এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • সৌন্দর্য

    Manali Moulik লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ১০৮ বার পঠিত | রেটিং ৪.৫ (২ জন)
  • বৃষ্টি শুরু হয়েছে গতকাল বিকেল থেকে। আজ সকাল সাড়ে দশটায় যদিও ঝিরঝিরে দু-একপশলা ধারাপতন ছাড়া কিছুই নেই, কিন্তু রাস্তাঘাটে কাদা জমে গেছে অনেকটা। উঁচু হিলের জুতো নিয়ে বেশ বিপদে পড়তে হচ্ছিলো তনুজাকে। বাস থেকে নেমে ভবানীপুরের ক্লায়েন্টের ঠিকানাটা হোয়াটস্অ‍্যাপে আরো একবার চোখ বুলিয়ে দেখে নিলো সে। হাই-হিল জুতোর জন‍্য কাদা ছিটকে উঠেছে অফ-হোয়াইট জিন্সের গোড়ার দিকে। ঈষৎ বিরক্ত মুখে মোবাইলের ক‍্যামেরা অন করে চুল আর মুখের কোনো বিকৃতি ঘটেছে কিনা দেখলো সে। না। একইরকম স্নিগ্ধ, লাবণ‍্যময়ী দেখাচ্ছে তাকে। একটু প্রফুল্লচিত্ত হতে না হতেই ফোনটা বেজে উঠলো। অপালাদির ফোন। 
    -- "হ‍্যালো দিদি, হ‍্যাঁ, এই জাষ্ট পৌঁছালাম গো। লোকেশনটা পেয়ে গেছি, হ‍্যাঁ...বলো!"
    ফোনের ওপ্রান্ত থেকে ভেসে এলো স্পষ্ট কন্ঠস্বর 
    "Good! তুমি ফ্ল‍্যাটে পৌঁছে মিসেস বাসুকে বোলো যে বিউটি হোম ডিজাইনারের পক্ষ থেকে আসছো। দেন ফোনটা করে আমাকে দেবে, ওকে?  বাকি সব তো বোঝানোই আছে তোমাকে।"
    -- "হ‍্যাঁ দিদি। আমাদের ক‍্যাটালগ দেখাবো আর ওনার কোনো স্পেশাল পয়েন্ট থাকলে নোট ডাউন করে নেবো, রাইট?"
    তনুজা অসম্ভব দ্রুততায় বলে কথাগুলি। কারণ আকাশ আবার কালো করে আসছে। ভিজে হাপুসুটি হয়ে ওরকম জাঁদরেল ক্লায়েন্টের বাড়িতে যাওয়া যায় না। অপালাদি সম্মতি জানিয়ে ফোনটা রাখতেই একটা অটোকে হাত দেখিয়ে থামায় তনুজা। 'ড্রিম প‍্যালেস অ‍্যাপার্টমেন্ট' বলতেই ঘাড় নেড়ে চালক গাড়ির স্পিড তোলে। সদাব‍্যস্ত শহরটা বৃষ্টি নামলেই কেমন যেন পাগল হয়ে যায়। তার মাথায় জট পাকিয়ে যাওয়া চিন্তার মতো বাস-গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি করে। তনুজার মনে হয়, কলকাতা শহরের এই তীব্র গতিময়তার মূলকাঠামো হলো শুষ্কতা, তৃষ্ণা। জলের ছোঁয়া পেলেই তাই কাজপাগল শহরটার ভিতরের মূর্খ কিশোরী জেগে ওঠে। যান্ত্রিকতা আর আবেগের মত্ত সংঘর্ষে তখন এই যানজটের পাগলামো দেখা দেয়। জলীয় হাওয়া কপাল ছুঁয়ে যাচ্ছে তনুজার। মনে হলো, ভাগ‍্যিস এই ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনে কাজের সূত্রে অপালাদির কোম্পানিতে আসতে পেরেছিলো! যদিও তখন সেটি ছিলো একটা ষ্টার্ট আপ মাত্র। আর আজ 'বিউটি হোম ডিজাইনার'- এর নাম কে না জানে? টি.ভি, কাগজ সবেতে বিজ্ঞাপনের ঝড়। দেখা যাচ্ছে ট‍্যাগলাইন  -- "গৃহ আপনার, সজ্জা আমাদের" অথবা "বাড়ির ভিতরটিকে সাজান নিজের মনের মতো করে" সৌজন‍্যে : বিউটি হোম ডিজাইনার। 
    জেদ ধরে সঞ্চিত টাকায় একটি কোর্স না করলে হয়তো তনুজার পক্ষেও এতো তাড়াতাড়ি উপার্জনক্ষম হয়ে ওঠা সম্ভব হতো না। অটো থেমে গেলো প্রাসাদের মতো অ‍্যাপার্টমেন্টের সামনে। সিকিউরিটিকে নিজের কার্ড দেখিয়ে লিফটে উঠলো তনুজা। যার রুম ডেকোরেশনের তত্ত্বাবধান সে করতে এসেছে, তিনি বিখ‍্যাত ব‍্যবসায়ী অমর বাসুর স্ত্রী। দু হাজার স্কোয়ারফিটের ফ্ল‍্যাটের সামনের দামী শ‍্যু-র‍্যাকটায় অতি সাবধানে নিজের প্রায় কাদামাখা নিউকাট খুলে রাখলো তনুজা। কলিং বেলের ডিংডং শব্দের সঙ্গে সঙ্গে একজন পরিচারিকা দরজা খুলতেই ঠান্ডা হাওয়া আর মিষ্টি গন্ধ এসে ঝাপটা মারলো তনুজার নাকে। সামনের দেওয়াল জোড়া গ্রীক-পরীর তৈলচিত্র। পাশে ছোটো ছোটো গথিক চিত্রশৈলীর রাজকুমারী, ফুলের মতো ফুটফুটে নগ্ন দেবদূত।  বেগুনী রঙের সোফাগুলি আভিজাত‍্যের চিহ্ন বহন করছে। যতোদূর বোঝা যায়, ফ্ল‍্যাটটি নতুন। তাই সামান‍্য আসবাবপত্র ছাড়া আর বিশেষ কিছুই আনা হয়নি এখনো। কিছুক্ষণের মধ‍্যেই মিসেস বাসু এসে দাঁড়ালেন। এই ভরসকালেও পরিপাটি মেকআপ, গোছানো সাজসজ্জা। নাকে হীরের নাকছাবি জ্বলজ্বল করছে। সোফায় বসলেন উনি, যেন একতাল ময়দা রাখা হলো। তনুজাকে নমস্কারের সুযোগটাও না দিয়ে বললেন,
    "অপালা আমাকে ফোন করেছিলো। সো ইউ আর মিস তনুজা দত্ত?"
    --- "ইয়েস ম‍্যাম। " মিষ্টি হেসে তনুজা বলে চলে, "আমাদের মোষ্ট রিসেন্ট অ‍্যান্ড গর্জাস হোম ডেকোরেশনের ক‍্যাটালগ দেখাই তাহলে?" 
    মাথা নেড়ে সম্মতি দিলেন মিসেস বাসু। সোফায় বসতে বললেন তনুজাকে। কয়েক ইঞ্চি ডুবে গেলো সে বসার সঙ্গে সঙ্গে। পুরোনো ল‍্যাপটপ বুটিং করে ষ্টার্ট নিতে সময় লাগছে। হবে না কেন? কম সে কম সাতবছর হয়ে গেলো এটার। অপ্রস্তুত ভাবটা কাটাতে আবার স‍্যাকারিন মাখানো হাসি টেনে আনে তনুজা। 
    - "ওয়েল ম‍্যাম, এই অবসরে যদি আপনার কোনো নিজস্ব প্রেফারেন্স জানতে পারি তো খুব ভালো হয়। আমাদের ইন্টেরিয়র লুকের সঙ্গে সেগুলো অ‍্যাডজাষ্ট করার চেষ্টা করবো আমরা। "
    একটু নড়েচড়ে বসেন মিসেস বাসু। 
    "হোয়াই নট? পপি, ওনাকে চা আর স্ন‍্যাকস্ দাও।" 
    সেই পরিচারিকাটি ভিতরে চলে গেলো। বোধহয় রান্নাঘরের দিকে। মনে মনে হাসে তনুজা। এই কয়েকবছরে কতো কী যে শিখেছে সে। অপালাদি বারবার বলে, 
    "লিসেন তনুজা, নিজে বেশী কথা বলবে না। ক্লায়েন্টকে বকবক করার সুযোগ দিলে একটা গুড ইম্প্রেশন তৈরী হয়। যেমন ধরো, কেউ বলছেন দেয়ালের পেন্টিং যখন নীল তখন ওই দেয়ালের সামনে অ‍্যাকোয়ারিয়াম রাখতে চান।  তুমি চুপচাপ নোট করবে। এখন এই নীল-জল এইসব আবেগ বোঝাতে গিয়ে তিনি পাবলো নেরুদার দুটো লাইন ঝাড়লেন, 
    মাথা নেড়ে অ‍্যাপ্রিসিয়েট করবে।" 
     
    - "কেন দিদি?"
