||১||
বরফজমা শিখরচূড়া, মানচিত্রে শ্বেতাশ্রু, স্তনদুগ্ধের মতো তুষারগলা কল্লোলিনীপ্রবাহিত হয়ে লালচে-বাদামী পাথরের রাজ্যে মিলন
সেসব পাথরদের কাছে তুমি অপরিচিত।
ঘাতক, যে প্রস্তারায়ূধ তোমার করধৃত
তার আবরণে আমার সূর্যহীন দৃষ্টির নব-উন্মীলন
লৌহযুগের হাতিয়ারে সেজে ছুটে এসেছ, বলতে একথা, "তোমাকে চিনি!"
||২||
গুহাগাত্রে যুগ্মচিত্র। সার্চলাইট দ্রুত সরে যায়।
ওরা স্পেসিমেন সংগ্রহ করবে।
ডেনিসোভান থেকে নিয়ানডারথাল,
আরো কতো নাম দিয়েছে ওদের বিচারালয়।
চিহ্ন হলো ছায়া-গভীর, আলোও কাঁপে অচেনা হাতে
কুমারী পৃথিবীর তৃণভূমির, লাল বসন্তের একক রাতে
অগ্নিকুন্ড ঘিরে বসে না-মানুষের পাড়া,
রমণের পর কেউ কেউ গুনছে তারা ;
পাথর-কুঠার, পাথর-বসত, পাথর যাপনকাল
পাথরকালীন যুগলমুখে জ্বলছে অতীত-মশাল।
||৩||
ওকে দেখেছি বোধহয় আগে।
গোষ্ঠীযুদ্ধের কোন্ বিরতিভাগে?
চওড়া কপাল, ভ্রু জুড়ে শীতের সন্ধ্যা, চিবুক ভারী।..
রয়েছে স্থির রাত্রিদিন
পাষাণগুহায় সঙ্গীহীন
ও কি ছায়ামানবী? না কয়েকসভ্যতার পূর্বনারী?
আমার সঙ্গীরা কাছেই, ব্যস্ত খুব
জিনম্যাপিং, খুটখাট, বলি, "একটু চুপ!"
অস্তায়মান আলোতে শুনছি ছায়ামানবীর রুদ্ধস্বর!
প্রত্নতত্ত্ব ছুঁয়ে যায় মুখ!
সহস্রাব্দে কী তীব্র সুখ!
বন্দী তাকেই করেছে পাথরে কে সে জারজ ভাস্কর?
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।