

মূল অলংকরণ: রমিত
“Democracy is not a spectator sport.”
– Larry Diamond
[Senior Fellow at the Hoover Institution,
Mosbacher Senior Fellow in Global Democracy at the Freeman Spogli Institute for International Studies (FSI),
Bass University Fellow in Undergraduate Education at Stanford University.]
ইতিহাসের অধিকাংশটা জুড়ে যখনই মানুষের কোনো শাসক ছিল, তারা ছিল হয় রাজা, সেনাপতি বা নানা কিসিমের স্বৈরাচারী। অষ্টাদশ শতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক নতুন ধারণা দানা বাঁধলো – কেমন হয়, যদি স্বাধীন ও ন্যায্য নির্বাচনের মাধ্যমে নেতা বেছে নিয়ে জনগণই নিজেদের সরকার গঠন করে, আর তারপর সংবিধান ও আইনের নিয়মে বেঁধে সেইসব নেতার ক্ষমতা মাত্রাছাড়া হতে না দেয়? উনিশ আর বিশ শতক জুড়ে এই ধারণাটি ছড়িয়ে পড়ে, যদিও তাতে ভাঁটাও পড়েছিল বহুবার।
তবে, ১৯৭৪ সালে গণতন্ত্রের এক তৃতীয় তরঙ্গের শুরু হয়, যে ঢেউয়ের ধাক্কায় পশ্চিম ইউরোপের কর্তৃত্ববাদী (authoritarian) দেশগুলি – পর্তুগাল, স্পেন ও গ্রিস গণতন্ত্রের দিকে সরে আসতে শুরু করে। ঢেউটি এরপর ছড়ায় লাতিন আমেরিকায়, আর সেখানে মূলত তৃণমূল স্তরের নাগরিক আন্দোলন আর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সামরিক স্বৈরতন্ত্রগুলির পতন হয়। আর্জেন্তিনা, ব্রাজিল বা চিলে-র মতো দেশগুলি আবার গণতন্ত্রে ফিরে আসে।
পূর্ব এশিয়াতেও এই ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। এখানেও শান্তিপূর্ণ নাগরিক আন্দোলনের মাধ্যমেই ফিলিপিন্স, কোরিয়া বা তাইওয়ানের মতো দেশগুলি গণতন্ত্রে পরিণত হয়। আপনারা জানেন – ১৯৮৯ সালে বার্লিনের প্রাচীর ভাঙে আর গণতন্ত্রের জোয়ার ছড়িয়ে যায় মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলিতে; এগুলি এতদিন কম্যুনিস্ট শাসনযন্ত্রের প্রভাবে সোভিয়েতের করায়ত্ত ছিল। নয়ের দশকের শুরুর দিকের মধ্যেই, পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথমবার, বিশ্বের অধিকাংশ দেশ গণতন্ত্রকে আপন করে নেয়। এদের মধ্যে সাহারার দক্ষিণের আফ্রিকান কিছু দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রও সামিল ছিল।
২০০৪-৫ নাগাদ এক বিখ্যাত ও মর্মস্পর্শী ঘটনার মাধ্যমে এই ঢেউ তার শিখরে উঠেছিল—‘ইউক্রেনের কমলা বিপ্লব’—কম্যুনিস্ট শাসনকালের পরে শুরু হওয়া এক দুর্নীতিবাজ স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনবাসী একজোট হয়, ভোটে জেতে; শাসক আবার সে নির্বাচন চুরিও করে। তারপর সেই নির্বাচনের ফল বাঁচাতে রাস্তায় সাধারণ মানুষের অসামান্য ঢল নামে আর শেষপর্যন্ত তাঁদের জয় হয়। এ ঘটনা ২০০৫-এর জানুয়ারি মাসের – গণতন্ত্রের তৃতীয় ঢেউয়ের এইটেই চূড়া।
২০০৬ থেকে এই ঢেউ পিছু হঠতে শুরু করে, আর এ-মুহূর্তে আমরা প্রায় ১৮ বছর ব্যাপী এক ভাঁটার সময়ে বাস করছি। নয়ের দশক বা একুশ শতকের শুরুর দিকের মতো দুনিয়ায় গণতান্ত্রিক দেশগুলি আর সংখ্যাগুরু নয়, গত ১৮ বছর ধরে ক্রমশ আরও বেশি সংখ্যায় দেশগুলি তাদের স্বাধীনতা হারিয়ে চলছে – যার খতিয়ান রেখেছে ফ্রিডম হাউস (বাৎসরিক Freedom in the World রিপোর্টের জন্যে বিখ্যাত ওয়াশিংটন-এর এক অলাভজনক সংস্থা)। বলা যেতে পারে – আমরা এক জনমনোমোহিনী কর্তৃত্ববাদী (authoritorian populism) ঢেউয়ের মধ্যে দিয়ে সাঁতার কাটছি।
এই ঢেউয়ের স্বরূপ আর এই শাসনতন্ত্রের আকর্ষণ বুঝতে হলে একবার ভেনেজুয়েলার দুঃখের কথা একটু ভেবে দেখা দরকার। পাঁচের দশকের শেষদিকে, প্রায় এক দশকব্যাপী গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ভেনেজুয়েলা নতুন করে গণতন্ত্রের সংকল্প নেয়, আর তার দুটি রাজনৈতিক দল নিজেদের বিভেদ – শান্তির পথে, সংবিধান মেনে মেটাবে বলে ঠিক করে। দুটি দলই পালা করে ক্ষমতায় আসে, আর ক্রমশ ফুলেফেঁপে ওঠা তেলের সম্পদ দেশের উন্নয়নে ব্যবহার করে।
একটি বড়সড় মধ্যবিত্ত শ্রেণী গড়ে ওঠে, কর্মসংস্থানের প্রসার হয়, তেলের টাকা লাগানো হয় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো আর অর্থনৈতিক উন্নয়নে। এ সময় জনগণ গণতন্ত্র বলতে বুঝতো বিকাশ আর অর্থনৈতিক সুযোগ। কিন্তু আটের দশকে তেলের দাম পড়ে যায়, আর স্বভাবতই, তার ওপর বড্ড বেশি নির্ভরশীল দেশটির অর্থনীতিতে চরম মন্দা দেখা দেয়।
মানুষ প্রশ্ন করতে শুরু করে – গণতন্ত্র কি সত্যিই মানুষের কোনো কাজে লাগছে? ১৯৯২-তে মঞ্চে প্রবেশ করলেন এক বিপ্লবী সেনানায়ক, উগো চাভেজ় (Hugo Chávez) আর দাবি করলেন – এ প্রশ্নের জবাব আছে তাঁর কাছে। জবাব কী? গোটা সিস্টেমের গোড়ায় টান মেরে সরাও আর তারপর তার জায়গায় এক সম্পূর্ণ নতুন বৈপ্লবিক মডেল বসাও। প্রথমে এ কাজ তিনি করার চেষ্টা করলেন এক সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে, বিফল হলেন, জেলে গেলেন, কিন্তু মাত্র দু-বছর জেল খাটার পরে মার্জনা পেলেন।
নয়ের দশকের শেষে তিনি ফিরে এসে বললেন, যা তিনি সেনা অভ্যুত্থানের সাহায্যে করতে পারেননি, তা-ই করে দেখাবেন ব্যালট-বাক্সে। দেশের মানুষকে তিনি যে বৈপ্লবিক ও পপুলিস্ট মডেলের প্রতিশ্রুতি দেন, তা-ই তাঁকে রাষ্ট্রপতি-নির্বাচনে জেতায় আর তাঁর দলকে সংসদের ক্ষমতায় বসায়। ১৯৯০-এর শেষে চাভেজ় যে কাহিনী ব্যবহার করেছিলেন—পরেও যে গল্প বহু কর্তৃত্ববাদী পপুলিস্ট নেতা ব্যবহার করেছেন—আর নির্বাচনে জেতার পরে ক্ষমতা দখলের যে ছক তিনি ব্যবহার করেন, তা যদি বুঝতে পারি, তবে এই এখন আমরা যে সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে, তার স্বরূপ আরো ভালো বুঝতে পারবো।
অথরিটেরিয়ান পপুলিস্ট গপ্পোটি হল – দেশের সব দল, সব নেতা, সব প্রতিষ্ঠানই দুর্নীতিতে গলা অবধি ডুবে আছে, নিরাময়ের কোনো আশা নেই – পরিবর্তনই একমাত্র ভরসা। আগের শাসকরা যে নেহাত রদ্দি শাসন করেছেন, বাজে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁদের পালাবদল হওয়া দরকার – এসব না। সব এক্কেবারে ধুয়েমুছে সাফ করা দরকার।
এই গল্পের ভিতরে আবার বুনে দেওয়া হয় এক নৈতিক ক্ষোভের নকশা, যে, দেশের সৎ, যোগ্য নাগরিকরা একসারি দুর্নীতিগ্রস্ত অভিজাত সম্প্রদায়ের হাতে বঞ্চিত হয়েছেন। প্রগতির দিকে পড়ে আছে একটিই পথ – প্রতিষ্ঠানগুলির আমূল এবং সম্পূর্ণ ভোল বদলানো – এর এক ধাপে বর্তমান সংবিধানের বদলে এক নতুন সংবিধান আনা হবে, যা জনগণের চোখের মণি নেতাটি ও তাঁর দলকে গোটা সিস্টেম বদলানোর সর্বময় ক্ষমতা দেবে; বলাবাহুল্য, সেই ক্ষমতা তাঁরা সুজনহিতার্থেই ব্যবহার করবেন। এরই সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে এক আবছা ইঙ্গিত, যুক্তি, সন্দেহ, ষড়যন্ত্রের গপ্পো, যে, দেশের ভিতরেই দেশের শত্রুরা বাস করছে।
চাভেজ়ের ক্ষেত্রে এই শত্রু ছিল দেশের উদারপন্থী অভিজাত শ্রেণী। মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে এই জায়গাটা পেয়েছিল এক দুর্বল সংখ্যালঘু গোষ্ঠী – রোমা, বর্তমানে সে অঞ্চলে এই আসন জুটেছে অভিবাসীদের। ইতিহাস বলে, বহু দেশে এই তকমা জুটেছিল ইহুদিদের। আজকের ভারতে এই অবস্থানে আছে মুসলমান সংখ্যালঘুরা। সাহারার দক্ষিণে প্রায়শই এই দাগ জোটে LGBT গোষ্ঠীর কপালে। শত্রুর তকমা যারই হোক, মোদ্দা কথা হল – এই সংখ্যালঘুরা ভয়ানক, এদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, দরকারে ছেঁটে ফেলতে হবে জনগোষ্ঠী থেকে।
এই মনোমোহিনী নায়ক আরও বলেন – দেশ আজ ভগ্নপ্রায়, সব প্রতিষ্ঠান আমাদের নিরাশ করেছে, ‘একমাত্র আমিই পারি একে ঠিক করতে’। এক ক্রমবর্ধমান সংখ্যক কর্তৃত্বাভিলাষী নেতা – ক্ষমতা জয় করার, ধরে রাখার, নিজেদের বাঁচানোর আর নির্বাচনে জয়লাভের পর নিজের দলকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার চেষ্টায় এই এক মডেল, এই এক গল্প ব্যবহার করে চলেছে।
হাঙ্গেরিতে ২০১৪ সালে প্রতিহিংসা বুকে নিয়ে ক্ষমতায় আসে ভিক্টর ওর্বান (Viktor Orbán); ২১ বছর ধরে তুর্কির ক্ষমতায় আছে রেজেপ তাইপ এর্দোয়ান (Recep Tayyip Erdogan) আর তার ডেভেলপমেন্ট পার্টি; ২০১৮ সালে ব্রাজিলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জেতে জ়ায়ির বোলসোনারো (Jair Bolsonaro) আর তার দক্ষিণপন্থী পপুলিস্ট দল; আর অবশ্যই এই লিস্টে আসে ভারতের নরেন্দ্র মোদি আর তার উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল, বিজেপি – এরা সদ্য তৃতীয়বারের জন্যে দেশের ক্ষমতা দখল করেছে। এদের সবার গল্প, সবার মডেলেই চাভেজ়ের মডেলের ছায়া।
এই ছক শুরু হয় বিরোধীকে দানব বানানোর মাধ্যমে। ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী নয়, তালে গোল পাকানো ভুল চিন্তার অধিকারী নয়, আসলে বিরোধীদের নীতি বলে কিছু নেই, তাদের দুর্নীতি ও কলঙ্কের দাগ শত মুছলেও যাবে না, আর সর্বোপরি এরা নাকি দেশের অনুগত নয়। এই ছকে জনতাকে সাবধান করে দেওয়া হয় – যে সংবাদমাধ্যম তাদের সমালোচনা করছে, তাদের সত্য ও তথ্যের প্রতি দায়বদ্ধ রাখার চেষ্টা করছে, তারা সবাই ফেক নিউজ়, তাদের হয় মুছে দেওয়া, নয় নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। বিচারব্যবস্থায় যেসব স্বাধীনচেতা বিচারক তাদের দায়ী করতে পারে, এ ছকের শুরুতেই তাদের সরিয়ে, কথা শুনবে বা স্বার্থ চরিতার্থ করবে – এমন অনুগতদের দিয়ে আদালত ভরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। তারপর একে একে রাষ্ট্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠান—সিভিল সার্ভিস, পুলিশ, আয়কর বিভাগ, গোয়েন্দা বিভাগ, সেনাবাহিনী—দখল করা বা সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করা তাদের লক্ষ্য হয়, যাতে এদের অস্ত্র বানিয়ে বিরোধীদের উপর প্রয়োগ করা যায়, রাজনৈতিক ক্ষেত্রটিকে অধিকার করা যায় আর নাগরিক সমাজ থেকে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী ও পেশাদার সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন, ছাত্র সংগঠন, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী পর্যন্ত সমস্ত স্তরকে নিজেদের তাঁবে রাখা যায়।
লক্ষ্য – নিশ্চুপ আনুগত্য। এই ভয়ানক গল্প আমরা অনেকেই গত দুই দশক ধরে সশঙ্কচিত্তে অভিনীত হতে দেখছি। কিন্তু, এ-ই একমাত্র নিয়তি, চূড়ান্ত পরিণতি নয়। এই সমস্ত স্বৈরাচারীর কিছু দুর্বলতা আছে, আর সেই দুর্বলতার উৎস – এরা দুর্নীতিপরায়ণ, কারণ নিজেদের ক্ষমতার ওপরে এরা সীমারেখা টানে না আর সেই কারণেই, বারংবার নির্বাচনে জিতে নিজেদের বৈধ জনপ্রতিনিধি প্রমাণ করার বাসনা এদের তীব্র।
গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে হওয়া বিভিন্ন আন্দোলন আর ক্ষমতার নানারকম সীমারেখা পুনর্বার টানার ফলে আমরা বুঝেছি, এদের ব্যালট বাক্সে হারানো সম্ভব, যেমন হয়েছে – ২০২২-এ ব্রাজিলে, ২০২৩-এর অক্টোবরে পোল্যান্ডে নাগরিক জোটের সাম্প্রতিক জয়ে, আর মাত্র এই গত জুলাই মাসে চাভেজ়-এর উত্তরাধিকারী, নিকোলাস মাদুরো-কে একজোট হয়ে ভেনেজুয়েলায় হারানো হয়েছে—যদিও সে নির্বাচন অন্যায়রকম অসম ছিল, জয় সম্ভব হয়েছিল কেবল ভোট প্রক্রিয়ার ওপর কড়া নজরদারি রাখার ফলেই; এবারে মাদুরো-কে বোঝানোর দায় আমাদের—আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর—যাতে সে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেয়। জয় যে সবসময় জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমেই আসবে, তা নয়, অনেক সময় এর শুরু হয় পঞ্চায়েতে, পৌরসভায়। ২০১৯-এ, এবং আরো জোরদার ভাবে ২০২৪-এ, তুর্কির গণতান্ত্রিক বিরোধীপক্ষ চোখধাঁধানো নির্বাচন জিতেছে ইস্তাম্বুলের মেয়র, এক্রেম ইমামোলু (Ekrem İmamoğlu)-র নেতৃত্বে। Radical Love নামের এক উদ্ভাবনী প্রচার ছিল এঁদের অস্ত্র, এর মূল নীতি – রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, আর কর্তৃত্ববাদী পপুলিস্টদের ঘৃণার, বিভেদের, মেরুকরণের গপ্পের বিরোধিতা করা।
এর মূল কৌশল খুব সহজ। প্রথমত, গণতান্ত্রিক বিরোধীদের সমস্ত টুকরোকে একত্র করে, জোট বেঁধে, একসাথে প্রচার চালিয়ে জনমত বদলাতে হবে। দ্বিতীয়ত, পপুলিস্টদের মেরুকরণের যুক্তির ফাঁদে পা না দিয়ে, তাতে বাঁধ দিতে আর তাকে ছাপিয়ে যেতে হবে – ওই সেই রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি আর সহানুভূতির একত্র প্রচারে। তৃতীয়ত, মনে রাখতে হবে, মানুষ কেবল গণতন্ত্র বাঁচাতেই ভোট দেয় না।
তেমন হলে বড়ই ভালো হত, কিন্তু যেহেতু এই ভাবে সকলে ভোট দেন না, তাই জনগণের পার্থিব চাওয়াপাওয়া, আরও ভালো জীবনধারণের আশা, পরের সরকার যে তাদের কর্মসংস্থানের ও অর্থনৈতিক সুযোগ দেবে, উন্নততর সরকার গঠন করবে, তার প্রমাণ চাওয়ার অধিকার – এই সবকিছুর প্রতি আমাদের আবেদন জানাতে হবে।
এইসব ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক বিরোধীরা বোঝেন – ধোঁয়াটে, আবছা, তাত্ত্বিক দুর্বল যুক্তি সাজিয়ে জেতা যায় না। দরকার কড়া, শক্তিশালী, সাহসী, উদ্যমী নেতৃত্ব, যার চোখে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের নিশ্চিত নকশা আঁকা আছে। এই নেতৃত্বকে প্রমাণ করতে হবে – কার্যকরী আর সবল নেতা হতে হলে বাহুবলী হতে হয় না।
সবশেষে, এই সবক-টি উদাহরণ থেকে আমরা শিখেছি – দেশের পতাকাটিকে এই রক্ষণশীল পপুলিস্টদের সঙ্কীর্ণ, বিদেশ-বিদ্বেষী জাতীয়তাবাদের হাত থেকে কেড়ে নিতে হবে। দেখাতে হবে, দেশভক্তির আরো ভালো চেহারা হল দেশের গণতান্ত্রিক স্বরূপ নিয়ে অহঙ্কার।
বহু দশকের লড়াই আর বিক্ষুব্ধ ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে – গণতন্ত্রের টিকে থাকা নিশ্চিত করতে পারে একমাত্র নাগরিকদের সক্রিয়, নিবেদিত, অবহিত ও আত্মবিশ্বাসী অংশগ্রহণ। গণতন্ত্র হাঁ করে বসে দেখার নাটক নয়। আমাদের সকলকে অঙ্গীকার করতে হবে – ভোট দেবো; সহনাগরিকদের ভোটদানে উৎসাহিত করবো; প্রচার-এর মতো অন্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়াগুলিতে নানাভাবে অংশগ্রহণ করবো; সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভেদের, মেরুকরণের চালু গপ্পের বিরোধিতা করবো ঐক্যের, আশার কথা বলে; আমাদের সন্তানদের শেখাবো – কীভাবে পৌরনীতির, স্বাধীনতার আশীর্বাদের, জনমুখী আইনের শাসনের সঙ্গে মিলে গণতন্ত্র তাদের আশা-আকাঙ্খা, স্বপ্ন, অস্তিত্বকে বাস্তবায়িত করার সুযোগ দেয়। আজকের এই অথরিটেরিয়ান পপুলিজ়মের ঢেউকে ভেঙে ফেলে গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতিকে বাঁচিয়ে তোলার এইটিই পথ। ধন্যবাদ।
dc | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ২৩ মে ২০২৬ ০৮:৫৫740787
র২হ | 2600:*:*:*:*:*:*:* | ২৩ মে ২০২৬ ০৯:৪৯740788
dc | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ২৩ মে ২০২৬ ১০:০৭740789
nipa | 2a0d:*:*:*:*:*:*:* | ২৩ মে ২০২৬ ১০:২৮740790
dc | 2a02:*:*:*:*:*:*:* | ২৩ মে ২০২৬ ১০:৩৫740791
X | 103.*.*.* | ২৩ মে ২০২৬ ১২:৩৬740793
dhur | 2a0d:*:*:*:*:*:*:* | ২৩ মে ২০২৬ ১৯:৩১740801
X | 103.*.*.* | ২৩ মে ২০২৬ ১৯:৪৭740802
dc | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ২৩ মে ২০২৬ ২০:৫৪740805
dc | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ২৪ মে ২০২৬ ১২:৪৫740812
@dc | 2001:*:*:*:*:*:*:* | ২৪ মে ২০২৬ ১৩:৩৮740815
dc | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ২৪ মে ২০২৬ ১৩:৫৯740816
বলতে হবে | 107.*.*.* | ২৪ মে ২০২৬ ২০:৪৭740831