বাংলার সীমান্তবর্তী একটা গ্রামে বিএসএফ এর অত্যাচারের ব্যাপারে শুনানি হল পরশু দিন অমৃতা সিনহার এজলাসে। অভিযোগ ছিল অত্যাচারের, সে তো বোঝাই যাচ্ছে। কিন্তু শুনানিতে যা হল শুনে আমি হতবাক। ভারতীয় আদালত খুব বড় ইংরাজ। সবই ইংরিজিতে হয়। সওয়ালে কথাবার্তা যা হল, তা মোটামুটি বাংলা অনুবাদে এরকমঃ
উকিলঃ ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের একটা গ্রাম। বিএসএফ এর লোকজন সমানে গ্রামের লোকজনকে অত্যাচার করছে।
বিচারপতি অমৃতা সিনহাঃ কেন?
উকিলঃ গ্রামটা সীমান্তবর্তী।
বিচারপতিঃ না না, কেন অত্যাচার করছে?
উকিলঃ কোনো কারণ ছাড়া।
বিচারপতিঃ কোনো কারণ ছাড়া একজন গিয়ে অত্যাচার করবে?
উকিলঃ আমার কাছে যা বার্তা আছে, সেই অনুযায়ী, ডাক্তারি পরিষেবা একদম বন্ধ হয়ে গেছে। অবস্থা খুব খারাপ। দয়া করে...
বিচারপতিঃ ওখানে কারা থাকে?
উকিলঃ ভারতের লোকজন।
বিচারপতিঃ ঠিক জানেন?
উকিলঃ হ্যাঁ।
বিচারপতিঃ এত নিশ্চিত হচ্ছেন কীকরে?
উকিলঃ আধার।
বিচারপতিঃ আধার। সব জাল কাগজ।
উকিলঃ না।
বিচারপতিঃ কীসের না? আমি খুব পরিষ্কার বুঝতে পারছি, এটাই কারণ।
উকিলঃ দয়া করে...
বিচারপতিঃ কোনো দয়া নয়। দেশ ভর্তি হয়ে গেছে, অন্যদের আর এইভাবে জায়গা দেওয়া যাবেনা। আপনি যেভাবে জিনিসটা সামনে আনলেন, আমি পরিষ্কার বুঝতে পারছি। বিএসএফের লোকজন ওরকম নয়, যে যাবে আর কারোর উপর অত্যাচার করবে, সত্যি নয়।
উকিলঃ ওরা সমানে অত্যাচার করছে।
বিচারপতিঃ না। দুঃখিত।
এখানেই শুনানি খতম। শুরু থেকে শেষ অবধিই দিলাম। এবং এর থেকে আমরা জানতে পারলাম,
এক, বিএসএফ এর লোকেরা সোনার-টুকরো। তারা কাউক্কে আজ অবধি অত্যাচার করেনি, কাউকে ঠেলে বাংলাদেশে পাঠায়নি, মুর্শিদাবাদে কোনো অত্যাচার করেনি। চরিত্রের শংসাপত্রে যুধিষ্ঠিরের প্রায় কাছাকাছি।
দুই, সীমান্তবর্তী এলাকার বাঙালিদের আধার কোনো আধার নয়। নথি সব জাল। তারা সব ব্যাটা বাংলাদেশী।
তিন, দেশ বাংলাদেশীতে ভর্তি হয়ে গেছে, আর কাউকে জায়গা দেওয়া যাবেনা। অতএব, যা হচ্ছে ঠিকই হচ্ছে।
শুনে মনে হচ্ছিল, এবিপি আনন্দের স্টুডিও। কিন্তু এটা স্টুডিও না, এজলাস। এবং কোনো তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে নয়, এই ধারণাগুলো নিয়ে একজন বিচারপতি বিচার করতে বসছেন, এবং বলছেন। বিএসএফ কেন ঠ্যাঙায়, কেন বাঙালি মাত্রেই বাংলাদেশী, অনুপ্রবেশের গরু কেন স্পুৎনিকে চড়ে শ্রীহনুমানের মতো মহাবিশ্বে ধাবিত হয়, এনআরসি আর এসআইআর কেন হয়, পুরো ব্যবস্থাটাই ঠিক কীরকম, একবার শুনলে বুঝতে আর কোনো অসুবিধে হবেনা। শুনলে আরেকজন বিচারপতির কথা মনে পড়ে। অভিজিৎ গাঙ্গুলি। পাঁচতলা মল, পুরোটাই সেরকম কিনা কে জানে। এঁদের নিয়ে কারা নাচে, সেটা অবশ্য অজানা নয়।
ভিডিওটা যাঁরা দেখতে চান, গুরুর চ্যানেলে বারোটায় তুলে দেব, দেখতে পারেন। অনুবাদ করেই দিয়েছি, কিন্তু শরীরী ভাষাটাও দেখা দরকার।
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।