Manali Moulik কে?
Manali Moulik কী? চরিত্রলিপি _____________ ১) চন্দ্রপ্রভা দেবী (৬০) ২) কাজললতা (আদিবাসী কন্যা;২৭)________________________(মঞ্চে একটি লালমাটির গ্রাম্যপথের দৃশ্য। একটি শীর্ণ নদী বয়ে চলেছে। তার শব্দ শোনা যাচ্ছে। একটি উঁচু পাথরের বেদীর মতো অংশে বসে রয়েছেন চন্দ্রপ্রভা দেবী । সন্ধ্যা নেমে আসছে। বাতাসের ক্ষীণ শব্দ। চন্দ্রপ্রভার হাতে একটি বই )(নিজের সাথেই কথা বলা শুরু করলেন তিনি।)চন্দ্রপ্রভা: হ্যাঁ, এটা পৌষমাস বটে। তা এই রাঙামাটির দেশে বসে না থাকলে হয়তো বোঝাই যেতো না। কলকাতায় যাহা গ্রীষ্ম,তাহাই শীত! জাঁকিয়ে পড়েছে ঠান্ডাটা এখানে। আমার আবার মাইগ্রেনের সমস্যা। তা এই শীতের সন্ধ্যে নামা মানেই মাথার যন্ত্রণার ... ...
টেবিলের ওপর রাখা ফোনটা ঝংকার তুলে বেজে উঠতেই সেটা ধরে নির্মাল্যবাবু প্রায় একনিঃশ্বাসে বলে গেলেন, – “হ্যালো, হ্যাঁ, তোমাদের পাগলাটে বাংলা কাগজের খবর আমি বিশ্বাস করি না। এমনটা হলো, আর একটা খবরে আজকে সবার ঘুম ভাঙলো! সেটাই আবার ফলাও করে ছেপে দিয়েছে, আশ্চর্য!”অন্যপ্রান্তের একটি যুবক কন্ঠ এতোক্ষণে কথা বলার সুযোগ পেয়ে আমতা-আমতা করে বললো, “হ্যাঁ…মানে স্যার, ওই পথ দুর্ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই তো সামনে এলো ব্যাপারটা। নাহলে কে আর জানতো বলুন! একটা পাগল,ভবঘুরে লোক বাসচাপা পড়েছে এটা কোনো কলামে ছোট্ট করে জাস্ট লেখা থাকতো। অ্যাতোবড়ো কেসহিস্ট্রি বেরোবে কে জানে!”নির্মাল্যবাবু একটি ইংরেজি দৈনিকের অ্যাসিট্যান্ট চিফ এডিটর। তাই বাংলা ‘মুক্তবার্তা দৈনিক’-এর তরুণ ... ...
তখন ছিল গভীর রাত। সারা পৃথিবী হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছিলো। চাঁদ ক্লান্ত মুখে নক্ষত্রমন্ডলীর সঙ্গে দুর্দশার আলোচনায় মুখর।আমি তোমাকে খুঁজছিলাম। কোনোদিন কি খুঁজে পাবো? তোমার সঙ্গে নীরব আলোচনায় কেটে যায় কতো আলোকবর্ষ সময়।.. অজস্র বিতর্ক, কাটাছেঁড়াএকসময়ে তুমি নীরব হয়ে যাও। আর আমার মস্তিষ্কের উপশিরায় শুরু হয় বিষাক্ত যন্ত্রণার দৌরাত্ম্য।তারপর আবার সব অন্ধকার।সব নিস্তব্ধ। শুধু লোলুপ শৃগালের দল ছিঁড়ে খেতে থাকে সভ্যতার মরদেহ।মৃত্যুহীন, দরিদ্রের যন্ত্রণাকাতর আর্তনাদ আবার মাথা কুটে রাজপথে ফিরে যায়।পুঞ্জীভূত ক্ষোভ সম্পদের স্তুপ হয়ে জমতে থাকে প্রগতির প্রহরীদের কুঠুরিতে।আহত মনে প্রশ্ন জাগে,তোমায় কি আর কোনোদিন খুঁজে পাবো? তারা কি একাই দোষী?যদি তুমি প্রশ্ন করো, আমি কী করেছি? কতোবার নিশ্চিন্ত জীবনের হাত ছেড়েছি? কতোবার গলা তুলেছি নৃশংস উল্লাসের কন্ঠস্বরকে ছাপিয়ে? কতোবার ... ...
