এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • বাংলার অবক্ষয় ও অলিখিত অভিযোগপত্র: পশ্চিম বাংলাকে আবার গড়া (ভোগের সংস্কৃতি থেকে নির্মাণের সংস্কৃতিতে)। তৃতীয় ও শেষ পর্ব 

    Debajit Ghosh লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৬৮০ বার পঠিত
  • 1 | তৃতীয় ও শেষ পর্ব
    কী করা যায়, কে করবে, আর শুরু কবে

    প্রথম পর্বের বক্তব্য ছিল, বাংলা আখ্যানের দুটি ভুল করেছিল। নিজের বিপর্যয়ের দায় পাঠিয়েছিল সবচেয়ে কাছের দৃশ্যমান লক্ষ্যের দিকে, দূরের আসল লক্ষ্যের দিকে নয়; আর নিজের নায়কতালিকা এত সংকুচিত করেছিল যে যে সমাজ প্রতিষ্ঠান-নির্মাতা, বিজ্ঞানী, শিল্পোদ্যোগী আর প্রশাসক তৈরি করেছে, সে মনে রাখল গুটিকয় নাম আর একজন মহীরুহ কবিকে। দ্বিতীয় পর্বে দেখেছি চার দশক ধরে সেই দুই ব্যর্থতার দাম কী দাঁড়াল, আর তার পাশে চলেছে আরেকটি ধারা, যা বাংলার নিজের করা নয়: নিষ্কাশন, দেশভাগ, বাঙালি ব্যাঙ্কের পতন, ফ্রেট ইকুয়ালাইজেশন, লাইসেন্স ব্যবস্থা, আর পঁচিশ বছর ধরে উদ্বাস্তু ধারণ।
    এবার সবচেয়ে কঠিন অংশ। রোগনির্ণয় আরামের কাজ। যে কেউ লিখতে পারে, আর লেখার পর কাউকে কিছু করতে হয় না। দাওয়াই আলাদা জিনিস, কারণ তাকে পরীক্ষা করা যায়, আর গুরুত্বসহ পড়া পাঠকের প্রথম প্রশ্নই হয়: করবে কে?
    তাই সবার আগে সেই প্রশ্নের উত্তর দিই। এই লেখার প্রায় সবটাই আমাদের উদ্দেশে, আর আমাদের বলতে বোঝাচ্ছি সেইসব সাধারণ মানুষ যাঁদের হাতে কোনও পদ নেই, কোনও বাজেট নেই। রাষ্ট্র গুরুত্বহীন বলে নয়। রাষ্ট্র বিপুলভাবে গুরুত্বপূর্ণ, এবং কেবল রাষ্ট্রই যা পারে সে কথায় আমি আসছি। কিন্তু যে প্রবন্ধ দুটো পর্ব ধরে ব্যাখ্যা করল রাষ্ট্র কীভাবে ব্যর্থ হয়েছে আর নাগরিক সমাজ কীভাবে ফাঁকা হয়ে গেছে, সে তারপর রাষ্ট্রের হাতে একটা কাজের তালিকা ধরিয়ে দিয়ে সেটাকে পরিকল্পনা বলতে পারে না। যুক্তিটা ঠিক হলে মেরামতও শুরু হতে হবে সেখানেই যেখানে ক্ষতি শুরু হয়েছিল, অর্থাৎ একটা সমাজ কাকে সম্মান করে আর তার মানুষ কারও নির্দেশ ছাড়াই কী গড়ে, সেখানে।
     
    এ কাজ আমরা আগে করেছি

    বাংলাকে নতুন কিছু শিখতে বলা হচ্ছে না। যা সে নিজেই আবিষ্কার করেছিল, সেটা মনে করতে বলা হচ্ছে।
    ১৮৭৬ সালে মহেন্দ্রলাল সরকার প্রতিষ্ঠা করেন ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স, এশিয়ার প্রথম বিশুদ্ধ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান। এটা সরকারি প্রকল্প ছিল না। এটা গড়ে উঠেছিল জনসাধারণের চাঁদায়, ঔপনিবেশিক অবজ্ঞার বিরুদ্ধে এবং একইসঙ্গে নিজের শ্রেণির সামাজিক রীতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে। অর্ধ শতাব্দী পরে ওরই গবেষণাগারে সি ভি রামন যে কাজ করেন, তা নোবেল পুরস্কার পায়।
     
    ১৮৯২ সালে প্রফুল্লচন্দ্র রায় প্রায় সাতশো টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করেন যা পরে বেঙ্গল কেমিক্যালস। কোনও অনুদান নয়। নিজের টাকা, আর এই বিশ্বাস যে ভারতীয়রাও উৎপাদন করতে পারে।

    ১৯১৪ সালে আশুতোষ মুখোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ সায়েন্স গড়েন দুজন মানুষকে রাজি করিয়ে, তারকনাথ পালিত আর রাসবিহারী ঘোষ, যাঁরা নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির বড় অংশ দান করে দেন। সেই ভবন থেকেই এসেছেন সাহা, বসু আর রামন। এর টাকা দিয়েছিলেন দুজন বাঙালি, কোনও মন্ত্রক নয়।

    ১৯১৭ সালে জগদীশচন্দ্র বসু মূলত নিজের সংস্থান থেকেই গড়েন বসু বিজ্ঞান মন্দির। ১৯১১ সালে বেগম রোকেয়া কলকাতায় মুসলিম মেয়েদের জন্য স্কুল খোলেন গুটিকয় ছাত্রী নিয়ে, কর্তৃপক্ষের কোনও সাহায্য ছাড়াই।

    তালিকাটা আবার দেখুন। বাংলা যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে সবচেয়ে গর্বিত, তার প্রতিটি গড়ে উঠেছে ব্যক্তিগত উদ্যোগে, এমন এক ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের ভিতরে যে সর্বোত্তম ক্ষেত্রেও উদাসীন, প্রায়ই বৈরী। একটিও নীতির অপেক্ষা করেনি। বাংলা যে অভ্যাসটি হারিয়েছে, তা অভিযোগের অভ্যাস নয়। তা হল অনুমতি না নিয়ে গড়ার অভ্যাস, এবং এই প্রবন্ধে এটাই একমাত্র জিনিস যা কারও অনুমোদন ছাড়াই ফিরে পাওয়া যায়।

