এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতিকে বাঁচাবো কী করে?

    প্যালারাম লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ২৩ মে ২০২৬ | ৩৬০ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • ২০২৪ সালের ১৩ই অক্টোবর পালো অল্টো TedEx সম্মেলনে ল্যারি ডায়মন্ডের বক্তৃতার অনুলিপি। ভিডিও ইউটিউবে আছে, নীচে এম্বেড করা হল।

    মূল অলংকরণ: রমিত



    “Democracy is not a spectator sport.”
    – Larry Diamond
    [Senior Fellow at the Hoover Institution,
    Mosbacher Senior Fellow in Global Democracy at the Freeman Spogli Institute for International Studies (FSI),
    Bass University Fellow in Undergraduate Education at Stanford University.]




    ইতিহাসের অধিকাংশটা জুড়ে যখনই মানুষের কোনো শাসক ছিল, তারা ছিল হয় রাজা, সেনাপতি বা নানা কিসিমের স্বৈরাচারী। অষ্টাদশ শতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক নতুন ধারণা দানা বাঁধলো – কেমন হয়, যদি স্বাধীন ও ন্যায্য নির্বাচনের মাধ্যমে নেতা বেছে নিয়ে জনগণই নিজেদের সরকার গঠন করে, আর তারপর সংবিধান ও আইনের নিয়মে বেঁধে সেইসব নেতার ক্ষমতা মাত্রাছাড়া হতে না দেয়? উনিশ আর বিশ শতক জুড়ে এই ধারণাটি ছড়িয়ে পড়ে, যদিও তাতে ভাঁটাও পড়েছিল বহুবার।

    তবে, ১৯৭৪ সালে গণতন্ত্রের এক তৃতীয় তরঙ্গের শুরু হয়, যে ঢেউয়ের ধাক্কায় পশ্চিম ইউরোপের কর্তৃত্ববাদী (authoritarian) দেশগুলি – পর্তুগাল, স্পেন ও গ্রিস গণতন্ত্রের দিকে সরে আসতে শুরু করে। ঢেউটি এরপর ছড়ায় লাতিন আমেরিকায়, আর সেখানে মূলত তৃণমূল স্তরের নাগরিক আন্দোলন আর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সামরিক স্বৈরতন্ত্রগুলির পতন হয়। আর্জেন্তিনা, ব্রাজিল বা চিলে-র মতো দেশগুলি আবার গণতন্ত্রে ফিরে আসে।

    পূর্ব এশিয়াতেও এই ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। এখানেও শান্তিপূর্ণ নাগরিক আন্দোলনের মাধ্যমেই ফিলিপিন্স, কোরিয়া বা তাইওয়ানের মতো দেশগুলি গণতন্ত্রে পরিণত হয়। আপনারা জানেন – ১৯৮৯ সালে বার্লিনের প্রাচীর ভাঙে আর গণতন্ত্রের জোয়ার ছড়িয়ে যায় মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলিতে; এগুলি এতদিন কম্যুনিস্ট শাসনযন্ত্রের প্রভাবে সোভিয়েতের করায়ত্ত ছিল। নয়ের দশকের শুরুর দিকের মধ্যেই, পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথমবার, বিশ্বের অধিকাংশ দেশ গণতন্ত্রকে আপন করে নেয়। এদের মধ্যে সাহারার দক্ষিণের আফ্রিকান কিছু দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রও সামিল ছিল।



    আঠেরো বছরব্যাপী গণতন্ত্রের ভাঁটার সময় (সূত্র: ল্যারি ডায়মন্ডের TedEx বক্তৃতার স্লাইড)


    ২০০৪-৫ নাগাদ এক বিখ্যাত ও মর্মস্পর্শী ঘটনার মাধ্যমে এই ঢেউ তার শিখরে উঠেছিল—‘ইউক্রেনের কমলা বিপ্লব’—কম্যুনিস্ট শাসনকালের পরে শুরু হওয়া এক দুর্নীতিবাজ স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনবাসী একজোট হয়, ভোটে জেতে; শাসক আবার সে নির্বাচন চুরিও করে। তারপর সেই নির্বাচনের ফল বাঁচাতে রাস্তায় সাধারণ মানুষের অসামান্য ঢল নামে আর শেষপর্যন্ত তাঁদের জয় হয়। এ ঘটনা ২০০৫-এর জানুয়ারি মাসের – গণতন্ত্রের তৃতীয় ঢেউয়ের এইটেই চূড়া।

    ২০০৬ থেকে এই ঢেউ পিছু হঠতে শুরু করে, আর এ-মুহূর্তে আমরা প্রায় ১৮ বছর ব্যাপী এক ভাঁটার সময়ে বাস করছি। নয়ের দশক বা একুশ শতকের শুরুর দিকের মতো দুনিয়ায় গণতান্ত্রিক দেশগুলি আর সংখ্যাগুরু নয়, গত ১৮ বছর ধরে ক্রমশ আরও বেশি সংখ্যায় দেশগুলি তাদের স্বাধীনতা হারিয়ে চলছে – যার খতিয়ান রেখেছে ফ্রিডম হাউস (বাৎসরিক Freedom in the World রিপোর্টের জন্যে বিখ্যাত ওয়াশিংটন-এর এক অলাভজনক সংস্থা)। বলা যেতে পারে – আমরা এক জনমনোমোহিনী কর্তৃত্ববাদী (authoritorian populism) ঢেউয়ের মধ্যে দিয়ে সাঁতার কাটছি।

    এই ঢেউয়ের স্বরূপ আর এই শাসনতন্ত্রের আকর্ষণ বুঝতে হলে একবার ভেনেজুয়েলার দুঃখের কথা একটু ভেবে দেখা দরকার। পাঁচের দশকের শেষদিকে, প্রায় এক দশকব্যাপী গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ভেনেজুয়েলা নতুন করে গণতন্ত্রের সংকল্প নেয়, আর তার দুটি রাজনৈতিক দল নিজেদের বিভেদ – শান্তির পথে, সংবিধান মেনে মেটাবে বলে ঠিক করে। দুটি দলই পালা করে ক্ষমতায় আসে, আর ক্রমশ ফুলেফেঁপে ওঠা তেলের সম্পদ দেশের উন্নয়নে ব্যবহার করে।

    একটি বড়সড় মধ্যবিত্ত শ্রেণী গড়ে ওঠে, কর্মসংস্থানের প্রসার হয়, তেলের টাকা লাগানো হয় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো আর অর্থনৈতিক উন্নয়নে। এ সময় জনগণ গণতন্ত্র বলতে বুঝতো বিকাশ আর অর্থনৈতিক সুযোগ। কিন্তু আটের দশকে তেলের দাম পড়ে যায়, আর স্বভাবতই, তার ওপর বড্ড বেশি নির্ভরশীল দেশটির অর্থনীতিতে চরম মন্দা দেখা দেয়।



    চাভেজ়। সূত্র: ল্যারি ডায়মন্ডের বক্তৃতার স্লাইড


    মানুষ প্রশ্ন করতে শুরু করে – গণতন্ত্র কি সত্যিই মানুষের কোনো কাজে লাগছে? ১৯৯২-তে মঞ্চে প্রবেশ করলেন এক বিপ্লবী সেনানায়ক, উগো চাভেজ় (Hugo Chávez) আর দাবি করলেন – এ প্রশ্নের জবাব আছে তাঁর কাছে। জবাব কী? গোটা সিস্টেমের গোড়ায় টান মেরে সরাও আর তারপর তার জায়গায় এক সম্পূর্ণ নতুন বৈপ্লবিক মডেল বসাও। প্রথমে এ কাজ তিনি করার চেষ্টা করলেন এক সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে, বিফল হলেন, জেলে গেলেন, কিন্তু মাত্র দু-বছর জেল খাটার পরে মার্জনা পেলেন।

    নয়ের দশকের শেষে তিনি ফিরে এসে বললেন, যা তিনি সেনা অভ্যুত্থানের সাহায্যে করতে পারেননি, তা-ই করে দেখাবেন ব্যালট-বাক্সে। দেশের মানুষকে তিনি যে বৈপ্লবিক ও পপুলিস্ট মডেলের প্রতিশ্রুতি দেন, তা-ই তাঁকে রাষ্ট্রপতি-নির্বাচনে জেতায় আর তাঁর দলকে সংসদের ক্ষমতায় বসায়। ১৯৯০-এর শেষে চাভেজ় যে কাহিনী ব্যবহার করেছিলেন—পরেও যে গল্প বহু কর্তৃত্ববাদী পপুলিস্ট নেতা ব্যবহার করেছেন—আর নির্বাচনে জেতার পরে ক্ষমতা দখলের যে ছক তিনি ব্যবহার করেন, তা যদি বুঝতে পারি, তবে এই এখন আমরা যে সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে, তার স্বরূপ আরো ভালো বুঝতে পারবো।

    অথরিটেরিয়ান পপুলিস্ট গপ্পোটি হল – দেশের সব দল, সব নেতা, সব প্রতিষ্ঠানই দুর্নীতিতে গলা অবধি ডুবে আছে, নিরাময়ের কোনো আশা নেই – পরিবর্তনই একমাত্র ভরসা। আগের শাসকরা যে নেহাত রদ্দি শাসন করেছেন, বাজে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁদের পালাবদল হওয়া দরকার – এসব না। সব এক্কেবারে ধুয়েমুছে সাফ করা দরকার।

    এই গল্পের ভিতরে আবার বুনে দেওয়া হয় এক নৈতিক ক্ষোভের নকশা, যে, দেশের সৎ, যোগ্য নাগরিকরা একসারি দুর্নীতিগ্রস্ত অভিজাত সম্প্রদায়ের হাতে বঞ্চিত হয়েছেন। প্রগতির দিকে পড়ে আছে একটিই পথ – প্রতিষ্ঠানগুলির আমূল এবং সম্পূর্ণ ভোল বদলানো – এর এক ধাপে বর্তমান সংবিধানের বদলে এক নতুন সংবিধান আনা হবে, যা জনগণের চোখের মণি নেতাটি ও তাঁর দলকে গোটা সিস্টেম বদলানোর সর্বময় ক্ষমতা দেবে; বলাবাহুল্য, সেই ক্ষমতা তাঁরা সুজনহিতার্থেই ব্যবহার করবেন। এরই সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে এক আবছা ইঙ্গিত, যুক্তি, সন্দেহ, ষড়যন্ত্রের গপ্পো, যে, দেশের ভিতরেই দেশের শত্রুরা বাস করছে।

    চাভেজ়ের ক্ষেত্রে এই শত্রু ছিল দেশের উদারপন্থী অভিজাত শ্রেণী। মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে এই জায়গাটা পেয়েছিল এক দুর্বল সংখ্যালঘু গোষ্ঠী – রোমা, বর্তমানে সে অঞ্চলে এই আসন জুটেছে অভিবাসীদের। ইতিহাস বলে, বহু দেশে এই তকমা জুটেছিল ইহুদিদের। আজকের ভারতে এই অবস্থানে আছে মুসলমান সংখ্যালঘুরা। সাহারার দক্ষিণে প্রায়শই এই দাগ জোটে LGBT গোষ্ঠীর কপালে। শত্রুর তকমা যারই হোক, মোদ্দা কথা হল – এই সংখ্যালঘুরা ভয়ানক, এদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, দরকারে ছেঁটে ফেলতে হবে জনগোষ্ঠী থেকে।
    এই মনোমোহিনী নায়ক আরও বলেন – দেশ আজ ভগ্নপ্রায়, সব প্রতিষ্ঠান আমাদের নিরাশ করেছে, ‘একমাত্র আমিই পারি একে ঠিক করতে’। এক ক্রমবর্ধমান সংখ্যক কর্তৃত্বাভিলাষী নেতা – ক্ষমতা জয় করার, ধরে রাখার, নিজেদের বাঁচানোর আর নির্বাচনে জয়লাভের পর নিজের দলকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার চেষ্টায় এই এক মডেল, এই এক গল্প ব্যবহার করে চলেছে।

    হাঙ্গেরিতে ২০১৪ সালে প্রতিহিংসা বুকে নিয়ে ক্ষমতায় আসে ভিক্টর ওর্বান (Viktor Orbán); ২১ বছর ধরে তুর্কির ক্ষমতায় আছে রেজেপ তাইপ এর্দোয়ান (Recep Tayyip Erdogan) আর তার ডেভেলপমেন্ট পার্টি; ২০১৮ সালে ব্রাজিলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জেতে জ়ায়ির বোলসোনারো (Jair Bolsonaro) আর তার দক্ষিণপন্থী পপুলিস্ট দল; আর অবশ্যই এই লিস্টে আসে ভারতের নরেন্দ্র মোদি আর তার উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল, বিজেপি – এরা সদ্য তৃতীয়বারের জন্যে দেশের ক্ষমতা দখল করেছে। এদের সবার গল্প, সবার মডেলেই চাভেজ়ের মডেলের ছায়া।

