কুম্ভমুখী জনগণের ঢেউ ছাপিয়ে গেছে সাম্প্রতিক কালের যেকোনো মেলা পূজা বা রাজনৈতিক সমাবেশের যেকোনো অভিজ্ঞতাকে। কেবল কি সংখ্যায়? বৈচিত্র্যেও। কোন্ ডিম ভাতের প্রতিশ্রুতিতে এই অগণন মানুষের স্রোত? ব্রিগেড কিংবা যন্তর মন্তর, প্রলোভন কিংবা নেশা - কি সেই আকর্ষণ যার টানে হুহু করে স্রোতের মতো সকলেই কুম্ভমুখী? তরজাও কম নয়। কেউ কেউ বলছে বানিয়ে তোলা হুজুগ। কেউ বলছে আবেগ। কেউ দেখছে অনগ্রসর ভারতকে, তো কেউ আবার জাগ্রত ভারতের স্বপ্নে বিভোর। কারুর মতে ম্যানুফ্যাকচার্ড, কারুর কাছে ইন্ট্রিনসিক। একদল বলছে, হাওয়া দিয়ে বাড়িয়ে তোলা হচ্ছে; অন্যদলের বক্তব্য ফুঁ দিয়ে তাহলে নিভিয়ে দেওয়া গেলো না কেন? হক্ কথা। গান্ধীবাদী, সমাজতন্ত্রী, হিন্দুত্ববাদী, দলিতপন্থী, নিরপেক্ষতাবাদী, নারীবাদী - মানে ... ...
বুলি আর ভাষার মধ্যে পার্থক্য আছে। বুলিরা বয়ে চলা নদীর মতো। – কখনো গভীর; তো কখনো প্রশস্ত। কখনো জলে টম্বুর তো কখনো শুকোনো। কোথাও আছে, কোথাও আবার হারিয়ে যাওয়ার নেশায় পেয়ে বসেছে তাকে। ভাষারা অবশ্য তেমনটা নয়। প্রশস্তিতে সে কেবল সন্তুষ্ট নয়, ড্রেজিং করে খাত গভীর থেকে গভীরতর করাতেই তার আনন্দ। ভার না হলে তার চলে না। বুলিরা স-ক্ষম। ভাষারা ক্ষম-তা-বান। ===বহুভাষিক ভারতে ক্ষমতায়ন ও স্বীকৃতির প্রসঙ্গটি সহজ বোধ্য ... ...
ইংরেজিতে ২০২৪, আর বাংলায় ১৪৩১, বছরটি বাঙালির বড় গর্বের। বড় গৌরবের। বাঙালির যে ভাষায় সুখ দুঃখ, ক্ষোভ বিক্ষোভ, হাসি কান্না এতদিন ধরে প্রকাশ পেয়ে এসেছে – সেই ভাষা কারুর কারুর অক্লান্ত পরিশ্রমে আর সরকারের সদিচ্ছায় ধ্রুপদী হয়ে গেছে। ধ্রুপদী শব্দের উৎপত্তি ধ্রুবপদ থেকে। ধ্রুবপদ সংক্রান্ত বা সম্বন্ধী তাই ধ্রুবপদী – যা থেকে ধ্রুপদী। ধ্রুব শব্দের মানে চিরকালীন – যা নিত্য এবং সনাতন। অর্থাৎ, যাস্ক বর্ণিত এবং বার্ষায়নী প্রস্তাবিত ভাববিকার যাকে স্পর্শ করতে পারে না। এই রকম একটা ... ...
যতোটা পারি ডাক্তারখানা এড়িয়ে চলি। না পারলে, প্রথম অপসন অবশ্য করেই বিজয়গড় স্টেট জেনারেল হাসপাতাল। দুই টাকা দিয়ে নাম রেজিস্ট্রেশন করে মেডিক্যাল চেক আপ। চেক আপ শেষে বিনে পয়সার ওষুধ। লাইন দিয়ে নিতে হয়। নিইও। তাইতেই এখনো অব্দি সেরে উঠেছি। বাড়ির বাকিরাও সরকারি হাসপাতালে লাইন দেন। জটিলতা থাকলে যাই ট্রপিক্যাল, পিজি, মেডিক্যাল কলেজ।***বেসরকারি ব্যবস্থায় খুব একটা ভরসা নেই। - আস্ত মানুষটাকে দেখতে ... ...
আধুনিক রাষ্ট্র ভাষাকে যতটা না যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে দেখে, তারও থেকে বেশি সে ভাষাকে দেখে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক বিরোধাভাষকে নিয়ন্ত্রনের একটি অপরিহার্য মাধ্যম হিসেবে। ১৯৫৬ সালের দপ্তরী ভাষার আয়োগ তাই ভাষার কথ্য ও লিখিত রূপকে চিহ্নিত করে “as an indispensable tool of social organization and human progress”। সাম্প্রতিককালের জাতীয় শিক্ষানীতির মাতৃভাষায় শিক্ষাদান ... ...
(যদিও তরাই গণ্ডারের জন্য তবুও রইলো এখানেও) এই লেখা বনাঞ্চল, হকার, আর ডিজিটাল নেটিভদের নিয়ে। আপাতভাবে সম্পর্কহীন এই তিনটি বিষয় যা আমাকে এই মুহূর্তে আলোড়িত করছে। আমি বুঝতে চাইছি ক্রমশ কমতে থাকা বনাঞ্চল, উচ্ছেদ হওয়া হকার, আর ডিজিটাল প্রযুক্তিতে ক্রমশ অভ্যস্ত হয়ে ওঠা নেটিভদের সাথে উন্নয়নের সম্পর্কটা কিরকম? সাম্প্রতিক সময়ে প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার সাক্ষী আমরা সকলেই। তীব্র দাবদাহ, বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি, ধ্বংসাত্মক বন্যা, আচমকা বজ্রপাত - এ যেন ... ...
(বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: এ লেখা নতুন কোন লেখা নয়। মৌলিকত্বের দাবী পেশ করতেও, এই লেখা লেখা হয় নি। শিক্ষা ব্যবস্থার একটি উৎপাদিত সামগ্রী হিসেবে - জনকল্যাণমুখী সর্বজনীন শিক্ষার প্রচারে ও প্রসারে নিযুক্ত কলের অংশ হিসেবে - আমার কিছু জোগাড় করা অনুভবের অগোছালো সংকলন এই লেখা।) দেশীয় ভাষায় শিক্ষাদান প্রসঙ্গে বিতর্কটা আজকের নয়, দীর্ঘ দিনের। সাম্প্রতিক কালে তাতে ঘৃতাহুতি দিয়েছে ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষা নীতি সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা। প্রস্তাবনার ... ...
অববাহিকার ছোট ছোট জলধারা একে অপরের সাথে মেশে, ঠিক যে ভাবে মেশে এক ভাষা আরেক ভাষার সাথে। বড় বড় ভাষার বা নদীর নাম আমরা জানলেও, ছোট-ছোট ভাষা ছোট-ছোট নদীরা অপরিচয়ের অন্ধকারে হাতড়ে মরে। গঙ্গা, তিস্তা, সুবর্ণরেখা - কেবলতো আর নদী নয়। নদীর বহমান স্রোতের ধারায় ধরা থাকে অববাহিকার ইতিবৃত্ত। অববাহিকা জোড়া জীবনের চালচিত্রে গঙ্গা, তিস্তা, সুবর্ণরেখারা তাই নিত্য নৈমিত্তিক রীতি রেওয়াজের অংশ ... ...