    এক. আমরা কাকে সম্মান করি
    প্রথম মেরামতটি সবচেয়ে সস্তা এবং সবচেয়ে ধীর। খরচ শূন্য, সময় এক প্রজন্ম।
    সমাজ যা উদযাপন করে, তারই আরও পায়। বাংলা উদযাপন করে শিল্পী, কবি, বুদ্ধিজীবী আর পরীক্ষার ফল (Generally speaking. There are always exceptions)। সে উদযাপন করে না প্রতিষ্ঠাতাকে, উৎপাদককে, সেই ইঞ্জিনিয়ারকে যিনি কারখানা চালু রেখেছেন, বা সেই মহিলাকে যিনি আটজন ছাত্রী নিয়ে স্কুল শুরু করেছিলেন। যতদিন এটা না বদলায়, প্রতিভাবান তরুণ বাঙালি ঠিকই সিদ্ধান্তে পৌঁছবে যে সম্মানের রাস্তাটা যায় ডিগ্রি, সরকারি চাকরি বা উড়োজাহাজে চড়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার ভিতর দিয়ে।
    তাই: প্রতিষ্ঠান গড়াকে আবার সাংস্কৃতিক গুণ বানানো দরকার। স্লোগান হিসেবে নয়, অভ্যাস হিসেবে। পরিবারে বসে কেউ যখন কোনও বাচ্চাকে জিজ্ঞেস করে সে কী হতে চায়, লক্ষ করুন কোন উত্তরে অনুমোদন আসে আর কোন উত্তরে ভদ্র নীরবতা। স্থানীয় কাগজ যখন কারও কথা লেখে, লক্ষ করুন কখনও এমন কারও কথা লেখে কি না যিনি চল্লিশজন মানুষকে কাজ দেন। প্রাক্তনীদের সভা যখন বসে, লক্ষ করুন তারা টাকা তোলে গবেষণাগারের জন্য না ভোজসভার জন্য।
    আর তার সঙ্গে, ক্ষোভের মনস্তত্ত্বের জায়গায় কর্তৃত্বের মনস্তত্ত্ব আনা দরকার। এটি বেশি সূক্ষ্ম কথা, কারণ ক্ষোভটা সত্যি, আর এই সিরিজ দুই পর্ব ধরে সেটাই নথিভুক্ত করেছে। কিন্তু ক্ষতের নাম দেওয়া আর ক্ষতের ভিতরে বাস করা এক জিনিস নয়। নাম দেওয়ার জন্যই প্রথম পর্ব ছিল। ভিতরে বাস করা গত চল্লিশ বছর ধরে চলছে।
    আমার মাপকাঠিটা সহজ। যে ক্ষোভ একটা পরিকল্পনা তৈরি করে, সেটা ইতিহাস। যে ক্ষোভ কেবল শ্রোতা তৈরি করে, সেটা নাটক।
    কে করবে: প্রতিটি অভিভাবক, শিক্ষক, সম্পাদক, আর যিনি কখনও কোনও তরুণকে উপদেশ দিয়েছেন। খরচ: নেই। ফল দেখতে: কুড়ি বছর, আর ঠিক সেই কারণেই শুরু আজ হওয়া দরকার।

    দুই. আমরা কী গড়ি
    এটাই এই প্রবন্ধের কেন্দ্র, এবং এখানেই সাধারণ মানুষের হাতে সবচেয়ে বেশি কাজ আছে।
    বাংলা এখনও অসাধারণ কাঁচামাল তৈরি করে। তার ছাত্ররা এখনও প্রতিযোগিতা জেতে। যা নেই, তা হল এমন একটি পাইপলাইন যা একজন উজ্জ্বল আঠারো বছরের ছেলেমেয়েকে এমন মানুষে পরিণত করে যে এখানে কিছু গড়ে। সেই পাইপলাইন তিনটি নির্দিষ্ট জায়গায় ভাঙা, আর প্রতিটি ভাঙনের একটি ব্যক্তিগত দাওয়াই আছে।
     
    প্রথম ভাঙন: স্কুল মুখস্থ শেখায়, নির্মাণ নয়
    বাঙালি শিক্ষাব্যবস্থা এমন মানুষ তৈরিতে খুব ভালো যারা উত্তর পুনরুৎপাদন করতে পারে, আর এমন মানুষ তৈরিতে খুব খারাপ যারা প্রশ্ন সাজাতে পারে। এটা কেবল বাংলার দোষ নয়, কিন্তু বাংলা এর ভার বেশি অনুভব করে, কারণ বাংলার হারানোর বেশি আছে। যে ব্যবস্থা পরীক্ষার জন্য অনুকূলিত, সে ঠিক তা-ই তৈরি করে: চমৎকার পরীক্ষার্থী।

    নির্মাণ একটা অভ্যাস, আর অভ্যাস শেখাতে হয় ছোটবেলায়। যে শিশু একবার এমন কিছু বানিয়েছে যা আগে ছিল না, একটা কাজ করা সার্কিট, মেলায় কিছু বিক্রি করা ছোট ব্যবসা, সারানো একটা যন্ত্র, এমন একটা সফটওয়্যার যা অন্য কেউ ব্যবহার করে, সে এমন কিছু শিখেছে যা কোনও পাঠ্যক্রম দেয় না। সে শিখেছে যে পৃথিবীটা সম্পাদনযোগ্য।
    গত তিন বছর ধরে আমি এই কাজটাই করার চেষ্টা করছি। আমার বিশ্বাস, বাংলায় একজন সাধারণ নাগরিকের হাতে সবচেয়ে বেশি লিভারেজ যেখানে, তা হল বারো থেকে আঠারো বছর বয়সের মধ্যে কী ঘটে সেটা বদলানো, কারণ তার পরের সবকিছু ওখানেই নির্ধারিত হয়ে যায়।
     
    দ্বিতীয় ভাঙন: বিশ্ববিদ্যালয় আর শিল্পের মধ্যে কোনও যাতায়াত নেই
    কার্যকর ব্যবস্থায় একটি গবেষণাদলের কাছে সমস্যা নিয়ে আসে কোনও সংস্থা, আর সংস্থার দরজায় এসে দাঁড়ায় এমন স্নাতক যে ইতিমধ্যেই একটা বাস্তব সমস্যা দেখেছে। বাংলায় দুই পক্ষের মধ্যে যাতায়াত প্রায় নেই। শিক্ষকের পুরস্কার প্রবন্ধে, সহযোগিতায় নয়। সংস্থা রাজ্যের বাইরে থেকে লোক নেয়, ধরে নিয়ে যে স্থানীয় স্নাতক কারখানার ভিতরটা কখনও দেখেনি।
    এই ফাঁক ভরাতে আইন লাগে না। মানুষ লাগে। কুড়ি বছরের শিল্প-অভিজ্ঞতা নিয়ে একজন ইঞ্জিনিয়ার সেমেস্টারে একটা করে ঐচ্ছিক বিষয় পড়াতে পারেন। একটা সংস্থা বছরে ছয়জন ইন্টার্ন নিতে পারে। একজন বিভাগীয় প্রধান ফোন তুলে কোনো সংস্থার সাথে কথা বলতে শুধু একটু উদ্যোগ লাগে। এর কোনওটির জন্য বাজেট লাগে না, আর এগুলোই সেই যাতায়াত, যা দিয়ে পাইপলাইন তৈরি হয়।

    তৃতীয় ভাঙন: যা বেরোয় তার জন্য স্থানীয় পুঁজি নেই
    ভালো ভাবনা বেরোলেও তাকে বড় করার টাকা থাকে অন্যত্র। দ্বিতীয় পর্বে দেখেছি ১৯৪৭ থেকে পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝির মধ্যে বাঙালি ব্যাঙ্কজাল কীভাবে ভেঙে পড়ে, আর স্থানীয় শিকড় ও স্থানীয় বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন কিছু দিয়ে তার জায়গা কোনওদিন পূরণ হয়নি। আজ কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠাতা টাকা তোলেন বেঙ্গালুরু থেকে, আর টাকা সরলে শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠাতাও সরে যান।
    তাই: উদ্যোগ আর পুঁজিগঠনের প্রতি সম্মান ফেরানো দরকার। কথাটা যতক্ষণ না ব্যক্তিগত করা হয়, ততক্ষণ বিমূর্ত শোনায়। এর মানে, ভালো করেছেন এমন একজন বাঙালি একজন তরুণ বাঙালির উদ্যোগে টাকা রাখাকে স্বাভাবিক ও সম্মানজনক কাজ বলে মনে করবেন, দান বা রুচিহীনতা বলে নয়।

    এখানে প্রবাসী বাঙালিদের নিয়ে একটা অস্বস্তিকর কথা বলি। বাংলার বাইরে বহু সচ্ছল বাঙালি আছেন। তাঁদের টাকা দেশে ফেরে দুই পথে: পরিবারের কাছে, যা ভালোবাসা এবং যার সাফাই লাগে না; আর নস্টালজিয়ায়, অর্থাৎ পুজো, পুনর্মিলন, সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা আর স্মারক বক্তৃতায়। প্রতিষ্ঠানে বা কোনো স্টার্ট আপ এ যায় প্রায় তার কিছুই না। বাংলার বড় কলেজগুলোর তহবিল তাদের নিজেদের প্রাক্তনীরা যা অনায়াসে দিতে পারতেন তার তুলনায় নগণ্য।

    তারকনাথ পালিত আর রাসবিহারী ঘোষ ১৯১৪ সালে একটি বিজ্ঞান কলেজ গড়তে নিজেদের সম্পত্তির বড় অংশ দিয়ে দিয়েছিলেন। আজ তাঁদের সমতুল্য মানুষ, এবং তাঁরা অনেকেই আছেন, একটি পুরস্কারের টাকা দেন, একটি ভোজসভায় যান, আর বাড়ি ফেরেন। ঠিক এই অভ্যাসটাই বদলাতে হবে, আর সেটা একটা করে সিদ্ধান্তে বদলানো যায়।

    কে করবে: শিক্ষক, কর্মরত পেশাজীবী, প্রাক্তনী সংগঠন, আর সঞ্চয় ও বিবেক আছে এমন প্রতিটি বাঙালি। ফল দেখতে: পাঁচ থেকে পনেরো বছর, এবং তা যৌগিক হারে বাড়ে।

    তিন. আমরা কোথায় গড়ি
    তৃতীয় অংশটি স্থান নিয়ে, আর এখানেই ব্যক্তিগত উদ্যোগ সবচেয়ে তাড়াতাড়ি নিজের সীমায় পৌঁছয়।
    হাওড়া আর হুগলির শিল্পাঞ্চলকে আবার শিল্পে ফেরানো স্পষ্ট লক্ষ্য, এবং কঠিনতমও। ওই অঞ্চলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল জমি আছে, জল আছে, রেল আছে, বন্দর আছে, শ্রমের ঐতিহ্য আছে, আর যেকোনও কিছু চালানোর মতো ঘন জনসংখ্যা আছে। যা নেই, তা হল উৎপাদনের জন্য যে নির্ভরযোগ্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার : বিদ্যুৎ যা যায় না, রাস্তা যাতে লরি চলে, আর সবচেয়ে বড় কথা, এই আস্থা যে চলন্ত একটা কারখানা অন্য কারও রাজনৈতিক সম্পদ হয়ে যাবে না।

    নির্ভরযোগ্যতা সাধারণ মানুষ জোগাতে পারে না। কিন্তু প্রথম ভাড়াটে তারা হতে পারে। পৃথিবীর যেকোনও জায়গায় শিল্পের পুনরুজ্জীবন শুরু হয়েছে গুটিকয় মানুষ দিয়ে, যাঁরা এমন জায়গায় গড়তে গেছেন যেখানে গড়া তখনও স্পষ্টভাবে যুক্তিসঙ্গত ছিল না। কাউকে না কাউকে প্রথম বোকাটা হতে হয়, আর প্রতিটি সফল ক্ষেত্রেই দেখা যায় সেই বোকা আসলে ভুল ছিল না, আগে এসেছিল।
    এমন শহর গড়া যা প্রতিভাকে টানে, তাড়ায় না, একই সমস্যার অন্য প্রান্ত। তরুণরা বাংলা ছাড়ে কেবল মাইনের জন্য নয়। তারা ছাড়ে সাধারণ জিনিসের জন্য: এমন একটা জায়গা যেখানে কাজ হয়, যেখানে যোগ্যতা কোনও চেনাশোনার ভিতর দিয়ে যায় না, যেখানে একজন মেয়ে রাত এগারোটায় বাড়ি ফিরতে পারে। এর কিছুটা রাষ্ট্রের কাজ। কিছুটা পাড়ার কাজ, আর পাড়ার কাজ পুরোপুরি আমাদের হাতে।

    প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা ফেরানো তিনটির মধ্যে গভীরতম এবং সবচেয়ে কম চটকদার। বাংলায় যে প্রতিষ্ঠানই স্বাধীনতা হারিয়েছে, একইভাবে হারিয়েছে: ছোট ছোট ধাপে, প্রতিটি ধাপ তখন যুক্তিসঙ্গত মনে হয়েছে, আর প্রতিটি ধাপ মেনে নিয়েছেন এমন মানুষ যাঁরা না বলতে পারতেন। স্বাধীনতা আইন দিয়ে ফেরে না। ফেরে এমন একটি পেশাদার সংগঠন দিয়ে যে নিজের মান নিজে বলবৎ করে, এমন একটি পরিচালন পর্ষদ দিয়ে যে না বলে, এমন একটি নির্বাচনী কমিটি দিয়ে যে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ করে যখন না করাটাই সহজ ছিল। এ হল একশোটি ছোট সাহসের কাজ, এমন মানুষদের হাতে যাঁদের নাম কেউ কোনওদিন জানবে না।
    কে করবে: ফিরে আসা পেশাজীবী, প্রথম পা রাখা সংস্থা, আবাসিক সমিতি, পেশাদার সংগঠন। খরচ: শূন্য থেকে সর্বস্ব। ফল দেখতে: দশ থেকে তিরিশ বছর।
     
    কেবল রাষ্ট্রই যা পারে
    নাগরিক যা পারে না, সেটা স্পষ্ট না বলে শেষ করা অসৎ হবে, কারণ যে দাওয়াই এ নিয়ে ভান করে সে গুরুত্বসহ নেওয়ার যোগ্য নয়।
    নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, রাস্তা, নিরাপত্তা আর নাগরিক পরিষেবা রাষ্ট্রের কাজ। এমন জমি অধিগ্রহণ যা চুরিও নয় অচলাবস্থাও নয়, রাষ্ট্রের কাজ, আর বাংলার শেষ দুটি চেষ্টা দুই দিকেই ভুল করার পাঠ্যপুস্তক। আইনশৃঙ্খলা, এবং তার সম্পর্কে ধারণা, রাষ্ট্রের কাজ। এমন বিচারব্যবস্থা যা বাণিজ্যিক বিরোধ দশকের বদলে বছরে বা মাসে মেটায়, রাষ্ট্রের কাজ। বিশ্ববিদ্যালয় আর হাসপাতালের নিয়োগ থেকে দলীয় যন্ত্রকে দূরে রাখা রাষ্ট্রের কাজ, আর শূন্য রাজকোষ ব্যয়ে বাংলার যেকোনও সরকার সবচেয়ে বেশি মূল্য যোগ করতে পারে ঠিক এই একটি কাজেই।
    এর কোনওটাই আমাদের হাতে নয়। তবে দুটো কথা মনে রাখার মতো। এক, সরকার সাড়া দেয় সমাজ যা দৃশ্যমানভাবে চায় তাতে, আর যে সমাজ নির্মাতাদের দৃশ্যমানভাবে উদযাপন করে সে সময়ের সঙ্গে অন্যরকম সরকার পায়। দুই, এবং আরও তাৎক্ষণিকভাবে, উপরে বর্ণিত ব্যক্তিগত কাজের জন্য এসবের কোনওটিরই অপেক্ষা করার দরকার নেই। মহেন্দ্রলাল সরকারের হাতেও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ছিল না।

