
এই গল্পগ্রন্থটিতেও রয়েছে মানুষেরই চাওয়া পাওয়া, সুখ দুঃখের কথামালা। তবে গল্পগুলি আবর্তিত হয়েছে ভিন্ন কালমাত্রায়, ভারতীয় উপমহাদেশের ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যের আবহে। তাতে অবশ্য পাঠকের লাভই হয়। তাঁর কাহিনীর পটভূমিকা তাদের নিয়ে যায় অচেনা সব অন্দরমহলে। গল্পগুলো ঘুরে বেড়ায় সহ্যাদ্রির মেঘে ঢাকা মহারাষ্ট্রের আরব সাগরের তীরে। ‘ফুল আর মধুপাখি’র সুশান্তি তার দেহের গরলকে কোন অমৃতে বশ করে? কলকাতার বড়বাজারে কাজ করা ইয়াদরাম, গ্যালিলিওর মত দেখতে মেহের বিলিমোরিয়া, বা পিপিনরা কি গভীর অসুখে আছন্ন ‘রাধু’কে আপন ‘ঘরবাড়ি’র কাছে পৌঁছতে দেয়? নাকি ধনী-গরিবের চরম বৈপরীত্যের ভূমিতে তারা হারিয়ে যায় কোনো উজ্জ্বল গোলকধাঁধায়? ... ...

অভিনেতা থেকে জননেতা, খেলোয়াড় থেকে গায়ক – ঐশ্বর্য ও প্রতিপত্তির জগতে যাঁদের আনাগোনা, তাঁরা কেউ কাঠগড়ায় উঠলে সাধারণ মানুষ যেন ততটা অবাক হন না। অথচ, নামকরা কোনো বিজ্ঞানী কোনো রকম অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন শুনলে লোকের প্রথমেই মনে হয় ‘অসম্ভব!’; কারণ, সাধারণের চোখে বিজ্ঞানী মানেই কাজপাগল, আত্মভোলা এক মানুষ, যাঁর কাজ – জ্ঞানের চর্চা ও সত্যের সন্ধান। অর্থাৎ বিজ্ঞানচর্চার রীতির মধ্যেই যেন এক রক্ষাকবচ লুকোনো আছে, যার সুবাদে একজন বিজ্ঞানী অসদাচরণ করা বা তার জন্য অভিযুক্ত হওয়া থেকে মুক্ত থাকেন। তার মানে কি বিজ্ঞানীদের অপকর্ম বিষয়ে সাধারণ মানুষ একেবারেই অন্ধ? ঠিক তা নয়, বরং একজন বিজ্ঞানী কী কী ধরনের অন্যায় করতে পারেন, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষের মনে একটা ধারণা আছে; বিজ্ঞানীর সেইসব অপকর্ম হতে পারে ব্যক্তিগত কোনো কেলেঙ্কারি, আর্থিক নয়ছয়, বড় জোর দেশদ্রোহ—মানে গোপন তথ্য পাচার। কিন্তু গবেষণার সময়ে তিনি জ্ঞানত কোনো অসততা করেননি, অর্থাৎ যে ফলাফল পেয়েছেন, তাই তিনি প্রকাশ করেছেন – এটা ধরে নিয়েই বিজ্ঞানের জগৎ এগিয়ে চলে আর সাধারণ মানুষও সেটাই বিশ্বাস করেন। ... ...

এই সবুজ পাহাড়, ঐ দুধলি লতা, বেগুনি জারুল, হলুদ সোঁদাল, ছাতিমের সুগন্ধ, পাখপাখালির কলরব, ফ্যাক্টরির মেশিনের আওয়াজ, আগুনের তাপ, লংতরাইয়ের পাকদণ্ডী বেয়ে মুড়ির টিন বাস – এরা সবাই গল্পগুলির চরিত্র - পিরোবতীর গল্পগুলির। ঠিক যেমন গরীবধনী কুলিমালিক সব মানুষের নাচগান, শাপশাপান্ত, ঘুম, অথবা অনর্গল স্নান ও হঠাৎ রুখে ওঠা যুদ্ধ। আর তার-ই মাঝে, সবুজ পাতার ফাঁকে, নদীর স্রোতের তলায় উপলখণ্ডের মত অপেক্ষা করে থাকে দুঃখ। অপেক্ষা করে মৃত্যু। কোথায় যেন পড়েছিলাম, যে মৃত্যুকে নিয়ে যাবতীয় লেখাই, আসলে যেন এক-একটি মোনোক্রোম চিত্রকলা, কিন্তু স্থাপত্য নয়, যাকে দেখা যায় শুধুমাত্র একটিই দিক থেকে। একটিই অমোঘ অন্তিম, তারপর শূন্যতা। এবং কিছু কুয়াশা। সে কিছুটা অবুঝ এবং অস্পষ্ট। সামনে অতল খাদ, তবুও নিচে তাকানোর কী অমোঘ আকর্ষণ। সেইসব গল্পের শেষে আমাদের থামতে হয়, একটুকুন বিশ্রাম, একটু দীর্ঘশ্বাস। ... ...

"মধ্যযুগ ছিল অন্ধকার, তারপর জল পড়িল, পাতা নড়িল, ফুল ফুটিল এবং সিরাজ বধ করিয়া, সগর্বে য়ুরোপ আসিয়া বাংলাকে গ্লোবাল করিয়া জ্ঞানের আলো দেখাইল, সোমনাথ এইসব ঢপেচ্চ্পেও বিশ্বাস করে না। সে রামপ্রসাদের ভক্ত।" - একথা সোমনাথ রায়ের আগের কবিতার বইয়ের ব্লার্বে লেখা আছে। এই বইতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায়। তা সে ক্ষীরভবানীর মন্দিরে অসীম আল্লা আর অনন্ত মায়ের মূর্তিতে কাজল মেঘেতে ছাওয়া বাংলার রূপ হোক বা হায়দারি মঞ্জিলে দবীর খাসের স্বপ্ন। এখানে ঘাসে ঘাসে হাওয়ার দোলনাতে ঝুলন মিলনের অধিষ্ঠান, মাটি দেশে শ্যামল সমারোহে শ্যামের বাঁশি আর সে রাঙা পদ, রূপকথা দিঘিতে ঘাই মারে পিতামহীর দেওয়া মাছের নথ। মেঘনা ভাগীরথী পলিমাটিতে মেশে যেমন আজানেতে মিশছে শাঁখ/ মাঠে ও জলতলে যেমন মিশে আছে লক্ষ কৃষকের হুলের ডাক। বৃষ্টি থেমে গেলে বাগান উপচে পথে উঠে আসে কলরব। নিভে যাচ্ছে কার্তিকের রোদ। দুপুরের ঝিম ছিঁড়ে যায় রেলগাড়িতে। ডিনামাইটের মুখে জেগে ওঠে পাহাড়িয়া ঘাস। বাড়িগুলো মরে যায়, সেই জায়গায় একটা ফাঁকা মাঠ হয় কিছুদিন। একশো বছর ধরে মরে গেছে বাংলার গ্রাম/ মৃত শরীরের ঢিপি ঢেকে রাখা প্রগতির পথে। হেল বপ দূরে সরে যায়। অনন্তকাল আবার দাঁড়ায় বড়ঘড়ির নিচে। 'ঘেন্না পিত্তি' আর 'অরূপ বৃন্দাবন এবং অন্যন্য পদ'র মতোই, 'পূর্বে আসো মেঘ' আসলে নানা ছন্দের কারিকুরি - ছান্দসিকদের জন্য পোয়াবারো। আসবে, ২০২৬ কলকাতা বইমেলায়। ... ...

তাই লেখক স্মৃতি নিয়ে ঘর করেন না। ঠান্ডা নিয়ে ঘর করেন। সেই ঠান্ডা যখন গরমের দিকে যাওয়ার মতো হয় তখন একটা ট্রাক্টর অথবা বাইক মিছিল দেখা যাবে আর পাবে খিদে। এইভাবে চরিত্ররা মনের ভেতর ঢোকে, বেরোয় আর ঘুমের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে টিলার তলায় কুয়াশার ভেতর দিয়ে যেতে যেতে আস্তে আস্তে নদীর ধারে পৌঁছয়। দুবেলা জঙ্গল সাফারির ধকল সেরে বনবাংলোয় ফিরে তারা পড়তে বসে মহামারীর ইতিহাস। ... ...

সোমনাথ গুহের এই বইটি সতেরো বছর ধরে নিজের পত্রিকায় কন্নড় এবং ব্যাঙ্গালোর মিররে ইংরেজি ভাষায় লেখা গৌরীর কিছু নির্বাচিত রিপোর্টাজ এবং নিবন্ধের বাংলা অনুবাদের সংকলন। গৌরী ছুঁয়ে গেছেন গুজরাট দাঙ্গা, বাবাবুদানগিরি বিতর্ক, জাস্টিস অজিত প্রকাশ শাহ, সাভানুর শহরে দলিত মেথর সম্প্রদায়ের আন্দোলন, আর্সেলর মিত্তলের বিরুদ্ধে দয়ামণি বার্লা, বাসবান্না প্রবর্তিত লিঙ্গায়েত ধর্মের ভুলে যাওয়া সাম্যবাদ, দলিত কবি হুচ্ছাঙ্গি প্রসাদের ওপর হিন্দু জাগরণ ভেদিকের আক্রমণ, কর্ণাটকে কুসংস্কার বিরোধী আন্দোলন, রোহিত ভেমুলা, জৈন মুনি তরুণ সাগর, ইউ আর অনন্তমূর্তি আর এম এম কলবুর্গির মত কন্নড় লেখকদের মত বহু প্রসঙ্গ। এছাড়াও এই বইতে যুক্ত হয়েছে গৌরীকে নিয়ে তার বোন কবিতা লঙ্কেশ এবং মা ইন্দিরা লঙ্কেশের স্মৃতিচারণা, ভুয়ো খবরের স্রোত নিয়ে লেখা গৌরীর শেষ সম্পাদকীয়। ... ...

সমুদ্রের ঢেউয়ের এক গল্পে একটি ঝিনুক তার বন্ধু ঝিনুকের সঙ্গে পরিচিত হয়, কথাবার্তা হয়, একসঙ্গে ইচ্ছামত একটু ঘুরে বেড়ায় সারাদিন কাজের শেষে। সে জানে একজন পূর্ণবয়স্ক কবি দিনে চার পাঁচটা কবিতা লিখতে পারে, এমনিতে বর্ণহীন তথা অদৃশ্যপ্রায়। তবে পুরস্কারে হলদে, রাগে লাল বা ঘেন্নায় সবুজ হয়ে গেলে জ্যোৎস্নার খাঁড়িতে লুকোনো এদের কবিতার মাড়িগুলো পচে যেতে থাকে। সে কি কখনো তোমাদের জিজ্ঞেস করেছে - "একটা সময়ের চোঙের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছি সকলে?" ... ...

রানির মতই যোগমায়াও ছোট থেকেই পাখি হয়ে যেতে পারতেন, যে কোনো রাস্তার গোলকধাঁধায় কখনো হারিয়ে যেতেন না। পৌরসভায় 'সরণী সংরক্ষণ ও সংযোজন' বিভাগে কাজ পেলেন। সেখানেও যোগমায়া সারাদিন ম্যাপ ঘাঁটতে ঘাঁটতে সহ কর্মচারীদের কাছে হয়ে উঠলেন জলজ্যান্ত, রক্তমাংসের গুগুল ম্যাপ। ডিপার্টমেন্ট ডিজিটাল হবার সার্কুলার এল। যোগমায়া টিকে গেলেন কারণ অ্যানালগ মানচিত্রের ঢিপি, রেজিস্টার ফেলে দেওয়ার মর্মে কোনো সার্কুলার এল না। ক্যাবিনেটের ধুলোয় যোগমায়া খুঁজে বার করলেন এক হারিয়ে যাওয়া রাস্তা - দস্তুরিখানা স্ট্রিট। রিটায়ার করার পর যোগমায়া হালদার সেখানে হারিয়ে গেলেন। ... ...

কোনো এক বিখ্যাত কবির তত্ত্ব ছিলো যে কোনো কোনো ভাষায় নাকি মানুষ সারা জীবন ধরে যা কিছু বলে তার সবটাই একটা, মাত্র একটাই বাক্য - তার প্রথম অস্ফুট ডাক থেকে শেষ পারানির কড়ি - মাঝের সমস্ত যতিচিহ্ন অজস্র সেমিকোলন। একটি মানুষ, সেই তত্ত্ব অনুসারে, আসলে একটিই বাক্য - হয়তো একটি দীর্ঘ কবিতা, যা সে সারা জীবন ধরে রচনা করে চলেছে নিজের অজ্ঞাতসারে। আমি তত্ত্ব বুঝি না, আমি বুঝি সায়নদার কবিতা আমার কাছে কী? এই কবিতাগুলি সূচিভেদ্য অন্ধকার জঙ্গলের মাঝে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ কানে আসা বহুদূরের কোনো এক ক্ষীণতনু মুখচোরা নদীটির স্বর। আমি এই অন্ধকার বন হাতড়ে হাতড়ে, ক্ষত ও ক্ষয় নিয়ে শুধুই পৌঁছতে চেষ্টা করছি সেই নদীটির দিকে। যতোই যাই ততো অন্ধকার ঘন হয়, তবু মনে হয় এইসব শীতের নীরবতা ঠেলে একদিন সেই একলা তীরে দু-দণ্ড বসতে পারলে বড্ড শান্তি পাই আমি। সায়নদার, হ্যাঁ, এই কবিতাগুলি সায়নদার। সায়ন কর ভৌমিকের। বইয়ের নাম আপাতত "রাধিকা ও আর্শোলা"। বইটি বেরুবে বইমেলায়। গুরুচণ্ডা৯-র তরফে। ... ...

হীরেন সিংহরায়ের নতুন বই। গুরুচণ্ডা৯ থেকে বেরোচ্ছে। সামনেই, অর্থাৎ অদূর ভবিষ্যতে। বাংলা সাহিত্যে, সাহিত্যেই কি শুধু, বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বৈঠকী আড্ডা। যদিও তার সে তেজ আর নাই, মুজতবা লিখেছেন, “ফের বহু সিন্ধু পেরিয়ে দেশে এসে দেখি, সেই আড্ডার বিন্দুটি খরতাপে বাম্পপ্রায়।“ আড্ডার ঠেক পালটে পালটে গেছে, পাড়ার রক আর ‘পস্তলা-দস্তলার’ চাতাল থেকে সে চলে গেছে সাঙ্গুভ্যালি চায়ের কেবিন, কল্লোলের আড্ডা থেকে কফি-হাউসের টেবিল, সেই কফির কাপের তুফান হয়তো ঘুরতে ঘুরতে, বইতে বইতে পৌঁছে গেছে দেশে দেশান্তরে। সেই নতুন দেশে পৌঁছেও বাঙালি ঠিক খুঁজে নিয়েছে তার বেরাদরদের। ঠেকে ঠেকে জমে উঠেছে নিতুই নব আড্ডা। আর বাঙালি দেখে না শিখুক, আড্ডার ঠেকে নিয্যস শিখেছে গালগল্পের মাঝে হাইজাম্প ও লংজাম্পের কায়েদা। ... ...

গোড়ার দিকে লেখা এই গল্পগুলিতে লেখকের পরবর্তী বিবর্তনের সমস্ত পূর্বাভাষই চোখে পড়ে। মানুষের শাশ্বত জীবনজিজ্ঞাসা থেকে শুরু করে প্রেম, শোক, অনটন, শিল্পানুরাগ, মৃত্যুচেতনা, হারানো যৌবনের হাহাকার -এরকম নানান সংকট নিয়ে এই গল্পসংকলন। কথকের মতো যেন লেখক গল্প বলেন। বাঁকে বাঁকে রহস্যের হাতছানি। সঙ্গে জীবনের বেদনা ও আনন্দ, শিল্পের মায়া ও সৌন্দর্য। জোনাকির আলোর মতো চমকিত চিত্রকল্প। ... ...

এসে গেল গুরুচণ্ডা৯-র নতুন উদ্যোগ 'এ মাসের বই'। প্রতি মাসে নির্বাচিত কিছু বইকে তুলে আনা হবে পাঠকের দরবারে,থাকবে সেইসব বইয়ের উপর বিশেষ ছাড়। সঙ্গে চলুক বইগুলো নিয়ে আড্ডা-তর্ক-গল্প-আলোচনা। ... ...

আমাদের কৈশোর-যৌবনে, দশমীর পরে, পাড়ায় বন্ধুদের ও পরিচিতদের বাড়িতে বাড়িতে বিজয়া করতে যাওয়া প্রাইম অ্যাট্রাকশন ছিল জলখাবার, বিশেষতঃ মিষ্টি। কাজেই মনে হতে পারে সেই ট্র্যাডিশন আজও চলিতেছে। কিন্তু তা বোধহয় নয়। অন্ততঃ মহেন্দ্রনাথ দত্ত পড়লে তাই মনে হয়। "বিজয়ার দিন পাড়ার বুড়ো ব্রাহ্মণদের কিঞ্চিৎ প্রণামী দিয়া প্রণাম করিতে হইত। বিজয়ার দিন নারিকেলছাবা দেওয়া হইত। বিজয়ার কোলাকুলিতে সন্দেশ বা অন্য কোন খাবার চলিত না।" নো মাংসর ঘুগনি, নো রসগোল্লা। বোধহয় নারকোল নাড়ু নারিকেলছাবা-র জায়গা নিয়েছে। নারিকেলছাবা জিনিসটা কী, কে জানে! ... ...

কুরেশির বিশ্লেষণে যেমন আছে তথ্যের সমাহার তেমনই আছে যুক্তির জোর। বস্তুত, বইটাতে তিনি যা লিখেছেন তার অনেক কিছুই জানা। অবশ্য, সবার নয়, যাঁরা জানতে চান তাঁদের – অনেকেতো জানতে চানই না। এ বই, বিশেষত শেষের দিকে, “জনসংখ্যার রাজনীতি” বিষয়ক অষ্টম অধ্যায়টা পাঠকের মনকে বিশেষভাবে বিচলিত করবে। এই অধ্যায়ে কুরেশি হিন্দুত্ববাদের প্রবক্তাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচারিত জনসংখ্যা বিষয়ক গালগল্পগুলোকে ভেদ করে প্রকৃত সত্যকে তুলে ধরেছেন। আশা করা যায় যে, এখানে উপস্থাপিত তথ্য ও সেগুলোর ব্যাখ্যা ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক বিভাজন রোধ করার কাজে লাগবে। ... ...

`রাত আড়াইটের সময় ট্রেন জলগাঁও পৌঁছাল। জলগাঁও থেকে ফর্দাপুর পঞ্চাশ মাইল। অজন্তা সেই সময় জঙ্গলাকীর্ণ। মুকুলকে চার মাইল দূরে ফর্দাপুরে থাকতে হবে। ১৯৬৫ সালে যখন নারায়ণ সান্যাল অজন্তা আসছেন তখন এই রাস্তায় বাস চলে। ১৯১৭-তে বলা বাহুল্য কোনো বাস নেই। বাইশ বছরের মুকুল অজন্তা দেখার উত্তেজনায় টগবগ করে ফুটছেন। তিনি এক মুহূর্তও নষ্ট করবেন না। রাত আড়াইটেতেই তাঁর টাঙা চাই। সে অবশ্য পাওয়া গেল না। ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হল। টাঙাওয়ালা ভাড়া নিল ছাব্বিশ টাকা। হাওড়া থেকে জলগাঁও ট্রেন ভাড়ার প্রায় দ্বিগুণ। টাঙা থেকে দেখা পশ্চিম ভারতের গ্রামের চমৎকার বিবরণ মুকুলের বইতে আছে। নেরি নামের এক গ্রামের কথা আছে যেখানে মাত্র কিছুদিন আগেই প্লেগ হওয়ায় গ্রামের সবাই বাড়ি ফেলে পালিয়েছে। সাজানো-গোছানো লালিত্যময় সে গ্রাম। দরজায় নকশা আঁকা। খাঁ খাঁ করছে। ... ...

একটা নতুন বই। এমন মারাত্মক, আশ্চর্য, আর গোপন - যে কেউ সেই বই পড়ছে তার জীবনটাই বদলে যাচ্ছে চিরকালের মত। প্রথম পাতাটা খুলতেই আলোর ঝলকানিতে চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে, সেই বই তার পাঠককে এক নতুন জগতে নিয়ে যাচ্ছে, মনে হচ্ছে যারা এই বইটা পড়ে নি, তারা কী হতভাগ্য, তারা কী বোকা! ওসমান নিজে এই বইটা পড়েছে, সে এখনও ইস্তাম্বুলে কলেজের ছাত্র, মনে মনে জানানকে পছন্দ করে, জানান এই বইটা পড়েছে, জানানের প্রেমিক এই বইটা পড়েছে। জীবন আর ভালোবাসার বিষয়ে যা যা জানা সম্ভব, আর ভবিষ্যতে যা যা জানা যাবে, সব ওতে লেখা আছে। ... ...