এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  আলোচনা  রাজনীতি

  •  প্রতীক, শূন্যতা ও গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতা ও কালো পতাকা

    albert banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ৪৮ বার পঠিত
  • ভারতীয় গণতন্ত্রের রঙ্গমঞ্চে, একটি কালো পতাকা উত্তোলনের ঘটনা কখনও কখনও সংবাদের শিরোনাম হয়। এটি একটি নীরব কিন্তু তীব্র অভিব্যক্তি, একটি প্রতীকী ভাষায় লেখা এক বাক্য যা ক্ষোভ, শোক বা তীব্র অসম্মতি জানায়। প্রশ্ন উঠতে পারে, প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির মতো সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদাধিকারী ব্যক্তিদের প্রতি এমন প্রতীকী অভিব্যক্তি প্রদর্শন কি অপরাধ? ভারতীয় আইনের জটিল জাল এবং গণতান্ত্রিক নীতির আলোকে দেখা যাবে, এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধ নয়, কিন্তু এর আয়না ধরায় আমাদের গণতন্ত্রের স্বাস্থ্য, নাগরিকতার অর্থ এবং ক্ষমতার প্রকৃতি সম্পর্কে গভীর দার্শনিক বিতর্ক।

     সংবিধানের কণ্ঠস্বর ও তার সীমান্ত: আইনের দৃষ্টিকোণ

    ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯(১)(ক) প্রতিটি নাগরিককে বাক ও অভিব্যক্তি স্বাধীনতার মৌলিক অধিকার দেয়। এই স্বাধীনতা কেবল প্রশংসা বা সম্মতি জানানোর নয়; এটি তীব্র আপত্তি, সমালোচনা এবং এমনকি বিরোধিতারও অধিকার দেয়, যতক্ষণ না তা ভিত্তিহীন মানহানি, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করা বা জনশৃঙ্খলা নষ্ট করার মতো সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক সীমা অতিক্রম করে। কালো পতাকা প্রদর্শন, তার মৌলিক স্তরে, বাকস্বাধীনতারই একটি রূপ। এটি শব্দহীন ভাষায় একটি বার্তা: "আমরা অসম্মতি জানাই," "আমরা প্রতিবাদ করি," অথবা "আমরা শোকাহত।"

    বিভিন্ন উচ্চ আদালতের রায় বারবার এই নীতিকে সমর্থন করেছে। আদালত প্রায়শই বলেছে, সরকার বা তার প্রতিনিধিদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের কোনও পৃথক অপরাধ ভারতীয় আইনে নেই, যদি না তা ইচ্ছাকৃতভাবে এবং প্রকাশ্যে মানহানিকর বা রাষ্ট্রদ্রোহী (Sedition) হওয়ার মাপকাঠি পূরণ করে, যা একটি অত্যন্ত উচ্চ ও সংকীর্ণ প্রমাণের মানদণ্ড। কেবলমাত্র একটি কালো পতাকা দেখানো, এমনকি যদি তা প্রধানমন্ত্রীর  দিকেও হয়, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাষ্ট্রদ্রোহ বা মানহানার শামিল হয় না। এটি একটি প্রতীকী প্রতিবাদ, যার অর্থ দাঁড় করানোর দায় আদালতের, এবং সে অর্থ প্রায়শই গণতান্ত্রিক অসন্তোষ প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

    তবে, আইন কেবল বার্তা নয়, বরং প্রেক্ষাপটও দেখে। যদি এই কালো পতাকা প্রদর্শন শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মতভাবে সংঘটিত হয়, তবে তা সংবিধানের সুরক্ষার অধীন। কিন্তু যদি তা সহিংসতা প্ররোচনা দেয়, দাঙ্গার অবস্থা সৃষ্টি করে, অথবা আইন-শৃঙ্খলার উপর প্রত্যক্ষ ও তাৎক্ষণিক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তবে পুলিশ আইপিসি-র বিভিন্ন ধারা (যেমন ১২৪এ, ১৫৩, ৫০৪, অথবা ১৪৪ ধারা লঙ্ঘন) প্রয়োগ করতে পারে। এখানেই নাগরিকের অধিকার এবং রাষ্ট্রের কর্তব্য রক্ষার মধ্যে সেই চিরাচরিত দ্বন্দ্ব মূর্ত হয়। মূল সূত্র হলো: প্রতিবাদ একটি অধিকার; বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি নয়।

