মা লক্ষীর পায়ে পেন্নাম ঠুকে খাতা খুললুম গুরু তে . পেন্নাম ঠুকলুম কারণ মা এর বাহন যে গুরুর মাথায় বসে ; আপাত নির্লিপ্ত মহাজ্ঞানী ; ধ্যানমগ্ন, অথচ পর্যবেক্ষণ করে চলেছেন সব ; এমনকি লিখতে লিখতে কে নাক খুঁটছে, তাও ......
তা আমার একটা সমস্যা হয়েছে : মাসখানেক হলো কলমে কবিতার লাইন এসে পৌঁছোচ্ছে না ঠিকমতো ; একদম আসছে না তা নয় কিন্তু যা হচ্ছে সে আরো বিরক্তিকর ; অনেক টা সেই সমুদ্রের ঢেউ এর ফিরিয়ে আনা ছেঁড়া চটি - চপ্পলের মতো। ....এ হেনো পরিস্থিতির মাঝে কিছু টোটকার মতো কবিতা খুঁজছিলাম ; তারই দুটোর কিছু অংশ তুলে ধরলাম এখানে :
" সব কলমে সব রকম লেখা সম্ভব হয় না .
একেকটা কলমের একেক রকম ঝোঁক,
.................
একেকটা কলমের স্বভাব একেক রকম .
কেউ কেউ ধূসর, মর্মর, ইত্যাদি
উদাসীন শব্দের দিকে যায়,
কেউ কেউ অতল, নিঃশব্দ, ঝিমঝিম
মন্থরতার দিকে টানে .
আবার কেউ কেউ খরস্রোতা তরঙ্গিনীর মতো
তরতর করে টেনে নিয়ে যায়,
কিন্তু সে ওই পর্যন্তই,
সেই স্রোতে নিতান্তই ঘোলাজল ও কচুরিপানা .
সুতরাং কবিতা লেখার আগে সবচেয়ে কঠিন কাজ কলম বেছে নেওয়া .
অবশ্য কোনো গরিব বা ছন্নছাড়া কবির
যদি একটিই মাত্র কলম থাকে
তার কথা আলাদা,
তার সাত খুন মাফ . "
তার কথা আলাদা
তারাপদ রায়
কিন্তু আমার এই বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর কলম কে নিয়ে কি করবো বলতে পারেন ??
" যেহেতু লেবুপাতার গন্ধেই
আমি প্রথম পেয়েছিলাম
পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠার স্বাদ .
আর ঐ রুপোলি ডট পেন
আমাকে শিখিয়েছিলো
অক্ষর দিয়ে কিভাবে গড়তে হয়
শাখা - প্রশাখাময় জীব .
আমি এখন উদয় এবং অস্তের মাঝামাঝি এক দিগন্তে .
হাতে রুপোলি ডট পেন
বুকে লেবুপাতার বাগান "
বুকে লেবুপাতার বাগান
পূর্ণেন্দু পত্রী
আমার তো কবিতা লেখা পুরোপুরিই অস্তাচলে।
কি যে হবে জানি না . এর মাঝে কাল মাঝরাতে আবার সেই অসহ্যকর অবস্থা :
চার লাইন এলো
আর এলো না ............
ভালো - বাঁচার সংজ্ঞা আছে, জানি
ঘুণ ধরা এক বইয়ের ভাঁজে ছাপা
অক্ষর নিয়ে লড়ছি প্রতি রাতে
প্রতিশব্দে এটাই বেঁচে থাকা ..
- তানিয়া
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।