    একজন মানুষ এই বছরেই যা করতে পারেন
    উপরের সবটাই অকেজো যদি তা নীতির স্তরে থেকে যায়। এর যেকোনও একটি এই প্রবন্ধের বেশিরভাগ পাঠকের হাতের নাগালে, এই বছরেই, কারও অনুমতি ছাড়াই।
    একদল তরুণকে একটি জিনিস শেখান। কাছের কোনও স্কুলে মাসে একটি ক্লাস, আপনি সত্যিই যা জানেন তার উপর।
    একজন ইন্টার্ন নিন, নিজের কর্ম সংস্থা তে সুযোগ থাকলে। একটি সত্যিকারের সমস্যা তাকে সমাধান করতে দিন।
    নিজের কলেজের প্রাক্তনী সংগঠনকে জিজ্ঞেস করুন তাদের তহবিল কত, আর সেটা কীসের জন্য। তারপর জিজ্ঞেস করুন উত্তরটা এমন কেন।
    নামগুলো বলুন। কোনও তরুণের সঙ্গে বাংলার কৃতিত্ব নিয়ে কথা বলার সময় সবাই যাঁদের নাম করে তাঁদের পাশে মহেন্দ্রলাল সরকার, প্রফুল্লচন্দ্র রায়, স্যার রাজেন্দ্রনাথ মুখার্জী, পি সি মহলানবীশ স্যার বীরেন মুখার্জী, Dr মেঘনাদ সাহা, বেগম রোকেয়াকেও দের ও রাখুন। নায়কতালিকা এমনিতেই জনস্মৃতি তে সংকুচিত। তাকে চওড়া করতে সাধারণ কথাবার্তায় সচেতন চেষ্টা লাগে।এর একটিও কোনও পরিসংখ্যানে উঠবে না। অথচ পাইপলাইন আসলে এগুলো দিয়েই তৈরি।
    আমি নিজে এগুলোই করার চেষ্টা করছি। নিজের জায়গা থেকে, ছোট মাপে। আপনি যদি এর একটাও করেন, আমরা দুজন হলাম।
     
    শেষ হিসেব
    এই সিরিজ শুরু হয়েছিল নিজেকে সভ্যতার নিজের কাছে জবাবদিহি বলে, আর জবাবদিহির মানে হল হিসেবটা শেষ পর্যন্ত মেটাতে হয়, শুধু বলে গেলে হয় না।
    তিন পর্ব জুড়ে একটি ছবি আমার সঙ্গে থেকে গেছে। ঠাকুরবাড়ি, যেখানে দ্বারকানাথ গড়েছেন ব্যবসা, তাঁর পুত্র হয়েছেন দার্শনিক, তাঁর পৌত্র হয়েছেন কবি, আর বাংলা মনে রেখেছে কবিকে, আর যে বণিক পরিবারের ভাগ্য গড়েছিলেন তাঁকে প্রায় ভুলে গেছে।
    কোনও ছবিই শিল্পকলার বিরুদ্ধে যুক্তি নয়। রবীন্দ্রনাথ সমস্যা নন, আর যে সমাজ তাঁকে তৈরি করেছে তার ক্ষমা চাওয়ার কিছু নেই। সমস্যা হল এমন একটি নায়কতালিকা যাতে কেবল একরকম মহত্ত্বের জায়গা আছে।
    বাংলার দরকার কবিকে সম্মান করা বন্ধ করা নয়। দরকার নির্মাতাকে আবার সম্মান করতে শুরু করা, আর সম্মান করার পর, নিজে সেই নির্মাতা হয়ে ওঠা।
    রাষ্ট্র আসছে না। রাষ্ট্র কোনওদিন উৎসও ছিল না। এই সিরিজ যেসব প্রতিষ্ঠানের জন্য শোক করেছে, সেগুলো গড়েছিলেন সাধারণ মানুষ, যাঁরা অপেক্ষা করেননি, আমাদের চেয়ে অনেক খারাপ পরিস্থিতিতে।দাওয়াই এইটুকুই। বাকি সব খুঁটিনাটি।

    এটি তিন পর্বের প্রবন্ধের শেষ পর্ব। প্রথম পর্বে ছিল যে ক্ষতের নাম কেউ দেয়নি, দ্বিতীয় পর্বে দীর্ঘ ক্ষয়, আর এই পর্বে প্রশ্ন ছিল কী করা যায়। লেখক লেখেন শিক্ষা, জ্বালানি, ভূরাজনীতি আর ঝুঁকি নিয়ে, এবং স্কুলপড়ুয়াদের জন্য শিক্ষণব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেন।

    সূত্র প্রসঙ্গে
    এই পর্ব ইতিহাস নয়, যুক্তি। তাই তালিকা ছোট, আর মূলত বাংলার নিজের প্রতিষ্ঠান-নির্মাতাদের নিয়ে যে দাবিগুলো করা হয়েছে তার পিছনের নথির দিকে ইঙ্গিত করে।
    Subrata Dasgupta, Jagadis Chandra Bose and the Indian Response to Western Science (Oxford, 1999).
    Pratik Chakrabarti, Western Science in Modern India (Permanent Black, 2004).
    ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স (১৮৭৬), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ সায়েন্স (১৯১৪) ও বসু বিজ্ঞান মন্দিরের (১৯১৭) প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাস।
    প্রফুল্লচন্দ্র রায় ও বেঙ্গল কেমিক্যালস প্রসঙ্গে তাঁর নিজের Life and Experiences of a Bengali Chemist.
    বেগম রোকেয়া ও সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল প্রসঙ্গে প্রামাণ্য জীবনী এবং তাঁর নিজের রচনা।
    Amiya Kumar Bagchi, Private Investment in India 1900-1939 (Cambridge, 1972).

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    1 | তৃতীয় ও শেষ পর্ব
  • আলোচনা | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৬৮০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • b | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:২৬742617
  • দেবজিৎ বাবুকে এই পাখির চোখে দেখাটির জন্যে ধন্যবাদ। সব কিছুর সাথে একমত নই, সে ঠিক আছে।
    বাঙালীর মেধা-প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বভারতীর কথাও থাকুক।
  • হীরেন সিংহরায় | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:৪৩742618
  • হয়তো এ আই অনুবাদের কারণে অথবা আমার অজ্ঞানতার কারনে এই অংশটি ঠিক বুঝতে পারলাম না
     
     
    দ্বিতীয় পর্বে দেখেছি ১৯৪৭ থেকে পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝির মধ্যে বাঙালি ব্যাঙ্কজাল কীভাবে ভেঙে পড়ে, আর স্থানীয় শিকড় ও স্থানীয় বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন কিছু দিয়ে তার জায়গা কোনওদিন পূরণ হয়নি। আজ কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠাতা টাকা তোলেন বেঙ্গালুরু থেকে, আর টাকা সরলে শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠাতাও সরে যান।
     
    বাঙালির কোন ব‍্যাংকজাল? আগের পর্বে আমার মন্তব‍্যে লিখেছিলাম ১৯৪৭-৫০ সালে বাঙালি বুদ্ধিতে দেশবিভাগের কারনে বিপর্যস্ত ব‍্যাংক গুলি রক্ষিত হয়েছিল ভেঙে পড়ে নি। স্থানীয় শিকড়ের ভূমিকা কি?
    কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা টাকা তোলেন বেঙ্গালুরু থেকে টাকা সরলে সরে যান। বুঝলাম না।
  • Debajit Ghosh | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৪১742623
  • হিরেনবাবু,

    প্রশ্নটা ন্যায্য। দোষ আমার। ওই অনুচ্ছেদে দুটো আলাদা কথা আমি এক বাক্যে জুড়ে দিয়েছি, আর তাতে দুটোই ঘেঁটে গেছে।ওই জায়গাটা আমি লিখেছি, AI অনুবাদ নয়।
     
    প্রথমত, স্টার্ট আপের কথা। এটা আসলে ব্যাঙ্কের গল্পের অংশই নয়, আর সেটাই আমার বাক্যের মূল গণ্ডগোল। এটা আরো পরিষ্কার করে লেখা উচিত ছিল। আজকের নতুন উদ্যোগ ব্যাঙ্কঋণে চলে না, চলে ইকুইটিতে।
    যা বলতে চেয়েছিলাম তা এই: বেঙ্গালুরুর স্টার্ট আপ জগতে আমি কিছুকাল ধরে যুক্ত, বহু পিচ সেশনে বসার সুযোগ হয়েছে, এবং কলকাতায় শুরু হওয়া অনেক উদ্যোগকেই দেখেছি বেঙ্গালুরুতে উঠে আসতে। কারণটা রহস্যময় কিছু নয়: সেখানে বিনিয়োগকারীর আস্থা বেশি, একজায়গায় দক্ষ লোকের ঘনত্ব বেশি, আর মূল্যায়নও ভালো পাওয়া যায়। (many startups originally founded in Kolkata relocate to Bengaluru, because Bangalore’s ecosystem offers far stronger investor confidence, talent density, and valuation upside)

    আর "টাকা সরলে প্রতিষ্ঠাতাও সরে যান" বলতে বোঝাতে চেয়েছি একটা খুব সাদামাটা ব্যবহারিক ব্যাপার। বিনিয়োগ যেখান থেকে আসে, বোর্ড মিটিং সেখানেই বসতে চায়, পরের রাউন্ডের চেনাশোনা সেখানেই, নতুন লোক নিয়োগও সেখানেই সহজ। দু-তিন বছরের মধ্যে অফিস সরে যায়, তারপর পরিবারও। পুঁজি আগে যায়, মানুষ পরে।
    তাহলে দাঁড়াল এই: ব্যাঙ্কের ইতিহাস আর আজকের স্টার্ট আপের স্থানান্তর, এ দুটো আলাদা ঘটনা, একটা থেকে আরেকটা হয়নি। ওদের মধ্যে মিল কেবল একটা প্রশ্নে। ঝুঁকির বিচার কোথায় বসে, আর যিনি ঝুঁকিটা নিচ্ছেন তাঁর থেকে সেই বিচার কত দূরে।
     
    দ্বিতীয়ত, "স্থানীয় শিকড় ও স্থানীয় বিচারবুদ্ধি" বলতে আমি সদর দপ্তর কোথায় সেটা বোঝাইনি। বোঝাতে চেয়েছিলাম ছোট ছোট স্থানীয় ব্যাঙ্কের ঘনত্ব, যেখানে ঋণের সিদ্ধান্ত নিতেন এমন একজন মানুষ যিনি ঋণগ্রহীতাকে চিনতেন এবং জেলাটা চিনতেন। সংযুক্তিকরণের পরে, এবং ১৯৬৯ এর জাতীয়করণের পরে, সেই বিচার ক্রমে সরে গেল নিয়মপুস্তক আর দূরের কমিটির হাতে। কিন্তু এখানে আপনার দিক থেকে একটা পাল্টা কথা আছে যা আমার মেনে নেওয়া উচিত: এটা সারা দেশেই ঘটেছে, কেবল বাংলায় নয়।

     
  • Debanjan Banerjee | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:০১742625
  • দেবজিৎদা, অনেক ধন্যবাদ দাদা l ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে গুরুত্ত্বপূর্ন হয়ে রইলো আপনার পরামর্শ l
  • হীরেন সিংহরায় | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:১৯742626
  • ভয়ংকর গুলিয়ে গেল। এটা আমার জানা ব‍্যাংকিং বিবেচনার বাইরে দিয়ে চলে গেল। আমরা বাল‍্যকালে banker customer relationship পড়তাম সেটা বহুকাল লুপ্ত হয়েছে। বিগ শর্ট দেখুন বা ২০০৫ সালে জ‍্যাকসন হোলে রাজনের ভাষন পড়ুন ( নোবেল নিয়ে লেখা গুরু প্রকাশিত আমার বইতে আছে)।
     
    স্টার্ট আপের লোকেশন এবং ভেনচার ক‍্যাপিটালিসটের বাড়ির দূরত্ব কি প্রমান করে বুঝলাম না। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি।
    বাঙালির ব‍্যংকজাল বোঝা গেল না।
     
    থামি
  • ক | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:১৫742628
  • ভাবলাম লিখব না, কিসু হবে না লিখে। তো, তাও খচখচ করছিল।

    জুন মাসে এক জায়গায় নাটক দেখতে গেছিলাম, পেছনের সীটে দুই ব্যক্তি কথা বলছে, সদ্য নতুন গভঃ, তো কাজকারবার নিয়ে। একজন প্যাকেজিং সংক্রান্ত কোন ব্যবসা খুলবে, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন জানার জন্য যে সরকারের থেকে কী সুবিধে পাওয়া যাবে, বিদ্যুত, জায়গা ইত্যাদি ব্যাপারে। তো মন্ত্রী বলেছেন, তারা ল্যাণ্ড ব্যাঙ্ক বানাচ্ছেন, তারপর শিল্পনীতি আনবেন, তারপর এইসব ব্যাপার পরিষ্কার হবে। তো, প্রায়ই শোনা যায় শিল্পনীতি আসছে, সেসব আসেনি এখনো, যিনি গেছিলেন তিনি রাষ্ট্রের সাহায্য ছাড়া কিছু কি নামাতে পেরেছেন ? পারলে আর গেছিলেনই বা কেন ?

    গভঃ বা রাষ্ট্রর সাহায্য দরকার নেই, এমনি এমনি সবাই সব করে ফেলবে ? হবে হয়ত। আজকের সময়ে, এই প্রবক দলতন্ত্রর সময়ে, জাস্ট কারখানা খুলে বসে পড়বে ? হয় এসব ? সোনার পাথরবাটি শোনায়। তবে হ্যাঁ, এখন যখন সিএম বাবাজীদের পায়ের তলায় বসে থাকছেন আর অবাঙালীদের জামাকাপড়ের দোকান উদ্বোধনে যাচ্ছেন, বিশাল কিছু হচ্ছে বলে (নাকি যেতে বাধ্য), বা দেশের অর্থনীতি ঠিক কেমন সে বোঝাই যায় না, পুরোটাই সংখ্যার খেলা তখন হয়ত কলোনিয়াল টাইমসের নত বাঙালীকে কর্মবীর হয়ে উঠতে হবে।

    আর, শিরোনামের 'ভোটের সংস্কৃতি' ব্যাপারটা বুঝিনি। বাঙালীর তো শুনি শুধুই পতন, তাহলে ভোগটা কখন ?
     
  • ক | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:২৭742629
  • অনেকদিন আগে, সে মনে হয় টিএমসি আমলেরও আগে, কাগজে পড়েছিলাম, ঠাকুর পরিবারের বংশধরেরা সেই দ্বারকানাথের কার - টেগোর কোম্পানী আবার ফিরিয়ে আনবে। লেখাটায় মনে আছে, ঠাকুর পরিবারের বংশধরদের বক্তব্য ছিল, এই লেখাটার যা বক্তব্য যে বাঙালী তো রবি- কবিকেই মনে রাখল, তার ঠাকুর্দাকে মনে রাখল না, মনে রাখা উচিত ছিল, ইত্যাদি।

