এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • চতুর্থ স্তম্ভ?

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ৮৪ বার পঠিত
  • দেখুন, কথা খুব পরিষ্কার। কোনো চ্যানেলের কর্মীই হন, কিংবা কর্পোরেশনের, ধরে হাতের সুখ করে নেওয়া অন্যায়। ওতে কোনো ক্ষোভেরই সুরাহা হয়না। কিন্তু সংবাদমাধ্যমগুলোর "আমরা চতুর্থ স্তম্ভ" বলে লাফানোর কোনো অধিকারই নেই। কোনো গরিলা যদি আজ বুক চাপড়ে বলে "আমিই চতুর্থ স্তম্ভ", তাহলেই সে চতুর্থ, পঞ্চম, একবিংশ কোনো স্তম্ভই হয়ে যায়না। সংবাদমাধ্যম হতে গেলে তার কিছু দায়দায়িত্ব পালন করতে হয়। এঁরা তো নিজের সাংবাদিক ঠ্যাঙানি খাওয়াটাকেও বেওসায় পরিণত করেছেন। "বলুন তো, সোমা মাইতি কোথায় মার খেলেন? সঠিক উত্তর দিলে পেতে পারেন বাম্পার প্রাইজ।" রোমের গ্ল্যাডিয়েটরের ব্যবসাতেও কিছু নৈতিকতার জায়গা ছিল, এদের সেটুকুও নেই।

    এটুকু হলেও একরকম ছিল। কিন্তু বলুন তো গত এক বছরে "সেনসেশনাল" খবরগুলোর মধ্যে কতগুলো সত্যি? করাচি-লাহোর দখল - গুল। পানাগড়ে ইভটিজিং এ মৃত্যু - গুল। দুর্গাপুরে গণধর্ষণ - গুল। এসআইআর বহুবার হয়েছে ভয়ের কিছু নেই - গুল। চারদিকে বাংলাদেশী, সমস্ত বস্তি ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে - গুল। সীমান্তে বাংলাদেশীদের মিছিল - গুল। কেবল একটা সেনসেশনাল খবর ঠিক ছিল, কলকাতার আইন কলেজে ধর্ষণ। তাও এর মধ্যে আরজিকরের সেই সুবিখ্যাত "লাশের সঙ্গে সঙ্গমচক্র" ধরিনি, যেটা বিখ্যাত প্রভাতী দৈনিকের প্রথম পাতায় বেরিয়েছিল। ওটা আরও আগের, এবং সমস্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে। কিন্তু কথা হল, যারা ছটা গুরুতর খবরের মধ্যে পাঁচটাই গুল দেয়, এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেয়, তারা কোথাকার চতুর্থ স্তম্ভ? হিটলারের জমানার? 

    অনেক সাংবাদিকই দেখছি প্রতিবাদ করছেন। বেশ করছেন। আমিও করছি। কারণ গণপিটুনির দিকে যাওয়া অন্যায়, ওতে ক্ষোভের প্রতিকার হয়না, জঙ্গলের রাজত্ব তৈরি হয় এবং  খবরের বেওসাদার আর ঘৃণার ব্যবসায়ীদের সুবিধে হয়। কিন্তু সাংবাদিকরা, আপনাদের সাধের চতুর্থ স্তম্ভকে রক্ষা করতে নেমেছেন, খুব ভালো কথা, যখন যখন ওটাকে স্রেফ টানা মিথ্যাচারের আখড়া বানিয়ে ফেলা হয়, স্তম্ভ বলে আর কিছু থাকেনা, কতবার মুখ খুলেছেন? টানা যে মিথ্যাচার এবং ঘৃণার চাষবাস হয়ে চলেছে গোটা মিডিয়া জুড়ে, সেসবের কপি কারা লেখেন? আপনারাই তো। বাঙালি ভিনরাজ্য থেকে খুন হয়ে ফিরছে, উস্কানি কারা দিয়েছে, আপনারাই তো? এখন আপনারা স্তম্ভ হয়ে গেলেন, আর স্বজনহারারা দুষ্কৃতী? না, যারা স্বজন হারিয়েছে, তারা মারেনি, ফলে ওটা অপরাধ। কিন্তু আপনারাও উস্কানিদাতা, মিথ্যের বেসাতি করেন, ঘৃণা ছড়ান। হতেই পারে, মালিকের নির্দেশে করেন, কিন্তু সেক্ষেত্রে এই চতুর্থ স্তম্ভ নামক হামবড়াইটা বন্ধ রাখুন। মালিকের কথায় ঝাড়ুদাররা ঝাড়ু দেয়, আইটিকুলিরা কোড করে, আপনারা কপি লেখেন। দোষের কিছু নেই, কিন্তু এর মধ্যে চতুর্থ স্তম্ভ টম্ভ কোথাও নেই। অতিরিক্ত মর্যাদা দাবী করবেন না।

    হ্যাঁ, অতিরিক্ত একটা মর্যাদা ছিল একটা সময়। সাংবাদিকরা পুলিশ প্রহরার তোয়াক্কা করতেন না। মাঠে-ঘাটে-যুদ্ধে-প্রান্তরে ঝুঁকি নিয়ে নেমে পড়তেন। পুলিশ দিয়ে সেখানে সুরক্ষা হয়না। বিপদেও পড়তেন। কিন্তু জনরোষে পড়তেন না। জনতা জানতো, এঁরা এমন একটা বয়ান উদ্ধার করে পৃথিবীকে দেখাবেন, যেটা সকলের জানা দরকার। এখন তারা জানে, ওসব অতীতের কথা। এখন এরা চিৎকার করবে, উসকানি দেবে, এবং মিথ্যে বলবে। নিজেদের পেশার সম্মানটা পুনরুদ্ধার করুন। এবং হ্যাঁ, এসবের পরেও শারীরিক নিগ্রহ অপরাধ। যাঁরা আন্দোলন করছেন, এই চ্যানেলগুলো দেখলে বয়কট করুন, বাইট চাইলে গাল দিন, কিন্তু গায়ে হাত দেবেন কেন? না দেখলে এমনিই এদের ফুটানি ডুম হয়ে যাবে। আ-আ ভাইরা তো মুখ দেখে বিজ্ঞাপন দেবেনা।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Pustak Biswas | ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩৩737966
  • খুবই চিন্তার বিষয়। ভাবছিলাম যদি বিজেপি, কোন না কোন ভাবে চলে আসে। অর্থনীতি ছেড়েই দিলাম, বাঙালির নুন্যতম সামাজিক নিরাপত্তা থাকবে কী? কারন বিজেপি শাসিত রাজ্য গুলোতে নিরাপত্তার কি অবস্থা, তা দেখেছি। বাংলাতেও যদি ঐ রকম বাহুবলী কালচার শুরু হয়ে যায়, তাহলে বাইরে থেকে দুষ্কৃতি আসবে, অপরাধ করে চলে যাবে। মিডিয়া তো নিষ্ক্রিয় আছেই। এরপর পুলিশও নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। এখনও যেটুকু নিরাপত্তা আছে। এটুকুও কী থাকবে? বাংলাতো বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত মতামত দিন