বিশ্বাসঘাতকতার আখ্যান 'সিজনস অব বিট্রেয়াল' : অরিজিৎ গুহ
বুলবুলভাজা | পড়াবই : প্রথম পাঠ | ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৮৭৪ বার পঠিত | মন্তব্য : ৫
১৯৪৭ আর্থ' এ একটা দৃশ্য ছিল অমৃতসর থেকে লাহোরের দিকে আসা উদ্বাস্তু পরিপূর্ণ একটা ট্রেন লাহোর স্টেশনে এসে যখন দাঁড়িয়েছিল, লাহোরের আত্মীয়স্বজনরা ট্রেনের ভেতর থেকে কেউ বেরোচ্ছে না দেখে যখন উঁকি মেরে দেখতে যায়, এক ঝলক দেখেই আতঙ্কে বাইরে ছিটকে সরে আসে, কেউ কেউ বা ওখানেই বমি করে দেয়। ট্রেনটা ভর্তি ছিল শুধু ছিন্নভিন্ন লাশে। একজনও কেউ জীবিত ছিল না ট্রেনে। লাহোর থেকে যখন অমৃতসরে ট্রেন যায় এদিকের উদ্বাস্তুদের নিয়ে, তখন সেই ট্রেনটাও পালটা লাশে ভরে ওঠে। অমৃতসর স্টেশনের আত্মীয় স্বজনরাও ঠিক একইভাবে আতঙ্কে সিঁটিয়ে উঠেছিল। সিনেমায় ওই দৃশ্যটা দেখে মনে মনে ভয় পেয়েছিলাম। পরে ভেবেছিলাম সিনেমার প্রয়োজনে অনেক কিছুই তো দেখাতে হয়, তাই এটাও হয়ত বানানো। এরকম যে বাস্তবে হতে পারে কখনো মাথাতেও আসে নি। অনেক অনেক পরে মান্টো পড়ার সময় বুঝেছিলাম এরকম কেন, এর থেকেও অনেক সাঙ্ঘাতিক জিনিস মানুষ করতে পারে। উন্মাদনার চরম সীমায় মানুষ যে কী করতে পারে আর কী করতে পারে না, তা মানুষ নিজেও জানে না। গুরুচণ্ডালী পাবলিকেশনের 'দময়ন্তী'র লেখা 'সিজনস অব বিট্রেয়াল' আবার সেই উন্মাদনার দিনগুলোতে নিয়ে ফেলছিল যেন।
কল্পনাতীত বর্বরতা এবং "সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ" : সি জে পলিক্রনিউ, অনুবাদঃ অরিজিৎ হাজরা
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ১৮ জানুয়ারি ২০১৬ | ২২৫৮ বার পঠিত | মন্তব্য : ৮
তুর্কী চিরকালই ন্যাটোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যার ভূকৌশলগত গুরুত্ব সুদূরপ্রসারী। গোটা নব্বই এর দশক জুড়ে তুর্কী যখন তার কুর্দিশ জনগণের উপর ভয়ঙ্কর হামলা চালাতে থাকে, তখন থেকেই তুর্কী (ইসরায়েল এবং মিশর বাদ দিয়ে, এরা অন্য গোত্রভুক্ত) মার্কিন অস্ত্রের সব থেকে বড়ো ক্রেতা। এই সম্পর্ক কিছু কিছু সময়ে চাপের মুখে এসেছে, যেমন ২০০৩ সালে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাক আক্রমণ করে, তুরস্ক সরকার তাতে যোগ দিতে অসম্মত হয়, যাতে তুরস্কের ৯৫% মানুষের সমর্থনও ছিল। গণতন্ত্রের আসল অর্থটা কী সেটা বুঝতে না পারার জন্যে তুরস্ককে তীব্র তিরস্কৃত ধিক্কার জানানো হয়। তুরস্ক মিলিটারি তুরস্ক সরকারের এমন এক ঘৃণ্য অবস্থান মেনে নেওয়ার জন্য, পল অয়ালভিতস, যাকে কিনা সংবাদ মাধ্যম বুশ সরকারের “idealist in chief” বলে অভিহিত করেছিল, তিনি তীব্র ভর্ৎসনা করেন এবং এর জন্য তাদের ক্ষমাপ্রার্থী হওয়া উচিত, তাঁর এও দাবি ছিল। এইরকম গুটিকয়েক ঘটনা বাদ দিলে এই দুই দেশের সম্পর্ক থেকেছে বন্ধুত্বের। সম্প্রতি তুরস্ক এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকার আইসিসকে কিভাবে মোকাবিলা করা হবে সে ব্যাপারে এক চুক্তিতে পৌঁছয়ঃ (আইসিস কে আক্রমণের বিনিময়ে, মার্কিনীদের) তুর্কী সিরিয়ার কাছকাছি তার যুদ্ধঘাঁটিগুলোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহারের করতে দেবে, প্রতিদানে যুক্তরাষ্ট্র সরকার আইসিসকে আক্রমণ করবে – যদিও তা না করে শেষত তারা কুর্দিশ শত্রুদের আক্রমণ করে।
বিচারের বাণী নীরবে, নিভৃতে- বাস্তারে : অরিজিৎ গুহ
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ২৯ নভেম্বর ২০১৭ | ১৯৩৫ বার পঠিত | মন্তব্য : ১
স্টেট ভার্সেস জোগা, জুগল অ্যান্ড সুদারের কেসে, পাঁচ মাসে তেরো খানা এফ আই আর দায়ের করা হয়েছিল নানা ব্যক্তির নামে। যদিও, সেই এফ আই আরে কোথাও জোগা, জুগল আর সুদারের নাম ছিল না। এর কিছুদিন পরেই, পুলিশের স্টেটমেন্টে ওই তিনজনের নাম যোগ করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে অবশ্য তিনজনেই বেকসুর খালাস হয়েছিল। আরেকটা কেসে ৫০ জনের নামে এফাইআর দায়ের হওয়ার পাঁচ মাস পরে পুলিশের হটাৎ করে আরো তিনজনের নাম মনে পড়ে যায় এবং তাদেরকে তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করা হয়। মানে ব্যাপারটা দাঁড়ালো এই যে, যত দিন যায়, পুলিশের মেমোরি তত শক্তিশালী হয়।
অন্যদিকে,অপর আর একটি কেসের দুই অভিযুক্ত, মিদিয়াম লাচু ও পুনেম ভিমার নাম পুলিশের চার্জশিটে কোথাও ছিল না , শুধুমাত্র ইনভেস্টিগেটিং অফিসারের একটা রিপোর্টে তাদের নাম উল্লেখ করা ছিল।পুলিশ সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করে এবং বিনা বিচারে তারা জেল খাটছে আজ ছ'বছর ধরে।
নেপাল থেকে ফিরে : অরিজিৎ
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ২১ মে ২০১৫ | ১২১৬ বার পঠিত | মন্তব্য : ৫
উত্তর দিকটা উন্মুক্ত; পুব দিকে দেওয়ালের মত যেটা উঠে গেছে সেটাকে পাহাড় না বলাই ভাল- নাম দেওয়া যেতে পারে বিভাজিকা। তাও তাতে যত ফাটল আর স্কার তৈরি হয়েছে কদিন থাকবে সেটাই সন্দেহের। আমরা যেখানেই যাই কচিকাঁচারা জুটে যায়; তারাই টেনে নিয়ে গেলো তাদের স্কুলটায়, ঐ বিভাজিকার ওপর। স্কুল নয়, স্তূপীকৃত পাথরের চাঁই এর মধ্যে থেকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে কিছু দরজা আর জানালার ফ্রেম। 'এটা ক্লাস এইট', 'এটা ফাইভ', 'এখানে মাস্টাররা বসতো'-প্রচণ্ড উৎসাহ নিয়ে চিনিয়ে দিচ্ছিল। আমাদের ঘিরে একদঙ্গল বাচ্চা ছেলে মেয়ে, আর সামনে ভেঙ্গে পরা স্কুলটা। বুকের ভেতরটা ছ্যাঁত করে উঠল-' কি হত এদের ভুমিকম্পের দিনটা যদি শনিবার(ছুটির দিন) না হত.........।
বুক রিভিউঃ অ্কের্সঃএরোএস ওফ থে ওম্পুতের Rেভোলুতিওন : অরিজিৎ মুখার্জী
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১০ | ১৩২৬ বার পঠিত
Stephen Levy.Hackers:Heroes of the Computer Revolution (New York:Penguin Non Classics,1984); Pp 464, $11.00, ISBN 978-0-141-00051-0
এই বইয়ের আলোচনা শুরু করার সময় হ্যাকার ম্যানিফেস্টোর এই অংশটুকু ছাড়া আর কিছুর কথা মনে আসে না। বেশির ভাগ লোকের কাছে আজ হ্যাকার শব্দটা একটা গালি - একদল ধ্বংসাত্মক পাগল যারা বিভিন্ন কোম্পানির ডেটা চুরি করে, যারা সরকারি ওয়েবসাইটে পর্ণোগ্রাফি বসিয়ে দেয়, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গোলমাল পাকায়।
আয়লা টুর এবং : সুমন্ত এবং অরিজিৎ
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ১৪ জুন ২০০৯ | ৪১৪৩ বার পঠিত | মন্তব্য : ১
কোথাও গেলে, ফিরে এসে সেটা নিয়ে লিখতে হয়। এটাই নিয়ম। তার ওপর, সেই জায়গাটা যদি হয় "আয়লা'-য় ভেসে যাওয়া সুন্দরবন, তবে তো লেখাটা একটা মাস্ট ডু লিস্টের মধ্যে পড়ে যায়। তাই লিখছি। তথ্য খুব কমই জানি, তাই মূলত: যা দেখেছি সেটাই লিখবো। কোনো থিয়োরী থাকবে না। নিছকই একটা "আয়লা ট্যুর' ভাবতে পারেন। "ট্যুর'-টা শুনতে বা বলতে খুব খারাপ লাগলো, আমাদের সাধ্যমত "ত্রাণ' দিতেই গিয়েছিলাম তো, কিন্তু বিশ্বাস করুন, শেষপর্যন্ত যা দেখলাম, তাতে ঐ "ত্রাণ' নিয়ে যাওয়াটা নিজের কাছে দেওয়ার জন্য একটা অজুহাত ছাড়া আর কিছু মনে হচ্ছে না।
বিলেতের টুকরো-টাকরা : অরিজিৎ মুখার্জী
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ৩০ জুন ২০০৬ | ১১৬৭ বার পঠিত
এখন গরমকাল - বেজায় গরম, যাকে বলে "পীক সামার" - গোটা ইংল্যাণ্ডে লোক হাঁসফাঁস করছে। করবে নাই বা কেন,প্রধাণত: শীতের দেশ, সেখানে দুম করে বত্রিশ-তেত্রিশ-কোথাও পঁয়ত্রিশ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা অস্বস্তিকর তো বটেই। তুমুল জল্পনা - উনিশশো এগারোর রেকর্ড (সাঁইত্রিশ ডিগ্রী)হয়তো ভাঙতে পারে। সকালের মেট্রোতে খবর - "Commuters in London are travelling in temperatures higher than those in which cattle are transported
যেতে পারি, কিন্তু কেন যাব? : অরিজিৎ মুখোপাধ্যায়
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ০২ সেপ্টেম্বর ২০০৬ | ১৯৬৩ বার পঠিত
আলোচনাটা নতুন নয়। পুরনো ঘামাচি জানেন তো? পোচোণ্ডো গরমে বাড়ে, বিষ্টি পড়লে কমে যায়? এও তেমন। বছরে বার কয়েক মিডিয়া পোশ্নো তুলবে "আপুনি কবে z ।|বেন এজ্ঞে ?" টোনি ব্লেয়ার ক্রমহ্রাসমান পক্ককেশে হাত বুলিয়ে বলবেন "যেতে পারি, ...কিন্তু এখনি যাবো না..."। কয়েক সপ্তাহ আগে এই যাওয়া-না-যাওয়ার খেলা এক বিশ্রী রূপ নিয়েছিলো -- লেবার পার্টির বেশ কয়েকজন সাংসদ ব্লেয়ারকে চিঠি লেখেন - "অনেক হয়েছে, আপুনি এবার আসেন"। খবরে প্রকাশ এই চিঠির পিছনে হাত গর্ডন ব্রাউনের, মানে প্রাইম মিনিস্টার ইন ওয়েটিং।
রাষ্ট্র বনাম ধর্মীয় স্বাধীনতা বা কেন আমি রাজনীতিতে ফেল করব : অরিজিৎ মুখোপাধ্যায়
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ১৫ নভেম্বর ২০০৬ | ১৯৯০ বার পঠিত
কোন পোস্ট মডার্ন সাহিত্য নয়, জ্বালাময়ী বক্তৃতাও না - শুধুমাত্র টুকরো টুকরো ঘটনা, কে কি বলেছেন আর তার ইনফারেন্স ... এবং একটা অকপট স্বীকারোক্তি। তর্কটা বহুদিন ধরেই চলছে ... অনেকটাই ঘেঁটে যাওয়া, খেই হারিয়ে ফেলা, এবং আরো ঘেঁটে দেবার জন্যেই এই লেখা। দুধকে ঘেঁটেই তো মাখন বেরোয় ...
দুই মেরুর গপ্প অথবা পাগলের প্রলাপ : অরিজিৎ মুখার্জী
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ২৬ জানুয়ারি ২০০৭ | ১৫১৪ বার পঠিত
পৃথিবীর দুই মেরু : উত্তর এবং দক্ষিণ নয়, পৃথিবীর দুই মেরু আজ অন্য দুটি জায়গায়... - সুইস আল্পসের মধ্যে দৃষ্টিসুখজাগানো শৈলনিবাস দাভোস, আর কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি... - দাভোসে অসংখ্য ফ্ল্যাশবাল্বের আলোয় উজ্জ্বল বিশ্ববাণিজ্যের রথী-মহারথীরা, হলিউডের মহাতারকারা, ফাইভ স্টার হোটেলের কনফারেন্স স্যুটে ঘন ঘন বৈঠকে ব্যস্ত, ব্যস্ততার ফাঁকে ছয় কোর্সের লাঞ্চ-ডিনার...অন্যদিকে নাইরোবিতে আশি হাজার লোকের মুঠো করা হাত, রাস্তার ধারে ধারে জমায়েত, মিছিল, আর যে দেশে মানুষের গড় দৈনিক আয় দুই ডলারের কম, সেই দেশে সাত ডলারে খাবার বিক্রি করতে চাওয়া ফাইভ স্টার হোটেলের খাবার তাঁবুতে ক্ষুধার্ত শিশুদের হানা...
একটা রহস্য গল্প, বা গল্প নয় : অরিজিৎ মুখার্জী
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ১৪ অক্টোবর ২০০৭ | ১৩৯৪ বার পঠিত
আমি কখনো পোর্তুগাল যাই নি। আমার কোন পোর্তুগীজ বন্ধু নেই। পোর্তুগীজ বলতে চিনি শুধু ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো আর জোসে মোরিনহোকে। পোর্তুগীজ খাবার বলতে "নন্দুজ'-এর মুরগী ভাজা ছাড়া আর কিছু খাই নি। আমি পোর্তুগীজ ভাষার অ-আ-ক-খ - মানে তার পোর্তুগীজ ইকুইভ্যালেন্ট কি জানি না। কিন্তু আমি arguido মানে জানি। শুধু আমি নই, গোটা যুক্তরাজ্যের মানুষ যাঁরা খবরের কাগজ পড়েন, টিভি দেখেন, গুজব শোনেন, তাঁরা জানেন। এ
শিশুবেচার হাটে : অরিজিৎ মুখোপাধ্যায়
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ১৬ ডিসেম্বর ২০০৭ | ১৯৭৪ বার পঠিত
একটা মেয়ের কথা দিয়ে শুরু করি। উনিশ বছরের মেয়েটা, তার একুশ বছর বয়সী সঙ্গী। মেয়েটা সন্তানসম্ভবা। কিন্তু দেশের আইন অনুযায়ী এই শিশুটি অবৈধ, কারণ মেয়েটির বয়স কুড়ির কম। শিশুটি যদি জন্মায়, কোনো খাতায় তার নাম উঠবে না। তার কোনো পরিচয় নেই, নিয়ম অনুযায়ী শিশুটির কোনো অস্তিত্ব নেই। ডাক্তারী কারণে মেয়েটি গর্ভপাত করাতে পারে না, তাই এক দূর গ্রামে গিয়ে শিশুটির জন্ম দেয়, আর তারপর অল্প কিছু পয়সার বিনিময়ে বেচে দেয় অন্য কারো কাছে।
দেশে ফেরা ফর ডামি'জ : অরিজিৎ মুখোপাধ্যায়
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ২১ সেপ্টেম্বর ২০০৮ | ২৩৫৫ বার পঠিত | মন্তব্য : ২
দেশে ফিরছেন? কলকাতায়? অনেককাল বিদেশে আছেন কি? এই ধরেন আট-দশ-বারো বছর? একা না দোকা? নাকি পোঁটলা-পুঁটলি, থুড়ি ছানা-পোনাও আছে? তাইলে পড়ুন ভাট প্রকাশনী থেকে সদ্য প্রকাশিত "দেশে ফেরা ফর ডামিজ' - অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পান, জেনে নিন কি কি আপনার জন্যে অপেক্ষা করে আছে, কোথায় কখন কি করবেন এবং করবেন না। এই বই এক কথায় আপনাকে তৈরী করে দেবে দেশে পা রাখার জন্যে।
খোলা পাতা, খোলা কোড - তৃতীয় পর্ব : অরিজিৎ মুখোপাধ্যায়
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি | ২১ জানুয়ারি ২০০৮ | ২১৫৪ বার পঠিত
একটা ধারণা রয়েছে যে "ওপেন সোর্স কোডের প্রতিটা লাইন যেহেতু সকলের সামনে খোলা পাতা, তাই এই সফটওয়্যার ভেঙে ঢোকাও সহজ'। ধরা যাক ওপেন সোর্স ওয়ার্ড-প্রসেসর "ওপেন অফিস'-এ তৈরী করা একটা ডকুমেন্ট। ডকুমেন্টটা আপনি সুরক্ষিত করতে চান - অর্থাৎ অন্য কেউ যাতে খুলে পড়তে না পারে - হয়তো আপনার ইনকাম ট্যাক্সের গোপন কথা, বা গোপন ডায়েরী - তো, এর সহজ উপায় হল পাসওয়ার্ড প্রোটেকশন রাখা, আপনি তাই করলেন।
ত্রাণ ও রাজনীতি : অরিজিৎ
বুলবুলভাজা | আলোচনা : সমাজ | ১৩ অক্টোবর ২০২০ | ৪১০১ বার পঠিত | মন্তব্য : ১
বাম আন্দোলনের ঐতিহ্য ব্যতিরেকেই বলতে পারি সংকটের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইতিহাস বাংলার সমাজে আছে এবং তা পাপপুণ্যের ভাবনার বদলে সামাজিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে করার বিষয়টাই বাঙালির মনে ঢুকে আছে। অতীতেও দেখেছি হরেক কিসিমের সামাজিক সংগঠন, বিদ্যালয়, ক্লাব, রাজনৈতিক দল কিংবা গণসংগঠন এই কাজে নেমে পড়ে, হয়তো বা কোনো রাজনৈতিক দিশা ছাড়াই।
অগ্নিযুগের মাধবীলতা : অরিজিৎ গুহ
বুলবুলভাজা | ইস্পেশাল : উৎসব | ১২ নভেম্বর ২০২০ | ৩৯৭০ বার পঠিত | মন্তব্য : ৫
প্রথমবার জেলে যাওয়ার পরই সুধারাণী বুঝে গেছিলেন তার বিবাহিত জীবনের পরিণতি কী হতে চলেছে। তার মেধাবী স্বামী শুধু পড়াশোনা করার জন্যই কলকাতায় যান নি। পড়াশোনার পাশে পাশে দেশকে স্বাধীন করার সংকল্পও নিয়ে রেখেছেন। গোপন বিপ্লবী জীবন কাটানোর মাঝেমাঝে হয়ত গ্রামে এসে কোনো এক রাতের জন্য স্ত্রীর সাথে দেখা করতেন, আবার সকাল হলে চলে যেতেন। পুলিশ খবর পেলে বাড়িতে হানা দিত। এভাবেই চলত দিনের পর দিন। কখনো বা স্বমীর অনুরোধে কোনো বিপ্লবীকে লুকিয়ে রাখতেন বাড়িতে। তার পরিচর্যা করতেন। একদিনের জন্যও হয়ত বিবাহিত জীবনের সুখ লাভ করেন নি। তবু কোনোদিনও কোনো অভিযোগ করেন নি। দেশের কাজ মনে করেই হয়ত হাসিমুখে সমস্ত কিছু সহ্য করে গেছেন।
যখন কালাপানির সাজা হল তখন থেকে দেশের কাজের পাশাপাশি সংসারের হাল নিয়েও দুশ্চিন্তা শুরু হল৷ বৃদ্ধ শ্বশুর তখন পুরোপুরি ছেলের বৌ এর ওপর নির্ভরশীল। বিয়ের সময় সুধারাণী পড়তেন ক্লাস এইটে। পড়াশোনায় বেশ ভালোই ছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর তখনকার প্রথা অনুযায়ী পড়াশোনা ছাড়তে হয়৷ এরপর স্বামী ঘরছাড়া থাকার সময়ে বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা শেষ করেন। সংসারে টানাটানি দেখা দিল চাকরির চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু একেই তো চাকরির পক্ষে বয়স বেশি হয়ে গেছিল, তারওপর যখন সবাই শুনতেন ফণীভূষণের স্ত্রী, তখন আরোই ভয়তে চাকরিতে বহাল করতেন না। হয়ত কয়েকমাসের জন্য কোথাও পড়ানোর কাজে ঢুকেছেন, ফণীভূষণের স্ত্রী পরিচয় বাইরে আসার সাথে সাথেই চাকরিটা খোয়াতে হত। এভাবেই কোনোরকমে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে সংসার।
নিউক্যাসল : অরিজিৎ মুখার্জী
বুলবুলভাজা | ইস্পেশাল : পুজো ২০০৬ | ০১ অক্টোবর ২০০৬ | ৯৭২ বার পঠিত
শেষ কবে কলকাতার পুজো দেখেছি? বছর কুড়ি আগে বোধহয়। পুজো দেখার গপ্পো সকলে জানে, আর সকলের মতনই ছোটবেলায় কলকাতার রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো, মণ্ডপে যাওয়া - পারোলিনের পুজোর সঙ্গে আমার ছোটবেলার পুজোর কোন তফাৎ প্রায় নেইই। আরো পরে পুজো আর টানতো না - ভিড়, শব্দ, আলো থেকে দূরে নিজের দশ ফুট বাই দশ ফুটের রাজ্যে একটা বই, বা বেহালা, বা টেপরেকর্ডার - এই নিয়ে সময় কাটতো। লাল চশমা পরা আমি পুজো থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করতুম। রাস্তায় যেতে-আসতে যেটুকু চোখে পড়ে সেটুকু ছাড়া বাকিটা পুজো না-দেখা বললেই চলে। তারপর শুরু যাযাবরের জীবন, এঘাট সেঘাটের জল খাওয়া, লাল চশমার ওপর বাস্তবের প্রলেপ পড়া - তখন পুজোর মানে পুজা-অর্চনা থেকে বদলে হয় নিছক আড্ডা - শুন্য আর এক, এই দুটো সংখ্যার বাইরে একটা গেট-টুগেদার...