ইমার্জেন্সির বারান্দায় ভূমিগত অচেতনব্রেন টিউমার রুগী, সীমানার ওপারে এক পা বাড়িয়ে।অসহায় বাবা মা মোটে চোদ্দ বছরের ছেলের, লাট খাচ্ছে কাটা ঘুড়ির মতো হাসপাতালের বিপুল বিল্ডিং-এ, এ দপ্তর থেকে সে সে দপ্তরপ্রকান্ড উদ্বেগে।থইথই করছে অগুন্তি ছোঁড়াখোড়া ধুলো ঢাকা গ্রামের প্রজারা, ডুবন্ত জাহাজের ডেকে কোমরের কষিতে প্রাণখানা বেঁধে রেখে ভূতে পাওয়া চোখে দেখছে জনসমুদ্র সুনামির অজগর ঢেউ।নির্নিমেষে চেয়ে আছে যেন রেসকিউ পার্টির আশায় .... দুর্যোগে ধ্বস্ত। ছেলেটার যদি গতি কিছু হয় — নিষ্প্রভ ধূসর যা হোক একখানা বেড .....নিরুপায় ডাক্তার, অভ্যস্ত নির্বিকারত্ব বর্ষাতি মোড়া .... অম্লান ওয়ার্ড বয় বিড়ি ফুঁকে আসে একটু, তরতাজা বাগানের ওদিকে গিয়ে।বিকেল চারটে নাগাদ টিউমার ফেটে মারা গেল ... ...
( ৩৫ ) রমা চ্যাটার্জী বললেন, ' তোমাদের আগের পারফর্মেন্সটা দারুণ হয়েছিল। এবারেও কিন্তু ওই লেভেলের প্রেজেন্টেশান চাই মনোমিতা... '----- ' আমরা তো সব সব সময়েই আমাদের সেরাটা দেবার চেষ্টা করি। আমরা কেউই তো আর প্রফেশনাল নয়। এটা ভালবেসে করি। সিনসিয়ারলি করি। আমরা ঠিক করেছি এবার একটা কারেন্ট অ্যাফেয়ারের ওপর বেস করে কিছু করা হবে। অবশ্য ফাইনাল ডিসিশান কিছু হয়নি। বিদেশ ভট্টাচার্য আমাদের ... ...
আজ বাইশে শ্রাবণ।অম্বরের ঘনঘটায় প্রকৃতি কান্নাভেজা। ‘মেঘমল্লারে সারা দিনমান শুনি ঝর্ণার গান ....শুনি ঝর্ণার গান’।বাড়ির আর কেউ রবীন্দ্রনাথ টবিন্দ্রনাথ নিয়ে তেমন মাথা না ঘামালেও কথাকলির বছরের এই দুটো দিন — ওই বৈশাখের পঁচিশে আর এই শ্রাবণের বাইশে কেমন যেন ‘ আমার মন কেমন করে....কে জানে কাহার তরে.... কে জানে কে জানে কে জানে..... ' কোয়ার্টারগুলোর গা ঘেঁসে রেললাইন গেছে। মাঝরাতে যখন গাড়ি যায় হুইশল বাজিয়ে ঘরদোর কাঁপতে থাকে। অভ্যস্ত বাসিন্দারা একটানা ঘুমোয়। অনভ্যস্ত পরিজন কেউ থাকলে ঘুম চটে যায় বেশ কয়েকবার। কথাকলির যেমন কয়েকবার গেল। জামতাড়া থেকে এখানে এসেছে ... ...
বৈশাখ মাস। আজ বুদ্ধ পূর্ণিমা। সন্ধের মুখে রাস্তাঘাটে বৈশাখি হাওয়া। হাওয়ায় হাওয়ায় যেন ডাক দিচ্ছে। মন্দিরের জানলা দিয়ে চরণামৃত দিচ্ছে দিতি। জানলার সামনে এসে যে হাত পাতছে কুশিতে তুলে তালুতে ঢেলে দিচ্ছে দিতি।সবার দেখাদেখি হিমাংশুও হাত পাতল জানলার ধারে গিয়ে। দিতি কুশি তুলে চরণামৃত ঢালে। হিমাংশুর একহাতে মোবাইল, কাঁধে একটা ব্যাগ। হিমাংশুর পাতা হাত নড়ে যায়। দিতি তাড়াতাড়ি একহাত বাড়িয়ে হিমাংশুর হাতের নীচে হাতটা দিয়ে সোজা করে ধরে রাখে। তারপর চরণামৃত ঢেলে দেয় তালুতে। হিমাংশুর সারা শরীর আবেশে অবশ হয়ে গেল।হিমাংশু পবিত্র জল মুখে দিয়ে, মাথায় ঠেকিয়ে সরে যায় জানলা থেকে। আনমনে হাঁটতে থাকে বাস স্টপের দিকে। যাবে এলগিন রোডে ... ...
ত্রিদিবের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল গড়িয়াহাটের মোড়ে। একটা ঢাউস গাড়ি থেকে নেমে একটা ঝলমলে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ঢুকতে যাচ্ছিল। সুমন্ত্র ওখান দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল তার বৌ সংহিতার সঙ্গে। ত্রিদিবের মুখোমুখি পড়ে গেল। এড়ানো গেল না। ত্রিদিব তার সামাজিক অবস্থান, যাকে বলে স্টেটাস নিয়ে সর্বদাই বেশ বিড়ম্বনার মধ্যে থাকে। বিশেষ করে এককালের অতি ঘনিষ্ঠ সাফল্যের পাহাড়ে ওঠা বাল্যবন্ধুদের সামনাসামনি একেবারেই হতে চায় না। ----- ' আরে সুমন্ত্র না ! ' সুমন্ত্র ত্রিদিব শিকদারকে দেখতে পেয়েছে একটু দূর থেকে। প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর পরে দেখেও স্পষ্ট চিনতেও পেরেছে। শিবপুর বি ই-র ইঞ্জিনীয়ার ত্রিদিব এবং বাবার অবর্তমানে তার ... ...
জামিল রেললাইনের পাশ দিয়ে প্রাণপণে ছুটছিল। তিনজন তাড়া করেছে তাকে। পাশের রেলিং-এর তলা দিয়ে একটা কাঠবিড়ালির মতো শরীর গলিয়ে ওপাশে চলে গিয়ে অ্যাঁকাব্যাঁকা গলি গুঁজির জালে মুহুর্তের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল। ওরা রেলিং পেরোনোর ঝুঁকি নিল না। অন্য এলাকায় ঢোকায় ঝুঁকি আছে। একটা ছেলে ছুটন্ত জামিলকে লক্ষ্য করে ওয়ান শর্টার থেকে একটা গুলি ছুঁড়ল। গুলিটা গিয়ে গেঁথে গেল একটা ঝোপড়ার দেয়ালে।ছেলে তিনটের কুড়ি বাইশ বছর বয়স। অরূপ ঘোষের হয়ে কাজ করে। তিনদিন আগে জামিলের ওয়ান শর্টারে অরূপ ঘোষের একটা ছেলে জখম হয়েছিল। জামিলের মনে হল, গুলিটা পায়ে লেগেছিল।দলের আর একটা ছেলের নাম তুফান। খুব ছোটবেলায় দুজনে একসঙ্গে নৃপেন্দ্র স্মৃতি ... ...
( ৩ ৪ ) ঘনঘোর বর্ষা চলছে এখনও। তবে বর্ষা একটু আলগা দিলে মাঝে সাঝে শরতের অভ্র গুঁড়ো রোদ্দুর আকাশের দরজা ঠেলে ঢুকে পড়ে নীলচে ব্যোমতলে গড়াগড়ি খাচ্ছে। বাতাসে পুজো পুজো গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে একটু একটু। আজ মেঘের ছায়া থেকে বেরিয়ে দিনটা সকাল থেকেই আলোয় লুটোপুটি খাচ্ছে। কখন আবার মেঘে ছায় কে জানে । সকাল নটা নাগাদ ঘুম থেকে উঠে রিমোট টিপে এসি মেশিনকে ছুটি দিল অনুমিত। একটা জানলা খুলে বাইরের রোদ্দুরের দিকে তাকিয়ে রইল। রোদ্দুর খেলা করছে একটু দূরের ছোট পার্কটা জুড়ে ... ...
( ৩৩ ) মন্ডলপাড়ার তিন রাস্তার মোড়ে সেদিন কাজ থেকে ফেরার পথে সন্ধেবেলায় বিজয়ের দেখা পেয়ে গেল সাবিত্রী। ওখানে চায়ের দোকানের বেঞ্চে বসে চা খাচ্ছিল সাবিত্রী। দেখতে পেল সামনে দিয়ে বিজয় যাচ্ছে। প্রিয়াঙ্কা তাকে বলেছিল বিজয়বাবুর সঙ্গে একবার পরিচয় করতে। সাবিত্রী ঠিক বুঝতে পারল না উনি তার কী উপকার করতে পারবেন। ওনারা তো এখন ক্ষমতার ধারে কাছে নেই। তবে অনেকের মুখে সাবিত্রী শুনেছে সুভাষ গিরির ছেলে তার বাবার মতোই হয়েছে। সাবিত্রী বেঞ্চ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ' একটু শুনবেন দাদাভাই ... এই যে এই ... ...
(৩২) দিব্যেন্দুরা ক্যালিফোর্নিয়া থেকে কলকাতায় এসেছে কাল রাত্রে। দিব্যেন্দু, তার বউ সুস্মিতা আর পাঁচ বছরের ছেলে ঝিক্কু। ঝিক্কুর ভাল নাম সৌকর্ষ। কলকাতায় দমদম মতিঝিলের বাড়িতে শুধু মা আর বাবা থাকে। দিব্যেন্দুর এক বিবাহিতা বোন আছে। সে থাকে পুনেতে। আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সের ঝাপটায় আই টি দুনিয়া টলমল। তাবড় সব কোম্পানির আই টি প্রকৌশলীকে ব্যাপক হারে ঝেড়ে ফেলা হচ্ছে, যার পোশাকি নাম হচ্ছে লে অফ। মানে কী, সাময়িকভাবে সরিয়ে রাখা ? মানে পরে ... ...
( ৩১ ) অনুমিত বেশ বুঝতে পারছে একটা কিছু করার দরকার। আর্সোলার দলের সবাই সাঙ্ঘাতিক ভাল ছাত্র। খুব মেধাবীরা জোট বাঁধলে তার তাগদ হয় মারাত্মক। কী হয় তা তো দেখে এসেছে সে দিল্লিতে। কিন্তু সে নিজে কী ? সে কিসের জোরে আওয়াজ তুলবে ? সে নিজে তো ছাত্র নয়। তার নিজস্ব দাবিটা কী হবে ? চাকরি ? রোজগার ? প্রতিষ্ঠা ? অনুমিত নিজে ভালোই বোঝে তার তেমন তাগিদ থাকলে ওগুলো পাওয়ার যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা তার আছে। এত সুযোগ সুবিধা ক'জনেরই বা থাকে। তাহলে ... ...