয়ে
    যেমন উনুনের ধোঁয়া আকাশে মিলায়!

    দু’টি নিদারুণ ঘণ্টা,
    ফাতিহা, হে মেঘরিক্তা, আঁখির কাঁপুনি
    পৃথিবীর সব দালান ধ্বসালো, যেমন আমার
    ভালোবাসা ধ্বসে যায় ঘূর্ণার ঋঞ্ছাধ্বনিতে!

    দু’টি দিশাহীনা ঘণ্টা,
    ফাতিহা, চোখ মেলে রাখো, আমি বানভাসি
    পার হবো; যদি না-ও পারি ভালোবাসবো, ভেবো না,
    যেমন মানুষ মৃত্যুকে ভালোবাসে!

    *
    আমি যে বেহালাটা বাজাই,
    সেটা আমার নয়। শয়তানের।
    মেয়েরা দেখে হাসে। খলখল ক’রে।
    কারণ আমি যে বেহালাটা বাজাই,
    সেটা আসলে বেহালাই নয়;
    যেমন শয়তান কোনো শয়তান নয়,
    কেননা ঈশ্বর তাকে ভালোবেসে শত্রু বানিয়েছেন!

    *
    বৃষ্টি, আমাকে নিঃসঙ্গ করো!
    আমি ভালোবাসার ছাঁট থেকে বাঁচতে চাই,
    ছিঁড়ে ফেলতে চাই ভুতুড়ে ফুলের ন্যাকামি,
    আমাকে ছিপ ফেলে তুলে নাও এঁদো জল হতে।
    আমি বরং শুকোবো, তা-ও ভালো;
    তবু জলের হম্বিতম্বি আমার সইবে না।
    বৃষ্টি, আমাকে নিঃসঙ্গ করো!
    আমি তোমার হাতে সঁপে দিলাম ভালোবাসার সমস্ত ফুল!

    *
    মিষ্টি আঁকিয়ে,
    আমার আয়না তোমার জাদুয় মুখর,
    তোমার হাসি ভেসে যায়, উপচায়,
    হারানো প্রাণের পিছে পিছে সুরে সুরে।

    মিষ্টি আঁকিয়ে,
    তোমার জাদুয় উচ্ছল হলো
    এই নিঃসঙ্গতা ও চরম, পরম ধাঁধা,
    তোমার আনাড়ি ছবিতে মিশলো আমার বেহালা।

    মিষ্টি আঁকিয়ে,
    ভালোবাসো আমাকেও, ঠিক যেমন করে
    একেলা আয়না ভালোবাসে তার প্রিয় রূপসী’কে,
    যেমন দেবতা সুযোগ পেলেই হেঁয়ালি করেন।

    মিষ্টি আঁকিয়ে,
    আমার আদরে, হিংসায়, লাখো তূর্যে
    যখন জেগেছো একবার, আর ঘুমিও না,
    যখন হেসেছো একবার, পায়ে পিষে ফেলো মিছে মৌন!

    *
    যে তুমি অরূপ আয়না,
    কোন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ছিপি খুলে দাও
    রূপমাধুরীর? কোন আয়নার কাছে ক্ষমা চেয়ে আপ্লুত হও
    নিজেকে ভীষণ ভালোবাসো ভেবে?

    যে তুমি বিধুর আয়না,
    কোন আয়নার ডাকিনীজাদুকে হিংসা করো, হে
    নার্সিসাসিনী, কোন আয়নার সামনে নিজেই নতচোখমুখ
    লাজুক তূর্যে নববধূ হও?

    যে তুমি মাতাল আয়না,
    কোন আয়নার আহ্লাদে খেপে লাগাও লড়াই,
    ভর্ৎসনা করো সব আয়নাকে? যে তুমি নিজেই আয়নার হাসি
    কোন আয়নার উল্লাসে কাঁদো?

    যে তুমি বিদুষী আয়না,
    তাবৎ আয়না তোমাকে দেখে ও বিস্মিত হয়,
    হে ঋতুচারিনী, রূপদর্পিনী, কোন আয়নায় আমাকে দেখলে
    সহসা নিজেই মুখ লুকাও?

    *
    নাচো, নাচো, মদির কুমারীচক্রে, দোলো,
    ঢেউ তোলো বসন্তে, যখন পূর্বপুরুষের বীণা
    আর শল্যমন্ত্র চায় ফিরে উর্বরতা! নাচো, দোল খাও,
    উদ্দাম বুকের শব্দদল, গর্ভিনী মেঘের লীলা
    দুর্দান্ত দুর্ভিক্ষে, চপল ঝড়ের স্বপ্নতাল, ঘূর্ণারোল,
    সূর্যখচিতা তুমি, হে চাবিশব্দ, হে রূপসী,
    অভয় দর্পিনী, নাচো, ঢলে পড়ো মৃত্যুর মাদুরে,
    লক্ষ নকশিকাঁথার মূর্ছনায়, পূর্বপুরুষের গানে
    সিক্ত হও, নাচো, নাচো, হে চাবিচারিনী, আমরা
    অজস্র বসন্ত জুড়ে তোমার বিদুষী ঐকতান
    ছড়াবো হাজারো পুতুলের রঙিন হুল্লোড়ে, সুখে,
    ক্রুশোর নিঃসঙ্গ গানে; নাচো, দোল খাও, ঢলে পড়ো,
    ঝরে যাও রঙের ফোঁটার মতো; বুকের সমস্ত ঘূর্ণা
    বসন্তরিক্ত পৃথিবীকে দাও, শোভা, হে চাবি, হে আবৃতবীজিনী!

    *
    ঝকঝকে আয়না সে, মাতোয়ারা যা খুশি তাতেই, যখন খুশি;
    কালো কি শাদা, পাখি কি পাখি না! মজে উদ্ভটে, মাতে সঙ্গমে,
    মেকি ভর্ৎসনায় ভরে সুখ প্রাণের বোতলে; কোন গভীরে কী যে লুকায়,
    কাঁপে ছায়ার, শিখার মতো; স্মৃতি, শিশু, গান, ভালোবাসা, বিষাদ, প্রার্থনা,
    হাসি আর ছলনায় ঝকঝক করে মুহুর্মুহু! লাজুক আয়না, ঝরে সে
    শোভা হয়ে চিবুকে চিবুকে, এপ্রিলে, মিছিলে মিছিলে, মাধুরীতে!
    যেনো ঘুম-ভাঙা জলে ডুবুরি, আয়নার তল ঘেটে আনে সুখ ঘরে ও বাইরে!
    যেনো শেষতম নারী, দুঃখতম, আয়নাতম, প্রতিশ্রুত নারী, অবিকল নারী!

    *
    শুধু শব্দের উচ্ছ্বাস, শুধু নিঃশব্দতা,
    শুধু আয়নায় ভর করা ছায়া, শুধু প্রতিভাস!
    হে শোভাশূন্য পৃথিবী, আমার স্বপ্নই তুমি!
    শুধুই স্বপ্ন, শুধু সুগন্ধ, শুধু বিলাস!
    শুধু নিঃসঙ্গতাই সাধ্য, তুমি আর আমি
    যুগল আয়না, একে অন্যের পথ ও পথিক, বিচরণভূমি!

    *
    পৃথিবী, বসন্ত, আয়না যে ফুল হাতে পেরিয়ে গেলো,
    সে-ই আরো একবার ভালোবাসবে, আরো লক্ষবার!
    এ তারই বায়না- সব বহ্নিশিখা মুছে যাক, ফুটুক অন্ধকার,
    প্রতিটা আয়না ফিরে পাক নিজ নিজ রূপসীকে;
    নতুন ফুল, নতুন শিশু না থাকুক; কেবল স্বপ্ন,
    কেবল আয়না! ফুল, বীণার ফুঁৎকার, সীমানাহীন অপেক্ষা,
    কারণ সে ভালোবাসবে, সূর্যহীন পাতালে পাতালে যাবে ছুটে,
    আরো আয়নার ফিসফিস, আরো জাদু, আরো মেঘ
    মাতাল বুকে তার তুলবে প্লাবন; সে উগরে দেবে আশ্রয়,
    প্রসব করবে তাৎপর্য, প্রতিটা নিঃশ্বাসে সে হবে স্বপ্ন;
    পড়বে তার গালে বসন্তের টোল, সে ভালোবাসবে, সে আনবে
    উথাল-পাতাল জীবন, মরণ, জনপদ, সূর্য, সঙ্গম, সৌন্দর্য!

    *
    চিরদিন তুষারিনী ফুল খেলে যাবে
    এপ্রিলে, ফিটফিট রোদে, যখন ভ্রুকুটি জাগে
    ঠাণ্ডা কালো টিনশেডে, ফুল ফোঁটে
    যেনো সূর্যাস্তের অঙ্গীকার, যেনো বসন্তের আভা,
    আর ফুল আর ভুল আর গান যেনো ধ্যান হেসে হেসে!
    চিরদিন তুষারিনী ফুলে খেলে যাবে,
    চিরদিন কারো না কারোর গানে অবিশ্রাম মোহর ছড়াবে!

    *
    যতো বড়ো তার লাবণ্য, দেখি, ততো বড়ো তার হিংসা!
    সে শুধু চায় না গোলাপ, সে খোঁজে কালো জাদু আর বিষের মাদুলি,
    পোড়ে মুখ তার প্রেমের হাওয়ায়, রক্তেও যে রিরংসা!
    যতো বড়ো তার অনুতাপ, দেখি ততো বড়ো তার বায়না!
    সে চায় দুঃখ, সর্বনাশের তেতো স্বাদ, চায় হরদম তার প্রিয় লোকালয়ে
    শতো হৃদয়ের হৃদয় ভাঙতে, হৃদয়ের সুখ চায় না!
    যতো বড়ো তার বিশ্বাস, দেখি, ততো বড়ো তার ছলনা!
    এই জীবনের অধ্যবসায়ে মনোযোগ নেই, মনে সুখ আর মুখে হাসি আছে,
    বড়ো বিশ্বাসী- যতো বড়ো তার আনন্দ, তার দুঃখ কিন্তু ততো না

    *
    (Cello Sonata in A Major, Op. 7- Josef Labor)

    গুটি গুটি পায়ে বিষাদের দিকে যাচ্ছি, বিষাদ ছুটছে
    আপন পথে, দিকদিগন্ত উথাল-পাতাল, কূল পাচ্ছি না,
    দু’চোখে সম্প্রীতি, বুক জুড়ে সাপের অস্থির চলাচল,
    মুখে কথা, মনে নীরবতা, তাতেও মিলছে না শান্তি!

    মানুষ দুঃখের দাস, আমি মানুষ হয়ে হাত বাড়াচ্ছি
    দুঃখের দিকে, কিন্তু না পাচ্ছি দুঃখ, না ঘর;
    আমি হয় সাপ, নয়তো ফুল; হয় দেবী, নয়তো অমানুষ!

    চোখে-মুখে অস্থির ছোটাছুটি, লক্ষ বিষাদে ছন্নছাড়া!
    আজ মুক্তি পাচ্ছি না, এক সময় পেতেও চাইবো না,
    দিক-দিগন্ত চিৎকার করে ডাকবে, আমাকে বাঁচানোর জন্য
    পুতুলের মতো ছটফট করবে মানুষ, তখন আমি বাঁচতে অনিচ্ছুক!

    কেবল বিষাদ হয়ে ফুলে, সাপ হয়ে হৃদয়ে, অন্যের প্রাণে সান্ত্বনা হয়ে,
    নিঃস্বের কথার বাসনে দু'মুঠো ভিক্ষা দিয়ে, নিঃস্বকে ভালোবেসে
    উথাল-পাতাল হারিয়ে, ছড়িয়ে, কথায় কথায়, সাড়া পেতে ভালো লাগবে!

    *

    ভালোবাসা মরে ঠিক বসন্তে!
    যখন নীল সুতো খুঁজে ফেরে আশ্চর্য লাল ফুল,
    আর আমি মালা গাঁথবার সাথে সাথে
    তোমার বুকে ঢেলে দিই নরক ছিটকে আসা এক ঝলক অগ্নিশিখা!
    ভালোবাসা মরে ঠিক তখন,
    যখন তোমার রক্তে ভিজে ওঠে আমার সত্তার ঘাস,
    আর আমার হৃদয় খুবলে খায় তোমার বাসনার পিঁপড়ে!

    ভালোবাসা মরে ঠিক বসন্তে!
    পৃথিবী যখন সদ্য ছাড়া পাওয়া কুষ্ঠরোগী, পাঁজরে তুলতুলে ক্ষত
    যখনও সেবিকার নীল কামিজের গন্ধে ভুরুভুরু!
    যে নারী মালা গাঁথছে গোপনে, অশ্রু ফেলছে যখন খুশি,
    ভালোবাসা তার বুকের বাগানে নাগা-সাধুর মতো ঘোরে;
    আর এই তো তার সীমানা! বসন্ত এক হাসপাতাল,
    ভালোবাসা মরে যায়, যখন
    শেষ সেবিকার কড়ে আঙুলটিও ভুলে যায় স্নেহের ঔদ্ধত্য!
    আমি তোমার জন্যে কী আর হতে পারতাম সেবিকা ছাড়া?

    ভালোবাসা মরে ঠিক বসন্তে!
    যখন প্রতিটা ফুল পোষা কাকাতুয়ার মতো ‘সুন্দর সুন্দর’ ব’লে
    খুলে দেখায় বুকের আশ্চর্য ভাঁজ!
    আমি ছিঁড়ে ফেলেছি তোমার ঐশ্বর্যের চিরকুট! তুমি ভুলে গিয়েছা
    আমার চোখের খ্যাপা আগুনের সূর্য!
    ভালোবাসা মরে ঠিক বসন্তে!
    হাতে হাতকড়া, বুকে কুকুরের লালা, ভালোবাসা কাঁদতে জানে না,
    তাই হেসে হেসে বাঁদরের মতো খেলে যায় তোমার জন্যে আমার জন্যে!
    যতক্ষণ চলে না যাচ্ছে চিরদিনের মতো
    সার্কাসের তন্বীর মতো গরীয়ান বসন্তকে ছেড়ে!



     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন