
জালালুদ্দিম রুমির গুরু শামস এ তাব্রিজি একবার কোনিয়া থেকে উধাও হয়ে যান। পরে তাঁর খোঁজ পেয়ে দামাস্কাস থেকে তাঁকে ফিরিয়ে আনতে চলে রুমির প্রিয় অনুগামী। পথে ফিরে আসতে আসতে শামস কত গল্প শুনিয়েছেন তাদের। সে সব গল্পগুলো গেল কোথায় ? উত্তর আসত পাগল শামসুদ্দিনের গল্প ? সে তো হাওয়ার গায়ে লেখা হয়েছিল ! ... ...

শ্লাম রিভিউ শুরুই করলেন একটা বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য দিয়ে। লিখলেন, “সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ আমাদের সতর্ক করেছেন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের ব্যাপারে নরম থাকতে। কিন্তু পেশাদার সততা আমাকে বাধ্য করছে জানাতে যে অ্যাডলফ হিটলার একজন নিম্নমানের লেখক।” এরপর লিখলেন, এই সাহিত্যিক সমালোচনা ওয়ারশর শিশুদের কাছে খুব একটা সান্ত্বনার কথা নয়। তবুও যা কাগজে ছাপা হয়েছে, মলাটের ভেতরে আছে, ওয়াশিংটনে কপিরাইট পেয়েছে, সেটা একটা বই-ই বলতে হবে, বইয়ের নাম ‘মাইন ক্যাম্ফ’ হলেও! ... ...

আসগর তার বাগানের একঢাল সবজি এনে হাজির করেছে ব্যাগ ভর্তি করে। নতুন কচি পটল, সজনে পাতা, সজনে ফুল, বেগুন, টসটসে পাকা লাল টমেটো আরও কতো কি! আসগরের আব্বাজান আফসরের সঙ্গে প্রিয়তোষের খুব খাতির ছিল। সেই দোস্তির ধারা এখনও বজায় আছে দেখে টিঙ্কা, পিঙ্কা অবাক হয়ে যায়। এখন রমজানের রোজা চলছে আসগরের, তাই এ বাড়ির কিছুই মুখে তোলার উপায় নেই। ... ...

দীনবালা সম্বন্ধে এইসব গল্প সত্যি না মিথ্যে, তা তার ছেলের বৌ তো দূরের কথা, নিজের ছেলেরাও জানে না। কারণ বড় ছেলের বয়স যখন পাঁচ বছর, দীনবালার স্বামীকে বাঘে খায়। এমন খাওয়া খেয়েছিল জন্তুটা, যে মানুষটার এক হাতের পাঞ্জা ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়নি। শুধু রক্তমাখা লুঙি তুলে এনেছিল তার নৌকার সঙ্গীসাথিরা, সুন্দরবনের রীতি রেওয়াজ অনুযায়ী সেই কাপড়ের টুকরোটাকে সাক্ষী রেখেই তার বৌয়ের সিঁদুর মোছা, শাঁখা ভাঙা, শ্রাদ্ধ ইত্যাদি কাজকর্মগুলো সারা হয়েছিল। ... ...

মায়োপিক ভিশন আমার, মানে, দূর-দৃষ্টি দুর্বল। চশমা ছাড়া এমনিতেই চারপাশ ঝাপসা দেখি। তার ওপরে এখন চোখ ঝলসানো রোদ্দুর। চোখদুটোকে সরু করে বাইরের তাকাচ্ছি আর ভাবছি, কোনও কাজ তো হলো না আজ, তার মানে আবার একদিন আসতে হবে এই মনোরম অভিযানে? মনটা বিগড়ে যায়। সেই বিগড়ানো মন নিয়ে কলেজস্ট্রিটের মোড়ে নামি। বাড়ি যেতে হলে বাস পাল্টাতে হবে এখানে। ... ...

সেই সংশোধনের কাজ চলছিলো। শরীর চলতে চায়না শফিকের। বুকে একটা চিনচিনে ব্যথা হচ্ছে কয়েকদিন হল। আগের রাতে ভাত খেয়ে জল খাবার পর কাজে বসেই শফিকের দুচোখে ঝাঁপিয়ে এলো ঘুম। টেবিলে মাথা রেখে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়লো। বৌ সকালবেলা চা দিতে এসে ফিরে গেলো। আহা, ঘুমাক একটু। ... ...

১৮৩০ সালের চৌঠা অক্টোবর একটি নতুন দেশের জন্ম ঘোষিত হল, ফরাসিতে বেলজিক, ফ্লেমিশে বেলজি জার্মানে বেলগিয়েন। রাষ্ট্রসঙ্ঘ অনেক দূরে; ইউরোপের তিন শক্তি, ইংল্যান্ড ফ্রান্স প্রাশিয়া খুশি, ফ্রান্স আর জার্মানির মধ্যে একটা বাফার স্টেট রাখা মন্দ নয় তবে মিলেছে দুটি শর্তে – প্রোগ্রেসিভ ভাবনা চিন্তা সহ লিবারাল প্রজাতন্ত্র নয়, দেশ হবে রাজতান্ত্রিক এবং অঙ্গীকার করতে হবে সকল যুদ্ধে সংঘর্ষে এ দেশ থাকবে নিরপেক্ষ, সুইজারল্যান্ডের মতন। নতুন দেশ, তার রাজা খুঁজতে খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দেওয়া হলো। শেষ অবধি যিনি গদিতে বসলেন সাক্সা কোবুর্গের সেই রাজকুমার লেওপোলড আবার প্রটেস্টান্ট! সেই একই বছরের জুলাই মাসে আমাদের স্কটিশ চার্চ কলেজের পত্তন হয় উত্তর কলকাতায়। সে কলেজের স্থাপনা হয়েছিল ভারতে শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে, ফ্ল্যানডারস এবং ওয়ালোনিয়া মিলে বেলজিয়ামের স্থাপনা হল ধর্মরক্ষার উদ্দেশ্যে। ... ...

স্বীকার করছি, আমরা এক নিরীহ, সরল এবং বিশ্বাসপ্রবণ জাতিকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছি; যারা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছিল, তাদের দিকেই ফিরেছি অস্ত্র তাক করে; এক সুবিবেচিত, সুশৃঙ্খল প্রজাতন্ত্রকে ভেঙে চুরমার করেছি; মিত্রের পিঠে ছুরি মেরেছি, অতিথির গালে সপাটে চড় কষিয়েছি; এমন এক শত্রুর কাছ থেকে ছায়া কিনেছি, যার নিজেরই তা বিক্রি করার অধিকার ছিল না; এক বিশ্বস্ত বন্ধুর ভূমি ও স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিয়েছি; ... ...

প্রথমত, যন্ত্র হিসেবে ‘জাতি’, মানুষের সেই সব দিককে উপেক্ষা করে, যেগুলি মুনাফা অর্জনের ধারণার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। উদাহরণস্বরূপ, মানুষের স্বাভাবিক পরোপকারিতা বা আত্মত্যাগের প্রবণতাকে জাতি-রাষ্ট্রের যন্ত্রচালিত কাঠামো উপেক্ষা করে। রবীন্দ্রনাথের মতে, কারণ আত্মত্যাগ মুনাফা-উৎপাদনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নয়। অথচ পরোপকারিতা ও আত্মত্যাগই মানুষের উচ্চতর মানবিক সত্তার পরিচায়ক। দ্বিতীয়ত, জাতীয় যন্ত্রের মধ্যে মানুষের অবস্থান মানুষ ও যন্ত্রের স্বাভাবিক সম্পর্ককে উল্টে দেয় এবং তার স্বাধীনতাকে প্রসারিত করার পরিবর্তে সীমাবদ্ধ করে ফেলে। এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ মানুষের সঙ্গে মোটরগাড়ির সম্পর্কের উদাহরণ দিয়েছেন। ... ...

কিন্তু, স্কিলেট আবার গল্প বলবে কী করে? একটা বাসন কি কথা বলতে পারে নাকি? হুঁ পারে বটে; যদি সেটা জাদু বাসন হয়! দিদি-আম্মার এই লোহার তাওয়াটা জাদু করা ছিলো।একটা ব্যাপার অবশ্য আছে। যে কেউ কিন্তু সে গল্প শুনতে পাবেনা! শোনার জন্য তোমাকে বাসনদের ভাষা জানতে হবে। সে ভাষায় কোনো শব্দ নেই। শুধু গন্ধের ভাষা, আর স্পর্শের। ওর হাতলের ঠান্ডা ছোঁয়া, মাঝখানটা বহু বছরের ব্যবহারে মসৃণ... এক ঝলক বেকন ভাজার গন্ধ, কখনো দারচিনি আর পীচফলের... কী কোমল ভাষা! এত সুক্ষ্ম, এত কবিতা কবিতা, পৃথিবীর কোনো বইয়ে তার খোঁজ পাওয়া যায়না! গল্পগুলো আমার চোখের সামনে ছবির মতো ফুটে ওঠে। স্পষ্ট, ঝকঝকে। কখনো মনে হয় ১৯৪০ সালের কোনো সিনেমা। কখনো যেন অদ্ভুত সুন্দর সেই সব পেইন্টিং, ভার্মিয়ের যাদের কোনোদিন আঁকেননি। ... ...

বিশ শতকের শেষ দশকে বাংলা সাহিত্য পড়ে এ কথা অনুমান করা কঠিন হবে যে, বিষয় নির্বাচনে ও পরিবেশনায় সে যুগে শরৎচন্দ্র কি প্রচণ্ড বলিষ্ঠতার পরিচয় দিয়েছেন। শরৎচন্দ্রের সারাজীবনের রচনা থেকে এর উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে অনেক। সমাজ, ধর্ম, অধর্ম, অবৈধ প্রেম, সংস্কার ও সতীত্ব ভ্রষ্টতা ইত্যাদি প্রায় অনেক চোখ বুজে ঠেলেরাখা চরিত্ররা সব ভিড় করেছে তাঁর কথা সাহিত্যে। আমি শুধু উদাহরণ দিই একটা ছোট গল্প থেকে। ‘পথনির্দেশ’ গল্পে হেমনলিনী তার সম্পর্কিত এক ভাই গুণেন্দ্রকে ভালবাসে। কিন্তু সেদিনের সমাজের সঙ্গে তাল রেখে জোর করে হেমনলিনীর বিবাহ দেওয়া হল অন্যত্র। এক বছর পরে হেমনলিনী বিধবা হয়ে ফিরে এলো। ... ...

অনন্ত বাবুর কাহিনী এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শান্তিরাম বাকরুদ্ধ। কোনরকম ফোড়ণ কাটতেও সে ভুলে গেছে। এবার সে উৎকণ্ঠার সঙ্গে জিজ্ঞেস করে --"তারপর? কোন অঘটন ঘটেনি তো?" অনন্ত বাবু একবার শান্তিরামের দিকে তাকালেন, বললেন, "আরে বাবা শোনোই না"। তারপরের দিন খুব ভোর থাকতে কালুয়া বেরিয়ে পড়ে। পাইকারদের কাছ থেকে কিছু মাল ধরতে হবে। সে এখন দক্ষ ব্যবসায়ী। হবে নাইবা কেন? দুই তিন বছর বয়সে যার পেটে মদ পড়েছে, জন্মে থেকে যে মাতৃহারা এবং কার্যত পিতৃহারা, সে সার্ভাইবাল এর তাগিদে নিজেই অভিযোজনে সক্ষম। ... ...

কিছুক্ষণ আকাশ থেকে বালি খসে পড়ার পর আমরা নিজেরা নিজেদের সম্বিৎ ফিরে পাব। পিছনে তাকিয়ে দেখব যে পাহাড়- পরিখা আমরা পেরিয়ে এসেছি, দিগন্তে তারা কী প্রিয় অলংকারের মতো দাঁড়িয়ে আছে! যে ঘাসবন আমরা পেরিয়ে এসেছি, সেই ঘাসবন তখনো শিশুর মতো দুলছে। আমরা নিজেদের চুনে, হাড়ে ফিরে যাব। ফিরে যাব নিজেদের কঠিন কঙ্কালে। ... ...

রূপ গোস্বামীকে শিক্ষাদানের সময় চৈতন্যদেব বলছেন ‘স্বর্গ মোক্ষ কৃষ্ণভক্ত নরক করি মানে’। মোক্ষের মধ্যে শান্ত-দাস্য-বাৎসল্য-সখ্য-মধুর রসে কৃষ্ণসেবার আনন্দ নেই। ‘সে অমৃতানন্দে ভক্ত সহ ডুবেন আপনে/ কৃষ্ণভক্ত-রসগুণ নহে ঐশ্বর্য্যজ্ঞানিগণে।‘ এখানে ঐশ্বর্য্যজ্ঞানী অর্থে ব্রহ্মজ্ঞানী বা উত্তর-মীমাংসকদের কথা বলছে, যাঁরা বলতেন জ্ঞানের মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরসম অবস্থায় পৌঁছতে পারে। এই ব্রহ্মজ্ঞানকে নাকচ করে বলছেন ‘ব্রহ্মানন্দ হৈতে পূর্ণানন্দ কৃষ্ণগুণ’। একইভাবে পূর্ব-মীমাংসক বা কর্মকাণ্ডবাদীদেরও তিনি বিরোধিতা করছেন। ... ...

আসমা প্রচণ্ড বিরক্ত হলেন। মনে হল যেন গোটা টাওয়ার ভেঙে পড়ল। একটা কাজ ঠিক করে করার উপায় নেই। সব সময় ঝামেলা। ফিরনির গ্লাস ছেড়ে আসমা দৌড়ে বাইরে এলেন। এসেই হতবাক। ওকি কে পড়ে উঠোনে? সাদিয়া? সামনে একটা ছোটো জলের বোতল। গড়াগড়ি যাচ্ছে। মুখ খোলা। চারিদিকে সাদা সাদা জলীয় বস্তুও ছিটিয়ে পড়ে আছে। কী ওগুলো ? দুধ ? কয়েক মুহূর্ত আসমা থমকে গেলেন। তারপর চেঁচিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, "এসব কী হচ্ছে ওসমান? ও পড়ে গেলো কী করে? সাবধানে চলতে বলি। কথা তো শুনবে না।" ... ...

প্রাচীন লোকগাথার আমার প্রিয় দ্বিতীয় রত্নটি, বাস্তবিক একটি অদ্বিতীয় অতুলনীয় মহাজাগতিক চেতনা। সাড়ে চার হাজার বছর আগের এই সেই প্রসিদ্ধ নাসদীয় সূত্রটি। রিলিজন অর্থে যে কোন ধর্মের উদ্ভবের বহু আগে, ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের ১২৯ তম স্তোত্রে উদ্ধৃত, যা স্তোত্রটির প্রথম ছত্রানুসারে নামাঙ্কিত। নাসদাসীন্নসদাসীৎ- না ছিল অনস্তিত্ব, না অস্তিত্ব। আধুনিক কালে যাকে আমরা বলি 'আদি মহাবিস্ফোরণ', সেই বিগ ব্যাং-এর পলমাত্র আগে, কেমন ছিল মহাবিশ্বের রূপটি, সেই জন্মলগ্নটি বুঝে নেওয়ার প্রচেষ্টায়, এই 'সূত্র' - একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ। ... ...

এই জিনিস বুঝার পরে আমার কাছে কেমন জানি লাগে এই উৎসব গুলোকে। এত নগ্ন হয়ে যায় সব কিছু অথচ এইটা এতদিন কেন মাথায় আসল না? ইদকে ঘিরে চলে কত হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য অথচ এর পুরোটাই লোক দেখানো কেন্দ্রিক! আমি পরব তোমরা দেখবা। তোমরা কত দামি পরতে পারছ আর দেখ আমরা কী করছি! আমি উৎসবের বিপক্ষে না, উৎসবের দরকার আছে। কিন্তু যদি শুধু এই অসুস্থ প্রতিযোগিতাটা বন্ধ হত! কেন ইলিয়নের একটা পাঞ্জাবির দাম হবে বিশ হাজার টাকা! কেন তা পরবে মানুষ? দেড় দুই লাখ টাকার লেহেঙ্গা! এইটা কোন লেবেলের অসভ্যতা? জাতি যখন নিশ্চিত একটা ক্রান্তিকালীন সময় পার করছে তখন সবাই ঝাঁপিয়ে পরে কাপড় কিনছে! এইটা একটু ভাবলেও তো কেমন লাগে না? ... ...

কমলদি টিঙ্কু পিঙ্কুকে হেঁকে বলেন 'ডাক দিকি ওই গুরুচন্ডা৯র ইয়াং ব্রিগেডকে। বল দেয়ালে, দোকানে, গাছে, মাঠে পোস্টার সেঁটে দিতে। যে যেখানে আছে সবাই যেন গল্প, কবিতা মুক্তগদ্য, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, উপন্যাস, অনুবাদ, ছবি, কার্টুন, রম্যরচনা আরো যা যা পারে সবরকম লেখাপত্র ঝপাঝপ জমা করে দেয় গুরুচন্ডা৯-র ইমেল বাক্সে। ইদবোশেখির ১৪৩৩ সংখ্যায় ধরা থাক সেই লেখারা, বাঁধা থাক জগৎজোড়া জালে।' ... ...

কমনরুমে জনা ছয়েক চুপচাপ বসে আছে। কিছুক্ষণ পরে কৌশিকবাবু গলা খাঁকারি দিলেন, ‘'তাহলে কী করা যায়? ডিআই অফিস থেকে তো কিছুই বলতে পারছে না।” এ ওর মুখের দিকে তাকায়, পলাশ আস্তে বলে আমরাই নাহয় মাসে মাসে কিছু করে দিয়ে মৃন্ময়দের আসতে বলি। কৌশিকবাবু চিন্তিত মুখে বলেন তাতে আবার আদালত অবমাননার দায়ে পড়ব না তো…। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে মৃন্ময় শ্রীলা তাহমিনাসহ ছয়জনের চাকরি গেছে এই স্কুল থেকে। ... ...

তিন বছর বাড়ি থেকে কাজ করার পর হঠাৎ অফিস সবাইকে ডেকে পাঠিয়েছে। সপ্তাহে দু দিন। কিন্তু লোকজনের গড়িমসি। অভ্যাস হয়ে গেছিল। ঢিকিয়ে ঢিকিয়ে এতদিনে তাও তারা দুদিন করে আসতে শুরু করেছে। সামনের বছর থেকে শোনা যাচ্ছে সপ্তাহে তিনদিন আসতে হবে। অফিসে আরো অনেককিছু এতদিনে বদলে গেছে। সেখানে ঢোকার মুখে একটা ক্যামেরা। তার পাশে একটি পাতলা টিভি স্ক্রিনে যদি মাথার চারপাশে সবুজ একটা বর্গক্ষেত্র ফুটে ওঠে, অফিসে ঢোকা যাবে। লাল বর্গক্ষেত্র ফুটে ওঠা মানে শরীর ঠিক নেই, জ্বর, সেদিন বাড়ি ফিরে যাওয়া দরকার। ভেতরে দেওয়ালে দেওয়ালে স্যানিটাইজার ডিস্পেন্সার। চ্যাটচ্যাটে আঠালো তরলে জমে আছে বুদ্বুদ। হাত নিচে নিয়ে গেলেই একদলা ছ্যাত করে হাতে পড়ে। ভুল করে সেই সান্দ্র আঠায় ধোয়া হাতের আঙ্গুল ঠোঁটে বা জিভে লেগে গেলে তেতোভাব। ... ...