    এই ছক শুরু হয় বিরোধীকে দানব বানানোর মাধ্যমে। ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী নয়, তালে গোল পাকানো ভুল চিন্তার অধিকারী নয়, আসলে বিরোধীদের নীতি বলে কিছু নেই, তাদের দুর্নীতি ও কলঙ্কের দাগ শত মুছলেও যাবে না, আর সর্বোপরি এরা নাকি দেশের অনুগত নয়। এই ছকে জনতাকে সাবধান করে দেওয়া হয় – যে সংবাদমাধ্যম তাদের সমালোচনা করছে, তাদের সত্য ও তথ্যের প্রতি দায়বদ্ধ রাখার চেষ্টা করছে, তারা সবাই ফেক নিউজ়, তাদের হয় মুছে দেওয়া, নয় নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। বিচারব্যবস্থায় যেসব স্বাধীনচেতা বিচারক তাদের দায়ী করতে পারে, এ ছকের শুরুতেই তাদের সরিয়ে, কথা শুনবে বা স্বার্থ চরিতার্থ করবে – এমন অনুগতদের দিয়ে আদালত ভরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। তারপর একে একে রাষ্ট্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠান—সিভিল সার্ভিস, পুলিশ, আয়কর বিভাগ, গোয়েন্দা বিভাগ, সেনাবাহিনী—দখল করা বা সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করা তাদের লক্ষ্য হয়, যাতে এদের অস্ত্র বানিয়ে বিরোধীদের উপর প্রয়োগ করা যায়, রাজনৈতিক ক্ষেত্রটিকে অধিকার করা যায় আর নাগরিক সমাজ থেকে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী ও পেশাদার সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন, ছাত্র সংগঠন, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী পর্যন্ত সমস্ত স্তরকে নিজেদের তাঁবে রাখা যায়।




    লক্ষ্য – নিশ্চুপ আনুগত্য। এই ভয়ানক গল্প আমরা অনেকেই গত দুই দশক ধরে সশঙ্কচিত্তে অভিনীত হতে দেখছি। কিন্তু, এ-ই একমাত্র নিয়তি, চূড়ান্ত পরিণতি নয়। এই সমস্ত স্বৈরাচারীর কিছু দুর্বলতা আছে, আর সেই দুর্বলতার উৎস – এরা দুর্নীতিপরায়ণ, কারণ নিজেদের ক্ষমতার ওপরে এরা সীমারেখা টানে না আর সেই কারণেই, বারংবার নির্বাচনে জিতে নিজেদের বৈধ জনপ্রতিনিধি প্রমাণ করার বাসনা এদের তীব্র।

    গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে হওয়া বিভিন্ন আন্দোলন আর ক্ষমতার নানারকম সীমারেখা পুনর্বার টানার ফলে আমরা বুঝেছি, এদের ব্যালট বাক্সে হারানো সম্ভব, যেমন হয়েছে – ২০২২-এ ব্রাজিলে, ২০২৩-এর অক্টোবরে পোল্যান্ডে নাগরিক জোটের সাম্প্রতিক জয়ে, আর মাত্র এই গত জুলাই মাসে চাভেজ়-এর উত্তরাধিকারী, নিকোলাস মাদুরো-কে একজোট হয়ে ভেনেজুয়েলায় হারানো হয়েছে—যদিও সে নির্বাচন অন্যায়রকম অসম ছিল, জয় সম্ভব হয়েছিল কেবল ভোট প্রক্রিয়ার ওপর কড়া নজরদারি রাখার ফলেই; এবারে মাদুরো-কে বোঝানোর দায় আমাদের—আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর—যাতে সে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেয়। জয় যে সবসময় জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমেই আসবে, তা নয়, অনেক সময় এর শুরু হয় পঞ্চায়েতে, পৌরসভায়। ২০১৯-এ, এবং আরো জোরদার ভাবে ২০২৪-এ, তুর্কির গণতান্ত্রিক বিরোধীপক্ষ চোখধাঁধানো নির্বাচন জিতেছে ইস্তাম্বুলের মেয়র, এক্রেম ইমামোলু (Ekrem İmamoğlu)-র নেতৃত্বে। Radical Love নামের এক উদ্ভাবনী প্রচার ছিল এঁদের অস্ত্র, এর মূল নীতি – রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, আর কর্তৃত্ববাদী পপুলিস্টদের ঘৃণার, বিভেদের, মেরুকরণের গপ্পের বিরোধিতা করা।

    এর মূল কৌশল খুব সহজ। প্রথমত, গণতান্ত্রিক বিরোধীদের সমস্ত টুকরোকে একত্র করে, জোট বেঁধে, একসাথে প্রচার চালিয়ে জনমত বদলাতে হবে। দ্বিতীয়ত, পপুলিস্টদের মেরুকরণের যুক্তির ফাঁদে পা না দিয়ে, তাতে বাঁধ দিতে আর তাকে ছাপিয়ে যেতে হবে – ওই সেই রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি আর সহানুভূতির একত্র প্রচারে। তৃতীয়ত, মনে রাখতে হবে, মানুষ কেবল গণতন্ত্র বাঁচাতেই ভোট দেয় না।




    তেমন হলে বড়ই ভালো হত, কিন্তু যেহেতু এই ভাবে সকলে ভোট দেন না, তাই জনগণের পার্থিব চাওয়াপাওয়া, আরও ভালো জীবনধারণের আশা, পরের সরকার যে তাদের কর্মসংস্থানের ও অর্থনৈতিক সুযোগ দেবে, উন্নততর সরকার গঠন করবে, তার প্রমাণ চাওয়ার অধিকার – এই সবকিছুর প্রতি আমাদের আবেদন জানাতে হবে।

    এইসব ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক বিরোধীরা বোঝেন – ধোঁয়াটে, আবছা, তাত্ত্বিক দুর্বল যুক্তি সাজিয়ে জেতা যায় না। দরকার কড়া, শক্তিশালী, সাহসী, উদ্যমী নেতৃত্ব, যার চোখে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের নিশ্চিত নকশা আঁকা আছে। এই নেতৃত্বকে প্রমাণ করতে হবে – কার্যকরী আর সবল নেতা হতে হলে বাহুবলী হতে হয় না।

    সবশেষে, এই সবক-টি উদাহরণ থেকে আমরা শিখেছি – দেশের পতাকাটিকে এই রক্ষণশীল পপুলিস্টদের সঙ্কীর্ণ, বিদেশ-বিদ্বেষী জাতীয়তাবাদের হাত থেকে কেড়ে নিতে হবে। দেখাতে হবে, দেশভক্তির আরো ভালো চেহারা হল দেশের গণতান্ত্রিক স্বরূপ নিয়ে অহঙ্কার।

    বহু দশকের লড়াই আর বিক্ষুব্ধ ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে – গণতন্ত্রের টিকে থাকা নিশ্চিত করতে পারে একমাত্র নাগরিকদের সক্রিয়, নিবেদিত, অবহিত ও আত্মবিশ্বাসী অংশগ্রহণ। গণতন্ত্র হাঁ করে বসে দেখার নাটক নয়। আমাদের সকলকে অঙ্গীকার করতে হবে – ভোট দেবো; সহনাগরিকদের ভোটদানে উৎসাহিত করবো; প্রচার-এর মতো অন্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়াগুলিতে নানাভাবে অংশগ্রহণ করবো; সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভেদের, মেরুকরণের চালু গপ্পের বিরোধিতা করবো ঐক্যের, আশার কথা বলে; আমাদের সন্তানদের শেখাবো – কীভাবে পৌরনীতির, স্বাধীনতার আশীর্বাদের, জনমুখী আইনের শাসনের সঙ্গে মিলে গণতন্ত্র তাদের আশা-আকাঙ্খা, স্বপ্ন, অস্তিত্বকে বাস্তবায়িত করার সুযোগ দেয়। আজকের এই অথরিটেরিয়ান পপুলিজ়মের ঢেউকে ভেঙে ফেলে গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতিকে বাঁচিয়ে তোলার এইটিই পথ। ধন্যবাদ।



    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ২৩ মে ২০২৬ | ৩৬০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dc | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ২৩ মে ২০২৬ ০৮:৫৫740787
  • আমার মনে হয় গণতন্ত্রকে সজীব রাখার দুটো বড়ো উপায় আছেঃ সমাজের সমস্ত স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে কন্টিনুইং ডায়ালগ, আর ইনস্টিটিউশনাল ইন্ডিপেন্ডেন্স।
     
    "গণতন্ত্র হাঁ করে বসে দেখার নাটক নয়। আমাদের সকলকে অঙ্গীকার করতে হবে – ভোট দেবো; সহনাগরিকদের ভোটদানে উৎসাহিত করবো; প্রচার-এর মতো অন্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়াগুলিতে নানাভাবে অংশগ্রহণ করবো" - এটা তো শুধু পলিটিকাল দিক, আমার মনে হয় এর বাইরেও সব ইন্টারেস্ট গ্রুপ বা স্টেকহোল্ডারদের সবসময় নিজেদের মধ্যে এনগেজমেন্ট রাখাটা দরকার। যেকোন সমাজেই ডাইভার্সিটি থাকে, ফলে নানারকম মতাবলম্বী লোকজন বা গ্রুপ থাকে। কেউ কনসারভেটিভ, কেউ লিবেড়াল, কেউ মধ্যপন্থী। এরা যদি নিজেদের মধ্যে ডায়লগ চালিয়ে যায়, "ক্যান্সেল" করার দিকে না যায়, তাহলে হয়তো মেরুকরনও কিছুটা আটকে যায়।
     
    আর ইনস্টিটিউশনাল ইন্ডিপেন্ডেন্সের উদাহরন এখনকার সময়ে দেখতে পাচ্ছি আমেরিকায়। সেদেশে ট্রাম্প সর্বশক্তি দিয়ে ইনস্টিটিউশানগুলোকে নিজের বশে আনার চেষ্টা করছে, কিছুক্ষেত্রে হয়তো সফলও হচ্ছে, কিন্তু প্রতি পদে বাধা পাচ্ছে, আর বোঝাও যাচ্ছে যে ট্রাম্পের জমানা শেষ হলে, ট্রাম্পের চামচেগুলো চলে গেলে ইনস্টিটিউশানগুলোও এই প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারবে। এইটা আমার মনে হয় ওয়ার্কিং ডেমোক্রেসির একটা ভালো উদাহরন।
  • র২হ | 2600:*:*:*:*:*:*:* | ২৩ মে ২০২৬ ০৯:৪৯740788
    • dc | ২৩ মে ২০২৬ ০৮:৫৫
    • ... চামচেগুলো চলে গেলে ইনস্টিটিউশানগুলোও এই প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারবে।
    ঠিক এইটাই আমারও মনে হয়- এমনকি আমাদের দেশেও রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে তাই।
    বিজেপির ক্ষেত্রে আবার তা বলা যায় না যেহেতু সেটা ঠিক শুধু রাজনৈতিক দল নয়...
  • dc | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ২৩ মে ২০২৬ ১০:০৭740789
  • মোদি আর অমিত শাহ সরে গেলে মনে হয় বিজেপির পলিটিকাল পাওয়ারও কমবে, এখনকার অবস্থা থাকবে না। কিন্তু আরেসেসের আইডিওলজিকাল ইনফ্লুয়েন্স কমবে না, তার জন্য অন্য কোন আইডিওল্জি উঠে আসতে হবে।
  • nipa | 2a0d:*:*:*:*:*:*:* | ২৩ মে ২০২৬ ১০:২৮740790
  • মাকু দেখলেই কেলাব, চাড্ডি দেখলেই খিস্তাব-র ক্যান্সেল কালচারের যুগে এনগেজমেন্টের কথা শুনতে ভাল,তবে ওই শুনতেই।
  • dc | 2a02:*:*:*:*:*:*:* | ২৩ মে ২০২৬ ১০:৩৫740791
  • ঠিকই বলেছেন :-) চাড্ডি দেখলেই আমার খিস্তাতে ইচ্ছে করে, তার ওপর আমি যে খুব একটা সবার সাথে এনগেজ করি তাও না। রিয়েল লাইফেও বিজেপির লোকেদের এড়িয়ে যাই। তবে ওপরের কথাগুলো ইন জেনারাল বললাম, আমার এইসব দোষ থাকলেও সবারই যে থাকবে তা তো নয়, সেই আশায়।
  • X | 103.*.*.* | ২৩ মে ২০২৬ ১২:৩৬740793
  • ভেনেজুয়লা/ শাভেজ বা কাস্ত্রো/ কিউবার আলোচনা টা বোধহয় আমেরিকান স‍্যাংশন এর উল্লেখ ছাড়া নিতান্তই অনর্থক হয়ে যায়- হয়তো ইরানেও অনেকটাই। তা ছাড়া আপাতত ওরবান গেছে।
     
    আমেরিকান ইলেকটোরাল কলেজ সিস্টেম টাও যে ঠিক ঠাক মডেল ডেমক্রেসির জন‍্য এমনও মনে হয় না
  • dhur | 2a0d:*:*:*:*:*:*:* | ২৩ মে ২০২৬ ১৯:৩১740801
  • "ভোট দেবো, সহনাগরিকদের ভোটদানে উৎসাহিত করবো..."
    তেড়েফুঁড়ে ভোট দিয়েই তো এই হাল হল। সবার ভোটাধিকার কি সতি কাম্য? sad
  • X | 103.*.*.* | ২৩ মে ২০২৬ ১৯:৪৭740802
  • @১৯ঃ৩১ - সবার ভোটাধিকার তো থাকা উচিৎ বলেই মনে হয়- না হলে তো হীরক রাজার উপরেই ছেড়ে দিতে হয়। কলেজ অবধি শিক্ষার সুযোগ সবার থাকলেই হয়তো কিছুটা ফলপ্রসূ হতে পারে। আমি যেমন এখন বুঝি যে আমরা একটা জগাখিচুড়ি টাইপ ইতিহাস পড়ে বড় হয়েছি- আর সিভিক্স এর কনসেপ্ট তো কিছু ছিলই না মধ‍্যশিক্ষা পর্ষদে [ ইংরেজি ছেড়েই দিলাম] - ফলে আমাদের মৌলিক অধিকার ইত্যাদি নিয়ে খুবই ভাসা ভাসা জ্ঞান রয়ে গেছে।
  • dc | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ২৩ মে ২০২৬ ২০:৫৪740805
  • সবার ভোটাধিকার তো অবশ্যই থাকা উচিত! কারন সেটা গণতন্ত্রের প্রাথমিক শর্ত। এই প্রশ্নটা কিকরে উঠলো বুঝলাম না।
  • albert banerjee | ২৪ মে ২০২৬ ১২:১৬740809
  • খবরটা খবর ​​​​​​​হিসাবে দেখুন প্রতিহিংসার আনন্দে নাচার জন্য নয়।
     
    প্রত্যেক দাবির প্রাইমারি সোর্স চেক করুন (অফিসিয়াল ডকুমেন্ট, স্ট্যাটিসটিক্স, ভিডিও প্রমাণ)। শুধু হেডলাইন বা ভাইরাল পোস্ট বিশ্বাস করবেন না। একই খবর বিভিন্ন সোর্স থেকে ক্রস-চেক করুন। একই কথা ১০ জায়গায় বললেই সত্য হয় না। ভয় বা উত্তেজনার সময় কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন, তারপর যাচাই করুন।"এই সম্প্রদায়/দল/দেশ সব সমস্যার জন্য দায়ী” — এই ধরনের কথা শুনলে সন্দেহ করুন। বাস্তবে সমস্যা সাধারণত একাধিক কারণে হয়। জটিল বিষয়কে “সাদা-কালো” করে দেখানো হলে সেটা প্রায় নিশ্চিতভাবে প্রোপাগান্ডা।শুধু একটা চ্যানেল/ইউটিউবার/পত্রিকা দেখবেন না। বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির মিডিয়া পড়ুন।
    “যদি খবরটা মনে খুব তাড়াতাড়ি রাগ/ঘৃণা/উত্তেজনা তৈরি করে, তাহলে সেটা আরেকটু সন্দেহ করুন। ”
    আপাতত এটা করা খুব দরকার। যেমন পশ্চিমবঙ্গের জন্য বিহারের মিডিয়া গুলো দেখুন কিন্তু ওই
    “যদি খবরটা মনে খুব তাড়াতাড়ি রাগ/ঘৃণা/উত্তেজনা তৈরি করে, তাহলে সেটা আরেকটু সন্দেহ করুন। ”
    রিপোর্ট করা চালু করুন।
    আর যেটা আমরা গুরুচন্ডা৯ তে করছি লেখা চালিয়ে যান।
  • dc | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ২৪ মে ২০২৬ ১২:৪৫740812
  • অ্যালবার্টবাবুর ওপরের পোস্টের সাথে একদম একমত। বিশেষ করে, "একই খবর বিভিন্ন সোর্স থেকে ক্রস-চেক করুন" - এইটা। আজকাল হাজারটা নিউস সোর্স আছে, কাজেই ক্র্স ভেরিফিকেশান করাটা খুব একটা অসুবিধাও না, আর এটা খুব জরুরি জিনিস।
  • @dc | 2001:*:*:*:*:*:*:* | ২৪ মে ২০২৬ ১৩:৩৮740815
  • আমি চাড্ডি দেখলেই খিস্তাব, মোল্লা দেখলেই গাল দেব, মেয়ে দেখলেই আওয়াজ দেব, বাকিরা গণতন্ত্রটা সামলে নিক - এভাবে কি গণতান্ত্রিক আবহাওয়া তৈরি হয়?
  • dc | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ২৪ মে ২০২৬ ১৩:৫৯740816
  • তা তো জানিনা! "আমি চাড্ডি দেখলেই খিস্তাব" - এইটা আমার মনের কথা, বাকি কে কি করবে সে তাদের ব্যপার। আমার ফিলোজফিগুলো হলোঃ
     
    লিভ অ্যান্ড লেট ডাই।
     
    রাজু চল রাজু আপনি মস্তি মে তু, কোই জিয়ে য়া মরে কেয়া তুমকো বাবু।
     
    এগুলো আমার প্রিন্সিপল, আপনার যদি পছন্দ না হয় তো আরও প্রিন্সিপল আছে।
  • বলতে হবে | 107.*.*.* | ২৪ মে ২০২৬ ২০:৪৭740831
  • গণতন্ত্র আমাদের কোনো প্রতিশ্রুতি দেয় না সুতরাং প্রতিশ্রুতিভঙ্গের ব্যাপারই নেই এখানে।
     
    সবসময় ক্লাস, ক্যাপিটাল, এক্সট্রিম ওয়েল্থ অ্যাকিউমুলেশন (যার উল্টোপিঠ হচ্ছে পপারাইজেশন অফ ম্যাসেস) এবং এক্সটার্নাল পাওয়ার প্রজেকশনকে (এম্পায়ার) আগে প্রশ্ন করতে শিখুন। তারপরে রিপ্রেজেন্টেটিভ ডেমোক্রেসি নিয়ে বাতেলা দেবেন।

    এলবিজে ষাটের দশকে সিভিল রাইটস এবং'গ্রেট সোসাইটি প্রোগ্রাম' ইনিশিয়েট করতে চেয়েছিলেন। আবার তিনিই ভিয়েতনামে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফেলা সব বোমার চেয়ে বেশি বোমা ফেলেছিলেন, কারণ রিপাবলিকানদের 'সফট অন কমুনিজম' ক্রিটিসিজম নেয়ার মতো নৈতিক মেরুদন্ড ছিল না ওনার। ওদের জন্য নাপাম, হোয়াইট ফসফরাস আর আমার জন্য সিভিল রাইটস আর মেডিকেয়ার ফর অল হয় না। শেষে দুটোই গেছে, ব্যাংকরাপ্ট ইউএস গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড ডিচ করতে বাধ্য হয়েছে ১৯৭১। সত্তরের দীর্ঘ স্ট্যাগফ্লেশন এসেছে ভিয়েতনামের পাপের ফলে। এবং রোনাল্ড রেগানের উত্থান সেই সুত্রেই গাঁথা।
     
    এম্পায়ার এব্রড, এবং একইসাথে রিপাবলিক অ্যাট হোম যারা চায়, যাদের মধ্যে ল্যারি ডায়ামন্ড (সিয়াইয়ের অর্গান, এনইডির প্রপাগান্ডা আর্মের চিফ প্রায় তিন দশক ধরে) অন্যতম তারা কোনো সহানুভুতি ডিজার্ভ করে না।
     
    এরা, এবং এদের সিস্টেম ধ্বংস হোক।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে মতামত দিন