এখানে রাতগুলো নীল,গাঢ় নিয়ন নীল।
মাঝে মাঝে দুধসাদা জ্যোৎস্নায় ডুবে যায় প্রান্তর,
মানুষের মতো কিছু অবয়ব চলেফিরে বেড়ায় সেখানে,
খুব সুন্দর তাদের দেহভঙ্গি,
মুখ দেখিনি কখনও,
কিন্তু তাও সুন্দর হবে নিশ্চয়!
যদিও তারা কেউ মানুষ নয়,
এখানে কোনো মানুষ থাকে না।
কোনো কোনো দিন রাতচরা পাখি ডাকে,
কোনোদিন তিরস্বরে,কোনোদিন আলগোছে,
কোনোদিন পরম যত্নে সুর মেপে,তাল মেনে।
সেদিন হয়তো প্রেয়সীকে কাছে ডাকে।
আমি প্রতিদিন আবিষ্কার করি সামনের প্রান্তরটিকে।
মাঝে মাঝে ভাবি,
তোমায় নিয়ে এসে দেখাব এসব।
তুমি এরকম নিরিবিলি রাত ভালোবাসতে,
জ্যোৎস্নায় হাঁটতে ভালোবাসতে,
প্রান্তর ভালোবাসতে।
কিন্তু সব একসাথে কি ভালো লাগত!
জানি না।
জানতে ইচ্ছে করে।
যেদিন খুব ইচ্ছে করে আমিও কিছু করি,
সেদিন আমার পোষা গাভীগুলোকে ছেড়ে দিই,
ওরা প্রথম প্রথম যেত না,
ভয়ে,কিংবা অনভ্যাসে।
এখন নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়ায়,
ছেড়ে দিলে নিজেরাই যায়।
এরকম সুন্দর রাতে,ফাঁকা প্রান্তরে,
ওরা চরে বেড়ায়,
স্বর্গপুরী মনে হয়,
মনে হয় গোলোক যেন!
কান পাতলেই বাঁশির আওয়াজ পাব।
পাই হয়তো, টের পাই না।
একেকদিন ঘুম ধরে যায়।
সেদিন তুমি আসো স্বপ্নে।
আমি ভুলে যাই উঠতে হবে,
দেখতে হবে।
ওরা সারারাত ডালি নিয়ে বসে বসে ফিরে যায় ভোরে।
আমার গ্লানি হয় না,
সেদিনও আমার সকালটা ভালো লাগে,
অন্যদিনের মতোই।
ঘুম হয়েছে ভালো।
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।