এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • অনিদ্রা থেকে জেগে ওঠা খুব কঠিন- অরিত্র আহমেদ 

    Aritra Ahamed লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬৩ বার পঠিত
  • *
    যার সামনে দাঁড়ালে
    নিজেকে ছোটো মনে
    হয়,
    সেকেলে মনে হয়,
    অচল মনে হয়,
    সে তো একটা আয়নাই
    বস্তুতঃ,
    যাকে ভেঙে ফেলতে
    মন চায় মাঝেমাঝে;

    সে-ও হয়তো মনে করে
    আমি একটা আয়না,
    যার সামনে দাঁড়ালে
    নিজেকে বড়ো মনে হয়,
    নতুন আর চকচকে মনে
    হয়,
    সেক্সি মনে হয়;

    ফলে সে-ই আমাকে উদ্ধার
    করে
    ভগ্নদশা থেকে;
    ধুয়ে, মুছে, মেজে ঠিকঠাক করে নেয়,

    আর ঝুলিয়ে রাখে
    ঘরের একান্ত আয়নার
    মতো;
    দেয়ালে।

    *
    সব ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলে একটা কাঠের ঘোড়া ভাবলো
    সে পোকা হবে,
    একটা সত্যিকার পোকা,
    রক্ত-মাংসের নরম, জীবন্ত পোকা,
    যে নাকি যখন খুশি যেখানে খুশি লুকিয়ে থাকতে পারে,
    যখন খুশি উড়তে এবং যেখানে খুশি আয়েশ করে ঘুমোতে পারে,
    যেমন, ঘরের কোনায়, খাঁটের ফাঁকে, চিলেকোঠায়, বা একটা পচাগলা লাশে,
    এবং ইঁটের ফাঁকে পা আঁটকে গেছে যে মানুষের,
    তার গা থেকে খানিকটা রক্ত শুষে নিতে পারে-

    কিন্তু তার ভাবনা ভাবনাই;
    সে যে কাঠ, সেই কাঠ, আর যে ঘোড়া, সেই ঘোড়াই রয়ে গেলো,
    বাদবাকি ঘোড়াদের মতোই মালিকের চাবুকের অপেক্ষায় কেটে গেলো তার নষ্ট, ক্ষুদ্র, ফ্যাকাশে জীবন-

    কেবল একটা পোকা হওয়ার ইচ্ছেই আত্মার মতো চিকচিক করতে লাগলো
    তার সারা গায়ে, সারা অস্তিত্বে,
    এবং তার ভেতরের সমস্ত ঘোড়া আর সমস্ত কাঠের মধ্যে খালি ওই একটুখানি ফাটল,
    যে ফাটলটা একসময় পোকার মতো ভয়ঙ্কর আর বিধ্বংসী হয়ে কুরে কুরে খেতে লাগলো
    রাজ্যের সমস্ত ঘোড়ার কাঠ, সমস্ত কাঠের ঘোড়া, আর সমস্ত মালিকের সমস্ত চাবুক,
    ঘোড়াটা নিজে পোকা হতে পারলো না, কিন্তু সূচনা করে গেলো একটা পোকার,

    এবং ঘোড়া, কাঠ, মালিক, চাবুক সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেলে
    ওই চিকচিক করা ইচ্ছেটা, ওই ছোট্ট পোকাটা একা পড়ে রইলো নির্মম শূন্যতার মধ্যে,
    কেননা কুরে খাওয়ার মতো কাঠ আর নেই,
    খুন করার মতো মালিক আর নেই,
    টেনে ছিড়ে ফেলার মতো চাবুক
    আর নেই,

    কেবল একটা ইচ্ছে, ইচ্ছে,
    আর ইচ্ছেই আছে, আর চারদিকে তারই দাপাদাপি,

    সে ফিরে চাইলো ঘোড়া আর মালিক, কুনোব্যাঙ আর জোনাকি, শিলাবৃষ্টি আর আত্মমৈথুন,
    সে হতে চাইলো একই সঙ্গে কাঠ আর কাঠের পোকা, একই সঙ্গে মৃত্যু এবং অমরতা,
    একই সঙ্গে খুনী এবং নিহত, ঐশী এবং পার্থিব,
    এবং তার দপদপে হতাশা আর আত্মবিরোধ থেকেই জন্ম নিলো
    একটা জগৎ,

