এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • এই আর কি 

    Pradipta Ghosh লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | ৩৮ বার পঠিত
  • বাজার উঠে যাওয়ার পরেও,
    বাজারের গন্ধ লেগে থাকে গোটা ফুটপাথ জুড়ে
    মরা ইঁদুর, থেঁতলানো টমেটো,
    কপির পাতা, রসালো ফলের খোসা
    মানুষের পায়ে মথিত হয়ে তৈরী করে এক অলৌকিক ভর্তা,
    দাঁত ভাঙা পিচের রাস্তা হাঁ করে একথালা ভাত বেশি খেয়ে নেয় তাই দিয়ে সোনামুখ করে, রোদে পিঠ দিয়ে।
    মুর্গীমাছের দোকানে, কাক কুকুর শরিকি ঝামেলা সামলায়,
    ভ্যানে করে আঁশ পালক ছাঁট চিংড়ি মাথা,
    পাড়ি দেয় পাঙাস-মাগুরের স্কুলে মিড ডে মিল হতে।
    ক্রমে না পাওয়া চাকরির মতন, বেলা বাড়ে,
    যুবতীর ন্যায় লঘূ পায়ে ঘুরে ঘুরে
    পায়রার ঝাঁক খুঁটে খায় অবাঞ্ছিত খাদ্যকণা,
    ফাঁকা টোটো বাঁক নেয় সহসা ভুল গলিতে,
    আঁকার স্কুলের সামনে তখন, চটি জুতোর আনন্দবাজার।
    অনেক অনেক রোল চাউমিন চপের দোকান সাজতে বসে, সন্ধ্যায় তার অনায়াস অনুষ্ঠান, পাড়ার মোড়ে।
    সহসা বিরল প্রজাতির শিল-কাটাও কিংবা তালপাতার বাঁশির ফেরিওয়ালারা শহরের পেশা বৈচিত্র্য বাড়ায় হাঁক পেড়ে। রাধাপ্রসাদ আড়মোড়া ভাঙেন, মৃত্যুর এতকাল পরেও।

    বাজারের পাশে রেললাইন, রেললাইনের ওপারে
    আবার কুঁচো বাজার, বাড়ন্ত দারিদ্র্য,
    উঠতি বয়সের রেল ঝুপড়ি,
    তার পাশে বাদাবনের কুমির হয়ে ঘুমোয় জেসিবি মেশিন,
    ওপর মহলের অপেক্ষায়।
    রেললাইনের ওপর দিয়ে
    একফালি ফুটব্রিজ চলে গেছে চুপচাপ, এদিক থেকে ওদিক
    যেমন এসির জল বেরোনোর পাইপ করিডোর পেরিয়ে নালার মুখ চুমুতে ভরিয়ে দেয় নিঃশব্দে,
    সাবওয়ে তৈরী হওয়ার পর,
    ফুটব্রিজের ভালোবাসার মানুষেরা কমে গেছে,
    ঘর ভোলা মানুষ, কুকুর আর পাখিরা শুধু তার সাথে মেশে,
    কেউ কেউ ঘুমায়, কেউ স্বেচ্ছা সঙ্গম করে,
    কেউ ইঁটের কুঁচি দিয়ে
    তার লোহার শরীরে ফুলের উল্কি আঁকে,
    গুটখার পিক ফেলে বানায় মেহেন্দী গ্রাফিতী,
    আলতামিরা, ভীমবেটকা, অজন্তা মিলে মিশে যায়।

    বাজার করে ফেরার পথে, তুঁতে দিয়ে খুন করে ফেলা একটা বটগাছের লাশের নীচে,
    একটা প্রাচীন সাইকেল স্ট্যান্ড পরে,
    সকল পুঁজিবাদী - ভোগবাদী অর্থনীতির মুখে
    দাঁড়িয়ে পেচ্ছাব করে সাইকেলেরা টিকে থাকে,
    চেন পড়ে যাওয়া, টিউব পাংচার হয়ে যাওয়া ছাড়া তার আর কোনো দুরারোগ্য ব্যাধি নেই,
    তাই সাইকেলেরা ঘাড় বেঁকিয়ে
    দেওয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে
    নাগোয়া থেকে নাগরাকাটা হয়ে নাইরোবি অবধি,
    বিমল মুখার্জি আনন্দে বেল বাজিয়ে দেন কিড়িং ক্রিং।

