Manali Moulik কে?
Manali Moulik কী? বৃষ্টিবিকেল নীরব হলেই আজকাল বেশ ভালো হতো?স্বপ্নহারার বজ্রস্বরটা থমকে গেলেই ভালো হতো?ছাত্র তুমি, মন্ত্র জপো, তুলছ স্লোগান অবিরত? 'অধ্যায়নং তপঃ' তোমার মন্ত্র হলেই ভালো হতো।শিখলে পড়লে, গড়লে মনটা, হলে না তাও মনের মতো!মাথা নোয়ানো 'জ্বী সাব' হলে অনেকটা কি ভালো হতো?আরশোলারা জলঘোলাতেও হয় না কেন অবনত?'পিশাচসিদ্ধ' তকমা সেঁটে বিদায় করলে ভালো হতো।উদয়ন যায় অস্তাচলে, হীরক জ্বলে কথামতোছাত্র তুমি, চোখ দুখানি চশমামোড়াই ভালো হতো।আদিম প্রাণ আর চাঁদিম হিমের তথ্য তোমরা অবগত,এসব জেনেও ছাত্র হলে মন কিছুটা ভালো হতো।রাস্তা হেঁটে দেখতে পেলে অভীষ্ট নয় করগত,তার আগে কি বইটা খুঁজে চোখ নামালে ভালো হতো?বৃষ্টিবিকেল নীরব হলেই আজকাল বেশ ভালো হতো?স্বপ্নহারার বজ্রস্বরটা থমকে গেলেই ভালো ... ...
প্রথম জানালাটা বন্ধ করে দিয়েছিলেন, আমার মা।পড়ার ঘরের একপেশে যে জানালা দিয়ে দেখা যায় ঝাঁকড়া একটা তেঁতুলগাছ।কাঠবেড়ালির বন্ধুদের হট্টগোল আর পাখপাখালির সান্ধ্যবাসর,বিকেলে ডেকে যায় ফেরিওয়ালা,জগতপ্রপঞ্চে কণা খুঁজে খাওয়া লোকজন হেঁটে চলে অহরহ।ত্রিকোণমিতির গোলকধাঁধা থেকে মুখ ফিরিয়ে ওইদিকে চেয়ে থাকতাম মাঝেমধ্যেই,পরহিতৈষী কাকিমা বলছিলেন,--- "জাহান্নামে যাবে! মন উড়ুউড়ু হলে ছাত্রজীবনে রক্ষে আছে?"পরদিন এলো কাঠমিস্ত্রী।ছেনি-হাতুড়িতে কাঠ আর লোহার ঠকঠকানিতে একে একে চোখের সামনে থেকে মুছে গেলো তেঁতুলপাতার হাসাহাসি, কাঠবেড়ালির বিদায়ী চোখ...একটা করে পেরেক গাঁথা পড়ে আর সাইন থিটার অঙ্কে চোয়াল চেপে অবাধ্য অশ্রু লুকোই।সেবছর থেকেই আমার স্বর্গবাসের আয়োজন শুরু।দ্বিতীয় জানালার নাম -- অনির্বাণ।একই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়তে পড়তে সে জানালো, "এ কলকাতার মাঝে আছে ... ...
রাজা যদি ঋষি হন আজ প্রশ্ন তোলা অর্থহীন?কলমপ্রজার কৃষির আবাদ কাগজক্ষেতে অর্থহীন?পদ্য হবে ক্ষীরের ছাঁচে যা রাজকার্যের স্বার্থহীন মসীর অসি সাজার ঢং বড়োই যেন অর্থহীন?সন্ধান তার দিতে পারো, যে ছন্দফসল দ্ব্যর্থহীন?রাজার দন্ড খন্ড করে মাথা তোলাও অর্থহীন?লাঙল এবং লেখনী ফলার আনুগত্য হোক আজ শর্তহীন।'নিবের তলোয়ার' হাতে নিয়ে লড়তে যাওয়া অর্থহীন। বল্গাবিহীন ফল্গুধারা বয় আগ্নেয় অন্তর্লীন,মসীর প্রেম আজ অসির সাথে উঠছে কি হয়ে অর্থহীন?রাজা যদি ঋষি হন আজ প্রশ্ন তোলা অর্থহীন?কলমপ্রজার কৃষির আবাদ কাগজক্ষেতে অর্থহীন? ... ...
সান্ধ্যভাষায় লিখবো চিঠি, প্রয়োজন নেই তাই না? দুপুরঘুমের এ চর্যাগীতি, প্রয়োজন নেই তাই না? সহজিয়া সুর পাড় ভাঙে আর দু-কুল ছাপায় কান্না কাহ্নপাদের সুর তুলবে, আয়োজন নেই তাই না? শবরী হাঁটে সানুতল ঘেঁষে, ঝর্ণাসখী হোক আয়না মোরঙ্গীপূচ্ছ একলা দোলে, প্রিয়জন নেই তাই না? তরুবর হে! পঞ্চশত্রু আজো কালের সত্য কয় না, চঞ্চল চিত্ত, সাধনায় তার স্বীয় মন নেই তাই না? কোন্ বিকেলে লিপিচিত্রিত অধরে মৃগনয়নাহরিণীসম চাইবে, বলো, মায়াঞ্জন নেই তাই না? সান্ধ্যভাষায় লিখবো চিঠি, প্রয়োজন নেই তাই না? দুপুরঘুমের এ চর্যাগীতি, প্রয়োজন নেই তাই না? ... ...
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে, ইতিহাস-সচেতন সমাজবিজ্ঞানীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো একচেটিয়া ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা। প্রথমত, প্রযুক্তিগতভাবে এত উন্নত ও আধুনিক যুগেও ধর্মীয় মৌলবাদের টিকে থাকার উপাদানগুলো কী, তা আমাদের বিস্মিত করে। সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার মধ্যে কি কোনো ধরনের একমুখী সমীকরণ রয়েছে? ভারতীয় বিকল্প ধর্মনিরপেক্ষতার মূল ধারণাটি ঠিক কী? কীভাবে একটি মৌলবাদী চিন্তাভাবনা জাতীয়তাবাদী চেতনার সাথে মিশে যায়? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির স্তরবিন্যাস এবং আর্থ-সামাজিক কাঠামোর মধ্যে।এখানে আরেকটি বিষয় বোঝা দরকার—এই সার্বিক পরিস্থিতি থেকে দক্ষিণপন্থী রাজনীতি ফায়দা তুলছে এবং অর্থনৈতিক মুনাফার বড় অংশটি চলে যাচ্ছে তাদেরই পছন্দের কিছু পুঁজিপতিদের পকেটে। ... ...
তুমি বলেছিলে, শাল-মহুয়ার ছায়া মেলাক দূরেপলাশ ফোটা প্রান্তর আচ্ছাদিত থাক নববধূর লাল চেলীর সাজে।মাঝে যদি রাধাচূড়া তাকে গোটাকয়েক স্বর্ণালঙ্কার পরায়,তবে তো অভিমানের কিছু নেই।তবু বিকেলের ফেরিওয়ালার ডাকের সঙ্গে মিশে যায় বালিকার কাঁচের চুড়ির কামনা-কঙ্কনা?মায়াকোভস্কির শেষ সাতদিনের কথা মনে পড়লে এখনো সোভিয়েত অনুবাদ খোঁজো? গ্রীষ্মের ছাপোষা-দুপুরের জাদুমন্ত্রে একা হতে হতেদাঁতে দাঁত চেপে পণ করেছিলে, “অন্তরবাহিনী নদী হবো। মরুচারিণীর জীবন, মিলনমৃত্যু বালুস্তরে। উৎস আর মোহনা খুঁজে খুঁজে মরুক ভূতাত্ত্বিকের দল!” কুলটা চাঁদ হেসেছিলো চকোর-সইয়ের সঙ্গে ছড়া গেয়ে, “বুকে পাথরের ইতিহাস ছাড়া কি নদী হওয়া যায়, মেয়ে?” ... ...
নৈঋতের স্নানঘরটির সৌন্দর্য বরাবরই অপরূপ। ক্রিম রঙের মার্বেলের অবস্থান ছাড়াও তার দেয়ালজোড়া পূর্ণদৈর্ঘ্যের বেলজিয়াম কাঁচের আয়নাগুলিও অনেকাংশে দায়ী তার নার্সিসিজমের জন্য। আজকের মনোভাব অবশ্য তার অন্যদিনগুলির মতো নয়। তাই ল্যাভেন্ডার সুরভিত পরিবেশে নৈঋত অন্যান্য দিনগুলির মতো আজ মুগ্ধ হয়ে নিজেকে পরিদর্শন করলো না। বরং তার গভীর চোখের গহন খাতে তীক্ষ্ণ হয়েছে দৃষ্টি নিজেকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য। তাই নিজের তিন চারটি প্রতিবিম্ব একসঙ্গেই রহস্যহাস্যে তাকে উত্তর দেয়, "সময় রয়েছে বাকি / সময়েরে দিতে ফাঁকি / ভাবনা রেখো না মনে কোনো।" যতোবার ... ...
