আকাশে শশধর ও তারকাপুঞ্জ হয়ত ছিলঢাকা পড়েছে শেষ আষাঢ়ের গাম্ভারি নিশি মেঘে। নিশুত রাতে ছ্যাতরানো জল কাদা জঙ্গল ধরেঠেলা মেরে নিয়ে যায় লগবগে মাথার কোননেশাখোর আসামীকে হাফ ডজন শান্তির রক্ষী।কালো রাতের কম্বলে ঢাকা জল কাদার বাদায়যে বলেছিল গতদিন খানিকটা গল্প। আজ সে নাকি এঁকেবুঁকে ছবি লিখে তুলে দেবেসেদিনের নরকের নক্সা এই ঝুমকো আঁধারে। জানা গেল, ছবি আঁকা হয়নিকথা কেউ কয়নি,ঝুঁঝকো আঁধারে আচমকা সে নিজেই হয়ে গেছে ছ্যাতরানো ছবি আর রোমাঞ্চ গল্প। বেচারি প্রহরীরা ভয় পেয়ে বড্ড... গুলি মেরে ধরিয়ে দিয়েছে কর্দম ভরা ভূমিলগবগে লোকটাকে। তারপর ক'জনায় মিলেজুলে চুপিচুপি লেখা হল গভীর রাতের গল্প,না না না... প্রভাসের পেন্সিলে নয়, রাষ্ট্রের হীরের কলমে। আকাশে শশধর ও তারকাপুঞ্জ হয়ত ... ...
( ২৫ ) সাজিদা চ্যাটার্জী বাড়ি কাজ করতে এল। আজ মুখে কেন কথা নেই। বাসন মাজা, কাপড় কাচা শেষ হলে বালতির জলে ফিনাইল ফেলে ঘর মুছতে লাগল। মুখে কোন কথা নেই। অন্যদিন অনেক বকবক করে। এর বাড়ির, ওর বাড়ির নানাজনের কূটকচালি শোনায়। আজ একদম চুপচাপ। কী যেন চিন্তা করতে করতে ঘরের মেঝেতে ন্যাতা টেনে চলেছে। ঘরের গিন্নী দেবশ্রী বললেন, ' কিরে সাজিদা... আজ এত চুপচাপ ? বরের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে নাকি ? 'সাজিদা একটু সময় নিল, তারপর মাথা নীচু করে ঘর মুছতে মুছতে বলল, ' আলি কাল ... ...
( ২৪ ) অনিন্দ্যবাবু বললেন, ' হ্যাঁ এস... ' গৌরীবাবু ঘরে ঢুকলেন। শিশিরবিন্দুবাবুর দিকে তাকিয়ে হাতজোড় করে বললেন, ' নমস্কার স্যার ... আমাকে চিনতে পারছেন ? 'শিশিরবাবু বললেন, ' কেন চিনতে পারব না, এখানেই তো দেখা হয়েছে অন্তত দুবার। কেমন আছেন ? '----- ' ভালই আছি স্যার আপনাদের আশীর্বাদে। আপনারা আছেন বলেই আমরা আছি... 'গৌরীশঙ্করবাবু দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। শিশিরবিন্দুবাবু বললেন, ' বসুন না বসুন না... '----- ' হ্যাঁ এই ইয়ে.... ', বলে গৌরীবাবু একটা চেয়ারে বসে পড়লেন। ----- ' আসলে... আপনারা কথাবার্তা বলছেন তাই... ' গৌরীবাবু ... ...
( ২৩ ) ভোটের খেলায় শুধু দুটো দলেই টক্কর চলছিল। বাকিরা আছে শুধু ভোট কাটাকুটির খেলায়। সেটাও বেলা এগারোটা পর্যন্ত। তারপর দেবাশিসের কথামতো হাওয়ায় টান লাগল সড়সড় করে। ঘূর্ণি পাকিয়ে উঠতে লাগল আচমকা। হাওয়া ঘুরে যেতে লাগল অস্থির দ্রুততায়। তারপর ভর দুপুরে, বেলা দুটো নাগাদ জনমতের প্রবল সাইক্লোন ধেয়ে এসে চুরমার করে ভাসিয়ে নিয়ে গেল রাজ্য শাসন করা দলের সাধের ইমারত আর সাজানো বাগান। টিভি চ্যানেলের ... ...
( ২২ ) চাক বাঁধা ভিড় আস্তে আস্তে ছড়িয়ে আলগা হয়ে যাচ্ছে। সুধন্যবাবু একটা রিক্শায় চেপে বাসস্ট্যান্ডের দিকে রওয়ানা দিলেন। রিক্শায় বসে বিজয়কে বললেন, ' আসলাম। সুভাষদাকে আমার কথা বোল। ইলেকশানের দুদিন একটু নজরে রেখ সবকিছু। আর তো টাইম নেই হাতে ...' ছড়িয়ে ছিটিয়ে এখনও কিছু লোক দাঁড়িয়ে আছে। ক'জনে মিলে এখনও বেশ নিষ্ঠার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে এখানে ... ...
( ২১ ) বিজয় দুপুরবেলায় বাড়ির সামনের বারান্দায় বসে ছিল। এখন দুপুর দুটো। বাইরে গনগনে রোদ। বিজয়ের বেরনোর দরকার আছে। ভাবছে রোদটা একটু পড়লে বেরবে। ওর মনে একটা গভীর আক্ষেপ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের প্রচার সব জায়গায় জোরদার হচ্ছে। কিন্তু এখানে প্রচারের ঢেউ তেমনভাবে উঠল না। এ দিকটায় বোধহয় নির্বাচনী সম্ভাবনা তেমন কিছু নেই। নিষ্ফলা জমিতে কষ্ট করে বীজ ছড়িয়ে লাভ কী? বিজয়ের মত হল কঠিন লড়াই ... ...
( ২০ ) অনুমিত রেপিডোর বাইকটা বাতিল করল। হাঁটতে লাগল দেশপ্রিয় পার্কের দিকে। ওখানে সঞ্জীব খান্না থাকে। তার বাবার রিয়েল এস্টেটের বিজনেস। ছেলেও ব্যবসা ধরে নিয়েছে। কসবার দিকে বড় কাজ চলছে সঞ্জীবের। চল্লিশ কোটি টাকার টার্নওভার। আরও বাড়তে পারে। অনুমিত জানে সঞ্জীব তার মতো দশটা জজের ছেলেকে কিনতে পারে। কিন্তু তার স্বভাব অতি ধীর স্থির অহমিকাশূন্য এবং আন্তরিকভাবে বন্ধুবৎসল। তার ওপর অনেকের রাগ থাকলেও, তার কিন্তু কারও ওপর রাগ ... ...
( ১৯ ) বাইকটা রাস্তার একধারে করল প্রসূন। দেবাশিস দাঁড়িয়ে পড়ল। বলল, ' এই চলে যাচ্ছে... কী আর বলব ? ' --- ' কেন প্রবলেমটা কী ? বাড়ির সবাই ঠিকঠাক আছে তো ? ' এরকম মুরুব্বির চালে প্রসূনকে কথা বলতে শুনে দেবাশিস মনে মনে হেসে ফেলল। তার ঠাকুরমার প্রায়শই আওড়ানো একটা প্রবচন মনে পড়ে গেল --- ছিল যত নলবুনে, হল গিয়ে কীত্তুনে...। শালা স্কুলে প্রত্যেকদিন বেঞ্চের ওপর কান ধরে দাঁড়াত প্রায় প্রত্যেক পিরিয়ডে। বড় হয়ে মকুন্দ মন্ডলের ভাতের হোটেলে টেবিলে টেবিলে ভাত ডাল দিত। এখন সেই মুকুন্দ হোটেলের ট্রেড লাইসেন্স রিনিউয়ালের জন্য প্রসূনকে ... ...
( ১৮ ) অনুমিতের একটা জেদ চেপে গেছে। যে করেই হোক মনোমিতাকে অন্তত একদিনের জন্য হলেও পেতেই হবে। আগে কখনও এমন হয়নি। হয়নি, কারণ সে মেয়েগুলো টাকার টানে আত্মসমর্পণ করেছিল। কিন্তু এটা একটা শক্ত গাঁট হয়ে যাচ্ছে। এর বাবাটাও একটা ঘাওড়া মাল আছে। সোজা বাবার কাছে গিয়ে প্যানপ্যান করেছে। করে কেসটা জট পাকিয়ে দিয়েছে। জজসাহেব সব জেনে ফেলেছে তাই। নাহলে কবেই বেঁকিয়ে দিত। টাকাটা তো কিছু কম অফার করেনি। তিরিশ হাজার তো কিছু কম অ্যামাউন্ট নয়। আরে বাবা, টাকার ভাগ তো তুইও পাবি। এত সতীপনা কিসের? টাকায় কথা ... ...
( ১৭ ) দ্রৌপদি বিকেলবেলায় ফাঁকা মাঠের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। মাঠ গেছে বহুদূর। মাঠের শেষে জঙ্গল। মাঠে কোন চাষবাস কিছু নেই। এমনি এমনি নিষ্ফলা পড়ে আছে। সরকারি জমি। দ্রৌপদি সেই ছোটবেলা থেকে শুনছে এখানে অ্যালুমিনিয়ামের কারখানা হবে। আজও কিছু হয়নি। মাঠের এ পারে দাঁড়িয়ে অনেক দূরের ওই জঙ্গলের দিকে তাকিয়ে আছে দ্রৌপদি। খুব চিন্তায় পড়ে গেছে সে। আসলে শুধু সে না, তার চেনাশোনা অনেকেই চিন্তায় পড়ে গেছে। তার বাড়ির লোকের মধ্যেএকমাত্র তার বাবা ছাড়া সকলেই গভীর জলে গিয়ে পড়েছে। ভোটের লিস্ট থেকে নাম কাটা গেছে। সকলে বলছে বিডিও অফিসে গিয়ে কাগজপত্র দেখাতে হবে যে তারা বাইরের লোক না। ... ...