আরশোলার অমরত্বের প্রয়াসমুহাম্মদ ফজলুল হক। কার্বোনিফেরাস যুগে মানুষের অস্তিত্ব ছিল না। রাজত্ব ছিল আরশোলার। ডাইনোসরসহ বিভিন্ন প্রাণীর উৎপত্তি, বিকাশ ও বিলুপ্তি প্রত্যক্ষ করে বর্তমান পর্যন্ত বীরদর্পে টিকে থাকা অন্যতম প্রজাতি আরশোলা। বায়ুমণ্ডলে প্রথমে স্বল্প অক্সিজেন এবং পরবর্তীতে অধিক অক্সিজেনে অভিযোজিত আরশোলা আমাদের পূর্বপুরুষ। তীক্ষ্ণ ও চঞ্চলের সামনে একনাগাড়ে বলে বড় বড় শ্বাস নিল স্থবির। জানো স্থবির, মানুষের উত্থান হয়েছিল খুব অসহায়ভাবে। প্রায় সত্তর লক্ষ বছর আগে আফ্রিকায় বনভূমি কমে গেলে তাদের পূর্বপুরুষ প্রাইমেট গাছ থেকে নামতে বাধ্য হয়। চার পায়ে হাঁটা প্রাণীটি দিগন্তের ওপারে শত্রু দেখার জন্য দুই পায়ে দাঁড়াতে শিখল। সেই থেকে শুরু হলো তাদের পৃথিবী দখলের ইতিহাস, বলল চঞ্চল। স্থবির ধীর ... ...
স্মৃতির রঙমুহাম্মদ ফজলুল হকনাফিস অস্থির হয়ে বসে আছে ক্লাসে। বন্ধুরা সবাই বেরিয়ে গেছে। মনে হয় সেতুর উপর বসে আনন্দ করছে। আনমনা হয়ে যায় সে। নাফিসের গ্রামে কোন স্কুল নেই। পড়ার জন্য তাকে পাশের গ্রামে যেতে হয়। পাশাপাশি গ্রাম হলেও তার গ্রামে অনেক কিছু নেই। তাতে একটুও মন খারাপ হয় না। তার গ্রামের মত সুন্দর গ্রাম কোথাও নেই সে এটা জানে। তাইতো নিজের গ্রাম নিয়ে গর্বের শেষ নেই। নিজের গ্রাম নিয়ে গর্ব হলেও পাশের গ্রামকে সে ভালোবাসে। এই গ্রামটিও সুন্দর। এখানে স্কুল আছে, মাদ্রাসা আছে, মসজিদ আছে, বাজার আছে, মেম্বার, চেয়ারম্যান সবই এই গ্রামের।আশপাশের এলাকা থেকে নানাবিধ প্রয়োজনে মানুষ এখানে আসে। ... ...
শিশির ভেজা ভোরমুহাম্মদ ফজলুল হক রাতের গভীরতা নির্ণয় করতে না পারলেও শীতের তীব্রতা ঠিকই অনুভব করছে শামীম। ছনের তৈরি নরম বিছানায় পাতলা কাঁথা জড়িয়ে ভালো ঘুম হলেও প্রচণ্ড শীতে তার ঘুম ভেঙে যায়। উঠে বসে সে। হঠাৎ মিনুর কথা মনে পড়ে। শীত উড়ে যায়। শীতের প্রতি কৃতজ্ঞ হয় শামীম। শীতই তাকে মিনুর কাছে টেনে নিয়ে যাবে। দ্রুত উঠে নিজেকে গুছিয়ে নেয়। কিছুক্ষণ পরই মিনু আসবে। তাকে নিয়ে সে কুয়াশা উপভোগ করতে যাবে।মিনুও সারারাত ঘুমাতে পারেনি। ভোরে বের হওয়ার উত্তেজনায় অস্থির। কুয়াশার আধিক্যে বেশি দূর দেখা যায় না। পরিচিত পথ ধরে নির্দিষ্ট জায়গায় এসে দাঁড়ায়। বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় না। পিছন দিক ... ...
মরিচ তোলার দিনমুহাম্মদ ফজলুল হকবেলা একটু পর পর মাথা উঁচু করে চারদিকে তাকাচ্ছে। আলো ক্রমশ কমে আসছে। দিনের শেষ রোদ মাঠের ওপর নরম সোনালি আভা ছড়িয়ে দিয়েছে। আকাশ পরিষ্কার থাকায় কারো ভ্রুক্ষেপ নেই। কাজে মগ্ন। রনি, শম্পা, ইয়াছমিন, ঊষা ও পরশ দ্রুত মরিচ তুলছে। হাসিঠাট্টা, প্রতিযোগিতা ও আন্তরিকতা মিলিয়ে মাঠজুড়ে এক অদ্ভুত প্রাণচাঞ্চল্য। মাঠের কাজে সবাই মগ্ন হলেও চারপাশের মগ্নতায় মুগ্ধ বেলা। কি অপরূপ চারপাশ। চোখ তুললেই নদী। তিতাস নদীর কাজল কালো পানি। নদীর পাড়ের জমিতে সবুজের বাড়াবাড়ি। নানা রঙের ফুলের বাহার। আঁকাবাকা মেঠোপথ। বাতাসে বসন্তের গন্ধ শুকে শুকেই একজীবন শেষ করা যায়।রনি বলল, দেখি আজ কে বেশি মরিচ তোলে!পরশ ... ...
দোলাচলমুহাম্মদ ফজলুল হক সৃষ্টিলগ্ন থেকেই দ্বৈত চেতনার অধিকারী মানুষ। সময়ের প্রবাহে দ্বৈততা মসৃণ ও সূক্ষ্ম হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক চিন্তা করার ক্ষমতা থাকায় মানুষ অন্যসব প্রাণীর চেয়ে শক্তিশালী। অভিও তার ব্যতিক্রম নয়। এই মূহুর্তে সে শম্পার কাছে সমর্পিত অথচ ভাবছে চৈতীর কথা। এখন শম্পাকে শান্ত করলেও আগামীকাল চৈতীকে সমালাবে কিভাবে? সে অবাক হয় দীর্ঘদিন যাবত কত নিখুঁত ভাবে দুজনের সাথে সম্পর্ক রেখে চলছে। তাকে যদি একজনকে বেছে নিতে বলা হয় সে কাকে নিবে? শম্পা না চৈতী! সেকি দুজনকে ভালোবাসে। একই সময়ে কি দুজন ভালোবাসা সম্ভব। এই দ্বৈততা কি তার নিয়তি!নিরিবিলি শান্ত স্বভাবের শম্পা। কখনোই কাউকে অধিকার করতে চায় না। বিশ্বাসের প্রবনতা ... ...
চুমুমুহাম্মদ ফজলুল হকসমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় চল্লিশ হাজার ফুট উপরে বিমানের দুলুনিতে সচেতন হয় মেঘলা। পাশ ফিরে অর্ণবকে দেখে। শিশুর মত ঘুমিয়ে আছে। ডানহাত রেখেছে মেঘলার পায়ের উপর। যেন কখনো হাতছাড়া করবে না তাকে। ভালোবাসায় ভরে উঠে মেঘলার মন। অর্ণবের হাত তুলে চুমু দেয়।"আমরা অল্প সময়ের মধ্যে আইসল্যান্ডে বিশ্বের সবচেয়ে উত্তর প্রান্তের রাজধানী হিসেবে পরিচিত রেইকিয়াভিক কেফ্লাভিক বিমানবন্দর আবতরণ করব। অনুগ্রহ করে আপনার সিট বেল্ট বেঁধে ফেলুন।"ক্যাপ্টেনের ভেসে আসা কন্ঠে অর্ণবের হাতে হাত রেখে কেবিন উইন্ডোর পাশ দিয়ে বাইরে তাকালো মেঘল। নীচে সমুদ্রের কালো নীল ঢেউ। ফাঁকে ফাঁকে আগ্নেয়গিরির লাভার মতো কালো ভূমি। কোথাও সাদা বরফের দাগ। আকাশ যেন ধোয়া তোলা ... ...
কান্নার সুরমুহাম্মদ ফজলুল হকগোধূলির রাঙা আলোয় আলোকিত আকাশ। আলো চুঁইয়ে পড়ছে চারদিকে। শরতের নীরব বাতাসে বিশাল বটবৃক্ষের পাতা না নড়লেও গরম কিছুটা কমে এসেছে। বটবৃক্ষের নিচে বসে অপেক্ষা করছে কাশেম আলী। শান্ত ঝিরঝিরে হাওয়াতেও ঘেমে উঠছে সে। মাঝে মাঝে গামছা দিয়ে কপালের ঘাম মুছে নিচ্ছে। অস্থিরতা যেন ক্রমেই বাড়ছে। অপেক্ষা ফুরায় না। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বটবৃক্ষের ছায়ার বাইরে পাটখড়ির বেড়া দেওয়া ছনের চালের ঘরটার দিকে। অনেকক্ষণ কেটে গেলেও ভেতর থেকে কেউ বেরোয় না। অবশেষে বুকে বল নিয়ে ঘরের দিকে এগিয়ে যায় সে। ঘরের কাছে পৌঁছাতেই কানে আসে কান্নার শব্দ। কান্না কি আনন্দের পরিপূরক। হয়ত!আনন্দে ভরে ওঠে তার বুক। সদ্যজাত ... ...
নাকছাবিমুহাম্মদ ফজলুল হকঅনিন্দ সুন্দর গ্রাম। সবুজের নান্দনিক আধিক্যে সতেজ চারপাশ। সরু খাল সাপের মত একেবেঁকে এগিয়ে গেছে গ্রামের একপাশ ঘিরে। অপর দিকে সারি সারি পুকুর। পুকুর পেড়িয়ে এগুলে বিস্তৃর্ণ ফসলি জমি। জমির মাঝ বরাবর মাটির রাস্তা দিয়ে হেটে কিছুদূর এগিয়ে গেলে আঁকাবাকা নদী। নদী, খাল, পুকুর ও ফসলি জমির আর্শীবাদ গ্রামকে জীবন্ত রেখেছে। মানুষকে সুখে-শান্তিতে বসবাসের রশদ দিচ্ছে। অনন্য পরিবেশে ঘনবসতি কম হওয়ায় শান্তিতে বসবাস করছে মানুষ।শান্তিময় গ্রামেজুড়ে অশান্তি শুরু হয় হরিদাসের নতুন বউয়ের মরাকান্নাতে। হারিয়ে গেছে তার সোনার নাকছাবি। নিশ্চয়ই চুরি হয়েছে। মানুষ জড়ো হয়। কোন সান্ত্বনায় কান্না থামে না। তার কথা একটাই। আমার নাকছবি চাই। হরিদাস অবাক হয়ে ... ...
প্রেমে-অপ্রেমেমুহাম্মদ ফজলুল হকমেঘনার পশ্চিম অংশে রেলসেতুর নিচে কিছুটা দক্ষিণ দিকে স্রোতবিনী নদীর কাছাকাছি পাথরের উপর বসে আছে সুরভি ও লিটন। তাদের চোখের সামনে অনিন্দ সুন্দর, মনোরম ও নান্দনিক দৃশ্যাবলী। বর্ষার পানিতে নদীর বুক ভরাট হয়ে পানি যেন উপচে পড়ছে। মাছ ধরার নৌকা, যাত্রীবাহী নৌকা, লঞ্চ, স্টিমার চলাচল করছে। নানাবিধ জলজ উদ্ভিদ ও ভাসমান প্লাঙ্কটন ভেসে যাচ্ছে স্রোতের টানে।সুরভি, নদী কী অদ্ভুত সুন্দর! প্রতিদিন দেখি। তবু আজ অন্যরকম সুন্দর লাগছে।লিটন, নদীর এখন ভরা যৌবন। যৌবনে সবাইকে অনিন্দ সুন্দর লাগে।কাছেই নরনারী গোসল করছে। বড়শি দিয়ে ছোট ছোট মাছ ধরছে কিছু লোক। উত্তর দিকে তাকালে চর সোনারামপুর ছাপিয়ে আশুগঞ্জের পাওয়ার হাউজ পিছনে ফেলে ... ...
বর্ষায় প্রেমমুহাম্মদ ফজলুল হকজীবনে অনিবার্য কিছু নেই। সময়ের আবর্তে বহুকিছু অনিবার্য হয়ে উঠে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে অনিবার্যতা বাড়তে থাকে। কখন কি অনিবার্য হয়ে উঠবে তা ব্যক্তি নয় সময়ই নির্ধারণ করে। আমীর আলীর একদা ইসমাইলকে ভালো লাগত। মাঠে, ঘাটে, গোসলে, বৃষ্টিতে কিংবা অলস দুপুরে পাখীর বাসা ভাঙ্গতে সর্বদা সঙ্গী ইসমাইল। এমন কোন কর্ম নেই এই মানিক জোড় করেনি।কৈশোর ডিঙ্গিয়ে যৌবনে পদাপর্নে আমীর আলীর মোহ পরিবর্তন হয়। তার জীবনে অনিবার্য হয়ে উঠে সুলতানা। টান টান ত্বক, ডাগর চোখ, ঢেউ খেলানো চুলের মেয়েটি তাকে স্তব্দ করে রেখেছে। নাওয়া-খাওয়া, ঘুম বন্ধ হয়ে আছে। সুলতানা তার আরাধ্য। সুলতানার চলন, বলন, তাকানোর ধরণ, ... ...