আহা! নির্জন সেই বনপথ। সে পথের শেষে এক আলোজ্বলা বাড়ি। পথের কথায় আবার বাড়ি কেন? ওমা! পথ তো পথ হয় কোথাও একটা পৌঁছে দিতেই! তাও জানোনা? আহা! পথের শেষে বাড়িটি! দুটি সিঁড়ি আছে সে বাড়ির। বারান্দায় হলুদ আলো, দুর্বল হলেও কেমন তার মায়া মাখা আমন্ত্রণ! বেশী উজ্জ্বল হলে তাকে বুঝি উদ্ধত লাগতো! কারণ, সে তখন সেই বনপথের নরম ছায়াময় আব্রুর সম্মান রাখতোনা। সে উপদ্রব হত। কিন্তু এ বাড়ি তা নয়। নির্জন বনপথই যেন পৌঁছে দেয় সেই বাড়িতে। আহা! সে পথটি! সে বনপথটি! জ্যোৎস্না মেখে হাসি হাসি, কিংবা, কেবল তারার আলো মেখে রহস্য-স্মিতা! হিম ওড়না গায়ে জড়ালে সে আর যেন তোমায় এগোতে দেয়না সামনে! ... ...
কী বুঝবে তার একটুখানি মাত্র রয়েছে আমার মনের ভিতরে। বাকি পুরোটাই তোমার মধ্যে, সে সাকিনটির মধ্যে আর তার সাথে তোমার রসায়নের মধ্যে। শেষটা তো এখুনি বোঝা যাচ্ছেনা ---গেলেই বুঝবে! যাবেটা কোথায়? তাইতো? হ্যাঁ সেটাই বলছি। ছুটি তেমন নিতে হবেনা। একটি বেলা হলেই যথেষ্ট। বাকিটা তোমার ব্যাপার। তবে সক্কাল সক্কাল বেরোনোই ভালো। কাঁচা রোদটি কেমন কুয়াশার গায়ে পড়ে পড়ে ঝিলিমিলু খেলছে দেখতে হবেনা? একটু মুড়িসুড়ি দিয়ে বেরিয়ে পড়ে ট্রেনে উঠে বসে পড়ো। জানলা পেলে তো কথাই নেই। ডান দিক না বাঁ দিক ----করার দরকার নেই, রোদ এখন মিঠে। তারপর ট্রেন চলতে শুরু করলে আবার মোবাইল খুলে বসোনা যেন! তাই যদি কর, তাহলে আর বেরোলে ... ...
হেনরি নামটাই যেন অন্য কিছু বোঝাতে চায় ---করতে চায়! এই যেমন জন হেনরি, কিংবা হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও! আরেক হেনরির সাথে চেনা করিয়ে দিয়েছিলো শুকতারা। বাঁটুল দি গ্রেট, হাঁদা ভোঁদার পাশাপাশি অনুবাদ গল্পগুলি দিত অন্যরকম স্বাদ! আর তার সুতো ধরেই জেনেছিলাম ও হেনরি নামের একজন গল্প বলা লোকের কথা! 'শেষ পাতা ' গল্পটা পড়ে, মনে আছে বালিশে মুখ গুঁজে কেঁদেছিলাম।পরে জানলাম লোকটার আসল নাম উইলিয়াম সিডনি পোর্টার! বিচিত্র ও বহুমুখী উৎসাহের মধ্যে গপ্প লেখাটা সবার আগে এসে দাঁড়ালেও একটা সময়ে তার পরিচয় ---ব্যাঙ্কের কেরানি, তায় আবার তহবিল তছররুপের দায়ে গারদে! তখন গপ্পো লিখতে হচ্ছে মা হারা কন্যাটির খাবার জোটাতে! ছদ্মনাম ... ...
ভোলা, ভালা আর তোলা একজামিন দিলো। ভোলা আর ভালা পাস করলো, তোলা জানতো সে পাস করবেনা। তাই তোলা কানতে কানতে দিদিমনির কাছে গেল। দিদিমনি তাকে বললো খেত থেকে উচ্ছে বেগুন পটল মুলো এনে দিলে তার গতি হয়ে যাবে। রেজাল্ট বার হলো। দেখা গেল ভোলা আর তোলা পাস হয়ে গেছে আর ভালা র কপালে ছাই। ভালা রেগে অনশন করলো। তখন খুব একটা কান্ড হলো। দেখা গেল তোলার খাতায় কিচ্ছু নাই। তোলাকে তখন তাড়িয়ে দেওয়া হলো। তখন দিদিমনি উচ্ছে বেগুনের শপথ নিয়ে দাদার কাছে দরবার করলো। মোকোদ্দমা হলো! তোলা আবার ফিরে এলো। ইদিকে দরবারে বলা হলো ভোলা আর তোলার মধ্যে কি পোভেদ ... ...
জনসংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচন গতকাল.....?.... সাঙ্গ হলো। রাজনৈতিক দল ও ভোট দানকারী র তুলনায় অনেকটাই ফ্যাকাশে আলোয় ভোট কর্মীরা যাঁদের অমানুষিক পরিশ্রম ছাড়া এই রঙ্গ সম্ভবই হতনা। এদের মধ্যে একটা বড় অংশ মহিলা। পিঠে নিজেদের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যাগ,সাথে ভারী ভারী ভোট মেশিন ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে এদের হেঁটে যেতে দেখা গেছে, অপেক্ষা করতে দেখা গেছে, খবরের কাগজের ছবিতে খুব ছোট্ট ... ...
সরস্বতী পুজোর পরের দিন শীতল ষষ্ঠী। গোটা সেদ্ধ খেতে হয়। কিন্তু কে না জানে পিতৃতন্ত্রের অঘোষিত স্বর বলে দেয় আনুষ্ঠানিক খাদ্যযাপন সর্বদা পিতৃপক্ষ ধরে? বউ মানুষদের মানিয়ে নিতে হয়। তাই তাদের পছন্দের এ বাংলার গোটা সেদ্ধ আসে প্রতিবেশীর হেঁশেল থেকে। গোটা মুগ গোটা কুল আর একটা শীষ পালং এর ডগা। আর কি মনে নেই। বড় আদরে, বড় যত্নে, স্মৃতি কাতর মা আর কাকিমা হাতে নিয়ে একটু একটু করে খেত, নাকি হেঁটে যেত কিশোরী বেলায়? আজ দুপুরে ফুলের ... ...
ক্লাস টেন এর টেস্ট পরীক্ষার রেসাল্ট নিয়ে হটাৎ ই বেরিয়ে পড়া গোটা দশ বারোজন। চলো আমতলা ঘাট। বদনাম আছে ওই ঘাটের । জলের তলায় ঘূর্ণি! একদিনে পাঁচ- পাঁচ টা ইস্কুলের ছেলেকে খেয়েছে ও নদী! তবু কৈশোর পেছনে তাকাতে পারেনা! পেছনে কতটুকুই বা সে মনে করতে পারে? তাই কল্পনা তার সামনের বাঁকটি ঘিরে ,যদি না ইতিমধ্যে কোনো অঘটন ঘটে! তাই হিহি করতে করতে রাঢ় বাঙলার পৌষের ... ...
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ফুলচোর উপন্যাসে এক মাস্টার মশাই ছিলেন যিনি কিনা কোয়ালিফিকেশন খ্যাপা! টাইপ শেখো, ইলেকট্রিকের কাজ শেখো.. দিগ্বিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে শুধু শিখে যাও!এতগুলি বিজাতীয় যোগ্যতা ধুয়ে কী ভাবে জল খাবো সেটি জিজ্ঞেস করেছো তো মরেছো! বাস্তব জীবনে এরকম নানান কিসিমের উৎসাহদাতার সাথে আমরা সকলেই পরিচিত।এক অংক স্যার বিদঘুটে সময়ে অংক করাতে আসতেন, শীতের রাত সাড়ে দশটা ... ...
জানুয়ারি একটা ভুলভাল রকমের ভালো মাস! শীত জব্বর, অথচ দুপুরের পর হারিয়ে যাওয়া সোনালী বিকেল আবার ফিরতে থাকে, আসে স্পোর্টস আর বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী। প্রাইজ পাওয়া গুটিকতক ব্যক্তিগত আনন্দ ক্যাবলা হেসে নিজেদের সমর্পণ করে তাদের চারপাশ ঘিরে রাখা প্রাইজ না পাওয়াদের উদ্দাম গুষ্টিসুখের দরাজ বুকে। তা, সে বছর কলকাতা ... ...
ইতালিদেশের যেমন তাস্কেনি, যুক্তরাজ্যের যেমন স্কটল্যান্ড, মেদিনীপুরের তেমন ধর্মা (দেশ ও শহরের বিস্তারগত পার্থক্য মাথায় রেখে এখানে আনুপাতিক হিসাবটি কষে না নিলে আতিশয্য দোষ হবে)। যাই হোক,পাতনে নিষ্কাসিত থির বিজুরি অথবা নিপাতনে সিদ্ধ ফেনিল উচ্ছ্বাস---দুই ধরণের মদিরতার আশ্বাস নিয়েই ধর্মা ভ্রু পল্লবে ডাক দেয় রসিকজনকে! সে এক আশ্চর্য এলদোরাদো ! রাতের অন্ধকারে মাঠের মধ্য থেকে আলো ওঠে। আলেয়া বলে ভয় পায়না কেবল তারাই, যারা জানে ... ...