
ফলে যাদবপুরে এ জিনিস চলবে। প্রেসিডেন্সিতে হবে। আশুতোষে হবে। সারা বাংলা জুড়ে হবে। এর আগে যাদবপুরের প্রাক্তনীরা ছাত্রছাত্রীরা হোককলরব করেছিলেন। তখন তো এরকম হামলা ছিলনা। হামলার সগর্ব সম্প্রচার ছিলনা। এখন রাজ্যজুড়ে এই জিনিস চলছে। এই হামলা নিয়ে কি কিছু করবেন? শুধু এই হামলা না, রাজ্যজোড়া হামলা, গণতন্ত্রের সগর্ব হত্যাকান্ড নিয়ে? করলে ভালো হবে। ... ...

তো, সে যাই হোক, এই ধরণের দাবী-দওয়ার ফল যা হবার তাইই হয়েছে। পুলিশি হেফাজতে একটি রাজনৈতিক মৃত্যু। তারপর যা ঘটল সে আরও ন্যক্করজনক। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে গেলেন, তাঁর উপর আক্রমণ হল। মিডিয়ায় প্রথমে ব্ল্যাকআউট হল, তারপর 'জনরোষ' বলে চালানো হল। এবং এই পুরোটার নিন্দে করতে দেখলাম স্রেফ দুইজনকে। একজন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিন্দে করলেন। দ্বিতীয়জন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ... ...

এই পুরোটাকে যদি জনতার রায়ের নিরিখে দেখেন, তো দুটো জিনিস দেখবেন। এক, জনতা শুধু বিজেপি-বিরোধিতা করেনি। একজন বিরোধীকে জিতিয়ে ছেড়েছে। রীতিমতো ব্লক ভোটিং করে। দুই, এলাকাটা শহুরে। ছাত্র আন্দোলনের প্রভাব নিঃসন্দেহে বেশি। তারা বেছে নিয়েছে প্রশান্ত কিশোরকে। আন্দাজ করতে পারি, ভবিষ্যতে এইভাবেই বিজেপি-বিরোধী দলকে বেছে নেবেন ভোটাররা। ... ...

কিন্তু এসবের কিছুই হলনা, তার একটা কারণ হল, যেটা আমরা বহুদিন ধরে বলে আসছি, যে, কটা আধবুড়ো লোক ছাড়া গোদি মিডিয়া আর কেউ বিশ্বাস করেনা। ওটাকে জনমত বলে চালানো হয়। আরশোলারা সেই সত্যটা একদম উলঙ্গ করে দেখিয়ে দিয়েছে। বেলুনটা ফাটারই ছিল, সর্বভারতীয় স্তরে ফাটাতে আমাদের ভদ্রলোকরা একটু মেনে নিয়েছেন। আর দ্বিতীয় কারণ হল, মোদিও নড়বড় করছেন। গোদি মিডিয়ার ভরসায় না থেকে রিল বানাতে লেগেছেন। ... ...

অবশ্য, ওঁদের একটু রিলিফ দিতে পারেন বিরোধী নেতারা। সারা ভারতবর্ষে এই আন্দোলন নিয়ে গোদি-বাহিনীর বদনাম করার তো কোনো অন্ত নেই। কিন্তু কোত্থাও দেখবেন না, বিরোধী নেতারা এরকম বিগলিত হয়ে মাটিতে মিশে যাচ্ছেন। একদিকে ওঁদেরই ছাত্র-যুবরা ফাটিয়ে লড়ছেন, অন্যদিকে বিধায়ক আগ বাড়িয়ে কালো ব্যাজ পরে ফেলছেন। প্রধানমন্ত্রীর অপমান? ছি ছি মাপ করবেন। অপশব্দের ব্যবহার? মার্জনা করে দেবেন প্রভু। ... ...

এরকম আরও আওয়াজ তোলা হয়েছে। বাঙালিই তুলেছে। বিজেপির সম্ভাব্য পশ্চিমবঙ্গ জয় যে ভারতবর্ষজুড়ে একট বিরাট বিপর্যয়ের সূচনা, বাংলায় বহুবার বলা হয়েছে। এসআইআর স্রেফ এসআইআর না, একটা বড় পরিকল্পনার অংশ, ভোট ক্রমশ প্রহসনে পরিণত হচ্ছে, অবিজেপি শক্তিদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত, এও বহুবার বলা হয়েছে। ... ...

সোনম বলেছেন তিনি হিরো না। ঠিক কথা। তিনি শ্রদ্ধেয় এবং সম্মাননীয় ব্যক্তি। তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে লড়ছেন। সবকিছুতে মত মিলবেনা, কিন্তু লড়ছেন, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এবং এই লড়াইয়ে কোনো ঢিসুম-ঢাসুম হবেনা। খুব বেশি হলে মরে যেতে পারেন। ... ...

আর দ্বিতীয় কথাটা হল, চারটি স্তম্ভের বাইরে বেশ তাগড়াই একটি পঞ্চম বাহিনীও আছে। স্পেনের গৃহযুদ্ধে ফাসিস্ত ফ্রাঙ্কোর বিরুদ্ধে লড়ছিল আন্তর্জাতিক সংহতি। ফ্রাঙ্কো তখন বলেছিলেন, মাদ্রিদ আমরা দখল করবই, কারণ মাদ্রিদের চারদিকে আছে আমাদের চারটি বাহিনী। আর মাদ্রিদের ভিতরে আছে পঞ্চম বাহিনী। ... ...

সব মিলিয়ে যা বোঝা যাচ্ছে, বিরোধীদের জন্য বারুইপুর অবরুদ্ধ। কিছু হলেও ডিম্মিডিয়া দেখাবেনা। মোটের উপর ব্ল্যাক আউট চলছে। পোস্ট মর্টেম কী হয়েছে কেউ জানেনা। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, যে বস্তায় দেহ ছিল, সেটা এখনও পড়ে। এভিডেন্স আদৌ সংগ্রহ করা হয়েছে কিনা জানা নেই। এবং ময়ূখের বক্তব্যের পর সন্দেহ হচ্ছে, একমাত্র সাক্ষী বলে যাঁর কথা শোনা যাচ্ছে, তাঁকেই "খরচা" করে দেওয়া হতে পারে। পরপর অনেকগুলো ধর্ষণ বা লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটল নতুন জমানায়। চন্দ্রনাথের খুনের কোনো কিনারা হয়নি। ইভিএম পুড়ে গেল এবং ডিম-ছোঁড়া জাতীয় গণহিংসায় কার্যত উৎসাহ দেওয়া চলছে। ... ...

এই তো সময়, যখন বিপ্লবীরা শমীকবাবুর থানে গিয়ে হত্যে দিচ্ছেন, বাম কবিরা অটলবিহারী বাজপেয়ীতে মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছেন, সায়নী ঘোষ সাদা শাড়ি ছেড়ে টি-শার্টে ফিরে যাচ্ছেন, চাকরি হারিয়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন আরবানায় থাকতে যোগ্যতা লাগে। ... ...

খবর এইটুকুই। কিন্তু একটা কথা এই প্রসঙ্গে বলে নেওয়া ভাল। কিছু বিজেপির সমর্থক এইসব কাণ্ড-কারখানা দেখে একটু আমতা-আমতা করে যা বলছেন, সেটা খুবই হাস্যকর। কেউ বলছেন, "ওরা ক্ষমতায় এলে যা করত, এ তার চেয়ে কমই হচ্ছে"। ... ...

এই সব কাকতালীয় ঘটনা যোগ করলে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি নির্বাচনে সংখালঘু থাকলেও নির্বাচনোত্তরপর্বে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। একবার হয়ে গেলে ডিলিমিটেশন সহ যা যা পাশ করাতে চায়, সবই টপাটপ পাশ করিয়ে ফেলতে পারবে। আপাতদৃষ্টিতে ব্যাপারটা বেশ সন্দেহজনক। কিন্তু আসলে তা নয়। ... ...

এর মধ্যে তৃণমূলের দামাল ছেলেরা অর্ধেক ভালো হয়ে গেছে। অর্ধেক জেলে। বাকি যে অর্ধেক থাকে, তাদের কুনাল ঘোষ আকুল আবেদন জানিয়েছেন, এখন সমালোচনা না করতে। বুদ্ধিমান রাম-বামরা এত ঝক্কি নেন নি। শিরদাঁড়াযুক্ত বিখ্যাত ডাক্তার-আন্দোলনের নেতারা আগেই আটঘাট বেঁধে দুই নেতাকে পাঠাতে পেরেছেন বিধানসভায়। তাঁরাই এখন হইচই করে হকার-উচ্ছেদ করছেন। ... ...

আরশোলারা অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রাণী। তার প্রথম কারণ হল, ওরা দলবেঁধে থাকে এবং নোংরার মধ্যে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু ওয়াশিং মেশিনে বিশ্বাস করেনা। যেন গায়ে ময়লা টয়লা লাগেনা, আস্ত পরমহংস। ... ...

সর্বত্র আশাভঙ্গের বেদনা ফুটে-ফুটে বেরোচ্ছে। তোমাকে সব দিয়ে ভালোবেসেছিলাম, এই কি তার প্রতিদান? ... ...

যা বোঝা যাচ্ছে, মুঘল সাম্রাজ্যের আরও একবার পতন হল। হুমায়ুন এখন কোটি কোটি টাকায় বাবরি মসজিদ বানিয়ে সুখে আছেন। জাহাঙ্গীর বনবাসে। শাজাহান অনেকদিন আগেই সন্দেশখালির তাজমহলচ্যুত। এবার ক্ষমতায় আসছে ওয়েস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ... ...

বঙ্গীয় সুধীজনেরা নিশ্চয়ই সকলেই অম্বিকেশ মহাপাত্রের নাম জানেন। সেই গ্রেপ্তারটি হয়েছিল, পূর্বতন সরকার আসার ১ বছর পরে। এবং রোদ্দুর রায়ের গ্রেপ্তার হয়েছিল শেষ পর্বে। দুটো নিয়েই প্রতিবাদ-হইচই হয়েছিল প্রচণ্ড, সংবাদমাধ্যম তাতে নেতৃত্ব দিয়েছিল। ঠিকই করেছিল। তা বাদে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে ১৫ বছরে কুরুচিকর মিম-মন্তব্যের জন্য কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে শুনিনি। ... ...

এর মধ্যে এসে যায় নতুন কেন্দ্রীয় সরকার। তারা ধীরে-সুস্থে পুরো মিডিয়াটাকেই কিনে ফেলে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুরু হয় 'সংগ্রাম'। সেখানে ওই ওয়েস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি কোনো দুর্নীতি করেনা, হাজার-হাজার কোটি টাকা মেরে দেওয়া কোনো দুর্নীতি না। এটাকে বলে বাদ দেবার রাজনীতি। বরং পুরোটাই পেশ করা হয় কর্পোরেট স্টাইলে। শাইনিং মধ্যবিত্ত মার্কেট ইকনমির আনন্দে নাচতে শুরু করে। ... ...

প্রথম দফার নির্বাচনে ফসল ঘরে তুলবে কারা সে সম্পর্কে চার তারিখ চূড়ান্ত চিত্র জানা গেলেও এই মুহূর্তে যে দুপক্ষই সমানে সমানে প্রথম দফায় লড়াই করেছে তা নিয়ে নিসংশয় সব পক্ষই। ... ...

এই সবকিছু মিলিয়ে পশ্চিমবাংলা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এক অভূতপূর্ব নির্বাচনে ভোট দিতে চলেছে। এখন দেখার এবারের এই ভোটের প্রচারে এবং পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের প্রচারে কী নজর কাটলো এবং এই নির্বাচনের যদি আমরা প্লেয়িং ইলেভেন ইস্যুভিত্তিক তুলে ধরি সেগুলি কী ছিল। ... ...