বস্টনে বংগে : দ্বিতীয় পর্ব : বর্ন ফ্রি
বুলবুলভাজা | অন্য যৌনতা | ০২ এপ্রিল ২০১৩ | ১৫৪১ বার পঠিত | মন্তব্য : ৯
মশলার কথা শুনেছিলাম ব্যাঙ্গালোরে থাকতে, করিমের মুখে। করিম কিছুকাল বস্টনে ছিল, তারপর এ ফর আলাস্কা থেকে জেড ফর জিম্বাবোয়েতে কাটিয়ে অবশেষে ব্যাঙ্গালরে পৌঁছয়। ছোট ছোট করে কাটা চুল, দারুন ম্যানলি চেহারা আর তার সাথে একটা সাঙ্ঘাতিক ইচ্ছাকৃত কন্ট্রাস্টে কানে গোঁজা কাঠগোলাপ ফুল, এই হচ্ছে করিম। আমি বস্টনে আসব শুনে ও আমাকে বস্টন মশালার সাথে যোগাযোগ করতে বলল। আমি বস্টন মশালাকে ইন্টারনেটে খুঁজলাম, এম ডি এইচ থেকে লাস ভেগাসের ইন্ডিয়ান স্ট্রিপ শো সব পেলাম খালি বস্টনের সাউথ এশিয়ান এলজিবিটি গ্রুপ মশালার খোঁজ পেলাম না। কারণটি অত্যন্ত সহজ, কিন্তু আমার মোটা মাথায় ঢুকতে একটু সময় লাগল। আমি জানি আপনারা আমার থেকে অনেক বেশি বুদ্ধিমান, এর মধ্যেই ধরে ফেলেছেন গোলমাল কোথায়, তাই সে কথায় পরে আসছি।
বস্টনে বংগে : তৃতীয় পর্ব : বর্ন ফ্রি
বুলবুলভাজা | অন্য যৌনতা | ২০ মে ২০১৩ | ১৯৪৭ বার পঠিত | মন্তব্য : ২৭
যারা ভাবছেন, বিয়ের অধিকার না পাওয়া গেল তো কী এসে গেল, ইকুয়াল ডোমেস্টিক পার্টনারশিপ তো দেওয়াই হচ্ছে, তাদের জন্য একটা ছোট্ট সওয়াল। ধরুন কোন স্কুলে বলা হল, সবাইকে সমান ভাবে পড়ান হবে, একভাবে পরীক্ষা নেওয়া হবে, খাতা দেখা হবে, শুধু খাওয়ার জলের কলটা ইসলাম ধর্মাবলম্বী ছাত্রছাত্রীদের জন্য আলাদা হবে, মেনে নেবেন? জল একই থাকবে, শুধু কলটাকে সবুজ রঙ করে দেওয়া হবে? জানি আপনি মেনে নেবেন না, কেননা আপনি যদি মেনে নেওয়ার দলের হতেন তা হলে এই লেখাটা এতদূর পড়তেন না। দিনের শেষে সাম্যের অধিকার এক মৌলিক অধিকার, যে অধিকারের প্রশ্নে আপোষ করা চলে না।
বস্টনে বংগে : প্রথম পর্ব : বর্ন ফ্রি
বুলবুলভাজা | অন্য যৌনতা | ১৯ মার্চ ২০১৩ | ১৬৮৩ বার পঠিত | মন্তব্য : ২২
তো বস্টনের গপ্পো বলতে গেলে প্রথমেই যেটা বলতে হবে তা হল আমার অ্যাপার্টমেন্টের কথা। পয়সা বাঁচাতে (থুড়ি সেন্ট বাঁচাতে) আমি একটা পাঁচজনের সঙ্গে শেয়ার করা বাড়ি ভাড়া নিয়েছি। যেহেতু এটা আমার প্রথমবার দেশের বাইরে তাই চেয়েছিলাম একটা মিশ্র সংস্কৃতির বাড়িতে থাকতে। তো ভগবান/জেসাস