এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  রাজনীতি

  • কোন রাজনীতি করবো?

    প্যালারাম
    আলোচনা | রাজনীতি | ১০ মে ২০২৬ | ১০৮৫ বার পঠিত | রেটিং ৪.৭ (৩ জন)
  • অলংকরণ: রমিত



    ধরুন, আপনি স্কেচ করেন। ছোট্ট কাগজে কয়েকটা আঁচড় কেটে বোঝালেন – মেঘ, কুঁড়েঘর, গাছপালা, ঝোপ। মেরেকেটে ২ মিনিট লাগলো। এবারে, সেই ঝোপের সামনে বসে তার একখানা ফুল গুছিয়ে আঁকতে গিয়ে, শুধু আলো-ছায়ার খেলা ফোটাতেই তার দশগুণ সময় লাগলো। অথচ, দুটো দেখেই দর্শক ঠিক চিনতে পারে – কী এঁকেছেন। ওই যে ছোট্ট ছবির কয়েকটা আঁচড়, ও-ই হল তার মূল অবয়ব। আরো কাছে এসে দেখলে, তার জটিল খুঁটিনাটি ধরা পড়ে। তারা হয়তো আকারে ছোট, কিন্তু কালি-কাগজে ফুটিয়ে তুলতে হিমশিম খেতে হয়। শুধু যে সময় বেশি লাগে তা-ই নয়, যে কায়দা অবলম্বন করতে হয়, যেভাবে আঁকতে হয় – তা আগের ছবির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

    রাজনীতি, সমাজনীতি, ইতিহাসের তত্ত্ব – এসব বুঝতে গেলেই এই মাইক্রো (ছোট) বনাম ম্যাক্রো (বড়) বিস্তারের সমস্যাটা হয়। একটু ইতিহাসের চর্চা করলেই বোঝা যায়, বিষয়টি ফ্র‍্যাক্টাল ধরনের। আকবর বাদশা নিয়ে দশ লাইনের টীকা-ও লেখা যায়, ওদিকে হয়তো তেনার প্রবর্তিত কোনো এক আইনের শুরু, শেষ, ফলাফল, অভিঘাত – এসব নিয়ে দেখলেন কোনো একজন বছরদশেক কাটিয়ে দিয়েছে। এতশত করার পরে, কেউ যদি তাকে এসে একদিন প্রশ্ন করে: “আকবর ভালো ছিলেন, না মন্দ?”, আর দুটি বিকল্পের একটিতে টিক দিতে বাধ্য করে, তবে তার এতদিনের চর্চা সে রাখে কোথায়?

    মাসের পর মাস রাজনৈতিক তত্ত্বালোচনার পর নির্বাচনের দিন বোতাম টেপা হল সেইরকম এক গন্ডগোলের কাজ। রাখবেন কাকে? ছাড়বেনই বা কোনটি? খুঁটিয়ে দেখলে সব দলের ছবিই ছেঁড়া, ভুল তুলির আঁচড়ে ভরা, পেনসিলের শেড বর্ডার পেরিয়েছে। কারুর অর্থনীতি গোলমেলে, তো কারুর সমাজচেতনা। কেউ শিক্ষায় দুর্নীতি করে, তো কেউ যুদ্ধবাজ। বাস্তবে তাই আপোশ করতে হয় সকলকেই।

    সকলেই যদি আপোশমুখো, সবাই যদি অসুখী, তাহলে কেন এত উত্তেজনা? কীসের এত রণরঙ্গ? তার চেয়েও বড় কথা – এমন কোনো ছবিই কি নেই, যা মোটে ছবিই হয়নি? এমন কোনো রাজনীতি, যা এক্কেবারে ভুল? এর উত্তর কোনো বিজ্ঞানের পড়ুয়ার পক্ষে দেওয়া অসম্ভব, কারণ, ‘ভুল‘ ঘোষণার জন্যে যে পদ্ধতির প্রয়োগ সে করতে শিখেছে, তা এখানে চলে না। তেমন কোনো নীতিমালা নেই। সমাজনীতি, পার্টি লাইন, গোষ্ঠীস্বার্থ, ব্যক্তিস্বাধীনতা, মিডিয়া-হুজুগ – সবকিছুর মিশেলে এক প্রবল ঘোল তৈরি হয়, যা জনতা জনার্দন গিলতে বাধ্য হয়। তাই লিগের নক-আউট খেলার উত্তেজনার সঙ্গে তাল দেয় কিছু উচ্চারিত, কিন্তু অনুচ্চকিত প্রশ্ন – এই সংসদীয় গণতন্ত্র কি আদৌ ঠিক রাস্তা?

