মুন্সীগঞ্জে উৎসব সর্বজনীন : অর্ণব
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ৯৬৪ বার পঠিত | মন্তব্য : ১
ওই পাড়াতেই দেখা হয়ে গেল কোহিনূর বেগম, আয়েশা বিবি, সাবিনা বেগমের সঙ্গে। জাহাঙ্গীরের বন্ধু বিকাশ রায়ের স্ত্রী পূজার সঙ্গে সিঁদুর খেলবেন তাঁরা। প্রসাদের ফল কাটা থেকে শুরু করে বরণ— অন্য বছরগুলির মতো এ বারও সব কিছুই করবেন একসঙ্গে। ঠিক যেমন জাহাঙ্গীর, সালাউদ্দিন, আল আমিনদের সঙ্গে প্রতি বছর নিয়ম করে ঈদের সময় রোজা রাখেন বিকাশ।
নেতাইগ্রাম, লালগড় : এপিডিআর এর ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট : অনুবাদ : অর্ণব রায়
বুলবুলভাজা | খবর : টাটকা খবর | ১৭ জানুয়ারি ২০১১ | ১৩৩৭ বার পঠিত
গ্রামেরই একজন বাসিন্দা গোকুল মাইতি আমাদের বলেন যে শান্তি প্রতিষ্ঠার বদলে গ্রামে অশান্তিই দেখা দেয়। জোর করে গ্রামবাসীদের দিয়ে ক্যাম্পের রান্না করানো, কাপড় কাচানো হত। ওই গ্রামেরই প্রদীপ রায়ের বক্তব্য অনুসারে ক্যাম্পে মোটামুটি ২০ থেকে ২৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি ছিল। একেকজন গ্রামবাসীকে একদিনে ৪০ থেকে ৫০টা চাপাটি তৈরি করতে বাধ্য করা হত। রান্না ভালো না হলে বা নুন বেশি হলে বা রাঁধুনীর যে কোনও ভুলের জন্য ক্যাম্পবাসীদের গালিগালাজ শুনতে হত। একদিন তারা গ্রামবাসীদের বন্দুক দেখিয়ে সিপিআই (এম)-এর মিছিলে অংশ নিতে বাধ্য করে। এই জোর-জবরদস্তির চাপে নিরস্ত্র গ্রামবাসীরা ক্যাম্পের সশস্ত্র ব্যক্তিদের পাহারাও দিয়ে থাকতেন। অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাঁদের সেই ক্যাম্পের সমস্ত আদেশই মেনে চলতে হচ্ছিল। ক্যাম্পে সময় দেওয়ার জন্য চাষের কাজের ক্ষতি হচ্ছিল, আর ক্যাম্প-সদস্যরা গ্রামবাসীদের সম্মান রক্ষা করছিলেন এমনও নয়। ক্যাম্প তৈরি হওয়ার পরে সিআরপিএফ-এর টহলদারি বন্ধ হয়ে যায়। সিআরপিএফ ওই গ্রামের ভবিষ্যৎ ক্যাম্পের হার্মাদদের হাতেই ছেড়ে দেয়। নেতাই গ্রামের ক্যাম্পের ৩ থেকে ৪ কিলোমিটারের মধ্যেই বীরকর, বেলাটিকরি আর সিজুয়াতে সিপিআই (এম)-এর হার্মাদ বাহিনীর অন্যান্য ক্যাম্প রয়েছে। হার্মাদ বাহিনীর ভয়ে কাঁটা হয়েই গ্রামবাসীদের দিন কাটছিল।
৩-ইডিয়টস - একটি আলোচনা : অর্ণব রায়
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ১৩ মার্চ ২০১০ | ১০৪৮ বার পঠিত
এই প্রথম হিন্দি সিনেমায় ফুটে উঠেছে কলেজের সেই জীবন, যাতে কুল পোষাক, সুন্দরীদের ক্যাটওয়াক, অত্যাধুনিক গাড়ি বা নাচ-গান-পার্টি এর উপরে জায়গা করে নিয়েছে কঠোর বাস্তব। কলেজ মানে পড়াশোনার চাপ, ব্যর্থতার ভয়, পরিবার এবং কর্তৃপক্ষের জাঁতাকল।
খাননামা : অর্ণব রায়
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ১৩ মার্চ ২০১০ | ১০৩৭ বার পঠিত
অধীর হোয়ো না বৎস, আরো আছে। চরিত্ররূপায়ণ!! তোর সাথে সুর্মাকে দিচ্ছি। আজ অব্দি যে কটায় তোদের দুজনের জুটি নামিয়েছি সবকটা মেগাহিট! কেমিস্ট্রিটাই আসল বুঝলি! তুই আর সুর্মা মিলে কেমিস্ট্রিটা নামিয়ে দিবি ঠিকমতো। সুর্মা আবার আবেগ বেশি হলে এট্টু বাড়াবাড়ি, চিল্লামিল্লি করে ফেলে বটে, কিন্তু কেমিস্ট্রি জমিয়ে ক্ষীর করে দেয়!
বলিভিয়ায় প্রতিবিপ্লব ব্যর্থ হয়েছে : অর্ণব সাহা
বুলবুলভাজা | আলোচনা : রাজনীতি | ০৯ ডিসেম্বর ২০২০ | ৩৭৭৯ বার পঠিত | মন্তব্য : ২
১১ নভেম্বর, মেক্সিকোর বিদেশমন্ত্রী মার্সেলো এব্রার্দ মোরালেসকে রাজনৈতিক আশ্রয়দানের কথা ঘোষণা করেন। কিউবা, মেক্সিকো, নিকারাগুয়া, উরুগুয়ে এবং ভেনেজুয়েলার সরকার বলিভিয়ার ঘটনাকে ‘সামরিক-আমলাতান্ত্রিক ক্যু’ হিসেবে ঘোষণা করে। পরদিন, ১২ নভেম্বর, অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন অতি দক্ষিণপন্থী জেনাইন অ্যানেজ। মোরালেস মন্ত্রিসভার সমস্ত সদস্যকে পদত্যাগে বাধ্য করানো হয়। এমনকী ৩৮ সদস্যের ইলেক্টোরাল কমিশনের সমস্ত সদস্যকেই বরখাস্ত করা হয়।
জীর্ণ পাতা ঝরার বেলায় : অর্ণব সাহা
বুলবুলভাজা | গপ্পো | ০৩ মে ২০২৩ | ৩২৮৭ বার পঠিত | মন্তব্য : ১০
আমার মা দিনের পর দিন আমার জন্য অপেক্ষা করত। কেবল, জন্মদিনগুলো মায়ের সঙ্গে কাটাতাম প্রত্যেক বছর। রুচিরাও কোনও কোনওবার আসত। আমার মেয়েও আসত। নাতনিকে চোখে হারাত মা। ঠাকুমা মারা যাবার পর, পিসি মারা যাবার পর ওই ভূতগ্রস্ত বাড়িতে কেবল মা একলা। বহুবার বলেছি আমাদের সঙ্গে এসে থাকো। সামান্য দু-একদিন এসে থাকলেও ওই বাড়ি ছেড়ে আসতে চাইত না মা। হয়তো শ্বশুরবাড়ি, স্বামীর স্মৃতি আঁকড়ে বাঁচতে চাইত। গোটা জীবনই একা হাতে আমাদের বড়ো করে তুলেছিল মা। নার্সিং হোম থেকে বলল, প্রায় একলাখ টাকা বাকি। কোভিড পেশেন্টের বডি ওরা বাড়ির লোকের হাতে তুলে দেবে না। কর্পোরেশনের গাড়ি আসবে। ওরাই যোগাযোগ করবে।
বিপজ্জনক খেলা : অর্ণব সাহা
বুলবুলভাজা | গপ্পো | ১০ নভেম্বর ২০২৩ | ২৪৭৬ বার পঠিত | মন্তব্য : ২
শোভাবাজার রাজবাড়ির পিছনের গেটের কাছে ইন্দুর চেহারা, অবয়ব একটু একটু করে পরিস্ফুট হচ্ছিল শৌভিকের। যেন কিছুটা উৎকণ্ঠা, কিছুটা সতর্কতা নিয়ে জোরকদমে হাঁটছে সে। কাঁধে একটা মাঝারি সাইজের ব্যাগ। বোঝাই যাচ্ছে সে পিছুটান ফেলে রেখে বেরিয়ে আসতে চেয়েছে আজ। উল্টোদিকে শৌভিকের সঙ্গে কিন্তু কোনও ব্যাগ নেই। এমনকী পকেটে পার্সও নেই। আসলে শৌভিকের এমনিতেও কোনও পিছুটান নেই। মাঝেমধ্যেই সে রাতেরবেলা পায়ে হেঁটে বেরিয়ে পড়ে কলকাতার রাস্তায়, রাতের জীবন দেখবে বলে। একাধিকবার ফুটপাতে শুয়ে থেকেছে সারারাত। ভিখারি-চোর-মাতাল-কাগজকুড়ুনিদের সঙ্গে। এরকমই এক রাতে, তার মনে আছে, এক স্বল্পবয়সি ভিখারিনি, যার মরদ একসপ্তাহ অন্য মেয়ের ডেরায় কাটিয়ে ফিরে এসেছে, লোকটাকে চ্যালাকাঠ হাতে শাসিয়েছিল—“আর কোনওখানে নয়। তোর ঠিকি ওইখানটায় মারব। মর্দানি জন্মের মতো ঘুচে যাবে, বাঞ্চোত”।
মোবাইলে ‘না’ নির্বাচনে কমিশনের! : অর্ণব মণ্ডল
বুলবুলভাজা | ভোটবাক্স : লোকসভা - ২০২৪ | ২৭ মে ২০২৪ | ১৫৯৮ বার পঠিত | মন্তব্য : ৪
সম্ভবত, কোনও ভোটার যাতে পোলিং বুথে ঢুকে ছবি তুলতে বা ভিডিও করতে না পারেন, সেই জন্যই মোবাইল ফোন, ক্যামেরা বা এই ধরনের কোনও রকম বৈদ্যুতিন যন্ত্র নিয়ে বুথে প্রবেশের ওপরে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কিন্তু, ভিডিও বা ছবি তো নির্বাচনী স্বচ্ছতার জন্য আরও বেশি করে প্রাসঙ্গিক। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরায় বুথের অভ্যন্তরের বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপের দৃশ্য ধরা পড়েছে। পোলিং অফিসারদের হুমকি দিয়ে সম্মিলিত ভাবে বুথ জ্যাম, দেদার ছাপ্পা – এসব ঘটনা তো আমাদের কাছে অতিপরিচিত। তাই বুথের ভেতরে যদি কেউ বা কয়েকজন মিলে গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করে, ভোটারদের কাছে ফোন থাকলে সেটার ছবি তোলা বা ভিডিও করা যাবে তৎক্ষণাৎ, যেটা পরে প্রমাণ হিসাবে ব্যবহার করে অপরাধীদের ধরার ক্ষেত্রে সেগুলো কাজে লাগতে পারে। শুধু ইভিএম মেশিনে একজনের ভোটদানের দৃশ্য যাতে অন্য কেউ না তুলতে পারে, সে বিষয়ে কড়া নজর রাখতে হবে।
এস এস সি বিপর্যয়- নিয়োগ-দুর্নীতির আবহমানতা : অর্ণব পাল
বুলবুলভাজা | আলোচনা : শিক্ষা | ১১ এপ্রিল ২০২৫ | ২৪১৩ বার পঠিত | মন্তব্য : ৪
দেশের সর্বোচ্চ আদালত ২০১৬ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশনের হওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়াটিকে ব্যাপক দুর্নীতির দায়ে বাতিল করেছেন বটে, কিন্তু এ দুর্নীতির সূত্রপাত তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর ২০১২ সালে নেওয়া স্কুল সার্ভিস কমিশনের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে। তৃণমূল জমানায় স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রথম চেয়ারম্যান হন অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন মণ্ডল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক এই মানুষটি ঘোষিত বাম বিরোধী হলেও তাঁর পড়ানো ও পাণ্ডিত্য নিয়ে কোন প্রশ্ন ওঠার কোন অবকাশ ছিল না। সেই সময় NCTE (National Council of Teachers education) এর নতুন নিয়মানুসারে ঠিক হয়, পরীক্ষা হবে দুটি ধাপে, কিন্তু এক দিনেই। প্রথমে ৯০ নম্বরের Teachers Ebility Test বা সংক্ষেপে টেট এবং তারপর ২ নম্বর করে ৩০ টি প্রশ্ন, অর্থাৎ মোট ৬০ নম্বরের বিষয়ের উপর পরীক্ষা। টেট এর প্রশ্নপত্র এমসিকিউ ধাঁচে হবে, তবে বিষয়ের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রেই জায়গা থাকবে, তাতেই লিখতে হবে। টেটে ৬০% মানে ৫৪ নম্বর পেলে তবে বিষয়ের খাতা দেখা হবে, এরপর বিষয়ে ন্যূনতম ৪০% মানে ২৪ নম্বর পেলে ইন্টারভিউতে ডাক মিলবে।