    তো কোথায় সেই কার - টেগোর ? কিছু করল না ? সাইনবোর্ডও তো দেখিনি। বিদেশেই কী চলে গেল তারা ? স্বেচ্চাশ্রমের জোর নেই ?
  • ক | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:৪১742630
  • গত পার্লামেন্ট অধিবেশন একটি বিল পাশ হয়, ২০২৩ র সুপ্রীম কোর্টের একটি রায় যাতে বলা হয়েছিল রাজ্যগুলি খনিজ পদার্থ উত্তোলনের ওপরে ট্যাক্স বসাতে পারবে, সেই রায়কে উল্টোনোর জন্য বিল পাশ হয় যে, না সেসব হবে না, সব টাকা কেন্দ্রই পাবে। তো এই নিয়ে ওড়িষ্যাতে তর্ক চলছে, ভাজপাকে উত্তর দিতে হচ্ছে কারণ ঐ রাজ্য ঐ আইনের ফলে রাজস্ব হারাবে। পঃবঃ এ কিছু শুনিনি, তারা তো সদ্য স্বাধীন, এখন তো মুক্তির হাওয়া ! তো এই যখন কঠিন নিগড় তখন একটি জনগোষ্ঠী স্বেচ্ছাশ্রমে ব্যবসা - বাণিজ্য করবে, হাস্যকর এই মত। হবে হয়ত।
  • ক | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:১৪742632
  • এ মানে, রবিবাবুর ভুরিভুরি লেখা আছে, বিদেশী শাসক তো দেশের জন্য কিছু করে না, অথচ দেশের লোক নিজে না করে, তাদের দিকেই তাকিয়ে থাকে যে তারা সব করে দেবে। ঐ সব, স্বদেশী সমাজ ইত্যাদি লেখাপত্তর। তো, তখন তো সেসব লেখাপত্তর ঠিকই ছিল, কিন্তু তখনকার রাষ্ট্র আর স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রকে এক করে দেখলে তো খুবই মুসকিল ! কলকাতা শহরে রাস্তা চতুর্দিকে ভেঙে গেছে, রবিবাবু থাকলে বলতেন শাসক তো কিছু করবে না, আমরা নিজেরা করিনা কেন, কিন্তু এখনো সে কথা বলব কেন রে ভাই ! এতসব পুরসভা আর মন্ত্রী এরা আছে কী করতে, লোকে কি নিজেরা গিয়ে রাস্তায় পীচ ঢালবে ! তো কথা হল এই, এই লেখাটি ঘুরেফিরে সেই বাঙালীর স্বর্ণালী অতীতের কাছে হাত পেতেছে, যে যেন বাঙালী এখনো পরাধীন ! সর্বৈব ভুলভাল যুক্তি আমার কাছে।

    অপিচ, সঞ্জীব সান্যালের নাম শুনেছেন নিস্চয়, কোন এক বাঙালী বিপ্লবীর বংশধর, এখন মোদীজীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা না কী যেন, কয়েক মাস আগে বাক্যি ঝেড়েছিলেন যে বাঙালী তো শুধু মৃণাল সেন করেই সময় কাটিয়ে দিল, কাজ করল কই, তো অর্থনীতি তো তার নখের ডগায়, গভঃ এ তার অনেক প্রভাব, চতুর্দিকে বাণী বিতরণ না করে কিছু একটা করে ফেলতে পারে ! চটি লোকের চাকরি হয়। কিন্তু না, সেসব কই, ওসব কে করে !

    তো এই লেখাটি ঐ দোষে দুষ্ট। প্রথম দুই পর্বে আমার আগ্রহ নেই, ইতিহাস ইত্যাদি, কী হয়েছে, কিন্তু এই পর্বটি দেশের রাজনীতি আর অর্থনীতি আর তার প্রবল নিগড়, এইসব না বুঝে লেখা। এরকম হয় মনে হয়, এসব লেখার কোন মূল্য খুঁজে পাইনা।
  • ক | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:২১742633
  • কী করিতে হইবে- তে একটা কোন ফেফারেন্স নেই যা গত বিশ বছরের !

    মাইরি, বাঙালীর উনিশ শতক ! সেই উহাকে খাইয়াছে, বর্তমান আর কেউ বোঝেনা, সবই অতীতের !
  • ক | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:৩৭742637
  • খবরের দেখছি অতিভক্ত সিএম বিশ্বকর্মা পুজো নিয়েও এবার সিপিএমকে প্যাঁচ দেবেন। তাদেরও নবান্নে এসে পুজো করতে হবে। তো এই হল নবনির্বাচিত সরকারের কাজ, তথাকথিত ব্যবসাবান্ধব দল, তথাকথিত ব্যবসাবিরোধী দলের সঙ্গে পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করছে। কেন করছে ? কারণ আসল কাজ, অর্থনীতির উন্নতি ইত্যাদি নিয়ে তাদের কিসুই করার নেই, দিল্লী না বলে দিলে নিজেরা কিসুই করতে পারে না, আদানি আর আরএসএস - এর অ্যাজেণ্ডা পূরণের জন্য তারা ভোটে জিটেছে। তো গভঃ -এর এই অপদার্থতার মধ্যে বাঙালীকে আচার্য পি সি রায়ের কথা মনে রেখে যেগে উঠতে হবে, কারণ রাষ্ট্রর কোন দরকার নেই ! কারা ভাবে এসব ?

    আর যদিও বা সত্যি জেগে উঠতে হয়, সেটাই হবে একটা বিশেষ রাজনীতি, ওসব উনিশ শতকের কথা না ভেবেই, বর্তমানকেই বুঝেই।

    (এও মনে পড়ল, সঞ্জীব সান্যালেরও মত এরকমই, যে বাঙালীর (হিন্দুর) তো উনিশ শতকে সবই ছিল, তো সেসবকে নমন করে এগোলেই হবে, একটা ভিডিওয়ে দেখেছিলাম। ভাঁওয়াতাবাজী বিশেষ।)

    লোকজন বুঝতেই পারছে না কারা দেশ আর রাজ্যের ক্ষমতায়, কী তারা করতে চায়।
  • সত্যেন্দু সান্যাল | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:১৩742641
  • @ক | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:১৫
     
    আর, শিরোনামের 'ভোটের সংস্কৃতি' ব্যাপারটা বুঝিনি। বাঙালীর তো শুনি শুধুই পতন, তাহলে ভোগটা কখন ? মন্তব্য প্রসঙ্গে বলি এই শিরোনামটি ছিলো "ভোগের সংস্কৃতি থেকে নির্মাণের সংস্কৃতিতে"।
    Typo apart, এই "ভোগ" এর আখ্যান তো নগন্য পঞ্চায়েত প্রধান সমুহের প্রাসাদ সদৃশ বাড়ি থেকে জনৈক বিশিষ্ট জনের ঘন ঘন বিদেশ যাত্রা ইত্যাদি সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।
    অবশ্য এই সব সংবাদ যদি অপপ্রচার হয়ে থাকে তো প্রবন্ধ লেখকের শিরোনামটি সঠিক নয়।
    "আর যদিও বা সত্যি জেগে উঠতে হয়, সেটাই হবে একটা বিশেষ রাজনীতি"
    মনে হয় প্রবন্ধ লেখকের ইঙ্গিত ও সেই দিকেই।
  • Debajit Ghosh | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:২৬742642
  • @ হিরেনবাবু, @ক বাবু (আপনার নাম জানলে আরো ভালো লাগত ),
    দু জনকেই কমেন্টস এরজন্যে অশেষ ধন্যবাদ।
     
    @হিরেন বাবু,
    ভেনচার ক্যাপিটালের ভূগোল নিয়ে আমার যা বলার ছিল সেটা একটা পর্যবেক্ষণ (from lived experience from last 4 years), প্রমাণ নয়, এবং সেভাবেই থাক। এই সুতোটা এখানেই গুটিয়ে নিই, এবং ব্যাঙ্কিং তথ্য সংশোধনের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
     
    @ক বাবু,
    আপনি আদানি, আরএসএস, সিএম, সিপিএম, সঞ্জীব সান্যাল সবই এনেছেন কিন্তু আসল সারমর্ম আমি এখনো বুঝিনি। ওই মাঠে নামলে আলোচনাটা দলীয় তর্কে চলে যাবে আর আমার তিন পর্বের মূল বক্ত্যব্য সম্পূর্ণ আলাদা। Comments এরজন্য ধন্যবাদ
  • Debajit Ghosh | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:৩৯742643
  • সত্যেন্দুবাবু, শিরোনাম নিয়ে আপনি ঠিকই পড়েছেন।
    এবং আমার লেখার Essence টা ​​​​​​​আপনি ​​​​​​​ঠিক ​​​​​​​ধরেছেন। ধন্যবাদ।

    একটা ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ,
    আমার লেখাটা দাঁড়িয়ে আছে তিনটে প্রশ্নের উপর। কোন কোন মৌলিক শক্তি কাজ করেছিল(the fundamental reasons), তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের ফল কী হল (second and third order effects), আর সাধারণ নাগরিক আজ কী করতে পারেন। আলোচনা সবচেয়ে কাজে লাগে যখন সেটা এই তিনটে স্তরেই চলে।
     
    তথ্যের সংশোধন আমি সত্যিই চাই, এবং এই তিন পর্বে আমি একাধিক সংশোধন নিয়েছিও স্বীকার করেছি। হিরেনবাবুর ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত সংশোধন, সত্যেন্দুবাবুর সেন র‍্যালে সংক্রান্ত সংশোধন, ইত্যাদি।

    কিন্তু আমার মনে হয় আমাদের একটা অভ্যাস আছে, যেখানে একটি খুঁটিনাটির সংশোধন ক্রমে গোটা বক্তব্যের বিরুদ্ধে যুক্তি হয়ে দাঁড়ায়। তারিখ, শব্দচয়ন ইত্যাদি ঠিক করা দরকার, কিন্তু সেগুলো ঠিক হলেও মূল কাঠামোটা যদি অটুট থাকে, তাহলে কাঠামোটা নিয়েই কথা হোক।
    বাস্তবতা সবসময়ই পরস্পরবিরোধী মতামতের মাঝামাঝি কোথাও থাকে। Thats why i always welcome challenges and counter arguments. কিন্তু সেটা আরও ফলপ্রসূ হয়ে ওঠে যতক্ষণ আমরা মূল আলোচনায় স্থির থাকি, খুঁটিনাটি বিশদে হারিয়ে না গিয়ে বা অন্যদিকে সরে না গিয়ে।
  • ক | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:০৭742644
  • @দেবজিত বাবু

    আমার মূল তর্ক এইখানটায়, আজকের সময়ের প্রেক্ষিতেঃ

    "রাষ্ট্র আসছে না। রাষ্ট্র কোনওদিন উৎসও ছিল না। এই সিরিজ যেসব প্রতিষ্ঠানের জন্য শোক করেছে, সেগুলো গড়েছিলেন সাধারণ মানুষ, যাঁরা অপেক্ষা করেননি, আমাদের চেয়ে অনেক খারাপ পরিস্থিতিতে।দাওয়াই এইটুকুই। বাকি সব খুঁটিনাটি।"

    স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষই সব করে নিতে পারবে, সেই মতে সাবস্ক্রাইব করিনা। ঐ সব শোকেও সাবস্ক্রাইব করিনা। পি সি রায়ের সংস্থার অবনতি বা বিশ্বভারতীর অবস্থার অবনতির জন্য স্বাধীন দেশের অর্থনীতি আর রাজনীতিই যুক্ত। তো সেইসব খুঁটিনাটি এড়িয়ে গিয়ে অতীত নিয়ে লেখা রচনা পড়ার প্রয়োজন পাইনা। ইতিহাসের স্টলওয়ার্টদের গল্প দিয়ে আজকে কী করিতে হইবে, সেইগুলো বর্তমানকে এড়িয়ে যাওয়া মনে হয়, ঐসব গল্পের খুঁটিনাটিতে যাওয়ার ইচ্ছে নেই। অতএব, এই কথাও বলার যে আজকের ভারত বা পঃবঃ, তার সমাজনীতি বা অর্থনীতি ইত্যাদির নিয়ন্ত্রক কারা, সেটা না বুঝলে কিছুই করে ওঠাও যাবে না, ইভেন স্বাধীন দেশের নাগরিকদের অবস্থাও আগের যুগের থেকে আলাদা, তারা হয়ত আজকের বিশাল রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা ঢের বেশী নিয়ন্ত্রিত; সেই জন্যই ঐ প্যাকেজিং-এর ব্যবসা করবে যে তার থেকে আরএসএস ইত্যাদি। আর কথা তো এটাও, ঐ b প্রথমে যেটা লিখেছিলেন, রবিবাবু বিশ্বভারতীও করেছিলেন, তো লেখাটিতে তার কিছুমাত্র উল্লেখ নেই, ঐ অতবড় কাজের পরেও। কেন নেই, কারণ ঐটির উল্লেখ করলে এই পর্বটির পুরো বক্তব্যটিই ভেঙে পড়ে। যেমন বাঙালীর "ভোগের সংস্কৃতি" কী সেও বুঝলাম না।
  • অয়নেশ | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৩২742648
  • সে বছর কুড়ি হবে আমার এক দাদার আম্বানি ইত্যাদির অনুপ্রেরণায় তখন কর্মদ্যোগী দশা চলছিল। আমরা কয়েকজন সন্ধ্যেবেলা গিটার ফিটার নিয়ে টুং টাং করলেই সে ঝেড়ে আমাদের গালি দিত। বলতো এই জন্যই বাঙালির কিছু হবে না। নাতিকে নিয়ে এত না হেদিয়ে ঠাকুরদার মাথাটা থেকে শেখ। চিনেদের জাহাজ কে জাহাজ আফিম গিলিয়ে কোটিপতি হয়ে গেল। তাতেই থামতে পারত। কিন্তু না। তারপর সোনাগাছি বসিয়ে মহা কোটিপতি হয়ে গেল। এই হল বাঘের মতো বাঙালি।
    সেই দাদা কর্পোরেট-এ বেশ কেউকেটা হবার পর বছর দশেক আগে একদিন আত্মহত্যা করে। মনে করা হয় স্ট্রেস জনিত কারণে। তো এই আর কি।
  • সত্যেন্দু সান্যাল | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:২৭742651
  • নানান মতামত আসছে, রাষ্ট্রের সহায়ক ভূমিকা, আজকের সময়ের প্রেক্ষিত, প্রিন্স দ্বারকানাথ না রবীন্দ্রনাথ আদর্শ হওয়া উচিত, জনৈক আম্বানি উপাসকের আত্মহত্যা ইত্যাদি।
    এই সব অবশ্যই প্রনিধানযোগ্য। এবং এই বিষয়ে মতদ্বৈধ থাকবেই।
    তবে আমার মনে হয় "নির্মান" প্রসঙ্গে প্রবন্ধ লেখক যে Venture Capital এবং Risk Analysis এর দিগদর্শন করতে চেয়েছেন সেটি অন্য প্রেক্ষিতে। এই বিষয়ে একটি লিঙ্ক নিম্নসংলগ্ন।
    এই "নির্মান" এর ভৌগোলিক সীমা, ব্যবসা বিষয়ক বৈচিত্র এবং concentration, কিছু শহরের গুরুত্ব ইত্যাদি নিজস্ব আখ্যান এর নির্দেশক।
    বিশ্বব্যাপী মোট ইউনিকর্ন তৈরির সংখ্যার দিক থেকে ভারত তৃতীয় স্থানে রয়েছে; এর আগে রয়েছে যথাক্রমে চীন (২৫১টি ইউনিকর্ন) ও যুক্তরাষ্ট্র (১,২৫২টি ইউনিকর্ন)। ভারতের শহরগুলোর মধ্যে ৫৬টি ইউনিকর্ন নিয়ে বেঙ্গালুরু তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। এরপর রয়েছে গুরুগ্রাম (২১টি ইউনিকর্ন) ও মুম্বাই (১৯টি ইউনিকর্ন)। বিভিন্ন খাতের মধ্যে ‘কনজিউমার’ বা ভোক্তা-কেন্দ্রিক খাতে সর্বোচ্চ ৫৭টি ইউনিকর্ন তৈরি হয়েছে; এরপর রয়েছে ‘এন্টারপ্রাইজ অ্যাপ্লিকেশন’ (৪২টি) ও ‘রিটেইল’ বা খুচরা ব্যবসা (৩৮টি) খাত।
    প্রবন্ধ লেখক নিজের বেঙ্গালুরু সংযুক্ত অভিজ্ঞতার উল্লেখ করেছেন। Venture Capital Of India হিসেবে হয়তো আগামী "নির্মান" এর অগ্রগন্য ক্ষেত্র হিসেব এর মূল্য আছে।
    বিভিন্ন Unicorn এর Gestation Period, অর্থ জোগাড় এর সূত্র, কর্মসংস্থান ইত্যাদির তথ্য নীচে উপলব্ধ।
     
  • সত্যেন্দু সান্যাল | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:০৬742655
  • "আজকের সময়ের পেক্ষিতে" প্রসঙ্গে সদ্য দেখা একটি প্রতিবেদন সংলগ্ন হৈল।
    এইটি অনেক লম্বা, তবে বক্তার অভিজ্ঞতা শুনে দেখতে পারেন।
    দেবজিৎ ঘোষ বাল্যাবস্থায় হাওড়া অঞ্চলের hollowing out প্রত্যক্ষ করেছেন, পরে Bangalore এর Business Ecosystem ও কাছ থেকে দেখেছেন। হয়তো ওঁর মন্তব্য এই দুইটি মিলিয়ে চিন্তা ভাবনার। সঠিক না বেঠিক গুহায় নিহিত।
     
     
    Detailed Timeline:
    Introduction and Personal Journey: (0:00 - 9:34)
    Arpan discusses his background, growing up witnessing industrial decline in Bengal, and the mindset shift required for entrepreneurship.
    Workplace Culture and Employee Welfare: (9:34 - 48:45)
    Focuses on the importance of building trust, creating secure environments for employees, and addressing the generational gap in work expectations.
    Building Teams and Machines: (48:45 - 1:06:16)
    A deep dive into the technical and human challenges of manufacturing, including his perspective on AI integration to reduce errors and boost productivity.
    Expectations and Building from Scratch: (1:06:16 - 1:25:00)
    Discusses the pressures of entrepreneurship, the difficulty of meeting high expectations, and how he manages stress and personal growth.
    EV Transformation and Industry Shifts: (1:25:00 - 1:33:52)
    Explores how the rise of Electric Vehicles (EV) is reshaping the manufacturing landscape and the role of smaller startups in the ecosystem.
    Education and Manufacturing Trends: (1:33:52 - 2:09:28
    Critiques the educational system’s lack of focus on entrepreneurship and civic sense, while comparing the manufacturing dominance of China versus India.
     
     
  • Debajit Ghosh | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:২২742657
  • @ক
    রবীন্দ্রনাথকে কম উদযাপন করার কথা আমি একবারও বলিনি। বরং উল্টোটা। আমরা তাঁর গুটিকয় গান মনে রেখেছি, আর একজন বহুমুখী মানুষের বাকি দিকগুলো প্রায় ভুলে বসে আছি। তিনি কম নয়, আরও বেশি উদযাপনের যোগ্য।

    বিশ্বভারতীর কথা তুলে আপনি আসলে আমার যুক্তিটাই মজবুত করেছেন। বিশ্বভারতী তো ঠিক সেই জিনিস যার কথা আমি বলছি, একজন মানুষের নিজের উদ্যোগে গড়া প্রতিষ্ঠান। আমার অভিযোগ এই যে আমরা কবিকে মনে রেখেছি আর নির্মাতাকে ভুলেছি, এমনকি একই মানুষের ভিতরের নির্মাতাটিকেও। কাজেই ওই উল্লেখে লেখাটা ভেঙে পড়ে না।
    আর আমার মূল কথা এইটুকুই। একজন মানুষ গোটা সমাজের ভার একা বইতে পারেন না। ব্যবসায়ী, প্রতিষ্ঠান-নির্মাতা, বিজ্ঞানী, খেলোয়াড়, লেখক, শিল্পী, সবাইকেই লাগে। এক নামে সব ভার চাপালে বাকিদের জায়গাটা ফাঁকা পড়ে থাকে।
    এই কথাগুলো লেখাতেই আছে, বিশেষ করে শেষ অংশে। দয়া করে পুরোটা একবার পড়ে দেখবেন, তাহলে তর্কটা আরও কাজের জায়গায় দাঁড়াবে।

    @ অয়নেস
    আপনার দাদার কথা পড়ে খারাপ লাগল। একটা মানুষের মৃত্যু তর্কের উপকরণ নয়, তাই ওই অংশটা নিয়ে আমি তর্ক করব না।

    তবে গল্পটা থেকে যে সিদ্ধান্ত টানা হচ্ছে, সেটা নিয়ে বলি। কাউকে পিষে ফেলার নাম উদ্যোগ নয়, আর ধনীর পুজো করাও নির্মাণ নয়। আমার লেখা ওই দুটোর কোনওটার পক্ষেই নয়। আমি বলছি প্রতিষ্ঠান গড়ার কথা, যা একা কারও বড়লোক হওয়ার গল্প নয়।
    আর মাপটাও একবার দেখা দরকার। একটা সংস্থা দেশের জিডিপির উল্লেখযোগ্য অংশ, রপ্তানির বড় ভাগ জোগান দিলে তার সঙ্গে কোটি কোটি পরিবারের রুজি জড়িয়ে যায়। ওই লোকগুলোকে হিসেবের বাইরে রাখা যায় না। উদ্যোগ মানেই শোষণ, এই সমীকরণটাই আমার প্রথম পর্বের মূল অভিযোগ, এবং সেটা এখনও আমাদের কত গভীরে বসে আছে তা আপনার মন্তব্যেই ধরা পড়ে।
    দ্বারকানাথের আফিমের প্রসঙ্গে একটা কথা। আমি তাঁকে অনুকরণীয় বলিনি যদিও তাঁর আরো অনেক ব্যবসা ছিল। বলেছি, একই পরিবারের তিন প্রজন্মের মধ্যে আমরা কেবল একজনকেই মনে রেখেছি, আর সেটা আমাদের স্মৃতির গড়ন সম্পর্কে একটা কথা বলে।
  • Debajit Ghosh | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:২৫742658
  • সত্যেন্দুবাবু, ধন্যবাদ। বাকি সবাই যখন তর্কের দিকে(which is equally welcome), আপনি ঠিক জায়গাটা ধরেছেন (আমার মতে ) এবং তথ্য দিয়ে রেখেছেন।
  • সত্যেন্দু সান্যাল | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৫৯742665
  • @ক | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:০৭
     
    আপনার উল্লেখিত "আজকের সময়ের প্রেক্ষিতে" প্রসঙ্গে নীচের ভিডিও-টি দেখতে পারেন।
    বক্ত্রীর মন্তব্য যথাযথ।
    কিন্ত গভীরে প্রোথিত Vested Interests এইটি কার্য্যকর করতে দেবে কি না সেইটি এক বড় সমস্যা।
    এমনিতেই বর্ত্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারি খাতে allocation তলানিতে পৌঁছেছে।
     
     
    এর সাথে সাথে পূর্বপ্রেরিত অর্পন বসুর দীর্ঘ ভিডিওটির শেষ অংশটি ও দেখুন
    Education and Manufacturing Trends: (1:33:52 - 2:09:28
    Critiques the educational system’s lack of focus on entrepreneurship and civic sense, while comparing the manufacturing dominance of China versus India.
     
    আমার মতে অর্পন বাবু আজকের Work Culture ~ যেটি প্রধানতঃ অসূয়া পীড়িত - সঠিক ব্যাখ্যা করেছেন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত মতামত দিন।