এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  বিবিধ

  • লোকপরিত্রাণ

    বিক্রম পাকড়াশী লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ০৯ মে ২০০৯ | ৯৭২ বার পঠিত
  • ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সালে শমীক মুখোপাধ্যায় লোকপরিত্রাণ বলে একটি রাজনৈতিক পার্টির উল্লেখ করেছিলেন। আমাদের অনেকের পড়ে ভালো লেগেছিলো যে আইআইটির বেশ কিছু তরুণ ইঞ্জিনীয়ার মিলে একটি রাজনৈতিক পার্টি গঠন করেছেন এবং অতি পরিচিত 'কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি' থেকে দূরে গিয়ে সত্যিই মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করছেন। অন্তত: এই 'হোপ' ও 'চেঞ্জ' এর মেসেজটিই তাঁরা আমাদের কাছে পৌঁছোনোর চেষ্টায় ছিলেন।

    শমীকের লেখাতেই আমরা পেয়েছিলাম - "স্বপ্ন দেখার শুরু ফাইনাল ইয়ার থেকেই... বিটেক পাশ করার পর আমরা প্রত্যেকেই চাকরি করছি অনেকদিন। আমি গোল্ডম্যান স্যাক্সে কাজ করেছি পাঁচ বছর ইউ এস এ তে। ... ভারতে থেকেই আমি ভারতের কাজ করতে চাই ... আমিরেকায় কাজ ইনিশিয়াল ফাণ্ড জমা করার জন্য... আমি এখনও ব্যাচেলার এবং এই কোম্পানিতে যা পাই তার ৭০% পার্টির জন্য খরচা করি... আমরা খুব সিম্পল লাইফস্টাইল লিড করি... এই মোবাইলটা বাদে আমার তেমন কিছুই নেই, বাড়ি নেই, গাড়ি নেই, টিভি নেই... ' - অফবীট, ইন্টারেস্টিং।

    ওদের ওয়েবসাইটে গিয়ে খোঁজ নিলাম। দেখা গেলো, পার্টির মূলে চন্দ্রশেখর রাজপুরোহিত বলে একটি লোক। বিটেক, কম্পিউটার সায়েন্স আইআইটি কানপুর, এম এ ইতিহাস, এম এ অর্থনীতি। ন্যশনাল জেনারাল সেক্রেটারি তন্ময় রাজপুরোহিত। কে যানে, হয়তো ভাই ভাই। এছাড়া শ্রীকান্ত চক্রবর্তী আইনি সহায়ক এবং আরও অনেকে রাজ্য লেভেলে বিভিন্ন পোস্টে। এরা ভোটে দাঁড়িয়ে সরাসরি ভারতের রাজনীতির অংশ হতে চাইছিলো। গুজরাট, তামিলনাড়ু, যেখানেই দাঁড়িয়েছে, হেরেছে। ভোটের সংখ্যাও কম। তাও, কয়েকজন না পোড় খাওয়া আমাদের মতো লোকের পক্ষে এটুকুও কম কথা নয়। এমনই মনে হয়েছিলো। মিডিয়াতে বিশেষ পাত্তা না পেলেও, আঞ্চলিকভাবে অনেক দলই লোকপরিত্রাণকে খুব খাটো করে দেখছিলো না। মোট কথা এই উচ্চশিক্ষিত রাজনৈতিক দলটির চারিদিকে যেন একটা সুশীল, অপাপবিদ্ধ গ্ল্যামের বলয় ছিলো।

    কয়েকদিন আগে, ওদেরই ওয়েবসাইটে আবার গিয়ে গত এক বছরে কি পরিমাণ জল কোথা দিয়ে বয়েছে তার অল্প খোঁজ খবর আবার নেওয়া গেলো। যা দেখলাম, তা অল্প কথায় বলি। অবশ্যই, খবরগুলো লোকপরিত্রাণের পক্ষ থেকে, তাদেরই বক্তব্য, কিছু ক্ষেত্রে তথ্যপ্রমাণ সহ। কিন্তু আমার মনে হয় যে এই একপেশে ঘটনাক্রমগুলি নজরে পড়ার মতো। ব্যাপারটা এই রকম - গত বছর ফেব্রুয়ারি মাস থেকে অপ্রিল মাসে ওরা রজস্থান, কর্ণাটক ইত্যাদি রাজ্যে, মূলত: শহরাঞ্চলে ভোটে লড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আমেদাবাদে নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে প্রচার চালায় এবং পরের দু বছরে ভারতের অন্তত: দশটি রাজ্যে প্রতিনিধি দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সময় লোকপরিত্রাণের ম্যানিফেস্টো প্রকাশিত হয়। কর্ণাটকের প্রেসিডেন্ট হিসাবে বি।টি নাগান্নাকে নিয়োগ করা হয়।

    ম্যানিফেস্টোয় শ্যাম ও কূল দুইই বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছিলো। কোরাপশান, সরকারের স্বচ্ছতা, শুল্ক, ন্যূনতম বেতন, ইনফ্রাস্ট্রাকচার, চাষজমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পেনশান, ইনশিওরেন্স, যানজট, দূষণ, জমি অধিগ্রহণ, সংরক্ষণ, বিদ্যুৎ, ইত্যাদি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্ত বিষয়েই কিছু না কিছু বক্তব্য ছিলো। এই সময়, শ্রী নাগান্না যখন ভোটে দাঁড়ানোর জন্য কাগজপত্র জমা দিতে চান, নির্বাচনী অফিসার দাবি করেন যে লোকপরিত্রাণ বলে কোনও পর্টিই নেই। অথচ ঐ পার্টি থেকে ততদিনে অন্তত: তিনজনের মনোনয়নপত্র মঞ্জুর হয়েছে। এই অবধি গল্পটি বীরগাথার ন্যায় এগোচ্ছিলো। কিভাবে শত বাধা পেরিয়ে তাঁরা নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছেন, কিভাবে সারা ভারতে কাজ এগোচ্ছে, ব্রাত্যজনের রুদ্ধসঙ্গীতকে কিভাবে কিছু মানুষের কাছে একটি প্রান্তিক, কিন্তু পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক দল পৌঁছে দিচ্ছে ইত্যাদি।

    মধুচন্দ্রিমা শেষ হলো যখন বি.টি নাগান্না তন্ময় রাজপুরোহিতকে আক্রমণ করলেন, মেরে ফেলার ভয় দেখালেন এবং পনেরো জন গুণ্ডা নিয়ে শ্রীকান্ত চক্রবর্তীর বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলেন। আর এই সব হলো নাগান্নাকে কর্ণাটকের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে বরখাস্ত করার পর। নাগান্না তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ভাঁড়িয়ে নিজেকে ইঞ্জিনীয়ার হিসাবে দাবি করে পার্টিতে ঢোকেন যদিও উনি কখনই কলেজ ডিগ্রী পাননি। তাছাড় পুলিশে তাঁর নামে দুটি খুনের অভিযোগ আগেই দায়ের ছিলো। এই সময় লোকপরিত্রাণের রাজ্য ইউনিট কিছুদিনের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু মে মাসের মধ্যেই তারা কর্ণাটকে নতুন অফিস খোলে এবং নলীন জৈন নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে যোগ দেন।

    শ্রী শশীধর আলাবুর ছিলেন নাগান্নার সময়ের কর্ণাটক অফিসের ট্রেজারার। তিনি আগস্ট মাসে তহবিল তছরূপ করে ধরা পড়লেন ও তৎক্ষণাৎ বরখাস্ত হলেন। উনি নাগান্নার সঙ্গী ছিলেন। এই অবস্থায় লোকপরিত্রাণ দিল্লিতে ভোটে লড়ার জন্য ৩১ বছর বয়েসী সুপ্রিম কোর্টের উকিল অভিষেক রাওকে দাঁড় করায়।

    এই বছর জানুয়ারি মাসে ন্যশনাল জেনারাল সেক্রেটারি তন্ময় রাজপুরোহিত বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে বহিষ্কৃত হন। কিন্তু সেই বহিষ্কারের কোনও কারণ পাবলিকলি দেওয়া হয় নি। কেবল বলা হলো, যে পার্টির কাছে সমস্ত প্রমাণ আছে।

    এ বছর মার্চ মাসে হেমচন্দ্র লোগান, তামিলনাড়ুর জেনারেল সেক্রেটারিকে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়। তিনি অন্য পার্টির লোককে লোকপরিত্রাণের টিকিটে ভোটে দাঁড়াবার ব্যবস্থা করে দিচ্ছিলেন। এছাড়াও লোকপরিত্রাণের দেশব্যাপী কর্মকাণ্ড নানাভাবে সাবোতাজ করছিলেন।

    এখন এপ্রিলের শেষ হয়ে মে। আর এই হলো দু বছর বয়েসী পার্টির গল্প। পোড় খাচ্ছে? অন্য পার্টির তাঁবেদার? মেলোড্রামা? কোনও গূঢ় ব্যাপার? ন্যাকা? বোকা? খোকা? কে জানে!

    মে ১০, ২০০৯
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • আলোচনা | ০৯ মে ২০০৯ | ৯৭২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন