Manali Moulik কে?
Manali Moulik কী? শিশমহলে বিকেলের বর্ণশোভা দেখতে গিয়েছিলেন জাহানারা বেগম। অথচ দেখলেন, তাঁর বোন রোশনারা বেগম ক্রীতদাস সহযোগে জীবনবসন্তের শোভা অনুধাবনে রত। ঘৃণায় বিকৃত হলো জ্যেষ্ঠার দেহমন। কই, শাহজাহানের বহুগমনকালে তো পিতার প্রতি মন বিমুখ হলো না তার? তাই অবশ্য ছিলো রীতি রেওয়াজ সেকালের। একালেরও নয় কি? কে জানে! একবিংশ শতাব্দীর বিকেল অবশ্য তেমনি শিশমহলে নামে না। গৃহস্থের জানালায় সুতির শাড়িটি তুলে নিয়ে যাওয়ার ধরণ তার। এমন একটি আলো, যাতে ঘরের প্রতিটি তুচ্ছ জিনিস মনে হয় সুশ্রী। আবার আঁধার নামলে, আলোর ঘষাটে দ্যুতিতে তা নিজের স্বরূপ নিয়ে দাঁড়াবে। তবু বৈকালিক প্রসাধনটুকু করে সমস্ত আসবাব, প্রকৃতি, মানুষও। দূর থেকে দেখলে সৌন্দর্য্য পাওয়া যায় সবেতেই, ... ...
কলকাতার ঠিক কেতাদুরস্ত-ঝকমকে অভিজাত যাদের বলা হয়, এ বাড়িটা সেই গোত্রের না। বরং স্মার্ট, আধুনিক যুবকসদৃশ অ্যাপার্টমেন্টদের সামনে একে বেশ জেন্টলম্যান প্রৌঢ়-প্রৌঢ় লাগে। লোহার বৃহৎ কালো গেট ঠেলে ঢুকলে ডানদিকে গ্যারেজ, একটি টয়োটা গাড়ি ও গোটা তিনেক বাইক দাঁড়িয়ে আছে। বাড়িটির গঠন দোতলা হলেও বেশ সুবিশাল বলা যায়। সাবেক কালের গঠন, নিয়মিত পরিচর্যার ফলে রূপটা ধরে রেখেছে। ক্রিম রঙের দেওয়াল, কোল্যাপসেবল গেট আধখোলা। অত্রি আর শ্রাবণ প্যাসেজ পেরিয়ে সিঁড়ির নীচে দাঁড়িয়ে ধ্রুবর নাম্বার ডায়াল করলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিচিত দামী পারফিউমের সৌরভ আর ধুপধাপ পায়ের আওয়াজ সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামতে শোনা গেলো। একগাল হেসে হাত বাড়িয়ে দিলো সে,-- "মোষ্ট ওয়েলকাম, ডক্টর ... ...
ডার্ক গ্রিন ভেলভেটে মোড়া সোফায় আধশোয়া হয়ে অত্রি রোমিলা থাপারের একটা মৌর্য ইতিহাস সংক্রান্ত বই পড়ছে। কলিংবেলের শব্দে রাধামাসি দরজা খুলেই হইহই করে উঠলো, "ওমা, শ্রাবণদাদা যে !! আজ কার মুখ দেকে উঠিচি গো!"-- "কার আবার ? আন্টি কলেজে বেরিয়ে গেলে তোমাকে রোজ যেটার মুখ দেখতে হয় গো মাসি ! " শান্তিনিকেতনী ব্যাগটা সামনের টেবিলে রেখে শ্রাবণ হাত ধোয় বেসিনে। আজ সকালে তার পরণে একটি সাধারণ বাসন্তী - রঙা পাঞ্জাবী, সাদা ট্রাউজার। একটা শরৎকালের দ্বিপ্রহরের মতো আবহ তার উপস্থিতি ঘিরে। রাধামাসি অত্রিকে ছোটোবেলা থেকে সামলাচ্ছে। মা বাবা উভয়েই অধ্যাপক। বাবা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি কলেজের ইকোনমিক্সের বিভাগীয় প্রধান, মা জিওলজির। ... ...
"হ্যাপি বার্থডে জুডো চ্যাম্পিয়ন !! " দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চহাস্যে মুখরিত হয়ে শ্রাবণের আলিঙ্গনে ধরা দিলো অত্রি। ঢাকুরিয়ার ফ্ল্যাটটা আজ সেজে উঠেছে বিভিন্ন রঙের বেলুনে। সবুজ, সোনালী, বেগুনি আর নীল। ক্যান্ডেলগুলো জ্বলছে এখনো টেবিলে, রেড ভেলভেট বার্থডে কেকটা যদিও সময় পেরিয়ে যাওয়ার বেশ কিছুটা পরেও অক্ষত রয়ে গেছে। ডিসেম্বরের কলকাতায় জানালার স্লাইডিংগুলো বন্ধ রেখে এসি চালালেও অনেক মানুষের কলরব আর উপস্থিতি একটা আলাদা উত্তাপের সৃষ্টি করে। অত্রির বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই এতোক্ষণে বাড়িমুখো হলো। আটত্রিশ বছরের এই বার্থডে সেলিব্রেশন মোটামুটি সন্ধ্যে ছ'টার দিকে শুরু হলেও পূর্ণতা পেতে যে মোটামুটি রাত সাড়ে ন'টা - দশটা বাজবে এটা অনেকেই জানতো। ঘরটিতে ছড়িয়ৃ ... ...
ক্লাস এইট-নাইন। বয়ঃসন্ধির এথনিক ষ্টেজ, মাথাগরমের কাল। রূপকথার রাজকুমারী, সুনীলের সোনালী-দুঃখ, হুমায়ুন আহমেদের 'মায়াবতী' ছাড়িয়ে স্বপ্নে,হোমওয়ার্কে, লুকিয়ে বইপড়ায় ঢুকে পড়েছেন ইলা মিত্র, লতিকা সেন থেকে সিলিয়া সানচেজ বা বলিভিয়ার তানিয়া। ছোটোবেলার ঘুম-ঘুম মুগ্ধতায় লেগেছে জৈষ্ঠ্যের জ্বালাপোড়া রোদ। এরমধ্যেই এক শীতের বিকেলে চোখ রাখা ষোড়শী আর জীবানন্দের উপাখ্যানে। বেশ কিছুটা পড়ার পরেই যেখানে ষোড়শীকে পাইক-লাঠিয়ালরা টেনে নিয়ে গিয়ে জমিদার জীবানন্দের সামনে হাজির করলো, সেই অংশটায় পৌঁছানো। জীবানন্দের মাতলামো আর লাম্পট্যের চিহ্নে ঘরটির বর্ণনা 'নরকের খন্ডচিত্র'। দেয়ালে ঝুলছে ভোজালি, বুকের কাছে দো-নলা বন্দুক আর দুটি নতুন চকচকে পিস্তল। সাদা-কালো-বেঁটে-লম্বা-দিশি -বিলিতী নানারকম মদের বোতলে ঘর পরিপূর্ণ। সেখানে ষোড়শীকে কদর্য অপমান ও বাক্যধর্ষণের পর ... ...
বৃষ্টিবিকেল নীরব হলেই আজকাল বেশ ভালো হতো?স্বপ্নহারার বজ্রস্বরটা থমকে গেলেই ভালো হতো?ছাত্র তুমি, মন্ত্র জপো, তুলছ স্লোগান অবিরত? 'অধ্যায়নং তপঃ' তোমার মন্ত্র হলেই ভালো হতো।শিখলে পড়লে, গড়লে মনটা, হলে না তাও মনের মতো!মাথা নোয়ানো 'জ্বী সাব' হলে অনেকটা কি ভালো হতো?আরশোলারা জলঘোলাতেও হয় না কেন অবনত?'পিশাচসিদ্ধ' তকমা সেঁটে বিদায় করলে ভালো হতো।উদয়ন যায় অস্তাচলে, হীরক জ্বলে কথামতোছাত্র তুমি, চোখ দুখানি চশমামোড়াই ভালো হতো।আদিম প্রাণ আর চাঁদিম হিমের তথ্য তোমরা অবগত,এসব জেনেও ছাত্র হলে মন কিছুটা ভালো হতো।রাস্তা হেঁটে দেখতে পেলে অভীষ্ট নয় করগত,তার আগে কি বইটা খুঁজে চোখ নামালে ভালো হতো?বৃষ্টিবিকেল নীরব হলেই আজকাল বেশ ভালো হতো?স্বপ্নহারার বজ্রস্বরটা থমকে গেলেই ভালো ... ...
প্রথম জানালাটা বন্ধ করে দিয়েছিলেন, আমার মা।পড়ার ঘরের একপেশে যে জানালা দিয়ে দেখা যায় ঝাঁকড়া একটা তেঁতুলগাছ।কাঠবেড়ালির বন্ধুদের হট্টগোল আর পাখপাখালির সান্ধ্যবাসর,বিকেলে ডেকে যায় ফেরিওয়ালা,জগতপ্রপঞ্চে কণা খুঁজে খাওয়া লোকজন হেঁটে চলে অহরহ।ত্রিকোণমিতির গোলকধাঁধা থেকে মুখ ফিরিয়ে ওইদিকে চেয়ে থাকতাম মাঝেমধ্যেই,পরহিতৈষী কাকিমা বলছিলেন,--- "জাহান্নামে যাবে! মন উড়ুউড়ু হলে ছাত্রজীবনে রক্ষে আছে?"পরদিন এলো কাঠমিস্ত্রী।ছেনি-হাতুড়িতে কাঠ আর লোহার ঠকঠকানিতে একে একে চোখের সামনে থেকে মুছে গেলো তেঁতুলপাতার হাসাহাসি, কাঠবেড়ালির বিদায়ী চোখ...একটা করে পেরেক গাঁথা পড়ে আর সাইন থিটার অঙ্কে চোয়াল চেপে অবাধ্য অশ্রু লুকোই।সেবছর থেকেই আমার স্বর্গবাসের আয়োজন শুরু।দ্বিতীয় জানালার নাম -- অনির্বাণ।একই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়তে পড়তে সে জানালো, "এ কলকাতার মাঝে আছে ... ...
রাজা যদি ঋষি হন আজ প্রশ্ন তোলা অর্থহীন?কলমপ্রজার কৃষির আবাদ কাগজক্ষেতে অর্থহীন?পদ্য হবে ক্ষীরের ছাঁচে যা রাজকার্যের স্বার্থহীন মসীর অসি সাজার ঢং বড়োই যেন অর্থহীন?সন্ধান তার দিতে পারো, যে ছন্দফসল দ্ব্যর্থহীন?রাজার দন্ড খন্ড করে মাথা তোলাও অর্থহীন?লাঙল এবং লেখনী ফলার আনুগত্য হোক আজ শর্তহীন।'নিবের তলোয়ার' হাতে নিয়ে লড়তে যাওয়া অর্থহীন। বল্গাবিহীন ফল্গুধারা বয় আগ্নেয় অন্তর্লীন,মসীর প্রেম আজ অসির সাথে উঠছে কি হয়ে অর্থহীন?রাজা যদি ঋষি হন আজ প্রশ্ন তোলা অর্থহীন?কলমপ্রজার কৃষির আবাদ কাগজক্ষেতে অর্থহীন? ... ...
সান্ধ্যভাষায় লিখবো চিঠি, প্রয়োজন নেই তাই না? দুপুরঘুমের এ চর্যাগীতি, প্রয়োজন নেই তাই না? সহজিয়া সুর পাড় ভাঙে আর দু-কুল ছাপায় কান্না কাহ্নপাদের সুর তুলবে, আয়োজন নেই তাই না? শবরী হাঁটে সানুতল ঘেঁষে, ঝর্ণাসখী হোক আয়না মোরঙ্গীপূচ্ছ একলা দোলে, প্রিয়জন নেই তাই না? তরুবর হে! পঞ্চশত্রু আজো কালের সত্য কয় না, চঞ্চল চিত্ত, সাধনায় তার স্বীয় মন নেই তাই না? কোন্ বিকেলে লিপিচিত্রিত অধরে মৃগনয়নাহরিণীসম চাইবে, বলো, মায়াঞ্জন নেই তাই না? সান্ধ্যভাষায় লিখবো চিঠি, প্রয়োজন নেই তাই না? দুপুরঘুমের এ চর্যাগীতি, প্রয়োজন নেই তাই না? ... ...
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে, ইতিহাস-সচেতন সমাজবিজ্ঞানীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো একচেটিয়া ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা। প্রথমত, প্রযুক্তিগতভাবে এত উন্নত ও আধুনিক যুগেও ধর্মীয় মৌলবাদের টিকে থাকার উপাদানগুলো কী, তা আমাদের বিস্মিত করে। সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার মধ্যে কি কোনো ধরনের একমুখী সমীকরণ রয়েছে? ভারতীয় বিকল্প ধর্মনিরপেক্ষতার মূল ধারণাটি ঠিক কী? কীভাবে একটি মৌলবাদী চিন্তাভাবনা জাতীয়তাবাদী চেতনার সাথে মিশে যায়? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির স্তরবিন্যাস এবং আর্থ-সামাজিক কাঠামোর মধ্যে।এখানে আরেকটি বিষয় বোঝা দরকার—এই সার্বিক পরিস্থিতি থেকে দক্ষিণপন্থী রাজনীতি ফায়দা তুলছে এবং অর্থনৈতিক মুনাফার বড় অংশটি চলে যাচ্ছে তাদেরই পছন্দের কিছু পুঁজিপতিদের পকেটে। ... ...