এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • বাংলার অবক্ষয় ও অলিখিত অভিযোগপত্র: দীর্ঘ ক্ষয় এবং পতনের স্থাপত্য (দ্বিতীয় পর্ব) 

    Debajit Ghosh লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৮২৪ বার পঠিত
  • প্রথম পর্ব | দ্বিতীয় পর্ব
    প্রথম পর্বের বক্তব্য ছিল, বাংলা নিজের সঙ্গে দুটি ভুল করেছিল, এবং দুটোই সক্ষমতার ভুল নয়, আখ্যানের ভুল। প্রথমটি দায় ভুল জায়গায় বসানো। দুর্ভিক্ষকে দেখানো হল মজুতদারের কীর্তি হিসেবে, সেই প্রশাসনের নয় যে মজুতদারিকে একইসঙ্গে যুক্তিসঙ্গত আর প্রাণঘাতী করে তুলেছিল; যে অভিযোগ মন্ত্রিসভার ঘর পর্যন্ত যাওয়ার কথা ছিল, তা থেমে গেল বাজারের দোকানে। দ্বিতীয়টি নায়কতালিকা সংকুচিত করে ফেলা। যে সমাজ প্রতিষ্ঠান-নির্মাতা, বিজ্ঞানী, শিল্পোদ্যোগী, সংস্কারক, প্রশাসক আর ক্রীড়াবিদ তৈরি করেছে, সে মনে রাখতে বেছে নিল গুটিকয় নাম আর একজন মহীরুহ কবিকে, বাকিদের ভাগে রাখল এক প্যারাগ্রাফ করে। এই পর্বে দেখব সেই দুই ব্যর্থতার দাম কী দাঁড়াল, দশকের পর দশক, ইংরেজ চলে যাওয়ার পরে, যখন ঔপনিবেশিক শাসনের অজুহাতটাও আর হাতে নেই।
     
    ভদ্রলোকের দৃষ্টি এবং তার দাম
    রাজনৈতিক ইতিহাসে ঢোকার আগে একটা সাংস্কৃতিক গঠনের কথা, যা সমস্যার একেবারে কেন্দ্রে। বাংলার শিক্ষিত শ্রেণি নিজেকে কীভাবে দেখতে শিখল, ইংরেজের সাপেক্ষে এবং অন্য বাঙালির সাপেক্ষে।
    ঔপনিবেশিক শাসনের দরকার ছিল এমন এক ভারতীয় শ্রেণির, যারা সাম্রাজ্য চালাবে, ব্রিটিশ মাপকাঠি আত্মস্থ করবে, আর নিজের মূল্য মাপবে ব্রিটিশ দাঁড়িপাল্লায়। বাংলা, ঔপনিবেশিক অনুপ্রবেশের প্রথম ও গভীরতম ক্ষেত্র হিসেবে, সেই শ্রেণিটিকে তৈরি করেছিল সবচেয়ে পূর্ণ রূপে। ভদ্রলোক ইংরেজি শিক্ষিত, পেশা আর আমলাতন্ত্রে নিযুক্ত, ভিক্টোরীয় উদারনীতি আর বাঙালি ঐতিহ্যের এক মিশ্রণে গড়া।
    সেরা অবস্থায় এই শ্রেণি জন্ম দিয়েছে বাংলার নবজাগরণের। নিকৃষ্টতম অবস্থায় জন্ম দিয়েছে এক বিশেষ আত্মঘৃণার, যাকে পরিশীলিততার পোশাক পরানো হয়েছে: ইংরেজের প্রতি এক অটুট শ্রদ্ধা, আর ব্যবসা, শ্রম বা গ্রামজীবনে যুক্ত নিজের লোকদের প্রতি করুণা, যা প্রায় অবজ্ঞার কাছাকাছি।

    এক পাঠক আমাকে এমন একটা কথা মনে করিয়েছেন যাকে আমি কম গুরুত্ব দিয়েছিলাম। ১৭৭০ সালের ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মারা যান। বাংলা সাহিত্যে তার চিহ্ন প্রায় নেই। এক শতাব্দী পরে বঙ্কিমের বাবুর উপন্যাস বাদ দিলে এবং তাতেও ওনার চাকরি বাঁচিয়ে লেখার কতটা দায় ছিল তা নিয়ে ডিবেট হতে পারে । কিন্তু গভীরতর সমস্যা অন্য জায়গায়। কলকাতাকেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবী সমাজ গ্রামের গরিব মানুষের কষ্ট নিয়ে গভীরভাবে ভাবেনি, কারণ ভাবার দরকার পড়েনি। বাংলার প্রতিটি মন্বন্তরে মৃতদের বিপুল অংশ ছিল গ্রামের মানুষ। যাঁরা গল্পটা লিখতেন, তাঁরা তাঁদের মধ্যে ছিলেন না।
    এতে অভিযোগের পরিধি বাড়ে। আখ্যানের ব্যর্থতা শুধু আসামির নাম না নেওয়ার ব্যর্থতা নয়। এটা ভুক্তভোগীকে দেখতে না পাওয়ার ব্যর্থতাও। যে শ্রেণি গল্পের নিয়ন্ত্রণ রাখে, সে যদি একদিকে সেই সভ্যতার দ্বারা আংশিক অধিকৃত হয় যে সভ্যতা তাদেরই দেশবাসীর কষ্টের  জন্য দায়ী, আর অন্যদিকে যারা কষ্ট পাচ্ছে তাদের থেকে সামাজিকভাবে দূরে থাকে, তাহলে গল্পটা দুই প্রান্তেই বিকৃত হয়ে বেরোবে।

    আরও একটি পরিণামের নাম করা দরকার, কারণ এক পাঠক প্রশ্নটি তুলেছেন এবং আমার মনে হয় তিনি ঠিক। তামিল পরিচয় নিজেকে গড়েছে আলাদাভাবে , আর তার সিনেমা, রাজনীতি ও ভাষা আন্দোলন সবই সেই আত্মপ্রতিষ্ঠাকে খাইয়েছে। বাঙালি পরিচয় তা করেনি, কারণ বাংলা ভারতীয় জাতীয়তাবাদের নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং নিজেকে কেন্দ্র বলেই ভাবত, প্রান্ত বলে নয়, যার আত্মরক্ষার দরকার হয়। নেতৃত্বের অভ্যাসটা নেতৃত্বের চেয়ে বেশিদিন টিকে গেল। যে সমাজ নিজেকে কেন্দ্র মনে করে, সে প্রান্তের আত্মরক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে না; আর কেন্দ্র যখন সরে যায়, তার হাতে দুটোর কোনওটাই থাকে না।

    দিল্লি যা করল ও তার সাথে ব্যাঙ্কিং এর পতন 
    পরের চার দশককে এমনভাবে লেখা অসৎ হবে যেন সবটাই বাঙালির নিজের হাতে বাঙালির সঙ্গে ঘটেছে। কেন্দ্রের তিনটি সিদ্ধান্ত সত্যিকারের ও দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করেছিল, এবং তিনটিই বামফ্রন্টের জন্মেরও আগের।
    ১৯৫২ সালের ফ্রেট ইকুয়ালাইজেশন নীতিতে কয়লা, ইস্পাত আর সিমেন্টের পরিবহণে ভরতুকি দেওয়া হল, যাতে ভারতের যেকোনও জায়গায় এদের দাম সমান পড়ে। ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল সুষম শিল্পায়ন। ফল হল, এক ঝটকায় মুছে গেল সেই একটিমাত্র সুবিধা যা ভূগোল পূর্ব ভারতকে দিয়েছিল, অর্থাৎ নিজের খনিজের কাছে থাকা। দুর্গাপুরের পাশের ইস্পাত কারখানা আর বম্বের পাশের ইস্পাত কারখানার কাঁচামালের খরচ এক হয়ে গেল। বাংলার অবস্থানগত যুক্তিটাই উবে গেল, আর তার সঙ্গে এখানে কিছু গড়ার বড় কারণটাও। নীতিটি চালু ছিল চার দশক।

    দ্বিতীয়টি নিয়ে আলোচনা কম হয়: বাঙালি ব্যাঙ্কিংয়ের পতন। ১৯৪৭ থেকে পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝির মধ্যে একের পর এক বাঙালি মালিকানার ব্যাঙ্ক বসে গেল বা জোর করে মিলিয়ে দেওয়া হল: কুমিল্লা ব্যাঙ্কিং কর্পোরেশন, বেঙ্গল সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক, কুমিল্লা ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক, হুগলি ব্যাঙ্ক, নাথ ব্যাঙ্ক, ক্যালকাটা ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক এবং আরও অনেকে। দেশভাগে তাদের পূর্ববঙ্গের আমানত আর শাখাজাল আটকে গিয়েছিল, আর ১৯৪৯-এর ব্যাঙ্কিং রেগুলেশন আইন ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের একীকরণ অভিযান বাকিটা শেষ করল। ১৯৫০ সালে এদের চারটিকে মিলিয়ে যা তৈরি হয়, তা পরে ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। ব্যালান্স শিটে যতটা দেখায়, ব্যাপারটা তার চেয়ে বড়। দেশি বাঙালি ব্যাঙ্কই ছিল সেই পথ যেখান দিয়ে বাঙালি ব্যবসা, এমনকি সিনেমার প্রযোজনাও, পুঁজি তুলত। পথটা বন্ধ হয়ে গেলে বাঙালি উদ্যোগ নির্ভরশীল হয়ে পড়ল এমন প্রতিষ্ঠানের ওপর যাদের সদর দপ্তর অন্যত্র এবং জবাবদিহিও অন্যত্র।

    তৃতীয়ত, লাইসেন্স ব্যবস্থা বিনিয়োগকে চালাল সুবিধা অনুযায়ী নয়, অনুমতি অনুযায়ী, আর অনুমতি দেওয়া হত দিল্লিতে। রণজিৎ রায়ের The Agony of West Bengal, প্রকাশিত ১৯৭১, এই যুক্তিই সাজিয়েছিল যে কেন্দ্রীয় নীতি ষাটের দশকেই রাজ্যের অর্থনীতিকে স্থবির করে দিয়েছিল। তাঁর রাজনীতি নিয়ে যে যা-ই ভাবুন, সময়রেখাটাই আসল কথা। ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার অনেক আগেই বাংলার পতন শুরু হয়ে গিয়েছিল। বাম একটি দুর্বল অর্থনীতি উত্তরাধিকারে পেয়েছিল। সেই অর্থনীতির সঙ্গে তারপর তারা কী করল, সেটা আলাদা এবং গুরুতর অভিযোগ। দুটোকে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।

    বামপন্থী উত্তরাধিকার: প্রতিশ্রুতি ও বিশ্বাসভঙ্গ
    বামের উত্থান আকস্মিক ছিল না, আর প্রথম দিকের কাজও কৃতিত্বহীন ছিল না। দেশভাগ পশ্চিমবঙ্গে এনে ফেলেছিল বিপুল সংখ্যক উদ্বাস্তু, ভূমিহীন মানুষ, যাঁদের সম্পত্তিব্যবস্থার বিরুদ্ধে ন্যায্য ক্ষোভ ছিল। উদ্বাস্তু সংকট সামলাতে কংগ্রেস সরকারকে বহু মানুষ নির্মম ও অপদার্থ বলে দেখেছেন। সেই শূন্যস্থানে ঢুকল একটি সংগঠিত, সুশৃঙ্খল ও মতাদর্শগতভাবে সুসংহত বাম, যাদের হাতে ছিল কষ্টের একটা স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং ক্ষোভের একটা বাহন।
    সত্তরের শেষ ও আশির দশকের ভূমিসংস্কার, বিশেষত অপারেশন বর্গা, বর্গাদারদের আইনি নিরাপত্তা দিয়েছিল এবং স্বাধীন ভারতের অন্যতম কার্যকর ভূমিসংস্কার কর্মসূচি ছিল। প্রথম দিকের পঞ্চায়েতগুলিও দেশের মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয়দের একটি। এই কৃতিত্ব স্বীকার করা দরকার। পূর্ণতর ছবিটা হল, বর্গা বাস্তব ফল দিলেও যা তৈরি করল তা প্রকৃত হস্তান্তরযোগ্য মালিকানা নয়, একটি নতুন পৃষ্ঠপোষকতার কাঠামো। এটা একইসঙ্গে উন্নয়ন নীতি এবং রাজনৈতিক সংহতির যন্ত্র ছিল, আর দুই উদ্দেশ্যের মধ্যে দ্বন্দ্ব খুব কমই বেধেছে।
    কাঠামোগত স্ববিরোধ দ্রুত সামনে এল। জেলা, ব্লক আর গ্রাম পর্যন্ত ছড়ানো দলীয় যন্ত্র উন্নয়নের নয়, পৃষ্ঠপোষকতার যন্ত্র হয়ে উঠল। স্থানীয় নেতারা নিয়ন্ত্রণ করতেন ঋণ, জমির নথি, সরকারি চাকরি আর ঠিকাদারির নাগাল। জমিদারের হাত থেকে মুক্ত চাষি নির্ভরশীল হয়ে পড়লেন বুথ কমিটির ওপর। পঞ্চায়েত, যা গ্রামীণ প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের প্রধান হাতিয়ার হতে পারত, হয়ে উঠল রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের প্রধান হাতিয়ার।
     
    শিল্পের পতন, এবং দুটি সাইকেল এর তুলনা 
    একই সময়ে বাংলার শহুরে শিল্প-অর্থনীতির দীর্ঘ পতন শুরু হয়। ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন, যা সত্যিকারের শ্রমশোষণের বিরুদ্ধেই ন্যায্যভাবে গড়ে উঠেছিল, সময়ের সঙ্গে দখলের যন্ত্রে পরিণত হল। ১৯৬৭ থেকে ঘেরাওয়ের বছরগুলি, যখন ম্যানেজারদের দাবি না মানা পর্যন্ত আটকে রাখা হত, পুঁজির কাছে একটি নির্দ্বিধ বার্তা পাঠাল। পুঁজি যুক্তিসঙ্গত উত্তরই দিল। সে চলে গেল।

    হাওড়া এই প্রক্রিয়ার সারাংশ। এই জেলা এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বাংলার ও ভারতের রাজস্বভিত্তিতে বিপুল অবদান রেখেছে। এর কারখানা বানিয়েছে রেল ইঞ্জিন, ইস্পাতের কাঠামো আর যন্ত্রপাতি, যা গোটা উপমহাদেশে গেছে এবং বিদেশেও রপ্তানি হয়েছে। এখানে তৈরি দক্ষ শ্রমিকদের যোগ্যতা সারা দেশে স্বীকৃত ছিল। সেই শিল্পাঞ্চলকেই ধারাবাহিকভাবে বঞ্চিত করা হল প্রাথমিক পরিকাঠামো থেকে: রাস্তা, নিকাশি, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, নাগরিক পরিষেবা। এই ঘাটতি আকস্মিক ছিল না। এর পিছনে ছিল একটি হিসেব, যেখানে সংগঠিত শ্রমিক ভোটারের ঘন জমায়েতকে নিশ্চিত ধরে নেওয়া যায়, আর রাজনৈতিক বিনিয়োগ যায় সেইসব এলাকায় যাদের সক্রিয়ভাবে বাগে আনতে হয়। সল্ট লেক গড়ে উঠল। দক্ষিণের উদ্বাস্তু কলোনিতে পরিষেবা পৌঁছল। যে শিল্পাঞ্চল এসবের টাকা জুগিয়েছিল (ট্যাক্স মানি ), তাকে ক্ষয়ে যেতে দেওয়া হল।
     
    যা ঘটেছিল তার জন্য যদি একটা ছবি চাই, সেটা দুটি সাইকেল কোম্পানি।
    সেন র‍্যালে তৈরি হয় ১৯৪৯ সালে, আসানসোলের কাছে কন্যাপুরে, নটিংহ্যামের র‍্যালের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে। এটাই ছিল ভারতের প্রিমিয়াম সাইকেল। ওটার মালিক হওয়ার একটা মানে ছিল। প্রায় ওই সময়েই মুঞ্জল পদবির চার ভাই, সদ্য পাকিস্তান হয়ে যাওয়া কামালিয়া থেকে আসা উদ্বাস্তু, প্রায় শূন্য হাতে লুধিয়ানায় পৌঁছে সাইকেলের যন্ত্রাংশের কারবার শুরু করেন। ১৯৫৬ সালে একটি ছোট লাইসেন্স আর সামান্য ব্যাঙ্কঋণ নিয়ে তাঁরা গোটা সাইকেল বানাতে শুরু করেন। ১৯৮৬ সাল নাগাদ হিরো সাইকেলস পৃথিবীর বৃহত্তম সাইকেল নির্মাতা।
    একই ধাক্কা, একই বছর, উল্টো ফল। সেন র‍্যালের ব্র্যান্ড ভালো ছিল, প্রযুক্তি ভালো ছিল, শুরুটাও ভালো ছিল। তার প্রযুক্তি ছিল বিদেশি অংশীদারের লাইসেন্সে, একটিমাত্র বড় কারখানায়, আর শ্রমসম্পর্ক ক্রমে বৈরী হয়ে ওঠে। সংস্থাটি রুগ্‌ণ হয়ে পড়ে, রাজ্য তার দায়িত্ব নেয়, এবং শেষে বন্ধ হয়ে যায়। হিরো ছিল পরিবারের হাতে, লুধিয়ানায় নিজের চারপাশে গড়ে তুলেছিল কয়েকশো ছোট যন্ত্রাংশ সরবরাহকারীর একটা বাস্তুতন্ত্র, আর মুনাফা ফিরিয়ে দিত ব্যবসাতেই, লভ্যাংশে বা রাজনীতিতে নয়।
    একই দেশভাগের দুই দল। একদল গড়ল পৃথিবীর বৃহত্তম সাইকেল কোম্পানি। অন্যদল দেখল একটি প্রিমিয়াম জাতীয় ব্র্যান্ড কীভাবে সরকারি ফাইল হয়ে যায়। পার্থক্যটা প্রতিভার ছিল না, পুঁজির ছিল না, দুর্ভাগ্যেরও ছিল না। পার্থক্যটা ছিল, যারা কিছু গড়তে চায় তাদের নিয়ে দুই সমাজ কী করল।
     
    প্রতিষ্ঠানের ভিতর থেকে ফাঁকা হয়ে যাওয়া
    সমাজ এগোয় তার প্রতিষ্ঠানের (Institution) নিরপেক্ষওতা ও শক্তির অনুপাতে। নিরপেক্ষভাবে কাজ করা আদালত, ক্ষমতার সেবা নয় আইন প্রয়োগ করা পুলিশ, জ্ঞান উৎপাদন করা বিশ্ববিদ্যালয়, মান বজায় রাখা নিয়ন্ত্রক সংস্থা: এগুলোই সভ্যতার অদৃশ্য পরিকাঠামো, রাস্তার চেয়ে কম চোখে পড়ে আর অনেক বেশি মৌলিক।
    বামফ্রন্টের সময়কালে বাংলার প্রতিষ্ঠানগুলি ধারাবাহিকভাবে দুর্বল হয়েছে। বিচারব্যবস্থা প্রকাশ্যে দখল হয়নি, কিন্তু প্রশাসনিক ঔদাসীন্য আর বিলম্বের স্বাভাবিকীকরণে তার কার্যকারিতা ক্ষয়ে গেছে, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যত অর্থহীন হয়ে দাঁড়ায়। পুলিশ জনমানসে যুক্ত হয়ে গেল, পুরোপুরি অন্যায্যভাবে নয়, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রয়োগের সঙ্গে। বিংশ শতকের গোড়ায় যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি সত্যিই বিশ্বমানের ছিল, সেখানে গবেষণা কমল, শিক্ষক নিয়োগে যোগ্যতার পাশে রাজনৈতিক বিবেচনা ঢুকল, আর প্রশাসনিক সংস্কৃতিকে ক্ষয় করল ঠিক সেই পৃষ্ঠপোষকতার যুক্তি যা পঞ্চায়েত চালাত।
     
    বিশেষ ট্র্যাজেডিটা এই যে এটা ঘটল এমন এক সমাজে, যার স্মৃতির মধ্যেই ছিল সত্যিকারের বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান। ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট ছিল পরিসংখ্যানবিজ্ঞানের একটি বিশ্বকেন্দ্র। ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্সে সি ভি রামন যে কাজ করেছিলেন তা নোবেল পেয়েছে। আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলো মাঝারি প্রতিষ্ঠানের আরও মাঝারি হয়ে যাওয়া নয়। এগুলো উৎকর্ষ থেকে নেমে আসা, যা গুণগতভাবে আলাদা ক্ষতি এবং ফেরানো অনেক কঠিন।
     
    নিষ্ক্রমণ এবং তার যৌগিক যুক্তি
    যে সমাজ তার শিক্ষিত ও উদ্যোগী শ্রেণিকে ধরে রাখতে পারে না, সে এমন এক নিম্নগামী চক্রে ঢোকে যা ফেরানো অত্যন্ত কঠিন। বাংলার চক্রটি শুরু হয় ষাটের দশকে, গতি পায় সত্তর ও আশিতে।
    ব্যবসা গেল প্রথমে। মাড়োয়ারি, গুজরাটি আর অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান বাণিজ্যিক পরিবার, যারা কলকাতায় প্রতিষ্ঠান গড়েছিল, প্রথমে নথিভুক্ত দপ্তর, তারপর কারবার, তারপর পরিবার সরিয়ে নিল বম্বে, দিল্লি আর মাদ্রাজে। বাঙালি ব্যবসায়ী পরিবারও পিছু নিল। বেসরকারি পুঁজির কাছে বার্তাটি ছিল স্পষ্ট: তোমার উদ্দেশ্য সন্দেহজনক, তোমার সম্পত্তির অধিকার অনিরাপদ, আর রাষ্ট্র তোমাকে কাজ করতে সাহায্য করবে না।
     
    পেশাজীবী শ্রেণি গেল তারপর। কলকাতার চমৎকার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, মেডিক্যাল কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি বাঙালিরা দেখলেন ঘরের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে আর বাইরের সুযোগ বাড়ছে। আশির দশকের মধ্যে বাঙালি মেধা ও পেশাজীবীর দেশত্যাগ এতটাই সর্বব্যাপী হয়ে গেল যে তা সাংস্কৃতিকভাবে স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়াল, উদ্বেগের কারণ নয়, সমাজের একটি সংজ্ঞাসূচক বৈশিষ্ট্য।
    সিনেমায় ধরনটা ছোট আকারে দেখা যায়। কলকাতার নিউ থিয়েটার্স ছিল ভারতের সেরা স্টুডিও। ১৯৫০ সালে বিমল রায় তাঁর গোটা দল নিয়ে বম্বে চলে যান, আর তিন বছরের মধ্যে বানান দো বিঘা জমিন, উচ্ছেদ নিয়ে ছবি যেখানে কারণটা পর্দাতেই স্পষ্ট। ঋষিকেশ মুখোপাধ্যায়, অসিত সেন, শক্তি সামন্ত, সলিল চৌধুরী, শচীন দেব বর্মণ, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়,  এবং আরও বহু মানুষ একই পথে গেছেন। বাংলা প্রতিভা তৈরি করা বন্ধ করেনি। বাংলা এমন জায়গা হওয়া বন্ধ করেছিল যেখানে প্রতিভা কিছু গড়তে পারে।
     
    প্রতিটি প্রস্থান পরেরটাকে আরও সম্ভাব্য করে তুলেছে। কম উদ্যোগপতি মানে কম চাকরি, কম রাজস্ব, সামাজিক পরিকাঠামোয় কম বেসরকারি বিনিয়োগ। কম পেশাজীবী মানে দুর্বল হাসপাতাল, স্কুল আর কারিগরি প্রতিষ্ঠান। দুর্বল প্রতিষ্ঠান মানে শিক্ষিত মানুষের থেকে যাওয়ার আরও কম কারণ।
     
    দ্বিতীয় ভাঙন: ১৯৭১
    ১৯৭১-এ বাংলাদেশের মুক্তি, যাকে বাংলা যথার্থই ন্যায়ের ও গভীর সভ্যতাগত আত্মীয়তার মুহূর্ত হিসেবে উদযাপন করেছে, পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে এল উচ্ছেদের এক বিশাল দ্বিতীয় ঢেউ। আগত মানুষের সংখ্যা কয়েক মিলিয়নে পৌঁছয়। এটা অর্থনৈতিক পরিযান ছিল না। এটা ছিল হিংসা থেকে পালানো, আর তা অসাধারণ চাপ ফেলল এমন এক রাজ্যের ওপর যে তখনও দুই দশক আগের প্রথম উদ্বাস্তু সংকটের অমীমাংসিত ফল বয়ে বেড়াচ্ছে।
    এতে রাজকোষ, আবাসন, পয়ঃপ্রণালী আর শ্রমবাজারের ওপর চাপ পড়ল। এর সঙ্গে গভীর হল বারবার উচ্ছেদ হওয়ার মানসিক ভার। দুই প্রজন্মে দুটি দেশভাগ, দুবারই গণউচ্ছেদ আর অপ্রক্রিয়াকৃত ক্ষত, তৈরি করল এমন এক সমাজ যে নিজেকে বোঝে ক্ষতির চোখে, নির্মাণের চোখে নয়। সভ্যতার আখ্যান হয়ে দাঁড়াল টিকে থাকা আর শিকার হওয়ার আখ্যান, গড়া আর আকাঙ্ক্ষার নয়। আত্মবোধের এই বদল বদলে দিল কী সম্ভব মনে হয় আর কী চেষ্টা করার যোগ্য মনে হয়।
     
    যে ভারসাম্য কোনওদিন পাওয়া গেল না
    নানা ঐতিহ্যের রাজনৈতিক দর্শন একটি বিষয়ে মেলে: সমাজ বিকশিত হয় যখন রাষ্ট্রশক্তি আর সামাজিক শক্তি ঠিক সম্পর্কটি খুঁজে পায়। রাষ্ট্রকে যথেষ্ট শক্তিশালী হতে হবে নিরাপত্তা দিতে, চুক্তি বলবৎ করতে, পরিকাঠামো রাখতে, গণপণ্য জোগাতে। আবার এত প্রবল হওয়া চলবে না যে সেই সমাজ, উদ্যোগ আর সংগঠনগুলোকে পিষে দেয় যাদের ভিতর দিয়ে মানুষ রাজনীতির বাইরে জীবন গড়ে। নাগরিক সমাজ কেবল অলংকার নয়। ওটাই সেই প্রধান পথ যা দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরি হয় এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে যায়।
    আধুনিক ইতিহাসের কোনও পর্বেই বাংলা এই ভারসাম্য পায়নি। ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র ছিল লুণ্ঠক ও নিষ্কাশক, যা সক্ষমতা নয়, ক্ষত তৈরি করেছে। স্বাধীনতা এনেছে এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি যা সমাজতান্ত্রিক ভাষার নিচে মূলত রাষ্ট্রকেন্দ্রিক: ধরে নেওয়া হল উন্নয়ন দেবে দল-রাষ্ট্র, সক্ষম সমাজের শক্তি থেকে উন্নয়ন উঠে আসবে না। বামফ্রন্ট একে বাড়িয়েছে ও গভীর করেছে, সঙ্গে যোগ করেছে সমাজজীবনের প্রতিটি কোণে দলীয় অনুপ্রবেশের নির্দিষ্ট ব্যাধি।
    যে ব্যবসায়ী শ্রেণি নাগরিক সমাজকে ভিত দিতে পারত, তাকে তাড়ানো হল। যে শিক্ষিত পেশাজীবী শ্রেণি স্বাধীন বিশ্ববিদ্যালয় আর সাংস্কৃতিক সংগঠন টিকিয়ে রাখতে পারত, সে দেশ ছাড়ল। যে বুদ্ধিজীবী শ্রেণি বিকল্প দৃষ্টি দিতে পারত, সে এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গভীরভাবে বসানো ছিল যা প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতাকে সন্দেহের চোখে দেখত। রইল কেবল একটি দল-রাষ্ট্র, ভিতর থেকে ফাঁকা, যা না পারে সেই সংগঠন যা তাকে শক্তিশালী করেছিল, না পারে সেই শাসন যা সেই সংগঠনকে অর্থ দিত।
     
    একটি সৎ হিসেবের দিকে
    বাংলার পতন রহস্য নয়। এটি একটি নথিভুক্ত ধারাবাহিকতা: একটি দুর্ভিক্ষ যা তৈরি করা হয়েছিল এবং যার দায় কোনওদিন ঠিক জায়গায় বসেনি; একটি আখ্যান যা শ্রেণির ভাষায় সাজানো হল আর যন্ত্রণার পিছনের যন্ত্রটি অভিযুক্ত হল না(a mistake in the telling, in my opinion), এবং যে শ্রেণি সেই আখ্যান সাজাল তারা গ্রামের মৃতদের নিজেদের লোক ভাবেনি; একটি দেশভাগ যা বোঝাপড়ায় আসেনি; কেন্দ্রীয় নীতি যা রাজ্যের সুবিধাগুলো কেড়ে নিয়েছিল নিজের রাজনীতি বাকিটা শেষ করার আগেই; উদযাপিত নায়ক যাঁদের সবচেয়ে জরুরি শিক্ষাগুলি প্রশংসিত হল কিন্তু সঞ্চারিত হল না; একটি সমাজ যে প্রতিষ্ঠান-নির্মাতা, বিজ্ঞানী, শিল্পোদ্যোগী, সংস্কারক, প্রশাসক আর ক্রীড়াবিদ তৈরি করেছে কিন্তু মনে রাখেনি; একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি যা ন্যায্য সামাজিক শক্তিকে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষয়ে রূপান্তরিত করল; আর ঠিক সেই মানুষদের যৌগিক নিষ্ক্রমণ যাঁরা গতিপথটা ঘুরিয়ে দিতে পারতেন।
    বাংলার যা দরকার ছিল, একাধিক মোড়ে, তা প্রতিটি সফল সমাজেরই দরকার হয়। এমন প্রতিষ্ঠান যা রাজনৈতিক ক্ষমতার বাইরে দাঁড়িয়ে কাজ করে। এমন ব্যবসায়ী সমাজ যাকে আইন দিয়ে জবাবদিহি করানো হয়, মতাদর্শ দিয়ে তাড়ানো হয় না। এমন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান যা নিজের গল্প সততা আর গর্বের সঙ্গে বলে। এমন রাষ্ট্র যা গণপণ্য জোগানোর মতো শক্তিশালী, কিন্তু সেই নাগরিক সমাজকে চেপে মারে না যা বাকি সব স্থায়ী জিনিস তৈরি করে।
    কাঁচামালের অভাব কোনওদিন ছিল না। যে বিজ্ঞানীরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়েছেন, যে শিল্পোদ্যোগীরা আধুনিক উদ্যোগ তৈরি করেছেন, যে শিল্পীরা সত্যিকারের বিশ্বমাপের, আর অসাধারণ বৌদ্ধিক প্রাণশক্তির একটা জনগোষ্ঠী: কোনওটারই অভাব ছিল না। বাংলার ট্র্যাজেডি সক্ষমতার ট্র্যাজেডি নয়। এটা দিকভ্রমের ট্র্যাজেডি, আর সেইসব নির্দিষ্ট পরিস্থিতির, যা দিকভ্রমকে এত দীর্ঘস্থায়ী আর এত ব্যয়বহুল করে তুলেছে ।

    এটি তিন পর্বের প্রবন্ধের দ্বিতীয় পর্ব। তৃতীয় পর্ব আসবে সেই প্রশ্নে, কী করা যায়, এবং যুক্তি সাজাবে সেই বদলের পক্ষে যা বাংলা কোনওদিন করেনি: ভোগের সংস্কৃতি থেকে নির্মাণের সংস্কৃতিতে।
     
    সূত্র প্রসঙ্গে
    প্রথম পর্বের মতোই, এই তালিকায় যুক্তির সমর্থক এবং বিরোধী, দুরকম কাজই রাখা হয়েছে।
    Ranajit Roy, The Agony of West Bengal (1971). বামফ্রন্টের আগেই কেন্দ্রীয় নীতি বাংলাকে স্থবির করেছিল, এই যুক্তি।
    Ross Mallick, Development Policy of a Communist Government: West Bengal since 1977 (Cambridge, 1993). বামফ্রন্ট শাসনের সমালোচনামূলক বিবরণ।
    Atul Kohli, The State and Poverty in India (Cambridge, 1987). সহানুভূতিশীল বিবরণ, বিশেষত অপারেশন বর্গা নিয়ে।
    অপারেশন বর্গা ও তার সীমা নিয়ে মৈত্রীশ ঘটক ও মৈত্রেয় ঘটক।
    পশ্চিমবঙ্গের কৃষি পরিবর্তন নিয়ে প্রণব বর্ধন।
    Amiya Kumar Bagchi, Private Investment in India 1900-1939 (Cambridge, 1972).
    Joya Chatterji, The Spoils of Partition (Cambridge, 2007).
    Prafulla K. Chakrabarti, The Marginal Men (Naya Udyog, 1990).
    ফ্রেট ইকুয়ালাইজেশন ও পূর্ব ভারতে তার প্রভাব নিয়ে শিল্প-অবস্থান সংক্রান্ত সাহিত্য এবং নব্বইয়ের দশকে তা প্রত্যাহারের আগের বিতর্ক।
    দেশভাগ-পরবর্তী বাঙালি ব্যাঙ্কের একীকরণ নিয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ইতিহাস, ১৯৪৯-এর ব্যাঙ্কিং রেগুলেশন আইন ও ১৯৫০-এর সংযুক্তিকরণ প্রসঙ্গে।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    প্রথম পর্ব | দ্বিতীয় পর্ব
  • আলোচনা | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৮২৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সত্যেন্দু সান্যাল | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৪০742544
  • দেবজিৎ বাবু,
    আপনি অপারেশন বর্গার সাফল্য সঙ্গত ভাবে বাম ফ্রন্টকে দিয়েছেন। এর সঙ্গে সাঁইবাড়ি হত্যাকাণ্ড বা মরিচঝাঁপির হত্যালীলা ভুলে গেলে ভারসাম্য নষ্ট হয়।
    Sen Raleigh এবং Hero Cycles এর তুলনায় কিন্তু "Basic Customer Understanding" ও Innovation এবং বিলিতি ব্র্যাণ্ডের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কথা ও স্মরত্তব্য।
    প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় হিসেবে এই সদ্য পঠিত টুকরোটি রইলো।
     
    সেইদিন কলকাতার শীতের রাতটা তখনও কাটেনি। ভোরের আলো ফোটার আগেই রাজভবনের একখানা সই নিমেষের মধ্যে কাঁপিয়ে দিল আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের ক্ষমতার অলিন্দ।
    ১৯৮৩ সালের শেষভাগ। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদের প্যানেল টেবিলে আসতেই বামাতিফ্রন্টের পরিকল্পনা ভেবে রাখা হয়েছিলো একশো শতাংশ নিখুঁত যে তাদের নিজস্ব কোনো অনুগত মুখকে বসিয়ে শতাব্দী প্রাচীন এই শিক্ষা সাম্রাজ্যের চাবি পুরোপুরি নিজেদের ক্যাডারবাহিনীর হাতে তুলে নেওয়া এবং সিস্টেম হাইজ্যাক করা। কিন্তু রাজভবনের রাজ্যপাল এ. পি. শর্মা সেই সাজানো চিত্রনাট্যে জল ঢেলে দিলেন। উপাচার্যের মসনদে বসলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ ড. সন্তোষ ভট্টাচার্য।স্বাধীনচেতা, আপসহীন এক অধ্যাপক। কোনো দলীয় লেজুড়বৃত্তির ধার ধারেন না।
    খবরটা পৌঁছানো মাত্রই মহাকরণ থেকে লাল পার্টি অফিস সব জায়গায় অশণি সংকেত জ্বলে উঠল। শুরু হলো প্রাতিষ্ঠানিক সন্ত্রাসের এক নিঃশব্দ, ঠাণ্ডা যুদ্ধ।
    প্রথম দিন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নামল এক শ্বাসরুদ্ধকর হাড়হিম লাল কুয়াশার শীতলতা। সিনেট ও সিন্ডিকেটের প্রতিটি করিডোরে তখন ওত পেতে বসে আছে বামফ্রন্টের দলীয় ক্যাডাররা।কোনো ফাইল সই হবে না, কোনো সংস্কার চলবে না, উপাচার্যের কোনো আদেশ কার্যকর হবে না।
    ড. ভট্টাচার্য যখনই পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে যান কিংবা নিয়মানুবর্তিতা ফেরাতে হাত বাড়ান, অমনি সিন্ডিকেটের ভোটাভুটিতে তা আটকে দেওয়া হয়। দেয়ালগুলো যেন ফিসফিস করে জানান দিচ্ছিল যে এখানে মেধা নয়, রাজত্ব চলে মেহনতি পার্টির অঙ্গুলিহেলনে।
    তারপর ঘটল আসল বিস্ফোরণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে ভুয়া পরিচয়পত্র আর আর্থিক কেলেঙ্কারির দায়ে হাতেনাতে ধরা পড়ল পাঁচজন প্রভাবশালী ইউনিয়ন কর্মী। প্রশাসন স্তম্ভিত!
    কিন্তু ড. ভট্টাচার্য একচুলও কাঁপলেন না; সরাসরি বরখাস্ত করলেন সেই দুর্নীতিগ্রস্তদের।ঠিক তখনই পার্টি তার মুখোশ ছিঁড়ে নখ দাঁত বের করে আসল রূপে বেরিয়ে এলো। মুহূর্তের মধ্যে গর্জে উঠল বাম কর্মচারী ইউনিয়ন আর এসএফআই-এর ক্যাডাররা।
    হঠাৎ একদিন কর্মচারী সমিতির জনা পঁচিশ-তিরিশ সদস্য সরাসরি উপাচার্যের ঘরে ঢুকে স্লোগান দিতে শুরু করে দিলেন। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠল। আর সেই উত্তেজনার মধ্যেই একজন ক্যাডার সন্তোষ ভট্টাচার্যের দিকে ছুড়ে দিলেন একটি আধপোড়া বিড়ি।প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে চলল সেই অপমানজনক বিক্ষোভ।
    সন্তোষবাবু সারাক্ষণ মাথা নিচু করে নির্বিকার বসে রইলেন।কর্মচারীরা চলে যাওয়ার পর তাঁকে কেউ জিজ্ঞেস করেছিল—“এ রকম রোজই চলছে?”
    তিনি নির্বিকার শান্তভাবে উত্তর দিয়েছিলেন—“এ রকম রোজই চলছে।”
    আবার প্রশ্ন এসেছিল—“বাইরে পুলিশ আছে না?”
    সন্তোষবাবুর উত্তর ছিল আরও বিস্ফোরক—
    “পুলিশ ডাকব, তোমার মাথা খারাপ!?”
    কারণ তিনি জানতেন, বিষয়টি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার নয়। এটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে প্রশাসনিক কর্তৃত্বের সরাসরি সংঘর্ষ।
    কিন্তু চাপ শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের ভিতরেই সীমাবদ্ধ ছিল না।
    সন্তোষবাবু উপাচার্য হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু একদিন তাঁকে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। এটা-ওটা কথার পর জ্যোতিবাবু তাঁকে বলেছিলেন—
    “শুনুন, যা হওয়ার হয়ে গেছে। একটা কথা মনে রাখবেন, বেশি বাড়াবাড়ি কিন্তু করবেন না।”
    সন্তোষ ভট্টাচার্য এককালে কমিউনিস্ট পার্টিই করতেন, কমিউন-এ থেকেছেন। কিন্তু তখন তিনি আর কোনো রাজনৈতিক আনুগত্যের কাছে মাথা নোয়ানোর মানুষ নন। তাঁর ভাবখানা যেন—“আমি কি ডরাই কভু ভিখারী রাঘবে?”
    চেয়ার ছেড়ে ওঠার আগে তিনি জ্যোতিবাবুকে বলে গেলেন—
    “আমাকে ইট-পাটকেল ছুড়লে আমি কি রসগোল্লা ছুড়ব? গুড বাই।”
    এই একটি বাক্য যেন গোটা মানুষটাকে চিনিয়ে দেয়।তারপর শুরু হলো আরও ভয়াবহ অধ্যায়। উপাচার্যের দরজার বাইরে শুরু হলো আদিম জান্তব উল্লাস। আলো নিভিয়ে দেওয়া হলো, জলের পাইপলাইন বন্ধ, চারদিক থেকে স্লোগান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দমবন্ধ করা এক অবরুদ্ধ ঘরে বন্দি রইলেন বৃদ্ধ অধ্যাপক। পুলিশ হাত গুটিয়ে দাঁড়িয়ে রইল দূরে, কারণ উপরতলার নির্দেশ তখন অতি স্পষ্ট। রক্তচাপ বাড়ছিল, ঘরের বাতাস বিষাক্ত হয়ে উঠছিল, কিন্তু সেই বৃদ্ধ মেরুদণ্ডটি সেইদিন ঋজু হলোনা।
    পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাল যে কলেজ স্ট্রিটের ঐতিহাসিক ক্যাম্পাস পরিণত হলো লাল হায়েনাদের সাজানো বধ্যভূমিতে। প্রাণ বাঁচাতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ চালিয়ে যেতে ড. ভট্টাচার্যকে আত্মগোপন করতে হলো নিজেরই পাম অ্যাভিনিউর বাসভবনে।
    এক অন্ধকারাচ্ছন্ন রাতে শুরু হলো আন্ডারগ্রাউন্ড অপারেশন।বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত কর্মীর মধ্যে থেকে মাত্র সাতজন নির্ভীক শিক্ষক ও আধিকারিক উপাচার্যের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁদের নাম দেওয়া হলো—“দ্য সেভেন সামুরাই”।
    গভীর রাতে গোপনে ফাইল আনা-নেওয়া, গোপন ঠিকানায় বসে প্রশ্নপত্র তৈরি আর রেজাল্ট বের করার সেই বিপজ্জনক অধ্যায় যেন কোনো টানটান সাইকোলজিকাল থ্রিলার কে হার মানায়।চার বছরের মেয়াদ শেষ হলো।কিন্তু যুদ্ধ থামল না।ড. সন্তোষ ভট্টাচার্য ইতিহাসের সামনে এক বিধ্বংসী বোমা ফাটালেন। সাতশো পাতার এক নথিবদ্ধ দলিল—“Red Hammer Over Calcutta University (1984–1987)”।
    প্রতিটি পাতায় ছিল গোপন সার্কুলার, মন্ত্রীদের হুমকির বয়ান এবং বামফ্রন্টের স্তালিনীয় আগ্রাসনের নগ্ন দলিল। বইটির ছত্রে ছত্রে তিনি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিলেন সেই জমানাকে—যেখানে একটি রাজনৈতিক দল নিজেদের ক্যাডারতন্ত্র কায়েম করতে গিয়ে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাব্যবস্থার ঘাড় মটকে দিয়েছিল।
    ইতিহাস কোনোদিন এই রাজনৈতিক অপরাধকে ক্ষমা করেনি।লাল হাতুড়ির সেই অন্ধ আঘাতে সেদিন একজন উপাচার্যকে পদচ্যুত করতে হয়তো চেয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা গুঁড়িয়ে দিয়েছিল গোটা রাজ্যের উচ্চশিক্ষার মেরুদণ্ডকেই।
    আর সেই লড়াইয়ের শেষ ছবিটা হয়তো ওই বৃদ্ধ অধ্যাপকের মধ্যেই আটকে আছে—চারদিক থেকে রাজনৈতিক চাপ, অপমান, হুমকি, অবরোধ; অথচ চেয়ার ছাড়েননি।ইট-পাটকেল ছোড়া হলে রসগোল্লা ছোড়ার মানুষ তিনি ছিলেন না।তিনি লড়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত কিন্তু তিনি তাঁর মেয়াদ সম্পূর্ণ করেছিলেন!
    #TheBengalOwl
     
    তথ্যসূত্র:
    ভট্টাচার্য, সন্তোষ. Red Hammer Over Calcutta University (1984–1987), কলকাতা।
    India Today আর্কাইভ (সেপ্টেম্বর ১৯৮৫): "Power Battle Between Left Front and Calcutta University Vice-Chancellor Rocks West Bengal"।
    Frontier Weekly আর্কাইভ (ভলিউম ৪৩, ২০১০–১১): "Party and the Campus: The Battle of Calcutta University"।
    The Statesman: "Excellence Gained, Glory Lost: Institutional Decline in Bengal"।
     
    Inline image
     
    মাদ্রাজি Sub Nationalism এর দিশা নিয়ে পরে আরো বিশদে চর্চা করবো। ঐখানের Star Cult এবং বাম জমানার Collective আলিমুদ্দিন মডেল দুইটি apples and orange.
    যেহেতু এই লিখনটির মডেল আত্মানুসন্ধান, যতো তর্কাতর্কি হয় ততোই ভালো।
    নমস্কারান্তে
  • ar | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:১৯742545
  • অবশেষে চাড্ডি ফেসবুক থেকে কপি-পেষ্ট? নয়া দীফাবতার??!!!
    smiley
  • সত্যেন্দু সান্যাল | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৩১742547
  • মাননীয় ar মহাশয়,
    আমার নতুন moniker এর জন্য ধন্যবাদ।
    সৌভাগ্যবশতঃ এই নয়া চাড্ডি দীফাবতার এর মন্তব্য মূল প্রাবন্ধিক দেবজিৎ ঘোষ সাদরে গ্রহন করেছেন।
    ধন্যবাদ ও জানিয়েছেন।
    একটু কষ্ট করে প্রথম পর্বের মতামত পড়লে তার প্রমান পাবেন।
    মতামত স্রেফ tagging করলেই আলোচনা যদি সমৃদ্ধ হয় তো অসুবিধে নেই।
    অবশ্য এমনটি বাংলা ওয়েবজিনে আরো একটি অবক্ষয় এর দ্যোতক কি না সেটি দেবজিৎ বাবু বিবেচনা করবেন।
    ভালো থাকবেন।
    নমস্কারান্তে
  • Debajit Ghosh | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪৬742548
  • সত্যেন্দুবাবু,
    হিরো আর সেন র‍্যালের তুলনাটা আপনার কাছ থেকেই পাওয়া, এবং ওটা না পেলে আমি তুলনা টা বাদ ই দিতাম। কৃতজ্ঞ রইলাম।
    আপনার পরের কথাটাও ঠিক, এবং ওটা আমার লেখায় ছিল না। সেন র‍্যালে ছুটেছে প্রিমিয়াম ক্রেতার পিছনে; হিরো বুঝেছিল আসল বাজার ছোট শহর আর গ্রামের সাধারণ মানুষ, আর সেই অনুযায়ী সস্তা, টেকসই, সহজে সারানো যায় এমন জিনিস বানিয়েছে। সঙ্গে বিলিতি ব্র্যান্ড আর লাইসেন্সের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। অর্থাৎ পার্থক্যটা শুধু শ্রমসম্পর্ক বা রাজনীতির নয়, ক্রেতাকে চেনা আর নিজের প্রযুক্তি নিজের হাতে রাখারও। এটা আমি যোগ করব।

    সাঁইবাড়ি আর মরিচঝাঁপির কথাও মেনে নিচ্ছি। অপারেশন বর্গার কৃতিত্ব দিয়ে ওই দুটো বাদ দিলে ভারসাম্য থাকে না। মরিচঝাঁপি বিশেষভাবে এই লেখার কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকা উচিত ছিল, কারণ সেখানে উদ্বাস্তু, রাষ্ট্রীয় বল আর দীর্ঘ নীরবতা, তিনটেই এক জায়গায়।তার সাথে বিজন সেতু massacre ও অন্যান্য টার্গেটেড Killings ও যোগ করবো।

    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাটি প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষয়ের প্রায় নিখুঁত উদাহরণ। ওটা নিয়ে আমি পড়ব, তবে ফেসবুকের বয়ানের বদলে সন্তোষ ভট্টাচার্যের নিজের লেখা আর সমকালীন সংবাদপত্রের নথি থেকে পেলে ভালো। ওই পোস্টের ভাষা যথেষ্ট রঙচঙে, আর সেই রং ঘটনার নিজস্ব শক্তিকে অনেক সময় কমিয়ে দেয়। ঘটনাটার নিজের ওজন আছে, অলংকারের দরকার নেই।
    সূত্র প্রসঙ্গে আমার অবস্থানটা একবারই বলি। তথ্য কোথা থেকে এল, তা তথ্যটিকে আগে থেকেই সত্য বা মিথ্যা করে দেয় না। সূত্র ঠিক করে আমরা কতটা যাচাই করব। ফেসবুক থেকে আসা কথা যাচাই করে নিলে ব্যবহারযোগ্য; বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা থেকে আসা কথাও যাচাই না করলে নয়। আমার নিজের লেখাতেই আমি চার্চিল প্রজেক্টের যুক্তি রেখেছি, যাদের সঙ্গে আমি একমত নই, ঠিক এই কারণেই।

    নিজের সম্পর্কে দুটো কথা। আমি লেখক নই, ঐতিহাসিকও নই। আমি চারপাশ দেখি, সামষ্টিক অর্থনীতি, ইতিহাস আর সমাজবিজ্ঞান পড়তে ভালোবাসি, আলোচনা করতে ভালোবাসি, আর কোনও একটি ইজ্‌মের দিকে ঝুঁকে থাকার চেষ্টা করি না (Try my best to be unbiased which is not easy)। লিখি মূলত ইংরেজিতে। এই বিষয়ের গভীরে যেতে হলে আরও অনেকগুলো পর্ব লাগত, তাই নির্দিষ্ট ঘটনার গভীর বিশ্লেষণে না গিয়ে বড় ছবির প্রবণতাতেই থেকেছি। আপনার দেওয়া সূত্র আর ইঙ্গিত এর জন্যে অনেক ধন্যবাদ।

    নমস্কারান্তে
  • Debanjan | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:০০742550
  • দেবজিৎদা, যথেষ্ট ভালো হয়েছে এই পর্বটি আরো তথ্যসমৃদ্ধ বিচারবিশ্লেষণ করে সেজন্য অনেক ধন্যবাদ l তবে একটা ব্যাপারে বলতে চাই যে এই লেখাটি মূলতঃ পশ্চিমবঙ্গের সমস্যাকে নিয়েই লেখা l মনে হয় আরো ভালো হবে, দুই বাংলার একটা তুলনামূলক আলোচনা করলে l ৪৭ সালে দেশভাগের পরেই পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু comparative advantages ছিল যার উল্লেখ আপনি করেছেন যেমন আধুনিক শিল্প, শিল্পোদ্যোগী, পুঁজি, বৌদ্ধিক ভাবে সমৃদ্ধ একটা জনগোষ্ঠী অথচ বাংলাদেশে এর কিছুই ছিলোনা l দেশভাগের পরে ব্রিটিশের রেখে যাওয়া শিল্পব্যবস্থার ৯০-৯৫ ভাগই ভারতেই ছিলো l সেখান থেকে বর্তমানে বাংলাদেশ পশ্চিম বঙ্গের থেকে মাথাপিছু আয়েও এগিয়ে এমনকি total GDP কাউন্টেও পশ্চিমবঙ্গের প্রায় দ্বিগুন (বাংলাদেশ মোট জিডিপি ৫০০ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশী, পশ্চিমবঙ্গের সেটি মাত্র ২৫০ বিলিয়ন ডলারের মত, সত্যি বলতেকি সমগ্র পূর্ব ভারতের অন্য রাজ্য যেমন বিহার ঝাড়খন্ড অসম ওড়িশা সবার থেকেই মোট জিডিপিতে এগিয়ে ওপার বাংলা তথ্যসূত্র চ্যাটজিপিটি ) দুই বাংলার এই আর্থিক তুলনা করলেও খুবই প্রাসঙ্গিক হয় l এর সঙ্গেই দেশভাগের পরে বাংলা ও পাঞ্জাবের তুলনামূলক আলোচনারও প্রয়োজন আছে l হিরো সাইকেল উদাহরণটা প্রাসঙ্গিক কিন্তু এটির পিছনে দেশভাগের শিকার দুই ভূখণ্ডের তুলনামূলক আর্থিক আলোচনা প্রয়োজন নাহলে সামগ্রিক পরিস্থিতি হয়তো বোঝা যাবেনা l আগামী পর্বে এই দুটো আলোচনার দিকে তাকিয়ে থাকবো দাদা l "মাড়োয়ারি, গুজরাটি আর অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান বাণিজ্যিক পরিবার, যারা কলকাতায় প্রতিষ্ঠান গড়েছিল, প্রথমে নথিভুক্ত দপ্তর, তারপর কারবার, তারপর পরিবার সরিয়ে নিল বম্বে, দিল্লি আর মাদ্রাজে। বাঙালি ব্যবসায়ী পরিবারও পিছু নিল।" এই বিষয়ে কিছু বিস্তারিত তথ্য দিলে ভালো হয় দাদা l মাড়োয়ারি, গুজরাটি পরিবার গুলো বাংলা ছাড়লেও এখনো কলকাতায় বড়লোক পুঁজিপতি বলতে মাড়োয়ারি, গুজরাটি পরিবার গুলো কেই ধরা হয় l হলদিরাম, বিকাজী, দামানি, গোয়েঙ্কা, এরা তো কেউই দেশ ছাড়েনি ! তবে নব্বই দশকের শুরু থেকেই অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান, বাঙালী আর শিখ সম্পন্ন পরিবার এই রাজ্য ছেড়ে চলে গেছে এটা সঠিক l
  • সত্যেন্দু সান্যাল | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:২৯742551
  • দেবজিৎ বাবু,
    আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
    আপনার লিখনের উদ্দেশ্য এবং কাঠামোটি আমার খুব পছন্দ হয়েছে বলেই স্বতঃপ্রনোদিত হয়ে নানা inputs দেওয়ার চেষ্টা করেছি সাধ্যমত।
    নচেৎ আমি সাধারনতঃ মতামত লিখি না ~ এবারের মতো পূর্বেও "চাড্ডি" আখ্যা দিয়ে ফোট বলা হয়েছে।
    তবে গুরু-কে ধন্যবাদ এই জন্য যে অন্ততঃ মতামতটি উড়িয়ে দেয় না, অন্যান্য কিছু জনপ্রিয় ওয়েবজিন তো মতামত ছাপেই না, সঙ্গে সঙ্গে উড়িয়ে দেয়।
    As I told you, as a 1947 born Bengali, living outside the state for over fifty years, I too am deeply concerned.
    I think we are temperamentally similar. I personally think both হিন্দুত্ববাদ and বামপন্থা are a bogus ভাঁওতা, আর কংগ্রেসের "ism" is only পরিবারবাদ।
    But I am deeply respectful of Hindu mythology and দর্শন।
    We should always remember that হিন্দুত্ববাদ celebrates a fiercely independent enquiring mind, not the বাগাড়ম্বর of frauds like বাগেশ্বর বাবা। Similarly, we should be respectful of the wonderful inputs that were provided post the Islamic and British periods in various fields.
    Since is not your intention to write a thousand page treatise, do stick to your broad brush, wide canvas style.
    Following your নিজের সম্পর্কে দুটো কথা, I must say that it was in my I.I.T. Kgp days (1963-68) that I came across Arthur Koestler's "Darkness At Noon", which led to further studies of বামপন্থা ~ which I now consider a ভাঁওতা। But this does not mean I do not appreciate the arguments of a life long Marxist like Eric Hobsbawm.
    মনের জানালা খোলা রাখেন বলেই আপনার লেখা সমৃদ্ধ হবে।
    শুভেচ্ছান্তে।
  • সত্যেন্দু সান্যাল | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:১৭742552
  • দেবাঞ্জন বাবু,
    আপনার লিখনে হলদিরাম, বিকাজী, দামানি নাম তিনটি দেখে একটু আশ্চর্য্য হ'লাম।
    এঁরা যদিও সবাই মারোয়াড়ি, এঁরা কিন্তু কেউই বিড়লা বা গোয়েঙ্কা বা বাঙ্গুর গোষ্ঠীর মতো খানদানী কলিকাতাস্থ মারোয়াড়ি নন। প্রথম দুইটির আরম্ভ বিকানীর, রাজস্থান থেকে, তৃতীয়টি মুম্বাই থেকে। হলদিরাম অবশ্য এখন নাগপুরে headquartered.
    দেশ (অর্থাৎ বাংলা) ছেড়ে যাওয়ার Case History হিসেবে বরং বল্লভ প্রসাদ আগরওয়াল এর Priya Gold এর ইতিহাস আরো প্রাসঙ্গিক। বড়বাজারের নারকোল তেল ব্যবসা থেকে এই ব্র্যাণ্ডের অগ্রগতি - কেন বাংলা ছেড়ে নয়ডা গেলো এইটি আলোচনা হউক।
    Just my two paisa.
  • সত্যেন্দু সান্যাল | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:৫৭742553
  • দেবাঞ্জন বাবু,
    GDP, GDP per capita এবং PPP অর্থাৎ Purchase Power Parity বিষয়ে নীচের প্রতিবেদনটি দেখতে পারেন।
     
     
    ১৯৭১ সালের হিসাব দেখুন
     
    Key Economic Indicators (1971)

    Metric India
  • সত্যেন্দু সান্যাল | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:১৭742554
  • SORRY, THE MESSAGE WAS INCOMPLETE
     
    In 1971, the economic trajectories of India and Bangladesh (newly established following the Liberation War) were heavily defined by conflict, regional instability, and refugee strains. Bangladesh's data for 1971 reflects its final months as East Pakistan and its immediate post-independence status. [1, 2, 3]
    A direct comparison of their key economic metrics for 1971 demonstrates the baseline difference between the two economies at the time:

    Key Economic Indicators (1971)

    MetricIndiaBangladesh (1971)
    Nominal GDP$67.35 Billion$8.75 Billion
    GDP Per Capita (Nominal)~$120$128 - $134
    GDP Growth Rate1.6%-6.0% to -14.0% (Wartime contraction)
    Population548.2 Million~65-70 Million
    Poverty Rate~55%~70% - 80%
    Life Expectancy at Birth~48 Years26 Years (Heavily skewed by wartime atrocities)
    Primary Economic SectorAgriculture (49.4% of output, 68.3% of jobs)Agriculture (44% of GDP)


    Contextual Highlights
    • India (1971): The economy experienced a severe slowdown down to a 1.6% growth rate due to the massive influx of roughly 10 million refugees fleeing East Pakistan, alongside the structural costs of fighting the 1971 Indo-Pakistani War. [1, 2, 3]
    • Bangladesh (1971): Emerging out of devastating war and genocide, the economy shrunk severely (with a contraction reaching up to -14% depending on data sets). Most infrastructure, including bridges and transit systems, was shattered, and its leading export sector (raw jute) was entirely disrupted
    • Debajit Ghosh | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৩১742555
    • সত্যেন্দুবাবু,
      আপনার প্রতিটি মন্তব্য থেকেই কিছু না কিছু নিয়েছি ও শিখেছি। অনেক ধন্যবাদ
      প্রিয়াগোল্ডের প্রসঙ্গটিও ঠিক ধরেছেন। বড়বাজার থেকে নয়ডা, একটি সংস্থার এই যাত্রাপথ যতটা বলে, নামের তালিকা তার চেয়ে অনেক কম বলে। কেন গেল, কী নিয়ে গেল, আর তার জায়গায় কী এল, প্রশ্নটা ওখানেই।
      আর আপনার শেষ কথাটির সঙ্গে আমার নিজের পদ্ধতি মেলে। আমি কোনও ইজ্‌মে সই করি না, তবে যাঁদের সঙ্গে একমত নই তাঁদের সেরা যুক্তিটা না পড়লে নিজের যুক্তিটাও দাঁড়ায় না।
      ভালো থাকবেন। আপনি ৫০ বছর দেশ এর বাইরে কথাই ছিলেন ? আমি মিড্ seventies বর্ন তবে কাজ থেকে voluntarily অবসর নিয়েছি।
    • Debajit Ghosh | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৩৪742556
    • দেবাঞ্জন,
      দুটো প্রশ্নই ঠিক জায়গায়। আলাদা করে বলি।
      মাড়োয়ারি-গুজরাটি পরিবারের প্রসঙ্গে আপনি ঠিক। তবে আমার যুক্তিটা কয়েকটি নাম নিয়ে নয়, বণ্টন নিয়ে। কলকাতা পূর্ব ভারতের বৃহত্তম শহর; দেড় কোটি মানুষের বাজারে ব্যবসা থাকবেই, বড় ব্যবসাও থাকবে। প্রশ্নটা ব্যবসা আছে কি নেই, তা নয়। প্রশ্নটা কী ধরনের ব্যবসা। যা রয়ে গেছে তার বেশিরভাগই এই বাজারকেই সেবা করে: খুচরো, খাদ্য, বাণিজ্য, পরিষেবা। যা চলে গেছে তা উৎপাদন আর রপ্তানি, অর্থাৎ যা শহরের বাইরের বাজারে বা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি হয়। কয়েকটি টিকে থাকা নাম দেখে প্রবণতা মাপা যায় না। প্রশ্নটা সবসময় একই: যেখানে ছিলাম, সেখান থেকে আমরা কতটা গড়লাম।

      দুই বাংলার তুলনা নিয়ে। দিকটা আপনি ঠিক ধরেছেন, এবং সেটা অস্বস্তিকর, অস্বীকার করছি না। বাংলাদেশ প্রায় শূন্য থেকে শুরু করে ব্যবধান মিটিয়েছে। কিন্তু তুলনাটা সমান-সমান নয়। বাংলাদেশ সার্বভৌম দেশ, নিজের মুদ্রা, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক, বাণিজ্যনীতি আর বিপুল রেমিট্যান্স নিয়ে; পশ্চিমবঙ্গ একটি রাজ্য, এর কোনওটাই যার হাতে নেই। আর বাংলাদেশের বৃদ্ধি মূলত পোশাক, কৃষি আর পরিষেবাকেন্দ্রিক, অর্থাৎ কম বৈচিত্র্য, কম প্রযুক্তিগত জটিলতা, বিশ্ববাজারে কম ওজন। তাই বাংলাদেশ আমাদের জন্য তুলনার জায়গা নয়। সত্যিকারের তুলনা চলে মহারাষ্ট্র, গুজরাট, তামিলনাড়ু আর কর্ণাটকের সঙ্গে, কারণ তাদের মুদ্রা এক, কেন্দ্রীয় নীতি এক, সাংবিধানিক সীমাও এক। সেই তুলনাটাই তৃতীয় পর্বে কাজে লাগবে।
    • Debanjan | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:০৩742557
    • @ সত্যেন্দু বাবু, আপনার দেওয়া লিংকটা দেখলাম কিন্তু এটা ভারত ও বাংলাদেশের মাথাপিছু আয়ের তুলনা করছে l আমি চাইছি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মাথাপিছু আয়ের তুলনা l এই জায়গাতে পশ্চিমবঙ্গের থেকে বাংলাদেশ অনেকটাই এগিয়ে l আমার মনে হয় দুই বাংলার তুলনা করা বা পশ্চিম বাংলা ও পাঞ্জাবের তুলনা করা যুক্তিযুক্ত যেহেতু দেশভাগ এই দুটো প্রান্তেই হয়েছিলো l দক্ষিণের রাজ্যগুলো বা গুজরাট মহারাষ্ট্রের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তুলনা কতটা সঠিক জানিনা যেহেতু এদের কখনোই দেশভাগ বা সেরকম কোনো traumatic disruptive experience মুখোমুখি হতে হয়নি l
    • Debanjan | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:০৩742558
    • @ দেবজিৎদা, অনেক ধন্যবাদ আরো তথ্য দেবার জন্যে l এপ্রসঙ্গে আরো জানিয়ে রাখি যে রাজ্য ত্যাগের পালা কিন্তু শেষ হয়নি বরঞ্চ আরো বাড়ছে l গত কয়েক মাসে আমার পরিচিত পার্ক স্ট্রিট এসপ্ল্যানেড এলাকার একজন গুজরাটি বোহরা মুসলিম ব্যবসায়ী যাদের কলকাতায় পারিবারিক ব্যবসা প্রায় ৭০ বছরের তারা গত মাসেই রাজ্য ছেড়েছেন l সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া চলে যাবার ইচ্ছা l এরকম আরো খবর কানে আসছে l. পশ্চিমবঙ্গের সমস্যার সমাধান বলতে গেলে একটা comprehensive secular sub-nationalism এর রাজনীতির গঠিত হওয়া প্রয়োজন বলেই মনে করি l এটিই প্রাথমিক শর্ত l বর্তমান রাজ্য রাজনীতির পক্ষে সেটি দেওয়া প্রায় অসম্ভব l এপ্রসঙ্গে বলি যে গত ২০২৪ সালের অভয়া আরজিকর রাত দখল আন্দোলনের সময়েই হরিয়ানাতে কর্মরত দক্ষিণ দিনাজপুরের একটি ছেলেকে বিফ খাবার অভিযোগে এবং বাংলাদেশী চিন্নিত করে পিটিয়ে মারা হয় l সেসময়ে বাংলার নাগরিক সমাজ থেকে কোন প্রতিবাদই হয়নি যেহেতু ছেলেটি একটা বিশেষ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে ছিলো l বর্তমান রাজনীতিতে তাই সে অপ্রাসঙ্গিক l দেখা যাচ্ছে বাংলার গণসমাজ চেতনা খুব বেশি এগোয়নি l গুরুচন্ডালীতে অনেকেই এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন এটাই একমাত্র আশার বিষয় l
    • সত্যেন্দু সান্যাল | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৩০742559
    • দেবাঞ্জন বাবু,
      বাংলা এবং পাঞ্জাবের দেশবিভাগের অভিজ্ঞতা অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়।
      যদ্দূর মনে পড়ছে রনজিৎ রায়ের Agony Of West Bengal বইটিতে পুনর্বাসন সম্পর্কে দুই রাজের বৈষম্যের আলোচনা ছিলো।
      বাংলার বর্ত্তমান রাজনৈতিক অবস্থায় এই Comprehensive Secular Sub-Nationalism বলতে আপনি ঠিক কি
      বোঝাচ্ছেন আমার বোধগম্য হ'লো না। বাংলা পক্ষের মতাদর্শ কি?
    • Debanjan | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৪৪742560
    • @সত্যেন্দুবাবু, Comprehensive Secular Sub-Nationalism বলতে যে ধরণের sub-nationalism এর কথা rs nilakantan তার South Vs North: India's Great Divide গ্রন্থে বলেছেন l আপনার হঠাৎ bangla পক্ষের কথা মনে এলো কেন ?
    • সত্যেন্দু সান্যাল | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:৫৬742566
    • @দেবাঞ্জন বাবু,
      আমি নীলকন্ঠন এর বইটি পড়িনি (বইটি ইধ্র-উধ্র করে হস্তগত করাও সম্ভব নয় দেখছি !!!),তবে এর বিষয়ে লেখকের ভিডিও চর্চা এবং অন্য আলোচনা থেকে কিঞ্চিত আন্দাজ করা গেলো। ওঁর মূল প্রতিপাদ্য বিষয়ে আমি একমত।
      One Size Fits All পলিসি, বা কেন্দ্রের হাতে Concentration Of Fiscal Power ভারতের মতো বৈচিত্রময় দেশে প্রকৃত উন্নয়ন এর সহায়ক নয় মোটেও। বরং এইটি ক্ষতিকর।
      তবে এই বিষয়ে বলি তামিল নীলকন্ঠনের গোড়ায় গলদ হ'লো ঐ South এবং North এর monolithic আখ্যান।
      আমি নিজে কর্নাটকে কিছুদিন কাটিয়েছি, কেরলম, তামিল নাডু এবং অন্ধ্রে ও যাতায়াত ছিলো। সব প্রদেশের ঁSub Nationalism আলাদা আলাদা। আমি দিল্লি, ভোপাল এবং রায়পুরে ও থেকেছি। Delhi, Madhya Pradesh, Chattisgarh কে একসাথে lump করে North বলা কতটা অযৌক্তিক আপনি ও মানবেন। কর্নাটকেই দেখেছি উত্তর এবং দক্ষিন কানাড়া-র পার্থক্য।
      তবে আমার মতে আপনি নিজ পরিচিত দেবজিৎদা-কে বহুবিধ tangent এর গোলকধাঁধায় ফেলছেন। লেখা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা ও ভেবে দেখবেন।
      তবে একটি প্রশ্ন ~ জিতনা আবাদি, উতনা হক্ ~ এই কংগ্রেসী আপ্তবাক্যে আপনার আস্থা আছে কি?
      প্রসঙ্গতঃ, ঐ Dravidian Identity একটি Colonial Construct, ইচ্ছাকৃত ভাবে তৈয়ার করা, North-South ব্যবধান তৈরী করে Christian Evangelism এর পথ সুগম করার জন্য। ভারতীয় খ্রীষ্টান জনসংখ্যার ৬৫% কেরল ও তামিল নাড়ুতে বসবাস করে।
      বাংলা পক্ষের কথা কেন মনে এলো? ডঃ গর্গ চ্যাটার্জি আমার থেকে অনেক বেশী পড়াশোনা করেছেন বলে, simple.
      বাংলা পক্ষের Sub Nationalism বিষয়ে আপনার কি মতামত?
       
      @দেবজিৎ বাবু,
      হঠাৎই মনে এলো আশিস নন্দী লিখিত The Intimate Enemy বইটির কথা। অনেক আগে পড়েছি। মনে হয় এইটিতে কিছু মাল-মশলা পেতে পারেন।
    • Debajit Ghosh | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:১২742568
    • সত্যেন্দুবাবু,
      আশিস নন্দীর The Intimate Enemy আমি পড়িনি, এবং এই ইঙ্গিতটির জন্য আলাদা করে কৃতজ্ঞ। আমার যুক্তির প্রথম ধাপ যা বলছে, নন্দী ঠিক সেই জমিতেই কাজ করেছেন (Based on a quick google search): উপনিবেশ কেবল ভূখণ্ড দখল করে না, বিভাগগুলোই দখল করে নেয়, আর "ভীরু বাঙালি" জাতীয় আরোপ ধীরে ধীরে আত্মপরিচয়ে ঢুকে পড়ে।

      আমার প্রতিপাদ্য সংক্ষেপে: ঔপনিবেশিক ছাঁচ থেকে অন্তর্গত হীনম্মন্যতা, সেখান থেকে মানসিক ক্ষতি, সেখান থেকে দায় ভুল জায়গায় বসানো আর নিজের নির্মাতাদের ভুলে যাওয়া, সেখান থেকে আত্মবিশ্বাসের ক্ষয়, দুর্বল সমাজ, দুর্বল রাষ্ট্র, আর শেষে পুঁজি ও মেধার নিষ্ক্রমণ।
      আরো দুটো কথা যোগ করি, কারণ প্রশ্ন এখানেই উঠবে।
      এক, এটা শৃঙ্খল নয়, চক্র। শেষ ধাপটা মাঝের ধাপে ফিরে আসে। নিষ্ক্রমণ প্রতিষ্ঠানকে আরও দুর্বল করে, দুর্বল প্রতিষ্ঠান আরও নিষ্ক্রমণ (exodus) ডেকে আনে। ডোমিনো একবার পড়ে; এটা পড়েছে বারবার।
      দুই, শুধু মনস্তত্ত্ব দিয়ে এর ব্যাখ্যা হয় না(আমার মতে )। পাশাপাশি একটি বস্তুগত ধারা চলেছে: ১৯৫২-র ফ্রেট ইকুয়ালাইজেশন, বাঙালি ব্যাঙ্কের পতন, লাইসেন্স ব্যবস্থা, ইউনিয়নের দখল। দুটি ধারা আলাদা, কিন্তু যেখানে মেশে সেখানেই ক্ষতি যৌগিক হয়। মনস্তত্ত্ব ঠিক করেছে আমরা কীভাবে সাড়া দেব; নীতি ঠিক করেছে আমাদের হাতে কী থাকবে।
      আমার দুটো পর্বের মূল বক্ত্যবে নিচে ইংলিশ e Summarise করার চেষ্টা করলাম। Hope it makes sense.
       
      To me, the domino of Bengals collapse have two Tracks, as below:
      TRACK A: THE MIND
      1. Colonial stereotype. The Bengali is cast as effeminate, unfit to rule, fit to clerk.
      2. Internalisation. The bhadralok adopts the coloniser's yardstick and measures itself by it.
      3. Psychological damage. Self-doubt becomes inherited. The Western norm becomes the benchmark for worth.
      4. Social distance. The same class holds itself above trade, manual work and village life. The merchant sits below the professor.
      5. Misdirected blame. When catastrophe comes, the accusation stops at the nearest visible target rather than travelling to the distant, unnamed one.
      6. Narrowed pantheon. Institution builders, industrialists and administrators are dropped. Only a handful of names and one poet remain in public memory.
      7. No transmission of building. The next generation never inherits the reverence and relevance for the institution builders, the sceintist, the economist, the business man, the founder, the way it should have been.
      8. Loss of collective self-belief. Achievement is redefined as recognition from outside, not construction at home.
      9. Victim identity. Two partitions and a famine harden into a story of survival rather than of building.
      10. Building is not attempted. Enterprise is suspect, departure is normal.

      TRACK B: THE MACHINERY
      1. Extraction. Textiles destroyed, Home Charges drain, Permanent Settlement creates rentiers instead of builders.
      2. De-industrialisation after 1857. The colonial centre of gravity moves west (I didnt go this far in my writing here).
      3. 1943. Food siphoned out systemetically. Famine destroys rural credit, trade networks and social trust.
      4. 1947. Partition severs industry from its hinterland. Jute mills west, jute fields east.
      5. 1947 to 1955. Bengali-owned banks collapse. The indigenous capital channel closes.
      6. 1952. Freight equalisation erases the one advantage geography gave the east.
      7. Licence Raj. Investment moves by permission from Delhi, not by advantage.
      8. Refugee absorption, 1947 and 1971. Fiscal capacity goes to relief, not to investment.
      9. 1967 onward. Gherao and union capture. Managing becomes impossible.
      10. Institutional capture. Panchayat patronage, politicised universities, compromised police and courts (Patronage to political ideology becomes the rule)
      THE THREE JOINS (where the above two tracks met)
      Join 1, 1943. Track B delivers the shock. Track A decides where the blame lands. A material catastrophe plus an inherited contempt for trade produces something neither would produce alone: anti-business sentiment as a mass political force.
      Join 2, 1947 to 1952. Track B delivers partition, bank collapse and freight equalisation. Punjab takes a comparable shock in the same years and rebuilds. Bengal does not. The material inputs were similar. Track A is what differs. The mind never recovers.
      Join 3, 1967 to 1977. Track A has made capital a legitimate enemy. Track B hands the state and the unions the instruments to act on that. Capital flight stops being a risk and becomes a rational decision. The vicious loop continues. Business leaves, talent migrates. Soceity hollows out.

      In part3, I want to explore what we can do collectively for our future.
    • Debanjan | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:৫৭742569
    • দেবজিৎদা,
       
      যথারীতি অসাধারণ আপনার এই বিশ্লেষণ | বিশেষ করে TRACK A এবং TRACK B এবং
      তাদের JOINS. আচ্ছা TRACK A নিয়ে প্রশ্ন যে SOCIAL DISTANCE নামক যে 4th phase আপনি দেখিয়েছেন এটি কি আগের ৩টি phase
      1. Colonial stereotype.
      2. Internalisation.
      3. Psychological damage.
      এরই লজিক্যাল conclusion ? আচ্ছা এই প্রসেসটি কি শুধু বাঙালী ভদ্রলোকের ক্ষেত্রেই হয়েছিলো নাকি আরো অন্য কোন জাতের ক্ষেত্রেও হয়েছে ? আমি যতদূর জানি ব্রিটিশ কলোনিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তামিল দেরও একইরকম ভাবে বর্ণিত করেছিলো কিন্তু সেক্ষেত্রে তাদের SOCIAL DEVELOPMENT কি আলাদা হয়েছে ? কেন ?
       
      আরেকটা ব্যাপার, শুধু বাঙালীদের যে effeminate বলা হয়েছে এবং তাদের birtish military তে যোগদান রেস্ট্রিক্টেড করা হয়েছিলো তাও নয় আমি যতদূর জানি গুজরাটিরাও সেভাবে সামরিক বাহিনী তে ব্রিটিশ আমলে যোগদান করেনি (এখনো করেনা ) তাহলে তাদের মধ্যে এই SOCIAL OUTLOOK কেন বাঙালী ভদ্রলোকের থেকে আলাদা হলো ?
    • Debajit Ghosh | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৫০742572
    • দেবাঞ্জন,
      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আগেও বলেছি, আমি ঐতিহাসিক নই, আর এই ধরনের বিষয়ে তর্ক থাকবেই, কারণ শতাব্দীজুড়ে একটা সমাজকে বহু পরস্পরবিরোধী শক্তি টানে। এই ডিসকাশন এর কোনো সহজ উত্তর নেই। তবু আমার তাৎক্ষণিক অবস্থানটা নিচে রাখলাম, এবং এই topic er discussion thread আমি এখানেই থামতে চাই।

      বাংলার নিজের বণিক সম্প্রদায় কোনওদিন সেই সামাজিক মর্যাদা পায়নি, অন্যত্র বণিক সম্প্রদায় যা পেয়েছে। ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র এই মর্যাদাক্রম তৈরি করেনি, খুঁজে পেয়েছে, পুরস্কৃত করেছে, আর তাকে একটা আধুনিক ভাষা দিয়েছে। ঔপনিবেশিক প্রশাসনের দরকার ছিল কেরানি আর উকিল, বণিক নয়। ফলে পুরনো মর্যাদাক্রমের উপরেই বসানো হল একটা বেতনকাঠামো আর একটা শিক্ষাব্যবস্থা, আর জিনিসটা পাকা হয়ে গেল।

      গুজরাটিদেরও যুদ্ধবিমুখ আর নিছক ব্যবসাদার বলে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। কিন্তু গুজরাটে ব্যবসাই ছিল উঁচু মর্যাদার কাজ। বানিয়া, জৈন বণিক, পাটিদার, খোজা আর বোহরা বাণিজ্যগোষ্ঠী, সকলেরই সামাজিক সম্মান এসেছিল ব্যবসা থেকেই।
       
      তামিলনাড়ু দ্বিতীয় উপাদানটি যোগ করে। সেখানে দুটো জিনিস ছিল। এক, একটি দেশীয় উচ্চমর্যাদার বণিক-জাল, নাট্টুকোট্টাই চেট্টিয়াররা (Nattukottai Chettiars), যাঁরা বর্মা, সিংহল আর মালয় জুড়ে মহাজনি করতেন; ফলে তামিল সমাজে বাণিজ্যের মর্যাদা ছিল। দুই, দ্রাবিড় আন্দোলন, যা তামিল পরিচয়কে দিয়েছিল উচ্চবর্ণ আর উত্তরের আধিপত্যের বিপরীতে দাঁড়ানো একটি আত্মপ্রতিষ্ঠার প্রকল্প, আর জাস্টিস পার্টির আমল থেকেই সংরক্ষণ, যা অন্তত শিক্ষার উপর অভিজাতদের একচেটিয়া অধিকার আগেভাগে ভাঙতে সাহায্য করেছিল।

      ঔপনিবেশিক অপমানের জবাবে বাংলা চেষ্টা করেছে ইংরেজকে তারই খেলায় হারাতে, ইংরেজি শিক্ষা আর নবজাগরণ দিয়ে। তামিলনাড়ুর জবাব ছিল অন্য একটা খেলা তৈরি করা।

      আমাদের নিজেদের ঠাকুরবাড়ির দিকেই তাকান। দ্বারকানাথ ঠাকুর ঊনবিংশ শতকের ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ীদের একজন। তাঁর পুত্র দেবেন্দ্রনাথ হলেন দার্শনিক। তাঁর পৌত্র রবীন্দ্রনাথ হলেন কবি, পেলেন নোবেল। বাংলার সবচেয়ে উদযাপিত পরিবারটি দুই প্রজন্মে উদ্যোগ থেকে শিল্পকলায় পৌঁছে গেল, আর বাংলা মনে রেখেছে তৃতীয়জনকে, প্রথমজনকে প্রায় ভুলেই গেছে।

      আর শেষ একটি কথা, যা সাংস্কৃতিক নয়, বস্তুগত, এবং যা গুজরাট বা তামিলনাড়ু কাউকেই বইতে হয়নি। (The one that is mentioned in my Track B, multiple times, and we cant ignore this)
      বাংলার দেশভাগ কোনও ঘটনা ছিল না, ছিল একটি অবস্থা। প্রায় পঁচিশ বছর ধরে চলা এক ধীর রক্তক্ষরণ। ১৯৪৭, তারপর ১৯৫০, তারপর ১৯৬৪, তারপর ১৯৭১, একমুখী স্রোত( In Bengal, it happened mainly in one direction), পাঞ্জাবের মতো নয়, এসে পড়ল এমন এক বদ্বীপে যা এমনিতেই পৃথিবীর ঘনতম বসতিগুলোর একটি, যার হাতে বিলি করার মতো খালি হয়ে যাওয়া জমির কোনও তুলনীয় ভাণ্ডার নেই। ১৯৪৭ থেকে কলকাতার প্রতিটি সরকার তার টাকা, তার জমি, তার প্রশাসনিক ক্ষমতা আর সবচেয়ে বেশি তার রাজনৈতিক মনোযোগ ব্যয় করেছে ত্রাণ আর পুনর্বাসনে, বিনিয়োগে নয়। যে রাজ্য স্থায়ীভাবে একটি মানবিক জরুরি অবস্থা সামলায়, তার হাতে শিল্পনীতি চালানোর সামর্থ্য থাকে না।
       
    • হীরেন সিংহরায় | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৫৮742579
    • বাঙালি ব্যাঙ্কিঙ্গের পতন : “১৯৪৭ থেকে পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝির মধ্যে একের পর এক বাঙালি মালিকানার ব্যাঙ্ক বসে গেল বা জোর করে মিলিয়ে দেওয়া হল “।

      এখানে দুটো কথা বলতে হয় – বাঙালি মালিকানার ব্যাঙ্ক বসে যায় যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পরে নানান কারণে অবিভক্ত বাংলার ব্যাংকিং ব্যবস্থা কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়, অনেক ব্যাঙ্ক ফেল করে ( সোনার বাংলা ব্যাঙ্ক তাদের অন্যতম, আমার বাবা সেখানে কিছু জমা টাকা হারান ) যদিও ব্যাঙ্ক গুলিকে রক্ষা করার অন্তিম দায়িত্ব দেশের সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের ( এক্ষেত্রে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, লেনডার অফ লাস্ট রেসরট ), তাঁরা কোন অজ্ঞাত সেটি করেন নি।

      ‘জোর করে মিলিয়ে দেওয়া হয়’ এটা মেনে নিতে অসুবিধে আছে। কুমিল্লা ব্যাংকিং কর্পোরেশন(১৯১৪) কুমিল্লা ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক( ১৯২২) বেঙ্গল সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক (১৯১৮) হুগলী ব্যাঙ্ক ( ১৯৩২) এই চারটি ব্যাঙ্ককে মিলিয়ে ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক তৈরি করার কৃতিত্ব বটকেশ্বর ( বটু) দত্তের, যাকে আমি আমার দেখা শ্রেষ্ঠ পাঁচ জন ব্যাঙ্কারের অন্যতম মনে করি। এই মার্জার না হলে কাউকে বাঁচানো যেতো না ১৯৫০ সালের পরে পশ্চিম বাংলার ব্যাঙ্ক ব্যবস্থায় ইউনাইটেড ব্যাঙ্কের ভূমিকা অনস্বীকার্য, এঁদের সদর দপ্তর ও জবাবাদিহি দুটিই কলকাতায় ছিল।

      ‘ব্যাল্যান্স শিটে যতটা দেখায় ব্যাপারটা তার চেয়ে বড়ো’ – ঠিক বুঝলাম না। কার ব্যাল্যান্স শিট ?

      সিনেমা প্রযোজনা – দেশ ভাগ হওয়ার ফলে সিনেমা দর্শক প্রযোজনা এবং আয় সবই কমে যায়, পুঁজি তোলাটাও অসম্ভব হয়ে ওঠে যদিও বাঙালি উদ্যোগের ব্যাঙ্ক কতটা চলচিত্রের ফাইনান্স করেছেন এ নিয়ে বিতর্কের অবকাশ আছে।
       
    • সত্যেন্দু সান্যাল | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:২৯742592
    • দেবজিৎ বাবু,
      Thank you for acknowleding Ashish Nundy's thesis. You will certainly find some interesting, thought provoking ideas there. BTW, রবীন্দ্রনাথ কখনো দ্বারকানাথের Kensal Greens Cemetry তে স্মারক দেখতে জাননি।
      My internet connection had problems for two days, hence the delay in responding.
      There are some other books I would refer you to, which may deepen your enquiry.
      আপনি নিজে তো পেট্রো-ফিজিসিস্ট, কোথায় কূপ খনন করতে হবে অবশ্যই ভালো জানবেন !!!!
      Instead of cluttering up গুরু pages, where my suggestions may be considered sacrilegous, I would prefer to send you suggestions on your personal mail ID.
      My mail ID is neytas2003@yahoo.com
      Please feel free to respond if interested.
      With every good wish.
    • সত্যেন্দু সান্যাল | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:২১742595
    • @হীরেন সিংহরায়,
       
      আপনার মতামতের প্রেক্ষিতে জনৈক দীপঙ্কর চৌধুরীর পুরাতন প্রতিবেদনটি
       
      ।।বঙ্গে ব্যাঙ্কিংঃ বাঙালীর ব্যাঙ্ক।।
      প্রেসিডেন্সি কলেজের ইকনমিক্সের এক নামী ছাত্র একবার গ্রীষ্মাবকাশে গেছে শ্রীহট্ট জিলায়, তার গ্রামের বাড়িতে। বঙ্গ তখনও অবিভক্ত,১৯৩০-দশকের গোড়ার কথা এ’। তা, সেই ‘ফার্স্ট বয়’ এসেছে শুনে গ্রাম- সুবাদের এক ঠাকুমা তাকে ডেকে পাঠালেন, তাঁর এক হিসেব মিলিয়ে দিতে হবে ছেলেটিকে। কী হিসেব? না, সে মহিলা যত যত জনকে হাতচিটা লিখে টাকা ধার দিয়েছেন টাকা-প্রতি মাসে এক আনা সুদে, তাদের কেউ কেউ ফিরৎ দিচ্ছে না। কত তবে ক্ষতি হলো তাঁর? এই হিসেব। ছেলেটি হিসেব করে বললে, এই এতো জন যদি তোমার টাকা না ফেরায় তাহলে তোমার তো বেজায় ক্ষতি গো! ঠাকুমা হেসে বললেন, আমি কি আর সোনা-রূপা না রেখে তাদের ধার দিয়েছি?
      ‘ও, তাহলে তো তুমি মহা ধনী!’
      ‘না, না, তা নয়। এই সব টাকা আমার নিজের নয়। গ্রামের অনেক মহিলা তাদের টাকা আমার কাছে গচ্ছিত রেখে যায় সুদে খাটিয়ে আমি বাড়িয়ে দোব বলে।’
      ছেলেটি ভাবতে বসে, পাঠ্যপুস্তকে তাহলে যা যা পড়েছি, সেই ব্যাঙ্কিং-এর সকল লক্ষণই তো এই ঠাকুমার ব্যবসায়ে রয়েছেঃ উনি অনেকের কাছ থেকে আমানত জমা নিয়ে, সিকিউরিটির রেখে (যেমন, সোনা-রূপা) মাসিকে সুদে সেই টাকা অন্যকে ধার দিয়ে ইনকাম করছেন। তা থেকে কিছু ঐ ঐ আমানতকারীদের ফিরৎ দিচ্ছেন (নৈলে তারা টাকা রাখবে কেন তাঁর কাছে?), আর কিছু নিজের লাভ রাখছেন (নৈলে তাঁরই বা চলে কী করে?)। আবার এই ব্যবসায়ে টাকা মারও যাচ্ছে (আজকের ভাষায় এন পি এ), যার সঠিক হিসেব করে টাকা উদ্ধারের প্রচেষ্টায় ঐ ফার্স্ট বয়-কে ডেকে আনা (মানে, আউটসাইড অডিটর ও কনসালট্যান্ট)!
      হ্যাঁ, এ’হেন ব্যাঙ্কিং-ব্যবস্থা প্রত্যন্ত পূর্ববঙ্গে সেকালেও প্রচলিত ছিল (তা একে সঠিক-অর্থে প্যারা-ব্যাঙ্কিং বা নন-ব্যাঙ্কিং---যা-ই বলো না কেন বাপু).
      এই ‘ফার্স্ট বয়’-টি আর কেউ নন, শ্রেষ্ঠ বাঙালী অর্থশাস্ত্রী ভবতোষ দত্ত। গল্পটি ওঁর জীবনীতে রয়েছে।
      *
      ব্যাঙ্কিং!
      আধুনিক অর্থব্যবস্থার এক স্তম্ভ!
      ‘আধুনিক’?
      না, আদিতম ব্যাঙ্কিং-ব্যবস্থার উদাহরণ প্রাচীন ভারত-চীন-সুমেরে পাওয়া গেছে। আধুনিক ব্যাঙ্কিং-ব্যবস্থা রেনেশাঁসের ইতালিতে শুরু হয় পঞ্চদশ শতাব্দী নাগাদ। ‘ডাবল এন্ট্রি সিস্টেম অব বুক-কিপিং’, যা আধুনিক ব্যাঙ্কিং-এর এক স্তম্ভ, তার শুরুয়াৎ হয়েছিল শ্রেষ্ঠ পলিম্যাথ লিওনার্দো-দ্য-ভিঞ্চির হাতে, ঐ পঞ্চদশ শতাব্দীতেই। ষোড়শ শতাব্দী থেকে ক্রমে ক্রমে পর্তুগীজ-স্প্যানিশ-ডাচ-ফ্রেঞ্চ-ইংরাজ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির বিশ্বব্যাপী বহির্বাণিজ্য যেমন যেমন ফুলেছে ফেঁপেছে, তেমন তেমনই সেই সকল ব্যবসাকে ঠেক্‌নো দিতে ইউরোপীয় ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাও স্ফীত হয়েছে। যেমন, একটা উদাহরণ দিই, দু’শো বছর আগে থেকে চীনদেশে স্কটিশ বণিকদের আফিম-সোরা-চা ব্যবসার এক প্রধান ভরোসা ‘হংকং ব্যাঙ্ক’ আজও বিশ্বের এক প্রধান ব্যাঙ্ক হিসেবে বিদ্যমান—HSBC.
      *
      কী বললেন?
      এটা ‘ধান ভানতে শিবের গীত’ হয়ে যাচ্ছে?
      না, তা নয়। ‘বাঙালীর ব্যাঙ্কিং’-এর গল্প শোনাতে বসলে এই ইয়ুরোপীয় ব্যাঙ্কের কথা দিয়ে শুরু না করে উপায় নেই, কারণ যদিও ‘হুন্ডী’(Bill of Exchange)-র মতো আদত এক ভারতীয় banking instrument আজও বিশ্বব্যাপী সমাদৃত, তবু আধুনিক ভারতীয় ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা য়ুরোপীয়দের হাত ধরেই এসেছে। এবং এসেছে প্রধানতঃ আমাদের এই কলকেতার শহরেই!
      *
      ইউরোপীয় ‘আলেকজান্দার এন্ড কোং’ এর মালিকানাধীন ‘ব্যাঙ্ক অব হিন্দোস্তান’ (১৭৭০ খৃ.)ছিল আধুনিক ভারতবর্ষের প্রথম ব্যাঙ্ক, যার প্রতিষ্ঠা এই কলকাতা শহরেই।
      ‘বাঙালীর ব্যাঙ্ক’ বলতেই যে মানুষটির কথা সর্বপ্রথম মনে আসে তিনি প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর, কারণ প্রথম ‘বাঙালীর ব্যাঙ্ক’ প্রতিষ্ঠা করেন তিনিইঃ ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক (প্র. ১৮২৯খৃ), যদিও বিশ বছরের বেশি এই ব্যাঙ্ক টেঁকেনি, এবং লণ্ডনে দ্বারকানাথের প্রয়াণের (১৮৪৬খৃ) দুই বৎসরের মধ্যে এই ব্যাঙ্ক ঝাঁপ ফেলে দেয়।
      আজকের ভারতের বৃহত্তম কমার্শিয়াল ব্যাঙ্ক ‘স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া’-র প্রতিষ্ঠাও এই বঙ্গদেশেই, ‘ব্যাঙ্ক অব ক্যালকাটা’ (প্র. ১৮০৬ খৃ)-র মধ্যে দিয়ে, যা পরে ‘ব্যাঙ্ক অব বেঙ্গল’-এ রূপান্তরিত হয় (খৃ. ১৮০৯), ক্রমে ‘ইম্পিরিয়াল ব্যাঙ্ক’ (১৯২১ খৃ) থেকে এস বি আই, ১৯৫৫ থেকে।
      *
      তবে কেন বাংলা ও বাঙালীর ব্যাঙ্ক-ভোঁতা এবং অ-ব্যবসামনস্ক বলে বদনাম?
      ১৮৯৫-খৃস্টাব্দে লাহৌরে বিশ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে যে পিএনবি যাত্রা শুরু করেছিল, সওয়া-শ’ বছর পেরিয়ে আজও তো সে ছুটে চলেছে। বাঙালীর এমন প্রতিষ্ঠান/ব্যাঙ্ক নেই কেন? কিন্তু, তার মানে তো আবার এ-ও হয় না যে বাঙালী ব্যাঙ্কিং বোঝে না? কারণ, ১৮৯৫তে ঐ পিএনবি প্রতিষ্ঠার পিছনেও ছিলেন বাবু কালীপ্রসন্ন রায়ের মতো এক দক্ষিণরাঢ়ী ব্রাহ্মণ সন্তান! পরেশ ভটচাজ, সুপ্রিয় গুপ্ত থেকে আজকের প্রতীপ চৌধুরী-অরুন্ধতী ভট্টাচার্যের মতো বঙ্গসন্তানগণ ভারতে ব্যাঙ্কের সর্বোচ্চ স্তরে উঠেছেন। কিন্তু এঁরা তো চাকুরিজীবি, পেশাদার ব্যাঙ্কার। পার্সী সোরাবজী পোচকানওয়ালা (সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা), গুজরাটী শান্তিলাল পারেখ (এচ ডি এফ সি-র প্রতিষ্ঠাতা) বা কেরলীয় সাহিত্যিক আপ্পু নেডুঙ্গাড়ির মতো কিংবদন্তীর ব্যাঙ্ক-উদ্যোগপতি বাঙলায় কৈ?
      *
      নেই?
      পিয়ারলেসের রাধাশ্যাম রায়ের মতো প্রায় শতবর্ষজীবি সংস্থার প্রতিষ্ঠাতাকে ‘নন/প্যারা ব্যাঙ্কিং’ বলে উড়িয়ে যদি দিতে চান, দিন, কিন্তু নরেন দত্তের স্থান কোথায় দেবেন?
      না, না, এ’ নরেন দত্ত সে নরেন দত্ত (স্বামী বিবেকানন্দ)নন, ইনি নরেন্দ্রচন্দ্র দত্ত (১৮৭৮-১৯৬২খৃ.)ঃ যে চারিটি বাঙালী ব্যাঙ্ক মিলিত হয়ে আজকের জাতীয়কৃত ‘ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া’ তৈরি হয়েছে, তারমধ্যে বৃহত্তম ‘কুমিল্লা ব্যাঙ্কিং কর্পোরেশন’-এর (প্র. ১৯১৪ খৃ.) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাণপুরুষ ছিলেন উনি। অসাধারণ ব্যাঙ্কিং বোধ ছিল দত্ত সাহেবের। যে কালে ‘90 days usance bill’ ডিসকাউন্ট করাই ইন্ডাস্ট্রির দস্তুর ছিল, সেকালে ১৮০, এমনকি ৩৬০ দিনের বিলও ডিসকাউন্ট করতো তাঁর কুমিল্লা ব্যাঙ্ক।বেশিটাই আসামের চা-শিল্পে। অর্থাৎ, দীর্ঘতর মেয়াদের calculated risk নিয়ে নিয়ে তরতর করে বেড়ে উঠতে থাকে তাঁর ব্যাঙ্ক। বস্তুতঃ, অবিভক্ত বাঙলার কুমিল্লা জিলা ছিল ব্যাঙ্কিং শিল্পের আঁতুর ঘর। কুমিল্লাকে ‘land of Banks & tanks(পুকুর)’ বলা হতোঃ পথের বাঁকে বাঁকে এক একটি পুষ্করিণী আর ঘরে ঘরে ব্যাঙ্কিং কারবার---ঐ ভবতোষ দত্তের ঠাকুমারটির মতো।
      UBI-এর আরেক কন্সটিটুয়েন্ট, আই সি এস অফিসার ইন্দুভূষণ দত্তের ‘কুমিল্লা ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক’-ও ঐ জিলারই।
      নরেন্দ্রচন্দ্রের পুত্র বটুক দত্ত-কে জাতীয়করণ-উত্তর কালের প্রথম সফল বাঙালী ব্যাঙ্কার বলতে হবে। ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠার পরে প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন তিনিই।
      নরেন্দ্রচন্দ্রের সুহৃদ জ্যোতিষচন্দ্র দাস ছিলেন আরেক কিংবদন্তী বাঙালী ব্যাঙ্কার, যাঁর ‘বেঙ্গল সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক’ (প্র ১৯১৮) দীর্ঘ বত্রিশ বছরের যাত্রার পর প্রথম আর বি আই গভর্নর চিন্তামন দেশমুখের অনুরোধক্রমে ‘কুমিল্লা ব্যাঙ্কিং কর্প’-এর সঙ্গে মিশে যায়। এ’সবই হল ‘বাঙালীর ব্যাঙ্কে’র রিচ হিস্ট্রি।
      *
      বস্তুতঃ, আমাদের আজকের এই ‘বাঙালীর ব্যাঙ্কের’ আলোচনা-প্রসঙ্গটি উঠেই ছিল এক অতি নবীন বাঙালী ব্যাঙ্ককে দিয়ে।
      বন্ধন ব্যাঙ্ক (প্র. ২০১৫)!
      ২০১৩-তে যখন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নতুন কমার্শিয়াল ব্যাঙ্কের লাইসেন্স দেবার ইচ্ছা প্রকাশ করে, ও রিলায়েন্স, বাজাজ প্রভৃতি বহু নামীদামী সংস্থাকে টপকে বঙ্গসন্তান চন্দ্রশেখর ঘোষ মশায়ের ‘বন্ধন ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা’ (micro-finance corporation) যখন পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙ্ক গড়ার লাইসেন্স পেয়ে যায়, ভুরু কুঁচকে ছিলেন তখন অনেকেই। কিন্তু বহু ভাঙাগড়া ওঠা-পড়া-ওঠার সাক্ষী ত্রিপুরা-কুমিল্লা অঞ্চলের বঙ্গসন্তান চন্দ্রশেখরবাবুর কোমরের তাকত অনেক বেশি ছিল যে! আজ তাই নতুন-পুরাতন গুজরাটি-মাড়বারী একাধিক সর্বভারতীয় ব্যাঙ্কের সঙ্গে সমান তালে টক্কর দিয়ে এগিয়ে চলেছে এই কলকাতাকেন্দ্রিক বাঙালীর ব্যাঙ্ক।
      মনে হয়, প্রিন্স দ্বারকানাথ ফের ফিরে এলেন নাকি?
      ===সমাপ্ত===
      দীপঙ্কর চৌধুরী
    • হীরেন সিংহরায় | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৪৩742596
    • অশেষ ধন্যবাদ। বটু দত্তকে গুরু মানি। তাঁর কিছু ফাইনানসিং টেকনিক আফ্রিকা ও পূর্ব ইউরোপে ব্যবহার করেছি।
    • হীরেন সিংহরায় | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:২৭742599
    • শ্রী সান্যাল - দুটো কথা যোগ করতে হয়। কলকাতার ব্যাঙ্ক অফ ক্যালকাটা (পরে ব্যাঙ্ক অফ বেঙ্গল, ইম্পিরিয়াল ব্যাঙ্ক শেষে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, আমার প্রথম অন্নদাতা ) এশিয়ার প্রথম জয়েন্ট ষ্টক ব্যাঙ্ক, এটি সিটি ব্যাঙ্ক ( ১৮১২) বা যে কোন আমেরিকান ব্যাঙ্ক যা টিকে আছে তার চেয়ে পুরনো। এমনকি তখন ইংল্যান্ডেও কোন জয়েন্ট ষ্টক ব্যাঙ্ক দেখা দেয় নি। আমার শেষ অন্নদাতা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ( অরিজিনালি চার্টার্ড ব্যাঙ্ক) তাদের প্রথম দোকান খোলে কলকাতায় ( ১৮৫৮ ) প্রতিষ্ঠাতা জেমস উইলসন, ইকনমিসট পত্রিকার পিতা, HSBC র আগেই। দীপঙ্কর বাবু এর উল্লেখ করেন নি। এই দুই ব্যাঙ্ক অবশ্য হাতে হাত মিলিয়ে প্রচুর অর্থ আয় করে আফিমের ব্যবসায়।
    • Debajit Ghosh | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:০১742602
    • হিরেনবাবু,
      আপনার মন্তব্যটি এই আলোচনার সবচেয়ে ভিতর থেকে দেখা। বইয়ে বটু দত্তের নাম পাওয়া যায় না। ওটা তাঁর কাছ থেকেই আসে যিনি নিজে ব্যাঙ্কিং করেছেন।
      তিনটি কথা মেনে নিচ্ছি।
      এক, "জোর করে মিলিয়ে দেওয়া" কথাটা আমার ভুল। ১৯৫০-এ চারটি ব্যাঙ্ক মিলিয়ে ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক তৈরি হওয়া চাপিয়ে দেওয়া সংযুক্তিকরণ ছিল না, ছিল উদ্ধারকাজ; এবং আপনি ঠিকই বলেছেন, ওটা না হলে কাউকেই বাঁচানো যেত না।

      দুই, সিনেমার পুঁজির সঙ্গে বাঙালি ব্যাঙ্কের যোগটা আমি টেনেছিলাম অনুমান থেকে (এবং আগের পর্বের আলোচনা থেকে )। দেশভাগে পূর্ববঙ্গের দর্শক ও বাজার হারানোই মূল কারণ, সেটা চাহিদার সমস্যা, ব্যাঙ্কের নয়।

      তিন, "ব্যালান্স শিটে যতটা দেখায়" কথাটা অস্পষ্ট ছিল। বলতে চেয়েছিলাম, ব্যাঙ্কগুলোর আকার যা বলে, তাদের অন্তর্ধানের তাৎপর্য তার চেয়ে অনেক বড়। কিন্তু ওভাবে লেখা টা হয়তো সবার কাছে স্পষ্ট হয়নি।আমি মূলত ইংলিশ এ substack এ লিখি। বেশির ভাগ টাই ইংলিশ to বাংলা গুগল e ট্রান্সলেট করি। তবু এই সব ক্রিটিকাল এনালাইসিস এর জন্যেই এখানে পোস্ট করা।

      শেষে একটি কথা। এই খুঁটিনাটি গুরুত্বপূর্ণ, এবং আমি এখান থেকেই শিখছি। তবু আমার এই দুই পর্ব লেখার মোটিভেশন, টা একটু আলাদা: দীর্ঘমেয়াদে কোন কোন শক্তি রাষ্ট্রের ক্ষমতা এবং সমাজের ক্ষমতা(Power of State and Power of Soceity), দুটোকেই দুর্বল করেছে, সেই কালেকটিভ ফোর্স গুলো অনুসন্ধান করা (The one that I summarised in Track A and Track B, in one of the comments above)। গাছ গুনতে গিয়ে জঙ্গলটা হারিয়ে ফেলা আমার সবচেয়ে বড় ভয়। তৃতীয় পর্বে তাই প্রশ্নটা অন্যরকম: এসবের পরে আমরা, সাধারণ মানুষ, একসঙ্গে কী করতে পারি। সেখানে আপনার মতো মানুষের মত আরও বেশি দরকার হবে।
    • Debajit Ghosh | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:০৪742604
    • সত্যেন্দু বাবু,
      আপনার কমেন্টস পড়ে অনেক কিছু শিখলাম। ইমেইল শেয়ার করার জন্যে ধন্যবাদ। আমি আপনাকে personally ইমেইল করবো।
    • সত্যেন্দু সান্যাল | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:১৪742605
    • শ্রী সিংহরায়,
      আমরা তো ব্যাংকিং এর "ব" ও জানিনা, তবে ছোটবেলায় "পরের ধনে পোদ্দারি" কথাটি শুনেছি।
      B.K.Dutt মহাশয়ের "Pages from A Banker's Diary" বইটির উল্লেখ দেখেছি, তবে এইটি পড়িনি।
      যতটুকু বুঝেছি উনি মানবিকতা সম্পন্ন মানুষ ছিলেন। শহরে এবং গ্রামাঞ্চলে Deposits এবং Loan Disbursal এর বৈষম্যের বিষয়ে সতর্ক বার্ত্তা ও দিয়েছিলেন।
      নীচের এই বইটিতে অনেক চমকপ্রদ গপ্পো আছে। না পড়ে থাকলে চেখে দেখতে পারেন।
       
      দেবজিৎ বাবু,
      যদিও নীচের বইটির সঙ্গে আপনার বর্ত্তমান প্রবন্ধের সাযুজ্য নেই, নিছক কহানী হিসেবেও পড়তে পারেন।
      অবক্ষয় এর সঙ্গে Entropy জনিত Phase Transition বোধ হয় সহজপাচ্য হবে না !!!!!
       
       
    • Debajit Ghosh | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:৪৭742608
    • সত্যেন্দু বাবু, এই বই টা আমার কিন্ডলে e আছে। পুরো তা পড়া বা শোনা হয়নি। এবার পড়ব।
      just curious আপনি কি The Narrow Corridor by Daron Acemoglu and james Robinson পড়েছেন? This one also focus on how complex systems maintain stability, why they fail and the delicate conditions required to prevent collapse. It is one of my favourite book.
    • সত্যেন্দু সান্যাল | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০০:৫৭742609
    • দেবজিৎ বাবু,
      অপঠিত বই, download করে নিলাম।
    • মতামত দিন
    • বিষয়বস্তু*:
    • কি, কেন, ইত্যাদি
    • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
    • আমাদের কথা
    • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
    • বুলবুলভাজা
    • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
    • হরিদাস পালেরা
    • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
    • টইপত্তর
    • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
    • ভাটিয়া৯
    • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
    গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


    মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
    পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ প্রতিক্রিয়া দিন।