“ডুম ডুম ডুম তাক তা ধিনা তা ধিনা তাকসোনালী জরির ঝালর নেড়ে উঠলো বেজে ঢাক।”রঙ বেরঙের শামিয়ানা ঢেকেছে গ্রীষ্মের বিধুর আকাশ,কাজের শেষে আবালবৃদ্ধবণিতা বসেছে ধুলিধূসরিত শতরঞ্চিত ওপরে।ক্লান্ত দেহে ফতুয়া কারোর, ছাপা শাড়ির আধঘোমটার আড়ালে কৌতুহলী মলিন চোখ,কেউ বা এসেছে শার্ট প্যান্টে ধোপদুরস্ত হয়ে। দিগবধূরা দিগন্ত জুড়ে শেষবেলার আবির ছড়িয়ে দিয়ে অস্তাচলে ফেরার অপেক্ষায়…সূর্যমশাইয়ের দরবার থেকে তাদের সোয়ামী সুতীব্র কিরণদল ছুটি পেলেই হলো।মিনসের আক্কেল দ্যাখো!মানুষের পালাগান শুরু হওয়া পর্যন্ত কোন্ মুখে আলোকে আকাশে থাকতে আছে?ওদের লজ্জায় বিকেলের পূর্বাচল লাল হয়ে ওঠে।এদিকে লাল-নীল লন্ঠনের আলোয় বাঁশের মাচায় একে একে এসে দাঁড়িয়েছেরাজপুত্র, সেপাই, ঘোড়ারাজকন্যা সোনায় মোড়া।খোলের গাবকানিতে চাঁটি পড়ে আবার,“ফাগ-চত্তিরে বউল এলো মধুক্ষরা আমে পুতুলগুনো ... ...
লোকটার সঙ্গে আমার দেখা ড্রিম স্টেশনে, প্ল্যাটফর্ম নাম্বার মনে হয়… বারো।চারিদিকে সুখের বন্যা বইছে যখন, তখন এসব এঁচোড়েপাকা লোকজনের ঘুরে বেড়ানোর কোনো মানে হয়?দেখেছিলাম যদিও নিবিড় অন্ধকারে, স্বপ্ন না বাস্তব? আমিই দোলাচলে! শীর্ণ-কঠিন হাতে নীলচে শিরার নেটওয়ার্ক, চোয়াল দৃঢ়সংকল্প।পাঞ্জাবীর রঙটা এখন মনে পড়ছে না বটে,তবে খুব একটা বদলাবে বলে মনে হয় না।মুশকিল হলো, ওর চোখদুটো নিয়ে। না যায় তাকানো, না যায় চোখ সরানো!কী ভাবছেন? ‘পথের দাবী’-র সব্যসাচী মল্লিক?ধুত্তোর! আর সে রাজাও নেই, সে রাজদ্রোহীও নেই।কেন দেন এসব বোকা বোকা উত্তর? আমরা তো সুখে আছি, হ্যাঁ, রয়েছি তো সুখে…পেটভরে খাই-দাই,লোকের কথায় নাচি-গাই,উজ্জীবিত সকাল আজ কতো স্পষ্ট!ঝোপ বুঝে মারি কোপ,বেহায়াদের বলি, “চোপ”!সিরিয়াল দেখে পাই মনে কষ্ট।রাত দুটো পর্যন্ত পড়ে ... ...
বাজার অর্ধসমাপ্ত রেখে কেবল হালকা ব্যাগ হাতে বাড়ি ঢুকেছেন অজিতবাবু। থমথমে মুখ,একটা দুঃখের চিহ্ন অবসন্ন শরীরে।– “শুনছো, তপতী চলে গেল!”ক্ষীণ অথচ স্পষ্ট কন্ঠে কথাগুলো বলার আগেই ওনার স্ত্রী পূর্ণিমাদেবী এসে দাঁড়িয়েছেন সামনে। ভাবছেন,কী হলো রে বাবা, এইমাত্র বাজার গেল মানুষটা এক্ষুণি আবার মুখ চুন করে ফেরার কারণটা কী? আজ রবিবার। সব মিলিয়ে বাজারটা বড় ব্যাগেই করার কথা ওনার। তাই চিন্তিত ও অবাক হওয়ার ভাবটা ছিল আগে থেকেই। এখন খবরটা শুনে ভ্রু কুঞ্চিত হলো পূর্ণিমার। বললেন,– “কী হয়েছিলো হঠাৎ?” অবসন্ন হাতে ফ্ল্যাটের দরজাটা বন্ধ করেন অজিত। বললেন, – “জানি না ঠিক। শরীর ভালো ছিলো না বলে শুনেছিলাম কিছুদিন আগে। হঠাৎ যে কী করে ... ...