    এসব হাভাতে ক্লান্ত রাস্তা, চা-কচুরি-মিষ্টির কুটির শিল্প,
    সব পেয়েছির আসরের মত দশকর্মা ভান্ডার
    এবং জানলায় হরলিক্স সাজিয়ে রাখা ওষুধের মুদি দোকান পেরিয়ে আসার একটু পরেই,
    একটা সরু গলি পড়ে, যার একমাত্র ল্যাম্পপোস্টের মাথায় প্রতিবছর কালো ঘুড়ি আটকায় যীশুর মতন,
    যদিও তাকে নামিয়ে আনে না কেউ,
    তিনবার অস্বীকার করে না কেউ,
    তাই তার অলৌকিক পুনরুত্থান,
    শেষ অবধি ভালো করে দেখা যায় না,
    এহেন গলির শেষ মাথায় আমি থাকি,
    সেখানে পাঁচিল আলো করে বেড়ালেরা সৎবৎসর
    রোদ পোহায়-ঝগড়া করে,
    গা চেটে সাফ করে, থাবা থেকে গোপনাঙ্গ।
    ডেলিভারির দেবদূতেরা
    দেওয়ালের দণ্ডায়মান ছায়ায় বিশ্রাম নেয়-জল খায়, ঘাম মোছে, কাকে যেন ফোন করে আশ্বাস দেয়,
    মাল আসছে, অপেক্ষার মাত্র কয়েকটা মিনিট
    শীতের শুরুতে এখানে পটপটিরা বেগুনি ফুল নিয়ে জাঁকিয়ে বসে নালার মুখের ভেজা মাটিতে,
    বর্ষায় হলদে রেন লিলি তার বাসা কেড়ে নেয়,
    গরমে কিন্তু কেউই থাকেনা।
    নর্দমার কালো গাপ্পি মাছেরাও পরিযান করে,
    অনাগতবিধাতার মতো, অন্য কোথাও
    শুধু একটা পাকুড়ের চারা দুরন্ত গতিতে
    অশ্লীল ভাবে বেড়ে উঠতে থাকে,
    গরমকে ফুৎকার দিয়ে, পল্লবিত মধ্যমা দেখিয়ে।
    এভাবেই বছর গড়িয়ে যায়,
    মার্বেলের মেঝেতে মার্বেলগুলির মতো অনায়াসে, অবলীলায়।

    এই হয়, এই হয়ে থাকে সাধারনত,
    বলতে হয় তাই বলা,
    এসব সহজ কথা, কপট কঠিন করে বলা,
    কারন কঠিন কথা বলতে গেলে, গলায় আঙুল দিতে হয়
    তীব্র বমনের বেগে বেড়িয়ে আসে অপ্রিয় সত্য।
    অথচ,
    সকল অনিয়ম, চুরি, ডাকাতি, দুর্ঘটনা এবং দুর্নিতীর পরেও,
    মানুষ শান্তি ও ভালোবাসা একসাথে খেতে চায়,
    তাই বারবার বিষম খায়।
    ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার ভয়ে আমরা কেন্নো হয়ে যাই,
    আমরা বলতে পারিনা,
    ক্ষমা করবেন,
    আমরা ভুল করেছি,
    আমরা ভুল করছি,
    আমরা ভুল করেই চলবো, সমাজ-পরিবার-পরিবেশের প্রতি,
    আমরা অজান্তে ভুল করেছি,
    আমরা সজ্ঞানে ভুল করেছি,
    আমরা বাঘের গুহার সামনে পশুদের পদচিহ্নের অভিমুখ চিনতে বারবার ভুল করেছি,
    আমরা নিছকই ভুল করেছি।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে মতামত দিন।