এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  কাব্য   তর্জমা

  • দুষ্যন্ত কুমারের তিনটি গজল 

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    কাব্য | তর্জমা | ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ৫০ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • [তাক থেকে পুরনো বই নামাতে গিয়ে হাতে এল একটি চটি বই—দুষ্যন্ত কুমারের ৬৪টি গজল সংকলন। নাম ‘সায়ে মেঁ ধূপ’ বা ছায়ার মধ্যে রোদ্দুরের আনাগোনা। পাতা উল্টোতে গিয়ে দেখি ১৯৮৫তে প্রকাশিত হলদে হয়ে যাওয়া বইটি কেউ আমাকে দিয়েছিল।
     
    তাতে সেই সময়ের খবরের কাগজের ছেঁড়া মলাটে খবরঃ ইরাক -ইরান যুদ্ধ বিরামের জন্যে ওয়াশিংটন মস্কোর দৌত্য। ভারতে আসন্ন বাজেট সেশনের আগে অনেক রাজনীতিবিদ চন্দ্রশেখরের ভবিষ্যত জানতে জ্যোতিষীর শরণাপন্ন হচ্ছেন। কী বলব? দেজাঁ ভু? কিছুই কি বদলায় নি?

    জানি, কবিতার অনুবাদ অসম্ভব। সংস্কৃতি বাগধারার ভিন্নতা অনেক সময় যে শব্দপ্রতিমা নির্মাণ করে তাতে অনেক সময় মূল কবিতার আত্মা মরে যায়। তবু একটু চেষ্টা করছি দুটো কারণে।

    এক, অকালপ্রয়াত ভোপালের এই কবি দুষ্যন্ত কুমার ত্যাগী চেষ্টা করেছিলেন হিন্দুস্থানীতে গজল লিখতে। অর্থাৎ উর্দু শব্দ থাকবে কিন্তু আমরা দৈনন্দিন যেভাবে ব্যবহার করি সেই ধরণে। যেমন আসমাঁ নয়, আসমান। আর টিপিক্যাল উর্দু শব্দবন্ধ, যেমন নিজাম উল মুলুক, মিরাজ উদ দীন—এসব থাকবে না।

    দুই,
    আমার চোখে গজল হল কোলাজের মত। দুটো দুটো করে লাইন যেন স্বতন্ত্র ছবি, স্বতন্ত্র বক্তব্য। কিন্তু সব মিল মিশে একটা বড় ক্যানভাস। তবে প্রত্যেক দ্বিপদীর শেষ শব্দটি একই হতে হবে—যেন ধ্রুবপদের মত।

    উনি চাঁদ তারা প্রেম সাকী সুরা থেকে সরে এসে বেঁচে থাকার কঠিন ছবি গজলে ধরতে চাইছিলেন। ওনার কিছু লাইন এখন প্রবাদ হয়ে গেছে। বাম-ডান সবাই জায়গামত লাগিয়ে দেয়।

    যেমন, কেইসে আকাশ মেঁ সুরাখ নহীঁ হো সকতা?
    এক পত্থর তো তবিয়ত সে উছালো ইয়ারো।]


    ছায়ার মধ্যে রোদ্দুরের আনাগোনা
    মূল হিন্দিঃ দুষ্যন্ত কুমার



    কোথাও শুনেছি তুমি ঘরে ঘরে আলো জ্বেলে দেবে কথা দিয়েছ,
    কোথায় শহরে শুনি হাহাকার একটু আলোর জন্যে।

    এখানে গাছের ছায়ায় বসেও বিঁধছে রোদের তির,
    চলো ছেড়ে যাই এই জায়গাটা বাকি জীবনের জন্যে।

    আদুল গা, তাই হাঁটু ভাঁজ করে ঢেকে নেব পেট—বুঝেছ?
    এরাই যাত্রী? পাড়ি দেবে নাকি ? চেয়ে আছি তার জন্যে।

    খোদা না থাকুন, মানুষ তো তবু আজও স্বপ্ন দেখে,
    আমরা যে দেখি তাই তো প্রকৃতি সেজে ওঠে কারও জন্যে।

    পাথর কখনও গলবে না জেনে শান্ত ছিলাম বন্ধু!
    আজ অশান্ত, কে কে আহ্বানে সাড়া দেবে তার জন্যে।

    আজ তোর দিন, সেলাই করে দে কবির জিভ ও ঠোঁট,
    সাগরের ঢেউ আসছে-- একটু সাবধান তার জন্যে।

    কাটিয়েছি দিন আমার বাগানে কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায়,
    মরে পড়ে আছি অচেনা গলিতে, কৃষ্ণচূড়ারই জন্যে।




    ব্যথার পাহাড় জমে জমে আজ পর্বত হল,
    গলতে থাকুক, হিমালয় থেকে গঙ্গা নামুক।

    আজকে পাঁচিল দুলছে হাওয়ায় পর্দার মত,
    এবার তাহলে প্রাসাদের ভিত নড়তে থাকুক।

    গ্রামনগরের যত মাঠঘাট এঁদো গলি থেকে,
    মুঠো হাত তুলে সারি সারি শব এগিয়ে আসুক।

    খামোকা ঝামেলা পাকাতে আমার উৎসাহ নেই,
    চারপাশে সব চেহারার থেকে মুখোশ ছিঁড়ুক।

    আমার বুকের আগুন নিভেছে, তবে তোর বুকে?
    নিয়ে এস খুঁজে যেখানেই পাও, জ্বলতে থাকুক।

    ৪৯

    কড়িকাঠ এনে চোখের পাতায় বিছিয়ে দাও গো বন্ধু,
    নইলে তেমন কায়দাটি খোঁজো- যাতে কাজ হয় বন্ধু।

    ক্লিষ্ট হৃদয় সময়ের কাছে খবর পৌঁছে দেবে?
    তাই কবুতর অনেক যতনে করে লালন কর গো বন্ধু।

    দেখছি সবাই ব্যাধের খাঁচাটি রেখেছে নিজের হাতে
    জলসাতে আজ শিকারীকে কর নেমন্তন্ন, বন্ধু।

    সেলাই টেলাই টেনে খোল ভাই- একটু দেখতে দাও,
    সিন্দুক থেকে সেই চিঠি আজ বের করে আনো বন্ধু।

    আকাশের গায়ে ফুটো হয় না তো! এসব কে বলে বন্ধু?
    চল, সবে মিলে একটা পাথর প্রাণপণে ছুঁড়ি, বন্ধু।

    লোকে ডেকে বলে—এটা কী বললে? এটা বলা মানা, জানো?
    বলেছ যখন, এইবার তার ঠ্যালা বুঝে দেখ, বন্ধু।।

     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Srimallar | ০৪ আগস্ট ২০২৬ ২৩:১১748158
  • “খামোকা ঝামেলা পাকাতে আমার উৎসাহ নেই,
    চারপাশে সব চেহারার থেকে মুখোশ ছিঁড়ুক।”
     
    সাংঘাতিক লাইন!!!
    আসুক এমন কাজ আরও....
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন