এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ২৬০০০ চাকরি কাণ্ড 

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ১২৩ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • এই এসআইআরের মধ্যে লেখা হচ্ছেনা, কিন্তু এসএসসি কাণ্ডটাও লেখা দরকার, নইলে কী বিপুল একটা খেলা চলছে বোঝা যাবেনা, একটু লম্বা হবে, কিন্তু পড়লে পুরোটা পড়বেন। ২৬০০০ শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি গিয়েছিল কলমের এক খোঁচায়, ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল হয়েছিল, এটা কিছু নতুন কথা নয়। যেটা বোঝা যাচ্ছিলনা, যে, যোগ্য-অযোগ্যর ভিত্তিতে শাস্তি না হয়ে সব্বার চাকরি গেল কেন। তালিকা তো একটা ছিল। সেটাকে মান্যতা দেওয়া হলনা কেন? আর যদি মান্যতা দেওয়া নাই হয়, তাহলে কীসের ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপে যোগ্য-অযোগ্যর বিভাজন করে দেওয়া হল? 

    এটা খুব সোজা প্রশ্ন। কিন্তু টিভির বাক্যবাগীশরা যথেষ্ট ধোঁয়া তৈরি করতে পেরেছিলেন। তা, দুদিন আগে, নতুন যেটা জানা গেল, সেটা হল, সিবিআই দুর্নীতির টিকি ধরে টানতে না পারলেও, সত্যি-সত্যিই এসএসসি এবং অন্যান্য সূত্র থেকে যোগ্য-অযোগ্যর একটা তালিকা তৈরি করেছিল। কীকরে জানা গেল? না, এসএসসি সেই তালিকাটা প্রকাশ করেছে এবার, আদালতেরই নির্দেশে। সেই তালিকা আমি দেখিনি, খবরে দেখলাম, সেখানে, লক্ষ্মী তুঙ্গা বলে একজনের নাম অযোগ্য-তালিকায় জ্বলজ্বল করছে। কে এই লক্ষ্মী তুঙ্গা? যাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতে এসএসসি মামলাটা শুরু হয়, যার পোশাকি নাম ছিল Laxmi Tunga vs State of West Bengal । এই মামলার ভিত্তিতেই প্রথমে অভিজিৎ গাঙ্গুলী, তারপর অন্য নানা এজলাসে বিচার হয়ে তারপর এতগুলো চাকরি যায়। 

    এতে করে কী জানা গেল? যিনি মামলা করেছিলেন, তিনি নিজেই অযোগ্য। আর তাঁর মামলায় চাকরি গেল বিপুল সংখ্যক যোগ্য শিক্ষকদের। এই ছোট্টো তথ্যটা কি সিবিআই জানতনা? এসএসসি জানতনা? আদালত জানতনা? নিশ্চয়ই জানত, অন্তত চেষ্টা করলে তো জানা যেতই। কিন্তু মামলাটা একটা পর্যায়ে দাঁড়িয়ে যায় যুদ্ধে, আর তাতে লক্ষ্মী তুঙ্গা নেহাৎই ক্রীড়নক। যুদ্ধটা হয়ে দাঁড়ায় অ্যাজেন্ডার। "প্রতিটি শিক্ষক চোর", "প্রতিষ্ঠানটাই ভেঙে ফেলা দরকার"  এইগুলো সজোরে প্রতিষ্ঠা করার দরকার ছিল। কে লক্ষ্মী তুঙ্গা, কে যোগ্য শিক্ষক, এসব নেহাৎই তুচ্ছ, রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার শিরদাঁড়াটা  ভেঙে দেওয়াই ছিল বড় কথা।

    না, প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির সঙ্গে যাঁরা জড়িত ছিলেন, তাঁদের ধোওয়া তুলসিপাতা আখ্যা দেবার কোনো কারণ নেই। তখনও বলেছি, প্রত্যেকের শাস্তি হওয়া উচিত, এবং তদন্তকারী সংস্থার কাজ সেটাই হওয়া উচিত। সমস্ত শিক্ষকের চাকরি খাওয়া নয়। কিন্তু সেটাই হয়েছে। সেটাই ছিল সিঙ্গল পয়েন্ট অ্যাজেন্ডা। এতে কতজনের দিকে আঙুল তুলব কে জানে। একজন বিচারক চাকরি ছেড়ে সাংসদ হয়ে গেলেন। মামলার উকিলদের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াল প্যানেল বাতিল করা। গোদি মিডিয়ার কাজ হল রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে ক্রমাগত হেয় করে চলা। আর এসএসসির কাজ হল যা গোল্লায় গেলে যাক, আমার কি, বলে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা।

    রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার এমনিই হাঁড়ির হাল। দুর্নীতি, শিক্ষক-নিয়োগে অনিয়ম, কেন্দ্রীয় বোর্ডের আক্রমণ। আমার মতো লোকের ছেলেমেয়েরা আর রাজ্যসরকারের শিক্ষাব্যবস্থায় পড়েনা। এমনকি শিক্ষকদের ছেলেমেয়েরাও পড়েনা। এটা এমনি এমনি হয়না, গোটা ব্যবস্থাটা জঞ্জালে পরিণত হয়েছে, এইটা প্রমাণ করে দেখাতে হয় জনসমক্ষে। এই "সব শিক্ষক চোর" সেই প্রচারাভিযানের অংশ। রাজ্য সরকারও দেখেশুনে মনে হয়, এই অভিযানেরই অংশবিশেষ। প্রচুর অনিয়ম, দুর্নীতি, এবং গেলে গোল্লায় যাক, এই ভঙ্গী, এগুলো এমনি এমনি হয়না। পুরোটাই কেন্দ্রীয় বোর্ডের হাতে তুলে দিতে পারলে সব্বাই বেঁচে যায় মনে হয়। এই এসআইএর এর সময়েই দেখুন না। খুব হইচই হচ্ছে। হবারই কথা। কিন্তু যেটা নিয়ে কোনো কথা নেই, সেটা হল এই দু-তিন মাস ধরে, পরীক্ষার সময় শিক্ষকরা যদি বিএলও গিরি করে চলেন তো ছাত্রদের কী হবে? কেউ কেয়ার করেনা। এরপর নির্বাচন হবে, ওই ইশকুলেই আবার কয়েকমাস ধরে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে বসবে। পড়াশুনো? ও তো গোল্লায় গেছে। অথচ কল্পনা করতে পারেন, কোনো কেন্দ্রীয় বোর্ডের ইশকুল দখল করে এসব হচ্ছে? হলে মিডিয়া ফাটিয়ে দেবে। "আমাদের ছেলেমেয়েরা" পড়ে তো ওখানে।

    পুরো শিক্ষাব্যবস্থাটা বিপর্যয়ের দিকে চলেছে। না, দুর্নীতির জন্য নয়, পারসেপশন তৈরির খেলায়। রাজ্য-সরকারি প্রায়-বিনামূল্যে শিক্ষা চলবেনা, নিয়ে এসো দামী কেন্দ্রীয় বোর্ড। বাংলা চলবেনা, নিয়ে এসো হিন্দুস্তানি আর ইংরিজি। এবং একই সঙ্গে চলছে গরীব ঠ্যাঙানো, ভোটের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। বাংলাবিদ্বেষ। শিক্ষাব্যবস্থা ক্রমে মাল্টিপ্লেক্স হয়ে যাবে, যারা ৫০০ টাকার টিকিট কেটে হিন্দুস্তানি সিনেমা দেখতে পারবে, তারা দেখবে, গেঁয়ো মেঠো বাঙালি গরীবরা দেখবেনা। বাঙালি ঠ্যাঙাও, ভোট থেকে শিক্ষা স্বাস্থ্য, সবই মাল্টিপ্লেক্সে পরিণত কর, বাংলাকে হেয় করো, বাংলার সমস্তকিছুকে খাটো কর, এইটা সর্বত্র চলছে। শিক্ষার ক্ষেত্রেও অবিকল তাই। স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের একটা প্রতিরোধের চেষ্টা আছে, কিন্তু শিক্ষার ক্ষেত্রে, মনে হয়, তারাও একই পথে চলছে।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • MP | 2409:4060:310:d95d:9b8b:8ded:eb79:***:*** | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩৩737928
  • ভীষণ প্রাসঙ্গিক লেখা l 
  • আইসিসিইউ | 103.85.***.*** | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:১৬737940
  • শয়তান মনুষ্য রূপী লেখক নিজের বক্তব্যে প্রমাণ করছেন। চতিচাটা
  • দীপ | 2402:3a80:198d:b937:778:5634:1232:***:*** | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৪১737941
  • ২৪ঘন্টার সাংবাদিক সোমা মাইতির উপর প্রানঘাতী আক্রমণ চালালো দিদির দুধেল গাইরা। স্থান মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গা। প্রতিনিধি সোমা মাইতি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, 'বীভত্‍স মেরেছে আমাদের। কথা বলতে পারছি না। মহেশপুর মোড়ে আন্দোলনকারীরা বেধড়ক মারধর করে। আমাদের টোটোকে ঘিরে ধরে হাজার লোক। চুলের মুঠি ধরে টানে, ফোন ছিনিয়ে নেয়, পা টেনে ধরে, গায়ে হাত দেয়। যারা আমাদের বাঁচাল, তাদেরও মেরেছে। চিত্র সাংবাদিকের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।'
     
    পুলিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করায় সোমা মাইতি বলেন, 'ওখান থেকে বেরিয়ে দেখি প্রচুর পুলিস দাঁড়িয়ে। পুলিসকে গিয়ে বললাম, আমাদের রেসকিউ করুন। পুলিস বলল, আমাদের গাড়ি নেই, এক্তিয়ার নেই। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পুলিস সবটা দেখল।'
     
    আর এই ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমি এটাকে সাপোর্ট করছি না কিন্তু মবের মধ্যে ঢুকতে বারণ করি। এটা আমার হাতে নেই আমি তো করাইনি ঘটনাটা জুম্মাবারে এমনি জমায়েত হয় প্রোগ্রাম করে, মন্দিরে যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ যায় ভোলে বাবা পার লাগাও যায় দুর্গাপুজোয় যায় আমি কি তাদের আটকাতে পারি? এটা তাদের স্বতঃস্ফূর্ততা।'
     
    কি বলবেন আপনারা?
     
    কেন্দ্র আর রাজ্যপ্রশাসন দায়িত্ব সহকারে রাজ্যটাকে শেষ করছে!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু মতামত দিন