     দার্শনিক প্রতিচ্ছবি: স্বাধীনতা, নিরর্থকতা ও প্রতিবাদের অর্থ

    মানুষ কোন পূর্বনির্ধারিত সারবস্তু নিয়ে জন্মায় না; সে প্রথমে অস্তিত্বে আসে, আর পরে তার কর্মের মাধ্যমে নিজেকে সংজ্ঞায়িত করে। এই পরিপ্রেক্ষিতে, একজন নাগরিকও কোনও নিষ্ক্রিয় বিষয় নন; সে একটি 'হতে-থাকা' সত্তা, যাকে তার বিশ্বাস ও মূল্যবোধ অনুযায়ী কাজ করতে হয়, তা ক্ষমতার কেন্দ্রের বিপরীতেও হোক। কালো পতাকা তোলা, তাহলে, একটি অস্তিত্বগত কাজ। এটি নীরবতা বা আনুগত্যের মাধ্যমে নিজেকে সংজ্ঞায়িত না করার সচেতন সিদ্ধান্ত। এটি ঘোষণা করে, "আমি যা দেখি তা মেনে নিচ্ছি না, এবং আমার এই অস্বীকারই আমার নাগরিক সত্তার অংশ।"

    এই দৃষ্টিভঙ্গিতে, প্রতীক হিসাবে কালো পতাকা অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি শূন্যতার প্রতীক, কিন্তু একটি অর্থবহ শূন্যতা। এটি অনুপস্থিতির মাধ্যমে উপস্থিতি জানান দেয় – সম্মানের অনুপস্থিতি, সম্মতির অনুপস্থিতি, অনুমোদনের অনুপস্থিতি। এটি শোকের কালো, কিন্তু কেবল ব্যক্তির জন্য নয়, একটি আদর্শের জন্য, ন্যায়বিচারের অনুভূতির জন্য, ভবিষ্যতের প্রত্যাশার জন্য শোক। এটি একইসাথে শেষকৃত্যের পতাকা এবং বিদ্রোহের পতাকা। এই দ্বৈততা ভারতীয় গণতন্ত্রের মধ্যেও বিদ্যমান, যা একইসাথে কর্তৃত্ব (রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী) এবং প্রতিবাদ (নাগরিক) এর মধ্যে একটি নিরবচ্ছিন্ন সংলাপ চালিয়ে যায়।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো 'দুশ্চিন্তা' বা অস্তিত্বের অস্বস্তি, যা স্বাধীনতার চেতনার সাথে জড়িত। যখন একজন নাগরিক কালো পতাকা তুলে ধরেন, তখন তিনি কেবল বাইরের কোনও নীতির বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ করছেন না, বরং তিনি সেই দায়িত্বের 'দুশ্চিন্তা'-ও প্রকাশ করছেন, যা এই স্বাধীন চেতনার ফল। তিনি বলছেন, "এই পরিস্থিতিতে আমার দায়িত্ব হল প্রতিবাদ করা। আমার নিশ্চুপ থাকা হবে এই দায়িত্ব থেকে পালানো।" তাই, এই কাজটি নেতিবাচক নয়; বরং এটি নাগরিক দায়িত্বের এক সর্বোচ্চ সক্রিয় প্রকাশ, যেখানে ব্যক্তি নিজেকে একটি নৈতিক সত্তা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

     ভারতে প্রাসঙ্গিকতা: একটি জীবন্ত গণতন্ত্রের শ্বাস-প্রশ্বাস

    ভারতীয় প্রেক্ষাপটে, এটি কেবল আইনি বিতর্ক নয়, বরং একটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা। ভারতের ইতিহাসে কালো পতাকা বা কালো ব্যানার একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রতিবাদের ঐতিহ্য। এটি কৃষক আন্দোলনে দেখা গেছে, শ্রমিক সংঘর্ষে দেখা গেছে, নাগরিক অধিকার রক্ষার আন্দোলনে দেখা গেছে। এটি এমন একটি ভাষা যা লিখিত বা মৌখিক বাক্যের চেয়ে বেশি সরাসরি ও আবেগপ্রবণ। এটি গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বক্তব্যের ভাষায় না বলে, প্রত্যক্ষ ও অব্যবহিত আবেগের ভাষায় কথা বলে।

    কিন্তু এই অধিকারও দায়িত্বের সাথে যুক্ত। যে দর্শন আমরা আলোচনা করছি, তাতে ব্যক্তির স্বাধীনতা অপরের স্বাধীনতার সীমায় গিয়ে থেমে যায়। একজন নাগরিকের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তার অসম্মান প্রকাশের অধিকার আছে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বা তার সমর্থকদেরও শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের অধিকার আছে। গণতন্ত্র হল এই সমস্ত বিবাদমান কণ্ঠস্বরের সমন্বয়, একটি নিয়মতান্ত্রিক সংঘাত, যেখানে লক্ষ্য জয়লাভ নয়, বরং একটি চলমান সংলাপ বজায় রাখা। কালো পতাকা এই সংলাপের একটি মুহূর্ত – হয়তো একটি কর্কশ, অশান্ত সুর, কিন্তু তবুও সংগীতের অংশ।

     উপসংহার: দায়িত্বশীল অস্বীকৃতি

    সুতরাং, ভারতে কালো পতাকা প্রদর্শন, এমনকি সর্বোচ্চ পদাধিকারীদের প্রতিও, নিজে থেকে কোনও অপরাধ নয়। এটি গণতন্ত্রের একটি সম্ভাব্য শ্বাস, একটি লক্ষণ যে নাগরিকরা নিষ্ক্রিয় দর্শক নন, বরং সক্রিয় অংশগ্রহণকারী যারা ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করতে, জিজ্ঞাসা করতে এবং কিছুক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যান করতে প্রস্তুত। এটি সংবিধানের প্রাণবন্ততার প্রমাণ, যা কেবল আনুগত্যের অনুমতি দেয় না, বরং দায়িত্বশীল প্রতিবাদেরও সুরক্ষা দেয়।

    তবে, এই স্বাধীনতা একটি শূন্যতা থেকে উদ্ভূত নয়; এটি একটি গভীর দায়বদ্ধতা থেকে জন্ম নেয় – নিজের বিবেকের প্রতি, সত্যের প্রতি, এবং সেই সমাজের প্রতি যার জন্য ব্যক্তি দায়ী। কালো পতাকা হল সেই দায়বদ্ধ অস্বীকৃতির চূড়ান্ত প্রতীক। এটি বলতে চায়, "আমি এই পথে যেতে অস্বীকার করি, কারণ আমি বিশ্বের একটি দৃষ্টিভঙ্গি রূপ দিতে চাই যা আমি ন্যায্য মনে করি।" একটি সুস্থ গণতন্ত্রে, এই কালো পতাকাকে দমন করার চেয়ে তা বোঝার চেষ্টাই বেশি জরুরি। কারণ, যে সমাজ কালো পতাকা দেখতে ভয় পায়, সে সমাজ হয়তো তার নিজের অন্ধকারকে প্রতিফলিত দেখতে ভয় পাচ্ছে। আর যে সমাজ তা বুঝতে চেষ্টা করে, সে সমাজ সম্ভবত আলোর দিকে আরেক কদম এগোচ্ছে।
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন