এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  কূটকচালি

  • উত্তর ভারতের শ্রমিক আন্দোলনের সম্ভাব্য প্রভাব

    দেবজিৎ ভট্টাচার্য
    কূটকচালি | ২১ মে ২০২৬ | ৩৩৬ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • ছবি: রমিত



    পশ্চিমবাংলা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকার বিদায় নিয়েছে। শ্রমিকের জন্য রেখে গেছে — নোংরা পরিবেশে থাকবার জায়গায়, অস্বাস্থ্যকর, অপরিণত কাজের পরিবেশ, ৮ ঘণ্টার কাজে ৪০০-৬০০ টাকার দৈনিক মজুরি(অদক্ষ থেকে অতি দক্ষ)। শ্রমের বাজারে স্থায়ী শ্রমিকের সংখ্যা কমে এখন প্রায় শূন্যে এসে ঠেকছে, ঠিকাপ্রথা লম্বা-চওড়া হয়ে ঠিকাদারদের সম্পত্তিও ফুলেফেঁপে উঠছে। সংগঠিত ক্ষেত্রগুলোকে অসংগঠিত রূপ দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা বিগত পাঁচ বছরে পশ্চিমবাংলার শ্রমিকেরা দেখেছেন। যেইখানে শ্রম দফতর প্রায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে, সরকারের রাজনৈতিক দলের নেতারা সেইখানে মন্দিরের পুরোহিতের মতন আধিপত্য খাটাতেন। তবে এদের সকলের ঈশ্বর ছিলেন — মালিক। আগের সরকার ও প্রতিষ্ঠিত ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকে শ্রমিকদের বোঝানো হয়েছে যে, 'মালিক বা পুঁজিপতি ছাড়া শিল্পের ভবিষ্যৎ নেই, শ্রমিকের রোজগার নেই'।

    তাহলে সরকার কাদের? সরকার কী শ্রমিকদের নয়? এর উত্তর পরিষ্কারভাবে বিজেপি সরকারের থেকে মিলেছে, উত্তর ও পশ্চিমভারতের রাজ্যগুলোতে। সেইখানে অনেক বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি সরকার। শ্রমিকদের বাস্তবিক অবস্থা এ রাজ্যের থেকে আরও অনেক বেশি খারাপ, ভয়ংকর। বিজেপি সরকারের আনা নয়া শ্রম আইন(চারটি কোড) শ্রমিকদের ন্যূনতম অধিকারগুলোকে বস্তাবন্দি করে ‘মা গঙ্গা’র বুকে ভাসিয়ে দিয়েছে। এই আইনগুলো আসলে ঠিকাপ্রথার সর্বোচ্চ পর্যায়। ফলে, অদক্ষ-অর্ধ দক্ষ-দক্ষ-অতি দক্ষ শ্রমিকের দৈনিক মজুরির পরিমাণ অনেকটাই কমে গেছে। একই সাথে কাজের সময় বেড়ে ১২ঘণ্টা হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষা প্রায় নেই বললেই চলে। পাশপাশি, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের জীবনযাপনে মৌলিক পরির্বতন ঘটচ্ছে। এ ধরনের অভিযোগ সকল শ্রমিকের।

    সরকারগুলো, নামীদামী প্রতিষ্ঠিত ইউনিয়নগুলো যে মালিকের হয়ে কাজ করে তা শ্রমিকেরা কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকারের আমলেই টের পেয়েছিলেন। এখন তাঁদের ভাবনা আরও বিকশিত হয়েছে, শ্রমিকদের চেতনার গুণগত পরিবর্তন ঘটছে। অধিকাংশ শ্রমিকেরা ক্রমশই বুঝতে পারছেন যে, এই ‘মালিক’ একক কেউ নন। বরং, একটা ‘শ্রেণি’, পুঁজিপতি শ্রেণি। এদের সঙ্গে সরকার, পুলিশ-প্রশাসন, আমলা, বিচারব্যবস্থা, মিডিয়া সব যুক্ত। এই কারণেই অনেক শ্রমিকেরা এই ব্যবস্থাতে যে সরকারই আসুক না কেন, তাকেই 'মিলিঝুলি' সরকার বলেন। এরই সাথে তাঁরা এও বুঝতে পারছেন যে, ‘শ্রমিক’-ও আসলে একক নন, তাঁরাও একটি ‘শ্রেণি’। যাঁরা একই ভাবে একই সাথে কাজ করছেন মালিক ও সরকারের হয়ে, সেইখানে নিজেদের সর্বস্ব দেওয়ার পরেও নিজেদের ন্যূনতম প্রয়োজনগুলো মেটাতে প্রতিদিন ব্যর্থ হচ্ছেন। তাই শ্রমিকেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই রক্তক্ষয়ী পথে যেতে বাধ্য হলেন সাম্প্রতিককালে।

    উত্তর ভারতের কয়েকটি সংগঠিত কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রথমে প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন, অর্থনৈতিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে। কিন্তু, সেই প্রতিবাদের আওয়াজ যখন মালিক ও সরকারের কানে পৌঁছালো না তখন আরও নানা ক্ষেত্রের শ্রমিকেরা আরও একত্রিত ও সংঘবদ্ধ হয়ে সেই পন্থাই নিলেন, যা তাঁদেরকে ইতিহাস শিখিয়েছে, কেবল যার মাধ্যমে শ্রমিকেরা নিজেদের ন্যূনতম অধিকারগুলো আদায় করতে পারেন। এপ্রিলের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহ জুড়ে গোটা দেশ দেখেছে, সারা বিশ্ব জানতে পেরেছে — বিশ্বগুরুর নেতৃত্বে শ্রম বাজারের অবস্থা কেমন, শ্রমিকদের জীবনযাপন কতটা কঠিন এবং সেই শ্রমিকেরা স্বল্প অংশেও একত্রিত হলে রাষ্ট্র নেতাদের অবস্থা কেমন হতে পারে, তাঁরা কী কী করতে পারেন। শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের তেজেই উত্তরভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বিজেপি সরকার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শ্রমিকদের মজুরি কিছুটা বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। আরও অনেক দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। উদারবাদী ও সংশোধনবাদী প্রতিষ্ঠিত ইউনিয়নগুলোও শ্রমিকদের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছে। উদারবাদী ও অনেক সংশোধনবাদী বুদ্ধিজীবীগণ এখন প্রকাশ্যেই লিখছেন যে, ‘প্রতিষ্ঠিত ইউনিয়নগুলো মালিকের দালালে পরিণত হয়েছে, তাই শ্রমিকেরা নতুন কিছু ভাবছেন, শ্রমিক আন্দোলন নতুন রূপে আবির্ভূত হচ্ছে’। এ ধরনের চিত্র ও চরিত্র দেখে মাও সেতুংয়ের সেই বিখ্যাত উক্তিটি আবারও মনে পড়ে যাচ্ছে — "All reactionaries are paper tigers. In appearance, the reactionaries are terrifying, but in reality, they are not so powerful.”

    তবে এ মুহূর্তে যাঁরা শ্রমিক শ্রেণির আন্দোলনের কথা বলছেন — তাঁদের সিংহভাগই শ্রেণি সংগ্রামের প্রশ্নকে এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং এই অসময়ে 'কিছু করতেই হবে', এই উন্মাদনায় অল্পতেই আত্মহারা হয়ে পড়ছেন, অল্প কিছুকেই অনেক বড় কিছু ভাবছেন। অনেকেই অর্থনৈতিক দাবি আদায়ের আন্দোলনকে শ্রমিক আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায় হিসেবে দেখাতে চাইছেন। এতে ক্ষতির আশঙ্কাই দীর্ঘস্থায়ীভাবে বাড়ছে। শ্রেণি সংগ্রামের রাজনৈতিক লাইন ছাড়া শ্রমিকের অর্থনৈতিক দাবি আদায়ও দীর্ঘস্থায়ীভাবে সম্ভব? না। লেনিন, কিছু কারখানা বা অঞ্চলভিত্তিক শ্রমিকের অর্থনৈতিক দাবি আদায়ের আন্দোলনগুলোকে শ্রেণি সংগ্রামের — “only a weak embryo of it”, হিসেবেই দেখেছিলেন। কিন্তু, যেহেতু উত্তরভারতের অনেক কয়েকটি সংগঠিত কারখানার শ্রমিকেরা ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত হয়ে নিজেদের ক্ষুধার্ত পেটের আর্তনাদ ব্যাপক তেজের সাথে প্রকাশ করলেন, তাই এক্ষেত্রে এটিকে শ্রেণি সংগ্রামের “সবল ভ্রূণ” বলাই যথাযথ হবে। আসলে এই আন্দোলন শ্রেণি সংগ্রামের মুখ অনেকটাই খুলে দিয়েছে। তাহলে শ্রেণি সংগ্রাম কী? মার্ক্স বলেছেন — “Every class struggle is a political struggle”। লেনিন এটিকে আরও বিস্তৃত ব্যাখ্যায়িত করছেন, বলছেন —
    “The struggle of the workers becomes a class struggle only when all the foremost representatives of the entire working class of the whole country are conscious of themselves as a single working class and launch a struggle that is directed, not against individual employers, but against the entire class of capitalists and against the government that supports that class. Only when the individual worker realizes that he is a member of the entire working class, only when he recognizes the fact that his petty day-to-day struggle against individual employers and individual government officials is a struggle against the entire bourgeoisie and the entire government, does his struggle become a class struggle.”

    পূর্ব ভারত থেকে উত্তর ভারত, সেইখান থেকে পশ্চিমভারত হয়ে দক্ষিণ ভারত — প্রতিটি অঞ্চলে সংগঠিত ও অসংগঠিত কারখানা বা ক্ষেত্রগুলোতে শ্রমিকেরা অর্থনৈতিক দাবি আদায়ের জন্য নানা পথে নানা মতে নানা ধরনের আন্দোলন গড়ে তুলছেন। উত্তর ভারতে প্রবল তেজের সাথে যা ঘটেছে তা ঐতিহাসিকভাবে নতুন কিছু নয়। আবার, নয়া উদারবাদের যুগে শ্রমিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে অনেক কিছু নতুনও। এর থেকে অনেক কিছু শেখবার রয়েছে, এটাকে প্রচার করার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে শ্রমিকদের সংগঠিত করা যেতে পারে। কিন্তু, এটারও সীমাবদ্ধতার জায়গা আছে, শ্রমিকের ন্যূনতম অধিকার আদায়ের সম্পূর্ণ লক্ষ্যপূরণ থেকে ব্যাহত থাকছে। কারণ, এ আন্দোলনগুলো শ্রেণি সংগ্রামের মুখ ভালো পরিমাণে উন্মুক্ত করলেও দেশের রাজনৈতিক অর্থনীতি, জনগণের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির সাথে পুরোপুরিভাবে খাপ খাওয়াতে ব্যর্থ হচ্ছে। শ্রমিকের ন্যূনতম অধিকার আদায়ের ছোট ছোট আন্দোলনগুলোও শ্রমিক শ্রেণির রাজনৈতিক সংগ্রাম, শ্রমিক শ্রেণির রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের রাজনীতির অংশ। মার্ক্সবাদের এই সার্বিক সত্যকে অগ্রাহ্য করে শ্রমিক শ্রেণির লড়াইয়ে এক পা এগানো অনেকখানি বাড়তি ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি ডেকে আনে। আবার, এটি সার্বিকভাবে মেনে নিলে কারখানা বা অঞ্চলভিত্তিক ছোট ছোট শ্রমিক আন্দোলনগুলো বড় সাফল্য বয়ে আনতে পারে। এই সাফল্যের জন্য এদেশে প্রাথমিকভাবে দরকার, প্রতিটি অঞ্চলে বা রাজ্যগুলোতে শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বকারী শক্তিশালী ট্রেড ইউনিয়ন গঠন এবং প্রতিটি ইউনিয়নের মধ্যকার সমন্বয় গড়ে তোলা। যা শ্রমিকের অর্থনৈতিক দাবি আদায়ের লড়াই ও শ্রমিকের রাজনৈতিক চেতনা বৃদ্ধির সংগ্রাম এবং এই দুইয়ের সমন্বয়ের মধ্য দিয়েই কেবল গড়ে উঠতে পারে।

    ভারতের মত পশ্চাদপদ, অসম বিকাশের দেশে কারখানা বা অঞ্চলভিত্তিক শ্রমিকের অর্থনৈতিক দাবি আদায়ের আন্দোলনগুলোতে প্রথমে নিখুঁতভাবে 'শত্রু' ও 'বন্ধু' চিহ্নিত করা দরকারি। কারা শ্রমিকের শক্তিশালী বন্ধু, কারা শ্রমিকের কম শক্তিশালী বন্ধু, কারা শ্রমিকের দোদুল্যমান বন্ধু, কারা শ্রমিকের কমজোরী বন্ধু, প্রতিটাই দেখতে হবে। যেমনটা মাও সেতুং চিনা সমাজের শ্রেণি বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে দেখিয়েছিলেন। এই কার্যক্রম সঠিকভাবে না হওয়াতে শ্রমিকের অধিকার আদায়গুলো সম্পূর্ণ হচ্ছে না, তার আগেই রাষ্ট্র শ্রমিক আন্দোলনগুলোর খুঁটিনাটি জেনে নিয়ে সকলকে গ্রেফতার করে ফেলছে। কখনও আন্দোলনের ভেতর থেকে ছোট ছোট অন্তর্ঘাত বা কখনও বাইরে থেকে বড় আক্রমন নামিয়ে ভেঙে দিচ্ছে। কেবল এই চিহ্নিতকরণ সঠিক হলে শ্রমিকের অধিকার আদায়ের আন্দোলনগুলো রক্ষা পেতে পারে, কারখানা বা অঞ্চলভিত্তিকভাবে বড় সাফল্য আসতে পারে, ভারতের মতন পশ্চাদপদ দেশে। উদাহরণস্বরূপ দেখানো যেতে পারে যে — নয়ডার যে যে কারখানাগুলো থেকে (ইলেকট্রনিক্স ও মোবাইল উৎপাদন, গাড়ি শিল্প, ব্র্যান্ডেড পোশাক শিল্প ইত্যাদি) আন্দোলনের তেজ এলো, সেইগুলো প্রতিটাই বিদেশি পুঁজি, বিদেশি উৎপাদনের হাতিয়ার, বিদেশি প্রযুক্তি ইত্যাদি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অর্থাৎ, এদেশের জমি, শ্রমশক্তি(উৎপাদিকা শক্তি) ও বাজারকে(উৎপাদন সম্পর্ক) ব্যবহার ও প্রভাবিত করে এদেশের শ্রমিকের দ্বারা উৎপাদিত পণ্য এদেশের জনগণের কাছে বেচে বিদেশি পুঁজি আরও অনেক অনেক মুনাফা কামাচ্ছে, এদেশের জনগণের দৈনন্দিন উপার্জন থেকে সামগ্রিক সম্পদ লুঠ করছে। তাহলে এই ধরনের বৃহৎ পুঁজির কারখানাগুলোতে শ্রমিকের সংগ্রামের বন্ধু হিসেবে কারা বা কোন কোন ‘শ্রেণি’ পাশে দাঁড়াতে পারে? এক, ক্ষুদ্র কৃষক; দুই, মধ্যবিত্ত; তিন, ক্ষুদ্র ব্যবসাদার; চার, ছোট পুঁজিপতি বা জাতীয় বুর্জোয়ার উপাদানবহনকারী গোষ্ঠী। যাঁরা প্রত্যেকে বিদেশি, বড় পুঁজি দ্বারা শোষিত এবং অত্যাচারিত। তাই শ্রমিকের দাবি আদায়ের লড়াইগুলোতে এই শ্রেণিগুলির সাথে যৌথতায়(ঐক্য বা যুক্তফ্রন্ট) এগানো গেলে ছোট অঞ্চলের শ্রমিকের লড়াইও বড় সাফল্য আনতে পারে এবং শ্রমিকেরা রাজনৈতিক সংগ্রামের লক্ষ্যে আরও অনেক বেশি সচেতন হবে।

    পশ্চিমবাংলার মমতার সরকার শ্রমিকদের আন্দোলনের উপর ব্যাপক অত্যাচার নামিয়েছিলেন। সকলকে ভয় দেখিয়ে পুলিশ কেসে ফাঁসিয়ে রাখবার কৌশল নিয়েছিলেন। শ্রমিকদের ন্যূনতম অধিকার কেড়ে নিতে সকল প্রকারের চেষ্টা চালিয়েছেন। যার অন্যতম উদাহরণ হলো — চটকল ত্রিপাক্ষিক চুক্তি(২০২৪) এবং চটকলগুলোর বর্তমানের ভয়াবহ অবস্থা। এ রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে শ্রমিকের অধিকারের বিপরীতে হেঁটেই। আজ পশ্চিমবাংলার শ্রমিকদের লড়াই আরও প্রাসঙ্গিক ও আবশ্যক হয়ে উঠছে। বিজেপি সরকার উত্তর ভারতের শ্রমিক আন্দোলন আরও অনেকখানি ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে অনেক শ্রমিক ও ছাত্র, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীদের গ্রেফতার করেছেন। সরকারি তথ্য মতে, এই সংখ্যাটা ৩০০ জনের উপরে। এমন ক্ষয়ক্ষতি যতটা সম্ভব এড়ানো যায়, এখন তা দেখতে হবে। পেটিবুর্জোয়া সুলভ রাজনৈতিক ভাবনা, আচরণ বাদ দিয়ে, তাড়াহুড়োবাদ কাটিয়ে উঠে, শ্রমিক শ্রেণির রাজনৈতিক বোধে সুসম্পন্ন গোষ্ঠীকে শক্তিশালী করতেই শ্রমিকদের সংগ্রামকে চারিদিকে নানা কায়দায় ছড়ানোর প্রস্তুতি নিতে হবে। শ্রম ও পুঁজির দ্বন্দ্ব যখন প্রকট আকার নিতে শুরু করে জনগণের উপর রাষ্ট্রের আক্রমণ তীব্রতর হতে থাকে, জনগণও বিদ্রোহী হয়ে উঠে। তখন সমস্ত আন্দোলনের ক্ষেত্রে শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্ব বাজারের সোনার থেকে আরও অনেক অনেক বেশি মূল্যবান হয়ে উঠে জনগণের জন্য এবং শ্রমিক শ্রেণির প্রতিটা সংগ্রাম সরকারগুলোর জন্য বিপদ বাড়ায়, রাষ্ট্রের চোখে ভয়াবহ বিপজ্জনক হতে থাকে। ডবল ইঞ্জিনের বিজেপি সরকার তা ভালো মতন বুঝতে পারছে।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • কূটকচালি | ২১ মে ২০২৬ | ৩৩৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • albert banerjee | ২২ মে ২০২৬ ১০:০৬740774
  • বেশ ভাল
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে মতামত দিন