    এ প্রশ্নের গভীরে না গিয়ে, যদি ধরে নিই এটিই আমাদের পথ, তবে প্রথম প্রশ্ন দাঁড়ায়: আপোশ পরে হবে, আগে ঠিক করি – কোন কোন মূল নীতির সঙ্গে আপোশ অসম্ভব। এইখানে এসেই দেখবেন, অনেক মানুষ আর আপনার সঙ্গে নেই। তাঁরা কোনো নীতি নয়, ব্যক্তি/গোষ্ঠীগত স্বার্থ বুঝে নির্বাচনে অংশ নেন। এই লেখায় ধরে নেবো, আপনি তাদের থেকে হয় বেশি শিক্ষিত, নয় বেশি প্রিভিলেজড।

    এমন কোনো নীতিমালা কি সম্ভব, যা পালন করে কিছু দলকে প্রথমেই বিকল্প হিসেবে খারিজ করে দেওয়া যায়? সাইনাই পর্বত থেকে মোজ়েস যা লিখে এনেছিলেন, তেমন নৈতিক সহজপাঠের কথা বলছি না। তা ব্যক্তির জন্যে প্রযোজ্য ছিল। ‘খুন কোরো না’-ও যদি কম্যান্ডমেন্ট পড়ে শিখতে হয়, তবে আর কথা বাড়িয়ে কী লাভ? আমি বলছি সেই সাধারণ জমিটুকুর কথা, যার ওপর দাঁড়িয়ে সুস্থ রাজনৈতিক বিতর্ক সম্ভব। সেইটুকু, যা নিয়ে বিবদমান পক্ষগুলির কারুর মনে কোনো সন্দেহ থাকবে না। কেউ বলতে পারবে না, “ওসব কথা শুনতে ভালো, কিন্তু বাস্তবে আসলে এইরকম হয়...”। এক কথায়, রাজনীতির 'সূত্র' নেই কোনো?

    অনেক ভেবে, তিনটে সূত্র পেয়েছি – যার ওপর ভর করে বেশ কিছু ধরনের রাজনীতি ছুঁড়ে ফেলা সম্ভব। বেশ কিছু ধরনের বক্তব্য শুরু হওয়ামাত্র থামিয়ে দেওয়া যায়। কোনোটিই আমার নয়, আর সবকটিই আপনি জানেন – আগে এভাবে পড়ুন বা না পড়ুন (ভালো সূত্র যেমন হয় আর কি...)।

    ১) পেরিয়ার-এর সূত্র:

    ‘কোনোমতেই শোষণ সমর্থন করবো না।’

    পেরিয়ারের আসল উদ্ধৃতিটি হল – “বড় দেশ ছোট দেশকে নিপীড়ন করলে, আমি ছোট দেশের পাশে দাঁড়াব। সেই ছোট দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠরা সংখ্যালঘুদের ওপর ধর্মের নামে অত্যাচার করলে, আমি সংখ্যালঘুদের পক্ষ নেব। সংখ্যালঘু ধর্মে যদি এক জাত অন্য জাতকে শোষণ করে, তবে আমি শোষিত জাতের পাশে থাকব। সেই শোষিত জাতের মধ্যে কোনো মালিক তার কর্মচারীকে অত্যাচার করলে, আমি কর্মচারীর পক্ষে দাঁড়াব। সেই কর্মচারী বাড়ি ফিরে স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালালে, আমি ওই নারীর পাশে দাঁড়াব। এককথায়, নিপীড়নই আমার শত্রু।”

    এ সূত্র আপনাকে পক্ষ নিতে সাহায্য করবে (জ্ঞানীরা যতই অ্যানার্কিজ়ম বনাম মার্ক্সিজ়মের লড়াই ইত্যাদি বলে বিভ্রান্ত করুক, কোনো মতবাদ নিয়ে বাদানুবাদের আগেই এই নীতিটি আসে)।

    একজনের হয়ে গলা ফাটালেন; তারপর সে খুব খারাপ কিছু করলো, বা নিজের স্বার্থে অন্য কারুর শোষণ সমর্থন করলো; আপনি বিরোধিতা করলেন – ব্যস, অন্য দলের কেউ এসে বলতে শুরু করলো – ‘কেন রে? খুব তো নাকি পছন্দ?’ হতেই পারে, আপনি নিজেও গিয়ে কাউকে এমনধারা কথা বলে এসেছেন। যা দিনকাল, কে যে বাস্তব বুঝে সমর্থন বদলেছে, আর কে যে শুভেন্দু অধিকারী – এ বোঝা কঠিন। কিন্তু সৌজন্য নির্দেশ করে – প্রমাণ না থাকলে, যে মত বদলায়, তার পিছনের সৎ কারণটি দেখুন, কন্সপিরেসি থিয়োরি না। নীতি ঠিক রেখে, সমর্থন বদলাতে ভয় পাবেন না। ব্যক্তি নয়, নীতি।

    এ পথেও কিছু খানাখন্দ আছে। নীতি বদলাবেন কখন? যদি সে নীতি বাঁধানো বড়রাস্তাও হয়, আপনার অভীষ্ট গন্তব্যের দিকে যায় তো ঠিক? তখন নিজেকে প্রশ্ন করতে হয়, এ পথ কেন নিয়েছিলাম? খুব প্রভাবশালী কেউ বলেছিল বলে? নাকি এর থেকে শ্রেয় কোনো বিকল্প ছিল না বলে? প্রথম সম্ভাবনাটি ঠিক হলে, আরো অগণন মানুষের মতো আপনাকেও দিকনির্দেশ করবেন গৌতম,

    “যেখানেই পড়ে থাকো, বা যে-ই বলে থাকুক—এমনকি যদি আমিও বলে থাকি—নিজের যুক্তিবুদ্ধি আর সাধারণ জ্ঞান দিয়ে না আঁচিয়ে কোনোকিছুই বিশ্বাস করবে না।”

    যদি দ্বিতীয় সম্ভাবনাটি সত্য হয়, তবে আরেকটি দীর্ঘ উদ্ধৃতির সাহায্য নেওয়া যাক:

    "অভিযোগ – আমার নাকি নিজের দার্শনিক মতামত বদলানোর অভ্যেস আছে... আমি নিজে, আমার মত বদলের জন্য মোটেই লজ্জিত নই। এমন কোনো একজন পদার্থবিদকেও কি দেখাতে পারবেন, যিনি ১৯০০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ সক্রিয় ছিলেন এবং গর্ব করে বলতে পারেন – তাঁর মতামত গত অর্ধ-শতকে বদলায়নি? নতুন তথ্য বা জ্ঞান সামনে এসে পড়লে বিজ্ঞানী তাঁর মতামত পরিবর্তন করেন; অথচ, অনেকেরই ধারণা— দর্শন আসলে বিজ্ঞান নয়, শাস্ত্র।

    যখন কেউই, কিচ্ছুই জানে না—তখন তো মত পরিবর্তনের কোনো মানেই নেই! কিন্তু আমি যে দর্শনকে গুরুত্ব দিই,অনুসরণ করার চেষ্টা করি – তা এক অর্থে বিজ্ঞান; এই অর্থে, যে, তাতে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় ‘জানা’ সম্ভব এবং নতুন তথ্য আবিষ্কার হওয়ামাত্র, যেকোনো অকপট, সহজ মানুষের পক্ষে তার পুরোনো ভুল স্বীকার করাই স্বাভাবিক। বহুকাল আগে হোক বা সম্প্রতি, আমি যা-ই বলে থাকি না কেন – ধর্মতত্ত্ববিদরা যে ভঙ্গিতে তাঁদের মতামতকে সত্য বলে দাবি করেন, আমি তা করি না।

    খুব বেশি হলে আমার দাবি এইটুকুই – যখন মতটি প্রকাশ করা হয়েছিল, সেই সময়ে সেই মতামত পোষণ করাই বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত ছিল।

    ভবিষ্যত গবেষণায় যদি এই মতের সংশোধনের বিশেষ প্রয়োজন না দেখা যায়—তা হলেই বরং আমার খুব অবাক হওয়ার কথা। অতএব, আমার আশা, যিনিই [এই বইটি] পড়বেন, তিনি এর উক্তিগুলোকে দেবতা/ধর্মগুরুর বাণীর মত মেনে না নিয়ে, ধরে নেবেন এগুলি, স্পষ্ট এবং নির্ভুল চিন্তার প্রসারের উদ্দেশ্যে আমার পক্ষে সেই মুহূর্তে যতটা সম্ভব ছিল, ঠিক ততটাই সত্য।..."

    Dictionary of Mind, Matter and Morals (1952) বইটির ভূমিকায় এ কথা লিখেছেন বার্ট্রান্ড রাসেল।
    বেশ, রাসেলদাদু যখন এসেই পড়লেন, তখন দ্বিতীয় সূত্রে যাওয়া যাক।

    ২) রাসেলের সূত্র:

    ‘ভালোবাসার পথই বিচক্ষণের পথ, ঘৃণার রাস্তা নির্বোধের।’

    ১৯৫৯ সালে বিবিসি-র Face to Face অনুষ্ঠানে রাসেলকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আজ থেকে হাজার বছর পরে জন্মানো কাউকে তিনি কী উপদেশ দেবেন। রাসেল দুটি কথা বলেছিলেন, প্রথমটি বৌদ্ধিক শিক্ষা, আর দ্বিতীয়টি নৈতিক। এই সূত্রটি ওই নৈতিক শিক্ষাটুকু।

    এর ব্যাখ্যা একদিকে খুব সহজ, অন্যভাবে দেখলে বেজায় কঠিন। একদিকে প্রেমের বুলি দিচ্ছেন, ওদিকে সীমান্তে ক-জন সাধারণ মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেলেন। ত্যাঁদড় বন্ধু এসে বললো, ‘কলসির কানা নয় রে, কালাশনিকভের গুলি – এখনো প্রেম বিলোবি?’ কী বলবেন? উত্তর আছে। নিজের পরিবার, প্রিয়জন, পাড়া, সমাজ, রাজ্য, রাষ্ট্র, প্রতিবেশী, প্রজাতি, পরিবেশ – রক্ষার্থে যদি লড়াই হয়, তবে তা ওইগুলির প্রতি ভালোবাসা থেকেই। এ কথা শিশুরাও বোঝে। কিন্তু গোলমাল বাধে, যখন যুক্তিকে পেঁচিয়ে, ‘জাতি’ বা ‘গোষ্ঠী’-স্বার্থের অজুহাতে যুদ্ধকে জায়েজ় প্রমাণ করার চেষ্টা হয়। offence যখন প্রাণহানি, অন্যের জমি/সংস্কৃতি/জীবিকা দখল, তখন তা best defence নয়। তৃতীয় রাইখ যখন বলেছিল, জার্মান জনগণের সুবিধার্থে আশপাশের দেশগুলি দখল করতে হবে (লেবেনশ্রাউম), তখন তারা এ নীতি লঙ্ঘন করেছিল। এই একই কারণে, গাজ়া দখলে ইজ্রায়েলকে সমর্থন করা যায় না। ধর্ম, বর্ণ, সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস, মায় নাগরিকত্ব – কোনো কিছুর অজুহাতেই একদল মানুষকে একঘরে করা যায় না, সে তার যে নামই দাও – কন্সেনট্রেশন ক্যাম্প, ডিটেনশন ক্যাম্প, NRC বা 'অবৈধ' বস্তি। আসাম যখন ভূমিপুত্রের ডাক দেয়, ভারত যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে তার নাগরিকদের উদ্ধার করে, আদিবাসী যখন তার জঙ্গল বাঁচানোর জন্যে কোম্পানি বা সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নেয়, তা ঘৃণা থেকে শুরু হয় না, কিন্তু মানবচরিত্র মেনে ঘৃণায় শেষ হতেই পারে। লড়াইকে সমর্থন করার সময় তার উদ্দিষ্ট কী, সে কথা মনে রাখতে হবে। আগের সূত্রটির কথা মাথায় রেখে, বাংলাপক্ষ যখন বাঙালির সংস্কৃতির টিকিয়ে রাখার কথা বলে, কেউ বাঙালির দোকানে হামলা করলে দাঁত খিঁচিয়ে আটকাতে ছুটে যায়, তখন তাকে সমর্থন করতে হবে, কিন্তু সেই উত্তেজনাই যখন তাল হারিয়ে স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ানকে চিঠি লিখে হুমকি দেয়, তখন মনে রাখতে হবে, শিবসেনা হওয়ার পথের থেকে তার দূরত্ব খুব কম। উলটোদিকে, ‘জয় সিয়ারাম’ আর ‘জয় শ্রী রাম’ – একরকম শোনালেও, তারা উলটো মেরুর স্লোগান। প্রথমটি সহনশীলতার বাণী, দ্বিতীয়টি ঘৃণার।

    কাকে ফ্যাসিবাদ বলে, আর কাকে একনায়কতন্ত্র – এসব না জেনেও, একটু তলিয়ে ভাবলেই বোঝা যায়, কোন লড়াই অধিকারের, আর কোনটা ঘৃণা/অবজ্ঞাজনিত। হিংসা বা অহিংসা – কোনো পক্ষই না নিলেও, আম্বেদকর না গান্ধী – এ তর্কে না ঢুকেও, গণতন্ত্র না সশস্ত্র বিপ্লব – পক্ষ না নিলেও, এটুকু বোঝাই যায় – লড়াইটা ঘৃণার পক্ষে নয়, বিপক্ষে। আর এই লাইনেই...

    ৩) পপার-এর সূত্র:

    ‘সহনশীলতা অসীম নয়। অসহিষ্ণুতার প্রতি কখনোই সহনশীল হওয়া যাবে না।‘

    কার্ল পপার তাঁর The Open Society and Its Enemies (1945) বইয়ে Paradox of Tolerance বা সহনশীলতার কূট নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর উদ্ধৃতিটি:

    “...তবে প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে হলেও এদের [অসহিষ্ণু মতাদর্শগুলোকে] দমন করার অধিকার আমাদের দাবি করা উচিত। কারণ তারা হয় আমাদের সঙ্গে যুক্তির মাটিতে আলোচনা করতে তৈরি থাকবে না, বা শুরুতেই সমস্ত যুক্তি খারিজ করবে, অথবা তাদের অনুগামীদের যুক্তিসংগত কথা শুনতেই বারণ করবে। যুক্তিগুলিই আসলে ধোঁকা – এমনও বোঝাতে পারে। আর তাদের শেখাবে – যুক্তির জবাব হল ঘুঁষি বা বন্দুক।”

    এইটুকুই লড়াই। যুদ্ধ শুধুই ঘৃণা/অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে। নইলে একবার সুযোগ পেলেই, আজ যে অসহিষ্ণু দল ‘উনি এমন কথা কী করে বললেন?‘ বলে কুমিরের কান্না শুরু করছে, কাল ক্ষমতা পেলে তারা সেটুকু করার অধিকারও আর প্রতিপক্ষকে দেবে না। ওবামার সরকারে পান থেকে চুন খসলে যে দক্ষিণপন্থী মিডিয়া ‘গেল গেল‘ রব তুলতো, ট্রাম্পের সময়ে তার হাজার গুণ অন্যায়েও তারা রা কাড়ে না। যে মুসলিম প্রতিক্রিয়াশীলরা বাংলাদেশে ধর্মের স্বাধীনতার পক্ষ নিত, তারাই ক্ষমতা পেলে কী করতে পারে, জনগণ টের পেয়েছে। যে বিরোধী নেতা, ডক্টর মনমোহন সিং-এর সময়ে তাঁর মৌনতা, মূল্যবৃদ্ধি আর দুর্নীতি নিয়ে গলার শিরা ফুলিয়ে চিৎকার করতো, নিজে প্রধানমন্ত্রী হয়ে সে আর সাংবাদিক সম্মেলনই করে না; রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে হয় পার্টির পকেটে পোরে, নইলে বেচে দেয়; মূল্যবৃদ্ধি আকাশ ছুঁলেও, ডলারের তুলনায় টাকা পাতালে প্রবেশ করলেও, ‘আচ্ছে দিন‘ ঘোষণা করে।

    এই একই কারণে তারা মাত্র একবার, একবারই মাত্র গোটা দেশ বিরোধীশূন্য করতে চায়। কারণ ওই একটিবারই যথেষ্ট, গণতন্ত্রের মূল উপড়ে ফেলার জন্যে। ওই কারণেই এদের মুখও খুলতে দেওয়া যাবে না।

    কী করে বুঝবেন – এদের প্রতি অসহিষ্ণু হতে গিয়ে আপনি নিজে সহনশীলতার পথে আছেন কিনা? নিজের অবস্থান আগের দুটি সূত্র দিয়ে ঝালিয়ে নিয়ে।

    রাজনীতি এক বিরাট প্রাঙ্গন। সেখানে খেলা অনেকরকম, তাদের নিয়মও রকমারি। এখানে শুধুই আলোচনা হল, সে মাঠে কাদের খেলতে দেবেন না, বা কোনো দলটিকে কখনোই সমর্থন করবেন না – তা নিয়ে। এর পরের স্তরে আসে ‘কাকে সমর্থন করবো?‘ সেই প্রশ্ন। তার সঙ্গেই আসে – দেওয়ালে যাদের পিঠ ঠেকেছে, তারা কী গণের অংশ নয়? অহিংসা যদি আসলে ক্ষমতাকে চাপ দেওয়ার জন্যে এক প্রদর্শন হয়, আর শোষণের বিরুদ্ধে অহিংস অবস্থানের কোনো ক্ষমতাবান দর্শক না থাকে, তবে অস্ত্র হাতে নেওয়া ছাড়া গতি কী? তখন তারা অপরাধী? দর্শক থাকলেই বা। তারা যদি সব দেখেও না দেখার ভান করে, যেমনটি করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের ইজ্রায়েল-বান্ধবরা? প্রতি-হিংসার পথে সমালোচনা আসে, অহিংসায় শুকনো সহমর্মিতা। মানুষ গণহত্যা, জাতিগত নিপীড়ন ঠেকাবে কী উপায়ে? গণতন্ত্রের পক্ষ নিয়ে রাসেলের সওয়াল আগেই অনুবাদ করেছি, কিন্তু ইন্টারনেটোত্তর যুগে তা নিয়ে আরও অনেক আলোচনা-সমালোচনা দরকার।

    এ সব পরে হোক। আপাতত একটা সাফাই:

    ‘রাজনীতি নিয়ে মুখ খোলা আমাদের মতো বোকাদের মানায় না’ – এ আমার বহুদিনের পুরোনো বিশ্বাস—বিশ্বাস ঠিক নয়, আত্মবিশ্বাসের অভাব। মানায় না, কারণ আজন্ম শিখে এসেছি – যা জানো না, তা নিয়ে ত্যানা পেঁচিও না। গবেষণার কাজেও তাই – না জানলে/বুঝলে, সে কথা লিখে দিতে হয়। অনেক বসন্ত পেরিয়ে, আধা-সরকারি শিক্ষকের চাকরি পেয়ে কাল হল। ও বাবা! “জানি না” বললে সততা/বিনয় বলে কেউ ভালো চোখে তো দেখেই না, অন্য কোনো আরো কম জানা লোক সেই সুযোগে গলা ফাটায়। এখন চুলে পাক অনেক বেশি। তাই, কিস্যু তেমন জানি/বুঝি না – বুঝলেও, লিখেই ফেলবো রাজনীতি নিয়ে। কী আর হবে? কেউ হয়তো ভুল ধরাবে। শিখবো। নইলে, আমারই মতো কেউ হয়তো পড়ে ভাববে, বাঃ, এই তো, মানে বোঝা যাচ্ছে। তবে, খুব সম্ভব, কেউ পড়বে না। তাতেও তেমন ক্ষতিবৃদ্ধি নেই।

    ভালো থাকবেন।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • আলোচনা | ১০ মে ২০২৬ | ১০৮৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dc | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ১০ মে ২০২৬ ১০:৩৪740592
  • "ওই যে ছোট্ট ছবির কয়েকটা আঁচড়, ও-ই হল তার মূল অবয়ব। আরো কাছে এসে দেখলে, তার জটিল খুঁটিনাটি ধরা পড়ে। তারা হয়তো আকারে ছোট, কিন্তু কালি-কাগজে ফুটিয়ে তুলতে হিমশিম খেতে হয়। শুধু যে সময় বেশি লাগে তা-ই নয়, যে কায়দা অবলম্বন করতে হয়, যেভাবে আঁকতে হয় – তা আগের ছবির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা"
     
    আমি ভাবলাম প্যালারামবাবু বুঝি ডেটা অ্যানালিসিস এর কথা বলছেন cheeky
     
    লেখাটা পড়তেও ভালো লাগলো, কার্ল পপারের এই সূত্রের কথা জানতাম না।
  • Swapan Sengupta | ১০ মে ২০২৬ ১০:৩৮740593
  • খুব ভালো লাগলো।
    প্রয়োজনীয় লেখা !!
  • যদুবাবু | ১৩ মে ২০২৬ ০২:০৯740625
  • লেখাটা খুব ভালো ত বটেই, তিনটে সূত্রই খুব ভালো।
     
    লেখাটা, মনে আছে, যেদিন লিখেছিলে সেইদিনই পড়েছিলাম এবং একটু মাথাও ঠাণ্ডা হয়েছিল। তারপর আরো বার দুয়েক পড়েছি, আর ভেবেছি যে আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমি নিজের বোধ এইরকম সূত্রের মধ্যে দিয়ে ধরতে পারবো কী? বলা শক্ত।
     
    একসময় বৌদ্ধ দর্শন পড়তাম - অন্যের দুঃখে দুঃখ পাওয়ার নাম করুণা, আর অন্যের আনন্দে আনন্দের নাম মুদিতা। চারটি মূল গুণ: মৈত্রী, করুণা, মুদিতা আর উপেক্ষা। আমি ভাবতাম হয়তো করুণা-ই সবথেকে বড় কথা। তারপর অন্যান্য। এখনও ভাবি না এমন না।
     
    আমাদের লাইনে মিনিম্যাল সাফিশিয়েন্ট স্ট্যাটিস্টিক্স বলে একটা কনসেপ্ট আছে, যে কমিয়ে কমিয়ে এই অব্দি কমানো যাবে কোনো ইনফর্মেশন না খুইয়ে, কিন্তু এর বেশি আর না। এখন ঐ অবস্থায় আছি, ছেঁটেকেটে সব ফেলে দিয়ে দিয়ে কোথাও একটা গিয়ে দাঁড়াতে চাই, মনুষ্যত্ব না খুইয়ে। তবে, বাস ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে চলছে, পাদানিতে আর জাগা নাই। একটু স্লো হলেই লাফ দিই আর কী।
  • প্যালারাম | ১৩ মে ২০২৬ ০৩:৩৫740626
  • সবাইকে থ্যাঙ্ক্যু, লেখাটা পড়ার জন্যে।
    @dc, পপার-এর সূত্রটা আমিও বছরখানেকই হল জেনেছি। ভদ্রলোকের মার্ক্সিজমের সমালোচনা আর ফলসিফায়েবিলিটির তত্ত্ব নিয়েই যা হোক কিছু অন্যের ব্যাখ্যা আগে পড়েছি (আসল লেখা আদৌ কোনোদিন পড়া হবে কিনা জানি না), এই কথাটা, লজ্জার মাথা খেয়ে স্বীকার করি, জানলাম ইউটিউব ভিডিও দেখে। laugh তারপর সোর্সে গিয়ে আশপাশ ঘেঁটেছি যদিও।
     
    @যদুবাবু, তোমায় আর কী বলি, একই বাসে বসে আছি। অবাক লাগে জানো, যে ধর্মবিশ্বাসীকেই জিগাও না কেন, গড়পড়তা মানুষ 'ঈশ্বর'-কে পরম'করুণা'ময় বলেই মনে করেন। অমনিপোটেন্ট হওয়াটা অনেকটা সুপারম্যানের শক্তি কল্পনা করে আনন্দ পাওয়ার মতো। বিনোদন হয়, কিন্তু মূল কথা না। তাঁর করুণাই তাঁর 'ঈশ্বরত্বের' অধিকার যেন। তা-ই যদি হবে, তবে ছা-পোষা জীবনে করুণা দেখলে লোকে naivety-র সঙ্গে কী করে গোলায়, আজও বুঝিনি। হ্যাঁ, সেক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা ঐ গৌতম-ই। 'ইসে'-তে কতটা দম থাকলে দস্যু ও রাজা (তস্য দস্যু)-অধ্যুষিত ভারতবর্ষ পায়ে চষে সে বাণী প্রচার করা যায়, যার টানে কিনা দলকে দল ঘর ছেড়ে পিছু নেয়, বলো দিকি! লালন, গৌতম, চৈতন্য – সবক-টা আগুনখেকো বিপ্লবী। কবে যে এদেশ ভুলে গেল!
     
    নাহ, ঘুমোই গিয়ে।
  • সঞ্চারী গোস্বামী | 117.*.*.* | ১৩ মে ২০২৬ ০৮:২৩740631
  • লেখাটা ভালো লাগল। এরকম ভাবনা আসলে সংখ্যালঘু। ৩ নং সূত্রের বিষয়ে বলি, এ সূত্র আসলে আমাদের পদার্থবিদ্যায় বারবার ঘুরেফিরে আসে।
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ১৩ মে ২০২৬ ১০:১০740632
  • চৈতন্য অবশ্যই বিপ্লবী এবং দক্ষ রাজনীতিবিদ। অনেক প্ল্যান প্রোগ্রাম করে ঠান্ডা মাথায় একে একে স্টেপ নিয়ে এগোনো। দুর্দান্ত লোক।
  • Bratin Das | ১৩ মে ২০২৬ ১৫:৩৮740636
  • খুব খুব ভালো লাগলো প্যালারাম
     
    অসাধারণ লেখা
     
    আমি আপনার অনেক গুলো লেখা পড়েছি .
    সব লেখার গভীরতা আর ব্যাপ্তি দুটোই ভাবায়
  • hmm | 2a06:*:*:*:*:*:*:* | ১৩ মে ২০২৬ ১৬:৫৪740638
  • ছোট দেশ বড় দেশকে নিপীড়ন করলে, আমি বড় দেশের পাশে দাঁড়াব। সেই বড় দেশে সংখ্যালঘুরা সংখ্যাগরিষ্ঠদের ওপর ধর্মের নামে অত্যাচার করলে, আমি সংখ্যাগরিষ্ঠদের পক্ষ নেব। সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মে যদি এক জাত অন্য জাতকে শোষণ করে, তবে আমি শোষিত জাতের পাশে থাকব। সেই শোষিত জাতের মধ্যে কোনো কর্মচারী তার মালিকের ওপর অত্যাচার করলে, আমি মালিকের পক্ষে দাঁড়াব। সেই মালিক বাড়ি ফিরে স্ত্রীর দ্বারা নির্যাতিত হলে, আমি ওই নারীর বিপক্ষে দাঁড়াব। এককথায়, নিপীড়নই আমার শত্রু।
     
    কোনো অসহিষ্ণু যদি অন্যদের কাফেরদের অস্তিত্ব মুছে ফেলতে চায়, কোন ধর্মকে ডেঙ্গু-ম্যালেিয়ার সঙ্গে তুলনা করে ধ্বংস করে ফেলতে চায়, তার প্রতি সহিষ্ণুতা দেখাব না।
  • dc | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ১৩ মে ২০২৬ ১৯:৩৩740641
  • কেউ যদি কোন ধর্মকে মুছে ফেলতে চায় তাহলে আমি তাকে অকুন্ঠ সমর্থন জানাবো।
  • r2h | 165.*.*.* | ১৩ মে ২০২৬ ১৯:৪১740642
  • হুঁ, দমনমূলক, বিদ্বেষমূলক, বা প্রেফারেন্সিয়াল না- এমন উপায়ে ধর্মকে অপ্রাসঙ্গিক করে দিতে পারলে তার প্রতি সমর্থন।
  • ক্যাবলা | 2a03:*:*:*:*:*:*:* | ১৩ মে ২০২৬ ২১:২৬740644
  • dc হচ্ছে ইসলয়ামোফোবিকদের ব্লু-আইড বয়/গার্ল/অন্য কিছু।
  • Bratin Das | ১৪ মে ২০২৬ ০০:৩৫740645
  • প্যালারাম আর ক্যাবলা
    হয়ে গেল। এবার কি তবে টেনিদা নাকি হাবুল? smiley
  • একক | ১৪ মে ২০২৬ ০১:০০740646
  • পেরিয়ারের থিওরি বাস্তবে এপ্লাই করতে গেলেই বৃহত্তর গোল্মালের দেখা মিলবে।
     
    এক কথায়, যে কোনো অপ্রেসর - অপ্রেসড সিস্টেমে অপ্রেসড এর পক্ষ নিতে গেলে, ন্যুনতম ইন্সট্রুমেন্ট মুভমেন্ট যাই করা হোক না কেনো, তা আদতে ওই অপ্রেসর-অপ্রেসড সিস্টেমের যে এক্সটার্নাল অপ্রেসর, তার স্কোর বাড়িয়ে দেবে। পাওয়ারের খেলাটাই এমন। সাধারণ মানুষ এই করতে গিয়েই, ভেতরের শত্রু তাড়াতে বহিশত্রুর হাত শক্ত করে বসে। খুবই খিটকেলের এনালজি এটা।
  • প্যালারাম | ১৪ মে ২০২৬ ০২:৩৭740647
  • @একক,
    আমার মনে হয় এখানে প্রয়োগস্থল আলাদা। আমি ব্যক্তির চিন্তার পদ্ধতি নিয়ে লিখেছি, তুমি সমষ্টির সঙ্গে তার যোগের কথা, সেই সমাজে প্রয়োগের কথা বলছো। সেটা অবশ্যই পরের ধাপ। আর লেখার শিরোনাম যা, তাতে তোমার এমন ভাবা খুবই স্বাভাবিক। শিরোনাম আসলে ছিল, ‘কাকে ভোট দেবো?‘ ভোটের অনেক পরে বেরোচ্ছে বলে তড়িঘড়ি সেটা বদলে দিয়ে গোলমালটা পাকিয়েছে। এই লাইনে সঠিক কথাটা হত, ‘কোন রাজনীতি সমর্থন করবো?‘

    এবারে, যদি প্রশ্ন আসে, এর পরের স্তরে তবে লোকে করবেটা কী – তার উত্তর এমন ইউনিভার্সাল হবে না। সমাজ, সময়, পারিপার্শ্বিক অবস্থা – সবকিছুর ওপর নির্ভর করবে। কারণ, সমষ্টিতে, 'কাজ'-এর সঙ্গে ‘কৌশল’ ওতপ্রোত। মামদানি অ্যাপ্লাই করার আগে অবধি কতজন ডেমোক্র‍্যাটিক সোশ্যালিস্ট আর বুঝেছিল – শুধু কাজ করলেই হবে না, তেড়ে তার বিজ্ঞাপনও করতে হবে, কেবল খেয়াল রাখতে হবে যাতে কন্ডেসেন্ডিং বা খেলো না হয়ে যায়।

    এই সমস্যা ব্যক্তিগত সমর্থনের স্পেসে নেই।
    আমার একখান আশা যদিও আছে (একটা থিয়োরি দানা বাঁধছে বলতে পারো)। সঠিক শিক্ষার প্রসার হলে (মানে বাম্পার স্টিকার আর স্লোগানের একটু উপরেও যদি বেশ কিছু মানুষ ভাবতে শেখে, তবে এই ব্যক্তিগত 'ভোট'-এর প্রভাব সমষ্টিতে পড়তে বাধ্য। এ নিয়ে আরও ডিটেলে পড়ে/ভেবে দেখতে হবে।

    আরো একটা কথা, পেরিয়ার তাঁর জীবনে এ জিনিস অ্যাপ্লাই করেছিলেন, আর দ্রাবিড় অস্মিতার জন্ম দিতেও পেরেছিলেন। Tam-Brahm বাদে সব তামিলই নিজের জাতি নামের বদলে বাপের নাম পদবিতে বসিয়েছিল। তবে তেনারও এ পথে যেতে স্খলন হয়েছিল কিনা, বা তোমার থিয়োরি ঘেঁষে, কমন বহির্শত্রু ইংরেজের নিকটে উপস্থিতি সে রাস্তা সহজ করেছিল কিনা – জানি না। ডিটেলে পড়ে দেখতে হবে। ঐ যে, কৌশল। সে তো সর্বত্র এক নয়।

    আবারও, বেশি বুঝি না, আর এ সব বিষয়ে থিয়োরি প্রয়োগ করা কঠিন কাজ – তাই এসব উত্তরের পিছনে পূর্ণ কনফিডেন্স নেই। বাজে বকে থাকলে ক্ষমা! laugh
  • t | 2001:*:*:*:*:*:*:* | ১৪ মে ২০২৬ ০৬:০৩740649
  • পেরিয়ার মানে সেই লোক যার ঘৃণাভাষণের কারণে নেহরু তাকে পাগলাগারদে পাঠাতে চেয়েছিলেন?
  • Ranjan Roy | ১৪ মে ২০২৬ ০৮:১৯740650
  • রাম স্বামী নাইকার (Periyar) के कि ওরকম এক কথায় উড়িয়ে দেওয়া যায়? তামিল অঞ্চলে দলিতদের প্রতি অত্যাচার এর মাত্রা আমরা বঙ্গে বসে আন্দাজ করতে পারি না l
     
    দ্রাবিড় ও দলিত अस्मिता নিয়ে তাঁর আন্দোলনের প্রভাব আজও রয়েছে l তাঁর " দ্রাবিড় Kajagham থেকেই DMK ও AIDMK জন্মেছে l
  • dc | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ১৪ মে ২০২৬ ০৮:২৪740651
  • একক, তুমি বোধায় জানো, পেরিয়ার সাউথ ইন্ডিয়ায় খুব ইনফ্লুয়েন্সিয়াল একজন অ্যাক্টিভিস্ট আর পলিটিশিয়ান ছিলেন। উনি দ্রাবিড় পলিটিক্সের জনক শুধু নন, ওনার তিনটে খুব বড়ো অবদান আছেঃ উইমেনস রাইটস, ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন, আর র‌্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট। এই তিনটেই যদিও একে অপরের সাথে জড়িয়ে, তাও আমি ওনাকে বিশেষ শ্রদ্ধা করি ওনার র‌্যাশনালিস্ট আন্দোলনের জন্য, যা বোধায় ইন্ডিয়াতে আর কোনও বড়ো পলিটিশিয়ান এতোটা প্রমিনেন্টলি আর এতোটা সফলভাবে করেননি। ওনার র‌্যাশনালিজম চিন্তাধারার ছাপ এখনও তামিল নাড়ুর পলিটিক্সে পাওয়া যায়, যে কারনে উদয়নিধি সনাতন ধর্ম টাইপের বালামোর বিরুদ্ধে বলতে পারে। কাজেই, প্যালারামও যেটা লিখলেন, পেরিয়ার ওনার ফিলোজফি খুব সফলভাবে সাধারন মানুষের মধ্যে অ্যাপ্লাই করতে পেরেছিলেন।
  • Ranjan Roy | ১৪ মে ২০২৬ ০৮:৪২740652
  • 100% সত্যি l
    नेहरू রেগে গেলেন Periyar ভারত থেকে আলাদা হওয়ার দাবি তোলাতে l
    ভারতে caste oppression একটা fundamental malady .
    বামেরা ইউরো মডেলের ক্লাস स्ट्रगल এ আটকে রইলেন l
    जाति शोषण ও অত্যাচার এর গুরুত্ব বুঝলেন না l
  • হাবুল | 2001:*:*:*:*:*:*:* | ১৪ মে ২০২৬ ০৯:০৩740653
  • বালবিচি বইকা ডিএমকে পাছায় ভোটারদের গোদা পায়ের লাথি খাইয়া গেল হনে।
  • সত্যেন্দু সান্যাল | 2401:*:*:*:*:*:*:* | ১৪ মে ২০২৬ ১৩:০১740656
  • প্যালারাম এর লিখনটি চমতকার, নিজস্ব মতের পুনর্বিবেচনা দাবি করে।
    তবে, Counterpoint হিসেবে এই লিঙ্কিত লেখাটি ও পাঠ হউক।
    জাতি, গোষ্ঠী, Nation, ভাষা ভিত্তিক Identity সবই এক কালচক্রে আবর্ত্তিত।
    এই Constant churning ও Flux ও বোধহয় মানব প্রকৃতি।
     
  • অমিত বিশ্বাস | 2001:*:*:*:*:*:*:* | ১৬ মে ২০২৬ ০৭:৪৬740662
  • অসাধারণ লেখা ও ভাষার গতি। পড়তে ক্লান্তি আসে না বরং আগ্রহী করে তোলে। অনেক কিছু সত্যিই জানলাম। কিছু বুঝলাম।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন