পাগলা গণেশ কে?
পাগলা গণেশ কী? একটা মুরগি ধরলাম,গলাটা কেটে ফেললাম।ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোল,মুরগিটা মরে গেল।তার মাংস খাচ্ছি আমরা চারজন,আমি,আমার বাবা,আমার মা,না না,তিনজন।আমার ভাই বাইরে থাকে।আমাদের পাশে আর একটা মুরগি চরে বেড়াচ্ছে,এটা ওই মুরগির বাচ্চা,মা একটুকরো মাংস ছুঁড়ে দিল,মুরগির বাচ্চাটা খপ করে খেয়ে নিল।চিবাল না,গিলে নিল।আমার খাওয়া হয়ে গেছে,হাত ধুয়ে গামছায় হাত মুছে নিলাম।বাবা বলল,তোর মামাদাদু মারা গেছেন,আমার বন্ধু আলতাফের নানা ইন্তেকাল করেছিল,সেও মুরগি দিয়ে ভাত খেয়েছিল মরার আগে।মুরগির বাচ্চাটা এখনও চরে বেড়াচ্ছে,ওর মা আমার পেটে,কালকে সকালে ও আমার গু থেকে মাকে খুঁজবে,খুঁজে খেয়ে নিবে। ... ...
একযুগ হয়ে গেল তোমায় দেখি না।কোথায় আছো তুমি!কেমন আছো?আমি প্রায়ই সেখান দিয়ে যেতে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ি,যেখানে আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল,যেখানে দুজন বসতাম,সেই রাস্তা দিয়ে হাঁটি প্রায়ই,যেখান দিয়ে হেঁটে যেতাম।গাছগুলো এখনও আছে,পাখি আর পিচ বদল হয়েছে কয়েকবার,চেনা দোকানগুলো আছে ঠিক।ওরা আমায় চিনতে পেরে ডাকে,ওদের চোখে করুণা দেখেছি আমি,ওরা এখনও ভালোবাসে।ওসব ছাড়ো,কোথায় আছো তুমি?ভালো আছো তো? ... ...
তারপর একদিন মেঘ এল,খুব বৃষ্টি হল সেদিন।প্রলয়ের মতো।বাড়িতে বসে আমি তখন নিজের বুকটাকে খুলে মেলে ধরলাম বৃষ্টিতে,ভেতরের সব আবর্জনা ধুয়ে গেল,আমি আবার ফিরে গেলাম ঘরের ভেতর।এরকম হতেও পারত,এটা চিত্রকল্প না হয়ে বাস্তব হতো যদি?যদি তুমি ছেড়ে গেলে ধুয়ে নেওয়া যেত তোমার স্মৃতি,মা মরে গেলে যদি তার হাসি বারবার মনে পড়ে বুকটা ভার না করত আর?-ধুয়ে নিলে একবার!এমন তো হতেই পারত,শুধু আবছা অবশেষ পড়ে থাকত স্মৃতির,মাঝে মাঝে শেষ পাতের আচারের মতো জিভে দিতাম একটু,তেমন কাতর করত না আমায়।কিন্তু এমন বৃষ্টি হয় না এ ধরায়,যাতে মন ধোয়া যায়।লোকে পাপ ধোয় যদিও,মন ধোয় না কেউ। ... ...
আমাকে কেউ কোনোদিন খুব ভালোবাসেনি,কেউ আমার নাম বুকে লিখে প্রমাণ করার চেষ্টা করেনি,সে আমাকে কতটা ভালোবাসে।কেউ কেউ আলগোছে একটু অভিনয় করেছিল,কেউ অবেলায় খাবার বাসি হয়ে যাওয়ার ভয়ে যেমন খেয়ে নেয়,সেভাবেই আমাকে বেছে নিয়েছিল।আমি বরাবরই বাহুল্য। এমন নয় আমার বন্ধু নেই,প্রেমিকা নেই।কিন্তু সবাই আমায় ভুলে যায়,প্রেমিকারা অন্যের হাত ধরে চলে যায় নির্দ্বিধায়।আমি শুধু পেছনে ছুটে মরি,জিজ্ঞেস করি,শুধু একবার বলে যাও,"কেন?"কোনো উত্তর আসে না। আমি প্রাণ ঢেলে ভালবেসেছি,আমি উপেক্ষা করে দেখেছি।কিন্তু কিচ্ছু হয়নি। কারো হৃদয়ের ঘরে শুধু আমার মূর্তি থাকেনি,শুধু আমায় ভালোবেসে কেউ শহীদ হতে চায়নি। এখন আমি একা বসে থাকি,পিঁপড়ে এসে দাবি করে স্থান,কখনো কেঁচো,শেয়াল,কুকুর,বর্ষায় উদবিড়াল।আমি ছেড়ে দিয়ে সরে বসি,আবার কেউ দাবি করে,আর একটু সরে ... ...
মানুষ ভালোবাসে দুঃখ পাবে বলে,দুঃখই সত্য,সুখ মিথ্যা।সুখ মরীচিকা।মানুষ সারা জীবন ছুটে বেড়ায় সুখ পাবে বলে।যখন সুখ পেয়ে যায়,তখন বুঝতে পারে,এ তো সুখ নয়,বরং দুঃখের মুখবন্ধ।পুরোনো দুঃখের শেষে নতুন দুঃখের হালখাতা।আমি দুঃখবিলাসী,সুখের পেছনে ছোটা বন্ধ করেছি বহুকাল।আমি শুধু মৃত্যুর মন্ত্র জপ করি,মৃত্যুর অপেক্ষায়।ও আসে না,ছল করে,আড়ালে আবডালে উঁকি দিয়ে লুকিয়ে পড়ে কোথায়!আমি খুঁজে মারি,ডেকে ফিরি -সাড়া দেয় না,আসে না কাছে।মৃত্যুর পর কী হয়?জানি না,জানতে চাই না।আমি শুধু মিশে যেতে চাই পঞ্চভূতে,আবার জন্ম নিতে চাই শত প্রাণের অংশ হিসেবে,ওদের স্নায়ু,পেশী,কোষ দিয়ে অনুভব করতে চাই দুঃখ,আমি প্রতিটা অনু-পরমাণুতে।কালচক্রে,জন্মমৃত্যুর চাকায় নিষ্পেষিত হতে চাই,যতদিন না ব্রহ্মান্ডের শীতল মৃত্যু হয়,এনট্রপি চরমে না পৌঁছায়।আমি মুক্তি চাই না,চাই ... ...
তোমায় দেখব বলেই জেগে উঠি প্রতিদিন,তোমার আওয়াজ শুনব বলেই এখনো কান কেটে ফেলিনি,নইলে ভ্যান গগ আমিও হতে পারতাম,তোমার চোখে আকুতি,তোমার আঙুলের অস্থিরতা,সবকিছু আমাকে বেঁচে থাকতে বাধ্য করে,নইলে সত্যিই এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার,নরকযন্ত্রণা ভোগ করার আর কোনো কারণ নেই। আমি জীবন্মৃত, প্রেতের মতো হেঁটে চলি,আর সবকিছু যাকে লোকে বেঁচে থাকা বলে,টানা করে চলি।সবাই ভাবে বেঁচে আছি,ভালো আছি।কিন্তু আমার বুকের যেখানটায় একটা প্রদীপ জ্বলার কথা ছিল,সেখানে অনেকদিন অনেক ঝড়ে সেটা নিভে গেছে,কেউ দেখতে পায় না,একটু শক্তি লাগে কিনা,একটু কসরত করতে হয়। শুধু তুমি কাছে এলে বুঝতে পারি,ওখানে একটা উষ্ণ অনুভূতি হয়,হালকা পোড়া পোড়া গন্ধ পাই,নিঃশ্বাস একটু ভারী হয়,মাথায় ডোপামিন বেড়ে যায়,রক্ত চলাচল করে দ্রুত;আরও ... ...
সূর্য অস্ত যাওয়ার ঠিক পরে,উন্নতশীষ বটগাছখানা ধ্বসে পড়ল হঠাৎ। এতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল,চারিদিক প্রকাশিত,অবকাশ ছিল অনেক,তার ঝরে পড়া,ধরা পড়ে যেত ফাঁকি,অবহেলা সওয়া। কিছুই ছিল না অবশেষ,ভেতরের গুঁড়িখানা জর্জর,জীর্ণ বহুকাল,শুধু বাইরের বাকলের আবরণ ছিল টিকে।তাতে ঝুরিগুলো আবছায়া নিয়ে,একটু একটু করে অনেকখানি আড়াল করেছিল কবে থেকে।স্নায়ু বিকল হল আজ দুপুরে - তারপর আর কিচ্ছু ছিল না বাঁচানোর,লজ্জা ছাড়া,আর একটু আশা -না এর পরেও ঠিক হয়ে যাবে।হল না।মরে যেতে হল।কাউকে দেখানোর নেই,চিৎকার,সমবেদনা,সহানুভূতি সব অসার।মুক্তি চাই শুধু,নিঃসঙ্গ,নিঃশব্দ মুক্তি।এরা দিতে পারবে না কেউ। তাই রাতের অপেক্ষা করা। ... ...
ছাদের ফুটো দিয়ে জল ঝরে পড়ে নোংরা অ্যালুমিনিয়ামের জামবাতিতে,সেখানে জীবাণু জন্মায়,বেড়ে ওঠে।ওরা কি জানে,ওরা অ্যালুমিনিয়ামের জামবাটিতে থাকে?ওদের ভবিতব্য কে লিখে? আমার মৃত্যুর পরোয়ানা আজ সাতাশ বছর আগে লেখা হয়ে গেছে,যখন ন মাস গর্ভাবাসের পর আমি ভূমিষ্ঠ হলাম,আমি জানতাম না,আমার মাও আমার মুখ দেখে যখন খুশি হয়েছিল,সেও কি জানত?জানলে কি আমায় খুন করত তক্ষুনি?তাহলে এই এখনকার যন্ত্রণা থেকে তো মুক্তি পেত!জানি না। শীতের নিঃস্বতার পর বসন্ত তার বিষাক্ত বাতাস নিয়ে আসে।কেউ জলবসন্তে পড়ে,কেউ হামে,আর বাকিরা প্রেমে।অসহ্য লাল - হলুদ তীব্র রং সব আমার চোখ ঝলসে দেয়।আমি এখন প্রেমের নাম শুনলে ভয় পাই।আমার বুকের উপর সব স্মৃতি চেপে বসে ক্রমশ,আমার দম বন্ধ হয়ে আসে,আমার ... ...
এ রাস্তা আমার নয়,আমি ল্যাংড়া মানুষ,আমি একটাও পাথর বয়ে আনিনি এর আগে,কোনো রাস্তা নেই আমার চলার,আমার কোনো পূর্বপুরুষ নেই,থাকলেও আমি জানি না।তারা কোথায় রাস্তা বানিয়েছে তাও জানিনা তাই।জানলে হেঁটে দেখতাম,কেমন লাগে বাপের রাস্তায় চলতে।ওরা আমার ধাক্কা মেরে ফেলে দিতে পারত না তাহলে।দিলেও আমি ঘুঁষি মেরে মুখ ফাটিয়ে দিতাম।তার জন্য আমায় জরিমানা দিতে হত না,তারপরেও রাস্তায় চলা বন্ধ হত না জীবনভর। আমি কিন্তু আমার অপত্যদের এর থেকে ভালো জীবন দেব,রাস্তা দেব চলার,হাত দেব ঘুঁষি মারার।তাই আমি এই খোঁড়া পায়েও পাথর বয়ে দিয়েছি ওদের,ওরা বলেছে চলতে দেবে।ওদের বিশ্বাস নেই,কিন্তু আমি আমার সন্তানকে প্রতিদিন ঘুঁষি পাকানো শেখাচ্ছি। ... ...
<a href="https://ibb.co/WNLn7Gqm"><img src="
alt="file-0000000052147208a65a5a61172fd81e" border="0"></a> প্রতিদিন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দেখি।একটা বাচ্চা ছেলে বিকৃত মুখ,বিকলাঙ্গ শরীর নিয়ে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা করছে।তার পাগুলো সরু সরু,কাঠির মতো,হাঁটুর কাছে ভেতরের দিকে মোড়া।হাতদুটোর অবস্থা তার থেকেও খারাপ।কাঁধ থেকে শীর্ণ হাতদুটি নেমে এসে কনুইয়ের কাছে পাগলা বাঁক নিয়েছে,তারপর কব্জির কাছে আবার একবার। এরূপ শ্রীর জন্য সে কাছে যেতে চাইলেই লোকেরা নাক মুখ শিঁটকে দূর দূর করে তাড়াত।তাতে সে কিন্তু হতোদ্যম হতো না,বরং একই ঘ্যানঘ্যানে নাকি গলায় বলত,"বাবু,কিছু দ্যান,কিচ্ছু খাইনি।" বা "দিদি কিছু দ্যান,কিচ্ছু খাইনি।"এর বাইরে সে একটি কথাও বলত না।কিন্তু তার এই রূপের জন্য রোজগার তার ভালোই হতো।অন্তত ওই এলাকার আর দশজনের থেকে বেশিই হতো।আর যে ... ...