     
    --"কেন আবার? ওনার ডেকোরেশন নিয়ে রিকোয়ারমেন্ট ফুলফিল হলো, আবার জ্ঞান ঝাড়ার সুযোগ দেওয়া হলো। ফলে বিউটি হোম ডিজাইনারের একটা....ভালো নজরে আসার সুযোগ হবে। ইট ইস কলড্ বিজনেস স্ট্র‍্যাটজি, ডিয়ার।"
    আরো কতো কী! যেমন বয়স্ক দম্পতিরা পছন্দ করেন ছিমছাম গৃহসজ্জা। অধ‍্যাপক, গবেষক, ডাক্তার, উকিলদের গৃহসজ্জার তালিকায় আছে গ্রে, বেইজ, অফ হোয়াইট, স্কাই-ব্লু, সিয়ান ইত‍্যাদি রঙ। একটু ইতিহাস-ঘেঁষা ঝোঁক যাদের আছে তাদের রাষ্ট কালার, ব্রোঞ্জ আউটফিটের মূর্তি, ফটোফ্রেমে জমকালো প‍্যাটার্ন দিতে হয়। আর একদল ক‍্যালকেটিশিয়ান আছে 'ফোক-বিলাসী'। জীবনে ছবিতেও আদিবাসী-মুন্ডা-নাগা-সাঁওতাল দেখেনি, কিন্তু দেখানোর ক্ষমতা আছে তাই দেখাতে হবে। পুরুলিয়ার ছৌ নাচের মুখোশ, তির-ধনুক হাতে গ্রামবাসীর মডেল (উৎপল দত্তের 'তির' নয় তা বলে!) বর্শা কাঁধে কালোরঙের পুরুষমূর্তি, নৃত‍্যের ভঙ্গিতে আদিম নারীর মূর্তি এগুলি তাদের পছন্দ। অপালাদি বলে,  -- "তনু বলোতো, মানুষ ঘরে ফেরে কেন? কারণ সেটা তার একটুকরো মননের নীড়। মনের ভাবগুলি যদি ডেকোরেশনের মাধ‍্যমে তাকে চব্বিশ ঘন্টা ঘিরে থাকে তবেই না বিজনেস্ বাড়বে! "
    এতোকিছু না বুঝলেও তনুজা নিজেকে প্রশ্ন করে, সে ঘরে ফেরে কেন?  একটি মেয়ে বাইরে নিরাপদ নয় বলে। এছাড়া কি আর কোনো উত্তর আছে ওর কাছে? বাবা জবুথবু, ভাইয়ের এখন সবে ক্লাস সেভেন আর মায়ের চোখে ওদের দেড়খানা ঘরের মতোই ঘনীভূত অন্ধকার। আজকাল লক্ষ‍্য করেছে, বিরক্তি রোগটা মায়ের এতো বেড়ে গেছে যে তনুজার উপর প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রণের দায়টাও বর্তেছে। চড়া রোদ উঠলে মা বলে, "মাথার ছাতি ফাটাতে উঠেছে রোদ, গরীবের জ্বালা তাতে কার কী?" আবার বৃষ্টি হলে মায়ের চিৎকার,  "মরণের দেবতার কাজ নেই, কেঁদে মরছেন। কোন্ যমে ধরলো?" 
