ভাঙা দিনের ঢেলা - ১ : বিমোচন ভট্টাচার্য
বুলবুলভাজা | ধারাবাহিক | ২৫ জুলাই ২০২০ | ৪৬৩২ বার পঠিত | মন্তব্য : ৭
প্রথম যেদিন সাকিনা মেজদিকে ওইরকম থুতনি নিয়ে দেখল এবং মেজদির মুখে শুনল যে ওর ক্যানসার হয়েছে সে কী কান্না বুড়ির। শুধু বলে, “ও মা, তাহলে তো তুই বাঁচবি না রে মেয়ে৷” মেজদিই বরং ওকে সান্ত্বনা দিত। এরপরই সাকিনা বিবি এমন একটা কাজ করেছিল যা আমি কোনোদিন ভুলব না। মেজদিকে, যবেই আসত গোটা তিনেক করে ডিম দিত খেতে। পয়সা নিত না। কিছুতেই নিত না৷ বলত, “তোর শরীর খারাপ রে মেয়ে৷ রোজ খাবি একটা করে। দিশি ডিম। উপকার হবে৷” অবাক হতাম। এক হতদরিদ্র গ্রাম্য মহিলা কোন্ মনের জোরে এমন কাজ করতেন!!
ভাঙা দিনের ঢেলা - ২ : বিমোচন ভট্টাচার্য
বুলবুলভাজা | ধারাবাহিক : স্মৃতিকথা | ২২ আগস্ট ২০২০ | ২৮৭৯ বার পঠিত | মন্তব্য : ৪
সেদিন বাজারের কাছে অনিলদার সংগে দেখা। দেখলাম আরো রোগা হয়ে গেছেন। হাতে একটা লাঠি। আমায় দেখতে পান নি।আমিই এগিয়ে গিয়ে কথা বললাম। খুব খুশি আমায় দেখে। বললেন - তোমার বৌদি চলে গেছে জানো। হঠাৎ তিন দিনের জ্বরে চলে গেল। একা হয়ে পড়েছি বড্ড, বুঝলে। চোখেও কম দেখি আজকাল। তাই বই পড়াও বন্ধ। তারপর একটু চুপ করে রইলেন, তারপর বললেন - আমি এখন এক বৃদ্ধাশ্রমে থাকি বাসু। না, স্ব-ইচ্ছায়। ছেলেটা নিজে দেখেই বিয়ে করলো এক সময়। আমায় বলতে পারছিল না। ওর মাকে বলে যে আমার শ্বেতী থাকাটা ওর হবু বৌএর পছন্দ নয়। আমরা সংগে না থাকলে সে বিয়ে করতে পারে। আমি বলি - বিয়ে করুক ও। কলকাতার দিকে ফ্লাট কিনুক। আমি কিছু টাকা দিচ্ছি।
ভাঙা দিনের ঢেলা- ৬ : বিমোচন ভট্টাচার্য
বুলবুলভাজা | ধারাবাহিক : স্মৃতিকথা | ০৭ নভেম্বর ২০২০ | ৩৪১৮ বার পঠিত | মন্তব্য : ৩
বিশ্বরূপা থিয়েটারের সেই বাড়ি জুড়ে ছিল শিশিরকুমারের স্মৃতি। আমি দেখেছি কী অসম্ভব শ্রদ্ধা করতেন অভিনেতারা, কলাকুশলীরা শিশিরকুমারকে। শিশিরকুমারের দুই খাস অনুচরকে আমি দেখেছি। একজন তাঁর খাস চাকর রামচরণ। আমরা বলতাম রামচরণদা আর একজন তাঁর খাস ড্রেসার গোবিন্দ অধিকারী। আমাদের গোবিন্দ কাকা। এমনই প্রভাব ছিল শিশিরকুমারের যে বিশ্বরূপার তদানীন্তন মালিকদের দুজন, দক্ষিণেশ্বর সরকার এবং রাসবিহারী সরকারকে সকলে বলতেন মেজবাবু আর ছোটবাবু। বড়বাবু? নৈব নৈব চ। সেটা একমাত্র শিশিরকুমারের প্রাপ্য। প্রত্যেকদিন, কেউ না কেউ একবার শিশিরকুমাররের নাম নিতেনই। একটা শ্রদ্ধার জায়গা, সেই সময়েই আমার মনে ঢুকে গেছিল সে সব শুনে।
ভাঙা দিনের ঢেলা- ৮ : বিমোচন ভট্টাচার্য
বুলবুলভাজা | ধারাবাহিক : স্মৃতিকথা | ২৮ আগস্ট ২০২১ | ১৫৫৫ বার পঠিত
যৌথ পরিবারের একটা আলাদা বাঁধন ছিল। ঝগড়া, মনোমালিন্য – এসব ছিল, কিন্তু সেসব পেরিয়েও ছিল এক অদ্ভুত বন্ধন। আমার সেই ন’কাকিমা। সাড়ে চার ফুটের মানুষ ছিলেন৷ যশোরের মেয়ে৷ আমার ন’কাকার সাথে যখন বিয়ে হয়, তখন ষোল-সতেরো বছর বয়েস। আমার বড়দা, বড়দির চেয়ে বয়েসে ছোট ছিলেন৷ আমি সারাজীবন তাঁর সঙ্গে সরাসরি কথা বলিনি৷ তবু আমার মা চলে যাবার পর প্রতি জামাই-ষষ্ঠীতে তিনি আসতেন আমাদের বাড়ি৷ তখন তাঁরা আলাদা থাকেন। পাখার হাওয়া দিতেন। হাতে দিতেন একটা আম বা কলা। টিভি দেখে বাড়ি যেতেন৷