অন্যায় করেছি ভোরের আলোর কাছে চুমুর আবেদন নিয়ে গিয়ে,অন্যায় করেছি শাল-পলাশ-মহুয়ার ছায়ার দিকভ্রান্তের মতো ঘুরে ঘুরে অবসন্ন পায়ে তার কুটিরছায়ে এসে বসে,অন্যায় করেছি বলে --- "জল দাও, দাও পিপাসার বারি।"ভ্রষ্টা রানী তিষ্যরক্ষা নির্লজ্জ আচরণে যে দুর্বিনীত বাক্য বলেছিলো অশোক রাজপুত্র কুণালকে, -- "দাও পিপাসার বারি।"পদ্মপলাশ চোখদুটিতে জগতের সকল আকর্ষণ মিশিয়ে কোনো ঘনায়মান সায়াহ্নে,পাটলীপুত্র রাজপ্রাসাদে সে বিমাতাকে করেছিলো কঠিন তিরস্কার। তার পথ থেকে টলানো যায়নি একবিন্দু।বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি।সংঘং শরণং গচ্ছামি।ধর্মং শরণং গচ্ছামি।পাশে ছিলো রাজ্ঞী কাঞ্চনমালা।আর কতোগুলি চান্দ্রেয় পুলকিত পূর্ণিমার অবসানে হুমায়ুন আহমেদ লিখেছিলেন,"পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠতম চোখের অধিকারী তিনজন। ব্রিটিশ কবি পি.বি.শেলী ও অশোক-পুত্র কুণাল।"তৃতীয়জন?উল্লেখহীন ব্যক্তি কি তুমি?বলো, সত্যি তুমি? শোষণের সাঁড়াশি আক্রমণের মধ্যে বংশপরম্পরায় ... ...
||১||কৌশাম্বী নগরের রাজমাতার চোখে ঘুম নেই। তিনি দীর্ঘজীবনের সায়াহ্নে এসে পৌঁছেছেন। তাঁকে এমন অনাচার শেষপর্যন্ত দেখতে হবে, এ তাঁর ভাবনার বাইরে ছিলো। অপরাহ্নের ম্লান আলো এসে পড়েছে হাতির দাঁতের কারুকার্য করা পালঙ্কের উপর। দুগ্ধফেননিভ বিছানাত অর্ধশয়ন অবস্থায় তিনি ভারাক্রান্ত মুখে একথাই ভাবছিলেন। শ্বেত পট্টবস্ত্র ও মুক্তার অলংকারে তাঁর দেহ আবৃত। এক দাসী এসে নতমস্তকে দাঁড়ালো। কৌশাম্বী রাজপ্রাসাদে রাজমাতার কক্ষটিই সবচেয়ে নিভৃত। বিশেষ করে পড়ন্ত গোধুলিতে কেউই এখানে আসে না। আর বর্তমানের অশান্ত পরিস্থিতিতে তো আর কারো আগমন বিনা কারণে হতে পারেনা। তিনি ক্লান্ত হলেও ... ...
বৃষ্টি শুরু হয়েছে গতকাল বিকেল থেকে। আজ সকাল সাড়ে দশটায় যদিও ঝিরঝিরে দু-একপশলা ধারাপতন ছাড়া কিছুই নেই, কিন্তু রাস্তাঘাটে কাদা জমে গেছে অনেকটা। উঁচু হিলের জুতো নিয়ে বেশ বিপদে পড়তে হচ্ছিলো তনুজাকে। বাস থেকে নেমে ভবানীপুরের ক্লায়েন্টের ঠিকানাটা হোয়াটস্অ্যাপে আরো একবার চোখ বুলিয়ে দেখে নিলো সে। হাই-হিল জুতোর জন্য কাদা ছিটকে উঠেছে অফ-হোয়াইট জিন্সের গোড়ার দিকে। ঈষৎ বিরক্ত মুখে মোবাইলের ক্যামেরা অন করে চুল আর মুখের কোনো বিকৃতি ঘটেছে কিনা দেখলো সে। না। একইরকম স্নিগ্ধ, লাবণ্যময়ী দেখাচ্ছে তাকে। একটু প্রফুল্লচিত্ত হতে না হতেই ফোনটা বেজে উঠলো। অপালাদির ফোন। -- "হ্যালো দিদি, হ্যাঁ, এই জাষ্ট পৌঁছালাম গো। লোকেশনটা পেয়ে গেছি, হ্যাঁ...বলো!"ফোনের ওপ্রান্ত ... ...
|| ২ || সূর্য উঠে পড়েছে কিছুক্ষণ আগে। একটি অ্যাম্বাস্যাডর গাড়ির ডিকিতে মালপত্র তুলতে ব্যস্ত ড্রাইভার। ঘরে ক্রমাগত ব্যস্ততার মধ্যে বাতাসকে ভারী করে তুলছে একটি বাচ্চা মেয়ের তীক্ষ্ণ কন্ঠের কান্নার শব্দ। ছোট্ট গোলাপীরঙা ব্যাগটি আঁকড়ে ধরে হাপুসনয়নে কেঁদে চলেছে সে। মাথায় একটি হাতের স্পর্শ অনুভব করতেই বাবার বুকে মুখ গুঁজে দিয়ে আরো জোরে ফুঁপিয়ে ওঠে সে। -- "যাবো না, আমি কিছুতেই যাবো না। এখানেই থাকবো..."একরাশ চুলে ভরা মাথাটা দুহাতে বুকে চেপে ধরে তার বাবা বলে ওঠে,-- "এরকম করতে নেই, সোনা। গুড গার্ল তুমি, কতোকিছু বোঝো, এটা বুঝতে ... ...
|| ১ ||বড়ো রাস্তা পার হয়ে এই মাঝারিমাপের গলিটায় প্রবেশ করা এক বিপদ পথচারীদের কাছে। ঝলমলে হাইওয়ে আর যানবাহনের কলরব থামতে থামতে মুখে মিলিয়ে যাওয়া চকোলেটের টুকরোর মতো হারিয়ে যায়, আর ঝিমধরা অন্ধকার - নৈঃশব্দ জাঁকিয়ে বসে। ইঁটের পাঁজরা বের করা দুটি বাড়ি পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। ভেঙেচুরে তাদের উভয়েরই অবয়ব হয়েছে বীভৎস, কার্নিশ খসে পড়ায় ডানদিকের বাড়িটাকে মুখ ফেরানো শক্ত চোয়ালের মনে হয়। যেন দুজনেই যেদিকে দুচোখ যায় চলে যেতে পারলে বাঁচে, নেহাৎ দেওয়াল জোড়া বলেই সে অবকাশ নেই। পড়ন্ত বিকেলে ট্যাক্সিটা এসে থামলো এই জোড়াবাড়ির সম্মুখে। আকাশ তখন আটপৌঢ়ে রোদের শাড়ি গায়ে জড়িয়ে শেষ রক্তিমতাটুকু মুছে নিয়ে বাড়ি ফেরার ... ...
আজ যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে এসেছি, তার শিরোনাম দেখে অনেকে ভাবতে পারেন, এ আর নতুন কী! দৈনন্দিন জীবনে যেভাবে দুটি বিষয়কে মিলেমিশে একাকার করে দেবার চেষ্টা চলছে তা থেকে ধরে নেওয়াই যায় যে আমাদের রাষ্ট্রীয় জীবনে হয়তো সত্যি ধর্মের সুবিশাল প্রভাব রয়েছে। আদতে আমাদের সংবিধান যতই 'ধর্মনিরপেক্ষ' শব্দটি ব্যবহার করে থাকুক এবং মৌলিক অধিকারের ২৫-২৮ নম্বর ধারায় নিজস্ব ধর্মাচরণ, বিশ্বাস ও ধর্মপ্রচারের স্বাধীনতা ও এবিষয়ে রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতার কথা বলুক, বাস্তব বড়োই জটিল। Secular শব্দটি তো সংখ্যাগরিষ্ঠগণ এখন ব্যাঙ্গাত্মক অর্থে ব্যবহার করে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে যার উৎপত্তি গ্রীক শব্দ 'Saeculum' থেকে। যার ইংরেজী অর্থ 'This time.' এইসময় বলতে এভাবে বোঝানো যায়, "যা ... ...
উপসংহার কোটি কোটি নক্ষত্র আজ বুঝি চঞ্চল,তাদের সমাবেশে নিশিদিগন্ত উজ্জ্বলচাঁদের জ্যোৎস্নায় বালুচর আজ মুখরসমুদ্রের ঢেউগুলোও জমিয়েছে আনন্দ-আসর।আজ রাত্রি যেন চাইছে কিছু বলতেস্নিগ্ধ বাতাসের বারতা ছড়িয়ে পড়ে চারিপ্রান্তেপ্রকৃতিও আজ চেয়েছে উৎসুক-নয়ানেসাক্ষী হতে চায় এ মহামিলনের সন্ধিক্ষণে।দুইটি ক্লান্ত হৃদয় চলেছে দুইপথে ;ওদের গন্তব্য ওই সাগরের মিলনতটে।অবশেষে মিলে গেল সে দুটি প্রাণস্তব্ধ রাত্রি পেল এক সুর,মিলনের গান। গোধূলির রূপকথা দিনের শেষ সন্ধিক্ষণে সূর্যকিরণ আপনমনে ফিরে ফিরে চলে।তালের সারি বারে বারে বিষণ্ণ দুপুরে ... ...