এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • দীপ্সিতা ধর এবং আরও দেড় কোটি মানুষ 

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৩০ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • সিপিএমের দীপ্সিতা ধর, নির্যাতন কমিশনর নোটিস পেয়েছেন। ওঁর বাবার নাম পীযুষ ধর। ২০০২ এর তালিকায় নাম ঠিক বানানে ছিল। ফর্ম ভর্তিতে কোনো গোলমাল হয়নি। কিন্তু ২০২৫ এ এসে নির্যাতন কমিশন জানিয়েছে, ওঁর বাবার নাম গীযুষ ধর। তাই লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি। এবার ওঁকে প্রমাণ করতে হবে, উনিই বাবার মেয়ে।

    ওঁর নামটাই লিখলাম, কারণ উনি প্রকাশ্যেই পুরোটা বলেছেন। কিন্তু একা তো না, যা শোনা যাচ্ছে, অন্তত দেড় কোটি মানুষের সঙ্গে এরকমই হয়ে চলেছে। অন্য কেউ না, কমিশনই নামে ভুল রাখছে এবং তার ভিত্তিতে ডেকে পাঠাচ্ছে। কমিশন এই তালিকা এআই দিয়ে করছে, গোবলয়ের ট্যাক্সিওয়ালাদের দিয়ে, নাকি বিজেপির পার্টি অফিসের নির্দেশে, আমার জানা নেই। কিন্তু ভুলগুলো কমিশনের নিজের, এবং তার জন্য লোককে দৌড় করাচ্ছে।

    এর পরেও কিন্তু কিছু লোকে একটা স্বপ্নজগতে বাস করছেন। দীপ্সিতা লাইভ করে বলেছেন, আমার কাছে পাসপোর্ট আছে, বার্থ সার্টিফিকেট আছে, আমার নাম কাটা যাবেনা, কিন্তু যাদের নেই তাদের কী হবে? ভুল বলেছেন। যাদের নেই তাদের দুর্যোগ আসন্ন তো বটেই, যাদের আছে, তাদেরও কিন্তু নিশ্চিন্ত হবার কোনো কারণ নেই। দীপ্সিতা নেত্রী, ওঁর সত্যিই হয়তো যাবেনা, কিন্তু বাকিদের জন্য অত সোজা কিছু না। এই ধরুন, আপনি যে ফর্মটা ভর্তি করেছিলেন, সেটাকে আপনি আর চোখে দেখতে পাবেন? পাবেন না। এ তো এসএসসির ওএমআর শিট নয়, যে চাইলেই দেখাবে, নইলে মামলা হবে। কমিশন যদি বলে আপনি ভুল লিখেছিলেন, কী করবেন? কিচ্ছু না। বিএলওরা আপ্রাণ করেছেন, কিন্তু তাঁদের যদি বলে যে আপনারা ভুল টাইপ করেছেন, তাঁরা কী করবেন? তারপর ধরুন শুনানিতে গেলেন, নথিপত্র জমা দিলেন। দিলেন যে, তার কোনো প্রমাণ আছে? কমিশন যদি বলে, আপনি আসেননি, অথবা কোথাও কোনো গোবলয়ের মাইক্রোঅবসার্ভার যদি লিখে দেন, "নট স্যাটিসফায়েড", তো কী করবেন? কিসুই না। 

    এখনও কেউ কেউ ভাবছেন, ধুর একটা আস্ত কমিশন এরকম করতে পারে? ভেবে দেখুন, ঠিক নামকে ভুল করে, তার দায় স্বীকার না করে, কোটি কোটি লোককে ডেকে এনে, হেনস্থা করে, কোনো রসিদ না দিয়ে একটা কার্যক্রম চালানো হবে, এটা কখনও ভেবেছিলেন? সেটা যদি পারে, বাকিটাই বা আটকাবে কেন? বিশেষ করে ওদের হাতে তো অসীম ক্ষমতা। মনে রাখবেন, নির্যাতন কমিশন, জনতার কাছে দায়বদ্ধ না, সুপ্রিম কোর্টের কাছেও দায়বদ্ধ না। তৈরি হয়েছে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের পছন্দের লোকদের দিয়ে। এবং আজীবন কোনো কমিশনারকে কোনো কোর্ট কিচ্ছু করতে পারবেনা, এরকমই আইন। ভারতের রাষ্ট্রপতিরও এইরকম রক্ষাকবচ নেই। 

    এই অসীম ক্ষমতা নিয়ে যদি ওরা এক কোটি লোককে বলে, তুমি ভোটার নও, তো তারা কী করবে? আদালতে গিয়ে লাভ নেই, কমিশন বলবে,  কোর্টের এই ব্যাপারে এক্তিয়ার নেই। একমাত্র ক্ষীণ জায়গা হল, যদি অসাংবিধানিক কিছু করে, তো আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে। তাতে দুটো পয়েন্ট থাকতে পারে। ১। সংবিধানের ৩২৬ ধারা সার্বজনীন ভোটাধিকার দিচ্ছে, কিন্তু কমিশনের নিজের ভুল ভোটারের ঘাড়ে চাপিয়ে সেই সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ২। সার্বজনীন ভোটাধিকার যেহেতু সাংবিধানিক অধিকার, সেটা পেতে গেলে যৎসামান্য কিছু করতে হয় নাগরিককে। কী করতে হয়, পদ্ধতিটা জানাও তার অধিকার। এক্ষেত্রে পদ্ধতিটাই কী, জানা যাচ্ছেনা। সেটা ইচ্ছেমতো বদলাচ্ছে। এতেও সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। 

    এত খ্যাতনামা লোকজন আছেন চারদিকে, তাঁদের এই নিয়ে মামলা করা উচিত। যদিও তাতে লাভ কী হবে জানিনা। কারণ, নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা কার্যত অসীম। আদালতও কী চায় তো বলা যাবেনা। আর সঙ্গে আছে গোদী মিডিয়া। ফলে লোকজনকে প্রতিবাদ করতেই হবে। তীব্র জনমতের বিরুদ্ধে  এখনও এরা ভয় পায়। কদ্দিন পাবে অবশ্য জানিনা। তাই স্বপ্ন দেখা ছাড়ুন। কেন্দ্রীয় এজেন্সি কি আর এইসব করতে পারে? ভাবা বন্ধ করুন। আর ওইসব দল-টল ভুলুন।আগে ভোটার বাঁচান। কত লোক বাদ যাবে জানিনা। কিন্তু কিছু লাখ বা এক-দেড় কোটি লোক বাদ চলে গেলে, শুধু ভোটের কোনো মানে থাকবেনা নয়, বাঙালি মাত্রেই বাংলাদেশী এই ন্যারেটিভও তৈরি হয়ে যাবে। কফিনে শেষ পেরেকটা মারা খালি বাকি থাকবে।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • যাচ্ছেতাই | 103.85.***.*** | ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৪০737978
  • ২৩ বছর পরে আপনার ব্যাপার নাম কি হবে? 
    আরে মহাকাল।
    দোয়া করুন আপনার পুত্র কন্যাদের জন্য
     
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি প্রতিক্রিয়া দিন