( ৩ ) সুভাষবাবু বিকেল বেলায় মুড়ি আর নারকেল খাচ্ছিলেন। সারাদিন রোদ্দুরে অনেক ঘুরেছেন। সেই সকালে বেরিয়েছিলেন পান্তাভাত খেয়ে।গ্রামের ছেলে। গ্রামেই কেটেছে সারাজীবন। পান্তাভাতেই এই শরীর এবং মাথা ঠান্ডা থাকে তার। হৈ হৈ করে ভোটের মেলা এসে পড়েছে। পার্টি এবারেও তাকে টিকিট দিয়েছে। সকলেই জানে সুভাষ গিরির প্রায় অর্ধশতাব্দীর রাজনৈতিক জীবন একেবারে দাগছাড়া । রাস্তায় বেরোলে এলাকার লোক পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে। আবার তারা এও জানে সুভাষ গিরি ভোটে জিতবেন না। পার্টির সংগঠন বসে গেছে । সংগঠন মজবুত না হলে ভোটে জেতা যায় না। শুধু ভাল লোক হওয়া কোন কাজে আসবে না। এ দেশে ভোট করিয়ে নিতে হয় । ... ...
( ২ ) অনিন্দ্যবাবু খানিকক্ষণ চুপ করে বসে থেকে নিজের ভিতরে ওঠা ঝড়কে শান্ত হতে দিলেন। তার সামনে বসে ভাঙাচোরা বিড়ম্বিত রবীন্দ্রনাথবাবু শঙ্কিত চোখে এদিক ওদিক তাকাচ্ছেন শুনানির শেষে জজসাহেবের মুখ থেকে রায় বেরোবার উদ্বিগ্ন প্রতীক্ষায়। ভাবলেন, কথাগুলো বলে তিনি হয়ত ঠিক করলেন না। নিজের ছেলের বদনাম শুনতে কোন বাবারই বা ভাল লাগে। কিন্তু এ ছাড়া আর কী উপায়ই বা ছিল তার কাছে। মেয়েটাকে রক্ষা তো করতে হবে। আর কেই বা বাঁচাবে ... ...
( ১ ) অনিন্দ্য বসু একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তিন বছর আগে অবসর নিয়েছেন। সকাল ন'টা নাগাদ তার রাসবিহারী এভিনিউয়ের তিনতলার ফ্ল্যাটের ড্রয়িংরুমে বসে খবরের কাগজের পাতা উল্টোচ্ছিলেন। টেবিলের ওপর বাংলা ইংরেজি মিলিয়ে মোট পাঁচটা কাগজ। ছোট ছেলে অনুমিত সকাল ছ'টায় বেরিয়েছিল। জিম করে বাড়ি ফিরছে। অনুমিতের এখন পঁচিশ বছর। তার বড়দা থাকে নিউ ইয়র্কে আর মেজদা চেন্নাইয়ে। প্যাসেজ দিয়ে ঢোকার সময় ডান দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল বাবা ঘরে বসে ... ...
একজন ছিপছিপে ঢ্যাঙা ডগ ট্রেনার ক্যাম্পাসে পাক মারছে ট্রাকশ্যুট আর স্নিকার শ্যু পরে। পেছনে দৌড়চ্ছে ছ ছটা নানান কিসিমের কুকুর। ল্যাব্রাডর আছে, রিট্রিভার আছে, টেরিয়ার আছে .... আছে আরও অনেক পেডিগ্রী সারমেয়। ট্রেনারের পিছন পিছন ছুটে চলেছে একঝাঁক খেলোয়াড়ের মতো। সি ব্লকের রাকেশ মিত্তলের পোষ্য সবকটা। ট্রেনার কাম ফিজিওর মাসিক পারিশ্রমিক ত্রিশ হাজার টাকা। রাকেশ মিত্তলের আয়রন অ্যান্ড স্টীলের ... ...
রাত দেড়টা বাজল । নপরাজিত আর মনসিজের সঙ্গে শিমিকা আর আলিয়া এখনও সিজলার বার থেকে বেরোয়নি । শিমিকা মনসিজের পিঠে একটা চাপড় মেরে বলল, ' চল ইয়ার .... থাইল্যান্ড থেকে ঘুরে আসি .... ' সঙ্গে সঙ্গে আলিয়া নেচে উঠল, ' ইয়েস ... ইয়েস ... ফ্যান্টাস্টিক ... নো পয়েন্ট অফ ওয়েস্টিং টাইম .... ওখানে আমাদের একটা রিসর্ট আছে .... সো লেটস ফিক্স ...নেক্সট স্যাটারডে ... ' সকলেরই কয়েক রাউন্ড করে চড়ানো হয়ে ... ...
‘ এই... এই যে আসুন ... এই মাঠটা পেরোলেই ওদের বাড়ি '। অগ্নিভ স্টেশন থেকে যে রিক্শাটা ধরেছিল তার চালকই মাঠের ধারে রিক্শাটা দাঁড় করিয়ে তাকে ছোট মাঠটা পেরিয়ে সত্যপ্রসাদ ভট্টাচার্যের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিল। ছোট একতলা বাড়ি। ভেতর থেকে প্রায় চল্লিশ বিয়াল্লিশ বছরের একজন মানুষ খালি গায়ে বেরিয়ে এলেন। রিক্শাওয়ালা বিদায় নিল। অগ্নিভ হাতজোড় করে বলল, ‘নমস্কার, আমি প্রতিলিপি থেকে আসছি। বিপ্লবী সত্যপ্রসাদ ভট্টাচার্যের জন্মের একশো পঁচিশ বছর পূর্তি ... ...
বজবজে বোনের শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিল বিভাস ঘোষদস্তিদার। সে নিজে অবিবাহিত। বাড়ি শ্যামবাজারে রামকান্ত বোস স্ট্রীটে। বর্ষাকাল। আজ সারাদিন মেঘলা। বিভাস যখন নামল শিয়ালদা সাউথের প্ল্যাটফর্মে বাইরে তখন ঝিরঝির করে বৃষ্টি হচ্ছে। গাদা গাদা লোক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে গেছে।ব্যস্তবাগীশ লোকেরা ছাতা খুলে বা ছাতা ছাড়াই ঝটপট বেরিয়ে যাচ্ছে বৃষ্টি ভেজা রাস্তায়।বিভাসের কাছে ছাতা ছিল। সে ছাতা খুলে লোকজন ঠেলেঠুলে স্টেশনের বাইরে এল, শিয়ালদা ফ্লাইওভারের দিকে।সারাদিন ধরেই থেকে থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। চারদিকে জলকাদায় লেবড়ি চেবড়ি অবস্থা। সন্ধে নেমে গেছে। বাতি জ্বলে উঠেছে দোকানবাজারে। মেন গেটের দিক দিয়ে বেরিয়ে ... ...
বড় পুকুরটার পাশে একটা আড়াই কামরার বাড়ি, শৌচাগার এবং ছোট একটা রান্নাঘর সমেত। গায়ে কোন রঙ চঙ নেই। শুধু সিমেন্টের প্লাস্টার হয়ে পড়ে আছে প্রায় বছর দশেক। অনেকদিনের নি:সঙ্গ অবহেলায় চারপাশে ঘাস এবং আগাছার আলিঙ্গনে সমর্পণ করে আছে। অনাদি কারক ও ঘরখানা তুলছিল। গোবিন্দ কারকের দাদা অনাদি কারক। দুজনেই চাষ আবাদ করা লোক। সে যাই হোক, অনাদি ঘর তুলতে তুলতেই মারা গেল দু বছর আগে শীতকালে বুকে কফ জমে । হাঁফানির রোগ ছিল। খুব বাড়াবাড়ি হতে বাসন্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বাঁচাতে পারেনি তারা। তাই ওই আধা তৈরি পাকা ... ...
অরুনাংশুবাবু মুখে রুমাল বেঁধে কষে নাক মুখের ফাঁকফোঁকর ঢেকেঢুকে পোস্টাফিসের ক্যাশ কাউন্টারে লাইন দিলেন এমআইএস-এর সুদ তোলার জন্য। লোকজন বিশেষ নেই। এই জনা পাঁচেক উলোঝুলো বুড়ো পাসবুক আর উইথড্রয়াল স্লিপ বাগিয়ে খাড়িয়ে আছে। লকডাউন এবং সামাজিক দূরত্বের নির্ঘন্ট চালু আছে। কে বলে লোকে নিয়ম মানছে না ! প্রায় এক একটা ঠেলাগাড়ির সমান দূরত্বে এক একজন দাঁড়িয়ে। পাওয়া গেল ষোলশ টাকা। পরের মাস থেকে এরও কম পাওনা হবে। কি করে সংসার খরচ চলবে অরুনাংশুবাবু এখন ভাবতে চান না। শুধু ওষুধের খরচই মাসে সাত আটশো টাকা। সরকার নাকি কোভিড-১৯ এর মোকাবিলার জন্য খরচ কমাচ্ছে। বাজেট ঘাটতি টেনে নামাতে হবে। পেনশনারদের ঘরে বসিয়ে তোফা আরামে খাওয়ানোর তবিল কোত্থেকে ম্যানেজ ... ...
( ৩ ) নন্দনের কাছে পৌঁছে দেখল নানা রঙের গুলাল ফাগ পিচকিরি রঙের মহা হুল্লোড় চলছে। প্রায় পনের ষোল জন বাইশ চব্বিশ বছরের ছেলেমেয়ে হোলির রঙ উৎসবে মাতোয়ারা। দুনিয়া ভুলে মজে আছে রঙের উৎসবে। নানা রঙের আবীর উড়ছে হাওয়ায় চারপাশ রঙীন করে। রামশঙ্কর অভ্যাসবশত: ঝোলার মধ্যে আর একবার হাত দিল। একি ! হাতে পার্সের ছোঁয়াটা পেল না তো .... । রামশঙ্কর একটু ঘাবড়ে যায়। এমন তো হবার কথা নয়। রামশঙ্কর নন্দনের চত্বরে ঢুকে দাঁড়াল। ঝোলার ভেতর হাত ঢুকিয়ে হাতড়াতে ... ...