    যেখানে প্রত্যেকেই প্রকারান্তরে নিজেকে খুন করে,
    যেখানে প্রত্যেকেই তার নিজের মালিক, এবং সেই কারণেই নিজের খুনী,
    যেখানে প্রত্যেকেই সে যা, তা ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে না কখনো,
    এবং যেখানে প্রত্যেকে তার নিজের ভেতরে লুকিয়ে রাখে
    একটা নরম,
    জীবন্ত পোকা,
    যে পোকাটা হাজার মরণশীলতার মধ্যেও নিজেকে রক্ষা করে চলে একটা ছাপোষা যন্ত্রের মতো,
    কেননা, হয়তো এর জন্যই
    সে আদিষ্ট;
    হয়তো কাঠের ঘোড়াকে হত্যা ও আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়াই
    তার কাজ,

    কিন্তু নিজেকে খুন করার, বা নিজেকে নিহত হতে দেখার সৌভাগ্য তার নেই, আর থাকবেও
    না!

    *
    যেটুকু বিষণ্নতা
    জমিয়েছি,
    তা-ই যথেষ্ট
    ভবিষ্যতের জন্য;
    সারা শীতকাল ঘরে বসে থাকলেও
    অনাহারে মরবার কোনো সম্ভাবনা নেই।

    *
    সন্ধ্যা থেকে যে
    বিষণ্ণ,
    আদতে সে
    কেবল সন্ধ্যা থেকে
    না,
    বরং জন্ম থেকেই বিষণ্ন,
    বা হয়তো বিষণ্নতা
    থেকেই তার জন্ম।

    *
    আজ রাতে আমি কোনো
    কিছুকেই ভয় পাই না।
    মৃত্যুকে না,
    এমনকি বিষণ্নতাকেও
    না;
    ধরেন, এই যে আমার আদৌ কোনো মুক্তি নেই,
    এই ব্যাপারটাকেই
    তো উদযাপন করা যায়,
    মরে গিয়ে,
    বিষণ্ন হয়ে,
    একবার নয়, বারবার;
    আজ রাতে আমি আমার
    ভয়কেই উদযাপন করছি।

    *
    ধরেন, আমি সাপ-পোকা খাই,
    আমার মগজের জায়গায়
    আছে হাঁটু, আর
    হাঁটুর জায়গায় আছে
    ৩/৪ টা কান;
    ধরেন, আজ রাতে আমি অত্যন্ত বিষণ্ন:

    এখন, এইটা তো স্বাভাবিক যে, যার মগজে
    হাঁটু,
    খানিকটা বিষণ্ন সে
    হবেই, কেননা
    মগজে হাঁটু থাকাটা
    দুঃখজনক একটা ঘটনা,
    আর সাপ-পোকাও খুব বিশ্রী স্বাদের খাবার,
    যে কারণে মন খারাপ
    হওয়াটা দোষের কিছু না-

    কিন্তু ধরেন, সত্যিটা হলো, আমার মগজে মগজ,
    আর হাঁটুতে হাঁটুই
    আছে, আর সাপ-পোকাও
    আমি খাই না-
    আর তারপরও এই যে
    আমি বিষণ্ন, এইটা কেনো?
    --কেনো কেনো কেনো কেনো কেনো
    কেনো কেনো?

    *
    আমি যেনো পড়ে আছি
    ঢালু বিছানায়
    নভেম্বরের মৃত সকালের
    মতো;
    কেউ তা জানে না।

    আমি ঝরে পড়ে গেছি
    অববাহিকায়
    তুমুল ঠাণ্ডায় জমা
    পাখিটার মতো;
    কেউ তা জানে না।

    আমি পা পিছলে ঘোর
    বিষণ্নতায়
    পড়ে গেছি নিরুপায়
    বামুনের মতো;
    কেউ তা জানে না।

    *
    সকাল সকাল বিছানায় গিয়ে অনিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে
    পরেরদিন সকাল সকাল যে অনিদ্রা থেকেজেগে ওঠে,
    সে সারাদিন বিষণ্ন থাকে,

    এবং কোনো কাজই সে সময়মতো শেষ করতে পারে না;

    নিদ্রা আর অনিদ্রার মধ্যে পার্থক্য
    এখানেই: অনিদ্রা থেকে জেগে ওঠা খুব কঠিন।

    *
    আজ ঘুম ভাঙবে দেরীতে
    জেগে উঠে চোখ কচলাতে কচলাতে দেখবো:

    পরকালের মতো দুপুর আমার সামনে দাঁড়ানো
    হিসাব নেবার অপেক্ষায়
    মহাকালের মতো দুপুর আমার চেয়ারে বসা

    হলুদ পুঁজের মতো রোদে ভেজা নোংরা বিছানা
    হঠাৎ ফুলে ফুলে ভরে যাবে
    হঠাৎ তুলতুলে মনে হবে পাঁজরের মেহগনি কাঠ, বিছানার ফুল

    আমি কোনো হিসাব দেবো না
    সকাল সকাল অঙ্কের খাতা ভরিয়ে ফেলা ছাত্র আমি না
    প্রতিদিন জিমে যাওয়া আত্মমুগ্ধ, সুবোধ বালক আমি না
    আমি ঘুমাই এবং মাঝেমাঝে বেশিই ঘুমাই
    মাঝেমাঝে সামনে দাঁড়াই পরকালের

    আজও ঘুম ভাঙবে দেরীতে
    অনেক রোগ আর জীবাণুর মতো ঘুমের বড়িও
    নিউট্রাল হয়ে গেছে আমার রক্তে-
    এখন ওসব খেলেও সময়মতো ঘুম আসে না
    সময়মতো ভাঙেও না

    তবে একবার জাগলে সারাদিনই চোখ কচলাই
    কচলাই চোখ কচলাই

    *
    প্রসঙ্গত বলি, আমি বেঁচে আছি,
    স্রেফ বাবা চান আমি বেঁচে থাকি বলে
    মা চান আমি বেঁচে থাকি বলে
    এমনও বলাই যায়, তাদের অস্তিত্ব আর
    আমার অস্তিত্ব সমার্থক-
    এমনও বলাই যায়, তাদের মরণে
    আমার যেটুকু মরে যাবে, স্রেফ সেটুকুই আমি-
    এরপর যা থাকে, তা নবায়নযোগ্য, নৈর্ব্যক্তিক,
    গ্লোকাল শপিং মলে কিনতে পাওয়া যাবে!

    *
    আমার প্রতিটা ব্যর্থতাই ইউনিক;
    কোনো অ্যালগরিদম নেই,
    কোনো কমন প্যাটার্ন নেই,
    যতোই সবকিছুতে পুনরাবৃত্তি খুঁজি না কেনো,
    প্রতিটা ব্যর্থতাই স্বাদে-গন্ধে আলাদা,
    আমার স্নায়ুতে তাদের ইফেক্টও আলাদা আলাদা-
    জীবনের সফলতাগুলি আমি এতো অনায়াসে পেয়েছি যে,
    যখনই পা হড়কেছে, বহু দূর থেকে দেখতে হয়েছে
    ব্যর্থতার মুখ, ব্যর্থতার ছায়া,
    কখনো চেনার ইচ্ছে হয়নি নবাগত ব্যর্থতাকে;
    বরং স্ট্রাগলকেই মাঝেমাঝে ব্যর্থতা মনে হয়,
    স্ট্রাগলকেই গালি দিই অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে,
    আর যখন আসলেই ব্যর্থ হই,
    তখন পিছনে ফিরি, চোখ বন্ধ করে প্রাণপণে
    অ্যালগরিদম খুঁজি, আদিপাপ খুঁজি-
    যেনো এই ব্যর্থতাও একই লোক, একই শয়তান, একই পাপের শাস্তি-
    আজ মনে হচ্ছে, যদি ব্যর্থতাগুলিকেও ঠিকমতো কদর করতাম,
    অনেক রঙিন হতো আমার জীবন।

    *
    যদি সংসার মানে হয় মা,
    সংসার মানে হয় বাবা,
    যদি সংসার মানে হয় ভেঙে ফেলা বাড়ি
    আর সে বাড়ির স্মৃতি,
    সংসার মানে হয় কপোতাক্ষ নদ
    আর শীতের সকালে মৃদু
    ‘হয়তো কিছুই নাহি পাবো',

    তবে আমি অষ্টাবক্র গীতা ফেলে দিয়ে
    নির্দ্বিধায় সংসার নেবো!

    *
    একদিন সকালবেলায় ঘুমথেকে উঠে সে দেখলো,
    সে নিজে পোকা হয়ে যায়নি বটে,

    কিন্তু সে ব্যাপকভাবে পোকাদের উপর নির্ভরশীল:
    কেননা তার পরিবারের সবাই পোকা,
    তার বিশ্ববিদ্যালয়ে সবাই পোকা,
    তার সতীর্থ বেকারেরা পোকা,
    বাসে উঠে দেখলো,
    সেখানেও সবাই পোকা;

    পোকারা চলছে, চালাচ্ছে;

    শাসাচ্ছে; পোকাদের উপর পোকাদের শাসন-প্রশাসন
    জমে উঠেছে দাসব্যবসার মতো;

    মানে সে যে একটু ফুরসত নেবে,
    সে সুযোগ নেই;

    এমনকি সবচেয়ে ব্যক্তিগত সময়েও
    প্রার্থনা করতে গিয়ে সে দেখলো:
    সে হাত পাতছে পোকার মতন কোনো দেবতার কাছে,

    বা হয়তো, দেবতার মতোকোনো পোকার কাছেই।

    *
    নজরুলের ওই গানটা সত্যি হলে ভালো হতো- ‘তোমার মহাবিশ্বে কিছু হারায় না তো, প্রভু!’ আসলে হারিয়ে যায়, কিন্তু আমরা চাই না হারাক। বৃদ্ধ বাবা-মা যাদেরকে মুখ ফুটে ভালোবাসি বলিনি কখনো, বিবাহিত ভাই-বোন, কিছু পরিচিত মুখ, কিছু দৃশ্য, শৈশব, একটা পোষা কুকুর, কয়েকটা পোষা বিড়াল, হালখাতা, মধুমেলা, একটা মেয়ে যাকে ভালোবাসতাম, একটা মেয়ে যে আমাকে ভালোবাসতো, একটা নারীদেহ যা চিরন্তন সদাপবিত্র সদানতুন, একজন শিক্ষক যিনি অকালে চলে গিয়েছিলেন- কিছুই হারায় না যেনো! জীবনে সবসময় সবকিছু থাকে না, জীবন নিজেই একসময় থাকে না, কিন্তু মানুষের মৃত্যু মানেই যেনো স্মৃতিহীনতা না হয়, শূন্যতা না হয়- এই তো আমরা চাই! তোমার মহাবিশ্বে কিছু হারায় না যেনো, প্রভু!

    *
    ব্যর্থতাকে এতো কাছ থেকে কখনো দেখিনি,
    ফলে ব্যর্থতা যে এমন পেলব হতে পারে,
    জীবনদায়িনী হতে পারে-
    জানাই ছিলো না;
    কখনো ভাবিনি স্রেফ খাঁচার বিষাদ জেনে
    পাখি রয়ে যেতে পারে; ব্যর্থসুখে রয়ে যেতে পারে।

    *
    ঘুমানোর আগের যে নির্ঘুম নির্ঘুম ভাব,
    ওইটাই আমার সামারি,
    আই মিন, ওইখানে যতো নির্মমভাবে আমি আছি,
    বা আমাকে পাবেন,
    ততো আর কোত্থাও সম্ভব না-

    এই নির্ঘুমতাগুলি একদিন হয়তো থাকবে না,
    ব্যস্ততর কোনো ভবিষ্যতে, হয়তোবা;
    এই আমিআমি ভার, আজন্ম বিষাদ,
    সুদূর অনস্তিত্ব- কিছুতেই নিতে পারি না আর
    কী রাতে কী রাতের অবসানে

    ভাবি যদি ঢেলে দেওয়া যেতো গঙ্গাজলে অন্তর্গত ভঙ্গুরতাগুলি
    পড়ে থাকতাম জিলজিলে খালি বাক্সের মতো
    দায়হীন, বাচ্চারা নিয়ে গেছে ভিতরের তিতা চকোলেট-

    ঘুমোনোর পরেই যে ঘুমঘুম ঘুমঘুম ভাব, যে ফ্যান্টাসি ন্যাপ,
    ওইখানে আমাকে পাবেন,
    অ্যাকচুয়াল সেল্ফ-
    আমি সম্ভবত নেই: তাকালে পাবেন কিছু আলুথালু ঝিলিক, সামারি।

    *
    চোখ দেখলেই চেনা যায়

    তার ওপর মুখের ছাদ
    ঠোঁটের রং
    চুল
    এবং কথার টোন ও
    নীরবতার ওজন মিলায়ে দেখলে
    না চিনে উপায় নাই:

    মৃত্যুর ছোটো ভাই,
    ঘুম।

    *
    ধরো, একদিন সকাল বেলায় ঘুম ভাঙতে দেখলাম যে,
    আমি বিড়াল হয়ে গেছি;
    বন্ধুরা শুয়ে আছে পাশাপাশি দুই খাটে,
    ঘুমাচ্ছে বিদঘুটে রকম নাক ডাকতে ডাকতে
    ডাকতে ডাকতে ডাকতে,
    আমি যে তুলতুলে, লাল, ধুরন্ধর বিড়াল হয়ে গেছি,
    ওরা সেইটা জানে না; এখন, বলো তো,
    কী করা উচিত আমার? ব্যাপারটা তো এরকম না যে,
    আমি কখনো বিড়াল হতে চাইনি,
    বা, মানুষ হয়েছি বলে মানুষ হয়েই আমার মরা লাগবে-
    ব্যাপারটা তো এরকমও না;
    তাছাড়া দিনকাল যেভাবে কাটছিলো, তাতে এই যে আমি
    চার পায়ের একটা ছিমছাম, নরমাল, আদুরে বিড়াল হয়ে গেছি,
    এতে তো আমি খুশিই,
    আমি তো আরো চাই, আমার হদয়টাও বিড়ালের মতো হয়ে যাক,
    আমার ইচ্ছা-অনিচ্ছাগুলোও বিড়ালের মতো হয়ে যাক,
    এমনকি হাশরের দিনও যেনো বিড়াল হয়েই
    আমার জীবনের সব হিসাব তুলে দিতে পারি আল্লার কাছে-
    তাই আমি আসলে কাউকেই জাগাবো না,
    বন্ধুরা ঘুমাচ্ছে, ঘুমাক;
    ওরা ছাড়া তেমন কেউই জানে না আমি কে, কোথায় থাকি;
    কাল থেকে আমি যতো নিখোঁজই হই না কেনো, কারো মাথায়ই আসবে না
    যে, আমি বিড়াল হয়ে গেছি, বা মানুষের পক্ষে বিড়াল হয়ে যাওয়া আদৌ সম্ভব;
    আমি যেহেতু পালাতেই চাই, সেহেতু
    জাস্ট দরজাটা খুলে চুপচাপ রাস্তায় বের হয়ে যাবো,
    কাউকেই না জানায়ে, একলা- জানি না, এর চেয়ে বেশি কিছু
    আমি কখনো চেয়েছি কিনা,
    বিড়ালের মতো তুলতুলে, লাল এই হৃদয়,
    বিড়ালের মতো অন্ধকারেও দেখতে পাওয়া দুইটা চোখ,
    বিড়ালের মতো পালায়ে যাওয়া চুপিসারে-
    আমার কপালটা খুব ভালো যে, আমি আজ সকাল সকাল নির্ভেজাল বিড়াল হয়ে গেছি।

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে প্রতিক্রিয়া দিন