Manali Moulik কে?
Manali Moulik কী? লোকটার সঙ্গে আমার দেখা ড্রিম স্টেশনে, প্ল্যাটফর্ম নাম্বার মনে হয়… বারো।চারিদিকে সুখের বন্যা বইছে যখন, তখন এসব এঁচোড়েপাকা লোকজনের ঘুরে বেড়ানোর কোনো মানে হয়?দেখেছিলাম যদিও নিবিড় অন্ধকারে, স্বপ্ন না বাস্তব? আমিই দোলাচলে! শীর্ণ-কঠিন হাতে নীলচে শিরার নেটওয়ার্ক, চোয়াল দৃঢ়সংকল্প।পাঞ্জাবীর রঙটা এখন মনে পড়ছে না বটে,তবে খুব একটা বদলাবে বলে মনে হয় না।মুশকিল হলো, ওর চোখদুটো নিয়ে। না যায় তাকানো, না যায় চোখ সরানো!কী ভাবছেন? ‘পথের দাবী’-র সব্যসাচী মল্লিক?ধুত্তোর! আর সে রাজাও নেই, সে রাজদ্রোহীও নেই।কেন দেন এসব বোকা বোকা উত্তর? আমরা তো সুখে আছি, হ্যাঁ, রয়েছি তো সুখে…পেটভরে খাই-দাই,লোকের কথায় নাচি-গাই,উজ্জীবিত সকাল আজ কতো স্পষ্ট!ঝোপ বুঝে মারি কোপ,বেহায়াদের বলি, “চোপ”!সিরিয়াল দেখে পাই মনে কষ্ট।রাত দুটো পর্যন্ত পড়ে ... ...
বাজার অর্ধসমাপ্ত রেখে কেবল হালকা ব্যাগ হাতে বাড়ি ঢুকেছেন অজিতবাবু। থমথমে মুখ,একটা দুঃখের চিহ্ন অবসন্ন শরীরে।– “শুনছো, তপতী চলে গেল!”ক্ষীণ অথচ স্পষ্ট কন্ঠে কথাগুলো বলার আগেই ওনার স্ত্রী পূর্ণিমাদেবী এসে দাঁড়িয়েছেন সামনে। ভাবছেন,কী হলো রে বাবা, এইমাত্র বাজার গেল মানুষটা এক্ষুণি আবার মুখ চুন করে ফেরার কারণটা কী? আজ রবিবার। সব মিলিয়ে বাজারটা বড় ব্যাগেই করার কথা ওনার। তাই চিন্তিত ও অবাক হওয়ার ভাবটা ছিল আগে থেকেই। এখন খবরটা শুনে ভ্রু কুঞ্চিত হলো পূর্ণিমার। বললেন,– “কী হয়েছিলো হঠাৎ?” অবসন্ন হাতে ফ্ল্যাটের দরজাটা বন্ধ করেন অজিত। বললেন, – “জানি না ঠিক। শরীর ভালো ছিলো না বলে শুনেছিলাম কিছুদিন আগে। হঠাৎ যে কী করে ... ...
শনিবার দুপুরবেলা যে ছোটমামাকে এভাবে দেখতে হবে, সেটা আমার কেউই ভাবিনি। দরজাটা খুলে প্রথমে চমকে গেল মা।– “একী রে! কী অবস্থা করেছিস নিজের?”আমরাও সবিস্ময়ে তাকিয়ে দেখলাম পুরোনো জামাকাপড় আর দীর্ঘদিন চুল-দাড়ি না কাটার ফলে বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে ছোটমামাকে। এমনিতে দিদার বাড়ি গেলে আমার আর বোনের সর্বক্ষণের ফ্রেন্ড,ফিলোসফার অ্যান্ড গাইড হিসাবে ছোটমামাকেই আমরা এতোদিন পেয়ে এসেছি। এম.টেক করার পর কোডিং শেখানোর tuition centre আর ছবি আঁকা নিয়ে দিব্যি ছিলো। দিদা কয়েকমাস অসুস্থ থাকায় খুব একটা যোগাযোগ ছিলো না। এরমধ্যে আমাদের পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল। তাই মায়ের নজরদারিতে আমরা তখন ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’। অর্থাৎ বাইরের জগতের সঙ্গে সবরকম সংযোগ বন্ধ। এতদিন পর ছোটমামার আগমন ... ...
আজ আর দত্যি-দানো,রাজপুত্তুরের পক্ষীরাজ অথবা রাজকন্যের সোনার সাজের গল্প শোনাবো না। আজকের গপ্পো মানুষকে নিয়ে। যদিও সন্দেহ আছে, তারা সবাই কি মানুষ? একজন মানুষ, একজন অন্যকিছু? তা এইভাবেই তো চলছে, পৃথিবী নিজের গতিতে আবর্তন করছে এতকাল ধরে। আর পৃথিবীর মানুষগুলো? মহাকর্ষ-অভিকর্ষের ভারসাম্য ঠিক রক্ষা পেয়ে যায়, প্রকৃতি মুক্তমনে সমান সম্পদ বিলিয়ে দিতে চায় সবাইকে, শুধু মানুষের এতটুকু সময় হয় না এই ‘সমান’ ব্যাপারটা বোঝার জন্য। জীবনের রসদ জোটাতে এত দৌড়ঝাঁপ দরকার ; যে এসব বাজে ভাবনার সময়ই নেই! কারণ ‘সমান’ শব্দটা ভারসাম্যের মতো প্রাসঙ্গিক আর নৈমিত্তিক হয়ে উঠলে যে আর কেউ রাজা-রানীর গল্প শুনবে না! সবাই কেবল মানুষের গল্প পড়বে, ... ...
আজ বুধবার। ৩১ শে মার্চ। রৌদ্রজ্জ্বল দিনে বেলা ঠিক ১০ টায় রিকশাটা থামলো বিরজাসুন্দরী বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে। আজকেও সামনের রাস্তায় জল ভরার ট্যাঙ্কগুলো এসে দাঁড়িয়েছে, পাশের ফুটপাতে গ্রাম থেকে আসা সবজি-বিক্রেতা মহিলারা গল্পে মশগুল। গরম পড়লেও ঝিরঝিরে বাতাস হিল্লোল তুলছে নিমগাছের পাতায়। রিকশা থেকে নেমে সুরঙ্গমা এগিয়ে গেলেন স্কুল গেটের দিকে। দোতলা স্কুলের বিল্ডিংগুলো হলুদ- মেরুন রঙের, দাঁড়িয়ে রয়েছে চৌকো স্কুল মাঠটাকে ঘিরে। সকালে প্রার্থনা সংগীত শুরু হলে সাদা স্কুলের পোশাকে বিভিন্ন ক্লাসের মেয়েরা যখন দাঁড়ায় মনে হয় ছোট-বড়ো সাদা ফুল ফুটে রয়েছে। এই ফুলগুলিকে ফোটানোর দায়িত্ব এতদিন সযত্নে পালন করে এসেছেন সুরঙ্গমা মৈত্র। এই বালিকা বিদ্যালয়ের ভূগোলের শিক্ষিকা। দীর্ঘ ... ...
“আমাদের সমাজের যে বিশ্ববীক্ষা,তা আগামীর বুনিয়াদ বই আর কিছুই নয়”।.....ভিল কবি জিতেন্দ্র বাসবমাটির টান ও সুর যখন প্রাচীন আদিবাসী গোষ্ঠীর তুলির টানে ধরা পড়ে,তখন তা হয়ে ওঠে আদিবাসী শিল্পকলা।এই শিল্পসামগ্রী হলো এমনকিছু যা কোনো আদিম জনগোষ্ঠীর ইতিহাস,সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বস্তুগত চেতনাকে বহন করে।উন্নয়নশীল বিশ্ব, বিশেষতঃ এশিয়া -আফ্রিকায় বহুল পরিমাণে প্রাচীন জনগোষ্ঠীর পরিচয় পাওয়া যায়। যাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও শিল্পকলা রয়েছে। ‘আদিম শিল্পসামগ্রী’ বলাটা বোধহয় ঔপনিবেশিক মানসিকতার পরিচয়। যা একটি বৃহৎ মানবসমাজকে ছোট করতে শেখায় ও ইউরোপ-কেন্দ্রিক ধ্যানধারণাকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলে তুলে ধরে।প্রমাণ হয়, ‘আদিম শিল্পকলা’ বলতে কতিপয় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাজকে পাদপ্রদীপের আলোয় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। যেগুলি হয়তো মূলধারার শিল্পের ... ...
চরিত্রলিপি _____________ ১) চন্দ্রপ্রভা দেবী (৬০) ২) কাজললতা (আদিবাসী কন্যা;২৭)________________________(মঞ্চে একটি লালমাটির গ্রাম্যপথের দৃশ্য। একটি শীর্ণ নদী বয়ে চলেছে। তার শব্দ শোনা যাচ্ছে। একটি উঁচু পাথরের বেদীর মতো অংশে বসে রয়েছেন চন্দ্রপ্রভা দেবী । সন্ধ্যা নেমে আসছে। বাতাসের ক্ষীণ শব্দ। চন্দ্রপ্রভার হাতে একটি বই )(নিজের সাথেই কথা বলা শুরু করলেন তিনি।)চন্দ্রপ্রভা: হ্যাঁ, এটা পৌষমাস বটে। তা এই রাঙামাটির দেশে বসে না থাকলে হয়তো বোঝাই যেতো না। কলকাতায় যাহা গ্রীষ্ম,তাহাই শীত! জাঁকিয়ে পড়েছে ঠান্ডাটা এখানে। আমার আবার মাইগ্রেনের সমস্যা। তা এই শীতের সন্ধ্যে নামা মানেই মাথার যন্ত্রণার ... ...
টেবিলের ওপর রাখা ফোনটা ঝংকার তুলে বেজে উঠতেই সেটা ধরে নির্মাল্যবাবু প্রায় একনিঃশ্বাসে বলে গেলেন, – “হ্যালো, হ্যাঁ, তোমাদের পাগলাটে বাংলা কাগজের খবর আমি বিশ্বাস করি না। এমনটা হলো, আর একটা খবরে আজকে সবার ঘুম ভাঙলো! সেটাই আবার ফলাও করে ছেপে দিয়েছে, আশ্চর্য!”অন্যপ্রান্তের একটি যুবক কন্ঠ এতোক্ষণে কথা বলার সুযোগ পেয়ে আমতা-আমতা করে বললো, “হ্যাঁ…মানে স্যার, ওই পথ দুর্ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই তো সামনে এলো ব্যাপারটা। নাহলে কে আর জানতো বলুন! একটা পাগল,ভবঘুরে লোক বাসচাপা পড়েছে এটা কোনো কলামে ছোট্ট করে জাস্ট লেখা থাকতো। অ্যাতোবড়ো কেসহিস্ট্রি বেরোবে কে জানে!”নির্মাল্যবাবু একটি ইংরেজি দৈনিকের অ্যাসিট্যান্ট চিফ এডিটর। তাই বাংলা ‘মুক্তবার্তা দৈনিক’-এর তরুণ ... ...
তখন ছিল গভীর রাত। সারা পৃথিবী হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছিলো। চাঁদ ক্লান্ত মুখে নক্ষত্রমন্ডলীর সঙ্গে দুর্দশার আলোচনায় মুখর।আমি তোমাকে খুঁজছিলাম। কোনোদিন কি খুঁজে পাবো? তোমার সঙ্গে নীরব আলোচনায় কেটে যায় কতো আলোকবর্ষ সময়।.. অজস্র বিতর্ক, কাটাছেঁড়াএকসময়ে তুমি নীরব হয়ে যাও। আর আমার মস্তিষ্কের উপশিরায় শুরু হয় বিষাক্ত যন্ত্রণার দৌরাত্ম্য।তারপর আবার সব অন্ধকার।সব নিস্তব্ধ। শুধু লোলুপ শৃগালের দল ছিঁড়ে খেতে থাকে সভ্যতার মরদেহ।মৃত্যুহীন, দরিদ্রের যন্ত্রণাকাতর আর্তনাদ আবার মাথা কুটে রাজপথে ফিরে যায়।পুঞ্জীভূত ক্ষোভ সম্পদের স্তুপ হয়ে জমতে থাকে প্রগতির প্রহরীদের কুঠুরিতে।আহত মনে প্রশ্ন জাগে,তোমায় কি আর কোনোদিন খুঁজে পাবো? তারা কি একাই দোষী?যদি তুমি প্রশ্ন করো, আমি কী করেছি? কতোবার নিশ্চিন্ত জীবনের হাত ছেড়েছি? কতোবার গলা তুলেছি নৃশংস উল্লাসের কন্ঠস্বরকে ছাপিয়ে? কতোবার ... ...
অন্যায় করেছি ভোরের আলোর কাছে চুমুর আবেদন নিয়ে গিয়ে,অন্যায় করেছি শাল-পলাশ-মহুয়ার ছায়ার দিকভ্রান্তের মতো ঘুরে ঘুরে অবসন্ন পায়ে তার কুটিরছায়ে এসে বসে,অন্যায় করেছি বলে --- "জল দাও, দাও পিপাসার বারি।"ভ্রষ্টা রানী তিষ্যরক্ষা নির্লজ্জ আচরণে যে দুর্বিনীত বাক্য বলেছিলো অশোক রাজপুত্র কুণালকে, -- "দাও পিপাসার বারি।"পদ্মপলাশ চোখদুটিতে জগতের সকল আকর্ষণ মিশিয়ে কোনো ঘনায়মান সায়াহ্নে,পাটলীপুত্র রাজপ্রাসাদে সে বিমাতাকে করেছিলো কঠিন তিরস্কার। তার পথ থেকে টলানো যায়নি একবিন্দু।বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি।সংঘং শরণং গচ্ছামি।ধর্মং শরণং গচ্ছামি।পাশে ছিলো রাজ্ঞী কাঞ্চনমালা।আর কতোগুলি চান্দ্রেয় পুলকিত পূর্ণিমার অবসানে হুমায়ুন আহমেদ লিখেছিলেন,"পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠতম চোখের অধিকারী তিনজন। ব্রিটিশ কবি পি.বি.শেলী ও অশোক-পুত্র কুণাল।"তৃতীয়জন?উল্লেখহীন ব্যক্তি কি তুমি?বলো, সত্যি তুমি? শোষণের সাঁড়াশি আক্রমণের মধ্যে বংশপরম্পরায় ... ...