আমার ইচ্ছে অপূর্ণ রাখেন নি। আমাদের বাড়িতে আমরা দুজন মেয়ে তিনজন ছেলে, তিনজন স্ট্রেট, একজন গে একজন লেসবিয়ান, দুজন কাপল, একজন ভারতীয়, চারজন আমেরিকান, একজন হিন্দু, দুজন খ্রিস্টান, দুজন ইহুদি, আর আমি যাকে আমার সম্ভাব্য বয়ফ্রেন্ড হিসেবে দেখছি সেই পাকিস্তানি মুসলিম ছেলেটিকে ধরলে একেবারে সর্বধর্মসমন্বয়। এবার এই বাক্যটা আরেকবার মন দিয়ে পড়লেই বুঝে যাবেন আমিই আমাদের বাড়ির বস্টনে বং-গে।
বস্টনে বংগে : পঞ্চম পর্ব : বর্ন ফ্রি
বুলবুলভাজা | অন্য যৌনতা | ২৬ জুলাই ২০১৩ | ১৫৪১ বার পঠিত | মন্তব্য : ১৭
সত্যি কথা বলতে কি, এটাই আমার বস্টনে প্রকৃত কামিং আউট। কেন না আগের দুটো ঘটনাকে কামিং আউট না বলে ক্যাচ আউট আর বোল্ড আউট বললে বোধ হয়, ঠিক বলা হয়। কিন্তু ল্যাবের কামিং আউটটা একেবারে স্টেজে দাঁড়িয়ে, মাইক হাতে নিয়ে ঘোষণা। আর তার সঙ্গে একটা মজার ঘটনা জড়িত, সেটা বুদ্ধদেবকে নিয়ে। বুদ্ধদেব আমার ল্যাবের বাঙালি সহকর্মী। আমার থেকে একটু বড়, বিবাহিত, একটি বেশ মিষ্টি দু বছরের ছোট্ট ছেলে রয়েছে। বুদ্ধদেব দেখলাম দারুণ মিশুকে, প্রথম দিনেই আমাকে বাড়ি নিয়ে চলে গেল, তারপর যা হয়, গপ্পো, আড্ডা, কফি। প্রথম দু-একদিন খারাপ লাগে নি, কিন্তু তারপর বুঝলাম, ওর জীবনের ফিলসফি হল, এই দুনিয়ার সব কিছুই খারাপ। কালোরা খারাপ, মুসলিমরা খারাপ, মিডল ইস্ট খারাপ, মেক্সিকানরা খারাপ, ডেমোক্র্যাট খারাপ, ইন্ডিয়া খারাপ তো বটেই, কলকাতা আরো খারাপ। কিছুদিনের মধ্যেই বুঝলাম, এর সাথে বেশিক্ষণ সময় কাটালে নির্ঘাত ডিপ্রেসড হয়ে যাব। অতএব, বুদ্ধং শরণং থেকে আমাকে পালাতে হবে। কিছুদিন অল্পবিস্তর এড়িয়ে চলার চেষ্টা করলাম, তাতে দেখলাম ও ভারি দুঃখ পেয়ে গেল। কী করি, কী করি ভাবছি, টুরিং পথ দেখালেন।
বস্টনে বংগে : দ্বাদশ পর্ব : বর্ন ফ্রি
বুলবুলভাজা | অন্য যৌনতা | ২৭ অক্টোবর ২০১৬ | ২৭২৪ বার পঠিত | মন্তব্য : ১০
এইসবের মাঝখানে পড়ে আমার ভাবনাচিন্তারা সব কেমন গুলিয়ে যেতে থাকল। মনের মধ্যে প্রশ্ন ওঠা শুরু হল, সত্যিই কি এই বিভিন্ন ধরনের অসাম্যের বিরূদ্ধে আন্দোলন হাত ধরাধরি করে চলতে পারে? কি ভাবে ক্যুইর আন্দোলনে একজন বামপন্থী (মতান্তরে ভাম্প্যান্টি) ও একজন দক্ষিনপন্থীর (মতান্তরে ভক্ত চাড্ডীর) সহাবস্থান হতে পারে? যখন সমকামী আন্দোলনের জন্য কথা বলছি তখন কি আমার অন্য রাজনৈতিক/সামাজিক পরিচয়টাকে সরিয়ে রাখতে হবে? তখন আমার শুধু একমাত্রিক পরিচয়, আমি একজন সমকামি? কিন্ত তাহলে, যে ঘেটোর বিরুদ্ধে এই আন্দোলন, সে গন্ডীই কি নিজের চারিদিকে টেনে নিচ্ছি না আমি? আবার লিঙ্গ-আন্দোলনকে যদি ডান-বামে ভাগ করি, তাহলে কি শক্তিক্ষয় করছি না নিজেদের? "মিনিস্কিয়ুল মাইনরিটি" কি আরো ছোট হয়ে যাচ্ছে না? যদি দেখি ক্যুইর ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে শোভা পাচ্ছে স্পন্সর অনুপম খেরের কাট আউট, যিনি আমার মতে জে এন ইউ ইস্যুতে বাকস্বাধীনতার কন্ঠরোধ করতে চেয়েছিলেন, তখন কি করব? যেহেতু ক্যুইর ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল তাই তার সঙ্গে থাকব, না কি সরে আসব, আর না কি অপছন্দটাকে যথাস্থানেভ্য জানিয়ে রেখে চুপচাপ বসে যাব? আর না কি সন্ত টেরেসার মত বলব, টাকায় কোনও দাগ নেই? টাকা কোথা থেকে এল গুরুত্বপূর্ণ নয়, কি কাজে খরচ হল সেটাই আসল?
বস্টনে বংগে : দশম পর্ব : বর্ন ফ্রি
বুলবুলভাজা | অন্য যৌনতা | ১০ এপ্রিল ২০১৫ | ৩১৪৪ বার পঠিত | মন্তব্য : ২১
এর মধ্যে বাড়িতে একদিন কয়েকজন বন্ধুবান্ধবকে খেতে ডেকেছিলাম। তার মধ্যে রেখা আর আলিশাও ছিল। ওদের আগেই ফুটফুটে দুটো যমজ হয়েছিল আলিশার গর্ভে, সাম্প্রতিক কালে রেখা অন্তসত্ত্বা। ওরা চলে যাওয়ার পর আমরা চারমূর্তি বসে গল্পগাছা করছিলাম। কথাবার্তা ঘুরতে ঘুরতে গে ম্যারেজ, লেসবিয়ান কাপল, আই ভি এফ, দত্তক ইত্যাদি হয়ে কিভাবে যেন কাটজুতে পৌঁছে গেল। আমি বললাম যে প্রাক্তন বিচারপতি কাটজু মনে করেন, বিয়ের কেন্দ্রীয় উদ্দেশ্য সন্তান উতপাদন ও প্রতিপালন। তাই যেহেতু গে কাপলদের সন্তান হবে না, তাই গে ম্যারেজ অর্থহীন। আইলীন হঠাৎ রেগে গেল। কাটজুর উদ্দেশ্যে কিছু বাছা বাছা গালাগাল দিয়ে শুতে চলে গেল। খানিকবাদে ড্যানও চলে গেল। আইলীন যদিও তুমুল এলজিবিটি সমর্থক তবু এরকম রেগে যাওয়ার কারণ বুঝতে পারলাম না। সম্ভবত রেড ওয়াইন একটু বেশি হয়ে গেছে। ওরা দুজন চলে যাওয়ার পর আমি এই কথাটা গণেশকে বলতে ও অবাক হয়ে আমাকে বলল, ও তুমি জান না? আমি বললাম, কী জানব?
বস্টনে বংগে : একাদশ পর্ব : বর্ন ফ্রি
বুলবুলভাজা | অন্য যৌনতা | ০৩ আগস্ট ২০১৫ | ২৯৬৮ বার পঠিত | মন্তব্য : ১৩
দিল্লী থেকে ফিরে এসেছি অনেকদিন হয়ে গেল। এর মধ্যে আমেরিকায় গে ম্যারেজ লিগাল হয়ে গেছে। সামাজিক সাম্যের লক্ষ্যে একটা বড় পদক্ষেপ। কিন্তু অনেকেই বলছেন যে এটা একটা আপাত সাম্য, হেটেরোনর্মাটিভ সমাজের ছুঁড়ে দেওয়া রুটির টুকরো। অনেকে মনে করছেন, সম্পর্কের বহু রঙ কে অস্বীকার করে এটাও একধরনের চাপিয়ে দেওয়া কপি পেস্ট। আমেরিকার সুপ্রীমকোর্টের রায়ের শেষ অনুচ্ছেদ পড়লে তাদের বক্তব্যকে অস্বীকার করা যাচ্ছে না। ওই রায়ে বলা হচ্ছে, “No union is more profound than marriage, for it embodies the highest ideals of love, fidelity, devotion, sacrifice, and family. In forming a marital union, two people become something greater than once they were.” অর্থাৎ, বিবাহের থেকে গভীর আর কোনো সম্পর্ক নেই। আমার প্রশ্ন, কি করে কোনো তৃতীয় ব্যাক্তি ঠিক করে দিতে পারে কোন সম্পর্কটা প্রোফাউন্ড আর কোনটা নয়? কোন নিক্তিতে মাপা যেতে পারে, সুখের ভালবাসা কার জন্য বেশী গভীর, আমার জন্য না কি তার নতুন প্রেমিকের জন্য? অবয়বহীন ভালবাসার কি গভীরতা মাপা যায়? যারা ভাবতে পারেন “বিয়ের প্রয়োজন যার হয় তার হয়, আমার হয় না”, তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা মাপতে যাওয়ার আমরা কে?
বস্টনে বংগে : সপ্তম পর্ব : বর্ন ফ্রি
বুলবুলভাজা | অন্য যৌনতা | ৩১ মে ২০১৪ | ২৫৫১ বার পঠিত | মন্তব্য : ১৮
এই গণেশকে সঙ্গে নিয়েই একদিন আমি পৌঁছে গেলাম স্বর্গলোকে, এবার ঠিক সময়ে। মেহফিল তখন সবে জমে উঠেছে। স্বর্গলোক দ্বিতল বিশিষ্ট। উর্ধভাগে গন্ধর্ব-কিন্নরদের নাচ, ভূ-গর্ভস্থ কক্ষে সর্বসাধারণের জন্য নৃত্যাঙ্গন। দেখলাম সেই অনিন্দ্যসুন্দর স্বল্পবসন দিব্যপুরুষদের নাচ দেখার জন্য শুধু আমরা সমকামি পুরুষরাই নই, বহু নারীরাও ভিড় জমিয়েছেন। স্টেজের ওপর নাচের সঙ্গে সঙ্গে বহু ডলারের টিপ্সও হাওয়ায় উড়ে চলেছে। পরে অবশ্য দেখলাম, যা কিছু নোট উড়ে চলছে তার বেশির ভাগটাই এক ডলারের নোট। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ আরো উদ্দাম হতে লাগলো। আমাদেরও তখন অল্প অল্প নেশা হওয়া শুরু হয়েছে। স্টেজ থেকে নেমে এসে একজন দিব্যপুরুষ আমাদের সঙ্গে এসে বসলেন। সাধারনতঃ এই সময়, আধো আলোছায়াতে, একটুকু ছোঁওয়াছুঁয়ির ফাল্গুনি শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু আমার কপাল খারাপ। গণেশ আই আই টি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং করে এসে এম আই টিতে সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র। বামপন্থী চিন্তাধারায় বিশ্বাসী। অতএব ও গে বার ডান্সারদের সমাজতাত্তিক ইতিবৃত্ত জানতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। কিউটি (দিব্যপুরুষের এই নামই আমি দিয়েছিলাম) খানিকবাদে বিরক্ত হয়ে অন্য টেবিলে উঠে চলে গেল। গণেশ অবশ্য তার আগে ওর হাতে বেশ একটা ভালো টিপস দিয়ে দিল।
বস্টনে বংগে : ষষ্ঠ পর্ব (মেয়েলিপনা ও পৌরুষ) : বর্ন ফ্রি
বুলবুলভাজা | অন্য যৌনতা | ১০ মার্চ ২০১৪ | ১৭১১ বার পঠিত | মন্তব্য : ২৪
আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, এই অসহিষ্ণুতার পেছনে এক পৌরুষ-সাধনার চালচিত্র রয়েছে। মানিয়ে নেওয়া, নরমভাবে সমাধানের পথ খোঁজা, ক্ষেত্র বিশেষে মেনে নেওয়া এইসব মিনমিনে ভাব আমরা সজ্ঞানে বর্জন করেছি। আমাদের সমাজজীবনে আমরা একটা সহজ সমীকরণ করে নিয়েছি, নমনীয়তা ইক্যুয়াল টু মেয়েলি ইক্যুয়াল টু দুর্বলতা। মেয়ে মাত্রই দুর্বল, তাই যা কিছু মেয়েলি তাই পরিত্যাজ্য। আমরা প্রথমে আবেগপ্রবণতা আর চোখের জলকে মেয়েলি বলে দাগিয়ে দিয়েছিলাম, ক্রমে মায়া-মমতা-সহানুভুতি এগুলোও আস্তে আস্তে সেই তালিকায় ঢুকে গেছে। সেই কারনেই আমরা নেতা হিসেবে দেখতে চাই এমন একজনকে যিনি নির্মম, কঠোর, বলদর্পী হয়ত বা হিংস্রও।
বস্টনে বংগে : অষ্টম পর্ব : বর্ন ফ্রি
বুলবুলভাজা | অন্য যৌনতা | ২৪ জুলাই ২০১৪ | ১৯৫৮ বার পঠিত | মন্তব্য : ৬
যখন এই লেখা লিখছি তখন গাজাতে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। খবরের কাগজের পাতা থেকে শুকনো রক্তের গন্ধ এসে লাগছে নাকে, টিভির স্ক্রিন থেকে রক্ত চুঁইয়ে নামছে মাটিতে। আর তার মাঝে বসে আমরা গরম সিঙ্গাড়ায় কামড় দিতে দিতে বোঝার চেষ্টা করছি, দোষটা কার বেশি, ইজরায়েলের না হামাসের। আর যেই বাচ্চাটা ঝলসে গেল, এক্কেবারে মরে গেল, তার কতটা দোষ ছিল? আহা, সে তো কোল্যাটারাল ড্যামেজ। আতঙ্কবাদের বিরূদ্ধে লড়তে গেলে কয়েকশ বাচ্চা তো মারা যাবেই। কেন, ইরাকে যায় নি? আফগানিস্থানে যায় নি? যেমন মাওবাদীদের শায়েস্তা করতে গেলে বিনায়ক সেনকে জেলে পুরতেই হবে, সোনি সুরির যৌনাঙ্গে ধারালো পাথর পুরে দিতেই হবে ওদের সবক শেখানোর জন্য, উন্নয়নের জন্য উচ্ছেদ হতে হবে বনবাসীদের, শহরে আলো দেওয়ার জন্য ডুবিয়ে দিতে হবে গ্রাম কে গ্রাম, ঠিক তেমনি বিশ্বজুড়ে শান্তিকল্যাণ প্রতিষ্ঠার জন্য শেষ করে দিতে হবে পরবর্তী প্যালেস্তাইনি প্রজন্ম, হত্যা করতে হবে উত্তরকালের গর্ভস্থ পরীক্ষিতকে।
বস্টনে বংগে : নবম পর্ব (৩৭৭ ফিরে দেখা) : বর্ন ফ্রি
বুলবুলভাজা | অন্য যৌনতা | ০৯ ডিসেম্বর ২০১৪ | ১৬৫০ বার পঠিত | মন্তব্য : ৩০
সুপ্রীম কোর্টের রায় নিঃসন্দেহে হতাশ করেছিল কিন্তু তার থেকেও বেশি আঘাত দিয়েছিল সেই রায়ের ভাষা। সে সম্পর্কে অন্যত্র লিখেছি তাই এখানে আর লিখছি না। তবে দুঃখ, কষ্ট হতাশার সঙ্গে যেটা যোগ হয়েছিল, সেটা একটা রাগ, একটা হতাশাজনিত ক্ষোভ। শুধু আমার মধ্যে নয়, আমার মত চারপাশের অনেক মানুষের মধ্যেই দুঃখর থেকেও বেশী ফুটে উঠেছিল রাগ, দেশের প্রতি প্রবল অভিমান। সেই সময় সেই অভিমানের অভিঘাত থেকে একটা লেখা লিখেছিলাম। প্রকাশের অযোগ্য ভাষার কারণে সেই লেখাকে সেই সময় প্রকাশ করা যায় নি। আজ এক বছরের মাথায় সেই লেখাটাকেই একটু কাঁচি চালিয়ে সভ্য করে দিলাম। মনে হল, সেই যে প্রবল রাগের অনুভূতি সেটাও ডকুমেন্টেড হয়ে থাকা দরকার।
ভারত -- একুশে পা? : বর্ন ফ্রি
বুলবুলভাজা | অন্য যৌনতা | ০৫ জুলাই ২০১০ | ১১১৫ বার পঠিত | মন্তব্য : ২
তাহলে কেটেকুটে হাতে বাঁচল কি? একদিকে খোলা হাওয়ায় সমাজ স্বীকৃতি দিতে তৈরি হচ্ছে মত ও পথের বিভিন্নতাকে, যারা এতদিন প্রান্তে অবস্থান করতেন তাদের মূলস্রোতে মিলিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে পাহারায় দাঁড়িয়ে আছেন কট্টর নৈতিক জ্যঠামশাই বা মরাল মাসিমারা। এই দুই ভিন্ন মেরুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছি আমরা সবাই, কেউ চোখ খুলে বা কেউ বুজে। আর উদারতা এবং গোঁড়ামির এই বিচিত্র নকশি কাঁথার দিকে তাকিয়ে দিন গুনছি আমরা অসংখ্য গে এবং লেসবিয়ানরা
বস্টনে বংগে : চতুর্থ পর্ব (যমদুয়ারে) : বর্ন ফ্রি
বুলবুলভাজা | ধারাবাহিক | ১৮ জুন ২০১৩ | ১৬৪৮ বার পঠিত | মন্তব্য : ৮
আজকে এখানে এত দূরে বস্টনে বসেও কোথায় যেন আমি তোর সাথে এক হয়ে যাচ্ছি। তোর আর আমার অপরাধ যে একই, তুই আর আমি দুজনেই যাদের ভালবাসি তাদেরকে আমাদের পরিবার-সমাজ মেনে নেয় না। নিজের ভালবাসাকে জলাঞ্জলি দিয়ে বাবা-মার পছন্দ করে দেওয়া জীবনসঙ্গীকে তুইও মানতে পারলি না, আমিও মানতে পারব না। আমাদের দুজনেরই চুলের মুঠি ধরে আমাদের বাবা-মা-ভাই-দাদা-বন্ধুরা বলে, হয় আমাদের বানিয়ে দেওয়া নিয়ম মেনে ভালবাস অথবা সরে যাও, মুছে যাও। আমি জানি না, আমার সমপ্রেমকে তুই মেনে নিতে পারতিস কি না, আমি জানি না, আমার প্রিয় দিদিরা মেনে নিতে পারবে কি না। আমার ভয় লাগে, যেদিন জানতে পারবে আমার দিদিরাও কি তোর দাদার মত হয়ে যাবে? ভুলে যাবে, আমাকে পায়ে করে ওরা ঘুম পাড়াতো, আমার মেয়ে সাজার ইচ্ছে হলে ছোটবেলায় ওদেরই লিপ্স্টিক-কাজল দিয়ে ওরা আমাকে মেয়ে সাজিয়ে দিত?