এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ভোটঘোষণার পর

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৬ মার্চ ২০২৬ | ৭১ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • কোনো সন্দেহ নেই, এটা গণতন্ত্রের প্রহসন হচ্ছে। ভোটের ঠিক আগে রাজ্যপাল বদল হয়েছে। এসআইআর চলাকালীনই কার্যত দখল করে ফেলার চেষ্টা হয়েছে রাজ্যকে। কেন্দ্রীয় বাহিনী বোঝাই করে ফেলা হয়েছে। এবার ভোট ঘোষণার ঠিক পরেই মধ্যরাতে বদলে দেওয়া হল রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে। ভারতবর্ষে প্রথমবার। এর  ঠিক আগে, প্রধানমন্ত্রী দলীয় সভায় এসেছেন না সরকারি, বোঝা যায়নি, সেই ব্যবধানটুকুও  মুছে ফেলা হয়েছে। এবং তাঁর জনসভার দিন গোলমালে কেন কেন্দ্রীয় বাহিনী নামেনি, এই নিয়ে কমিশন জবাবদিহি চেয়েছে। ফলে রাজ্যপাল, সচিব এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী, এই ত্র‌্যহস্পর্শে নির্বাচন হবে বোঝাই যাচ্ছে। এর চেয়ে সোজা করে বললেই হত, রাজ্য সরকার ব্যপারটাই আর রাখার দরকার নেই, ফালতু ঝামেলা। মাথার উপর চন্দ্র-সূর্য আছে, দিল্লিতে উনিজি, বঙ্গে সুবাদার রাজ্যপাল, ঢাকের বাঁয়া নির্যাতন কমিশন, আর দিল্লির কেন্দ্রীয় বাহিনী। ওই দিয়েই চলে যাবে।    

    শুধু সরকার না, পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরও বিশেষ দরকার নেই। কারণ ১ কোটি ২০ লক্ষ তো এমনিই ঝুলে। অর্ধেক বাদ, অর্ধেক লাইন দিয়েও 'বিচারাধীন', তার মধ্যেই নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গেল। এতদিন পর্যন্ত নির্বাচকরা শাসক নির্বাচন করতেন, পৃথিবীর ইতিহাসে বোধহয় এই প্রথম সরকারের ঢাকের-বাঁয়ারা ঠিক করে দিচ্ছে কারা তাদের নির্বাচন করবে। এটা যে কী হচ্ছে, সে ভাষায় প্রকাশ করা মুশকিল।কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে আপাতত ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ভোটার। ২০২৪ এ ছিল ৭ কোটি ৬০ লক্ষ। ২০২১ এ ছিল ৭ কোটি। ২০১৬তে ছিল ৬ কোটি ৫৫ লক্ষ। অর্থাৎ, গত ১০ বছরে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার সংখ্যা কমে গেছে। 

    ২০১৬কে আদৌ টপকানো যাবে কিনা, সেটা নির্ভর করছে আরেক কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা, আদালতের হাতে। সে  হিসেবও অতি চমৎকার। এখনও পর্যন্ত ১০ লক্ষ বিচারাধীনের নাকি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। কী হয়েছে কেউ জানেনা। বাকি অন্তত ৫০ লক্ষ। বিচারবিভাগীয় আধিকারিক মোটামুটি ৭০০ জন। প্রত্যেকের ঘাড়ে তাহলে রইল ৭ হাজার কেস। হাতে সময় ২১ দিন। ছুটিছাটা সব বাদ দিয়ে দিলেও দিনে ৩৩৩ টা কেস। গড়ে ৮ ঘন্টা কাজ হবে ধরলে ঘন্টায় ৪১টা। এক-একটি কেসের জন্য দেড় মিনিট করে বরাদ্দ। সহজ অঙ্কের হিসেব। এতে করে কী 'বিবেচনা' হবে, তাও অর্ধেক অবাঙালি লোক নিয়ে, সে নিজেরাই ভাবুন। এরপরে আছে অ্যাপিল, ট্রাইবুনাল, মান্যবর উকিলদের সেবার জন্য পয়সা খরচ। সে কবে হবে কেউ জানেনা। 

    সব মিলিয়ে যা দাঁড়াল, রাজ্যের নির্বাচক দরকার নেই, সরকার দরকার নেই। শাসনটা রাজ্যপাল, কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়েই চলে যাবে।  আর শাসিত হিসেবে নির্ঘাত আনা হবে গোবলয়ের অনুগত প্রজাদের। এতে লাভ দুটো। হিন্দুস্তানের আগ্রাসন পাকাপোক্ত হবে। আর সামনেই আসছে ডিলিমিটেশন। পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা কমে গেলে আসন কমবে। গোবলয়ের আধিপত্যের বন্দোবস্তো চিরস্থায়ী হবে।

    রাজাকারদের কথা ছেড়ে দিন, তারা এই বাজারেও কেউ সোজা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন, কেউ ঘুরিয়ে সেটিং এর ঢাক বাজাচ্ছেন। কিন্তু বাদবাকি যারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছেন, ঘুমোবেন না। যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাটাই ধ্বংসের মুখে কিন্তু। তৃণমূল-সিপিএমের চেয়ে অনেক বড় সেটা। এরা কতদূর যেতে পারে, সে নিয়ে কোনো ধারণা থাকলে এই সুনামির মধ্যে কেউ মনের আনন্দে নিদ্রা দিতে পারেনা।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Debanjan Banerjee | ১৬ মার্চ ২০২৬ ১০:০৮739212
  • ভীষণই প্রাসঙ্গিক লেখা l লেখককে ধণ্যবাদ l
  • Anindya Rakshit | ১৬ মার্চ ২০২৬ ১১:২২739214
  • এরপর, খুব সম্ভব ভোটের প্রয়োজনও ফুরিয়ে যাবে, মোদিনমিক্সের 'ক্রমহ্রাসমান উপযোগিতা তত্ত্ব'  অনুযায়ী। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন