কোনো একটা ক্যাম্পে বেশ কিছু মেয়েকে অপহরণ করে রাখা হয়েছিল। তাদের চোখ বাঁধা থাকত। বাংক থেকে নামিয়ে তাদের বাথরুমে নিয়ে যাওয়ার সময় স্লিপার পরতে দেওয়া হত। সেই স্লিপার এর স্ট্র্যাপগুলিতে ছিল একটা করে সূর্যমুখী। অন্য কোনো ফুল হয়তো বা। মেয়েগুলি এক পায়ের পাতা দিয়ে অন্য পায়ের স্ট্যাপএর সেই ফুল গুলি ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখতো। তাদের ভালো লাগতো খুব। ভালো লাগার এই ছিরির কথা শুনে অনেকেই নাক তুলবেন, বেঁকা কথা বলবেন। ওই অবস্থায় ভালো লাগে কী করে! তাই না? আসলে সব অবস্থাতো আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না! অথচ অনেক সময় তার থেকে বেরোবার পথটিও অন্ধকারে ঢাকা থাকে সাময়িকভাবে। এমত অবস্থায় ধৈর্য ধরতে হয়। পরিস্থিতিটা থেকে নিষ্কৃতি ... ...
তর্ক/বাদ/বিতণ্ডা বাংলার নিজের সম্পত্তি নিয়ে আলোচনায় প্রথমেই উঠে আসে যে তিনটি বিষয়ের নাম,তারা হল: হিমসাগর আম, কীর্তন আর নব্য ন্যায়। হিমসাগর আম নিয়ে আর নতুন করে কী বা বলি? কীর্তন কী? সে হল নাড়ীর গভীর থেকে উঠে আসা হাহাকার : রাধে... এ.! সে বুঝি মানব জনমের সেই সার্থক অনুভূতি যেখানে সব খুইয়ে সব পেয়েছির অভিযান! বাকি রইল নব্য ন্যায়। সে কী দিলে আমাদের? সে দিলে প্রতিদিনের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে চিন্তা ভাবনার বাস্তব তলোয়ার! সে তলোয়ারের সাথে প্রাচীন ন্যায় আমাদের চেনা করিয়ে দিলেও নব্য ন্যায় তাতে শান দিয়ে দিয়ে কোন কাজে কোনটি কেমন ভাবে ব্যবহার করব সেটি হাতে কলমে শিখিয়ে ছেড়েছে! প্রয়োজনমাফিক আসে ... ...
বাদ ও সংবাদ 'Psephologist ' শব্দটার মানে কী, বা আদৌ এমন একটা শব্দ যে হয়, সেটা জেনেছিলাম আপনার কাছ থেকে।সাদা কালো ফিলিপস চোদ্দ ইঞ্চি, ক্রিকেট, বুনিয়াদ বা নুক্কর সবার সাথেই দেখা উচিত, পরীক্ষা যার,সে দরকারে পাশের ঘরে, ছাদে,বা বন্ধুর বাড়ি গিয়ে পড়ো --- পড়শীরা ওয়ার্ল্ড কাপ দেখবে না তাই বলে? এমনি একটা সময় একজন দাড়িওয়ালা লোক শুক্কুরবার রাতে হাজির হত World This Week নিয়ে। গিলতাম জাস্ট।আর ভোটের সময় তার বিশ্লেষণ। সব বুঝতাম তাতো নয়, তবে আসতে আসতে মন, বুদ্ধি তৈরি হত পরিণততর কিছু গ্রহণ করতে। এখনকার মত তখন টিভি পর্দায় ঘোর গরমে বেগুনি শুট পরে কেউ চিৎকার করতে করতে ছুটে আসতনা,পর্দাটা কে ... ...
গোধূলি গগনের মেঘ যখন তারাদের ঢাকিয়াছিল, তখন সেই একরঙা, নিবিড় মেঘখন্ডখানির নিচে তিনি বোটখানি তীরে বাঁধিয়া,আলো নিভাইয়া দিয়া সম্মুখে জনপদখানির চলমান রূপটি উপভোগ করিতে থাকিলেন। পথে কর্মময় নারী পুরুষ, মন্দিরের আরতিধ্বনি, একে একে দীপ জ্বলিয়া উঠিতেছে বাড়িগুলিতে --- আহা, সাধারণের,চলমানের কি অসাধারণ চিরায়ত রূপখানি!এই পুলক বুঝি অনন্তের সাথে হঠাৎ ই দেখা হওয়ার। তিনি তাঁর পত্রে লিখিলেন:কত লোক, কত ইচ্ছা, কত কাজ, কত শত গৃহ,গৃহের মধ্যে সেই জীবন রহস্য,সংঘাত --- জীবনের এই বৃহৎ প্রবাহ কোথাকার কোন পথ দিয়ে যে হৃদয়ের মধ্যে পথ পায় --- শুধু যেন ধ্বনি আমরা শুনিতে ... ...
আহা! নির্জন সেই বনপথ। সে পথের শেষে এক আলোজ্বলা বাড়ি। পথের কথায় আবার বাড়ি কেন? ওমা! পথ তো পথ হয় কোথাও একটা পৌঁছে দিতেই! তাও জানোনা? আহা! পথের শেষে বাড়িটি! দুটি সিঁড়ি আছে সে বাড়ির। বারান্দায় হলুদ আলো, দুর্বল হলেও কেমন তার মায়া মাখা আমন্ত্রণ! বেশী উজ্জ্বল হলে তাকে বুঝি উদ্ধত লাগতো! কারণ, সে তখন সেই বনপথের নরম ছায়াময় আব্রুর সম্মান রাখতোনা। সে উপদ্রব হত। কিন্তু এ বাড়ি তা নয়। নির্জন বনপথই যেন পৌঁছে দেয় সেই বাড়িতে। আহা! সে পথটি! সে বনপথটি! জ্যোৎস্না মেখে হাসি হাসি, কিংবা, কেবল তারার আলো মেখে রহস্য-স্মিতা! হিম ওড়না গায়ে জড়ালে সে আর যেন তোমায় এগোতে দেয়না সামনে! ... ...
কী বুঝবে তার একটুখানি মাত্র রয়েছে আমার মনের ভিতরে। বাকি পুরোটাই তোমার মধ্যে, সে সাকিনটির মধ্যে আর তার সাথে তোমার রসায়নের মধ্যে। শেষটা তো এখুনি বোঝা যাচ্ছেনা ---গেলেই বুঝবে! যাবেটা কোথায়? তাইতো? হ্যাঁ সেটাই বলছি। ছুটি তেমন নিতে হবেনা। একটি বেলা হলেই যথেষ্ট। বাকিটা তোমার ব্যাপার। তবে সক্কাল সক্কাল বেরোনোই ভালো। কাঁচা রোদটি কেমন কুয়াশার গায়ে পড়ে পড়ে ঝিলিমিলু খেলছে দেখতে হবেনা? একটু মুড়িসুড়ি দিয়ে বেরিয়ে পড়ে ট্রেনে উঠে বসে পড়ো। জানলা পেলে তো কথাই নেই। ডান দিক না বাঁ দিক ----করার দরকার নেই, রোদ এখন মিঠে। তারপর ট্রেন চলতে শুরু করলে আবার মোবাইল খুলে বসোনা যেন! তাই যদি কর, তাহলে আর বেরোলে ... ...
হেনরি নামটাই যেন অন্য কিছু বোঝাতে চায় ---করতে চায়! এই যেমন জন হেনরি, কিংবা হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও! আরেক হেনরির সাথে চেনা করিয়ে দিয়েছিলো শুকতারা। বাঁটুল দি গ্রেট, হাঁদা ভোঁদার পাশাপাশি অনুবাদ গল্পগুলি দিত অন্যরকম স্বাদ! আর তার সুতো ধরেই জেনেছিলাম ও হেনরি নামের একজন গল্প বলা লোকের কথা! 'শেষ পাতা ' গল্পটা পড়ে, মনে আছে বালিশে মুখ গুঁজে কেঁদেছিলাম।পরে জানলাম লোকটার আসল নাম উইলিয়াম সিডনি পোর্টার! বিচিত্র ও বহুমুখী উৎসাহের মধ্যে গপ্প লেখাটা সবার আগে এসে দাঁড়ালেও একটা সময়ে তার পরিচয় ---ব্যাঙ্কের কেরানি, তায় আবার তহবিল তছররুপের দায়ে গারদে! তখন গপ্পো লিখতে হচ্ছে মা হারা কন্যাটির খাবার জোটাতে! ছদ্মনাম ... ...
ভোলা, ভালা আর তোলা একজামিন দিলো। ভোলা আর ভালা পাস করলো, তোলা জানতো সে পাস করবেনা। তাই তোলা কানতে কানতে দিদিমনির কাছে গেল। দিদিমনি তাকে বললো খেত থেকে উচ্ছে বেগুন পটল মুলো এনে দিলে তার গতি হয়ে যাবে। রেজাল্ট বার হলো। দেখা গেল ভোলা আর তোলা পাস হয়ে গেছে আর ভালা র কপালে ছাই। ভালা রেগে অনশন করলো। তখন খুব একটা কান্ড হলো। দেখা গেল তোলার খাতায় কিচ্ছু নাই। তোলাকে তখন তাড়িয়ে দেওয়া হলো। তখন দিদিমনি উচ্ছে বেগুনের শপথ নিয়ে দাদার কাছে দরবার করলো। মোকোদ্দমা হলো! তোলা আবার ফিরে এলো। ইদিকে দরবারে বলা হলো ভোলা আর তোলার মধ্যে কি পোভেদ ... ...
জনসংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচন গতকাল.....?.... সাঙ্গ হলো। রাজনৈতিক দল ও ভোট দানকারী র তুলনায় অনেকটাই ফ্যাকাশে আলোয় ভোট কর্মীরা যাঁদের অমানুষিক পরিশ্রম ছাড়া এই রঙ্গ সম্ভবই হতনা। এদের মধ্যে একটা বড় অংশ মহিলা। পিঠে নিজেদের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যাগ,সাথে ভারী ভারী ভোট মেশিন ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে এদের হেঁটে যেতে দেখা গেছে, অপেক্ষা করতে দেখা গেছে, খবরের কাগজের ছবিতে খুব ছোট্ট ... ...
সরস্বতী পুজোর পরের দিন শীতল ষষ্ঠী। গোটা সেদ্ধ খেতে হয়। কিন্তু কে না জানে পিতৃতন্ত্রের অঘোষিত স্বর বলে দেয় আনুষ্ঠানিক খাদ্যযাপন সর্বদা পিতৃপক্ষ ধরে? বউ মানুষদের মানিয়ে নিতে হয়। তাই তাদের পছন্দের এ বাংলার গোটা সেদ্ধ আসে প্রতিবেশীর হেঁশেল থেকে। গোটা মুগ গোটা কুল আর একটা শীষ পালং এর ডগা। আর কি মনে নেই। বড় আদরে, বড় যত্নে, স্মৃতি কাতর মা আর কাকিমা হাতে নিয়ে একটু একটু করে খেত, নাকি হেঁটে যেত কিশোরী বেলায়? আজ দুপুরে ফুলের ... ...