এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • রাষ্ট্রবাদ ও কাশ্মীর 

    Sandipan Majumder লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ৭৪ বার পঠিত
  • এই রাষ্ট্রবাদী শব্দটায় কোনো বাঙালিত্ব নেই, এটা হিন্দী বলয় থেকে এখানে আমদানি করা হয়েছে। হিন্দী রাষ্ট্রবাদী শব্দটার ইংরেজি ন্যাশনালিজম যার একটা চমৎকার বাংলা প্রতিশব্দ বহুদিন ধরেই এখানে চালু আছে – জাতীয়তাবাদ। তাছাড়া জাতীয়তাবাদ বললে যেমন জাতি( Nation )কে ভালোবাসা বোঝায় রাষ্ট্বাদ বললে কি রাষ্ট্রকে( state) ভালোবাসা বোঝানো হবে ? কিন্তু রাষ্ট্র তো কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়। রাষ্ট্রকে চালনা করে যখন যে শাসক থাকে সেই দলের নীতি। তাহলে কংগ্রেস পরিচালিত রাষ্ট্রের নীতিকে যেমন অধিকাংশ সময়ে বিজেপি সহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলো বিরোধিতা করে এসেছে তেমনি করেই বিজেপি পরিচালিত রাষ্ট্রের নীতিকে অধিকাংশ সমেত কংগ্রেস সহ অন্য বিরোধী দলগুলো বিরোধিতা করবে এটাই স্বাভাবিক। সেটাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা বলে চালিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত এই রাষ্ট্রবাদী শব্দের প্রচলনের মধ্যে থাকতেই পারে।কোনো কলকাতাবাসী বাঙালি যদি ‘আমি কলকাতায় থাকি’ না বলে বলেন ‘ আমি কলকাত্তায় থাকি’ তাহলে যেরকম হাস্যকর শোনাবে এটা সেরকমই হাস্যকর। অধিকন্তু কুটিল।

    কাশ্মীর প্রসঙ্গে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে বহু ভুল শাসকদল বিভিন্ন সময়ে করেছে। তাই বলে কাশ্মীর সমস্যার জন্য নেহেরু সরকারের সময়ে চালু ৩৭০ ধারা দায়ী বলা নেহাতই সরলীকরণ। ঐ সময় বিভিন্ন দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করাটা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যথায় ভারতের খণ্ডীভবন ( Balkanaisation ) ঘটে যেতে পারত। এই সময় সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল একা নয়, নেহেরুর দৃঢ পদক্ষেপের ফলেই অনেকগুলি রাজ্য তাদের প্রাথমিক বিরোধিতা সত্ত্বেও ভারতরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হয়। সেইসময় কাশ্মীরকে ভারতভুক্তির চুক্তির ( instrument of Accession ) হিসেবে বিশেষ মর্যাদাদান ভারতের কূটনৈতিক কৌশলের অন্তর্ভুক্ত ছিল। মনে রাখতে হবে যে ভারতের একমাত্র রাজ্য যেখানে মুসলমানরা সংখ্যাগুরু সেটা ছিল জম্মু ও কাশ্মীর। এছাড়াও দেশভাগে কোন রাজ্য কোন দেশে অন্তর্ভুক্ত হবে সেই বিচারে ‘সন্নিহিত অঞ্চল হওয়া’ (Contiguity) একটা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য ছিল। উপরন্তু যতই ‘ এক দেশ,এক আইন’ ইত্যাদি শ্লোগান তুলে জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাদানের বিরোধিতা করা হোক না কেন বাস্তবে ভারতের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষত উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে ৩৭১ ধারায় বিশেষ মর্যাদা দানের ব্যবস্থা এখনও চালু আছে বিভিন্ন কারণে।

    তাই বলে কাশ্মীরে কি কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকার কোনো ভুল করে নি ? প্রচুর ভুল করেছে। আমি একটা উদাহরণ হিসেবে ১৯৮৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের কথা বলতে চাই।গত শতাব্দীর ছয় ও সাতের দশকেও কাশ্মীরে পাকিস্তানপন্থী অথবা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর তরফে কিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু ১৯৮৯ সালের পর থেকে যা ঘটেছে তার তুলনায় এগুলো কিছুই নয়। ১৯৮৭র নির্বাচনে একদিকে কংগ্রেস এবং ফারুক আবদুল্লার ন্যাশনাল কনফারেন্সের জোট হয়। বিপরীত দিকে আবদুল গণি লোনের পিপলস কনফারেন্স বাদ দিয়ে প্রায় সমস্ত বিরোধী শক্তি একজোট হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মুসলিম ইউনাইটেড ফ্রন্ট ( MUF) নামে। প্রচণ্ড আগ্রহ উদ্দীপনা নিয়ে এই নির্বাচনে অংশ নেয় দলগুলি। কিন্তু স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের বদলে এই নির্বাচনে অবাধে কারচুপি করা হয় দিল্লী এবং শ্রীনগরের প্রশাসনের মদতে। কারচুপির মাত্রা এমন জায়গায় যায় যে এমনকি হেরে যাওয়া প্রার্থীকেও জিতিয়ে দেওয়া হয়। পুলওয়ামার একটি কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনের সচিব জয়ী মুসলিম ইউনাইটেড ফ্রন্টের প্রার্থীকে পরাজিত ঘোষণা করেন। এই তথ্য জানিয়েছিলেন লেখক, কবি, আমলা এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক জি এন গৌহার। গৌহার আমিরা কদাল এবং হাব্বা কদাল নামে আরও দুটি কেন্দ্রেও একই রকমভাবে MUF এর প্রার্থীদের হারিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

    একথা ঠিক যে মুসলিম ইউনাইটেড ফ্রন্টে জামাত ই ইসলামির মত শক্তিও ছিল যারা ছিল ভারতবিদ্বেষী। কিন্তু নির্বাচনী ব্যবস্থার মাধ্যমে, শাসনক্ষমতার অংশভাক করে বহু রাজ্যেই চরম ভারতবিরোধী শক্তিকেও নিউট্রালাইজ করা গেছে অতীতে।আসাম এবং উত্তর পূর্ব ভারতেই তা ঘটেছে। কিন্তু তাদের জোর করে হারিয়ে দিয়ে এমন একটা অবস্থা তৈরি করা হল যে কাশ্মীরের মানুষের নির্বাচনী অধিকারের আর কোনো মানে থাকলো না। লক্ষ্যণীয় ১৯৮৯ সাল থেকেই কাশ্মীরে সশস্ত্র সন্ত্রাসবাদের তান্ডব শুরু হয়। শ্রীনগরের লাল চক থেকে দাঁড়িয়েছিলেন MUF এর তরফে মহম্মদ ইউসুফ শাহ। ফারুক আবদুল্লা সরকারের শক্তিশালী মন্ত্রী গুলাম মহম্মদ শাহকে তিনি শোচনীয়ভাবে হারিয়েছিলেন। কিন্তু জেলাশাসক প্রথমে নির্বাচনের ফলঘোষণা স্থগিত রাখেন এবং তারপর ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রার্থীকে জয়ী বলে ঘোষণা করে দেন। ইউসুফ শাহ এবং তাঁর সঙ্গীরা প্রতিবাদ করলে তাদের লালচকের রাস্তা দিয়ে প্রকাশ্যে টানতে টানতে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই ইউসুফ শাহই পরবর্তীকালে কুখ্যাত হিজবুল মুজাহিদীনে যোগ দিয়ে কমাণ্ডার সৈয়দ সালাহউদ্দীন নামে পরিচিত হন। সৈয়দ আলী শাহ গিলানী,ইয়াসিন মালিক, জাভেদ মীরের মত যাঁরা পরবর্তীকালে উপত্যকায় বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন তারা সবাই তখন MUF এর হয়ে নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় ছিলেন। জিতলে পরে সৈয়দ আলী শাহ গিলানীর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কথা ছিল।

    ২০১৯ সালের ৫ই আগস্ট বিজেপি সরকার ৩৭০ ধারা তুলে নিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করে। এতে কতটা লাভ হয়েছে সেটা এখনও তর্কাতীতভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। তবে এই সিদ্ধান্ত এতদিনে একটা রাজনৈতিক চূড়ান্ততা্র ( finality ) দিকে চলে গেছে। যদিও মানবাধিকার লংঘন, সংবাদপ্ত্রের স্বাধীনতা প্রভৃতি প্রশ্নে বিতর্ক আছে। সেটা একদিকে যেমন অ্যামনেস্টি ইনটারন্যাশনালের প্রতিবেদনে প্রকাশিত রিপোর্টে আছে তেমনই উপত্যকার বিশিষ্ট সাংবাদিক অনুরাধা ভাসিনের বইতেও আছে। তবে ইতিমধ্যে পরিকাঠামো ইত্যাদিতে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এতে ট্যুরিজমের উন্নতিতে সহায়তা হবে। কিন্তু ট্যুরিজম কাশ্মীরে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটাই সব নয়। কাশ্মীরের অর্থনীতিতে ট্যুরিজমের অবদান ৭-৮ শতাংশ এবং পাঁচ লক্ষ মানুষ এর সঙ্গে জড়িত। কিন্তু ব্যবসা, শিল্প এবং সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রভৃতি ক্ষেত্রেও প্রচুর কাজ করার আছে।

    ২০২৪ সালে কাশ্মীরে যে নির্বাচন হয় বহুদিন বাদে তা কিন্তু অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছে। মানুষের অংশগ্রহণও ভালোই ছিল। এই বাবদে কেন্দ্রীয় সরকার কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন। কিন্তু এই সুফল অনেকটাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে প্রতিশ্রুত রাজ্যের স্বীকৃতি জম্মু কাশ্মীরকে এখনও ফিরিয়ে না দেওয়ায়। ওমর আবদুল্লার সরকার এবং লেফটেন্যান্ট গভর্নর—উভয়েরই ক্ষমতা সীমিত। তাছাড়া এটা জনগণের মানমর্যাদার প্রশ্ন। যত তাড়াতাড়ি তা ফিরিয়ে দেওয়া যায় ততই কাশ্মীরকে ভারতের মূল স্রোতের সঙ্গে বেঁধে রাখার কাজ ত্বরান্বিত হবে।

    (১) ১৯৮৭ র নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্যর জন্য The Silent Coup: A History of India’s Deep State by Josy Joseph
    (২) Amnesty.org
    (৩) A Dismantled State : The Untold Story of Kashmir after Article 370 by Anuradha Bhasin

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন