মফিজুল বাইক ছুটিয়ে হিঙ্গলগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। দুপুর প্রায় বারোটা। বাইকে ব্রেক কষতে হল।রাস্তার একদিকের পুকুরের পাড় থেকে উঠে ভোলা ভালা একটা জলঢোঁড়া সাপ উল্টোদিকে মাঠের দিকে যাচ্ছে ধীর গতিতে। বোধহয় চষা ক্ষেতে নেমে যাবে খাদ্যের সন্ধানে। বর্ষাকাল। জ্যান্ত ব্যাঙের অভাব হবে না নিশ্চয়।সারা দুনিয়াই তো ঘুরছে যে যার খাবারের খোঁজে। সাপটা সড়সড় করে মাঠে নেমে গেল।বর্ডার এরিয়ায় একচ্ছত্র রাজত্ব কায়েম করতে সাত আট বছর ধরে কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি।এই ক’বছরে কয়েক কোটি টাকা এমনি হয়নি। অনেক বন্দোবস্ত করতে হয়েছে সে জন্য। দু চারটে লাশও ফেলতে হয়েছে বাধ্য হয়ে।কি করা যাবে। এই রাজা বাদশার জীবন থেকে আবার সেই রাজমিস্ত্রির যোগাড়ের জীবনে ... ...
( ৩ ) আমহার্স্ট স্ট্রীট চোরবাগান লেনে সন্ধে নেমে এসেছে। প্রাচীন বাড়ির দোতলার পাথুরে বারান্দার পাথুরে কার্নিশ। বারান্দার সামনেই একটা সপ্তপর্ণী গাছ। অন্ধকারে একা একা দাঁড়িয়ে আছে। রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলো পড়েছে গাছের পাতায়।আমহার্স্ট স্ট্রীটে গাড়ির জ্যাম লেগে গেল হঠাৎ। সম্বুদ্ধ সিংহরায় দোতলার ঘরে বসে জানলা দিয়ে রাস্তার জ্যামের দিকে তাকিয়ে ছিলেন আনমনা হয়ে। তার মনে ক্ষণে ক্ষণে ভেসে উঠছে উড়ন্ত শ্বেত বলাকার মতো বাতাসে ভেসে আসা এক পেসার । বলটা অফস্টাম্পের একফুট বাইরে থেকে হাওয়ায় ডানদিকে বাঁক খেয়ে আচমকা নীচু হয়ে জাত গোখরোর মতো ছোবল ... ...
( ২ ) শাম্ব পাল আর সেন্টু সেনকে দিয়ে বোলিং ওপেন করাল প্রত্যয়। বোর্ডে অল্প রান। মৈনাক উইকেট নেওয়া বোলার হলেও ওকে প্রথমে আনল না প্রত্যয় কারন শাম্ব আর সেন্টু একদম জায়গায় বল রাখে। মারার জায়গা দেয় না ব্যাটসম্যানকে। তাছাড়া বল একটু পুরনো হলে হয়ত মৈনাক রিভার্স সুয়িং পেতে পারে এই হিসেবও হয়ত মাথায় ছিল।দীপশিখাকে কিন্তু প্রত্যয়ের এই সিদ্ধান্তে বেশ হতাশ দেখাচ্ছিল। সে বাঁশের একটা খুঁটি ধরে একটা পা আড়আড়ি করে দাঁড়িয়ে রইল। সে যাই হোক, প্রত্যয়ের ছক কিন্তু একেবারেই দাঁড়াল না। প্রতি ওভারে তিনের একটু ... ...
