এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • কিচ নিয়ে খিচমিচ: কুন্দেরার The Unbearable Lightness of Being

    Sandipan Majumder লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ২৯ বার পঠিত
  • ______________
    ‘My enemy is Kitsch,not Communism’ she replied, infuriated.

    ত্রিশ বছর পর আবার পড়লাম মিলান কুন্দেরার ’The Unbearable Lightness of Being’ উপন্যাস। কুন্দেরার এই বইগুলো, এরকম লাইনগুলো, এরকম চিন্তাগুলো নব্বই দশকের মধ্যভাগে আমাদের ভীষণভাবে আত্মস্থ করেছিল। ফলে যেটা হয়,মন আর নিজ নিকেতনে ফিরতে পারে নি। নিকেতন বলে যেটা ভাবা হচ্ছে সেটাও যে ঐ ‘কিচ’ সেটা জেনে গেছিলাম। ফলে ব্যক্তিগতভাবে দীর্ঘদিন বামপন্থীদের সঙ্গে সহযোগী কাজকর্ম করেও কখনও যে তাঁদের অংশ হয়ে উঠতে চাই নি,তার কারণও নিশ্চিত এই পাঠের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    এমন নয় যে আমরা গত শতাব্দীর দমনমূলক সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কিছু জানতাম না। আমাদের ছোটোবেলায় পাড়ার লাইব্রেরিতে সোলঝেনিৎসিনের ‘গুলাগ আর্কিপেলাগো’ বা ‘ফার্স্ট সার্কেল’ এর বাংলা অনুবাদ চলে এসেছিল। সার্ত্র সমেত ইউরোপীয় বুদ্ধিজীবীদের হাঙ্গেরি, চেকোশ্লোভোকিয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়নের হস্তক্ষেপের বিরোধিতার কথাও শুনেছি। এখানে অবশ্য সেসবের সমর্থনে দুরকম যুক্তি শোনা যেত। প্রথমটি হল, সমাজতান্ত্রিক দেশের বিরুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদী দেশের চক্রান্ত যেটি একেবারে মিথ্যে বলা যাবে না। দ্বিতীয়ত, বিপ্লবের পরেও দেশের অভ্যন্তরে প্রতিবিল্পবী শক্তিকে দমনের প্রয়োজনীয়তা। চিলিতে প্রতিবিপ্লব এবং ইন্দোনেশিয়াতে লক্ষ লক্ষ কম্যুনিস্টদের হত্যা করার কারণে যে যুক্তিকেও একেবারে অসার বলা যেত না। কিন্তু নব্বই দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পূর্ব ইউরোপে সমাজতন্ত্রের পতনের পর এসব যুক্তি খুব খেলো হয়ে গেল। যে যুক্তি নিজের দেশের মানুষদের কাছেই গ্রহণযোগ্য এবং বিশ্বাসযোগ্য হয় না, তার কার্যকারিতা কি? এতদ্দেশীয় প্রথাগত তাত্ত্বিকরা অবশ্য ‘তত্ত্ব ঠিক, প্রয়োগ ভুল’ এরকম সব আশীর্বাণীর আড়ালে মুখ লুকোতে চাইলেন। সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তি কিন্তু কাটল না।

    সোলঝেনিৎসিনদের সাহিত্য ছিল নেহাতই অভিজ্ঞতাবাদী। বইয়ের প্রথম পাতা থেকেই তিনি তাঁর সমাজতন্ত্র বিরোধিতাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান বলে কুন্দেরা স্বয়ং এরকম সাহিত্যের বিরোধিতা করেছেন। কুন্দেরার লেখার উদ্দেশ্য প্রথমত খাঁটি উপন্যাস লেখা। তিনি সাহিত্যের যে সত্য তার আপেক্ষিকতায় বিশ্বাস করেন। ফলে কম্যুনিজমের যে ধ্রুব সত্যের পূজার্চনা, তার সঙ্গে কুন্দেরার সাহিত্যের বৈপরীত্য স্থাপিত হয় একেবারে অর্গানিকভাবে। এই আপেক্ষিকতা এবং অনিশ্চয়তা দার্শনিকভাবে কম্যুনিজমের বিরুদ্ধতা করে ঠিকই, কিন্তু সেটা তার গৌণ ফলাফল। আদতে কুন্দেরার সাহিত্য ব্যক্তির স্বাতন্ত্রকে পূর্ণ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে (যেটার মানে স্থূল মার্কসবাদীরা ব্যক্তিবিচ্ছিন্নতা বলে কদর্থ করে থাকেন)। ফলে কোথায় মার্কসবাদী অনুশীলনের সঙ্গে তার বিরোধ, কোথায় সেই অনুশীলনের সীমাবদ্ধতা,কোথায় সেখান থেকে বোধহীন ‘আদর্শগত সংকীর্ণতা’ উদ্ভূত হয়, সেসব সম্পর্কে আমাদের সচেতন করে দেয় কুন্দেরার সাহিত্য। আমি নিজে তো একথা মর্মে মর্মে অনুভব করেছি।

    মজাটা হচ্ছে কুন্দেরার ‘'কিচ’ শুধু কম্যুনিস্ট কিচ নয়। জাতীয়তাবাদী কিচ, হিন্দু কিচ, ইসলামি কিচ, রামকৃষ্ণ মিশনের কিচ, দেশপ্রেমিক কিচ এবং আরও অনেক কিছুই হতে পারে। হতে পারে পিতৃত্বের কিচ, মাতৃত্বের কিচ, মধ্যবিত্ত সংস্কৃতির কিচ – কত যে কিচিমিচিময়, ব্যাপ্ত এই কিচের জগৎ। তদানীন্তন সমাজতান্ত্রিক চেকোশ্লোভাকিয়ায় মে দিবসের বাধ্যতামূলক প্যারেডের কিচ আর ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডের প্রতি ভক্তিপ্রদর্শনের কিচ - মূলত একই। তবু গড়পড়তা মানুষ বিশ্বাস করে ‘প্রগতির মহামিছিলে’। এসবের থেকে আলগা মানুষ একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকে। সে অন্তত ভারের চাপে মারা পড়ে না। হালকা হতে হতে পালকের মত ভেসে বেড়ায়। তবে তাকেও টেনে রাখে মাটিতে, একমাত্র ভার যা অপরিত্যাজ্য, যার নাম ভালোবাসা। এই উপন্যাসের শেষে কুন্দেরা খুব সূক্ষ্মভাবে সেকথা বলেছেন।

    নিচে কিচ নিয়ে বই থেকে কিছু —-

    In the realm of totalitarian kitsch, all answers are given in ad-vance and preclude any questions. It follows, then, that the true opponent of totalitarian kitsch is the person who asks questions. A question is like a knife that slices through the stage backdrop and gives us a look at what lies hidden behind it. In fact, that was exactly how Sabina had explained the meaning of her paintings to Tereza: on the surface, an intelligible lie; under-neath, the unintelligible truth showing through.

    But the people who struggle against what we call totalitar-ian regimes cannot function with queries and doubts. They, too, need certainties and simple truths to make the multitudes understand, to provoke collective tears.
    Kitsch has its source in the categorical agreement with being.
    But what is the basis of being? God? Mankind? Struggle? Love? Man? Woman?

    Since opinions vary, there are various kitsches: Catholic, Protestant, Jewish, Communist, Fascist, democratic, feminist, European, American, national, international.

    Since the days of the French Revolution, one half of Eu-rope has been referred to as the left, the other half as the right. Yet to define one or the other by means of the theoretical principles it professes is all but impossible. And no wonder: political movements rest not so much on rational attitudes as on the fantasies, images, words, and archetypes that come together to make up this or that political kitsch.

    The fantasy of the Grand March that Franz was so intoxi-cated by is the political kitsch joining leftists of all times and tendencies. The Grand March is the splendid march on the road to brotherhood, equality, justice, happiness; it goes on and on, obstacles notwithstanding, for obstacles there must be if the march is to be the Grand March.

    The dictatorship of the proletariat or democracy? Rejection of the consumer society or demands for increased productivity? The guillotine or an end to the death penalty? It is all beside the point. What makes a leftist a leftist is not this or that theory but his ability to integrate any theory into the kitsch called the Grand March.
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল প্রতিক্রিয়া দিন