    আজকে ড্রিম প‍্যালেস থেকে নোটস্ নিয়ে বেরিয়ে যখন নিজের বাড়ির অন্ধকার গলিটায় ঢুকলো তনুজা, মনে হলো সৌন্দর্যের অধিকারও কি মাত্র কয়েক শতাংশের হাতে? গলির মুখে নীলাদ্রীদার ফাষ্টফুডের দোকান। সামনের রাস্তায় পড়ে বাতিল চাউমিন, পচা টম‍্যাটো আর ডিমের খোলা। বর্ষার কাদায় তার অবস্থা আরো শোচনীয়। গা গুলিয়ে উঠলো তনুজার। সাদা এলইডি ল‍্যাম্পের আবছা আলোয় দোকানের কাউন্টারে বসে নীলাদ্রীদা হাসলো তাকে দেখে।
    কেমিষ্ট্রির সিলভার মেডেলিষ্ট ছেলেটি একদিন একটা কাটা আলুর বাদামী অংশ দেখিয়ে  তনুজাকে বলেছিলো, "দ‍্যাখ, ফ্রি অক্সিজেন কোথাও না কোথাও বাইন্ড করবেই। "
     
    -- "মানে?"
    -- "আমার মেডেলেও রাষ্ট ধরে গেছে।"
    বাড়ির দরজা খুলেই বিতিকিচ্ছিরি মুখে মা বললো, "মোড়ে ওষুধের দোকানটা খোলা আছে দেখলি? টুবাইয়ের জ্বর বাড়ছে।" 
     
    -- "সেকি? সকালে তো ছিলো না।"
    -- "কাল থেকেই ছিলো। এই বৃষ্টিতে আবার ফুটবল খেলে সেটা বাড়িয়েছেন বাবু! সুখ কি আর আমার কপালে লেখা আছে রে! " নিস্ফল আক্রোশে চেঁচিয়ে ওঠে মা। 
    তনুজা বললো, "সকালে তখন বললে না কেন? এনে দিয়ে যেতাম!"
    -- "অতো মনে রাখতে পারা যায় না। সংসারটা তো আর উড়ে চলছে না এতোদিন।"
    -- "তারমানে আমি এতোক্ষণ উড়তে গিয়েছিলাম?" ঝাঁজ বাড় তনুজার গলাতেও।
    ওর মা কেমন যেন নিভে যান হঠাৎ, --"সেটা তো আর বলিনি। তোর ব‍্যবহার যদি এরকম হয়----"
    আর একটি কথা না বলে ঘরে ঢুকে এলো তনুজা।
    -- "বেরোচ্ছি দাঁড়াও। ব‍্যাগটা নিয়ে নিই। লিষ্ট করা আছে দোকানের?"
    সে একবার তাকিয়ে নিলো নিজের ঘরের চারিদিকে। দেওয়ালে শেষ কবে রঙ হয়েছিলো? দমকা বাতাসে ভ‍্যাপসা স্মৃতির গন্ধ। যন্ত্রণার ইতিহাস ঝুল হয়ে জমে রয়েছে সিলিং ফ‍্যানে। শেষ একবার চোখ বন্ধ করে বর্ষার সোঁদা গন্ধ নেয় তনুজা। তারপর বাজারের ব‍্যাগটা নিয়ে ধীরে ধীরে বেরিয়ে যায়। 
    দুদিন পর বাথরুমে থাকাকালীন অপালাদির ফোন। পোশাক বদলে তাড়াতাড়ি তনুজা ফোন করে আবার। 
    -- "হ‍্যালো দিদি, বলো কী ব‍্যাপার!"
    -- "মাই গড তনুজা! মিসেস বাসুর ডেকোরেশনে উনি একটা ঝর্ণার অয়েলপেন্টিং বলেছিলেন না? যেটা আমরা কাল ওনার ফ্ল‍্যাটে ইনষ্টল করেছি?"
    --"হ‍্যাঁ দিদি। বাট এনিথিং রং উইথ ইট? " ভয় পাওয়া গলায় বলে তনুজা।
    -- "আরে ওনার ছেলে কাল দুবাই থেকে ফিরেছে। তার নাকি এসব ল‍্যান্ডস্কেপ ডেকোরেশন একদম পছন্দ নয়। মিসেস বাসু..কী বলো তো, ছেলের সঙ্গে আলোচনা না করেই অর্ডার করে দিয়েছিলেন। তো আজকে নাকি একটাবার যেতেই হবে ওখানে....বিশাল ফ‍্যামিলি প্রবলেম চলছে জানোতো? আই হোপ, তুমি...."
    -- "নো প্রবলেম দিদি, দেড়-দুঘন্টায় পৌঁছে যাচ্ছি।" 
    তনুজা যত দ্রুত সম্ভব ছোটে ভবানীপুর অভিমুখে। ড্রিম প‍্যালেসের দু-হাজার স্কোয়ার ফিটে ঢুকে স্তম্ভিত হয়। ঝর্ণা নৃত‍্যছন্দে নেমে আসছে বনানীর মধ‍্যে দিয়ে সবুজরঙা পাহাড় থেকে, সেই অয়েলপেন্টিং টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ে আছে! সেন্টার টেবিলে চিনামাটির সৈনিকের মাথা গড়াগড়ি যাচ্ছে, নীলচে দেয়ালে ফুলদানি আছড়ে ভাঙার কালো দাগ। লন্ডভন্ড ড্রয়িংরুমে একটা বেতের মোড়ায় বসে দুহাতে নিজের কপাল টিপে ধরেছিলেন মিসেস বাসু। ওকে দেখে বিধ্বস্তভাবে বললেন,
    -- "হাই তনুজা, আসলে সরি বুঝলে! আমি রোহিতের সঙ্গে কনসাল্ট না করেই আমার মতো করে সাজানোর অর্ডারটা দিয়ে দিয়েছিলাম।  যতোই হোক, ওর বাবা তো এই ফ্ল‍্যাটটা ওর জন‍্যই কিনেছেন -- ও কালই ফিরেছে দুবাই থেকে। ছোটো থেকেই রাফ টেম্পারড্।  ওয়েল, তুমি একটু নতুন পয়েন্টগুলো লিখে নেবে?"
    -- "সিওর ম‍্যাম।"
    যন্ত্রণার বশে অনেক ব‍্যক্তিগত কথা বলে ফেলেছেন মিসেস বাসু।  বেরিয়ে এসে অপালাকে ফোনে ধরলো তনুজা,
    -- "লিখে নিয়েছি, দিদি।"
    -- "গুড। কাল আমাদের লোক যাবে নিউ অর্ডার নিয়ে।"
    একটু ইতস্তত করে তনুজা প্রশ্ন করে, "আচ্ছা অপালাদি, নতুন ডেকোরেশনের জন‍্যই কি একেবারে পেমেন্ট হবে?"
    -- "নো নো। সেটা তো সময়সাপেক্ষ। সমস‍্যাটা ছিলো ওনাদের নিজেদের। তাই আগেরটা পেমেন্ট আজ সকালেই করে দিয়েছেন মিসেস বাসু।হ‍্যাঁ, উনি আত্মগ্লানিতে ভুগছেন, বাট বিজনেস্ তো আয ওভাবে চলে না...."
     
    আজ বাড়ি ফেরার সময় অনেকটা এগিয়ে এসেছে তনুজার। বিকেলের বাজার থেকে একগুচ্ছ রজনীগন্ধা আর গোলাপ কিনলো সে। চিনেমাটির ফুলদানি একটা আর নীলচে প্লাষ্টিকের টেবিলক্লথ। মা ফোনে বলেছে, টুবাইয়ের জ্বর সেরে গেছে। সারা বিকেল ধরে বাড়িটা ঝাড়ামোছা করলো মায়ের সঙ্গে সে।  টেবিলে ফুলগুলো যখন সাজানো হলো, মা অনেকদিন পর আজ হেসে বললো,
    -- "কেমন যেন উৎসব উৎসব লাগছে! বল তনু?"
    দেড়খানা ঘরের নির্মল আলো আর মায়ের হাসিমুখটা দেখে তনুজার কাছে ড্রিম প‍্যালেসের সৌন্দর্য তুচ্ছ মনে হলো একনিমেষে।
     
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Anindya Rakshit | ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:০৭738128
  • ভালো লাগলো। 
  • Manali Moulik | ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:২৯738129
  • ধন‍্যবাদ। ভালোবাসা জানবেন।
  • Anindya Rakshit | ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৫৫738132
  • আপনিও ☺️
  • শ্রীমল্লার বলছি | ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২৩:৫৫738134
  • বড় আন্তরিকতার সঙ্গে লেখা। পরিণত ভাষা। তবে চরিত্রের নামগুলো যাতে সমসাময়িক হ’তে পারে, সেদিকে নজর দিলে ভাল হয়! 
  • Manali Moulik | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:১৫738138
  • আচ্ছা। ধন‍্যবাদ।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন