পাগলা গণেশ কে?
পাগলা গণেশ কী? ১আমিশা অবিনাশের হাত ধরে ফেলল।"তুমি আমাকে ছেড়ে যেও না,প্লিজ।তুমি জানো আমি মরে যাব।"কিন্তু অবিনাশ আবার নিস্পৃহ ভঙ্গিতে বলল,"মরলে মরবে।আমার হাত ছাড়ো,লোক দেখছে।"আমিশা - "দেখুক।তুমি আমায় ছেড়ে যেও না।তুমি যা বলবে আমি তাই করব,আমাকে তোমার দাসী করে রেখো,ছেড়ে যেও না।"অবিনাশকে খুব বিব্রত দেখায়।চারিদিকে চেয়ে দেখে,প্রায় সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে।এমন সময় পেছন থেকে একজন ধাক্কা দিয়ে বলল,"আরে এখানে দাঁড়িয়ে ন্যাকামি করছেন কেন, এগোন না মশায়।ওসব করতে গেলে সিঁড়ির কোণে গিয়ে করুন।সবার আপনাদের মতো এত বাজে সময় নেই।"অবিনাশ খুব বিব্রত হল,"সরি, সরি,মাফ করবেন।"বলেই ঘুরে দাঁড়াল আমিশার দিকে।তারপর তার হাত ধরে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে গেল সিঁড়ির কোণে,তারপর গালে একটা সজোরে চড় কষাল।আমিশা ... ...
দিনবদলের দিনগুলো,রঙিন,দ্রুত,অবিরাম,আনন্দময়।রাতগুলো গাঢ়,ধীরে চলে,পুরোনো কাঁথায় মোড়া,তেলচিটে বালিশ।পুরোনো ঘামের গন্ধ,যে কটা অশ্রু ফোঁটা ওখানে পড়েছিল,রয়ে গেছে।তারা বড্ড ধারালো হয়ে ফিরে আসে,প্রতিশোধ নিতে চায়। কাটে রাত, গাল কাটে।দিনে অ্যাড্রিনালিন মেশে রক্তে,সব ব্যাথা ভুলে যাই।তারপর বিকেল হলেই এখন,ভয় চেপে বসে বুকের উপর,ঘর যেতে মন চায় না।ঘুম লাগে খুব,ফিরে যেতে হয়। ক্রমে আমি ঘরের অন্ধকারে আমার ভয়ের প্রতিভূ দেখতে পাই,ও শরীর ধারণ করে।আমাকে আমন্ত্রণ জানায়,ডাকে -আমার বুকের রক্ত হিম হয়ে আসে।দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ক্লান্তি পেছন থেকে ঠেলে,রাত বাড়তে তার জোর বাড়ে,এদিকে বাড়ে ভয়ের আকর্ষণ,সে আরো লোভ দেখায়। আবার ফিরতে হয় ঘরে,সেই কামরায় -যেখানে আমার ভূত আছে,আমার শৈশব কলকল করে লাফিয়ে পড়ে আমার বুকের উপর;আমার দমবন্ধ হয়ে আসে। ক্ষুধিত পাষাণ।আমার ... ...
https://www.guruchandali.com/comment.php?topic=33827 ... ...
ঘোড়া।দাঁড়িয়ে আছে কংক্রিটের শহরে,একচিলতে ঘাসের মধ্যে।ওর সামনে ওর মৃত পূর্বপুরুষেরা,ওকে ধিক্কার দিচ্ছে,ও দেখতে পাচ্ছে তাদের ,ওরা প্রাগৈতিহাসিক,বিরাট,পেশীবহুল, বীর্য্যবান,বীর।আজকের আমাদের ঘোড়াটি ওদের দেখে লজ্জা পাচ্ছে।ওরা স্বাধীন,আমাদের ঘোড়া নিজেকে বিক্রি করে দিয়েছে,দুমুঠো খাবারের জন্য।কিন্তু তবু আমাদের ঘোড়াটি মালিককে ছাড়তে চায় না,স্বাধীনতা চায়, বেইমান হতে চায় না। ওর ছেলেমেয়েও দাস হবে,কিন্তু তারা কোনো কাজে লাগবে না আর এ সভ্যতায়,ওদের বিকল্প আছে।ও একইসাথে পূর্বপুরুষ আর উত্তরপুরুষদের দিকে তাকিয়ে আছে,তবে এখানে একটা অমিল আছে,ও নিজের উত্তরপুরুষদের,সন্তানদের, অপত্যদের ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখছে না,করুণা ঝরে পড়ছে ওর চোখ দিয়ে,নিজেকে ধিক্কার দিচ্ছে আমাদের ঘোড়া।ও খুব দূর্বল হয়ে পড়ছে,অশ্রুঝাপসা দৃষ্টিতে ওদের দেখছে,নিপীড়িত,অবহেলিত,ব্রাত্য পশুগুলো ওর আজকের দুর্বলতার ফল,দ্বিধার ফল।ও চাইলেই চক্র ... ...
একটা ছবির কথা খুব মনে পড়ে।আমি,আমার মা নীচে বসে আছি,হাসছি।আব্বু বিছানার উপর রুটিটা ঝোল ডুবিয়ে মুখে তুলতে যাচ্ছে।আমি আঠাশ,আম্মা পঞ্চাশ আর আব্বু ষাট।দেখলে সুখী পরিবার মনে হয়।কিন্তু আমি আমার আব্বুকে খুব ঘৃণা করি,প্রাণপণে।আমার আম্মা চির নিপীড়িত বঞ্চিত।আমিও বঞ্চনা করি,কিন্তু আম্মা কিছু বলে না,আমাকেও না,ভাইকেও না,আব্বুকে তো নয়ই।আমার আম্মা ধর্মভীরু মানুষ,খুব আল্লাকে মানে।আব্বুও তাই,তবে সে তার মর্জির মালিক,তার মতের বিরুদ্ধে আল্লা দাঁড়ালে তাকেও রেয়াত করবে না আমি জানি।আমার ভাই এই ছবিতে নেই,সে দিল্লিতে।জরির কাজের নকশা তৈরি করে। কয়েক বছর কেটে গেছে এরপর,আব্বু মরে গেছে,ঘুমের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক করেছিল,হাসপাতাল যেতে হয়নি।আম্মা অশক্ত,আমি মধ্য তিরিশে।ওই ছবিটা দেখি আর ভাবি,আব্বুর উপর প্রতিশোধ নেওয়া হল ... ...
যেসব নদীর বুকে পিলার গেঁথে দিয়েছ, তারা কী করে সুখী হবে? তোমার নদীর উপর দিয়ে যেতে ভালো লাগে, ভালো লাগে চুম্বনরত বা আলিঙ্গনাবদ্ধ শুকসারি - কিন্তু যার বুকে ক্ষত, টন টন ভার বয়ে সুখী হতে পারে কি সে? তোমার শহরে যেতে কম সময় লাগে, সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফিরতে পারো, সেগুলো তোমার লাভ। কিন্তু নদীর তো বুকের রক্ত বাধা পায়, বইতে পারে না, গান গায় না বহুদিন। ওর করোনারি আর্টারি ব্লক হয়ে ... ...
উঠে খুব রাগ, কিছুটা শ্রান্তি, শান্তি, অনিশ্চয়তা আর ভয় -আমি কম্বল চাপা দিয়ে শোয়ার চেষ্টা করি,ঘুম আসে না।পাশের বাড়ির কাকিমা চেঁচামেচি লাগায়, "ও আব্বাসের আব্বা উঠো না, সাপে কামড়েছে মনে হয় রোমানাকে।"আমার ইচ্ছে হয় উঠে যাই, দেখি কী ব্যাপার!কিন্তু আমি গত এক সপ্তাহ ঘুমাইনি,আমার বাপের মাথার কাছে ঠাই জেগে বসেছিলাম।আজ সন্ধ্যায় তাকে কবর দিয়ে এলাম,এবার একটু বিশ্রাম দরকার।নিজের অপরাধবোধ হয়,কিন্তু আমার আর উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা নেই,আমি কি অপরাধী?আমি তো কিছু করতে পারতাম,পরিচিত ছিল অনেক, যারা সাহায্য করতে পারত,হাসপাতাল আমার চেনা জায়গা,মেয়েটা হয়তো বেঁচে যেত।কিংবা যেত না।সবাই কি বাঁচে?যাদের আমি নেই!জানি এসব নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য,কিন্তু বিশ্বাস করো,আমার ঘুমটা খুব ... ...
সেবছরও ফুল ফুটেছিল - কিন্তু চারিদিকে এত ধোঁয়া ছিল, সব ফুল ঝরে গিয়েছিল। মৌমাছি, পিঁপড়ে, শামুক বা টুনটুনি কেউ আসেনি, আসতে পারেনি। কেউ পথ হারিয়ে ফেলেছিল, বাকিরা গিয়েছিল মরে। সেবছর মানুষ, কুকুরের মতো মরে পড়েছিল পথে, মধ্যযুগের মতো সেবারেও যারা বেঁচেছিল, নাকে রুমাল চাপা দিয়ে হেঁটেছিল অনেকদিন। হিল তোলা জুতো বিক্রি বেড়েছিল খুব। চারিদিকে ব্যাঙের ছাতার মতো জুতোর কারখানা গজিয়ে উঠেছিল। শুধু মানুষ ছিল না। এই যে সব ঘাস ... ...
বিস্কুটের ডিবেটা খুলতেই ভেতর থেকে পিলপিল করে পিঁপড়েগুলো বেরিয়ে এল। গলগল করেও বলা যায়, কিন্তু তা ঠিক পদার্থবিদ্যার নিয়ম মানে না, প্রতিটি এককের নিজস্ব সত্ত্বা আছে তো! ওরা কেউ জানে না, আমি এখন একটা কি দুটো বিস্কুট খাব। যতই ঝাড়ি না কেন, ওদের কয়েকশত পরিজন খাবই খাব। না চাইলেও। ওরা কি আমার উপর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চাইবে? করেনি তো কোনোদিন। ওরা যদি বিশ্বাস করে ঈশ্বর ওদের ... ...