এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • প্রফিট সাইকেল

    Rajat Das লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৬ বার পঠিত
  • এক কেজি সয়াবিন থেকে সর্বোচ্চ ২০০ মিলি তেল পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সয়াবিন মেশিনে ঢোকানোর আগে বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশিয়ে নেওয়া হয়। ফলস্বরূপ এক কেজি সয়াবিন (+কেমিক্যাল) থেকে মোটামুটি এক লিটার তেল পাওয়া যায় (যেটা আসলে ভোজনযোগ্য তেল নয়, কেমিক্যালের মিশ্রণ)। যদি শুধুমাত্র সয়াবিন থেকে তেল বের করে বাজারজাত করা হতো, সেক্ষেত্রে প্রতি লিটারের মূল্য হতো কয়েক হাজার টাকা।

    একইভাবে এক লিটার ভেজিটেবল অয়েল তৈরি করতে এক মিনি ট্রাক শাক-সবজি দরকার- যার বাজার মূল্য অর্ধ লক্ষাধিক টাকা।

    আখের রস থেকে গুড় বানালে যে দাম হয়, বাজারে তার চাইতে সস্তায় সাদা চকচকে (কেমিক্যাল যুক্ত) চিনি পাওয়া যায়!

    কিভাবে সম্ভব?!? আসলে ভোগ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে ঘটছে-টা কী?

    কনজিউমারিজম আপনাকে সস্তায় সয়াবিন তেল, রিফাইন্ড চিনি, প্রসেসড চাল, রিফাইন্ড আটা ইত্যাদি খাওয়াচ্ছে বটে, কিন্তু হেলথ কেয়ার-এর নামে সুদে-আসলে লাভ তুলে নেওয়া হচ্ছে..!

    সয়াবিন তেল, চিনি, পলিশড চাল, ময়দা- এসব খাবার উচ্চমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত এবং পুষ্টিহীন। আর এগুলোই বাজারে সবচেয়ে সস্তা ও সহজলভ্য। কারণ এগুলো বিপুল পরিমাণে উৎপাদন, ট্রান্সপোর্টেশন ও স্টোরেজ করা সহজ। অনেক সময় সরকারি ভর্তুকি থাকে। আবার কর্পোরেট লবিং সরকারের খাদ্য-নীতি প্রভাবিত করে (যেমন রিফাইন্ড ভোজ্যতেলের আমদানি বাধ্যতামূলক করা)।

    ভোজন-রসিক মানুষ এগুলো বেশি বেশি খেয়ে দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিক, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, হরমোনাল সমস্যা, ক্যান্সার ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হয়। আর এখানেই হেলথ কেয়ার ইন্ডাস্ট্রির লাভের খেলা!

    আপনি যখন ওইসব সস্তা অখাদ্যের কারণে অসুস্থ হন, তখন আপনাকে যেতে হয় হেলথ কেয়ার সিস্টেমে। সেখান থেকে চিকিৎসা, ওষুধ, ল্যাব টেস্ট, সার্জারি ইত্যাদির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি মুনাফা উঠে আসে। কেননা সেখানে রোগ নিরাময় না করে উপশমের ব্যবস্থা করা হয় যেন রোগী আজীবন অসুস্থ থাকে। ইনসুলিন, রক্তচাপ বা কোলেস্টেরল কমানোর ড্রাগসের বেশিরভাগই আজীবন খাওয়ার জন্য নকশাকৃত!

    Consumer capitalism মানুষকে প্রথমে সস্তা খাবারে অভ্যস্ত করে, তারপর তাদের অসুস্থতাকে পুঁজি করে মূল লাভটা উসুল করে নেয়। এজন্যই আপনি বাজারে সয়াবিন তেল, চিনি, পলিশড চাল, ময়দা এসব সস্তায় পান। অন্যদিকে Whole food বা অপ্রক্রিয়াজাত প্রাকৃতিক খাবার (যেমন লাল চাল, ঘানির তেল, দেশি ফলমূল, শাকসবজি, লাল আটা, গুড় ইত্যাদি)-এর দাম তুলনামূলক বেশি (এখানে তো প্রফিট সাইকেল নেই)!

    সস্তা, অস্বাস্থ্যকর, উচ্চ প্রক্রিয়াজাত খাদ্য দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্থূলতা, গ্যাস্ট্রিকের কারণ হয়ে জনস্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়। মানুষ অসুস্থ হলে ফার্মা কোম্পানিগুলো ওষুধ/চিকিৎসা সরবরাহ করে। ক্রনিক রোগের চিকিৎসা চলে আমৃ*ত্যু। এদেশে শুধু গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের বাজারই বছরে ১২,০০০+ কোটি টাকার!

    লোকাল জায়ান্ট গ্রুপগুলো সমান্তরালভাবে ফুড, ফার্মা, হাসপাতালে বিনিয়োগ করেছে.. ফুড ডিভিশন অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্য বিক্রি করে রোগ সৃষ্টি করে, ফার্মা ডিভিশন তা ম্যানেজ করে মুনাফা কামায়!

    যারা প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য consume করছে, এরাই কিছুদিন পর কর্পোরেশনগুলোতে রোগীর জোগান দেবে। সাধারণ মানুষ তো আর ফুড-ফার্মা কমপ্লেক্স-এর ইনভেস্টমেন্ট সাইকেল বোঝে না?

    সস্তা খাদ্যপণ্য গরিব, মধ্যবিত্ত, অসচেতন মানুষদেরকে আকৃষ্ট করে। দীর্ঘমেয়াদে তাঁদের চিকিৎসা ব্যয়ে দারিদ্র্য বাড়ে (শুধুমাত্র চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে গিয়ে ভারতে প্রত্যেক বছর কয়েক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছেন)!

    সস্তার খাবার আর হাসপাতালের বিল একই কর্পোরেটের হাতে। এই চক্র ভাঙতে ভোক্তা সচেতনতা আর নীতিগত হস্তক্ষেপ (যৌথ প্রয়াস) প্রয়োজন। আপনি সস্তা খাবারের প্রলোভন এড়িয়ে স্থানীয়, ঐতিহ্যবাহী, অপ্রক্রিয়াজাত, পুষ্টিকর খাদ্য বেছে নিন। এটাই হোক হোক কর্পোরেট লাভ চক্রের ফাঁদ ভাঙার প্রথম পদক্ষেপ..!
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Skm | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:০৩742610
  • ভালো এডভাইস
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন