১। অক্সফোর্ডে বাঙালি হিন্দুরা মমতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। আরজি করের খুন-ধর্ষণের বিরুদ্ধে, সন্দেশখালির মেয়েদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে, এবং হিন্দুদের গণহত্যার বিরুদ্ধে। আমি বলছিনা, অমিত মালব্য টুইট করেছেন। সঙ্গে একটা ভিডিওও দিয়েছেন, সেখানে কয়েকজন "বাঙালি হিন্দু"কে দেখলাম। এতদিন রিলের কল্যাণে ম্যাক্সির উপরে গামছা জড়ানো মহিলাদের দেখেছি, এই প্রথম সুটের সঙ্গে টিপ পরা পুরুষ দেখলাম। বাঙালি হলে বঙ্গজাতির লজ্জা বলা যায়। আরও অনেক লোকজন ছিলেন। তাঁরা সবাই মিলে অভয়া-অভয়া করে চিৎকার করেছেন। হিন্দু-হিন্দু করে গলা ফাটিয়েছেন। কতজন হিন্দু মারা গেল হিসেব চেয়েছেন। আমাদের পরিচিতরা চারদিকে সেই ভিডিও আবার শেয়ার করে ফাটিয়ে দিয়েছেন। দেখতেও লজ্জা লাগে।এসএফআই ও ফেসবুক পোস্ট দিয়েছে, তারা ওখানে ছিল। অক্সফোর্ডে ... ...
কলকাতার বিপ্লবীদের দঙ্গলে মাঝে মাঝেই নানা কাণ্ড ঘটে। কিন্তু এবারে যা পড়লাম, সেটা মাত্রার অনেক উপর দিয়ে। সবই "সত্য" ঘটনা, কিন্তু ফিকশনের বাবা। একজন মহিলা, ধরা যাক তাঁর নাম প্রথমা, যিনি সব সময় ছুরি আর পেপার স্প্রে নিয়ে ঘোরেন, তিনি কাল একটা ফেসবুক পোস্ট করেন, যা থেকে এটা জানাজানির শুরু। প্রথমা লিখেছেন, কোনো এক রাতে, তিনি প্রচুর ফেমিনিস্ট আইডিওলজির লোকজন, মহিলা এবং নিজের বাবার সঙ্গে, বাবার বাড়িতে বসে উপরোধে মদ্যপান, গান-বাজনা এইসব করছিলেন। তারপর রাত্তির দুটোয় নিজের ঘরে শুতে গেলে সেখানে একজন মহিলাও শোবার জন্য এসে উপস্থিত হন, ধরা যাক তাঁর নাম দ্বিতীয়া। তারপরে তৃতীয় এক পুরুষ, ধরা যাক তাঁর নাম মহিষাসুর, তিনিও চলে আসেন। দ্বিতীয়া মহিষাসুরকে বলেন, তুমিও ... ...
সিরাজগঞ্জে ২০০১ সালে একটা মর্মান্তিক গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। সে বছর বিএনপি-জামায়েত ভোটে জেতে এবং তারপর নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা শুরু হয়। তারই অংশ হিসেবে গণধর্ষণের শিকার হন পূর্ণিমা রানী শীল। ঘটনাটা সেই সময় খুব আলোড়ন ফেলেছিল। কাগজে যা পড়েছিলাম, তখন সে নেহাৎই অপ্রাপ্তবয়স্ক। সে আমলে ঘটনাটার কোনো বিচার হয়নি। চারজনকে গ্রেফতার করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। বরং মেয়েটির পারিবারিক ব্যবসা দুবার লুট করা হয়। তার পরিবার গ্রাম ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। আওয়ামী লিগ ক্ষমতায় ফেরার পরে, বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়। ১১ জনকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়। এটাও কাগজে পড়া, যে, পূর্ণিমা এতে খুশি হননি, কয়েকজনের মৃত্যুদন্ড চেয়েছিলেন। পূর্ণিমাকে নিয়ে রাজনীতিও হয়েছিল বিস্তর। তিনি আওয়ামী লিগের সঙ্গে যুক্ত ... ...
খবরে দেখছি, জায়গায়-জায়গায় এসএফআই ছাত্রদের উপর হামলা হচ্ছে। বিরাট বড় কিছু না, কিন্তু হচ্ছে। কলকাতায় এইটুকু হলেই ফেটে যেত, কিন্তু বাইরে বলে তেমন হচ্ছেনা, কারণ, আমরা তো কলকাতার বাইরে বিশেষ দেখতে পাইনা। অথচ বিষয়টা খুবই উদ্বেগজনক। ছাত্রসংসদ যাদবপুরে যতটা দরকার, ততটাই মেদিনীপুরে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কলকাতায় যতটা দরকার, মুর্শিদাবাদেও ততটাই। এখানে প্রতিহিংসা বা প্রতিক্রিয়া কথাগুলোও অর্থহীন, কারণ, উত্তরবঙ্গের কোনো ছাত্র তো এসে যাদবপুরে কোনো শিক্ষককে পেটাননি। যাদবপুরে ব্রাত্য বসু এসে নির্বিঘ্নে সভা করবেন, ইচ্ছে হলে যেকোনো বিরোধীর মুন্ডপাত করবেন তাদেরই সামনে, আর কল্যাণীতে ছাত্ররা নির্বিঘ্নে ব্রাত্য বসুর পিন্ডি চটকিয়ে স্লোগান দেবেন, উত্তপ্ত তরজাও হতেই পারে, কিন্তু কেউ কাউকে আটকাবেনা, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পক্ষে এই দুটোই একই রকম গুরুত্বপূর্ণ। এই ... ...
ইন্দ্রানুজ কীকরে চোট পেলেন? তৃণমূল একটা ভিডিও প্রকাশ করে জানিয়েছে, ইন্দ্রানুজ ব্রাত্য বসুর গাড়ির পাদানি থেকে ঝুলছিলেন, পাশের একটা স্কুটারে ধাক্কা লেগে ধপ করে পড়ে গেছেন। বামরা পাল্টা আরেকটা ভিডিও প্রকাশ করে জানিয়েছেন, যে পড়ে গেছে, সে ইন্দ্রানুজ না, একজন পাদানি থেকে ঝুলছিলেন, একজন বনেটে বসে ছিলেন, ইন্দ্রানুজ ছিলেন গাড়ির উল্টোদিকে, তিনি সামনে থেকে চলন্ত গাড়ি ঠেলছিলেন, সেই অবস্থায় ধপ করে পড়ে যান। ইনি গাড়ির ডানদিকে পড়েন, উনি বামদিকে। দুটোর যেটাই ঠিক হোক, যিনিই 'আসল' ইন্দ্রানুজ হন, কোনোটাই 'পিষে' দেবার ছবি না। যাঁরা এই তত্ত্বটা আবিষ্কার করেছেন, তাঁদের নমস্কার। আর যাঁরা এই বাজারেও একটা স্টিল পেলেই কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই চারদিকে ... ...
জেলের আখ্যান আমরা কম পড়িনি। কমবয়সে সতীনাথ ভাদুড়ির জাগরী পড়েছি। জুলিয়াস ফুচিক পড়েছি। জয়াদির হন্যমান পড়েছি। মীনাক্ষী সেনের জেলের ভিতরে জেল পড়েছি। কিন্তু সবই বহুদিন আগের। নিদেন পক্ষে সত্তরের দশকের। তাহলে জেল কী উঠে গেছে? রাষ্ট্র কি নরম-সরম-পেলব বার্বি-পুতুলে পরিণত? তাই যদি হবে, তো প্রায় পঙ্গু সাইবাবা জেল খাটতে খাটতে মরে গেলেন কেন? উমর খলিদ কদিনের মাত্র জামিন পেয়ে আবার জেলে কেন? আসলে রাষ্ট্র ততটা বদলায়নি, যতটা আমরা বদলে গেছি। যে মস্তিষ্কগুলো চল্লিশ-বছর আগে কিছু চিন্তাভাবনা করত, এখন টিভির সান্ধ্যকালীন খেউড়কেই রাজনীতি ভাবে। টিভি যদি দেখায় আফগানিস্তানে তালিবান খারাপ তো খারাপ, ইরানে খুব অনাচার তো অনাচার। নইলে কিছু নেই। পশ্চিমে এটা ... ...
সাংসদ এবং তারকা দেবকেও নাকি হল পেতে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। হবারই কথা, কারণ, বাংলা সিনেমা ব্যাপারটাই উঠে যেতে বসেছে। কাগজে পড়লাম, ২০২২ এ বাংলা সিনেমা রিলিজ করেছিল ১৭০ টা। ২০২৩ এ ১৩৭। আর ২০২৪ এ শুটিং হয়েছে মাত্র ৩৪ টার। রিলিজ তো পরের কথা। এর একটা কারণ বলা হচ্ছে ফেডারেশনের দাদাগিরি। আর একটা কারণ সম্পূর্ণ উহ্য থাকছে, সেটা হল বঙ্গের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রযোজক যে সংস্থা এসভিএফ, যারা একই সঙ্গে ডিসট্রিবিউটর এবং মালটিপ্লেক্স-মালিকও বটে, হাতে আবার হাতের-পাঁচ ওটিটিও আছে, তাদের বাংলা সিনেমা নিয়ে বিশেষ হেলদোল তো নেইই, বরং বাংলা সিনেমাকে হল না দেওয়াটাই তাদের ব্যবসার পক্ষে ভালো। কারণ, তাদের নিজেদের ওয়েবসাইটের বক্তব্য অনুযায়ী, তারাই পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় ডিসট্রিবিউটর। ... ...
গতকাল শ্রী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য তিলোত্তমার বাবা-মাকে নিয়ে বড় অভিযোগ তুলেছেন 'দা প্রিন্ট'এ । তাঁকে নাকি হোয়াটস্যাপ করে মামলাটা ছেড়ে দিতে বলা হয়। তিনি বলেছেন, "আমি চিঠিটা পড়ে খুবই আহত(শকড) হয়েছিলাম। পড়ে মনে হয়েছিল কোনো আইনজীবীর ভালো করে করে মুসাবিদা করা। আমার মনে হয়েছিল ওঁরা প্রভাবিত হয়েছেন, কে করেছে জানিনা, এবং আমাকে সুপ্রিম কোর্টের বিষয়টা ছেড়ে দিতে বলেন।" এটা বড় অভিযোগ না। বড় কথাটা বিকাশ বলেন ... ...
আজকে এবিপি আনন্দে সুমন্দে দেখি অন্যরকম একটা কোট পরে পিছনে লাইব্রেরি সাজিয়ে হিন্দি সিনেমা দেখাচ্ছেন। একাত্তরে কী হয়েছিল সেই নিয়ে, সঙ্গে কিছু হুঙ্কার। হাতে আবার একটা বই। দেখে মনে হল, ঠিক যেন ৬২ সাল। সুমন্দে অবশ্য তখন জন্মাননি, আম্মো না, কিন্তু কী হয়েছিল, সবার জানা উচিত। হয়েছিল চিন-ভারত সীমান্ত সংঘর্ষ। দেশে তখন এর চেয়েও বেশি মার-মার-কাট-কাট পরিস্থিতি। কমিউনিস্ট পার্টি কার্যত দু-টুকরো, বুদ্ধিজীবীরা গর্জে উঠছেন, দেশ পত্রিকায় ছাপা হচ্ছে সম্পাদকীয়, যার নাম "শত্রুকে ঘৃণা"। তার অংশবিশেষ এরকমঃ "শ্রী নেহেরু ও রাষ্ট্রপতি শ্রীরাধাকৃষ্ণন দুজনেই উপদেশ ... ...
আমি বাংলাদেশ থেকে সোমা বলছি রে। এত কষ্ট পেয়েছি আর চুপ করে বসে থাকতে পারছিনা। তোরা নিশ্চয়ই খবর পেয়েছিস, যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার হচ্ছে, কিন্তু আসলে কী জিনিস যে হচ্ছে ভাবতে পারবি না। এখানে চারদিকে শুধু মোল্লা। সবাই লুঙ্গি তুলে ঘুরছে। কী আর বলব, আমাদের শুধু একটা রাত দখল হয়েছিল, বাকি সব ফ্লপ, আর এখানে প্রতি রাতেই ডায়রেক্ট অ্যাকশন। মোল্লারা রাত দখল করো। সে কী হল্লা রে ভাবতে পারবিনা, আরবীতে স্লোগান দিচ্ছে, জল্লাদ আও, কল্লা লাও, মোল্লালোগ হালাল হিন্দু খাও। নিজেরা কাঁচা খাচ্ছে, বাড়িতে নিয়ে গিয়ে কাবাব বানিয়ে বৌ-বাচ্চাদের খাওয়াচ্ছে। পুরো জাতটাই নরখাদক হয়ে ... ...