এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • বুলিয়ান বীজগণিত: রাজার নতুন শিক্ষানীতি  অধ্যায় ১: বুলিয়ান বীজগণিত কী? —  AI  

    albert banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৩৭ বার পঠিত
  • 1 | 2 | 3
      লিলির লাইট জ্বালানো

    আগের বার রাজা লিলি আর মিমির কাছ থেকে সেট থিওরি শিখে খুব খুশি হয়েছিলেন। তিনি দেখেছিলেন, গল্প বলে সহজভাবে শেখালে ১২ বছরের বাচ্চারাও কঠিন বিষয় বুঝতে পারে। এবার তিনি আরেকটি বই লিখতে চান। বইটির নাম হবে বুলিয়ান বীজগণিত।

    রাজা আবার শিক্ষামন্ত্রীকে ডেকে বললেন, "মন্ত্রী মহোদয়, এবার আপনি বুলিয়ান বীজগণিতের ওপর একটা বই বানান। ১০টা অধ্যায় হবে, গল্পের মতো সহজ হবে, আর লিলি আর মিমি যেন সেটা পড়ে বুঝতে পারে। প্রথম অধ্যায়টা যেন খুব মজা হয়।"

    শিক্ষামন্ত্রী আবার সেই সেরা শিক্ষক আর গণিতবিদদের ডাকলেন। তারা মিলে বানালেন এই বইয়ের প্রথম অধ্যায়। চলুন দেখি, তাঁরা কী বানালেন।

     সন্ধেবেলার ঘটনা

    সেদিন সন্ধেবেলা লিলি তার ঘরে বসে বই পড়ছিল। হঠাৎ ঘরটা অন্ধকার হয়ে গেল। লিলি দেখল, তার টেবিল ল্যাম্পটা জ্বলছে না। সে সুইচ টিপল। সুইচ টিপতেই ল্যাম্প জ্বলে উঠল। আবার টিপলে নিভে গেল। আবার টিপলে জ্বলে উঠল।

    লিলি খুব মজা পেল। সে বারবার সুইচ টিপে লাইট জ্বালাতে আর নিভাতে লাগল।

    ঠিক তখন মিমি ঘরে ঢুকল। সে বলল, "আপু, কী করছিস?"

    লিলি বলল, "দেখ, এই সুইচ টিপলে লাইট জ্বলে, আবার টিপলে নিভে যায়। কত মজা!"

    মিমি বলল, "এটাতো খুব সাধারণ ব্যাপার।"

    লিলি বলল, "সাধারণ হলেও এখানে একটা গণিত লুকিয়ে আছে।"

    মিমি অবাক হয়ে বলল, "গণিত? লাইট জ্বালানো আর নিভানোর মধ্যে আবার গণিত কী?"

    লিলি বলল, "চল, মাকে জিজ্ঞেস করি।"

    তারা দুজনে মায়ের কাছে গেল। লিলি বলল, "মা, লাইট জ্বালানো আর নিভানোর মধ্যে কোনো গণিত আছে?"

    মা হাসলেন। তিনি বললেন, "অবশ্যই আছে। সেটার নাম বুলিয়ান বীজগণিত।"

    মিমি বলল, "বুলিয়ান বীজগণিত? অদ্ভুত নাম তো!"

    মা বললেন, "এই নাম এসেছে জর্জ বুল নামের একজন গণিতজ্ঞের নাম থেকে। তিনি প্রায় ২০০ বছর আগে এই বীজগণিতটা আবিষ্কার করেছিলেন।"

    লিলি বলল, "তিনি কী আবিষ্কার করেছিলেন?"

    মা বললেন, "তিনি দেখিয়েছিলেন, যুক্তি আর চিন্তাভাবনাকেও গণিতের ভাষায় লেখা যায়। যেমন তোর লাইটটা — এটা জ্বলে অথবা নিভে। এর মাঝামাঝি কোনো অবস্থা নেই।"

     দুই অবস্থার জগৎ

    মা তাদের একটা কাগজ এনে দিলেন। তিনি বললেন, "এই কাগজে একটা বৃত্ত আঁক। বৃত্তের ভেতর লেখ 'লাইট জ্বলা', বাইরে লেখ 'লাইট নিভা'।"

    লিলি তা-ই করল।

    মা বললেন, "দেখ, লাইটের অবস্থা শুধু দুইটা — জ্বলা আর নিভা। এর বেশি কিছু না। ঠিক যেমন মুদ্রার দুই পিঠ — মাথা আর উল্টা।"

    মিমি বলল, "মানে সব জিনিসেরই কি দুই অবস্থা?"

    মা বললেন, "অনেক জিনিসেরই দুই অবস্থা। যেমন প্রশ্নের উত্তর — হ্যাঁ অথবা না। যেমন সুইচ — অন অথবা অফ। যেমন দরজা — খোলা অথবা বন্ধ। যেমন বাতি — জ্বলা অথবা নিভা।"

    লিলি বলল, "তাহলে বুলিয়ান বীজগণিত হলো এই দুই অবস্থার গণিত?"

    মা বললেন, "ঠিক। বুলিয়ান বীজগণিতে সব কিছুর মান হয় ১ অথবা ০। এর বেশি কিছু না।"

     ১ আর ০-এর গল্প

    মা তাদের ১ আর ০-এর গল্প শোনাতে লাগলেন।

    তিনি বললেন, "বুলিয়ান বীজগণিতে আমরা ১ ব্যবহার করি 'সত্যি' বোঝাতে, আর ০ ব্যবহার করি 'মিথ্যা' বোঝাতে। যেমন লাইট জ্বলা মানে ১, লাইট নিভা মানে ০।"

    মিমি বলল, "তাহলে 'আমি আজ দুধ খেয়েছি' — যদি খেয়ে থাকি, তাহলে ১, আর যদি না খেয়ে থাকি, তাহলে ০?"

    মা বললেন, "ঠিক।"

    লিলি বলল, "এটা তো খুব সহজ।"

    মা বললেন, "হ্যাঁ, সহজ। কিন্তু এই সহজ জিনিস দিয়েই কিন্তু পুরো কম্পিউটার চলে।"

    মিমি অবাক হয়ে বলল, "কম্পিউটার? ওটা তো অনেক বড় জিনিস!"

    মা বললেন, "কম্পিউটারের ভেতরে লক্ষ লক্ষ ছোট ছোট সুইচ আছে। প্রত্যেকটা সুইচ হয় অন অথবা অফ। অন মানে ১, অফ মানে ০। এই ১ আর ০ দিয়েই কম্পিউটার সব হিসাব করে।"

    লিলি বলল, "তাহলে আমরা যা কিছু কম্পিউটারে দেখি — ছবি, গান, ভিডিও, গেম — সবকিছুর পেছনে আছে এই ১ আর ০?"

    মা বললেন, "হ্যাঁ। সবকিছুই শেষ পর্যন্ত ১ আর ০-তে রূপান্তরিত হয়।"

     লিলির খাতায় লেখা

    লিলি তার খাতা খুলে লিখতে শুরু করল:

    "বুলিয়ান বীগণিত — ১ আর ০-এর গণিত"

    সে লিখল:
    - ১ = সত্যি, হ্যাঁ, অন, জ্বলা, উচ্চ ভোল্টেজ
    - ০ = মিথ্যা, না, অফ, নিভা, নিম্ন ভোল্টেজ

    মিমি বলল, "আমিও লিখব।" সেও লিখল:
    "আমার খাতায়: ১ মানে আমি মিষ্টি খেয়েছি, ০ মানে খাইনি।"

    মা হাসলেন। তিনি বললেন, "তোরা ঠিকই বুঝেছ। বুলিয়ান বীজগণিতের মূল কথা হলো — সবকিছুরই দুইটা মান থাকতে পারে।"

     বাস্তব জীবনের উদাহরণ

    মা তাদের বাস্তব জীবনের আরও কিছু উদাহরণ দিতে লাগলেন।

    তিনি বললেন, "ধরো, তোরা একটা পরীক্ষা দিলি। পাশ করলে ১, ফেল করলে ০।"

    "ধরো, তোদের বাসায় কেউ এসেছে। দরজা খোলা মানে ১, বন্ধ মানে ০।"

    "ধরো, তোর মোবাইল ফোনের ব্যাটারি। চার্জ থাকলে ১, না থাকলে ০ (যখন ফোন বন্ধ হয়ে যায়)।"

    "ধরো, তোরা রাতে ঘুমাতে যাবি। লাইট জ্বালিয়ে রাখলে ১, নিভিয়ে দিলে ০।"

    লিলি বলল, "আমার মনে হচ্ছে, আমাদের চারপাশের সব জিনিসকেই এভাবে ১ আর ০-এ ভাগ করা যায়।"

    মা বললেন, "অনেক জিনিসকেই যায়। কিন্তু সব জিনিস যায় না। যেমন তোর পছন্দের রং — লাল, নীল, সবুজ — এগুলোকে শুধু ১ আর ০ দিয়ে বোঝানো কঠিন। সেজন্য আরও জটিল পদ্ধতি দরকার। কিন্তু কম্পিউটারের মৌলিক স্তরে সবকিছুই শেষ পর্যন্ত ১ আর ০-তে রূপান্তরিত হয়।"

     বুলিয়ান বীজগণিতের জনক

    মিমি বলল, "মা, জর্জ বুল নামের ঐ লোকটার কথা আরও বলো।"

    মা বললেন, "জর্জ বুল ছিলেন ইংল্যান্ডের একজন গণিতজ্ঞ। তিনি ১৮১৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন একজন জুতা মেরামতকারী। কিন্তু জর্জ বুল ছোটবেলা থেকেই খুব মেধাবী ছিলেন। তিনি নিজে নিজেই ল্যাটিন আর গ্রিক ভাষা শিখেছিলেন।"

    লিলি বলল, "নিজে নিজেই?"

    মা বললেন, "হ্যাঁ। তাঁর পরিবারের এত টাকা ছিল না যে তাঁকে স্কুলে পাঠাবে। তাই তিনি নিজে নিজেই পড়াশোনা করেছিলেন। পরে তিনি গণিতের ওপর অনেক গবেষণা করেন।"

    মিমি বলল, "তিনি কী আবিষ্কার করেছিলেন?"

    মা বললেন, "তিনি দেখিয়েছিলেন, যুক্তি আর চিন্তাভাবনাকেও বীজগণিতের ভাষায় লেখা যায়। যেমন আমরা আগে AND, OR, NOT নিয়ে কথা বলব — এগুলো সব তাঁর আবিষ্কার। তিনি একটা বই লিখেছিলেন, 'The Mathematical Analysis of Logic' নামে।"

    লিলি বলল, "তিনি কি জানতেন যে তাঁর এই আবিষ্কার দিয়ে পরে কম্পিউটার বানানো হবে?"

    মা বললেন, "না, তিনি তখন কল্পনাও করতে পারেননি। তিনি মারা যান ১৮৬৪ সালে, অনেক আগে। তাঁর আবিষ্কারের প্রায় ১০০ বছর পরে কম্পিউটার আসে।"

    মিমি বলল, "তাহলে তিনি বেঁচে থাকলে খুব খুশি হতেন!"

    মা বললেন, "অবশ্যই।"

     সংখ্যা পদ্ধতি প্রসঙ্গ

    লিলি বলল, "মা, আমরা তো সাধারণত ০ থেকে ৯ পর্যন্ত সংখ্যা ব্যবহার করি। সেটাকে বলে কী?"

    মা বললেন, "সেটাকে বলে দশমিক বা ডেসিমেল সংখ্যা পদ্ধতি। এখানে ১০টা অঙ্ক আছে — ০,১,২,৩,৪,৫,৬,৭,৮,৯।"

    মিমি বলল, "আর বুলিয়ান বীজগণিতে তো শুধু ০ আর ১। সেটাকে কী বলে?"

    মা বললেন, "সেটাকে বলে বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি। 'বাই' মানে দুই। তাই বাইনারি মানে দুই-সংখ্যার পদ্ধতি।"

    লিলি বলল, "তাহলে কম্পিউটার বাইনারি পদ্ধতি ব্যবহার করে?"

    মা বললেন, "হ্যাঁ। কম্পিউটারের ভেতরের সব হিসাব-নিকাশ বাইনারি সংখ্যায় হয়।"

    মিমি বলল, "কিন্তু আমরা তো কম্পিউটারে দশমিক সংখ্যা দেখি?"

    মা বললেন, "কম্পিউটার আমাদের দেখানোর আগে সেগুলোকে দশমিকে রূপান্তর করে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে সব বাইনারিতে থাকে।"

     লিলির নিজের উদাহরণ

    লিলি এখন নিজের জীবন থেকে বুলিয়ান বীজগণিতের উদাহরণ বের করতে লাগল।

    সে লিখল:
    ১. আমি কি আজ স্কুলে গিয়েছি? — হ্যাঁ (১)
    ২. আমি কি আজ দাঁত ব্রাশ করেছি? — হ্যাঁ (১)
    ৩. আমি কি আজ মাছ খেয়েছি? — না (০)
    ৪. আমি কি আজ হোমওয়ার্ক করেছি? — হ্যাঁ (১)
    ৫. আমি কি আজ মিমির সঙ্গে ঝগড়া করেছি? — না (০)

    মিমিও লিখল:
    ১. আমি কি আজ দুধ খেয়েছি? — না (০)
    ২. আমি কি আজ খেলতে গিয়েছি? — হ্যাঁ (১)
    ৩. আমি কি আজ বই পড়েছি? — হ্যাঁ (১)
    ৪. আমি কি আজ লিলির সঙ্গে ঝগড়া করেছি? — না (০)
    ৫. আমি কি আজ মিষ্টি খেয়েছি? — হ্যাঁ (১)

    তারা মাকে দেখাল। মা বললেন, "বাহ! খুব ভালো। এখন তোরা বুঝতে পারছ, প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর হয় ১ অথবা ০।"

     বুলিয়ান বীজগণিত আর সেট থিওরির সম্পর্ক

    লিলি বলল, "মা, বুলিয়ান বীজগণিতের সঙ্গে কি সেট থিওরির কোনো সম্পর্ক আছে?"

    মা বললেন, "অবশ্যই আছে। খুব গভীর সম্পর্ক। আমরা সেট থিওরিতে যা শিখেছি — ইউনিয়ন, ইন্টারসেকশন, কমপ্লিমেন্ট — এদের সঙ্গে বুলিয়ান বীজগণিতের AND, OR, NOT-এর সরাসরি সম্পর্ক আছে।"

    মিমি বলল, "মানে?"

    মা বললেন, "ধরো, একটা সেটের উপাদান থাকা মানে ১, না থাকা মানে ০। তাহলে ইউনিয়ন হবে OR, ইন্টারসেকশন হবে AND, আর কমপ্লিমেন্ট হবে NOT।"

    লিলি বলল, "তাহলে আমরা সেট থিওরি যা শিখেছি, সেটা বুলিয়ান বীজগণিতের একটা রূপ?"

    মা বললেন, "ঠিক। দুইটা বিষয় একে অপরের পরিপূরক।"

     লিলির বুঝতে পারা

    লিলি খানিকক্ষণ চুপ করে ভাবল। তারপর বলল, "মা, আমি বুঝতে পেরেছি। বুলিয়ান বীজগণিত হলো যুক্তির গণিত। এখানে সব কিছুর মান হয় সত্যি (১) অথবা মিথ্যা (০)। যেমন লাইট জ্বলা বা নিভা, প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ বা না, সুইচ অন বা অফ — সবই এর উদাহরণ।"

    মিমি যোগ করল, "আর এই ১ আর ০ দিয়েই কম্পিউটার কাজ করে।"

    মা বললেন, "একদম ঠিক। তোরা খুব ভালো বুঝেছ।"

    লিলি বলল, "তাহলে পরের অধ্যায়ে আমরা কী শিখব?"

    মা বললেন, "পরের অধ্যায়ে আমরা শিখব AND অপারেটর। সেটা হলো যখন দুটো শর্ত একসাথে সত্যি হতে হয়। যেমন — 'তুই যদি দুধ খেয়েছিস আর হোমওয়ার্ক করেছিস, তাহলে খেলতে যেতে পারবি' — এটা হলো AND।"

    মিমি বলল, "মজা হবে।"

     রাতের খাবারের মজা

    রাতে খাবার টেবিলে লিলি আর মিমি তাদের বাবাকে বুলিয়ান বীজগণিত শেখাতে লাগল।

    লিলি বলল, "বাবা, তুমি কি জানো, বুলিয়ান বীজগণিত কী?"

    বাবা বললেন, "না তো, বলো দেখি।"

    লিলি বলল, "এটা হলো যুক্তির গণিত। এখানে সব কিছুর মান হয় ১ অথবা ০। যেমন তুমি কি আজ অফিসে গিয়েছ? — ১। তুমি কি আজ মিষ্টি খেয়েছ? — ০।"

    বাবা হাসলেন। তিনি বললেন, "তাহলে আমি আজ মিষ্টি খাইনি, মানে ০।"

    মিমি বলল, "আর এই ১ আর ০ দিয়েই কম্পিউটার চলে।"

    বাবা বললেন, "বাহ! তোরা তো অনেক বড় জিনিস শিখে ফেলেছিস।"

    মা বললেন, "ওরা খুব মেধাবী।"

    সবাই খুব আনন্দ করল।

     শোওয়ার আগে

    রাতে শোওয়ার আগে লিলি আর মিমি তাদের আজকের পড়া রিভাইজ করল।

    লিলি লিখল:
    - বুলিয়ান বীজগণিত = যুক্তির গণিত
    - জর্জ বুল আবিষ্কার করেন
    - এখানে সব কিছুর মান হয় ১ অথবা ০
    - ১ = সত্যি, হ্যাঁ, অন, জ্বলা
    - ০ = মিথ্যা, না, অফ, নিভা
    - কম্পিউটার বাইনারি (০ আর ১) পদ্ধতি ব্যবহার করে

    মিমি লিখল:
    - আমার জীবনের উদাহরণ:
      * আমি কি আজ দুধ খেয়েছি? — ০
      * আমি কি আজ খেলতে গিয়েছি? — ১
      * আমি কি আজ বই পড়েছি? — ১
    - সেট থিওরির সঙ্গে সম্পর্ক আছে

    লিলি বলল, "কাল আমরা AND শিখব। সেটা আরও মজা হবে।"

    মিমি বলল, "হ্যাঁ, আমি অপেক্ষায় আছি।"

    তারা ঘুমিয়ে পড়ল।

    টিপস

    তোমরাও লিলি আর মিমির মতো বুলিয়ান বীজগণিতের প্রথম অধ্যায় শিখে ফেললে। এখন তুমি জানো, বুলিয়ান বীজগণিত হলো যুক্তির গণিত, যেখানে সব কিছুর মান হয় ১ অথবা ০।

    তোমার চারপাশ থেকে ১ আর ০-এর উদাহরণ বের করতে পারো। যেমন:

    - তুমি কি আজ স্কুলে গিয়েছ? — হ্যাঁ হলে ১, না হলে ০
    - তুমি কি আজ সকালে নাস্তা করেছ? — হ্যাঁ হলে ১, না হলে ০
    - তুমি কি আজ দাঁত ব্রাশ করেছ? — হ্যাঁ হলে ১, না হলে ০
    - তুমি কি আজ খেলতে গিয়েছ? — হ্যাঁ হলে ১, না হলে ০
    - তুমি কি আজ মিষ্টি খেয়েছ? — হ্যাঁ হলে ১, না হলে ০

    এভাবে প্রতিদিন ১০টা করে প্রশ্নের উত্তর ১ আর ০-এ লেখার অভ্যাস করো। তাহলে বুলিয়ান বীজগণিত তোমার জন্য খুব সহজ হয়ে যাবে।

    মনে রেখো:
    - ১ মানে সত্যি, হ্যাঁ, অন, জ্বলা
    - ০ মানে মিথ্যা, না, অফ, নিভা
    - বুলিয়ান বীজগণিত আবিষ্কার করেন জর্জ বুল
    - কম্পিউটার বাইনারি পদ্ধতি (০ আর ১) ব্যবহার করে কাজ করে

     শেষ কথা

    এই অধ্যায়ে আমরা শিখলাম বুলিয়ান বীজগণিতের মৌলিক ধারণা। আমরা জানলাম, এটা যুক্তির গণিত, যেখানে সব কিছুর মান হয় ১ অথবা ০। আমরা জানলাম জর্জ বুলের কথা, যিনি এই বীজগণিত আবিষ্কার করেন। আমরা জানলাম, কম্পিউটার বাইনারি পদ্ধতি ব্যবহার করে, অর্থাৎ ০ আর ১ দিয়ে সব কাজ করে।

    পরের অধ্যায়ে আমরা শিখব AND অপারেটর। সেখানে আমরা দেখব, কীভাবে দুটো শর্ত একসাথে সত্যি হলে ফল সত্যি হয়।

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    1 | 2 | 3
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে মতামত দিন