( ১ ) অশোকতরু মুখোপাধ্যায় হুইলচেয়ারে ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। তার ছায়াসঙ্গী হল বিনোদ । বিনোদবিহারি জাতে বিহারি। সে-ই অশোকতরুবাবুর অন্ধের যষ্ঠি। রান্নাবান্না, বাজারহাট থেকে শুরু করে অশোকতরুবাবুর যাবতীয় পরিচর্যা সবই করে সে। কাজের একজন মাসি আছে অবশ্য। বাসন মাজা, ঘর মোছা, জামাকাপড় কাচার জন্য।অশোকতরুবাবু রুরকি আই আই টি -র অধ্যাপক ছিলেন মেটালার্জি বিভাগে। ষাট বছরে রিটায়ারমেন্ট। তার পরে বছর তিনেক এক্সটেনশান। কিন্তু স্বাভাবিক মেয়াদই তিনি শেষ করতে পারেননি। তার যখন আটান্ন বছর একটা বড় মাত্রার সেরিব্রাল অ্যাটাক হয় ক্যামপাসের মধ্যেই।প্রচুর চিকিৎসার পর তিনি প্রাণে বেঁচে ... ...
বাবুমশায়দের পেন্নাম । মা জননীদের গড় করি।আজ্ঞে আমার নাম গণেশ হাঁসদা। মাঠের ওপারে ওই কুঁড়েটায় আমি থাকি । ছিটবেড়ায় মাটি লেপা । পচা খড়ের ছাউনি। তেমন বরষা হলে জল বাঁধে না। ঘর ভেসে যায়। আর ঘরে আমার কি বা আছে। একটা ছেঁড়া চাটাই – খেজুর পাতার, আমি নিজেই বুনেছিলাম। একটা মাটির হাঁড়ি। খুব সাবধানে নাড়াচাড়া করি। ভেঙে গেলে মুশকিল। ওটাতেই ভাত রাঁধি কিনা। যেদিন চাল জোটে আর কি। রোজ তো আর জোটে না। আর একটা টিনের শানকি আছে। ভাত জুটলে ওটায় ঢেলে খাই। কখানা ইঁট জোগাড় করে রেখেছি। ওগুলো দিয়ে ঘেরো করে মধ্যিখানে শুকনো ডালপালা জ্বেলে ভাত আর শাকপাতা ফোটাই ... ...
জামিল রেললাইনের পাশ দিয়ে প্রাণপণে ছুটছিল। তিনজন তাড়া করেছে তাকে। পাশের রেলিং-এর তলা দিয়ে একটা কাঠবিড়ালির মতো শরীর গলিয়ে ওপাশে চলে গিয়ে অ্যাঁকাব্যাঁকা গলি গুঁজির জালে মুহুর্তের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল। ওরা রেলিং পেরোনোর ঝুঁকি নিল না। অন্য এলাকায় ঢোকায় ঝুঁকি আছে । একটা ছেলে ছুটন্ত জামিলকে লক্ষ্য করে ওয়ান শর্টার থেকে একটা গুলি ছুঁড়ল। গুলিটা গিয়ে গেঁথে গেল একটা ঝোপড়ার দেয়ালে।ছেলে তিনটের কুড়ি বাইশ বছর বয়স। অরূপ ঘোষের হয়ে কাজ করে। তিনদিন আগে জামিলের ওয়ান শর্টারে অরূপ ঘোষের একটা ছেলে জখম হয়েছিল। জামিলের মনে হল, গুলিটা পায়ে লেগেছিল।দলের আর একটা ছেলের নাম তুফান। খুব ছোটবেলায় দুজনে একসঙ্গে নৃপেন্দ্র স্মৃতি ... ...
কাল পনেরই আগস্ট। অখিলেশের জানা আছে এটা স্বাধীনতা দিবস। সেই ছোটবেলা থেকে শুনে আসছে ভারত নাকি বিদেশীদের কব্জা থেকে বেরিয়ে আসে এই দিনে। বেরিয়ে এসে নিজেরা নিজেদের মতো ছাঁচে ঢেলে নিয়ে দেশ চালাচ্ছে আর কি।অখিলেশের বাবা বিধূভূষণ মন্ডল অনেক ঘাটের জল খেয়েছে। শেষ পর্যন্ত পঞ্চায়েত সদস্য হবার পর সংসারটাকে দাঁড় করাল।বিধূভূষণ দুটো মাছের ভেড়ি কিনেছিল। দুর্জনে বলে ও দুটোর মালিকানা ছিল অসিত দাসের। বিধূভূষণ জবরদস্তির সঙ্গে ফেরেব্বাজির কৌশল মিশিয়ে ভেড়ি দুটো দখল করেছিল। তারপর থেকে লালে লাল। দোতলা বাড়ি তুলেছিল গৌরসুন্দর স্মৃতি বিদ্যামন্দিরের পিছনে। ওই স্কুলে প্রত্যেক বছর প্রজাতন্ত্র দিবস আর স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা তোলা হয়। হারমোনিয়াম বাজিয়ে বাংলার ... ...
ছড়ানো ঝিল ভর ভরন্ত । ওপারে ঝোপঝাড় জঙ্গল। এপারে কাঁচা রাস্তা আবলা খাবলা । শুক্লা রাতে চাঁদের আলো খেলা করে ঝিলের জলে।ওপারের জঙ্গল থেকে শেয়ালের দল ডাকতে শুরু করে আচমকা।এপারে শিবমন্দিরের বাইরে ল্যাম্পপোস্টের আলোর ছটা মাখা আঁধারে বসে রাত বারোটা অব্দি চার পাঁচজনে মিলে এন্তার মদ খায়। মদ গিলতে গিলতেই যে যার ঘর সংসারের জমিয়ে রাখা বিষ বাষ্প উগরে দেয়। নেশা চড়ে গেলে কেউ কাঁদে কেউ হাসে। সুহাস আর তারক অশ্রাব্য গালাগালি করতে থাকে। বোধহয় ভগবান বা ভাগ্যের উদ্দেশ্যে।বাইপাস এখান থেকে মাত্র আড়াই কিলোমিটার ফারাকে। লোকাল পুলিশ ফাঁড়ি মুকুন্দপুরে। ওখান থেকে রাতের ঝিঁঝি ডাকা আঁধারেমাঝ সাঝে কড় কড় কড় কড় ... ...
জিঙ্গল বেল ..... জিঙ্গল বেল ..... ঝিন ঝিন ঝিন ঝিন রঙ বেরঙের ক্যালিডোস্কোপ রশ্মি পাক খাচ্ছে ঝলমলে খুশি ছড়িয়ে। কাল পঁচিশে ডিসেম্বর। সিমোন বলল, ' প্রত্যেক ইয়ারে কলকাতা রেভেলরি আর ভাল লাগে না। সো ব্যানাল ..... শিট .... এনাফ ইজ এনাফ। চল এবার অন্য কোথাও যাই।' --- ' একজ্যাক্টলি .... কোথায় যাবি ? চল এবার সুন্দরবনে ঘুরে আসি। যাবি ? আমার কারে যাব ডায়রেক্ট... ওকে ? ', ইরাবান সিমোনের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। --- ' ইয়েস .... ফ্যানট্যাস্টিক .... এক্সেলেন্ট আইডিয়া। বাট ... শুধু তুই আর আমি। নোবডি এলস্।' --- ' ওক্কে ওক্কে .... এগ্রি .... ' ইরাবান এক কথায় রাজি। ... ...
( ৩৬ ) শফিউদ্দিন ফাইল থেকে মুখ তুলে বললেন, ' কে... অনিন্দ্য কর ? সাত সকালে এখানে কী ? ' কনস্টেবল বললেন, ' কী জানি স্যার... আসামী ছাড়াতে নিশ্চয়ই... ' --- ' অ্যাঁ কী ... আসামী ? তা হতে পারে। আসতে দাও। পারে তো ছাড়াক... ' অনিন্দ্যবাবু এ থানায় আগেও দুবার এসেছেন। গাড়ি থেকে নেমে সোজা থানায় ঢুকে এলেন। ডাঁয়ে বাঁয়ে কোনদিকে তাকাবার প্রয়োজন বোধ করলেন না। পেছনে ওসির ঘরের দিকে যেতে লাগলেন। যাওয়ার রাস্তায় বাঁদিকে ওই ঘরটা পড়ল যে ঘরে বিল্বদলবাবু, কলতানরা রয়েছে। আশ্চর্যের ব্যাপার অনিন্দ্য কর ঘরটার খোলা দরজা পেরোবার সময় ... ...